হোম ভ্রমণ মালয়েশিয়া ভ্রমণ : সামান্য দেখা

মালয়েশিয়া ভ্রমণ : সামান্য দেখা

মালয়েশিয়া ভ্রমণ : সামান্য দেখা
398
0
১ পর্বের লিংক

পর্ব- ২


লংকাউই

গল্প শুনেছি ও বিজ্ঞাপন দেখেছি মালয়েশিয়া ভ্রমণে বিভিন্ন প্যাকেজের। এছাড়া প্রতিবেশী ও পরিচিত অনেকেই মালয়েশিয়াতে বিভিন্ন পেশা ও ব্যবসায় জড়িত। তারাও মালয়েশিয়ার উন্নয়ন ও সৌন্দর্য নিয়ে কথা বলেন। সম্প্রতি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরাও মালয়েশিয়াতে লেখাপড়া করতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে শ্রমবাজার হিসেবেও এখন মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার মাটিতে পা রেখেই এর বাস্তবতাও অনুভূত হয়েছে কেন, কী কারণে এখানে আসে এত লোকজন। আকর্ষণই-বা কিসে। শুধু দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নয়, পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, তা মালয়েশিয়া সরকার করছে, এবং করেই যাচ্ছে। ফলে, মালয়েশিয়া পর্যটনশিল্পে প্রচুর বিনিয়োগ করে লাভবান হচ্ছে। যা মনে হলো, এ লক্ষ্যে লংকাউইসহ গোটা মালয়েশিয়াকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে মালয় সরকার। অবশ্য লংকাউই-র ভূপ্রকৃতিও পর্যটনের জন্য মানানসই। সুতরাং, মালয়েশিয়া ভ্রমণ মানে লংকাউই যেতেই হয়।

আমরা তো ১২ মে সেই সকালে লংকাউই বিমান থেকে নেমে ঘুরতে ঘুরতে সময় কাটাচ্ছি। আর অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানও ভ্রমণ করা হচ্ছে। যাতে দুপুর ২টার পর হোটেলে অবস্থান নিতে পারি। লংকাউই ভ্রমণে প্রচুর পর্যটক যে আসেন তা প্রথমেই টের পেয়েছিলাম। উল্লেখ প্রয়োজন, একজন পর্যটক হিসেবে সুবিধা পেতে হলে অবশ্যই লংকাউই কেন সকল স্থানেরই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপর গাইড ও অন্য কারও সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। লংকাউইতে লাগবেই গাইডের সহায়তা। কারণ, এখানে দেখা ও পর্যবেক্ষণের উপাদান রয়েছে প্রচুর।


আন্দামানের নীল জলরাশি বিস্তৃত হয়ে এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত, এ জলরাশির ছড়ানো ব্যাপ্তিই এর মূল আকর্ষণ। 


লংকাউই মালয়েশিয়ার অনন্য সুন্দর একটি স্থান। এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই বার বার ঘুরতে আসেন এখানে। আমরাও ঘুরতে ঘুরতে কিছু সৌন্দর্য দেখে নেব। এর আগে সাধারণ তথ্য জেনে রাখি। মনে করতাম একটি একক দ্বীপ হলো লংকাউই। কিন্তু না, জানলাম ছোট বড় ৯৯টি দ্বীপের সমাহারে এ অঞল গঠিত। প্রতিটি দ্বীপের নামও রয়েছে। মূলত, আন্দামান সাগর এ সৌন্দর্যের জন্ম দিয়েছে। সাগরের জল বিভিন্ন চ্যানেলে লংকাউইকে বেষ্টন করে রেখেছে। একটু দূরে দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক একটি দ্বীপ। প্রকৃতির মাঝে কত পরিমিত দূরত্ব।

