হোম বই নিয়ে যে গল্প যায় না দেওয়া উড়িয়ে

যে গল্প যায় না দেওয়া উড়িয়ে

যে গল্প যায় না দেওয়া উড়িয়ে
1.41K
0

ফি-বছর প্রচুরসংখ্যক ফেব্রুয়ারি-ফুল ফোটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্পও ওই রকম একটা ফুল হয়ে ফুটেছিল চলতি বছরের বাংলা একাডেমি কর্তৃক আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। লেখকের লেখা সম্পর্কে পূর্ব-পরিচিত ছিলাম, তাই নতুন বই নিয়ে আমার আগ্রহও আগে থেকেই তৈরি ছিল। মেলায় আসামাত্র বইটা সংগ্রহ করি। এটি একটি গল্পগ্রন্থ। বইয়ের নাম ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প হলেও গল্পগুলোকে তথা গল্পের কথাকে অন্তত ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না এই কথা হলফ করে বলতে পারি।


‘অজাতপুরুষ’ গল্পটি বইটির সর্বোৎকৃষ্ট গল্প—যা সুশীল সমাজকে ঠাস করে মারা একটি থাপ্পড়।


‘মানুষজন্মের বেড়ি’ বইটির প্রথম গল্প। লেখক নিজেই গল্প বলে গেছেন একটানা, গ্রামীণ হাট-বাজারে বসা ক্যানভ্যাসারের মতো। লেখক কথকের ভুমিকায় গল্প বলে বলে সমাজে প্রতিষ্ঠা নানা অনিয়মের কথা গোচরে আনার প্রয়াস করেছেন। কথকের সাথে কথকের ছায়ার কথোপকথনে ছায়া উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন প্রজন্মের ভাবনাকে। শাহবাগ যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সোচ্চার, একের পর এক উইকেট যখন পড়তে থাকে, তখন কাছেই কে যেন ফিসফিসিয়ে বলে : “জাহান্নাম খুব বেশি দূরে নয়। প্রস্তুত হও জয় বাংলার বাচ্চা।” আর তখন ছায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে কথক বলেন : “এই যুদ্ধে তারপরও আমরাই জিতব।” আমরা আসলে কতটুকু জেতেছি? “এসব পশুর চামড়া দিয়ে এদেশের মানুষ একদিন জুতো সেলাই করবে।” হ্যাঁ—হয়তো দাদার এ ভবিষ্যদ্বাণী সামান্য প্রতিফলিত হয়েছে। কিন্তু ঘরে ঘরে যে নব্য রাজাকারের ছাওয়ালেরা পথে, ঘাটে, শপিংমলে, রেস্তোরাঁয়, বইমেলায়, সমাবেশে যে উৎপেতে আছে!

অভিজিৎ ও দীপন দা চলে গেলেন অচিন পুরে। তার বিচার তো দূরের কথা সামান্য তদন্ত, তদারকিও চোখে পড়ে নি তেমন। মানুষজন্মের এমন স্খলন খুব ব্যথিত করে নিজেকে, তবুও ছায়াকে সঙ্গী করে স্বপ্ন দেখি—ধর্মের সামাজিক দেয়াল একদিন ভেঙে দেবো।

এমন সব মন জাগানো বারোটি গল্পের সংকলন ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়া গল্প। ছোটগল্প নিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংবেদনশীল পাঠক মাত্রই জানেন। তিনি মূলত পেছন থেকে গল্প বলে যান, কোনো কিছু উপেক্ষা করেন না, তবুও কোনো বিরক্তি আপনাকে ছুঁবে না। বরং নতুন করে জেগে উঠবেন কথার সম্মোহনী শক্তিতে, কথার পরশপাথরে।

