হোম বই নিয়ে শরীর : দ্বন্দ্ব অথবা ব্যবচ্ছেদের শিল্পায়ন

শরীর : দ্বন্দ্ব অথবা ব্যবচ্ছেদের শিল্পায়ন

শরীর : দ্বন্দ্ব অথবা ব্যবচ্ছেদের শিল্পায়ন
466
0

‘নদী ও নারী—কে স্নান করে কার শরীরে?’

শরীরকে কেন্দ্র করে মোট ছয়টি গল্প রয়েছে :

* শরীর
* অনুরণন : ২
* একজন পা আর শূন্য শরীরের জীবন
* ধর্ষিত তাজুল
* আবছায়া
* ডায়েরি : গল্পের ভেতর জীবন

‘আদতে আমরা জীবনসঙ্গী হিশেবে কখনোই প্রতিবন্ধক শরীরে উত্তম মন খুঁজতে চাই না।’

‘সুচিন্তিত মন ধীর, কল্যাণকর আর স্বস্তিময় হলেও সুখ উদ্‌যাপনে শরীর দুরন্ত আর চিরন্তন।’


[১ম গল্প ‘শরীর’]

এক মীমাংসিত ধারণা নিয়ে সূত্রপাত শরীর গন্থের। বিষয়বস্তুতেও অবধারিতভাবে এসেছে শরীর। এ শরীর জৈবিক অথবা মানসিক উভয়ই হতে পারে।  দেখা যাক প্রথম গল্প।


বার্ধক্য এত কঠিন যৌবন আমাকে বলে নি কখনো। যৌবন শুধু বর্তমানের হিশেব কষেছে।


চারটি ভাগে শিরোনামসহ এ গল্পে এসেছে দুই প্রজন্মের ব্যক্তিগত বয়ান। প্রেম অথবা পরকীয়া বলা যেতে পারে—যৌবনের শরীর আসক্তি ও তার ক্রমপরিণতি। শফিক দিলারার [দুলাভাই শ্যালিকা] প্রেম ও পরিণতির চিত্র দিয়ে শুরু গল্পের, যা সৌরভকে [শফিকের ছেলে] হয়তো অগোচরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করেছে। আবার সৌরভ-শারমিন দম্পতির মাঝে সুমির সাময়িক আগমন সৌরভের অন্তরজগতে মীমাংসা দিয়েছে রক্তের প্রবহমানতার খামখেয়ালি বলে। যদিও এ গল্পের মূল বার্তাটি শরীর থেকে তৈরি হওয়া আরো শরীর। অর্থাৎ সন্তান।

‘এই রক্ত না-জানি ওকেও বিভ্রান্ত করে।’

তবে বাবা শরীরের মোহে হতে ফিরে আসতে না পারলেও ছেলে ফিরে আসতে পেরেছিল। ব্যভিচারী বাবার চারিত্রিক দোষ ছেলের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়েছিল কিন্তু বাবার সব হারানোর স্মৃতি, সর্বোপরি সন্তানস্নেহ তাকে সংযত করে। তাই সন্তান নিজেকে ফিরে পেয়ে মানসিক প্রশান্তি লাভ করলেও বাবা মর্মপীড়াতেই ছিল পুরোটাজীবন।

‘বার্ধক্য এত কঠিন যৌবন আমাকে বলে নি কখনো। যৌবন শুধু বর্তমানের হিশেব কষেছে। ভবিষ্যৎ এক নিষ্ঠুর পৃথিবী এ উপলব্ধি এখন আমাকে যন্ত্রণা দেয় প্রতিনিয়ত।’

অথবা,

‘আমারও নেই সেই শরীর। সেই কাম-ইন্দ্রিয় রাক্ষস আমার শরীর ছেড়ে চলে গেছে। সেই মোহময় অভিশপ্ত মন আমাকে আর অস্থির করে না। এ কি শুধুই শরীরের পতন? পাপবোধও কি কাজ করে না আপন শরীর নিয়ে?’


