হোম ভ্রমণ মালয়েশিয়া ভ্রমণ : সামান্য দেখা

মালয়েশিয়া ভ্রমণ : সামান্য দেখা

মালয়েশিয়া ভ্রমণ : সামান্য দেখা
165
0
৯ পর্বের লিংক

পর্ব- ১০

‘Throughout the inhabited world, in all times and under every circumstance, the myths of men have flourished; and they have been the living inspiration of whatever else may have appeared out of the activities of the human body and mind. It would not be too much to say that myth is the secret opening through which the inexhaustible energies of the cosmos pour into human cultural manifestation. Religions, philosophies, arts, the social forms of primitive and historic man, prime discoveries in science and technology, the very dreams that blister sleep, boil up from the basic, magic ring of myth.’ (Joseph Campbell)

জেনটিং হাইল্যান্ড যাবার সময় মনমাতানো প্রকৃতির হাতছানি দেখে দেখে গেছি। জেনটিং থেকে ফেরার সময় একই পথে তা আবারও দেখার চেষ্টা করছি। এ পথটাই অনেক আনন্দের। এ প্রকৃতি পেলে আর কিছুই মনে আসে না। এমন নিসর্গের কোলে জীবনকে মেলে ধরতে ইচ্ছে করে। এ রকম প্রকৃতির আদরে জীবন বিকশিত হলে কারো অসুস্থ হওয়ার কথা নয়। অনন্য বন-বনানী তা যেখানেই থাক। হোক না সে-মালয়েশিয়া। শুধু মনে আসে—‘এ পথ যদি না শেষ হয়।’ কিন্তু এক সময় তো শেষ হয়ে যায়। ফেরার সময় কথা ছিল পথেই আমরা কোথাও দুপুরের খাবার গ্রহণ করব। জেনটিং ছেড়ে কিছুদূর এসে একটি পেট্রোলপাম্পে গাড়ি থামল। জায়গার নাম বুঝতে পারি নি। এখানেই রয়েছে একটি ম্যাকডোনাল্ড ক্যাফে। দুদিকে পাহাড়, একপাশের পাহাড়ের পাদদেশে হেলান দিয়ে পরিমিত দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে পাম্প ও ম্যাকডোনাল্ড। প্রকৃতির নির্জনতায় সবুজে শোভিত এ ক্যাফের অবস্থান। ভাবছিলাম এত নির্জনে খদ্দের কি আসে? ক্যাফেতে প্রবেশ করে বুঝলাম আসে। জেনটিং যাত্রী শুধু নয় এদিকে যারা ঘুরতে আসে তারাও মনে হয় এখানে স্বস্তির সাথে খাবার খেতে বিরতি দেয়। কারণ আশেপাশে আর এরকম খাবারের কোনো জায়গা নেই। চমৎকার নীরবতা। মাঝে মাঝে গাড়ির হর্ন নয় ইঞ্জিন ও গতির শব্দে এ নীরবতা ভাঙে। এখানেই তৃপ্তির সাথে সেরে নিলাম আজ দুপুরের খাবার। আবার রওয়ানা দিয়ে ৪টার দিকে পৌঁছে গেলাম বাতুকেভ-এ।


অবাক করা তথ্য হলো, এ গুহা প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়।


কুয়ালালামপুর শহরের কাছেই অবস্থিত বাতুুকেভ। এ-সম্পর্কে আগে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, এখানে এক বিশাল শিবমন্দির রয়েছে। আবার স্থানের নাম বলা হয়েছিল—বান্টু কেভ। এখানে আসায় এ দুটি ভুলই সংশোধিত হলো। মালয়েশিয়াতে আবার শিবমন্দির, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আছে, তবে এখানে নয়। জেনটিং থেকে বাতু পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছাতে অনেক দেরি হলো। একদিনে এত এলাকা স্পর্শ করা দৌড়ের ওপর। বলা ভালো এভাবে দৌড়ানো—না-শিক্ষা সফর, না-পর্যটন। কোনোটাই হয় না। মূলত, আমরা পর্যটন উপযুক্ত মানুষ নই। আমরা কেবল কোনো ভূমিতে স্পর্শ ও শপিং করতে চাই। গন্তব্যে পৌঁছার পর বাতু পাহাড়ের রূপ দেখে ভীষণ ভালো লাগল। খুব যত্ন ও পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে পুরো পাহাড় সংলগ্ন বাতুকেভ-মন্দির কমপ্লেক্স। এখানে এ-অসময়ে মানুষের ভিড় দেখে মনে হলো, সব পর্যটকই এখানে আসে।

