হোম বই নিয়ে মামলার সাক্ষী ময়না পাখি : বয়ানে-অন্তর্বয়ানে এক নিখাদ শিল্পের চাতাল

মামলার সাক্ষী ময়না পাখি : বয়ানে-অন্তর্বয়ানে এক নিখাদ শিল্পের চাতাল

মামলার সাক্ষী ময়না পাখি : বয়ানে-অন্তর্বয়ানে এক নিখাদ শিল্পের চাতাল
641
0

গত তিনদিন আছি কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের মামলার সাক্ষী ময়না পাখি নিয়ে। আধাদিন সময় নিয়েছি বইটি পড়তে, আর আড়াই দিন সময় নিয়েছি ভাবনায়। খুব যত্ন করে ছাপানো, বাঁধাই করা বইয়ে আমি ইচ্ছে মতো কাটাকুটি করেছি। উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণে আমি ঠিক এইভাবে কাটাকুটি খেলতাম।

হাঁ খেলাই তো। এগারোটি গল্পের সাথে আমি কথা বলেছি, গল্পচ্ছলে জানবার চেষ্টা করেছি ওদের ইতিহাস, সামনে বসিয়ে ওদের দিকে ছুড়ে দিয়েছি হাজারো প্রশ্ন। যেমন : প্রথম গল্পের মতিন কায়সারকে জিগ্যেস করলাম, ‘আচ্ছা আপনাকে মতিন কায়সার নামে না ডেকে শাহাদুজ্জামান নামে ডাকলে অসুবিধা হবে? ‘ তিনি হাসলেন। এই হাসিটা তিনি আ’রাফ এ রেখে দিলেন।

—দৈত্যের দেখা পেয়েছিলেন?

—তার মানে আপনি ধরে নিয়েছেন আমি বামন?


জীবনে প্রায়ই এমন মুহূর্ত আসবে যখন ভূমিধ্বসের মতো চারপাশ থেকে ধসে পড়বে বিশ্বাস, আস্থা।


এবার আমার হাসি আ’রাফ-এ টাঙানোর পালা।

—চেনা ভূগোলের গল্প খোঁজে না এমন পাঠক-পাঠিকা চান আপনি। তো তেমন পাঠকও নিশ্চয়ই এমন গল্পকার চাইবেন যার গল্পে কনফেকশনারিতে সাজিয়ে রাখা নানা কিসিমের বিস্কুটের ঘ্রাণ নেই। নিজের মধুতে নিজেই তো ডুবে যাবেন।

—আসলে নারীর শরীর, মাটিলগ্ন গল্প কোনো কিছুই বেশিদিন টানে নি আমায়। আসল নকলের ধকলে পড়ে মাঝ বরাবর এক অবস্থানে পথ খুঁজে না পাওয়া পথিকের মতো দাঁড়িয়ে আছি।

—এই অতৃপ্তি, এই অসম্পূর্ণতা ও সংকটের দরজায় দাঁড়িয়ে কী মনে হয় আপনার? আপনি বাতাসচাষি হয়েই আছেন নাকি মাটিতেও আঁচড় পড়েছে দু’একটা?

—আমি রাস্তায় পড়ে কান্দা লোক। মুর্শিদের বাজারে যেতে চেয়েছিলাম।

—আমার তো মনে হয় না। আমার যতদূর ধারণা আপনি হাসপাতালের ওই জানালার পাশের বেডে যেতে চেয়েছিলেন। বেডে শুয়ে থাকা মৃত্যুপথযাত্রী ওই রোগীটির মতো হতে চেয়েছিলেন। আর মৃত্যু সম্পর্কে আপনার অবস্থানও তো বেশ পরিষ্কার।

—বাহ! জলে থাকব আর জলের প্রবাহ জানব না তা তো হয় না।

—জানেন কিন্তু মানেন কি?

এবার দুজনেই চুপ। হঠাৎই যেন বলে উঠলেন—

‘জীবনে প্রায়ই এমন মুহূর্ত আসবে যখন ভূমিধসের মতো চারপাশ থেকে ধসে পড়বে বিশ্বাস, আস্থা। মন ক্ষতবিক্ষত হবে। ভয়ংকর নিরালম্ব লাগবে। হয়তো তখনই তোমার প্রশ্নগুলোর উত্তর তোমার কাছে ধরা দেবে উড়ন্ত প্রজাপতির মতো। প্রজাপতিকে ধরতে চাইলেই ধরা দেয় না। অথচ কোথাও যদি স্থির হয়ে বসো, তাহলে প্রজাপতি আলতো করে তোমার মাথায় এসে বসতে পারে। প্রশ্নের উত্তরও সেরকম।’ [নাজুক মানুষের সংলাপ।পৃ. ১১২]

এ পর্যন্ত পড়ে একটা নাম মাথায় ভোকাট্টা ঘুড়ির মতো ডিগবাজি খেতে লাগল। এইচ জি ওয়েলস যিনি তার ‘contemporary novel’ প্রবন্ধে ছোটগল্পের কথা বলেছেন ঠিক এইভাবে—

A short story should go to its point as a man flies from a pursuing tigers; he pauses not for the daisies in his path, or to note the pretty moss on the tree he climbs for safety.

এরপরে সত্যিই আর কোনো প্রশ্ন চলে না। না চলুক। এই অবসরে বরং বইটি নিয়ে দু’চারটি ভারি কথা হয়ে যাক। মামলার সাক্ষী ময়না পাখি বইটিতে মোট এগারোটি গল্প আছে। সেগুলোর শিরোনাম হচ্ছে : ১. জনