হোম বই নিয়ে হিন্দু-শিখ দ্বন্দ্ব নিয়ে : ক্যাথি অসলারের কাব্যিক উপন্যাস ‘কর্ম’

হিন্দু-শিখ দ্বন্দ্ব নিয়ে : ক্যাথি অসলারের কাব্যিক উপন্যাস ‘কর্ম’

হিন্দু-শিখ দ্বন্দ্ব নিয়ে : ক্যাথি অসলারের কাব্যিক উপন্যাস ‘কর্ম’
2.69K
0

২০১১ সালে প্রকাশিত উপন্যাস কর্ম ক্যাথি অসলারের প্রথম কথাসাহিত্য প্রয়াস। যদিও কাহিনিকে তিনি উপস্থাপন করেছেন কবিতার মতো করে। উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুটিতে রয়েছে মায়া নামের ১৫ বছর বয়সী এক তরুণী। শিখ বাবা এবং হিন্দু মায়ের মেয়ে মায়া কানাডায় বড় হয়ে প্রথম যেদিন পিতৃপুরুষের দেশ ভারতে পা রাখে সেই তারিখটি ছিল ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। সেদিনই দুই শিখ দেহরক্ষীর হাতে নিহত হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং তার ফলে সারা ভারতজুড়ে শিখ-ধর্মাবলম্বীদের ওপর নেমে আসে অন্ধকার একটি সময়। মায়া সেই অন্ধকারের চিত্রণ করছেন। কালি জুগিয়েছেন কানাডার উইনপেগের লেখিকা ক্যাথি অসলার।

ক্যাথির জন্ম, বেড়ে ওঠা উইনিপেগে। ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে ডিগ্রি নেয়া ক্যাথির জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো মধ্য বিশে আঠারো মাস ধরে ১৬টি দেশ ভ্রমণের সুযোগ। দেশগুলোর তালিকায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত ছিল। ৩৩ বছর বয়সে ক্যাথি ক্রিয়েটিভ রাইটিং ক্লাসে ভর্তি হন। ২০০৯ সালে প্রকাশিত তার প্রথম গ্রন্থ ছিল একটি স্মৃতিকথা। শিরোনাম : লস্ট : অ্যা মেময়র। স্মৃতিকথাটিও কাব্যিক ঢঙে রচিত। সেটি পড়ে কানাডীয় সাহিত্যের প্রবীণ লেখক শ্যারন বুটালা লিখলেন :

ক্যাথি অসলার আমাদের সাহিত্য-অঙ্গনে এক নতুন ও সাহসী প্রতিভা।

ক্যাথি লস্ট-এর জন্য এডনা স্টাবলার পুরস্কারের শর্টলিস্টেও অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর তার ম্যাগনাম ওপাস কর্ম প্রকাশিত হয়। কবিতায় লেখা পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠার এই কাব্যোপন্যাস একই সঙ্গে একটি পরিবার ও একটি জাতির দুঃখগাথা।

এই উপন্যাস শুরু হয়েছে মায়া নামের মেয়ের ডায়েরি দিয়ে। তারিখ ১৯৮৪ সালের ২৮ অক্টোবর। বলে রাখা দরকার পুরো উপন্যাসটি কিন্তু ডায়েরিতে লেখা। আর আগেই বলেছি যে, সে লেখাটা আবার গদ্যে নয়। কবিতার মতো করে। ছোট ছোট কবিতার সমষ্টি এই বিশাল গ্রন্থটি। কিন্তু কবিতাগুলোর মধ্যে আছে একটি গল্পের সুতো। সেই সুতো ধরে এগোতে থাকলে ক্রমে স্পষ্ট হতে থাকে ক্যাথি আসলে কঠিন একটি গল্প বলেছেন। সে গল্পকে মর্যাদাবান করেছে অনেকগুলো অনুষঙ্গ। ক্যাথির ভারতীয় ইতিহাস-সচেতনতা, সমাজ ও ধর্মীয় স্পষ্টতা যেকোনো পাঠককেই মুগ্ধ করতে সক্ষম। ক্যাথির গল্প অথবা কবিতা, দীর্ঘকবিতা অথবা কবিতাপুঞ্জ অনেক বেশি মোহনীয় হয়ে ওঠে, যখন দেখি কবিতার ভেতরে অসঙ্কোচে ঢুকে পড়ে চেতনা-প্রবাহের উপাদান।