কুয়ালালামপুর থেকে মাত্র ১৫ কিমি দূরত্বে গমবাক জেলায় অবস্থিত বাতুকেভ মন্দির। যারা শহর থেকে আসতে আগ্রহী, তারা সহজেই এখানে এসে একটি দিনের কিছু অংশ আনন্দে কাটাতে পারে। বাতু পাহাড়ের বিপরীতে সুনগাই বাতু নামে এক নদী প্রবহমান। এ নদীর নামেই বাতু পাহাড় ও গুহার নামকরণ হয়েছে। জানলাম এ পাহাড় ও গুহা মালয়েশিয়ার প্রাগৈতিহাসিক চিহ্ন বহন করে।

70176716_363121211238920_2424153484019367936_n
বাতু পাহাড়

বাতুকেভের কাছে পৌঁছে বিশাল এক মূর্তি দেখে অবাই হই। এ তো শিবমূর্তি নয়। ভিন্ন কিছু। আমি তো এমনিতেই বৃক্ষ, ফুল ও দেবতাদের কম জানি ও চিনি। বাতু কমপ্লেক্স-এর মধ্যেই এক দোকানে দেখলাম এক লোক বিভিন্ন ছবি বিক্রি করছে। মনে হলো, ওই লোকটাই জানতে পারে এখানে কোন দেবতার মূর্তি। তার কাছে গিয়ে জানতে চাই—এ বিশাল মূর্তির দেবতা কে? সে বলল—মারুগান; মানে মুরুগান দেবতা। কখনও এমন নাম শুনি নি। কারা এর পূজা করে, তাও জানি না। এখানে এসেছি যখন তা হলে নাম জানা জরুরি। যারা বার বার মালয়েশিয়া ঘুরে গেছে, তাদের অনেকেই জানেন না এখানে মুরুগান দেবতার মূর্তি স্থাপিত। বুঝলাম, আমি নিজেও হয়তো ওই দেবতাকে জানি; কিন্তু নামে ভিন্নতা রয়েছে ভাষার কারণে। মুরুগান নিয়ে পরে বলা যাক।

69989505_508903936342521_5656258189784514560_n
বাতুকেভের মূল ফটক

এ বাতু পাহাড়েও সেই চুনাপাথর। পুরো পাহাড়ে পাথর উজ্জ্বল হয়ে শোভা পাচ্ছে। যা জানা গেল এখানে কোনো এক সময় তেমুয়ান আদিবাসীরা বসবাস করত। তারা মালয়েশিয়ার আদি অধিবাসী ওরাং গোষ্ঠীর উত্তরাধিকারী। অবাক করা তথ্য হলো, এ গুহা প্রায় ৪০ কোটি বছর আগে গঠিত হয়। তেমুয়ানরা আত্মরক্ষার্থে এখানে আশ্রয় নিয়েছিল। অনিবার্য কারণেই গুরুত্ববহ একটি স্থান। প্রকৃতি, গুহার ভেতরে মন্দির ও দেবতাদের মূর্তি, সবমিলিয়ে অনন্য এক আকর্ষণীয় স্থান বাতুকেভ। মূলত, এ স্থানটি তামিলভাষী হিন্দুদের পূজা ও উপাসনাস্থল। এখন পূজারির চেয়ে এখানে পর্যটকরাই বেশি আসে। জানা যায় উনিশ শতকে টিন খনিতে কাজ করার সময় চাইনিজরা এ গুহা আবিষ্কার করে। তবে এক মার্কিন প্রকৃতি গবেষক এ বাতুকেভের পরিচিতি বিশ্বের বিস্তৃতভাবে তুলে ধরেন। গুহার প্রবেশমুখের ডানপাশে দেবতা মুরুগানের বিশাল মূর্তি ২০০৬ সালে স্থাপিত হয়। এর উচ্চতা হলো ১৪০ ফুট।

70125433_2634125363339365_127573542442106880_n
মুরুগান মূর্তি

এ গুহার প্রবেশপথ প্রথম আবিষ্কার করেন ভারতীয় এক ব্যবসায়ী থাম্বুস্বামী পিল্লাই। তিনিই এখানে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। গুহার মূল মন্দিরে যাবার জন্য ১৯২০ সালে কাঠের সিঁড়ি তৈরি হয়। গুহার ভেতরে প্রবেশ করতে রয়েছে ২৭২টি সিঁড়ি। সম্প্রতি সিমেন্ট দিয়ে এ সিঁড়িগুলো পুনর্নিমিত হয়েছে।

