হোম সাক্ষাৎকার ফকনারের সাথে আলাপ : পাগলামি, সমাজ এবং লেখালেখি

ফকনারের সাথে আলাপ : পাগলামি, সমাজ এবং লেখালেখি

ফকনারের সাথে আলাপ : পাগলামি, সমাজ এবং লেখালেখি
596
0

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের নিউ আলবেনিতে মারি কাথবার্ট ফকনার এবং মড বাটলার ফকনারের ঘরে উইলিয়াম ফকনারের জন্ম। ফকনার ছিলেন চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ফকনারের বয়স যখন পাঁচ, তখন তার পরিবার মিসিসিপির অক্সফোর্ড শহরে চলে আসেন। এই শহরেই ফকনার জীবনের অধিকাংশ সময় কাটান।

ফকনার হাইস্কুল শেষ করতে পারেন নি। যদিও তিনি একজন বিশেষ ছাত্র হিসেবে মিসিসিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন, তিনি শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারেন নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রয়াল এয়ার ফোর্সের কানাডীয় শাখায় স্বল্প সময়ের জন্য যোগ দেন। এর আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী থেকে ওজন ও উচ্চতার অভাবের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। তবে তিনি যুদ্ধে অংশ নেবার আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যায়। যুদ্ধের পর তিনি বিভিন্ন জায়গায় কেরানিগিরি ও বাড়ি নির্মাণের কাজে আয় উপার্জন করতেন।

ফকনারের সাহিত্যি-জীবন শুরু হয় কবিতা লিখে। কিছু প্রকাশিতও হয়। ১৯২১ সালে তার লেখা একটি নাটক মঞ্চায়িত হয়। ১৯২৪ সালে প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়। ১৯২৫ সালে তার সাথে শেরউড অ্যান্ডারসনের সাক্ষাৎ হয়। অ্যান্ডারসন ফকনারকে কল্পকাহিনি লিখতে উদ্বুদ্ধ করেন। অন্যান্য মার্কিন লেখকদের অণুসরণ করে ১৯২৫ সালে ফকনার ছয় মাসের জন্য ইউরোপ সফর করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে তিনি মনোযোগ দিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯২৬ সালে তার প্রথম উপন্যাস বেরোয়, ১৯২৭ সালে বের হয় দ্বিতীয়টি। সার্টোরিস নামের তৃতীয় উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকের শুরুর দিকে ফকনার চিত্রনাট্য লেখক হিসেবে হলিউড গিয়েছিলেন। জীবনের বাকি সময় তিনি অক্সফোর্ডেই গল্প ও উপন্যাস লিখে কাটিয়ে দেন।

ফকনার মোট ১৯টি উপন্যাস ও বহু ছোট গল্প লেখেন। তার বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থও আছে। সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাসগুলি হলো দ্য সাউন্ড অ্যান্ড দ্য ফিউরি (১৯২৯), অ্যাজ আই লে ডাইং (১৯৩০), লাইট ইন অগাস্ট (১৯৩২), আবসালোম, আবসালোম! (১৯৩৬), এবং দি আনভ্যাংকুইশ্‌ড (১৯৩৮)

১৯২৯ সালেই তিনি তার স্কুল জীবনের বান্ধবী লিডা এস্টেল ওল্ডহ্যাম ফ্র্যাংকলিনকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে দুই মেয়ে হয়। এদের একটি শিশু অবস্থায় মারা যায়। ফকনার সৎ ছেলেমেয়েদেরও ভরণপোষণ করতেন।

১৯৪৯ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৫৫ সালে আ ফেবল নামে প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন ফ্রান্সের উপর লেখা উপন্যাসটির জন্য জাতীয় বই পুরস্কার এবং পুলিৎজার পুরস্কার  লাভ করেন। ৬ জুলাই ১৯৬২ সালে হার্ট অ্যাটাকে তিনি মারা যান।


সা ক্ষা কা


মডারেটর

[…] যে, আপনার সাথে সাক্ষাতের একটা সম্ভাবনা ছিল, আমরা ভাবলাম এটা একটা সুযোগ হতে পারে এসব নিয়ে একসাথে আলোচনা করার।

ফকনার

আচ্ছা। আমি একেবারেই অ্যামেচার সেটা টের পাবেন। আমার কোনো ধারণা নাই যে, আমার বলার এমন কী থাকতে পারে যেটা আপনার পেশার লোকের জন্যে ইন্টারেস্টিং।

মডারেটর

আসলে আমরা সিদ্ধান্ত আসতে পেরেছি যে, সম্ভবত অনেকদিক থেকেই আমরা অ্যামেচার। [শ্রোতাদের হাসি]

শ্রোতা

আপনার চরিত্রগুলার একটা লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, আপনি সচরাচর যাদেরকে বেছে নেন লেখার ক্ষেত্রে, তারা কোনো একভাবে অস্বাভাবিক। অস্বাভাবিক বলেই কি বেছে নেন? না কি কোনো নির্দিষ্ট ধরন আছে যার আবেদন কাজ করে আপনার কাছে?

