হোম সাক্ষাৎকার আমিই মনে হয় সহজ ওয়েটা নিছি : রাজীব দত্ত

আমিই মনে হয় সহজ ওয়েটা নিছি : রাজীব দত্ত

আমিই মনে হয় সহজ ওয়েটা নিছি : রাজীব দত্ত
2.04K
0

রাজীব দত্ত—লেখালেখি করেন, মাঝে মধ্যে অনুবাদও করে থাকেন তিনি এবং ভিস্যুয়াল অার্ট প্র্যাকটিস করেন। প্রথম বই : সাবানের বন (২০১৫); কবিতার। ‘হাউ ডু অাই রেন্ট এ প্লেন’ শিরোনামে একক প্রদর্শনী করেছেন কলাকেন্দ্রে, ২০১৬-তে। পড়াশোনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে, চিত্রকলা বিষয়ে। বর্তমানে থাকেন ঢাকায়।

বিগত কয়েক বছর ধরে তিনি বিভিন্ন বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণের কাজের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছেন। পরস্পরের পক্ষ থেকে এই তরুণ অঙ্কনশিল্পীর মুখোমুখি হয়েছি আমরা। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন তরুণ কবি হাসান রোবায়েত। তার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা।

– সম্পাদক

হাসান রোবায়েত

এই যে মাঝে মাঝে সাক্ষাৎকার দিতে হয় আপনাকে, কেমন লাগে?

রাজীব দত্ত

ডিপেন্ড করে আসলে। খারাপ লাগে না। নিচ্ছে কে, এইটাও একটা বিষয়। প্রশ্নকর্তা ভালো হইলে ভালো লাগে।

হাসান রোবায়েত

আমার এক ছাত্রকে আপনার ছবি দেখাইছিলাম। তো, সে কইল, ‘এহ! এ আর এমন কী, আমিও তো আঁকতে পারি এইসব!’

রাজীব দত্ত

সহজ তো। আমি আসলে আপনার ছাত্রের মতনই আঁকি।

হাসান রোবায়েত

সে কিন্তু আঁকেই না। কিন্তু তার মনে হইল যে সে পারে। তার মানে ছবি আঁকারে কি আপনি সহজ করে দিছেন?

রাজীব দত্ত

সহজ করে দিলাম এমন না মনে হয়। আমিই মনে হয় সহজ ওয়েটা নিছি।

হাসান রোবায়েত

মানে, ঠিক কিভাবে এই ‘সহজ ওয়েটা’ খুঁজে পাইলেন আপনি?

রাজীব দত্ত

শুরুতে নানানরকমভাবে ট্রাই করতেছিলাম। [এখনো ট্রাইই করতেছি] তো হচ্ছিল না। তখন মনে হইল, বাচ্চাদের মতন আঁকা যায়। ওরা যেভাবে সহজে এঁকে ফেলে। আমার তো ঈর্ষা হয় ওদের ছবি দেখে।

হাসান রোবায়েত

এইক্ষেত্রে আপনার একাডেমিক শিক্ষা আপনেরে ডিস্টার্ব করে না?

রাজীব দত্ত

শুরুতে বেশি করত। এখন কম।

হাসান রোবায়েত

আপনার আঁকা ছবিগুলো বাচ্চারা দেখে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়?

রাজীব দত্ত

একদম ছোট হলে ওরা পছন্দ করে। একটু বড় হলে মনে করে, আমি আঁকতে পারি না। মূলত বাচ্চাদের ছবিতে একটা গল্প থাকে। ওরা যেকোনো কিছুতেই গল্প পায়। এ গল্প পাওয়াটা মজার। বড় হতে হতে এই গল্প পাওয়াটা নানান কারণে হারায় যাইতে থাকে।


ফোক আর্ট যে সব আর্টকে বলা হয় তার থেকেও প্রচুর নিই আমি।


হাসান রোবায়েত

আমার ছাত্র যেমনটা মনে করছিল যে, আপনি আসলে আঁকতেই পারেন না। এইটা বেশ মজার। পিকাসো নাকি ছোটবেলায় ওল্ড মাস্টারদের মতো আঁকতেন। আর বড় হয়ে শিশুদের মতো। তো, শিশুদের ইমাজিনড জগৎটাকেই কি আপনি আঁকতে চান নাকি তাদের আঁকার স্টাইলকে নিতে চান?