1
আন্দামানের জল মিলেছে কুয়ার তীরে, লংকাউই-এর দৃশ্য

সাজানো চমৎকার সুন্দরের লীলাভূমি এ লংকাউই। লংকাউই মূল ভূমির সাথে বাকি দ্বীপগুলো মিলে এর আয়তন হলো ৪৭৮ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৭০ শতাংশই হলো পাহাড় ও বনভূমি। বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোর ফাঁকে ফাঁকে আন্দামানের নীল জলরাশি বিস্তৃত হয়ে এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত, এ জলরাশির ছড়ানো ব্যাপ্তিই এর মূল আকর্ষণ। ২০০৭ সালে ইউনেস্কো এ দ্বীপকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ-এর মর্যাদা দিয়েছে। এটাকে মালয়েশিয়ার বিশেষ একটি স্থান হিসেবেও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিবেচনা করা হয়।

অবশ্য প্রথম দর্শনেই চোখে পড়ে লংকাউই শহরের পরিচ্ছন্নতা। কোথাও ময়লার ছিটেফোঁটাও নেই। রাস্তায় কাউকে টিস্যু ফেলতেও দেখি নি। প্লাস্টিক তো দূরে থাক। সবাই যেন খুব সচেতন এ বিষয়ে। এত মানুষের যাতায়াত এ দ্বীপে; কিন্তু কোনো ভিড়ের চাপ নেই। এ এক অসামান্য নীরবতা। প্রথমেই টের পেলাম অনেক গাড়ি রাস্তায় চলছে কিন্তু কোনো হর্নের শব্দ নেই। আমাদের পর্যটন-বাসটিও একবারের জন্য হর্ন বাজায় নি। এ নিয়ে আমার আগ্রহ অনেক। তা পরে বলা যাবে। ছোট পর্যটন শহর, কিন্তু, পরিষ্কার ও শান্ত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে যা কিছু সম্ভব, এখানে তা-ই করা হয়েছে এ অঞ্চলের সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটকদের সুবিধা দানে।


ওরিয়েন্টাল ভিলেজ

লংকাউই-এর উত্তর-পশ্চিম পাশে অবস্থিত বারুয়া-বে এলাকায় অসামান্য গোছানো একটি সুন্দর স্থান ওরিয়েন্টাল ভিলেজ। আধুনিক মালয়েশিয়ার নির্মাতা ড. মাহাথির মোহাম্মদ এ ভিলেজের স্থাপন ও নির্মাণ কাজ শুরু করেন ১৯৮৫ সালে। প্রাচীন গ্রামের যেখানে বৈশিষ্ট্য রয়েছে এমন স্থানে গড়ে তোলা হয়েছে এ ভিলেজ। কিন্তু ওই গ্রামের চিহ্ন এখন আর নেই। পর্যটনের জন্য সব সুবিধা রেখে তা নির্মাণ করা হয়েছে। সবই নাগরিক বৈশিষ্ট্যের। এখানে আসা মূলত গ্রামের একটি অনুরূপ আকৃতি উপলব্ধি করতে। যেটুকু বুঝলাম ওখানে একটি ভ্রমণ-উপযোগী অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। চারিদিকে পাহাড় ও সবুজ প্রকৃতির মাঝখানে এ ভিলেজ অবস্থিত।

2
ভিলেজ সংলগ্ন চিংকাং পাহাড়

এখানে নতুনভাবে শপিংমল নির্মিত হলেও উপনিবেশ আমলের কিছু বাড়ি ঘর রয়েছে। পুরনো এ বাড়িঘরে মানুষ তেমন নেই। এগুলোতে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রচুর দোকানপাট; লিকার, কাপড়, শোপিস, প্রসাধনীর দোকান। তা হলে ভিলেজ কোথায়? কাছেই উঁচু পাহাড়, সেখানেও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়ের সেই চূড়ায় তৈরি করা হয়েছে অবস্থানকেন্দ্র। কেউ চাইলে কেবলকারে ভ্রমণ এবং সেই উঁচু থেকে পুরো পাহাড় ও সেখান থেকে দূরবর্তী স্থানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। এ চূড়ায় গেলে পুরো শহর ও কুয়া জেটির জলরাশি দেখা যায়। পুরোটাই একটি বিনোদনকেন্দ্র।