ফকনার

চরিত্র আমাকে নির্বাচন করে নাকি আমি চরিত্র নির্বাচন করি সেটা নিয়ে নিশ্চিত না। আমার মনে হয়, লেখক মানুষের লৌকিক অবস্থার কিছু ট্র্যাজিক বা কমিক মুহূর্ত ধরার চেষ্টা করে থাকেন। তারপর সেটা এমনভাবে প্রকাশ করেন, যাতে সবাই ট্র্যাজেডি বা কমেডিটা আবিষ্কার করতে পারে। আমি যতদূর বুঝি, মানুষকে আমি সাধারণত যেভাবে দেখেছি, সেভাবেই বলার চেষ্টা করি। এই মানুষেরা আমার কাছে প্রকৃতিস্থ এবং সম্পূর্ণই স্বাভাবিক। এমন কী যাদের পাগল বলে গণ্য করা হয়, তারাও আমার কাছে প্রকৃতিস্থ। এর কারণ সম্ভবত লেখক আগেই মেনে নিছেন, যদি একটা মানুষ নিজেকে মহাত্মা গান্ধী বলে বিশ্বাস করে, সে আসলে তাই-ই। তাই যখন সে বোর্ডভর্তি পেরেকের উপর শুয়ে থাকে, তখনও সে একজন বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন জীব।

প্রশ্ন

‘পাগল’ বলতে আপনি বোঝাচ্ছেন সমাজের দৃষ্টিতে ‘পাগল’?

ফকনার

জি স্যার। অ্যাজ আই লে ডায়িং বইয়ের ছেলেদের মধ্যে ডার্ল চরিত্রটা, সমাজের দৃষ্টিতে সে কিন্তু পাগল। আমি তাকে কখনো পাগল হিশাবে গণ্য করি নাই। কিংবা আমার উদ্দেশ্য এটা ছিল না, ‘যেহেতু এখন এই ভাইদের একজনকে পাগল হতে হবে বইয়ের প্রয়োজনে, তাই আমার জানা অপ্রকৃতিস্থের নিয়ম মেনে একজন আদর্শ পাগল উদ্ভাবন করব’। আমি শুধু একটা করুণ, ট্র্যাজিক মানবীয় অস্তিত্ব নিয়ে লিখে গেছি।

প্রশ্ন

এবং আপনার স্টেইট হসপিটাল বা অন্য কোনোখানের কোনো অভিজ্ঞতা নাই?

ফকনার

একেবারেই না। আমার মনে হয় না সমাজ যাদেরকে পাগল বলে অভিহিত করে, তাদের খোঁজ পাওয়ার জন্যে আপনাকে স্টেইট হসপিটালে যেতে হবে। [শ্রোতাদের হাসি]


লেখালেখি বা গবেষণাই ছিল আমার আগ্রহের কারণ; এটা ছিল নির্ভেজাল কৌতূহল।


প্রশ্ন

আমার মনে হচ্ছে একটা সাধারণ আগ্রহ এক্ষেত্রে লক্ষণীয়। সাইকিয়াট্রিস্ট প্রায়ই মানুষের এমন কিছু কার্যকলাপে আগ্রহী যেগুলা তথাকথিত পাগলামি অথবা উন্মত্ত ব্যক্তির নানা কার্যকলাপে প্রকাশ পায়। অন্তত ধারণাগত এবং আগ্রহের দিক থেকে সাইকিয়াট্রিস্টদের সাথে ঔপন্যাসিকদের কিছু মিল লক্ষ করা যাচ্ছে।

ফকনার

আপনার সাথে একমত হতে হচ্ছে, স্যার।

প্রশ্ন

কোন ধরনের মানবীয় আচরণকে আপনি ইর‍্যাশনাল বলে বিবেচনা করেন? এই ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন?