রাজীব দত্ত

মে বি ইলিয়াসের কোনো একটা লেখায় পড়ছিলাম, একটা গাছের পিছনে একটা ছোট ফুলগাছ। গাঁদাফুল টাইপের। এক বাচ্চা অইটা দেখে বলতেছে, ফুলগাছটা বড় গাছটার পিছনে গিয়ে লুকাইছে! এই যে এইভাবে দেখাটা বাচ্চারাই ভালো পারে। আরেক বাচ্চার একটা ছবি দেখছিলাম। সে নিজে নিজেরে আকঁছে। সে আম গাছের নিচে। গাছে আম। সে নিজেরে আঁকল ছোট করে। গাছটা বড়। কিন্তু ছোট হয়ে সে গাছ থেকে আম পাড়বে কিভাবে! তো করল কী হাতটাই টেনে লম্বা করে দিল। সে ছোট বাট হাতটা লম্বা। বলে না সিনেমায়, আইনের হাত অনেক লম্বা। ওই রকম। তো, এই রকম ভাবনার জন্য ওই রকম স্টাইল না হলে হয় না আসলে। হাত লম্বা না হইলে আম পাড়বে কেমনে!

হাসান রোবায়েত

রমিজের ওই আইনের মতো লম্বা হাতের কনসেপ্ট কি শিশুদের চিন্তা থেকেই আসছে তাহলে?

রাজীব দত্ত

ওই রকমই আসলে। ফোক আর্ট যে সব আর্টকে বলা হয় তার থেকেও প্রচুর নিই আমি।

হাসান রোবায়েত

আপনার ছবিতে যে ধরনের মুখ দেখা যায় [আমার যেটুকু দেখা] প্রায় সবই পুরুষের। নারীমুখ তেমন নাই। এইটার পেছনে কোনো রিজন আছে কি?

রাজীব দত্ত

নারী আঁকি তো। আপনার চোখে পড়ে নাই মে বি। তবে সত্য এটা, কম আঁকা হইছে। এটা সচেতনভাবে না।

হাসান রোবায়েত

আমার ধারণা নারীর ধারণাটাই আপনাকে তেমন টানে না। সবার সাথেই প্রায় আপনার ‘ভাইবোন’ টাইপের সম্পর্ক। হা হা।

রাজীব দত্ত

হা হা। তারা আমারে ভাই ভাবে কিনা জানি না। তবে আমি কিন্তু বোনটোন ভাবি না।

হাসান রোবায়েত

আপনি যে স্টাইলে আঁকেন ঐটা কি অ্যাবস্ট্র্যাক্ট ঘরানার? না কি অ্যাবসার্ড?

রাজীব দত্ত

অ্যাবস্ট্রাক্ট না। অ্যাবসার্ড বলা যায়। অ্যাবস্ট্রাক্ট ছবি কিবরিয়া বা মনিরুল ইসলাম যেরকম অাকেঁন, তেমন।

হাসান রোবায়েত

আপনার রিয়েলিজম ঘরানার ছবি মনে হয় দেখিই নি আমি! আঁকেন না?

রাজীব দত্ত

পারি না ভালো। তাই অাঁকি না।

হাসান রোবায়েত

আমারও তাই মনে হয়! হা হা। ঘটনা হইলো, ছবিতে রং খুব কম ব্যবহার করেন কি?

রাজীব দত্ত

আগে করতাম প্রচুর। পিংক, পার্পেল দিয়েও আঁকছিলাম। এখন তেমন না। তবে রং বিষয়ে আমার কোনো শুচিবাই নাই।

হাসান রোবায়েত

রং ব্যবহার না করার পেছনে কোনো ইস্থেটিক্যাল কারণ আছে?