শুরুতে গল্পের কাঠামোটির ওপর একটু আলোকপাত করা যেতে পারে। যে মেয়েটি শুরুতে বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, সেই মায়ার আসল নাম হলো জিভা। ওর বাবার নাম অমর, আর মায়ের নাম লীলা। শিখ অমর আর হিন্দু লীলা প্রেমে পড়েন। শেষমেশ বিয়েও করলেন তারা অনেক বাধা পেরিয়ে। দুজনেই পরিত্যক্ত হলেন সমাজ থেকে। নতুন বিবাহিত এবং পরিত্যক্ত এই দম্পতি নতুন দেশ কানাডায় এসে আবাস গড়লেন। এমন দেশ তারা চাইছিলেন, যেখানে সামাজিক এই বাধা ওদের জীবনকে বিপন্ন করবে না। ঠিকানা হলো ম্যানিটোবার এলসিনোরে। সেখানেই ১৯৬৯ সালে জন্ম হয় জিভার—বাবা-মার কাছে যার আদুরে নাম মায়া। ঘটনাক্রমে জিভার জন্মদিনের দিনেই এক অসাধ্য সাধন ঘটল পৃথিবীতে। পৃথিবীর মানুষ চাঁদে গিয়ে নামল।


সন্দীপ হলো সেই তরুণ বয়সী মানুষটি যে দিল্লিতে শিখদের ওপর হিন্দুদের অত্যাচারের সময়ে মায়াকে আশ্রয় দেয়।


কিন্তু কানাডাতে এসেও মায়ার মায়ের শূন্যতা যেন কাটল না। অবসন্নতায় ভুগতে ভুগতে লীলার শেষ পরিণাম হলো আত্যহত্যা। অমর সিদ্ধান্ত নিলেন মায়াকে নিয়ে ভারতে যাবেন, ভারতের যমুনা নদীতে লীলার চিতাভস্ম বিসর্জন দেবেন। আর তেমন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই ১৯৮৪ সালের ২৮ অক্টোবর বাবা-মেয়ে যাত্রী হয়েছে প্লেনে। প্লেনে বসে নতুন একটি ডায়েরি খুলে বসে মায়া। লেখা শুরু করে। যে অংশটুকু এতক্ষণ বলা হয়েছে সেটি ওই ডায়েরির পরের পাতাগুলো থেকেই জানা যায়। কিন্তু কখনোই মনে হয় না, পাঠককে ওই গল্পটা বলার জন্যই মায়ার ডায়েরি। বরং খুব কারণহীনভাবেই যেন ডায়েরিতে মায়ার আঁকিবুঁকি। আর তার ভেতর দিয়েই যেন ক্রমে ক্রমে স্পষ্ট হতে থাকে একটি গল্পের রেখা।

ধরা যাক, শুরুর কবিতাটি, ‘A brand-new diary’ ক্যাথি শুরু করেছেন এভাবে :

How to begin.
Click.
How to Begin.
Click. Click. Click.
I like the sand of a ballpoint pen
Click, Click, Click.

এরপর তারিখের কথা, জায়গার কথা, যেমন করে আমরা ডায়েরিতে লিখি। কিন্তু ওগুলোর কথা শুনতে শুনতে আমরা বুঝতে পারি মায়ার রয়েছে একটি সংবেদনশীল মন। সে মনে রয়েছে একটি দার্শনিক বোধ। আর তাই প্রথম পৃষ্ঠার কবিতাটি শেষ হয় এই বলে যে—

Where am I really?
Nowhere, I guess,
Somewhere between and old life and a new.

