হোম বই নিয়ে শ্যামলা আয়ুর পাশে নিনাদের ফুল

শ্যামলা আয়ুর পাশে নিনাদের ফুল

শ্যামলা আয়ুর পাশে নিনাদের ফুল
919
0

কবিতা লিখতে গেলে কবিকে জেনে বা না জেনে প্রথমেই যেটা করতে হয়, তার ভাষার সাথে একটা চুক্তি করে নিতে হয়। কৃষ্ণের আয়ুধ যেমন থাকত তার রথে, কবিতার ক্ষেত্রে সেই রথ কিন্তু তাকে বহন করে নেয়া ভাষাই। আর ভাষা তৈরি, সেটা যে রকমই হোক, (কবির জন্য) অত্যন্ত জটিল এক প্রক্রিয়া। কারণ তাঁর কাছে পুর্ববর্তী কবিকে অনুসরন করার জন্য অনেক সড়ক অপেক্ষমাণ থাকে, কিন্তু নিজের ভাষাকে তৈরি করতে গেলে তাকে নিয়ে একটা নিরন্তর যাত্রা ও সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। শিশুর ভাষা থেকে শুরু করে স্কুলের পাঠ্য বইয়ের ভাষা, কৈশোরের ভাষা—এভাবে আস্তে আস্তে বিবর্তিত হতে হতে যেভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ তার ভাষা অর্জন করে, কবিকেও এই যাত্রাটা করে আসতে হয়। আর যে কোনো অর্থে কবিতায় ভাষার সাথে বোঝাপড়ার মানে হলো স্মৃতির সাথে বোঝাপড়া। কবি বর্তমানেই থাকেন, কবিতা তার উঠে আসে তার অবচেতন থেকেই, চাই সে হৃদয়ের গহিন প্রদেশকে বা উপরিতলকে স্পর্শ করুক। কিন্তু এখানেই ঘটে সবচেয়ে বড় দ্বৈধ, অবচেতন যে ভাষা বহন করে স্মৃতির সাথে, তাকে কবিতার চাহিদার কারণেই অধিকাংশ সময়েই প্রশস্ত করতে, এমনকি বদলে দিতে হতে পারে। যে ভাষায় সে বদলে যায়, তা কিন্তু হঠাৎ উঠে আসে না, কবির মধ্যেই এর বিবর্তন ঘটতে থাকে। আমার সবসময়ই মনে হয়, এটা একটা লক্ষ্য করার মতো বিষয়, কেননা যাকে বলি কবির আর্কেটাইপ, তা এখান থেকেই বুঝে নেয়া যায়।

মোস্তফা হামেদীর ভাষাটা কিভাবে তৈরি হয়েছে সেটা খেয়াল করি :

কথা ছিল আশ্বিনের বাঁকে, বনকচুর ঝোপ পেরিয়ে, কাগজিলেবুর পাতায়
নাক ঘষে দাঁড়িয়ে পড়বো উদ্বেল উদ্যানের পটে,
জারুলগাছের শ্যামলা আয়ুর পাশে।

[শ্যামলা আয়ুর পাশে]

উদ্যানকে তার মনে হয় ‘উদ্বেল’, আর জারুলগাছের আয়ুকে তার মনে হয় ‘শ্যামলা’। পরপর দুটি অসমাঞ্জস্যপূর্ণ প্রপঞ্চ যখন একই পঙ্‌ক্তিতে বসে যায়, তখন ‘কথা ছিল’ এই সিমবায়োটিক সংকেত কবিতার টাইম এবং স্পেসে একধরনের চাপ তৈরি করে। উদ্বেল উদ্যানে জারুল গাছের শ্যামলা আয়ুর সামনে কবির দাঁড়িয়ে পড়তে হয়।

খানিক পরপর বড় বড় গহ্বর। কারা যে খুঁড়ে গেছে কবে?
হাওয়া গুমরায়। যেন কোনো গুপ্তপথ, গোপন সুড়ঙ্গ ভেসে ওঠে।
কাউকেই দেখা যায় না। শুধু সেই আদিম চাঁদ।
অবিকৃত ধাতব মুদ্রার মতো প্রাচীন।

ঝনঝন শব্দ। যেন পাতা ও পয়সার ঘষাঘষি। যেন অনেককাল ধরে
বেজে চলেছে একটি গানের সুর।

[গুপ্তপথ]