ফকনার

না, আমার পক্ষে বলা সম্ভব না। আমার কাছে সব মানবীয় আচরণই আনপ্রেডিক্টেবল। এবং যে নড়বড়ে দুনিয়ায় মানুষ সক্রিয় থাকে, সেখানে মানুষের ভঙ্গুরতাকে বিবেচনায় আনলে সব কিছুই ইর‍্যাশনাল। ফলে, মানুষের কোনো কাজই খুব বেশি র‍্যাশনাল হতে পারে না, কারণ তার দুনিয়াটাই ইর‍্যাশনাল। আমার মনে হয় কোনো লেখকই কোনোকিছু বিচার করার উদ্দেশ্যে লিখতে বসেন না। সে যা নিয়ে লিখে সেটাকে বিচার করতে বসলে তার জন্যে যেটা করা সহজ বা তার ভালো লাগে, সেটা করতে গিয়ে আসল লেখালেখির গিফট থেকে দূরে সরে যান। সে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া শুরু করলে বা বিচার করলে আগুনটা থাকবে না। আমার মনে হয় না লেখকরা মানুষের অবস্থার উন্নতির জন্যে লেখালেখি করেন। সে আদতে মানুষের অবস্থার পাত্তাই দেয় না। সে সব মানুষের আচরণ নিয়ে আগ্রহী, সেখানে জাজমেন্টের কোনো স্থান নাই। এটাই গতি। জীবন। এটার একমাত্র বিকল্প শূন্যতা, মৃত্যু। এবং ফলে লেখকের কাছে মানুষ যা-ই করুক না কেন সেটাই সই, কারণ তা গতিময়। সেটা না করতে পারলে সে কিছুই না। সে মৃত। হয়তো মর‍্যালিটি বলে লেখকের কিছু নাই, একটা সমগ্রতা আছে শুধু—যেই সমগ্রতায় সে মানুষের আচরণের কিছু ফ্যাক্ট আর সত্যে বিশ্বাস করেন। কিন্তু এটা কোনোভাবেই কোনো মর‍্যাল স্ট্যান্ড না। তার বইয়ের চরিত্রগুলা এমন হবে যেমনটা তাদের হওয়ার কথা, যেমনটা হওয়া উচিত সেটা না। কিন্তু চরিত্ররা যা করবে, সেটা ছাড়া তাদের আর কিছু করার থাকে না বলেই করবে।

প্রশ্ন

এটাই কি লেখকের মোটিভেশন তাহলে যে, অন্যরা যা দেখে অথচ আমলে নেয় না সেটাই তুলে ধরা?

ফকনার

আপনি কি লেখকের কথা বললেন? না। সম্ভবত তার লক্ষ্য আরও স্পেসিফিক। গতকাল যা ছিল না, সিমপ্লি সেই জিনিসটাই সে নাজিল করে। এর থেকে বেশি তার আর কিছু করার নাই। সে শুধু মানবীয় দশার ভেতরে ব্যক্তিমানুষের সংগ্রামটাকে একটু তেছড়া বা মৃদু নতুন আলোতে দেখাতে পারেন। একটু আলাদা করে, যেটা হয়তো আগে ছিল না। এটাই অগ্রগামী লেখকেরা করে থাকেন। নতুন আর তেমন কিছুই নাই লেখার জন্যে। সম্ভবত এটা লেখকের এক প্রকারের ডিনায়্যাল—এই ডিনায়্যাল মরণশীলতার প্রতি, মৃত্যুর প্রতি—যে, সে দেয়ালে লিখতে যাচ্ছে, ‘কিলরয় ওয়াজ দেয়ার’।

প্রশ্ন

তাত্ত্বিকভাবে, সাইকিয়াট্রিস্টও কোনো জাজমেন্টে যায় না। মানুষ ও তার জীবন যেমন, সেইভাবে সে সেটাকে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করে। তারপরেও আমরা এটা ভাবি যে, এটা একটা ইয়ার্কির মতো শোনায় যদি আমরা ব্যাপারগুলাকে নিজেদের পার্সপেক্টিভ থেকে দেখার চেষ্টা না করি। এবং এসব নিয়ে যখনসাইকিয়াট্রিস্ট কিছু করতে যায়, সেটার পেছনে অবস্থার উন্নতি করার একটা উদ্দেশ্য থাকে—যেটা লেখকদের থাকে না। নিশ্চিতভাবেই, কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নিয়ে এই উন্নতি করার ইচ্ছাটা আসে। এবং সেই লক্ষ্যটা অবশ্যই বর্তমান বা কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ের সাপেক্ষেই। একজন লেখক কি আসলেই নিজের জাজমেন্ট বা ভ্যালু সিস্টেম এড়াতে পারে?

ফকনার

যতক্ষণ সে লেখক, ততক্ষণ সে পারে। আমি মনে করি, একজন লেখক হচ্ছেন বিভক্ত ব্যক্তিত্বের আদর্শ উদাহরণ। সে যখন লেখক তখন অন্য জিনিস, আবার অন্য কোনো জায়গায় সে এই দুনিয়ার বাসিন্দা। এটা এমন না যে এই বিভক্তি থেকে তার নিস্তার নাই। তার হয়তো এই আশা আছে যে, সে যা করছে কোনো একভাবে তা মানুষের উপকার করতে পারে। হয়তো সেই তার লেখা মানুষের ভঙ্গুর-দুর্বল দিকের একটা আদর্শ রেকর্ড হয়ে থাকবে। যাকে নিয়ে লিখছে তার মেবি নিজের উপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব ছিল না, কিন্তু তারপরেও সে সয়ে গেছে, কিছু একটা করে গেছে টিকে থাকার মতো। এই সেন্স থেকে দেখলে লেখকরা মানুষের ভালোর জন্যে কাজ করেন, যদিও তা খুব সচেতন কিছু না। আমি মনে করি, সাইকিয়াট্রিস্টরাও এমন কিছু একটা করে থাকেন। সেও একটা মানুষকে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করে যে, সে যা করছে সেটা কেন করছে। এবং তারপর বিরতি নিয়ে তার জীবন উৎসর্গ করেন সেটার প্রতি। সাইকিয়াট্রিস্টদের এমন ভাবাটা অমূলক না যে, শেষমেশ তারা মানুষের অবস্থার উন্নতি করতে পারবেন।

প্রশ্ন

মানুষ যা করে তা কেন করে বলে আপনার মনে হয়?

ফকনার

আমার মতে মানুষ যা চেষ্টা করে সে সেটাই করে—কারণ সেটাই তার চাওয়া। যদিও সে সবসময় নিশ্চিত না তার চাওয়াটা কী আসলে। কিন্তু মানুষের এইভাবে ভাবতেই ভালো লাগে যে, তার পছন্দের কাজটাই সে করছে। এটা তার গ্ল্যান্ডগুলাকে ঠিকঠাকভাবে কাজ করায়। মানুষ হঠকারী, খ্যাপাটে, বিপজ্জনক কাজ করে কারণ তাতে তার গ্ল্যান্ডের প্রবাহ ভালো থাকে, এবং সে ভালো ফিল করে। আমার মনে হয় না মানুষ টাকার সুখের জন্যে জুয়াড়ি হয়। তার সিস্টেম ভালোভাবে কাজ করে যখন সে টাকা পাওয়ার জন্যে একটু রিস্ক নেয়, অথবা তার স্কিল ব্যবহার করে টাকা অর্জনের জন্যে। টাকাটা একটা সিম্বল এখানে। ম্যাচের জন্যে জুয়াড়ি হওয়ার স্কোপ থাকলে সেটার জন্যেও মানুষ জুয়াড়ি হবে। আমি বলব মানুষ করে, কারণ সে যা করে সেটাই সে চায়।

উইলসন

আপনার কি সাবকনশাস নিয়ে কোনো ধারণা আছে? এমন কিছু যেটা উপরিতলের নিচে চলছে?

ফকনার

শিক্ষক আমার পোকার খেলা। সেখান থেকেই চরিত্রগুলা আবিষ্কার করেছি। [শ্রোতাদের হাসি] । কিন্তু ফ্রয়েড—তার সাথে খুব একটা পরিচিত না আমি।

প্রশ্ন

আপনি মানুষের এক্সট্রা সেন্সরি পারসেপশনে বিশ্বাস করেন, ঠিক?

ফকনার

হ্যাঁ, সম্ভবত আমি সম্পূর্ণ এটার উপরেই নির্ভর করি। আমার মন ট্রেইন্ড না। আমাকে এক্সট্রা সেন্সরি পারসেপশনে বিশ্বাস করতেই হয়।

প্রশ্ন

আপনি চরিত্রগুলার প্রোটোটাইপ নিয়ে কিছু বলবেন? মানে, যে চরিত্রগুলা নিয়ে আপনি লিখেছেন তাদের সাথে আপনার চেনাজানার ধরনটা কেমন? আমি চিন্তা করছিলাম, আপনি কিভাবে তাদের সম্পর্কে এত ভালোভাবে জানলেন বা কিভাবে তাদের চিন্তাগুলা ঠিকঠাকভাবে বাছাই করলেন। আমার ধারণা, এটা ড. উইলসনের সাবকনশাসনেসের আইডিয়ার সাথে সম্পর্কিত।

ফকনার

সেটা সম্ভব হয়েছে মানুষ সম্পর্কে আমার শ্রান্তিহীন কৌতূহল থেকে। তারা কী করে, কিভাবে করে, কী বলে—এই সবকিছু নিয়েই আমার চূড়ান্ত আগ্রহ ছিল। এমন না যে লেখালেখি বা গবেষণাই ছিল আমার আগ্রহের কারণ; এটা ছিল নির্ভেজাল কৌতূহল। যদিও এমনটা হওয়াও সম্ভব যে, মানুষ তার কাজের ম্যাটেরিয়াল সম্পর্কে কখনোই অনাগ্রহী থাকতে পারে না। মেবি সব লেখকই কিছুটা ইঁদুরের মতো, যেখান থেকে যা পায় সেটাই কুড়ায়া নেয় এই ভেবে যে—কোনোদিন হয়তো তা কাজে লাগতে পারে। চরিত্রগুলাকে অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ আর কল্পনার একটা মিশেল বলা যায়, কিন্তু কেউ বলতে পারবে না এর মধ্যে কতখানি কী আছে। আমার উপলব্ধি বলে, কোনো লেখকই মানুষ অবিকল যেমন—ঠিক সেইভাবে তাকে শুধু ব্যবহার সামগ্রী বানায়া লিখে পরিতৃপ্ত থাকতে পারেন না। কারণ সে বিশ্বাস করেন, উপর ওয়ালার থেকেও বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র সে সৃষ্টি করতে সক্ষম। এবং এরজন্যেই তাকে ইম্প্রুভ করতে হয় ব্যাপারগুলাকে। এবং আরেকটা কারণ, লেখকমাত্রই সহজাত মিথ্যাবাদী। এরজন্যেই তো এটাকে ফিকশন বলা হয়, না কি? [শ্রোতাদের হাসি]। সম্ভবত লেখক কোনো বিষয়েই সত্যটা বলতে পারেন না।

প্রশ্ন

যে-সব মানুষেরা আপনাকে কৌতূহলী করে, তাদের সম্পর্কে আপনি নোট নেন?

ফকনার

না, কখনোই না। কখনোই কোনো রিসার্চ করি নাই, কখনোই কোনো নোট নেই নাই। নিজের মেমরির প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে আমার। যদি আমি কোনো কিছু মনে না রাখতে পারি, তাহলে সেটা মনে রাখার যোগ্যই ছিল না [শ্রোতাদের হাসি]।


মুরুব্বিদের কাছে থেকে তরুণদের কিছুটা শিক্ষা অথবা অনুশাসন নেয়া লাগে এই মুক্তির বোধ অর্জনের সংগ্রাম বোঝার জন্যে। 


প্রশ্ন

মি. ফকনার, আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি তাহলে আপনার কথাটা আবার বলার চেষ্টা করছি। আপনি বলেছেন, আপনি মনে করেন সাইকিয়াট্রিস্টরা একটা মানুষ নিয়ে তার সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে সক্ষম অথবা বুঝতে সক্ষম এবং আপনি অন্যভাবে যেমন তাকে জানতে পারেন, সাইকিয়াট্রিস্টরাও তার প্রকৃতি সম্পর্কে সেভাবেই জেনে থাকে, উদাহরণস্বরূপ : মানুষের একটা গ্রুপ অথবা তার সংস্কৃতির পাঠ নিয়ে?

ফকনার

অনেকটা তেমনই। কিন্তু তারপরেও আমি জানি না। এই ব্যাপারে আমি অজ্ঞ। সাইকোলজি বা সাইকিয়াট্রি নিয়ে আমার কোনো ট্রেনিং নাই। আমার ধারণা, সাইকিয়াট্রিস্টদের শেখার ধরনটা একজন সার্জনের মৃতদেহ সম্পর্কে শেখার মতো। সম্ভবত এটা ভুল, কিন্তু এটাই আমার ধারণা।

প্রশ্ন

আপনার সৃষ্ট ব্যক্তির চিত্রায়ণে সংস্কৃতির ভূমিকাটা কেমন? মানে যে-সকল ব্যক্তি নিয়ে লিখেছেন, তাদের সৃষ্টিতে তাদের নিজ সংস্কৃতি কতটা নির্ধারক হিশাবে করেছে?

ফকনার

বেশ বড়সড় ভূমিকা, কিন্তু সেটা সারফেস লেভেলেই। এটা হয়তো তাদের ইডিওম, সার্ফেস অ্যাকশন, তার ম্যানারে প্রভাব ফেলেছে।  কিন্তু আমি বলব, আপনি যদি আরও গভীরে যান তাহলে দেখা যাবে সে ঠিক আফ্রিকান সংস্কৃতির সেই ব্যক্তিটার মতোই, যার সাথে তার বয়স এবং শারীরিক অবস্থার মিল আছে।

প্রশ্ন

আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে সিম্বলিজম ব্যবহার করেন না, তাই কি?