রাজীব দত্ত

না তেমন না। দরকার হয় না তো তাই। কিছুদিন আগে ‘তাসের দেশ’ নামে একটা শো-তে যে কাজ করছিলাম, তাতে প্রচুর ভাইব্রেন্ট কালারও ইউজ করছিলাম। দরকার পড়লে করি।

34534763_1875711775807268_8816717966264500224_n
রাজীব দত্তের কিছু চিত্রকর্ম

হাসান রোবায়েত

এই যে চারদিকে এমন শুনি যে, শিল্পরে হইতে হবে মানুষের জন্য। তার উপযোগিতা থাকতে হবে। আপনার অ্যাবসার্ডিটি তো ‘শিল্পের উপযোগিতাবাদ’-এর কফিনে আরাম করে করে পেরেক ঠোকে। আসলেই কি আপনার আর্ট উপযোগিতাবাদ নিয়া ভাবে?

রাজীব দত্ত

সেটাই। আমি পপুলার কিছু করব, জন-উপযোগী কিছু করব—এই ইনটেনশন নিয়ে কতটুক সাবলীল থাকা সম্ভব, আমার সন্দেহ আছে। আর পাবলিক বুঝে না এই প্রি-অ্যাজাম্পশন পাবলিককে ছোট করে দেখা একপ্রকার।

হাসান রোবায়েত

ছোটদের বই পড়তে কেমন লাগে?

রাজীব দত্ত

ভালো লাগে তো। ছোটদের বইই বেশি পছন্দ।

হাসান রোবায়েত

দুই একটা বইয়ের নাম যদি কইতেন! পড়তাম!

রাজীব দত্ত

লিটল প্রিন্স বুড়ো আংলা।

হাসান রোবায়েত

ছোটদের মুভি?

রাজীব দত্ত

চমৎকার! যেমন ধরেন ‘রেড বেলুন’।

হাসান রোবায়েত

হ্যাঁ। কিছু কিছু অ্যানিমেশন মুভি দেখার পর আমি তো থ হয়ে গেছি।

রাজীব দত্ত

ডিজনি, মিয়াজাকি এদের এত চমৎকার চমৎকার এনিমেশন আছে।

হাসান রোবায়েত

প্রচ্ছদ করতে কেমন লাগে?

রাজীব দত্ত

ভালো লাগে। স্বাধীনতা পাইলে বেশি ভালো লাগে।

হাসান রোবায়েত

টাকা ঠিকভাবে পাওয়া যায়?

রাজীব দত্ত

যায় না। আমাদের এখানে একাজটা এখনো পেশা হিসেবে দাঁড়ায় নাই।

হাসান রোবায়েত

প্রকাশকেরা কেমন আন্তরিক?

রাজীব দত্ত

কম। তারা ঠিক পেশাদার না। তারা বইয়ের বাইন্ডার, প্রেস সবার টাকা নগদ দিয়ে কাজ করাইলেও আর্টিস্টের টাকা দিতে কষ্ট লাগে।


আমার বইটার প্রচ্ছদ দেখে কবি তারিক টুকু বলছিলেন, ‘শুধু এই প্রচ্ছদের জন্য রাজীব দত্তকে পুরস্কার দেওয়া উচিত’।


হাসান রোবায়েত

আপনার এইবারের প্রায় সব প্রচ্ছদই সুন্দর। রঙের ব্যবহার বেশি গতবারের তুলনায়। আপনের লেটারিং ইউনিক। অবশ্য লেটারিং নিয়ে ঝামেলাও আছে। মনোটোনাস হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। এইটা নিয়ে ভাবতেছেন কি?

রাজীব দত্ত

একজনেরই লেখা তো। নানান রকম লেখা কঠিন। তারপরও দুয়েকটা বইয়ে চেষ্টা করছিলাম। যেমন আপনারটাতে ভুলো না আমায় ধাঁচের করে লেখার চেষ্টা ছিল। আর শোয়েবের বইটাতে বাচ্চাদের হাতের মতন। সামনে আরো চেষ্টা থাকবে।

রোবায়েত

আমার বইটার প্রচ্ছদ দেখে কবি তারিক টুকু বলছিলেন, ‘শুধু এই প্রচ্ছদের জন্য রাজীব দত্তকে পুরস্কার দেওয়া উচিত’।

রাজীব দত্ত

উনারে ধন্যবাদ দিয়েন।

হাসান রোবায়েত

প্রচ্ছদ করতে কী কী টাইপের ঝামেলায় পড়েন?