জেনে নিলাম তামিল ভাষায় কার্তিক দেবতাকে বলা হয় মুরুগান। মূলত, শব্দটি ছিল মুরুকু। এ সূত্রেই বলা হচ্ছে মুরুগান। ইতিহাস থেকে জানা যায়, একসময় সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াতে মহাভারত ও রামায়ণের খুব প্রভাব ছিল। ফলে ওইসব দেশে এখনও মুরুগানের পূজা ও উৎসব হয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়াতে অবশ্যই; এখনও মালয় ও থাই ভাষায় প্রাচীন ভারতীয় মিথ-পুরাণের শব্দাবলির ব্যবহার রয়েছে। কার্তিক হলেন সুন্দর ও যৌবনের দেবতা। অসুর বা যেকোনো দেবত্ববিরোধী বৈশিষ্ট্য বিনাশে তার অবদান স্বীকৃত। শিব পার্বতীর সন্তানই হলেন কার্তিক। একাধারে তিনি সুন্দর, যৌবন, যোদ্ধা ও বিজয়ীর প্রতীক। কার্তিক সংশ্লিষ্ট তীর্থস্থানের মধ্যে ভারতে আছে ৬টি আর মালয়েশিয়াতে রয়েছে ৪টি। ভারত ও মালয়েশিয়ার বাইরে কার্তিক বা মুরুগান মূর্তি রয়েছে শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, মৌরিতাস ও ফিজিসহ নানা দেশে। প্রতিবছর তামিল থাই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি)-র পূর্ণিমায় এখানে থাইপুসাম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এসময় মুরুগানের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয় অসুর বিনাশের জন্য।

এখানে সে সময় বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উৎসবে বাতুকেভ হয়ে ওঠে মিলনমেলা।পূজার সময় অনেক উপাচার থাকলেও বিচিত্র রকমের কাবাদি বহন করা এ-উৎসবের অন্যতম অঙ্গ। উৎসবের সময় পূজারিরা বিচিত্র রঙে সাজানো পাত্রভর্তি দুধ বহন করে নিয়ে আসে নৈবদ্য হিসেবে। এটাকে তামিল ভাষায় বলা হয় কাবাদি (kavadi)এর মর্মার্থ হলো, দেহভাণ্ডের ভার। মজার বিষয় হলো, একই বিষয় ভিন্নভাবে আমরা পেয়ে থাকি আমাদের সুফি-বাউল, বৌদ্ধ ঘরানায়।সকলেরই লক্ষ্য—দেহের ওজন থেকে মুক্তির অপার বাসনা। মুক্তিলাভের কামনায় এ প্রতীকী কাবাদি সাজানো হয় ফুল ও কবুতরের পালক দিয়ে। কাবাদি বহন করার আগে পাশের সুংগাই-বাতু নদীতে স্নান করে কাবাদি বহনকারীরা পবিত্র হয়। আবার নিজে পূজারি হিসেবে ২৭২টি সিঁড়ি অতিক্রম করে মূল মন্দিরে নিয়ে যেতে হয় এই কাবাদি। পূজারি হিসেবে কাবদি বহনকারীর কর্তব্য হিসেবে বিবেচিত। উৎসবের সময় পূজারিরা দেবতার উদ্দেশে কাবাদিনৃত্য পরিবেশন করে। এর মাধ্যমে তারা নিজের দেহে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করে। তারা মনে করে মানুষের এ দেহ হচ্ছে এক ধরনের বোঝা। এর ভার থেকে মানুষ মুক্তি লাভ করতে চায়। এজন্য এ নৃত্যের আয়োজন হয়ে থাকে। উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য অনেক আগে থেকে পূজারিরা প্রস্তুতি গ্রহণ করে। আবার একদিন আগে পূর্ণ উপবাস থেকে মূল থাইপুসাম উৎসবে অংশগ্রহণ করতে হয়।


ইন্দোনেশিয়ার ধার্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে, বাহিরে মুসলমান-ধর্ম সকলে মানিলেও, রামায়ণ ও মহাভারতের প্রভাব এখনও বিশেষ প্রবলভাবে বিদ্যমান।