ফকনার

আমার অনুমান, কোনো লেখকই ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু ব্যবহারের ফুরসত পায় না—এমন কী ভালো ব্যাকরণের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। সে একটা জিনিস নামানোর চেষ্টা করছে এবং এই ব্যাপারে সে নৈতিকতা নিয়ে চিন্তিত না। সে যেকোনো জায়গা থেকে চুরি করবে, ছিনায়া আনবে ওই ইঁদুরটার মতো—কারণ দিনের বেলায় তার এটা লাগবে। এবং একটা সংস্কৃতি থেকে লিখতে গেলে সেই সংস্কৃতির সিম্বলের পুনরুৎপাদন হবেই—এর জন্যে বিশেষ সচেতনতা লাগে না। এটা সে বা তার পাণ্ডিত্য না। জাস্ট যে সংস্কৃতি, যার আবহে সে বড় হয়েছে—সেটাই এই জিনিসটার জন্ম দেয়। কিন্তু সব লেখকই মানুষ নিয়ে কারবারে ব্যস্ত—মানুষ অবিশ্বাস্য এবং সবসময় সচল। যখন কোনো চরিত্র লেখককে ধরা দেয়—সেই চরিত্ররা চোখের আড়াল, শোনার আড়ালে চলে যাওয়ার আগেই টপ স্পিডে লেখকেরা তাকে ফলো করে সব নামায়া রাখে—তারা কী বলছে, কী করছে। এই কর্মযজ্ঞের ভেতরে সচেতনভাবে সিম্বল ব্যবহারের ফুরসত নাই।

প্রশ্ন

আপনার বেশিরভাগ চরিত্ররাই চূড়ান্ত রকমের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী মানবীয় সত্তা। আমাদের বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অনুবর্তী বা এর বিলোপ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট অভিমত জ্ঞাপন করেন।

ফকনার

হ্যাঁ, আমার খুব স্পষ্ট মতামত আছে এই ব্যাপারে। যদি আমি কখনো প্রচারক হই, তাহলে আমি ব্যক্তিমানুষের স্বাতন্ত্র্য পরিত্যাগের বিনিময়ে যেকোনো দলবদ্ধতার বিরুদ্ধ বয়ান প্রচার করব। আমি কোনো কিছুতেই অন্তর্ভুক্ত হতে রাজি না [শ্রোতাদের হাসি]। অবশ্য আমি যখন তরুণ ছিলাম, তখন নানা ধরনের সংহতির অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন আমি মানবজাতি ছাড়া আর কোনো কিছুতেই বিলং করতে চাই না।

প্রশ্ন

এটা কেন?

ফকনার

কারণ অনুবর্তী হওয়ার একটা কন্সট্যান্ট চাপ থাকে। ধরা যাক, একজন ফার্স্ট-রেইট মানুষের সাথে আরও দুইটা সেকেন্ড-রেইটের মানুষ একত্র হলে সে কখনোই ফার্স্ট-রেইট থাকতে পারবে না। কারণ মেজরিটির ভয়েস সেকেন্ড-রেইট-ই হবে। সেই মেজরিটির আচরণ সেকেন্ড-রেইট হবে। সেকেন্ড-রেইট মানুষ নিজের মতো থাকলে সে অন্তত থার্ড-রেইট হবে না। কিন্তু কোনো সেকেন্ড-রেইট মানুষ আরও দুইটা ফার্স্ট-রেইট মানুষের সাথে যোগ দিলে সে ফার্স্ট-রেইট হয় না।

প্রশ্ন

আপনি কি একটু খোলাসা করে পুরা ব্যাপারটা বলতে পারেন? মানে সেকেন্ড-রেইটের ব্যাপারটা?

ফকনার

আসলে ব্যাপারটা খোলাসা করে বলা একই সাথে একটু জটিল আর মামুলি আমার জন্যে। ফার্স্ট-রেইট মানুষ বলতে আমি বুঝি এমন একটা মানুষ যে তার ট্যালেন্ট দিয়ে তার সর্বোচ্চ এমন কিছু করছে যা গতকাল ছিল না। এবং সে ইনফেরিয়রদের কষ্ট দেয় না, দুর্বলদের ক্ষতি করে না। সততা চর্চা করে, সদ্ভাব আছে। এবং সে সাহসী হোক বা না হোক, সাহস থাকুক বা না থাকুক- অন্তত সাহসী হওয়ার চেষ্টাটা করে। আমার ধারণা, এই মানুষেরা যদি কোনো মতবাদের সাথে সম্পৃক্ত হয়, এমন কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত হয় যারা নিজেদের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য একটা ভয়েসে সমর্পণ করেছে যেটা তাদের সার্বিক আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী—তাহলে খুব বেশিদূর এই ফার্স্ট-রেইট মানুষেরা কোথাও যেতে পারবে না।

প্রশ্ন

মি. ফকনার, আপনার কি মনে হয় একজন মানুষ বাই নেচার ফার্স্ট-রেইট অথবা সেকেন্ড-রেইট? নাকি প্রভাব অথবা পরিস্থিতিই তাকে ফার্স্ট রেইট-সেকেন্ড রেইট বানায়? মানুষকে কি চেষ্টা করতে হয় ফার্স্ট-রেইট হওয়ার জন্যে? এবং কোনো ধরনের কারণে সে সেকেন্ড-রেইটে পর্যবসিত হয়?