রাজীব দত্ত

প্রথমত আইডিয়া দিয়ে দিলে। এডভাইজ করলে। দ্বিতীয়ত সময় না দিলে। এগুলা গুরুতর। এর বাইরেও আছে কিছু। যেমন কেউ কেউ আছেন, প্রচ্ছদ কয়েকটা করায় নেন অনুরোধ করে করে। তারপর কোনটা ভালো হইছে বুঝার জন্য ফেসবুকে ভোটাভুটি শুরু করেন। এইটা জঘন্য লাগে। আর কেউ কেউ আছেন করায় নিয়ে পরে নিজের মনের মাধুরী মিশায় অইটারে এডিট করে নেন। এরকম সমস্যা। অনেকের আবার তার পছন্দ হইলেও তার প্রেমিকার মা’র পছন্দ হয় নাই। এখন তার প্রেমিকার মা’রে খুশি করার দায়িত্ব আমারে দিয়া সারাইতে চান। আরো বিচিত্ররকম অভিজ্ঞতা আছে। এমনও আছেন, তিনি লেখক হইলেও বড় মাপের শিল্পীও। তাই ম্যানিপুলেশন নিতে পারেন না। ইত্যাদি ইত্যাদি।

হাসান রোবায়েত

প্রেমিকার মায়েরে খুশি করা কিন্তু বিরাট ব্যাপার!

রাজীব দত্ত

সেটাই। কিন্তু এত গুণ তো ঈশ্বর দেন নাই। সমস্যায় পড়ে যাই।

হাসান রোবায়েত

প্রচ্ছদ করতে কি পুরা টেক্সট পড়েন? এমন হয় না যে, লেখক চাইলেন তার টেক্সটের সঙ্গে প্রচ্ছদের ভাবগত মিল থাকুক!

রাজীব দত্ত

লেখক তো চান। কিন্তু কবিতা হলে সম্ভব হয়। গদ্য সম্ভব না সবসময়। ধরেন কেউ ৪০০/ ৫০০ পাতার কোনো গদ্য দিয়ে যদি পড়ার দাবি করেন, বিপদ তো!

হাসান রোবায়েত

আপনার আর্ট প্রায়-ন্যারেটিভ। তবুও দেখা যায় কিছু কিছু ছবিতে আপনি টেক্সট ব্যবহার করেন। এইটা কী ভেবে করেন?

রাজীব দত্ত

এটা প্রথমত ঘটে মে বি আমার লিখার অভ্যাস আছে বলে। আর দ্বিতীয় যেটা হতে পারে আঁকার পর যখন কোনো টেক্সট এড করি ছবিটা অন্য একটা মাত্রা পায়। যেমন ধরেন একটা আম এঁকে যদি তার সাথে লিখি আম দেখতে আয়তাকার। তাহলে যিনি আম দেখতেছিলেন, তার দেখাটা বদলায় যায়। কিংবা ধরেন একটা হাত আঁকলাম। দেখে বুঝাই যাচ্ছে এটা মানুষের। তারপরও যদি লিখে দিই এটা মানুষের হাত। দর্শক ওই হাত যে শুধু মানুষের হাত না, আরো বেশি কিছু, তার একটা ইশারা পান। আর ইতিহাসে ছবির সাথে টেক্সট খুব পুরান। আমাদের তাল পাতার পুঁথি এর সবচে উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

হাসান রোবায়েত

আগে আমরা দেখতাম কাপড়ের হাতপাখায় নানান কারুকাজ থাকত ছাট কাপড় ও সেলাই দিয়ে। তারপর ধরেন, রুমাল। এইসবে কিন্তু টেক্সট থাকত। গমের শিষ দিয়ে [মেবি] আমাদের মায়েরা নানান রকম শিল্পকর্ম করতেন। আমাদের মেইনস্ট্রিম শিল্পে সেগুলো কেমনভাবে আসছে? আদৌ আসছে কি?