বাতুকেভের পাশেই রয়েছে রামায়ণ কেভ। এখানেও একটি ৫০ ফুট উচ্চতার হনুমান-ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়েছে। তা হলে প্রশ্ন আসে—কিভাবে প্রাচ্যের পৌরাণিক প্রভাব ছড়িয়ে গেল সবখানে, এর কী কারণ আছে। আমরা সে ইতিহাস অনেকেই জেনেও জানি না। জানতে চেষ্টা করি ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর কাছে,—‘ভারতবর্ষ হইতে যে সমস্ত দেশে ভারত-ধর্মের অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্যধর্ম ও বৌদ্ধধর্মের প্রচার হইয়াছে, সেই সমস্ত দেশে রামায়ণ মহাভারত ও নানা পৌরাণিক উপাখ্যানও পহুঁছিয়াছে… মালয় উপদ্বীপের মালাই-জাতি এবং যবদ্বীপের জাতি তথা বলিদ্বীপের ও লম্বকদ্বীপের অধিবাসীগণ—ইহারা সকলেই এককালে ব্রাহ্মণ্য-আদর্শে অনুপ্রাণিত ধর্ম ও সমাজ গড়িয়া তুলে, এবং এই ধর্ম ও সমাজকে জীবনে সমৃদ্ধ করিয়া তুলে। সেই হেতু ইহাদের মধ্যে রামায়ণ মহাভারত ও পুরাণের—বিশেষ করিয়া রামায়ণের—এক লক্ষণীয় প্রভাব দেখা যায়। এক বলিদ্বীপ ও আংশিকভাবে লম্বকদ্বীপ ছাড়া, এই সমস্ত দেশে এখন ব্রাহ্মণ্য-ধর্ম বা ব্রাহ্মণ-শাসিত সমাজ বিদ্যমান নাই; ব্রহ্মে, শ্যামে, কম্বুজ দেশে ও চম্পায় লোকে এখন বৌদ্ধধর্ম পালন করে, …অন্যত্র—মালয়-উপদ্বীপে ও দ্বীপময়-ভারতে, জনসাধারণ মুসলমান-ধর্মই স্বীকার করিয়া লইয়াছে; তথাপি তাহাদের জীবনে অতীতের অবশেষ-স্বরূপ ব্রাহ্মণ্য ও বৌদ্ধ প্রভাব এখনও গভীরভাবে কার্য্য করিতেছে, বিশেষ করিয়া যবদ্বীপে; স্বাধীন ইন্দোনেশিয়া বা দ্বীপময়-ভারত রাষ্ট্রের আমাদের ভারতে প্রেরিত প্রথম রাজদূত শ্রীযুক্ত Seodorsono সুদর্শন ভারতবর্ষে অবস্থান-কালে এক সভায় বলিয়াছেন যে, ইন্দোনেশিয়ার ধার্মিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে, বাহিরে মুসলমান-ধর্ম সকলে মানিলেও, রামায়ণ ও মহাভারতের প্রভাব এখনও বিশেষ প্রবলভাবে বিদ্যমান।…ভারতের বাহিরে, বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য প্রভাবের ফলে, তিব্বতি, চীনা, বর্মী, মোন, খমের, শ্যামী, মালাই, প্রাচীন ও মধ্যযুগের যবদ্বীপীয় ও সুন্দানী ভাষায়, এবং বলিদ্বীপের ভাষায়, সংক্ষিপ্ত রাম-কথা অথবা নাতি-ক্ষুদ্র রামায়ণ-গ্রন্থ উপলব্ধ হইয়াছে।’ [সাংস্কৃতিকী ২৪-২৫]

ফলে, কার্তিক বা মুরুগান ভূগোল ছাড়িয়ে এত জনপ্রিয় সাধারণ মানুষের কাছে যুগ যুগ ধরে। কার্তিকের বৈশিষ্ট্যে যা বলা হয়, সেগুলো সকল মানুষেরই যেন সাধারণ কামনা। কে না চায় একজন বীরপুরুষ না-হতে, বা বীরপুরুষের কামনা না-করে, কে সুন্দর হতে চায় না, কে দলনেতা বা সেনাপতি হতে চায় না। এ জগতে এসব বৈশিষ্ট্যই অর্জন করতে চায় মানুষ। প্রকৃতিগতভাবে না পেলে, ছলে-বলে-কৌশলে অর্জন করতে চায়। বোঝা যায় এ সাধারণ কামনা বাসনা কখনও শেষ হবে না। কার্তিকের গতিও থামবে না।কার্তিক সম্পর্কে পুরাণে যা বলা হয়েছে, তা জেনে নেই সুধীরচন্দ্র সরকারের বরাতে : কার্তিক দেবতাকে বলা হয় ত্রাতা। দেবতাদের আসন প্রায়ই অসুরদের দ্বারা দখল হয়ে যেত। এ পরাজয়ে দেবতাদের মাঝে শঙ্কা দেখা দেয়। তাই স্বর্গরাজ ইন্দ্র লোকহিতার্থে একজন সাহসী সেনাপতি খোঁজ করছিলেন। একদিন ইন্দ্র লক্ষ করেন যে, প্রজাপতির কন্যাকে হরণ করে নিচ্ছে এক কেশী দানব। ইন্দ্র তাকে রক্ষা করে ব্রহ্মার কাছে নিয়ে গেলেন। ব্রহ্মা বাণী দিলেন তাকে যে গ্রহণ করবে সে একজন বীরপুরুষ ও সেই হবে দেব-সেনাপতি। একবার দক্ষকন্যা স্বাহা অগ্নিকে কামনা করেন। আবার অগ্নিও সপ্তর্ষিদের দেখে কামার্ত হয়ে ওঠেন। স্বাহা অঙ্গিরার স্ত্রী শিবার রূপ ধারণ করে অগ্নির সাথে মিলিত হন। এরপর স্বাহা আবার গরুর রূপ ধারণ ও অগ্নির শুক্রানু কাঞ্চনকুণ্ডে নিক্ষেপ করেন। আবার সপ্তর্ষীদের মতো রূপ ধারণ করে পুনরায় অগ্নির সাথে সহবাসে মিলিত হন। একে একে স্বাহা ছয়বার কাঞ্চনকুণ্ডে অগ্নিশুক্র নিক্ষেপ করেন। এর প্রেক্ষিতে স্কন্দ বা কার্তিকের জন্ম হয়।