ফকনার

আমি বলব অবশ্যই নিজের চেষ্টা থাকতে হবে নিজেকে ফার্স্ট-রেইটের মানুষ করার জন্যে। একটা শিশু কখনো ফার্স্ট-রেইট মানুষ হিশাবে জন্মায় না। কারণ শিশুরা ততক্ষণ পর্যন্ত স্যাভেজই থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত না চৌদ্দ পনেরো বয়সে সে প্রথম তার টিচারের প্রেমে পড়ে এবং সে বুঝতে শিখে তার মুখ ধুতে হবে, মানবজাতির একজন হয়ে উঠতে হবে। আমি বিশ্বাস করি না সবাই সমান হয়ে জন্মায়, যদি সেটা আপনার প্রশ্ন হয়ে থাকে, মানে কেউই ফার্স্ট-রেইট অথবা টেন্থ-রেইট হিশাবে জন্মায় না কি। অনেকের পক্ষে হয়তো কখনোই ফার্স্ট-রেইট হওয়া সম্ভব না। সম্ভবত সেটার কারণ হেরেডিটি। কারণ পরিপার্শ্ব বদলাতে পারে, এবং যদি পরিপার্শ্বই কারণ হয়ে থাকে সেকেন্ড-রেইট হওয়ার জন্যে তাহলে সেটার বদল ঘটানো সম্ভব। কিন্তু কিছু মানুষ জন্মগতভাবে ফার্স্ট-রেইট হতে অপারগ।

প্রশ্ন

আপনি ব্যক্তির যে ফ্রিডমের কথা বললেন তা নিয়ে আমার বিস্তর আগ্রহ আছে। আমার কাছে মনে হয়, ঠিক এই জায়গাটায় সাইকিয়াট্রি অন্যদিকে চলে যায়। এই জায়গাটায় সাইকায়াট্রির সেই স্বাধীনতাটা নাই যে ভাবব, আমি সম্পূর্ণ মুক্ত অথবা আপনার ভাষায়  ‘আমাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে ত্যাগ করছি’। দলবদ্ধ না হওয়ার এই সচেতনতাটা কি আপনার ফ্রিডম ধরে রাখার একটা কনস্ট্যান্ট পন্থা মনে হয়? না কী এটা খুবই স্বাভাবিক আপনার কাছে? অন্যভাবে বললে, আপনি কি এই অনুবর্তিতার বিরুদ্ধে ন্যাচরাল রেবেল?

ফকনার

আমি জানি না ন্যাচরাল রেবেল বলে কিছুতে আমার বিশ্বাস আছে কি না। আমার মনে হয়, মানুষের ব্যাপারটা হচ্ছে সে প্রকৃত অর্থে মুক্ত হতে চায় না। যে-ই তাকে আটপৌরে সন্তুষ্টি দিবে, তার কাছেই সে নিজেকে সমর্পণ করবে। মুরুব্বিদের কাছে থেকে তরুণদের কিছুটা শিক্ষা অথবা অনুশাসন নেয়া লাগে এই মুক্তির বোধ অর্জনের সংগ্রাম বোঝার জন্যে। চারপাশের বিক্রি করতে চাওয়া লোকের ক্রমাগত চাপে নিজেকে সমর্পণ করাই সহজ, কারণ এইভাবেই আমাদের এই অপচয়ের অর্থনীতি সচল থাকে। মুক্তি পেতে হলে তাকে ব্যতিক্রমী হতেই হবে। তাদের মলমে তাকে মাছি হতে হবে। তার জন্যে শুধু হিড়িক থাকাটাই যথেষ্ট না এই পরিকল্পিত, সংঘটিত চাপের বিরুদ্ধে নিজের মুক্তির ইচ্ছাটাকে জাগরূক রাখতে। খুব সহজেই সে সেই ফিন্যান্স কোম্পানির প্রলোভনে পড়তে পারে যারা তার গাড়ি কেনার টাকায় নিজেরা কামায়া নিবে, কিংবা তাকে বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করে আরেকটা ডিসওয়াশিং মেশিন বেচার জন্যে।

প্রশ্ন

আমরা যদি একজন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানি, যদিও সেটা খুবই কঠিন, তারপরেও ধরা যাক একটা আদর্শ অবস্থায় আমরা একজন ব্যক্তির সকল অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল—তাহলে কি তার আচরণ প্রেডিক্ট করা সম্ভব?

ফকনার

আমার মনে হয় কেউ যদি সেটা করার সক্ষমতা রাখে, এটা সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টরাই হবে।


পেসিমিজম—এই শব্দটা আমি গ্রহণ করব না কারণ মানুষের প্রতি আমার বিপুল বিশ্বাস আছে।


প্রশ্ন

আপনি কি মনে করেন না একজন ব্যক্তি যা করে, সেটার কারণ তার বেড়ে ওঠা এবং পূর্ব অভিজ্ঞতা? এগুলাই কি তার করা এবং বলাকে পরিচালনা করে?