মালয়েশিয়াতে কী হয়েছে আমরা তা জানি না। আবার এখানে এমন কোনো জাদুঘর নেই, যেখানে ইতিহাসের সে-উপাদানগুলো রক্ষিত থাকে।


ওরিয়েন্টাল ভিলেজে প্রবেশের সময় বুঝতে পারলাম, সেখানের সরকার খুব সুন্দর একটি স্থান বাছাই করে জায়গাটা পুনর্নির্মাণ করে নিয়েছে পর্যটনের জন্য। সবকিছু দেখে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুমান করি ওই অঞ্চলে কোনো এক সময় আদিবাসীরা হয়তো বাস করত। যা এখন আর নেই। এটা অবশ্য আমার অনুমানের কথা। আবার মালয়েশিয়াতে সহজে পুরনো ইতিহাস জানার কোনো সুযোগ আছে কি না জানি না। ফিরে আসার সময় মহারাজার একটি বাড়িও দেখেছিলাম। জানি না কখনও কোনো মহারাজা এখানে রাজত্ব করেছেন কি না। এখন আধুনিক মালয়েশিয়ার বাতাস সবই গ্রাস করেছে। মালয়েশিয়ার আদিবাসী লোকজনকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এখানে কোনো আদিবাসী ছিল কি না তাও বোঝার উপায় নেই। সবই এখন মালয়েশিয়ান এবং ইসলাম ধর্মের অনুসারী। পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হয়, পুরনো কোনো চিহ্ন রাখা হয় নি। মনে হলো, আধুনিক দেশ গড়তে গিয়ে পুরনো সবই মুছে ফেলা হয়েছে। এটাও ইতিহাসের নির্মমতার এক পর্ব। মালয়েশিয়াতে কী হয়েছে আমরা তা জানি না। আবার এখানে এমন কোনো জাদুঘর নেই, যেখানে ইতিহাসের সে-উপাদানগুলো রক্ষিত থাকে। যা আছে এ সবই পর্তুগিজ, ডাচ, ব্রিটিশ উপনিবেশ এবং ইসলামি ঐতিহ্যের স্মারক বহন করে। ওখানে আদিবাসী ছিল কি না তাও বোঝার উপায় নেই। অন্যদিকে আগের মালয়েশিয়াকে না বোঝা, না জানার যথেষ্ট আয়োজন এখন চোখে পড়ে। সবদিকে উন্নয়নের এক হাওয়া, বাণিজ্য, পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব ইত্যাদির প্রাচুর্য। এবং সবই করা হয়েছে খুব পরিকল্পিত ও যত্নে। আমি গাইড হিশামের কাছে জানকে চাইলাম—হোয়াই ডু ইউ সেইং দিজ প্লেইস এজ এ ওরিয়েন্টাল ভিলেজ?

3
ওরিয়েন্টাল ভিলেজে ভেতরের একাংশ

হিশাম বলল—উই ক্রিয়েটেড এ ব্রান্ড দিজ ওরিয়েন্টাল ভিলেজ। তবে, এখানের কোনো ইতিহাস সে বলতে পারে নি। রমজান মাস চলমান, তাই প্রায় খাবার দোকানই বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনাও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ভ্রমণ ও ঘোরাঘুরির কারণে সকলেই খুব ক্ষুধার্ত। কিন্তু জুতসই না হওয়ার কারণে কেউ খাবারের কথা বলছে না। আমরা যারা রোজাদার নই, ভিলেজে প্রবেশ করেই একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে বসে গেলাম। আমার যথেষ্ট পানির পিপাসা ছিল। দেখলাম একজন মধ্যবয়সী মহিলা ও কিশোরী এ দোকানে রয়েছে। জানতে চাইলাম আমি কিছু খেতে পারব কি না। দোকানে বসা দু-জনেই রোজা রেখেছেন। তবে তাদের হ্যাঁ জবাব শুনতে ভালোই লাগল। আমি নিলাম বিস্কুট আর কফি। ভালো লাগল, তাই শান্তি পেলাম বিস্কুট, পানি ও কফিতে। বিল পরিশোধ করে আরও কিছু সামনে এগিয়ে দেখলাম আমাদের দলের কয়েকজন একটি রেস্টুরেন্টে বসে আছে এবং খাবারের অর্ডারও দিয়েছেন। যারা রোজা রাখেন নি তারাই শুধু ভাত ও সবজির আদেশ দিয়েছেন। এ ভাত অনেকটা ফ্রাইড রাইসের মতো। বেশ মোটা চালের ভাত। এখানেও কোনো পুরুষ দেখতে পেলাম না, মহিলারাই এটি চালাচ্ছে। ‘সোল ক্যাফে’ নামের রেস্টুরেন্টে তিন জন তরুণী খাবার পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত। তারা ভালোই ইংরেজি বুঝে ও ভাষা বিনিময় করতে পারে। পরিবেশনকারীদের অনুমতি নিয়ে তাদের ছবি তুলেছিলাম। এ ‘সোল ক্যাফে’তে ওইদিন দুপুরের খাবার গ্রহণ করি।