[২য় গল্প ‘অনুরণন : দুই’]

‘অনুরণন : দুই’ গল্পটার মূল বিষয়বস্তু হলো ‘শব্দ’। শব্দ মানুষের জীবনকে কতভাবে নাড়া দেয় কিংবা আন্দোলিত করে তারই নান্দনিক বয়ান যেন ‘অনুরণন : দুই’।

‘বাবাও একদিন চলে গেল অবেলায়। শব্দের মৃত্যু হলো। কী অদ্ভুত! মৃত্যুর কিছুটা সময় পরেই নৈঃশব্দ্যের গাঢ় রূপ বাবার শরীরে ফুটে উঠল।’

সুস্থ দেহে ক্ষয়ে যাওয়া জীবনের গল্প নিয়ে ‘অনুরণন : দুই’। বাবার সাথে মায়ের ‍দূরত্ব ও নিঃসঙ্গতার বিপরীতে মায়ের মৃত্যু ও বাবার নিঃসঙ্গতা একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে গল্পের কথকের নতুন কাউকে ভাবনায় জড়ানোর রেশ। এ পথে প্রবেশ করে ছবি ও শ্যামল। ছবির প্রবেশও গল্পে আরো নিঃশব্দতা তৈরি করে।

‘ছবির পায়ের নূপুর, রিনিঝিনি শব্দময় ঝঙ্কার আমাকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো অবশ করে রেখেছে আজও।’

এখানে গল্প ভিন্ন পথে মোড় নেয়। নিজের বাবার মৃত্যুর সাথে জড়িয়ে যায় সমকালীন এক আর্তচিৎকার।

‘বাবার নির্মম মৃত্যুর এরকম শব্দ আগে কি কোনো সন্তান শুনেছে?’

গল্পের দ্বিতীয় ভাগের শুরুতে আসে ঐশী।  আসে কন্যা সন্তানের কথা।  অর্থাৎ বাবার গল্প করতে করতে কথকও হয়ে ওঠেন একজন বাবা।

‘আজ আমিও বাবা। মেয়ের বাবা ডাক শোনার প্রতীক্ষায় ছিলাম বহুদিন। প্রাণ উজাড় করা সেই শব্দ আমার কানে এসেছে। এরকম প্রেমময় শব্দ আমার কান আগে কোনোদিন শোনে নি নিঃসন্দেহে—আর কোনোদিন শুনবেও না হয়তো।’

গল্পের শেষেও শব্দময় আতঙ্ক বিরাজ করে সদ্য বাবা হয়ে ওঠা অস্থিতিশীল মনে।

‘আমার মেয়েও কি পিতা হন্তারকের প্রলয়-শব্দ শুনবে একদিন?’


[৩য় গল্প ‘একজন পা আর শূন্য শরীরের জীবন’]

যৌবনের দুরন্ত পা হারানো ফুটবলার অয়নের গল্প এটি। ‘অন্ধকার ব্যবহার করেছে কে?’ এই প্রশ্নের বহুমাত্রিকতাই গল্পের মূল উপজীব্য।

কোনো এক রাতের আঁধারে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নিজের বাঁ পা হারানো একসময়ের তুখোড় ফুটবলার অয়নের ভাবনায় গল্পটি মীমাংসার পথে এগিয়ে গেছে। নানা প্রশ্ন গল্পকার ছুড়ে দিয়েছেন অয়নকে কেন্দ্র করে।  যেমন—

‘এ বিশ্বচরাচরে মানুষের বন্ধু কে? আর শত্রুই-বা কে?’