‘জোছনা ও আত্মজা’ গল্প পড়ে চমকে উঠতে হয়। শুধু সুজানগর ইউনিয়ন নয় পুরো বাংলাদেশের সকল ইউনিয়নের সফল চিত্রায়ণ করেছেন লেখক। গ্রামীণ ইট-বিছানো রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কখনো মেহগনির শান্ত ছায়ায় জিরিয়ে নেওয়ার ছলে চোখ বন্ধ করে কিছু একটা শোনার ভান করুন, আমি নিশ্চিত আরও হাজারটা বজলু মুন্সি ও জোছনার দেখা পাবেন, যে কাহিনি বাতাস বয়ে বেড়াচ্ছে বহুদিন। এ ভারি বাতাস আপনাকে সজাগ করবে নিমিষে, সমাজে চিরুনি-চালান করলে এমন বজলুর এখনও ভূরি ভূরি পাওয়া যাবে, যে কি না সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া এক মহিলার আত্মজাকে বিয়ে করে, এতেও তার পাপ কর্ম থামে না; আবার শহরের অন্ধকার ঘুপচিগুলোতেও কাটিয়ে দিত সপ্তাহের অর্ধেক দিন। এদের বয়কট করার দায়িত্ব আপনার, সমাজ বিনির্মাণ যেহেতু আপনার স্বপ্ন।

চলুন পাঠক ‘উরু ও অস্থির আখ্যান’-এ ঢুকে পড়ি। অদ্ভুত অন্ধকার। মাথা ঝিম ধরে আসে। আহা! কী নিদারুণ বাস্তবতা!

কোনো এক মাস্টারের ঔরসে কুমারী মেয়েটি মা হয়। এলাকা সালিশ-বৈঠকের এক পর্যায়ে দাঙা লেগে গেলে, ছেলেটি কিছু ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পেয়ে যায়, মেয়েটির আর বিয়ে হয় না। দুবছর পর হঠাৎ বাড়ির পুরনো চাকর আয়নালের সাথে মেয়েটার বিয়ে হয়, কিন্তু তার ছেলেকে নিতে অসম্মতি জানায় আয়নাল। ছেলেটার কান্না থামে না, কেউ শান্ত করতে পারে না। পরে, তার নতুন বাপ ছেলেকে ঘরে নিয়ে যায়, নিজের নামের সাথে মিল রেখে তার নাম রাখে জয়নাল আবেদীন। উল্লেখ্য, জন্মের দুবছরেও ছেলেটির কোনো নাম ছিল না, রাখার ফুরসতও হয় নি কারও। বড় হয়ে তার জন্মপরিচয় জানার পর সে আর গৃহমুখী হয় নি, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পাঠ চুকানের আগেই বন্ধুর অপকর্মের শিকার সহপাঠীকে বিয়ে করে তাকে মুক্তি দেয়। ষোল বছর পর একমাত্র মেয়েটিও বখে যায়, অ্যাডিক্টেড হয়ে যায়, এরপর নিখোঁজ। অনেক খোজাখুঁজির পর না পাওয়া মেয়েকে হঠাৎ একদিন দেখে ফেলে শহরের এক অভিজাত হোটেলে কারও বাহুবন্ধনে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর কালে! যে কি না ক্লান্তি মুছতে গিয়েছিল ওখানে, প্রায়ই যায়। এমতাবস্থায় তার ভেতরে ভয়ংকর ভাঙচুর শুরু হয়, যা বায়ান্ন, চুয়ান্ন, চৌষট্টি, চুরাশিকেও ভুলিয়ে দেয়। আর ভাবি—পাপ বাপকেও ছাড়ে না।

‘অজাতপুরুষ’ গল্পটি বইটির সর্বোৎকৃষ্ট গল্প—যা সুশীল সমাজকে ঠাস করে মারা একটি থাপ্পড়। যুদ্ধাপরাধের বিচার যখন ইন্ডিয়ার উস্কানি বলে ধরে নেয় আল্লার ঘরের দেশে খেটে খাওয়া ছেলের বাবারা, তখন ষাটোর্ধ্ব বিমল ধোপারও শুনতে হয় ‘মালাউনের জাত!’ সংখ্যালঘুতাই যেন আজন্ম পাপ!