অন্যদিকে স্কন্দের জন্মরহস্য জেনে তাকে মেরে ফেলতে ইন্দ্রকে বলা হয়। কিন্তু ইন্দ্র এ কাজের জন্য যোগ্য ছিলেন না। তবে কার্তিককে মারতে ইন্দ্র একবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কার্তিককে বলা হয় অগ্নি, এজন্য তিনি মহাদেবের পুত্র। ইন্দ্রের বজ্রে কার্তিকের দেহের ডানদিকে ক্ষত হলেও এখান থেকে বিশাখা নামে এক যুবকের জন্ম হয়। তখন দেবরাজ ভীত হয়ে তাকে সেনাপতি পদে অধিষ্ঠিত করেন। একবার কার্তিককে মারার জন্য কয়েকজন মাতৃকা প্রেরণ করা হলে ফল হলো উলটো। তারা তাকে পুত্র মনে করে স্তন্যপান করান।অবশেষে দেবতারা তার নেতৃত্ব মেনে নিলেন। অতঃপর কার্তিক হন দেব-সেনাপতি। ইন্দ্র তার সকল অনুসারীকে কার্তিকের হাতেই সমর্পণ করেন। এরপর তারই নেতৃত্বে সকলে অসুরদের বিপক্ষে লড়াই করেন। ফলে, দানবরা পরাজিত হয়। অন্যদিকে ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা হয়ে—পার্বতির সাথে বিহারে শিবের তেজে জন্ম হয় কার্তিকের। পৃথিবী শিবের তেজ গ্রহণ করতে পারে নি। তারপর অগ্নি নিজেই ভয়ে এ তেজ শরবনে নিক্ষেপ করেন। সেখানে এক সুন্দর শিশুর জন্ম হয়। তিনিই মূলত কার্তিক। এ কার্তিকই মুরুগান নামে পরিচিত এ বাতু কেভে। যা-ই বলা হোক, ঘুরেফিরে বিভিন্নভাবে ওই একই কার্তিকের বিবরণ পেয়ে থাকি বিভিন্ন স্থানে।

গুহার ভেতর আলাদা এক রাজ্য। উক্ত ২৭২টি সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠে আবার সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয় গুহার মেঝেতে। ভেতরে গেলে দেখা যায় পাহাড়ের গায়ে পাথর যেন এলোমেলো হয়ে ঝুলে আছে। মনে হবে কে বা কারা পাথরগুলো ঝুলিয়ে রেখেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পাথরের লতাগুল্ম ঝুলছে। গুহার অভ্যন্তরস্থ ছাদ ও দেয়াল থেকে চুয়ে চুয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানিও ঝরে। এজন্য মাঝে মাঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় ভেতরের মেঝে। তবে এতে তেমন কোনো সমস্যা তৈরি হয় না।

70504665_745396375890313_365487831260332032_n
গুহার অভ্যন্তর

গুহার ভেতরে রয়েছে মূর্তি প্রতিষ্ঠিত মন্দির। আবার পাহাড়ের গায়ে খাঁজ লক্ষণীয়। দেয়ালের গায়ে ওই খাঁজগুলোতে অনেক মূর্তি স্থাপিত। ভেতরে আরেক দুনিয়া, বাইরে থেকে ভাবাই যায় না কী আছে ভেতরে। এলোমেলো ঝুলানো পাথর দেখতে বড় বড় তরবারির মতো। এ ছাড়া এখানেও সেই রক ফরমেশনের সন্ধান আমরা পেয়ে থাকি। গুহার ভেতরের একটি জায়গায় উপরের দিকে রয়েছে বিশাল ফাঁক। ওই ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো আসে ভেতরে। একটু আকাশও দৃশ্যমান হয়। কিন্তু অন্ধকার দূর হয় না। ফলে, গুহার ভেতরে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা রাখা আছে।

এ গুহা দেখলে ভাবনায় আসে কিভাবে মানুষ এমন গুহার ভেতরে মূর্তি স্থাপনের চিন্তা করল, বা কেন করল? এমন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। এ গুহায় যারা বসবাস করত, হয়তো তারাই তাদের মতো চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এখন তো তা গবেষণার বিষয়। মূলত, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বোধ হয় বাইরে বিভিন্ন সংস্কার কাজ করা হয়েছে। এর আলোকেই বাইরে বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। বাইরের স্থাপনাগুলোতে ও মূল ফটকে স্থাপন করা আছে আরও মূর্তি। দেখলে মনে হবে মূর্তির সমাবেশ।