এ সংশয় নিয়ে বসে থাকে অয়ন এক অর্বাচীন বটের তলায়, যার নিচে বহমান প্রতীকী এক খাদের চিত্র। যে খাদের আবহে আজকাল অয়নের মানুষের সঙ্গও বিরক্ত লাগে।

‘তবু শিশুদের সঙ্গ কিছুটা স্বস্তিদায়ক। অয়নের মন এখনও বিশ্বাস করে, শিশুরা প্রকৃতির মতো—অথচ বড় হলে ওরা মানুষ হয়ে যায়।’

আলীপুর গ্রাম আর গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের সম-অন্তরালে অয়নের এসকল ভাবনারা জীবিত। যেখানে পরপর তিনবারের চ্যাম্পিয়ন দলনেতা অয়ন। আর পা হারানো অয়নের সামনে হাজির হয় দুষ্টু চরিত্রের আজগর মিয়াও। যার স্টিলের পা লাগানোর প্রস্তাব আদতে সমাজের উপর এক ধরনের প্রলেপ বলা যেতেই পারে।


তাজুল বিয়ে করেছে। নতুন বউ। তাজুল বিয়ে করেছে এক ধর্ষিতা নারীকে।


পা হারানো অয়নের পারিবারিক চিত্রেও দেখা যায় আদতে সে একজন প্রতিবন্ধী… দীর্ঘশ্বাসের শব্দে অয়নের দম বন্ধ হয়ে যায়।

গল্পের আড়ালেও গল্প থাকে। এই গল্পের আড়ালে অদিতি অথবা কামাল। ট্র্যাজিক নায়কের মতো রেসের সর্বোত্তম ঘোড়াটি যখন মুখ থুবড়ে পড়ে তারও একটা তেজ থেকে যেতে পারে। আর সেই শক্তি নিয়েই অয়ন অদিতিকে জানাতে পারে ‘ভালো আছি’ অথচ এ অদিতির ছিল তার জন্য উত্তুঙ্গ কামনা। এবং সেটা হয়তোবা একটা পায়ের জন্যও হতে পারে।

কামালের অপশক্তিরূপে উপস্থিতিতে গল্পের মীমাংসা। সেদিনের সে-রাত যেন ফিরে এল! কামালের আঘাতে জর্জরিত অয়ন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাড়ি ফিরে জেনে যায় এখনও সে ফুরিয়ে যায় নি।

অদিতির মতো গোল্ডকাপও এবার কামালের হাতে। অয়ন চিহ্নিত করে তার অনুপস্থিতি। তবে টের পায় ‘খেলার পরও খেলার রেশ’ থাকার চিত্র। খেলা নিয়ে এবার দ্বন্দ্বে জড়ায় কামাল।

মেঘলা দিনে অয়নের সঙ্গী বটগাছ ও খাদের কাছাকাছি এবার দেখা যায় আহত কামালকে। এ অবস্থা সেই খেলারই ফলস্বরূপ।

‘সেই দ্বন্দ্ব, খেলা, জীবন নিয়ে খেলা।’

গল্পের শেষদিকে গল্পের মোড়—

অয়নের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে, প্রেমের দ্বন্দ্ব কিংবা ঈর্ষার বশে কামাল অয়নের গাল বরাবর চড় বসিয়ে দিয়েছিল। একদিন অয়নের ভূমিকায় সেই কামাল। কামাল খাদের ঝুলন্ত লতায় জীবন নিয়ে সংশয়ে, মৃত্যুর পথে। প্রকৃতির এমন খেলায় অয়ন কী করব? কামালকে সমস্ত শক্তি দিয়ে লাথি মারবে তার একমাত্র ডান পা দিয়ে? এ যেন এক চরম মুহূর্ত। মানবিক গল্পকার কোন দিকে যাবেন—


[৪র্থ গল্প ‘ধর্ষিত তাজুল’]

কিছু সাবলীল বয়ানের পর আমাদের সামনে উপস্থিত হয় গল্পের কথকের বন্ধু তাজুল।

‘তাজুলের জীবন রহস্যময় এখনও।’

সেটা হতেই হবে, নয়তো তাজুলকে নিয়ে কেন গল্প হবে? তাজুলেরও প্রেম ছিল এবং ছিল কাঙ্ক্ষিত নারী ও জীবন বাসনা। তামান্না ও তাজুল সমাজ বাস্তবতার দৃশ্যমান স্তরে ভিন্ন অবস্থানে থাকলেও এ গল্পে সেটি সহজে সাধারণের পথ নেয়। নাটকীয়তার ভিন্নতা আসে অন্য কোনো পথে।