গুমরানো হাওয়া, ধ্বনি (সঙ্গীত নয় কিন্তু), সেই ধ্বনির মধ্যে রচিত হয় গুপ্তপথের ইঙ্গিত, তার অব্যবহিত পরেই সুড়ঙ্গ ‘ভেসে’ ওঠার কথা। নিনাদের মতো! ফলাফল, অবচেতন উৎস সন্ধান করতে চায়, ফলে আক্ষরিক চাঁদের ট্রান্সফরমেশন ঘটে (এখানে এসে আদিম শব্দটার ব্যবহার কেন, এই প্রশ্ন জাগে না!)। চাঁদের আলো, পাতার মর্মর আর সে গুমরানো হাওয়া মিলে ‘ঝনঝন শব্দ’ অবধারিত হয়ে ওঠে। ‘পাতা ও পয়সা’ এখানে মুখ্য থাকে না আর। কেননা, দৃশ্যমান যে যুক্তিশৃংখলা কবি তৈরি করেন, তার ভাষার জগৎ তাকে বহু আগে পার হয়ে গেছে, ভাষা সম্পূর্ণতই সংকেতে পর্যবসিত হয়েছে। ভাষা সংকেত হয়ে উঠছে, এর মানে কি পুরো কবিতাটি একটি সম্পূর্ণ একক হিশেবে, ইমেজিস্টরা যেভাবে চাইতেন, কবিতা কাজ করুক, সেভাবে কাজ করছে? কারণ, এখানেই তো ইমেজিস্ট কবিতার সাথে অন্যান্য কবিতার অন্যতম প্রধান ভেদরেখা। শব্দ গেঁথে গেঁথে অক্ষরবৃত্তের এই চলন বাংলা কবিতায় ইমেজিস্টরা কেন বেছে নিলেন, কেন সেটা তাদের নিয়তির মতো, তার কারণ আছে। সে প্রসঙ্গ অন্যত্র।

কখনো কখনো পুরা কবিতাটাই কবিমানসে একটা চিত্রকল্প এবং সেটাকে কবি একটু বিস্তৃতভাবে পটে আঁকার মতো করে আঁকছেন ‘একাকী হাওয়ায়’ কবিতায়। একজন ধীবর নদীপাড়ে বসে ছিল। আমরা বুঝতে পারি ‘মাছের’ অপেক্ষায়। অর্ধেক পড়তেই দেখি তিনি লিখছেন ‘বসে থাকে নদীর মর্মের ভেতর। শুনতে চায় গাঢ় কোন অভিব্যক্তি’, কেননা সে ফেলে এসেছে ‘পিছুটান—কোলাহল—স্মৃতি’। সেই সাংকেতিক ধীবরের অভিব্যক্তি দেখতে পাই একদম শেষে এসে, যেখানে দেখি মাছের প্রসঙ্গ উহ্য হয়ে আসে। নদীর মধ্য আপতিত তার ছায়া যখন প্রবহমান স্রোতের সাথে ভেসে যায়। হামেদী এখানে একটা দীর্ঘশ্বাসের মতো একটা সুরের বাতাবরণ দিতে চান এই চিত্রকল্পকে, সাথে রাখেন ফিরতি স্মৃতির মতো হ্রস্ব অন্ত্যমিল (কারণ, ইয়ুং-এর কথায় একই ধরনের স্মৃতিরা একসাথে ফিরে ফিরে আসে।)!

নিস্পৃহতার ঘ্রাণে আকুল বিমনা এক আকাশের তলে সে ভেসে যায়!
একাকী হাওয়ায়!

[একাকী হাওয়ায়]

আবার কখনো কখনো দেখব, স্থান-কালকে চাপ দিয়ে, বা যে কোনো একটিকে চাপ দিয়ে আরেক অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, সেখানে হয়তো এমন একটি চিত্রকল্প ফেলে রাখা আছে, যা মনে হয় কবির ফেলে যাওয়া কোনো বিরাট সংকেতচিহ্ন। অনেক জায়গায় ছোট ছোট চিত্রকল্প বা বিবৃতি মিলে এমন একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করছে, যেভাবে আমাদের মধ্যে সংকেতগুলো সংহত হতে হতে ভাস্বর হয়ে ওঠে। ইমেজিস্ট যারা, এজরা পাউন্ডের ভাষায়, তাদের কাজ কিন্তু প্রেজেন্টেশন নয়, রিপ্রেজেন্টেশন। একথা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে যে, প্রজেন্টেশন হলে রোমান্টিক ভাবাবর্তে পড়ে যেত কবিতা, চিত্রকল্প তৈরি করার এবং তার ওপর ভর করে কবিতাকে পূর্বমেঘ থেকে উত্তরমেঘে পৌঁছানোর যে চেষ্টা, তা কিন্তু কাজে দিত না। কবিতায় সুর তৈরি করা নিয়েও একই কথা, কবিতা মিউজিক্যাল হতে পারে, কিন্তু সেটা করতে গিয়ে ছন্দ মেকানিক্যাল বলে প্রতিভাত হয় এমন কিছুই করা যাবে না। কিন্তু এ তো গেল ১৯১০-১৯১৫ সালের আশেপাশের কথা। নতুন কী কী জিনিস আসতে পারে চিত্রকল্পের সাথে, যা সেটাকে আরো বাঙ্ময় করতে পারে? কয়েকটা উদাহরণ—