70064040_237773050472774_4365790559386730496_n
গুহার ভেতরে কবুতর

আশেপাশে প্রতিটি স্থাপনায় শুধু মূর্তি আর মূর্তি। নানাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রবেশপথের চারপাশে কিছু দোকানও রয়েছে। কেভের সামনে আছে বিশাল চত্বর। ফলে পর্যটকদের ঘোরাফেরাতে কোনো সমস্যা হয় না। দুপাশে রয়েছে দেয়াল, সেসব দেয়ালের ওপর বসানো আছে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, গণেশ, নারায়ণ শিবসহ বিভিন্ন দেবতার মূর্তি। এ বাতু পাহাড়ে প্রচুর বানরের আড্ডাও লক্ষণীয়। পর্যটকদের তারা ভাব দেখায় আক্রমণ করবে, কিন্তু কিছু করে না। গুহার সামনের খোলা জায়গায় তারা রাজত্ব করে ঘুরে বেড়ায়।

বাতু পাহাড়ে রয়েছে অনেক উদ্ভিদবৈচিত্র্য। এছাড়াও রয়েছে বিচিত্র রকমের প্রজাপতি। বিভিন্নভাবে সেগুলোর কিছু সূত্রও মানুষকে জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বাতু কেভের সামনে অর্থাৎ মূল ফটকের ভেতরের উদ্যানও খুব সুন্দর। উদ্যানের পাশে মন্দিরের স্থাপনা বিভিন্ন মূর্তি দিয়ে সুসজ্জিত। কিছু দোকান রয়েছে, যেগুলো থেকে পূজার সামগ্রীসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করা যায়। ইচ্ছে থাকলে মেটাল নির্মিত মুরুগানের ছোট প্রতিকৃতি বা আলোকচিত্র সাথে নিয়ে আসা যায়।

70773661_393091498071870_5425685035162271744_n
বাতুকেভের সামনের উদ্যানে কবুতর সমাবেশ

বাইরের যে খালি জায়গা ওখানে প্রচুর কবুতর পাওয়া যায়। লোকজনও তাদের সাথে কোনো ঝামেলা করে না বরং খাবার বিতরণ করে। এগুলোকে বলা হয় দেবতা মুরুগানের কবুতর। এ উদ্যানে কবুতরের সমাবেশ ও আচরণ অনন্য এক নান্দনিক বিষয়। সত্যিই আকর্ষণীয়। এক জায়গায় জড়ো হয়ে তারা বসে থাকে। এদিক-ওদিক ওড়াউড়ি করে। এ কবুতরগুলোর বাস মূলত গুহার ভেতরে। খাবারের সন্ধানেই তারা বেরিয়ে আসে আবার ভেতরে চলে যায়।

বাতু গুহা দেখে  ফিরছি কুয়ালালামপুর শহরে। আসার পথেই দেখা মিলে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত টুইন টাওয়ার (পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার)-এর। পেট্রোনাস টুইন টাওয়ারের নির্মাণ কাজ ১৯৯২ থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৯৬ সালে। টুইনটাওয়ার উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৯ সালে। আবার পুনর্নির্মাণ করা হয় ২০১১ সালে। টুইন টাওয়ার নির্মাণ নিয়ে অনেক জল্পনাকল্পনা চলে ওই দেশের ভেতরে ও বাইরে। সাহসী মাহাথির টুইন টাওয়ার নির্মাণে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন। তবে তিনি এ সম্পর্কে তার কথা লিখিত বই-এ উল্লেখ করেছেন। আমরা কিছু অংশ পাঠ করতে পারি। এ থেকে তাঁর স্বপ্ন, নেতৃত্ব ও দৃঢ়তা কিছুটা আঁচ করা যাবে।

‘This inferiority complex is latent in the psyche of theMalays, perhaps even of Malaysians generally, When we built the towers, we were not unware of poverty in Malaysia, but we could not wait until poverty was totally eradicated before we spent money on other things that would make ahuge contribution to the country’s economy. At the towers, opening ceremony, I said that when people are short, they need a soapbox in order to be seen and heard. We, I said, were little known and figuratively we were short, not players of all stature in the international game. The towers were Malaysia’s soapbox, but they have since also became the country’s landmark, a part of our internationally-recognised and admired brand image.’ [A Doctor in the House]

মালয়েশিয়ার পরিচিতি ও উন্নয়নের প্রতীক এ টুইন টাওয়ার দেখতে পর্যটকরা আসে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে। পাশ দিয়ে যাচ্ছি, তাই আমাকেও কেউ কেউ বললেন, দেখে আসার জন্য। আমি দূর থেকেই দেখলাম। কয়েকজন কাছে গেলেন তা দেখার জন্য। ছবিও তোলা হলো। একমাত্র আমি কোনো আগ্রহবোধ করি নি ভিন্ন কারণে। আমি মনে করি, দুনিয়াতে ছোটবড় অনেক ইমারত আছে, এগুলোতে দেখার কিছু নেই। তবে এ-টুইন টাওয়ার উচ্চতা ও নকশার দিক থেকে পৃথিবীখ্যাত। অধিকাংশ লোক ওই ইমারত দেখতেই চায়। ইমারতে বসেই নাস্তাপানি, খাবার গ্রহণে স্বপ্ন দেখে। ইদানীং তো সেলফি তোলে। টুইন টাওয়ারের সামনে কিছুক্ষণ থামার পর ফিরছি আবার বুকিত বিনতাং।