এভাবে ক্যাথি পাঠককে হাত ধরে একটি গল্পের ভেতর আস্তে আস্তে নিয়ে চলেন। গল্পটা গল্পের মতো করে আসে না। মনে হয় যেন গল্পের একটি ছায়ার ভেতরে পাঠক প্রবেশ করছেন। অনেক অনুভবের মধ্য থেকে গল্পটা ছুঁতে হয়। যদিও বলে রাখা যেতে পারে, গল্প না ছুঁলেও কিছু এসে যায় না। গল্পের ভেতরে একাকার হয়ে ঢুকে পড়ে মায়ার বাবা-মা’র বিয়ের কথা। তাদের পরিবারের কথা ইত্যাদি, ইত্যাদি সব। আর তার মধ্যেই মায়ার দিনলিপির তারিখ বদলেছে। আমরা দেখছি তারিখটি অক্টোবরের ২৯-৩০। এবং তার ভেতরে এক সময় আমরা আবিষ্কার করি ১৯৪৭—যে বছর ভারত স্বাধীন হয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে। আবিষ্কার করি ইন্দিরা গান্ধীকে, যিনি অমৃতসরের গোল্ডেন টেম্পলে সেনাবাহিনী পাঠালেন। আমরা দেখছি লীলা-অমরের কথোপকথন, যেটি শেষ হচ্ছে এভাবে—

‘We live in a country where no one knows what a Sikh is. In Canada, we symbolise nothing. In India, we just look like fools.’

এরপর মায়ার ডায়েরিতে আমরা আর যে দুটি তারিখ লেখা পাই, সেগুলো হলো অক্টোবর ৩১- নভেম্বর ১ এবং নভেম্বর ৪। এরপর ডায়েরির লেখক বদল হয়েছে, দায়িত্ব বর্তেছে সন্দীপের ওপর। সন্দীপ হলো সেই তরুণ বয়সী মানুষটি যে দিল্লিতে শিখদের ওপর হিন্দুদের অত্যাচারের সময়ে মায়াকে আশ্রয় দেয়। মায়ার চেতনা ফিরলে সে আবার ফিরে আসে ডায়েরিতে। ততদিনে বইয়ের ৩৪৭ পৃষ্ঠায় পাঠক উপস্থিত।

35645524_10156568657859581_6978855577170477056_n
ক্যাথি অসলার

সন্দীপের লেখাতে প্রথম যে তারিখটি উৎকীর্ণ সেটি হলো ওই বছরের নভেম্বরের ১৩। এরপর ক্রমে ক্রমে নভেম্বরের ১৪- ২১, ২২- ২৯, ডিসেম্বরের ১- ২, ডিসেম্বরের ৪, ডিসেম্বরের ৬, ডিসেম্বর ৯, ডিসেম্বর ১১- ১৫ এবং ডিসেম্বর ১৭।

লীলা-অমরের আগের কথোপকথন শেষ হতে-না-হতেই আমরা বুঝতে পারি দিল্লিতে ঘটে চলেছে সেই অসংখ্য শিখ হত্যার নৃশংসতা। আর তার মধ্যে হোটেলে দাঁড়িয়ে ব্যাকুল চোখে মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে শিখ বাবা অমর। ক্রমে ক্রমে আমাদের সামনে উন্মোচিত হতে থাকে ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর ঘটনা। আর এভাবেই এতক্ষণ যে ঘটনা ছিল শিখ-হিন্দু দুটি ব্যক্তি-মানুষের বিষয়, দুটি পরিবারের বিষয়, তা এখন চোখের সামনে দুটি জাতিগোষ্ঠীর বিষয় হিশেবে উপস্থাপিত হয়। আর সে সবের ভয়াবহতার চিত্র ৯৭ পৃষ্ঠায় ছোট্ট পাঁচ লাইনে পড়ি—