মনোবিজ্ঞানের ছাত্র তাজুল ভালোবাসে তারই বিভাগের ছাত্রী তামান্নাকে। মসজিদের ইমামের সন্তান তাজুল একদিকে, অন্যদিকে পিতৃহীন তামান্নার মা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী। সংকট এখানেই হতে পারত, কিন্তু এক অবাঞ্ছিত নতুন ইতিহাস পাল্টে দেয় সব। জানা যায়, মোখলেছ ইমাম তাজুলের পিতা নন, বরং তিনি যুদ্ধকালীন ধর্ষিত এক নারীর সন্তান। গল্পকার দেখিয়েছেন, নার্গিস অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালিন ধর্ষিত হয়। তাজুলের বাবা রাজ্জাক মুক্তিযোদ্ধা।

তাজুলের সংকট শুরু একটি রাষ্ট্রের জন্মের সাথে সাথে। তাজুল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাকি কোনো ধর্ষণের ফল পাঠক হিশেবে আমাকে তাড়া না করলেও সমাজকে তা তাড়া করবেই। অকপটে তাজুল স্বীকার করে নিজের কথা তামান্নাকে। তামান্না কথকের ভাষায়, সাবলীল নারী আর তাই হয়তো ব্যতিক্রম নয়। অস্বীকার করে তাজুলকে।

গল্পের প্রয়োজনে কথক তাজুলকে আবার খোঁজেন। আবিষ্কার হয় আরও গল্প।

‘তাজুল বিয়ে করেছে। নতুন বউ। তাজুল বিয়ে করেছে এক ধর্ষিতা নারীকে।’

গল্প এখানে শেষ হতে পারত কিন্তু আমাদের বহমান সমাজ ব্যবস্থা একই ধ্যান ও ধারণার সাথে পাল্লা মেপে মেপে বহমান। নতুন কোনো ধারণার ধ্যান প্রয়োগ সেখানে কেবলই বিরুদ্ধতার সামিল। তাই তাজুলের অবস্থান কী দাঁড়াবে সেখানে।

সে-সমাজে তাজুল আতঙ্কিত। কেননা তার কন্যার জন্মের সাথে লেগে গেছে ধর্ষিতার কলঙ্কসূত্র।

‘মাকে মা বলার আশা ওর পূরণ হয় নি। মেয়েকে সঠিকভাবে মানুষ করার স্বপ্নও ওর চোখে ধূসর হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে। এ আতঙ্কিত মন নিয়ে মানুষ কতদিন বাঁচবে? এর নাম কি বেঁচে থাকা? তাজুল কি বেঁচে ছিল এতদিন? তাজুলকে কি ধর্ষণ করা হয় নি? তাজুল ভ্রূণ অবস্থাতেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ওর মায়ের ভেতর দিয়ে ওকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাজুলের মনকে ধর্ষণ করেছে তামান্না, তামান্নার মা। ওর মানসিক-বলকে ধর্ষণ করেছে অন্ধসমাজ।’

এ সমাজে তাই তাজুল শেষপর্যন্ত গল্পের পাতায় স্থান করে নিতে চেয়েছে।


[৫ম গল্প ‘আবছায়া’]

আলো ধারণে অক্ষম তমসাবৃত এক শরীরের গল্প। অন্ধ অপ্রতিমের হাতে আলোর মশাল তার ‘আলোর স্কুল’। উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনায় শুরু হয়েছিল অপ্রতিম, অপরাজিতা এবং সৌরভের হাতে। একে কেন্দ্র করে আছে রজব মাস্টার। রজব মাস্টার বন্ধু সৌরভকে চাকরির প্রয়োজন দেখিয়ে টেনে নিতে চায় ‘জীবননগর প্রি ক্যাডেট স্কুল’-এ। অপরদিকে পরিবার-কেন্দ্রিক আলোচনার কেন্দ্রেও নিজের জরাজীর্ণ অবস্থান।