কঠিন যাতনাময় আর ছিন্নভিন্ন দিন, বিনিদ্র ভগ্নাংশ রাত, এই আমি পেয়েছি। জীবন এই এরকমই।


সকলের মধ্যেই এক তাড়াহুড়ো ভাব। কারণ, সময় মতো ইফতার করা প্রয়োজন। আজ ইফতার করব ভিন্ন এক স্থানে। উপস্থিত হলাম বুকিত বিনতাং-এর একটি রেস্তোরাঁয়। সেখানে এসে দেখলাম প্রচুর ভিড়। ইফতারের জন্য সবাই বসে আছে। অল্পসময়ের মধ্যে ইফতার শুরু হবে। এ ভিড়ের চাপেই আমরা যে-যার মতো বসে যাই। আজ ভালোভাবেই ইফতার সম্পন্ন করেন সকলে। ওই হোটেলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত দু-জন বাংলাদেশি ভাইকে পেয়ে গেলাম। এত ভিড়ের মধ্যে কথা বলা মুশকিল। তাও এক ফাঁকে জানতে চাইলাম কেমন আছেন। ইফতার শেষ করে অবশ্য আবার কুশল বিনিময় করি। এখানেই তারা থাকেন আর কাজ করেন। কষ্টের দিনরাত্রি, তাও ভালো যে, দেশে কিছু টাকা পাঠাতে পারছেন। ফিরে আসি খাবারের প্রসঙ্গে। আমার ক্ষেত্রে সেই পুরনো নিয়তি। ইফতারের এক গ্লাস শরবতও পেতে কষ্ট হলো প্রথমে। সব সময় বিয়ে বাড়িতেও দেখেছি যে, আমি যেসব খাবার পছন্দ করি, সেগুলো অবশেষে আমি আর পাই না। যেখানে ফ্রি খাবার ব্যবস্থাপনা থাকে সেখানে আমি আমার পছন্দ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত খাবার নিতে পারি নি। বুফে খাবার ছিল, কিন্তু নিতে গিয়ে দেখি সেই ট্রাডিশনাল খাবারগুলো রয়ে গেছে আর বাকি সব শেষ। দই বা ফিরনি জাতীয় কী একটা ছিল, ওটাও শেষ। কি আর করা, যা আছে তা-ই। খাবার গ্রহণে সব সময়ই আমি বঞ্চিত থাকি। আজও সেই একই অবস্থা। একটা পাই তো আরেকটা নেই। এ নিয়ে আমার কোনো দুঃখবোধও নেই। বরং, এ বিষয় আমি ব্যক্তিগতভাবে উপভোগও করি। মালয় রেসিপির দু-একটি খাবার ছিল, সেগুলোই নিলাম। মন্দ হয় নি, খাওয়া তো হলো।

জীবনে আর কখনও এমন সুযোগ আসবে কি না আমি নিশ্চিত নই। আর খাবার নিয়ে কিছু দাবি বা আবেদন জানানো খুব বিরক্তিকর। জীবনে কতবার না-খেয়ে বলেছি যে, খেয়েছি। আর কতবার নিমন্ত্রণে গিয়েও রেস্তোরাঁয় খেয়েছি। তবুও এ খাবার নিয়ে আমাকে মানুষ খোঁটা মারে, কতকিছু করে। পারলাম না কোথাও ম্যানেজ করতে নিজেকে। আবার সেই রাখাল বালক হতে ইচ্ছে করে। থাকলে হয়তো এসব ভাবনা আমার মাথায়ই আসত না। জীবনে সুখী হতাম অনেক।

বুকিত বিনতাং-এ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করি। এর মধ্যে নগদ টাকা হাতে না-থাকায় সমস্যাও হচ্ছিল। মুদ্রা একচেঞ্জ করতে হলো। বিষয়টা জরুরি ছিল। তারপর হাঁটতে থাকি রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে। ফিরছি নতুন আনকাসা হোটেলে। সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে ফিরে এলেও সারাদিনের শান্তি-স্বস্তি এক ব্যক্তির আচমকা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারে মুহূর্তে যেন বাষ্প হয়ে উবে গেল। গোছানো মালপত্র রিসিভ করে নেই—বিশ্রাম করব। কিন্তু হোটেলের রুম বরাদ্দ নিয়ে সামান্য কোনো এক বিপরীত আচরণ লক্ষ করি। যা হয়তো আমি বা আমরা কখনো কামনা করি না। এর নরম আঘাতটি আসে আমার ওপর। তবে তা যেকোনো সময়ই হতে পারে। এ বিষয়ও আনন্দের। জীবনে কিছু বিষয়, ঘটনা নিজের ওপর ঘটে যাওয়া ভালো মনে করি। এতে পুনর্বার সতর্ক থাকা যায় এবং এ অভিজ্ঞতা আর নাও হতে পারে জীবনে। এর চেয়ে জরুরি হলো, না-হলে মানুষ চিনব কী করে। ফলে, এ ধরনের ঝামেলা দু-একটি হওয়াই ভালো, যা বাকি জীবনপরিধির জন্য ফলদায়ক। বড় অর্জনের জন্য কিছু ছাড় দেওয়া। মনে হলো মীনাকুমারীর শায়ের :