4
ওরিয়েন্টাল ভিলেজের প্রবেশদ্বার

সবাই ক্লান্ত, ফলে কেউ আর ঘোরাঘুরিতে আনন্দ পাচ্ছে না। কারণ গতরাতে সবাই ছিল বিমানযাত্রী। কারও ঘুম হয় নি। আবার বিমান থেকে নেমেই ফ্রেশ না হয়ে ঘুরছে আর অপেক্ষা করছে কখন হোটেলের চেক-ইন-এর সময় হবে। ওই তিনজনের একজন তরুণী কিছুক্ষণ পর পর একেকটি প্লেট রেডি করে পরিবেশন করছে আর আমরা ক্ষুধা নিবৃত্ত করছি। লক্ষণীয়, পরিবেশনের জন্য তিন জন তরুণী নিয়োজিত থাকলেও একজনই তা করছে। আর বাকিরা মোবাইলে চোখ নিবদ্ধ রেখেছে, হয়তো ফেসবুকে ব্যস্ত। মোবাইল সেটে একটা ঘোর লাগা ভাব দেখলাম তাদের মধ্যে। আমাদের খাবার দেওয়া শেষ হলে তিন জনই একত্রে মোবাইলে মগ্ন হয়ে গেল। এ এক অপরূপ দৃশ্য। খুবই নিমগ্ন তারা ফেইসবুকে। আমি অনুমতি নিয়ে ছবিও তুলে নিলাম এ ব্যস্ততার। আমার ভাবনা ছিল যে, কিভাবে তারা কাস্টমার রেখে ফেসবুকে ব্যস্ত থাকে, এ বিষয়ে। কাস্টমার রেখে রেস্টুরেন্ট-কর্মচারীদের এভাবে ওইরকম নিমগ্নতা আর কোথাও চোখে পড়ে নি কখনও। অতিরিক্ত আসক্তির ফলে সবাই সামাজিক দায়িত্ব কেমন ভুলে গেছে, যাচ্ছে। সারা পৃথিবীর যেন একই সমস্যা। তারা কোনোভাবেই আমলে নিচ্ছে না যে, সময় বুঝে এসব করতে হয়। এটা সেখানে নয়, সর্বত্রই চোখে পড়ে, আমাদের দেশেও।


ওরিয়েন্টাল ভিলেজের মধ্য ও পাশ দিয়ে বয়ে চলা জলের স্রোতে বা ছোট পুকুরের মতো একটি জলাধারে ইচ্ছে করলে যে কেউ মাছ শিকার করতে পারে।


সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সারাবিশ্বে কী ধরনের প্রভাবে রেখেছে, তা অবলোকন করি। লক্ষ করি, সামাজিক যোগাযোগের বিষয়-আশয় নিয়ে সারাবিশ্বেই এখন গবেষণা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীরা ক্রমেই একক হতে হতে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে এবং নিজেকে ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারছে না। তারা ক্রমইে হয়ে উঠছে অসামাজিক। ফলে, সামাজিক দায়িত্বে অদক্ষতা বাড়ছে। বরং, তারা সামাজিক হতে অনাগ্রহী। একা একা থাকতে ইচ্ছুক। শুধুই নিজের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে তারা ব্যস্ত। এখানেও এর প্রমাণ পেলাম।