ফকনার

সে যা করে সেটা তার পরিবেশের কারণে। তার হয়তো এমন কিছু হিড়িক আছে যেটা তার হেরেডিটির শিক্ষায় সে সংযত রাখে, কিন্তু একটা নির্দিষ্ট পরিবেশে সে সেই নিষেধাজ্ঞার ভার নাও নিতে পারে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, আপনি যদি তার পরিবেশ পরিবর্তন করেন, সে হয়তো ভিন্ন আচরণ করবে। সে কী করতে চায় সেটা কখনো বদলানো সম্ভব না, কিন্তু সম্ভবত যে-কোনো ধরনের নৈতিকতা এমন একটা সিস্টেম যেখানে মানুষ নিজেকে ‘ডোন্ট’ বলতে সক্ষম করে তোলে।

প্রশ্ন

মুক্তি, অনুবর্তিতা, বস্তুবাদ এবং আরও অনেক কিছু হারানোর সাথে আমাদের বর্তমান সংস্কৃতি সম্পর্কে আপনি কতটা অপটিমিস্টিক বা পেসিমিস্টিক ফিল করেন?

ফকনার

আচ্ছা, পেসিমিজম—এই শব্দটা আমি গ্রহণ করব না কারণ মানুষের প্রতি আমার বিপুল বিশ্বাস আছে। সে ডায়নোসর কাটায়া আসছে, এবং আমি বিশ্বাস করি সে তার অ্যাটম বোমের ব্যাপারেও টেকার ফয়সালা করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীর শেষ সাউন্ডটা হবে দুইটা মানুষ একটা এয়ারশিপ বানাতে বানাতে তর্ক করছে নেক্সট সে কই যাবে [শ্রোতাদের হাসি] । মানুষের প্রতি আমার বিপুল বিশ্বাস।

প্রশ্ন

আরও স্পেসিফিকলি, আমাদের পশ্চিমা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

ফকনার

পশ্চিমা সংস্কৃতি—আনপ্লেজেন্ট। এর ভেতরে বাস করাটা আপদের মতো, কিন্তু এর বিকল্প এখান থেকে চলে যাওয়া এবং আপনি সেটা পারেন না [শ্রোতাদের হাসি]। অন্য কোনো সংস্কৃতি থেকে এটার আয়ু কোনোদিক থেকেই বেশি না। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের শেষটাও যখন ব্যবহার করে ফেলব, আরেকটা সংস্কৃতি হবে। আমরা বিপুল অপচয়ের একটা অর্থনীতিতে বাস করছি। পুরা দুনিয়াটা আমরা অটোমবিল আর ওয়াশিং মেশিনে ভরায়া ফেলছি শুধুমাত্র নতুন আরেকটা জঞ্জাল কেনার জন্যে। হয়তো সেটা জব ক্রিয়েট করছে এবং হয়তো বিজ্ঞানীরা এমন কিছু একদিন আবিষ্কার করবে যেটা এই সবকিছুকে অদৃশ্য করে দিবে [অট্টহাসি]। সেটাই জেনরেল মটরসের জন্যে যা হওয়ার হবে। বিজ্ঞানীরা হয়তো এমন একটা গ্যাস আবিষ্কার করলেন যেটা রাস্তার সব গাড়িকে বাষ্পীভূত করে দিল [অট্টহাসি]  এবং আমরা শুধু স্টিরিং হুইল নিয়ে বসে থাকব যার আগেপিছে আর কিছু থাকবে না। এটা হবে অথবা পৃথিবীকে একটা ভয়াবহ অবস্থায় নিয়ে গিয়ে আবার সব নতুন করে শুরু করব।

প্রশ্ন

মনে হচ্ছে, আপনি এখন উপন্যাস লিখছেন [শ্রোতাদের হাসি]।

ফকনার

লেখকরা কখনোই থামে না। লোকজন আমাকে জিগ্যেস করে আমি কখন কাজ করি, আমি উত্তর দেই, ‘সবসময়’ [শ্রোতাদের হাসি] ।


স্থান : ইউনিভার্সিটি অফ ভার্জিনিয়া, ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকিয়াট্রি।
৭ মে, ১৯৫৮

শফিউল জয়

জন্ম ১৯ এপ্রিল, ১৯৯৩; ঢাকা। অনুবাদক। পড়াশোনা করছেন গটিংগেন বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভারতবর্ষের উপনিবেশিকতা নিয়ে।

ই-মেইল : joyshafiul@gmail.com