রাজীব দত্ত

আমাদের মেইনস্ট্রিম শিল্পে বিশেষ করে বাংলাদেশে জিনিসটা কনসেপচুয়ালি ওইভাবে হয় নাই। অন্তত আমার জানায় নাই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার ডেকোরেশনের অংশ। বা দেখা যাচ্ছে এমনভাবে ঢুকতেছে টেক্সটটা যেন বোল্ড হইতে না পারে। এটা ঘটার কারণ, টেক্সটাকে খালি ভিজুয়ালি নেয়ার কারণে। বা টেক্সটের কারণে ইমেজ যাতে মাইর না খায় বা যাতে ব্যালেন্স নষ্ট না হয় বা ইমেজের ইজ্জত নষ্ট না হয় ওই ধারণা থেকে। আপনি যে উদাহরণ দিলেন ওইটাও ভালো উদাহরণ। পটচিত্রেও আছে এমনটা। তারা ছবি দেখাইতে দেখাইতে মুখে ঘটনাটা ন্যারেট করে। তাদের কাছে দুইটাই সমান গুরুত্বের সাথে আসে।

শুধু টেক্সট দিয়েও কিন্তু আর্ট হবার উদাহরণ আছে। খালি পোস্টার বা লিফলেটটাই আর্ট।

হাসান রোবায়েত

কিংবা ঠাকুরের আর্ট!

রাজীব দত্ত

ওইটাতে কিন্তু টেক্সটের নান্দনিক দিকই আছে খালি। মিনিং নাই। যেটা ভুলো না আমায়’তে পাবেন। গ্রাফিতি টেক্সট সর্বস্ব আর্টের আরেকটা ভালো উদাহরণ। এখানে স্কিল মুখ্য না। মিনিং মুখ্য। যেমন : কষ্টে আছে আইজুদ্দিন। আমাদের বেস্ট একটা গ্রাফিতি।


ধরেন মানুষ আঁকলাম একটা। ছয় আঙুলের। এত রিয়েলিস্টিকভাবে যে দেখে আপনি অবাক। বললেন, পুরাই জীবন্ত।


হাসান রোবায়েত

গ্রাফিতি বা গ্রামবাংলার শিল্প সম্ভবত বেশি মানুষকে রিলেট করে। এগুলোর মধ্যে এক ধরনের কানেক্টিং পিপল-এর ব্যাপার আছে।

আপনার আর্টে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভাঙা ভাঙা বক্ররেখা ইউজড হয়। মনে হবে, কোনো নবিশ শিল্পির আঁকা। মানে, ডিসকন্টিনিউয়াস কার্ভ। আবার মাঝে মধ্যেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্ট্রেইট লাইন ব্যবহার করেন। পশমের মতো। বিশেষ করে মানুষের চিত্রে। এইটা কেন? বিশেষ কোনো কারণ?

রাজীব দত্ত

স্কিলটাকে এভয়েড করার জন্য। স্কিলের সমস্যা হইল, স্কিল প্রায়োরিটি পায়া গেলে কেউ কবিতা পড়ে বলল হাতের লেখা তো বেশ সুন্দর। কবিতা কেমন তা আর পাত্তা পাইল না, এমন। ভাগ্য ভালো কবিতা ছাপা হয়। হাতে লিখা হয় না। উদাহরণটা ঠিক হইল কিনা বুঝতেছি না।

হাসান রোবায়েত

যেমন হইছে হোক। হা হা। আমার প্রশ্নটাও ঠিক হইছে কিনা এখন বুঝতেছি না।

রাজীব দত্ত

আরেকভাবে বলি, ধরেন মানুষ আঁকলাম একটা। ছয় আঙুলের। এত রিয়েলিস্টিকভাবে যে দেখে আপনি অবাক। বললেন, পুরাই জীবন্ত। কিন্তু আঙুল যে ছয়টা, কেন ছয়টা বা আর যদি কিছু থাকে আড়ালে পড়ে গেল। আপনার আঙুল কতটুক রিয়েল হইল ওইটাই খালি পাত্তা পাইল। আরেকটা যেটা, ক্যামেরা যেটা এক ক্লিকে পারতেছে, তার জন্য আমার এত কষ্ট কেন।

আপনার প্রশ্ন ঠিক আছে।

হাসান রোবায়েত

আপনার সাথে আড্ডা দেবো জেনে আপনার এক ফ্যান, নারীভক্ত, আপনি আবার তার ক্রাশও—তিনি দুইটা প্রশ্ন করছেন।

রাজীব দত্ত

হায় হায়! ক্রাশ আছে আমার?

