হোম সংবাদ ‘কানাডার পক্ষ থেকে সুব্রতকে অভিনন্দন জানাই’ : টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস

‘কানাডার পক্ষ থেকে সুব্রতকে অভিনন্দন জানাই’ : টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস

‘কানাডার পক্ষ থেকে সুব্রতকে অভিনন্দন জানাই’ : টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস
156
0

গত ৩ ফেব্রুয়ারি টরন্টোর বার্চমাউন্ট কমিউনিটি সেন্টারে টরন্টোবাসী বাংলাদেশের লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস রচিত কানাডীয় সাহিত্য : বিচ্ছিন্ন ভাবনা গ্রন্থটির পাঠ-উন্মোচনকে কেন্দ্র করে কানাডার সাহিত্য নিয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। চারপর্বের এই আয়োজনের উদ্বোধনীতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখক কবি ইকবাল হাসান এবং কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল প্রমুখ।

সম্প্রতি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মূর্ধন্য থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি ও ঔপন্যাসিক অ্যান মাইকেলস বাঙালি ও কানাডীয়দের সংযোগ তৈরিতে সুব্রত কুমার দাসের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তরুণ লেখক ও কণ্ঠশিল্পী অর্ক ভট্টাচার্য পরিচালিত এই পর্বে তিনি বলেন টরন্টো শহরের প্রতিনিধি হিসেবে এবং বহুসংস্কৃতির দেশ কানাডার কবি হিসেবে আমি সুব্রতকে অভূতপূর্ব এই উদ্যোগের জন্যে অভিনন্দন জানাই।

উদ্বোধনী পর্বের সভাপতি কবি ইকবাল হাসান বলেন, যে কাজটি যুগের পর যুগ কানাডায় থেকেও আমরা অনেকেই করতে পারি নি, সেটি সুব্রত মাত্র পাঁচ বছরে করতে সক্ষম হয়েছেন। সৈয়দ ইকবাল সুব্রতর উদ্যম ও অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যদিও গ্রন্থটির নামে ‘বিচ্ছিন্ন ভাবনা’ শব্দদুটি যুক্ত রয়েছে, কিন্তু গ্রন্থটি সুব্রত যথেষ্ট পরিকল্পিতভাবে রচনা করেছেন।

পরের পর্বে কানাডীয় সাহিত্য : বিচ্ছিন্ন ভাবনা গ্রন্থটির ওপর আলোকপাত করেন কথাসাহিত্যিক সৈকত রুশদী, কবি দেলওয়ার এলাহী, গবেষক সুরজিৎ রায় মজুমদার এবং লেখক মাহমুদ হাসান। বাচিকশিল্পী চয়ন দাসের মনোজ্ঞ পরিচালনায় এই পর্বে আলোচকেরা সুব্রত রচিত গ্রন্থটি কিভাবে বাঙালিদের সামনে কানাডার সাহিত্যের দরজাটি খুলে দিয়েছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। আলোচকেরা মন্তব্য করেন যে কোনো কানাডীয় বাংলাভাষী অভিবাসীর জন্যে এই বই এক আবশ্যিক পাঠ। আলোচকদের বক্তব্য শ্রোতাদের প্রশংসা লাভ করে।

subrata
টরন্টোতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি কানাডীয় সাহিত্য : বিচ্ছিন্ন ভাবনা গ্রন্থটির পাঠ-উন্মোচনে কথা বলছেন বইটির লেখক সুব্রত কুমার দাস। মঞ্চে উপবিষ্ট [বাঁ থেকে] টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, সাপ্তাহিক দেশের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা খোশনুর রশীদ চৌধুরী, অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ইকবাল হাসান, বাংলা একাডেমি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও চিত্রশিল্পী সৈয়দ ইকবাল, সাপ্তাহিক সিবিএন২৪-এর প্রধান সম্পাদক মাহবুবুল হক ওসমানী এবং এনআরবি টেলিভিশনের এমডি আব্দুল হালিম মিয়া। ছবি : জাভেদ ইকবাল

গ্রন্থটির লেখক সুব্রত কুমার দাস গত চারবছর ধরে কানাডীয় সাহিত্য পাঠ এবং দুই বছর ধরে গ্রন্থটি রচনার কালে যে বন্ধুরা পাশে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বন্ধুদের সহযোগিতা থাকলে কানাডার সাহিত্য নিয়ে তার পরবর্তী দুটি গ্রন্থ ২০১৯ সালেই প্রকাশিত হবে।

অনুষ্ঠানটি সুব্রত রচিত গ্রন্থটি নিয়ে হলেও আয়োজকেরা পুরো অনুষ্ঠানটি এমনভাবে সাজিয়েছিলেন যাতে কানাডার সাহিত্যের একটি ছোঁয়া পাওয়া সম্ভব হয়। বিশিষ্ট কবি অশোক চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে কানাডার মূলধারার যে লেখক ও কবিরা তাদের রচনা থেকে পাঠ করেন তারা হলেন অ্যান মাইকেলস, কবি মার্ক ডি স্যাভেরিও এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কবি দয়ালি ইসলাম। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সংস্কৃতিকর্মী মম কাজী।

সম্প্রতি প্রকাশিত স্টর্ম উপন্যাস খ্যাত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ঔপন্যাসিক আরিফ আনোয়ারের সভাপতিত্বে কানাডার সাহিত্য নিয়ে যে বাঙালিরা কথা বলেন তারা হলেন গবেষক সুজিত কুসুম পাল, অনুবাদক সায়ীদ যাদীদ এবং সংস্কৃতিকর্মী তাসমিনা খান। সামগ্রিকভাবে কানাডীয় সাহিত্যের পথ পরিক্রমার কথা বলতে গিয়ে সুজিত উল্লেখ করেন মার্গারেট অ্যাটুউডের কথা। সায়ীদ তার আলোচনায় প্রসঙ্গ তোলেন ঔপন্যাসিক লরেন্স হিলের। তাসমিনা কথা বলেন, এলিন মানরোর ছোটোগল্প নিয়ে। পর্বটি পরিচালনায় ছিলেন অদিতি জহির।

কানাডার প্রথম ২৪ ঘণ্টার টেলিভিশন এনআরবি, সাপ্তাহিক দেশের আলো, সাপ্তাহিক সিবিএন২৪, সাপ্তাহিক বাংলা মেইল এবং বাংলা রেডিও আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এনআরবি টেলিভিশনের এমডি আব্দুল হালিম মিয়া, সাপ্তাহিক দেশের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা খোশনুর রশীদ চৌধুরী এবং সাপ্তাহিক সিবিএন২৪-এর প্রধান সম্পাদক মাহবুবুল হক ওসমানী। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতাকারী প্রতিষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকের প্রতিষ্ঠান শাড়ি হাউসের কর্ণধার রঞ্জন রায়ও লেখককে অভিনন্দিত করেন। সাপ্তাহিক বাংলা মেইল পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টুর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে চার ঘণ্টার অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। শহিদুল প্রবাসের বাঙালি কমিউনিটির সকল ভালো কাজের সাথে নিজেকে এবং তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যয় জ্ঞাপন করেন।