শিখ পুরুষেরা তাদের চুল কেটে ফেলছে
দাড়ি কেটে ফেলছে
পাগড়ি খুলে ফেলছে
যেন সেগুলো কোনো
ব্যাপারই ছিল না।   [স্বীয় অনুবাদ]

আর সে সবের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়া। চিৎকার করে বলে, ‘না, বাপু, তোমার চুল কেটো না।’ মায়া এবং তার বাপুর যে সংলাপ চলে এই পর্যায়ে তার প্রতিটি উক্তি বারবার পাঠের মতো। নতুন নতুন করে অনুভবের মতো। বাপুর শিখ-চেতনাকে রক্ষা করতে মরিয়া মেয়ের হাতে হোটেলকক্ষের কাইচি তুলে দেওয়া হয়। কাইচি হাতে নিয়ে মায়ার মনে হয়, সারা জীবনে এত ভারি কিছু কখনো সে হাতে নেয় নি। তারপর বাপুর চুল খসে পড়তে শুরু করে হোটেলের মেঝেতে। কাঁদতে থাকে বাপু। কাঁদতে থাকে একই সঙ্গে শিখ ও হিন্দু মায়া।

পরদিন সকালে মেয়েকে হোটেলে রেখে অমর বের হন। সাহায্যের হাত খুঁজতে বের হন। যে হাত তাদেরকে দিল্লি থেকে বের হতে সহায়তা করবে। আর অমরের বের হওয়ার সময় পাঠক আরও একটি বিষয় জানতে পারেন। অমর স্বীকার করেন তিনি আসলে মেয়েকে নিয়ে ইন্ডিয়াতে এসেছেন, তাকে সেখানে রেখে যেতে। মায়ার মায়ের তেমনটিই ইচ্ছা ছিল। যেহেতু অমর লীলাকে সুখী করতে পারেন নি, তাই তিনি লীলার প্রস্তাবকে বাস্তবায়নের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

গল্পের বাকিটুকু নিয়ে কথা বলার আগে অবশ্যই আবারও বলতে হবে কর্ম কোনোক্রমেই গল্পকে প্রধান করে লেখা একটি উপন্যাস নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘকবিতার বই। এটি সত্য যে, সে দীর্ঘতায় ছোট ছোট অনেকগুলো কাব্যকণা আছে, যার ভেতরে আসলে একটি গল্প আছে। আর তাই কর্ম-র পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় দ্যুতি খুঁজে পাওয়া যায়। কী এক অদৃশ্য সম্পর্ককে আশ্রয় করে কবি-ঔপন্যাসিক ক্যাথি অসলার পুরোটাকে সাজিয়েছেন। যেমন ধরা যাক, ১৭২ পৃষ্ঠার কথা। সন্দীপের ডায়েরি শুরু আগের পাতা। সেখানে মায়াকে উদ্দেশ্য করে চারটি বাক্য আছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে সেগুলোর লেখক কে? সন্দীপ, নাকি আর কেউ? কিন্তু উত্তর না জানলেও যেন বিশেষ ক্ষতি নেই। ওই চারটি ক্ষুদ্র বাক্যের শেষেরটি হলো, ‘A dream doesn’t mean it’s not real.’ কী অসামান্য এক বোধের বিচ্ছুরণ লেখক দেখিয়েছেন এখানে। এবং সত্য কথা হলো পুরো পাঁচশ পৃষ্ঠা জুড়েই এমন সব বিচ্ছুরণের বহিঃপ্রকাশ।


একজন হিন্দু বা শিখ না হয়েও, একজন ভারতীয় না হয়েও ভারতীয় ইতিহাসের এক কঠিন সময়কে তিনি ধরতে সক্ষম হয়েছেন


বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়েকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার কথা প্রকাশ করে বাবা অমর যখন বের হন, তখন তিনি সেই দেহভস্মের পাত্রটির দিকে তাকান। মায়া বুঝতে পারে ওর বাবা পাত্রটিকে একা ফেলে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আমরা দেখেছি ওই পাত্রটি প্লেনের মধ্যেও তিনি কোলের ওপর বসিয়ে রাখতে চেয়েছেন। নিরাপত্তাগত কারণে যখন কেবিন ক্রু পাত্রটি নিয়ে মাথার উপরের বাক্সে ঢুকিয়ে রাখেন, তখন অমর ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। সেই বিশেষ পাত্রটিকে ফেলে রেখে অমর এখন বেরিয়ে যেতে প্রস্তুত।

এরপর একসময় হোটেলে গোলমাল শোনা যায়। সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। মায়ার কানে বাজতে থাকে ওর বাবার নির্দেশ ‘আমার জন্য অপেক্ষা করো।’ কিন্তু নির্দেশ অমান্য করাই যেন মায়ার দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় এবং দ্রুত সে শাড়ি বদলে ফেলে। পরে নেয় জিনস-টিশার্ট। তরুণের বেশে হোটেল কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে। বাবাকে খোঁজে, কিন্তু পায় না। আর তখনই মায়ার মনে হয় ‘আই ফরগট মাতা’—মায়ের চিতাভস্ম সে রেখে এসেছে হোটেলে। এভাবেই রাস্তায় রাত পার হয়ে যায়। তখন ওর মনে পড়ে, টিকেটের কথা, যে টিকেট সে হোটেলে ফেলে এসেছে। মনে হয়, বাবা নিশ্চয়ই টিকেটের গন্তব্যতেই ওকে খুঁজতে যাবে। তাই স্টেশনে গিয়ে হাজির হয় সে। ট্রেনে চড়ে বসে। ওর বারবার মনে হয়, বাবাও নিশ্চয়ই আসবে। ট্রেন ছাড়ে। পথে পথে রক্তপিপাসু হিন্দু আর শিখেরা আসে। দরজা ঠেলে ভেতরে ঢোকে। জিঘাংসায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে পুরো ট্রেন। একসময় আক্রান্ত হওয়ার মতো অবস্থা হয় মায়ার। অল্পের জন্য রক্ষা পায় সে। এরপর তাকে রক্ষা করে কেউ একজন—নাম ড. পার্বতী প্যাটেল। আমরা বুঝতে পারি ঘটনার আকস্মিকতায় মায়া নির্বাক হয়ে গেছে। আর তাই গল্প এখন পড়তে হবে সন্দীপের ডায়েরি থেকে।

১৭ বছরের সন্দীপকে ওর দিদি পার্বতী দায়িত্ব দিয়েছিল মায়ার কথা লিখে রাখতে। মায়ার জীবনে কী কী ঘটে সেগুলো লিখে রাখতে। এবং সন্দীপ সেটি করে সাগ্রহেই। ওদের বাবা-মার আশ্রয়ে আসে মায়া। পুরো বিবরণ লিখতে শুরু করে সন্দীপ। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে আমরা সন্দীপ-মায়ার প্রেম দেখতে পাই। অভিশাপ, ঘৃণা আর জিঘাংসার ভেতর থেকে যেন উঠে আসে আশাবাদ, প্রেম এবং প্রতীতির কথা।

ক্যাথি অসলারের যে বৈশিষ্ট্যটি সবচেয়ে বেশি মর্যাদার সেটি হলো একজন হিন্দু বা শিখ না হয়েও, একজন ভারতীয় না হয়েও ভারতীয় ইতিহাসের এক কঠিন সময়কে তিনি ধরতে সক্ষম হয়েছেন। আর সে ধরাতে তিনি চিত্রিত করেছেন ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে। মূর্ত করেছেন ভারতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে এবং ক্যাথি সে সবই করেছেন কবিতার ভাষায়। আর এভাবেই কর্ম হয়ে উঠেছে কানাডীয় সাহিত্যে এক মূল্যবান সংযোজন।