হাসান রোবায়েত

থাকে তো! সবারই। হা হা।

রাজীব দত্ত

আমি তো ভাবতাম আমিই খালি ক্রাশ খাই।

হাসান রোবায়েত

না না। আপনি প্রচুর মেয়ের ক্রাশ। প্রশ্ন দুইটা করি তাইলে?

রাজীব দত্ত

আচ্ছা।

34558591_1875711752473937_721283261363388416_n
রাজীব দত্তের কয়েকটি প্রচ্ছদ

হাসান রোবায়েত

আপনি চারদিকে এত দেয়াল তুলে রাখেন কেন? [ভক্তের প্রথম প্রশ্ন]

রাজীব দত্ত

যেমন? [ব্যাপক অবাক হয়ে]

হাসান রোবায়েত

আয় হায়! এখন তো আর উনাকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না। আচ্ছা ধরে নিই, উনি বুঝাইতেছেন যে আপনি এমন পার্সোনালিটি মেইনটেইন করেন যে কেউ আপনার কাছে ঘেঁষতে সাহস পায় না। এমন।

রাজীব দত্ত

সত্য কিনা সন্দেহ আছে। হয়তো মনে হয়। আসলে যেটা, আমি কিছুটা নোন না হইলে জড়তা কাটাইতে পারি না। সহজে ফ্রি হইতে পারি না। ইচ্ছা করে, এমন না। [হাসি]

হাসান রোবায়েত

আপনি এত ভালো কেন? [ভক্তের ২য় প্রশ্ন]

রাজীব দত্ত

ভালোর ভান ধরি আসলে। [হাসি]

হাসান রোবায়েত

আপনার সাথে আরো আলাপের ইচ্ছা ছিল। সেইটা অন্য কোনো সময় আবার করে নেব। সেই সুযোগ রাখলাম।

রাজীব দত্ত

থ্যাংকস আপনারেও। ধৈর্য ধরে শোনার জন্য।

হাসান রোবায়েত

আমি আসলে ইন্টারভিউ নিতে পারি না। আর তার মধ্যে আঁকাআঁকির ব্যাপারে নাদান আমি। কিন্তু মজা পাইছি।

রাজীব দত্ত

কালকের চেয়ে আজকে ভালো ছিল।

হাসান রোবায়েত

‘পরস্পর’-এর পক্ষ থেকে শুকরিয়া আপনাকে, আমার পক্ষ থেকেও।

রাজীব দত্ত

এটা ওদের কিসের আয়োজন?

হাসান রোবায়েত

এই প্রশ্নটা কি মূল ইন্টারভিউ-এ রাখব রাজীব দা?

রাজীব দত্ত

আপনার ইচ্ছা।

রোবায়েত

ঈদ উপলক্ষে উনারা বিশেষ আয়োজন করছেন। বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যের বেশ কয়েক জনের ইন্টারভিউ নিয়ে সেইটা করতেছেন।

রাজীব দত্ত

আচ্ছা। আমার ইন্টারভিউটা আপনার পছন্দের না উনাদের?

রোবায়েত

আমার, উনাদেরও।

রাজীব দত্ত

আচ্ছা।

রোবায়েত

ভালো থাইকেন রাজীবদা।

রাজীব দত্ত

আপনিও।


ঈদসংখ্যা ২০১৮
হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট ১৯৮৯, বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী আযিযুল হক কলেজ; বগুড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশিত বই :
ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [কবিতা; চৈতন্য, ২০১৬]
মীনগন্ধের তারা [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮]

ই-মেইল : hrobayet2676@gmail.com
হাসান রোবায়েত