  • ‘বিদ্যুচ্চমকের মতো রূপরঙ্গিনী /কখন মীন হয়ে ভাসে!’[মীন]
  • ‘ছোট্ট একটা ডাল ধরে পাখিটা পৌঁছে যায় তারাটির পৃষ্ঠদেশে'[গান]।
  • সমস্ত সৌকর্য নিয়ে জাহাজ ডুবে গেল [যোগসূত্র]
  • দৈববানীর মতো প্রতিধবনি বাজে। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে/ হাঁটছে নীল গাই। তারা ডাকছে নিকটবর্তী তারাটিকে [হরিৎ সন্ন্যাসী]
  • গভীর সান্দ্রতার ভিতর ফুটেছে স্থৈর্য/ আর এক পরমফুল সমস্ত খুশবু নিয়ে ডাকছে তারাটিকে [তন্দ্রাবন]

হামেদীর ভাষা কিভাবে ধীরে একটা রূপ পরিগ্রহ করে সান্দ্রতার ভেতরে স্থৈর্য ফোটায়, তা আসলে দেখার মতো। চিত্রকল্প, আমার ধারণা যতটা জটিল ও ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, কবির অবচেতনের ভাষা ধীরে ধীরে প্রবলভাবে উপস্থিত হতে থাকে কবিতায়। কিন্তু কবিকে লিখতে হয় ‘তার’ বাস্তবতায়, যে ভাষা বিবর্তিত হয়ে ওঠে, সেই ভাষা-ব্যবস্থায়। এই দুই টানাপড়েনের মধ্যে সম্পর্কস্থাপন, একটা ভারসাম্য তৈরি করার উপর নির্ভর করে কবির ভাষা কী রকম হবে, হয়ে উঠতে পারে। হামেদী, আমার ধারণা, এ জায়গাটা মোকাবেলা যতটুকু করেছেন, সেটা বেশ স্বতস্ফূর্ততার সাথেই করেছেন। এখানে বলতে ইচ্ছা করছে, এ বিষয়ে তার সমসাময়িক কবি হাসান রোবায়েতের স্বতস্ফূর্ততাও বেশ প্রণিধাণযোগ্য।

২.

‘অবগাহন’ কবিতাটা পড়ি :

এখন বড় অস্থির চিত্ত। এক সন্ধ্যায় বনে হারিয়ে ফেলা শেষ আলোটুকু বনমর্মরের ফাঁকে জ্বলছে।

একটু পর পর এক বিষম হাওয়া আছড়ে পড়ছে ঐ বনবিভার ওপর। অসহায়ত্বকে কবুল করে
সে নিভে যেতে চাইছে।

এই তো সেই বয়ান, যা তাকে হতবাক করে দিতে চাইতো
বিপুল কলরোলের মাঝে।

এই তিনলাইন পড়লাম, বুঝলাম। অস্থির চিত্ত। বনবিভার উপর বিষম হাওয়া হয়ে সেই অস্থিরতা আছড়ে পড়ছে, সে নিভে যেতে চাইছে। কিন্তু নিভছে না। হতবাক হওয়ার কথা, হচ্ছে না। কলরোলকে অগ্রাহ্য করছে! সবকিছু অগ্রাহ্য করছে। সে আসলে বাস্তবতার বাইরে চলে যেতে চাইছে। তারপর

একটা ফাঁকা আওয়াজ। ঝাঁকবেঁধে—কারা যেন ছুটছে তটে।

অবগাহনের আগে সম্ভবত মানুষ খানিকটা জিরিয়ে নেয়। আর উগরে দেয় সমূহ কৌতুক।

খুব কাছ ঘেঁষে শুনছি মাছেদের ঘাঁই।

পাথরচাপা হাসি। সতীর্থ ফুলের পাশে গেঁথে থাকছে বল্লম।

রণক্ষেত্রের মতো প্রতিটা শব্দই সাংকেতিক।

সে ঝাপটানি শুধু থাক।

প্রগাঢ় নীরবতা ভেঙে তুমি কার কথা ভাবো?