সুব্রত কুমার দাস

উদ্যোক্তা at bangladeshinovels
জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৪; ফরিদপুর। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর। পেশায় লেখক।

প্রকাশিত বই :
১. শ্রীচৈতন্যদেব [ঐতিহ্য ২০১৮, ২০১৬ (টরন্টো)]
২. আমার মহাভারত (নতুন সংস্করণ) [মূর্ধন্য, ২০১৪]
৩. নজরুল-বীক্ষা [গদ্যপদ্য, ঢাকা, ২০১৩]
৪. অন্তর্বাহ [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১৩]
৫. রবীন্দ্রনাথ: ইংরেজি শেখানো [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১২]
৬. রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১২]
৭. আলোচনা-সমালোচনা [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১২]
৮. রবীন্দ্রনাথ: কম-জানা, অজানা [গদ্যপদ্য, ঢাকা, ২০১১]
৯. প্রসঙ্গ শিক্ষা এবং সাহিত্য [সূচীপত্র, ঢাকা, ২০০৫]
১০. বাংলাদেশের কয়েকজন ঔপন্যাসিক [সূচীপত্র, ঢাকা, ২০০৫]
১১. নজরুল বিষয়ক দশটি প্রবন্ধ [সূচীপত্র, ঢাকা, ২০০৪]
১২. বাংলা কথাসাহিত্য: যাদুবাস্তবতা এবং অন্যান্য [ঐতিহ্য, ঢাকা, ২০০২]
১৩. নজরুলের ‘বাঁধনহারা’ [নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০০]


সম্পাদনা—
১. সেকালের বাংলা সাময়িকপত্রে জাপান (সম্পাদনা) [নবযুগ, ঢাকা, ২০১২]
২. জাপান প্রবাস (সম্পাদনা) [দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, ২০১২]
৩. অগ্রন্থিত মোজাফফর হোসেন (সম্পাদনা) [গদ্যপদ্য, ঢাকা, ২০১১]
৪. কোড়কদী একটি গ্রাম (সম্পাদনা) [কলি প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১১]

অনুবাদ—
১. Rabindranath Tagore: India-Japan Cooperation Perspectives [ইন্ডিয়া সেন্টার ফাউন্ডেশন, জাপান, ২০১১]
২. Parobaas (ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস। অধ্যাপক মোজাফফর হোসেনের সাথে) [অনন্যা, ঢাকা, ২০০৯]
৩. Christian Religious Studies - Class V (এ এস এম এনায়েত করিমের সাথে) [এনসিটিবি, ঢাকা, ২০০৭]
৪. In the Eyes of Kazi Nazrul Islam: Kemal Pasha (অনুবাদ প্যানেলের সদস্য) [সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ২০০৬]
৫. Kazi Nazrul Islam: Speeches (অধ্যাপক মোজাফফর হোসেনের সাথে) [নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০৫]
৬. Kazi Nazrul Islam: Selected Prose [নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০৪]

এমাজন কিন্ডল এডিশনে বই :
১. Kazi Nazrul Islam: Selected Prose www.amazon.com/Kazi-Nazrul-Islam-Selected-Prose-ebook/dp/B00864ZCLY/
২. Rabindranath Tagore: less-known Facts http://www.amazon.com/Rabindrath-Tagore-Less-Known-Facts-ebook/dp/B008CC3YLA/
৩. Rabindranath Tagore: India-Japan Cooperation Perspective http://www.amazon.com/Rabindrath-Tagore-Less-Known-Facts-ebook/dp/B008CC3YLA/
৪. Worthy Reads from Bangladesh http://www.amazon.com/Rabindrath-Tagore-Less-Known-Facts-ebook/dp/B008CC3YLA/
৫. (Not) My Stories http://www.amazon.com/Not-Stories-Subrata-Kumar-Das-ebook/dp/B00880XDP8

ওয়েবসাইট : www.bdnovels.org
ই-মেইল : subratakdas@yahoo.com