‘টুক্‌রে টুক্‌রে দিন বিতা, ধয্যি ধয্যি রাত মিলি
যিস্‌কা যিৎনা আঁচল থা, উৎনাহী সওগাৎ মিলি।
যব্ চাহা দিল্‌কো সমঝে হাস্‌নেকা আওয়াজ শুনি
যয়সে কোই কহতা ওহ্ লে ফির তুঝকো মওৎ মিলি।
মওৎ কেয়সি, যাতে কেয়া, জ্বলতে রহনা আট পহর
দিল্‌সা  সাথী যব্ পায়া বেচানভী সাথ মিলি।’

এর মানে হলো : ‘কঠিন যাতনাময় আর ছিন্নভিন্ন দিন, বিনিদ্র ভগ্নাংশ রাত, এই আমি পেয়েছি। জীবন এই এরকমই। যার আঁচল যতটুকুই ভাগ্যদেবী ততটুকুই তাকে দিয়ে থাকেন। হৃদয়কে যতবার বোঝাবার চেষ্টা করেছি ততবারই শুনেছি কেউ যেন হেসে উঠেছে আর বলছে,—হৃদয় বুঝে তুই কি করবি? নে, তোকে মৃত্যু দিলাম, এটা বুঝে নাও। মৃত্যু? মৃত্যু কি সেটাও কি ছাই আমি বুঝতে পেরেছি? না। মৃত্যু কি তাও বুঝলাম না। শুধু জানি আট প্রহর ধিকি ধিকি জ্বলে যেতে হবে। হৃদয়ের মতো সঙ্গী যখন জুটে গেছে জানি হৃদয়যন্ত্রণার হাত থেকেও নিষ্কৃতি নেই আমার। হৃদয় মানেই হৃদয়যন্ত্রণা, এটুকু জানি। এর চেয়ে বেশি আর আমি জীবন, হৃদয়, মৃত্যু সম্পর্কে কিছুই জানি না। কিছুই না।’ ফলে, সব ঘটনাই জীবনের অর্জন বলে ধরে নেই। এগুলো ওই জীবনেরই অংশ।

নির্ধারিত রুমের দিকে যাবার আগে আরিফকে ফোন করি। আমি জানিয়ে রাখলাম যে, আগামীকাল আমি ফ্রি আছি, কুয়ালালামপুরেই দিন কাটবে। আমার কথা শুনে সে বলল, আগামীকাল দুপুরে সে পুত্রাজায়া থেকে কুয়ালালামপুর আসবে ও আমার সাথে রাত কাটাবে। পরের দিনে সম্ভাব্য প্রোগ্রামগুলো কী হতে পারে, তা আমরা একত্রে ভেবে দেখব।


১১ পর্বের লিংক

স্বপন নাথ

জন্ম ৪ মে ১৯৬৮; বড়লেখা, মৌলভীবাজার। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; এমফিল, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : শিক্ষকতা; উপপরিচালক (গবেষণা ও তথ্যায়ন), নায়েম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রকাশিত বই :
প্রবন্ধ—
চিন্তা ও জগৎ : সাহিত্য সংস্কৃতি [প্রবাস প্রকাশনী, যুক্তরাজ্য ২০০৭]
কবিতার নন্দনবিশ্ব [অনিন্দ্য প্রকাশ, ঢাকা ২০১৭]
কথার বুনন [জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৯]
ছিন্ন কথামালা [জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৯]

কবিতা—
রৌদ্র ও বৃষ্টিতে মায়াহরিণ [ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা ২০০৭]
জলৌকা চোখের চাতাল [ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা ২০১০]
নির্জন বিচালির ডানা [কবি প্রকাশনী, ঢাকা ২০১৩]
নখের আউঠা [উৎস প্রকাশন, ঢাকা ২০১৪]
নানকার ধানবীজ [উৎস প্রকাশন, ঢাকা ২০১৫]
একলব্যের ছিন্ন আঙুল [নাগরী, সিলেট ২০১৬]
সংশয়ের বসতি [নাগরী, সিলেট ২০১৭]
গ্রাম বজ্রযোগিনী [জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৯]

ই-মেইল : rudro71@gmail.com