বাস্তবতার বাইরে চলে যেতে চাইছে বলে যুক্তিশৃংখলার সবকিছু সে অগ্রাহ্য করে যাচ্ছে। প্রথম তিন পঙ্‌ক্তির সাথে পরবর্তী পঙ্‌ক্তিগুলোর, বা পরবর্তী পঙ্‌ক্তিগুলোর একে অপরের সাথে কোনো মিল নেই। এরা রণক্ষেত্রের মতো, একে কবির কাছে মনে হচ্ছে সাংকেতিক! অনুচ্চারিত ভাবনায় যে নীরবতা ভেঙে যাচ্ছে, তার মানে হচ্ছে এরা সবই সংকেত। এরা সবাই চলক। কিন্তু ক্যালকুলাসের চলক। একটার মান পরিবর্তন হলে আরেকটারও মান পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। হামেদী জানেন কী করছেন তিনি এখানে, পাঠকের জন্য প্রচুর পরিমান স্পেস দিয়ে ভাবনার সেই জায়গা তৈরি করে রেখেছেন।

১৯৩০ সাল সেটা। আমেরিকান ভাস্কর আলেকজান্ডার কল্ডার এসেছেন প্যারিসে, নিজের প্রদর্শনী করতে। তিনি তখনকার ডাকাবুকো অ্যাবস্ট্রাক্ট-শিল্পী পিট মন্দ্রিয়ানকে জানালেন আমন্ত্রণ, তাঁর ইভেন্টে। মন্দ্রিয়ান প্রতি-উত্তরে দাওয়াত দিলেন তাঁর স্টুডিওতে। কল্ডার গেলেন, সত্যিকার অর্থে অ্যাবস্ট্রাক্টশন কী, তা দেখে এককথায় বিমোহিত হলেন কল্ডার। কিন্তু তাঁর মনে হলো, পিট মন্দ্রিয়ানের এই ছবিগুলো যদি নাড়াচাড়া করত বা কোনোভাবে জীবন্ত হয়ে উঠত, তাহলে ফর্মের চাপে তা আরো অর্থময় হতো। করা যায় কিনা এমন কিছু, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন মন্দ্রিয়ানকে। বিরক্ত হলেন মন্দ্রিয়ান, পাত্তা দিলেন না। কল্ডার আমেরিকায় ফিরে গেলেন, দুই সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করলেন, যাতে অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টটা আঁকা শিখতে পারেন। হলো না। কিন্তু তাতে কী। নিজের কাজের উপরই তার নতুন আইডিয়া প্রয়োগ করলেন কল্ডার! ফলে তাঁর ভাস্কর্য নাচতে শিখল। এর নাম তিনি দিলেন মোবাইল। প্রতিটি মুহূর্তে নড়ছে, এবং প্রায় প্রতিটি মুহূর্তে তার অর্থ বদলে যাচ্ছে, যা আগে বুঝে উঠেছিল দর্শক, তা বদলে যাচ্ছে।

'Mobile',_by_Alexander_Calder,_Tate_Modern
মোবাইল : অ্যালেক্স কল্ডার

হামেদীর এই ‘অবগাহন’ কবিতাটিও আমার কাছে কল্ডারের মোবাইলগুলোর মতো, যা অর্থকে নানানভাবে চাপ দিয়ে বদলে দিতে চায়, শব্দকে ফর্মে ফেলতে নানান বিন্যাস তিনি গ্রহণ করেন, যা একেক পাঠকের কাছে একেকভাবে ধরা পড়বে। হামেদী হয়তো এই গ্রন্থে আগামীর সেই গোপন ইঙ্গিত দিতে রাখলেন, ভবিষ্যতে হয়তো এটা নিয়ে আরো বিস্তৃত হবে তাঁর ভাবনার ও কাজের জগৎ।

৩.

কবিতার যাত্রাপথে মোস্তফা হামেদীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বোধহয়, বেশি বেশি নানা ধরনের কবিতা সার্থকভাবে লেখার উদাহরণ তৈরি করা। সুর, অর্থ ও দ্যোতনাতে তিনি সাবলীল, তার স্বতস্ফূর্ততা আছে; সবচেয়ে বড় কথা হলো তার ভাষা ঘন হয়ে আসছে। চিত্রকল্প যেভাবে তার হাতে তৈরি হয়, আমার মনে হয় এ জায়গাটা আরো প্রাতিস্বিক হয়ে উঠবে সামনে, এবং এখানেই তার ভাষাবদলের বড় সম্ভাবনা দেখতে পাই। হামেদীর ভাষাও মনে হয় ঠিক এই বদলেরই অপেক্ষা করছে।

হামেদী, যেহেতু স্বভাবকবিত্ব থেকে বেশ দূরে এবং পরিশ্রুত, হতে পারে, তার ভবিষ্যতের কবিতায় এরকম কিছু কবিতা লেখার চেষ্টা করবেন, যা তাকে তার সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করবে।


মূল পাতার লিংক : পরস্পর ঈদ আয়োজন ২০২০

(919)

তারিক ঈমাম