তারপর ‘প্রাচীন রক্তের সুবাস’ নিয়ে এগুতে থাকি। একাত্তরের সংগ্রামে যে হিন্দু-নারীভোগ আমরা দেখতে পেয়েছিলাম হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ-এ তা এখানেও দেখতে পাই। বনিলাল দত্ত একটা স্কুলে পড়ায়, বৃদ্ধ। তার মেয়েও ওই স্কুলের শিক্ষয়িত্রী। যুদ্ধের রাতে তার বাবাকে রাজ্জাক মোবারকের দল ধরে নিয়ে গেলে, মেয়ে বাবার প্রাণ ভিক্ষার জন্য যায়। রাজ্জাক ও রাজ্জাকের বাহিনীর লোলুপতা তার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে হুল ঢুকায়। কিন্তু খঁয়ের খাঁর খানিকটা দয়া পরবশে বাবা বেঁচে গেলেও নিজের সম্ভ্রম হারাতে হয় তাকে এবং চলতে থাকে এ নির্যাতন। হালদার তীরে যখন নতুন পতাকা ওড়ে, তখন রাজ্জাকের গলিত লাশ পাওয়া যায় দূরে। আর তখন, খঁয়ের খাঁকে ধরে এনে প্রকাশ্যে তার শিশ্ন কেটে নয় বনিলাল দত্তের পরিবার। এমন শাস্তি আমরা দেখেছি হুমায়ুন আজাদের কবি অথবা দণ্ডিত অপুরুষ-এ। তারপর তার নপুংসক জীবন নিয়ে বেঁচে বর্তে থাকা। যেদিন মারা গেল, মৃত্যু সংবাদ প্রচার করার লোকও জুটল না, শুধু পাশের ঘরের মনু মিয়া ছাড়া। প্রকৃতির প্রতিশোধ এমনই নির্মম।


গল্পের ভাষা, ভাষার মাধুর্যতা ও ভাষার প্রবহমানতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আমি তার গল্পের মুগ্ধ পাঠক মাত্র।


গল্পটিতে ধর্মীয় বিষয়-আশয় ওঠে এসেছে। যেমন : মুর্দার গোসল ফরজ, কেন ফরজ, গোসল করানোর নিয়ম এসব। বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারলে ভালো হতো, কেননা আমরা প্রত্যেকেই আদম কিংবা এডামের বংশধর। তবে মুর্দার গোসলের যে নিয়মটা দেখানো হয়েছে তা মুসলিম সম্প্রদায়ের। অন্যান্যদের কথা এখানে আসে নি। অন্য সম্প্রদায়ের লোকেরা অন্যভাবে পালন করেন। একটি অতৃপ্ত আত্মা পায়চারি একটা ভৌতিক আবেশ তৈরি করে বৈকি। তার বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। এমন একটা জিনিস প্রতিষ্ঠা করতে যাওয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যুগের অংশ হিশেবে অামি অসমর্থন করি, আর দোয়া ইউনুছের মাজেজা লেখক ভালো জানবেন। লেখক গল্পটা বলতে পরাবাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন এবং শেষে গিয়ে খয়ের খাঁর অতৃপ্ত আত্মা কবরস্থানের পরিচিত কবরগুলো যখন খুঁড়ে দেখেন, সেখান থেকে ভুর ভুর করে প্রাচীন রক্তের সুবাস আসতে থাকে। যারা কিনা ইসলামের জন্য স্বদেশের স্বাধীনতা বিরোধী ছিল।

‘আগন্তুক, কুকুর ও কোলাহল’ গল্পে লেখক একটি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে আরেকটি প্রচলিত বিশ্বাসকে লালন করেছেন। হিন্দু-ছেলেটি রোজার দিনে সিগারেট টেনে গাড়িতে উঠার সাথে সাথে একটু আগে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে কুকুরটিকে লাথি মেরেছিল, সে কুকুরটিও তার সাথে গাড়িতে ওঠে পড়ে। এটাকে লোকে অনাস্তি কর্ম হিশেবে দেখছে। কখনও যাত্রী, কখনও হেল্পার, কখনও কন্ডাক্টর আবার কখনও বাসের চালকের কোলে গিয়ে বসে কুকুরটি। বাসের সবাই আল্লাহ আল্লাহ বলে জিকির ও উচ্চ আওয়াজে অন্যান্য দোয়া দরুদ পড়লে কুকুর আবার সুযোগ বুঝে কারও ক্ষতি না করে খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। এটা কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকে আমার কাছে! এমন ম্যাচিউড গল্পকারের কাছে আরও ভালো গল্প আশা করি আমরা। বইয়ের অন্য এগারটা গল্পের কাছে এই গল্পটা বেশ ম্লান মনে হলো। প্রিয় পাঠক, বইটি পড়ে আপনার ও আমার পাঠরুচি পৃথক করে দেখতে পারেন।