5
মোবাইলে ব্যস্ত তিন রেস্টুরেন্টকর্মী

এ ভিলেজে আনন্দের জন্য সবই করা হয়েছে। চারদিকে চিনকাং পাহাড়ঘেরা একটি অনুপম স্থান। এ পাহাড়ের প্রকৃতি ও মাটিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটন এলাকা। এখানে দর্শনীয় স্থানগুলো পরিদর্শন ছাড়াও রয়েছে পরিচ্ছন্ন হোটেল, ডিজে-বার, লিকারের দোকান, বিভিন্ন শোপিসের দোকান, পাহাড়ে কেবলকার, স্কাইব্রিজ ও অন্যান্য বিষয়াদি। রয়েছে কয়েকটি ঝুলন্ত ফুটওভারব্রিজ। নিচে বয়ে চলেছে ঝরনার স্রোতধারা।

বাড়িগুলোর ডিজাইন মূলত ব্রিটিশ, জাপানি ও চায়নিজ শৈলীতে নির্মিত। ইকোটুরিজম বলতে যা বোঝায়, মালয়েশিয়ান ও কেদা প্রাদেশিক সরকার, তা-ই করেছে। এ ছাড়াও পর্যটকরা চিংকাং পাহাড়ের চূড়ায় কেবলকার এবং ৪১০ ফিট দীর্ঘ স্কাইব্রিজ ভ্রমণ করতে পারে। একইসাথে থ্রিডি মুভি দেখার জন্য রয়েছে স্কাইডোম।

6
স্কাই ডোম ও সংশ্লিষ্ট মল

ওরিয়েন্টাল ভিলেজের মধ্য ও পাশ দিয়ে বয়ে চলা জলের স্রোতে বা ছোট পুকুরের মতো একটি জলাধারে ইচ্ছে করলে যে কেউ মাছ শিকার করতে পারে। এখানে শপিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে প্রথাগত মালয়, পাশ্চাত্য ঘরানা, জাপানিজ ও চায়নিজ খাবারের সমারোহ। রয়েছে কাবাব-ঘর এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হোটেল, রেস্ট হাউস। আরও আছে ম্যাসেজ, স্পা ও আনন্দ লাভের অন্যান্য সুযোগ। পর্যটকরা এজন্য এখানে বার বার আসে।


৩ পর্বের লিংক

স্বপন নাথ

জন্ম ৪ মে ১৯৬৮; বড়লেখা, মৌলভীবাজার। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, বাংলা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; এমফিল, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : শিক্ষকতা; উপপরিচালক (গবেষণা ও তথ্যায়ন), নায়েম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রকাশিত বই :
প্রবন্ধ—
চিন্তা ও জগৎ : সাহিত্য সংস্কৃতি [প্রবাস প্রকাশনী, যুক্তরাজ্য ২০০৭]
কবিতার নন্দনবিশ্ব [অনিন্দ্য প্রকাশ, ঢাকা ২০১৭]
কথার বুনন [জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৯]
ছিন্ন কথামালা [জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৯]

কবিতা—
রৌদ্র ও বৃষ্টিতে মায়াহরিণ [ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা ২০০৭]
জলৌকা চোখের চাতাল [ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা ২০১০]
নির্জন বিচালির ডানা [কবি প্রকাশনী, ঢাকা ২০১৩]
নখের আউঠা [উৎস প্রকাশন, ঢাকা ২০১৪]
নানকার ধানবীজ [উৎস প্রকাশন, ঢাকা ২০১৫]
একলব্যের ছিন্ন আঙুল [নাগরী, সিলেট ২০১৬]
সংশয়ের বসতি [নাগরী, সিলেট ২০১৭]
গ্রাম বজ্রযোগিনী [জিনিয়াস পাবলিকেশন্স, ঢাকা ২০১৯]

ই-মেইল : rudro71@gmail.com