ঘুমন্ত অবস্থাতেই আমরা প্রকৃত মানুষ। জেগে উঠলে কখনো মানুষ, কখনো অমানুষ।


কোনো নির্মম ঘটনায় জীবন প্রচণ্ডরকম নড়ে উঠলে স্বাভাবিকভাবেই নানাবিদ প্রশ্ন মনকে অস্থির করে তুলে। সেই অস্থির-ধারাবাহিকতায় অন্ধ হয়ে যাওয়া অপ্রতিমের মনে প্রশ্ন জাগে জন্মান্ধদের সম্পর্কে। তারা তো আলোর স্পর্শ কখনোই পায় নি।

‘গতকাল রাতের অস্থিরতায় মুষড়ে পড়েছিল অপ্রতিম। সৌরভকে খবর পাঠিয়েছিল সঙ্গ’র প্রত্যাশায়। সবার সঙ্গ তো আর সব মন সায় দেয় না। কথায় কথায় মনে জেগেছিল জন্মান্ধদের জীবনরহস্য, জীবনভাবনা সম্পর্কে। জন্মান্ধরা কি স্বপ্ন দেখে? জন্মান্ধদের স্বপ্নের রং কী?’

গল্পের শেষে এসে দেখি জীবনের কাছে পরাজিত হয় নি, থেমে যায় নি অপ্রতিম। আলোর স্কুলের পথেই গল্পের শেষে এসে হাত ধরে অপরাজিতা।

‘অতঃপর অপ্রতিম জেনেছে স্বপ্ন অন্ধকারকেও পরাজিত করে।’


[৬ষ্ঠ গল্প ‘ডায়েরি : গল্পের ভেতর জীবন’]

এটি অনেকগুলো গল্পের সমন্বয়। ২৩টি নোট এখানে আছে। যার মালিক সমাধি চৌধুরী। যিনি ডায়েরির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে চেয়েছেন। কয়েকটি নোট আপনাদের জন্য তুলে দিচ্ছি।

* ‘ঘুমন্ত অবস্থাতেই আমরা প্রকৃত মানুষ। জেগে উঠলে কখনো মানুষ, কখনো অমানুষ।’

* ‘মানুষ যখন রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করে তখন অভিনয়কে বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে না। অথচ বাস্তব জীবনে মানুষ শুধু অভিনয়ই করে যায়।’

* ‘মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে পড়ে খুব কমই। তাই শুধুমাত্র অন্যের ভুলগুলো চোখের কোণে এসে কৌতূহল জাগায়।’

মৌলিক পরিচর্চায় গল্পকার জয় সচেতন। ভাষা ও চরিত্রের সাথে কালিক সমন্বয়সূত্র মেনে চলতে চেয়েছেন। এক্ষেত্রে নিরীক্ষাধর্মী গল্প ‘শরীর’। নামকরণ ও চরিত্রের বিষয়টি আলোচনায় আনা দরকার। গল্পকার অত্যন্ত সতর্কভাবে ‘একজন পা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সেটি যেকোনো শিল্পবোদ্ধার দৃষ্টিতে ধরা পড়বে। শক্তিশালী চরিত্র তাজুল, সৌরভ, অপ্রতিম বা অন্যকেউ নয়, এ গল্পের মূল চরিত্র ‘শরীর’। এবং শরীরের নানাবিদ পরিক্রমা, পর্যায়।

শুভকামনা গল্পকার, সাফল্য কামনা করছি।


[শরীর—মহসীন চৌধুরী জয়—প্রকাশনী সংস্থা তিউড়ি—প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০১৯—প্রচ্ছদ : সারাজাত সৌম—মুদ্রিত মূল্য : ১৬০ টাকা মাত্র।]

স্নিগ্ধা বাউল

জন্ম ৩১ অক্টোবর, নরসিংদী।

শিক্ষা : বিএ অনার্স, এমএ [বাংলা], ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশিত বই—
রাঙতা কাগজ [কবিতা, নিখিল, ২০১৭]
শীতের পুরাণ চাদর [কবিতা, চৈতন্য, ২০১৮]

ই-মেইল : snigdhabaul17@gmail.com