‘সেটেলার’ গল্পটিতে পার্বত্য অঞ্চলের আদি ও বর্তমানকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। সুবিধা-বঞ্চিত এ জনগোষ্ঠী কেন শান্তি কমিটি গঠন করেছে? কেন স্বাধীনতাকামী হয়ে উঠেছে? কেন খুন, হত্যা, গুম পাহাড়িদের কাছে নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে? কেনই-বা পাহাড়ে অন্য জনগোষ্ঠীরে পুনর্বাসন করে পাহাড়িদের সংখ্যালঘু করা হয়েছে? এ কি রাজনৈতিক কারণে নয়? এ সব প্রশ্নের উত্তর খুব সাবলীলভাবে গল্পটিতে বিধৃত হয়েছে। অাদিবাসীদের নিয়ে মনের ভেতর জন্মানো আরো অনেক প্রশ্নের উত্তর ছড়িয়ে আছে গল্পের পরতে পরতে। ইতিহাসাশ্রয়ী এ গল্পটি বইটির অন্যতম শ্রেষ্ঠগল্প।

পাহাড়িরা নারী পাচার, শিকার করে বহুদিন আগে থেকে। এমন সত্যও ওঠে এসেছে ‘অজগরের খোলস’ নাম্নী গল্পটিতে। কদিন পর পরই শোনা যায় ওর মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না, ওর মেয়েকে পাহাড়ি ডাইনিরা নিয়ে গেছে—এরকম কাহিনি। অথচ শহরের অভিজাত হোটেল ও ত্রিপুরায় খোঁজ করলে তাদের দ্বিতীয় ভার্সন তথা পুনর্জন্মের খবর পাওয়া যায়। এই পাহাড়ি প্রেতিনি কিংবা পাহাড়ি ডাইনিদের কাহিনি পাচার সংশ্লিষ্ট কর্তাদেরই সৃষ্টি। তার গল্পের ভাষা, ভাষার মাধুর্যতা ও ভাষার প্রবহমানতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। আমি তার গল্পের মুগ্ধ পাঠক মাত্র। তার গল্প বলার ঢং প্রচলিত গল্পভাষাকে উপেক্ষা করে। এটা তার নিজস্ব স্বর তৈরির শ্রমজ চেষ্টা। এ চেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই।

‘কচি ইঁদুরের রক্ত’ গল্পটি কেবলই একটি গল্প। ছোটবেলায় একটা প্রবাদ প্রায়ই শোনা যেত লোকমুখে, পরের জন্য গর্ত খুড়লে, নিজেকেই ওই গর্তে পড়তে হয়, ওই রকম একটা ম্যুরাল পাই গল্পটিতে। কচি ইঁদুরের রক্তে হল্লা করতে করতে নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনে টগরের বাপেরা। অপর দিকে ছেলে চিল্লায়ে গলা ফাটালেও ওদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না তাদের। অথচ পরক্ষণেই সিগারেটের চিলতে আগুন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। দিকপাশ ঝলসে ইঁদুরপালের দৌড়, যেন খুবলে খাবে আবু জাফরকে।

‘গিলাফ ফকিরের খিলাফত’ তার উজ্জ্বলতম কাজ। সমাজের মোড়ল, পাবলিক নেতা, মন্ত্রী, এমনকি রাষ্ট্রপতির সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ও তাদের ছত্রছায়ায় গজে উঠে একেকটি ভণ্ড বাবার মাজার। তার আশেপাশের লোকেরাই এই খিলাফতের গুণগ্রাহী। ওখানে সেবার নামে নিয়ে যাওয়া কুমারীদের সতীত্ব হরণ করে ছেড়ে হয় এবং এইসব সেবিকাদের একটা আলাদা বাজার আছে বিয়ের ক্ষেত্রে। তাড়াতাড়ি ও অবস্থাসম্পন্ন ঘরে বিয়ে হয়ে যায় ওদের। তাদের দেখাদেখি অনেকে নিজের মেয়েকেও নিয়ে যায় দ্রুত ও ভালো ঘরে বিয়ে হওয়ার জন্য। তারা ফকিরের সেবা নিয়ে চলে আসে এবং শেখানো বুলি অনুসরণ করে। এভাবে তার অনুসারী বাড়ে। চট্টগ্রামকে বলা হয় বারো আউলিয়ার দেশ, আর এই উপমহাদেশে তিনশ ষাটটি মাজার রয়েছে। প্রত্যেকটিতে না হলেও বেশির ভাগই ‘গিলাফ ফকিরের খিলাফতে’র মতো অনিয়মই চলে, স্থানীয় ও জাতীয় নেতার বাহুতলে। এমন প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে এমত সত্য উচ্চারণ করার লোক সত্যি বিরল। এমন কাজের জন্য লেখককে ব্যক্তিগতভাবে স্যালুট জানাই।


অসাধারণ চিত্রকল্পের ভেতর দিয়ে সমাজের অনিয়ম, প্রশাসনের অবহেলা এবং সরকার দলীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন লেখক।


‘বাঘের চোখ’ একটি চিরন্তন ও অনন্তকালব্যাপী প্রবহমান গল্পের প্লট। যেখানে অনায়াসে উঠে আসে খানাখন্দে ভরা প্রধান সড়কের চিত্র, অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, সরকার দলীয় ক্যাড়ারদের হাতে বিশ্বজিৎ হত্যা, রাষ্ট্রের অতন্দ্র প্রহরীর ক্যান্টনমেন্টে তনু হত্যা, পাহাড়ি কল্পনাচাকমা হত্যার বিচারহীনতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিতদের ফাণ্ড থেকে অর্থ আত্মসাতের কথা। এভাবে ধরণীর ধ্বংসকাল পর্যন্ত যত অনিয়ম ও অন্যায় হবে তা সরলরৈখিকভাবে বলা যাবে। কী অসাধারণ চিত্রকল্পের ভেতর দিয়ে সমাজের অনিয়ম, প্রশাসনের অবহেলা এবং সরকার দলীয় নেতাদের দৌরাত্ম্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন লেখক। লেখক এখানে সময়ের সফলতম চিত্র তুলে ধরতে পেরেছেন। সবকটা গল্প এসময়কে প্রতিবিম্বিত করে, সময়ের দর্পণে গল্পগুলো একেকটা স্ক্রিনশট! একেকটা দলিল।

দিনশেষে কৃতকর্মের ফল স্বরূপ আত্মশুদ্ধির জন্য ছোট ডায়নোসর তথা ‘টিকটিকির খাঁচা’ কিংবা খামারে নিজেকেও একবার আবিষ্কার করতে চাইলে এখনই পড়ে ফেলুন এই নান্দনিক গল্পগ্রন্থটি। আরও নান্দনিক ও আরও আরও চমৎকার গল্পের সংকলন লেখক আমাদেরকে উপহার দিক এটাই কাম্য। প্রিয় পাঠক বইটি সংগ্রহ করুন। বইটির বহুল প্রচার ও বহুল বিক্রি কামনা করছি। বই সবচেয়ে কাছের ও বিশ্বস্ত বন্ধু। বইয়ের সাথেই থাকুন।


[ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া গল্প—ফজলুল কবিরীজেব্রাক্রসিং প্রকাশনপ্রচ্ছদ : রাজীব দত্তমূল্য :১৬০টাকাবইমেলা ২০১৮]

(1413)

Latest posts by ইয়ার ইগনিয়াস (see all)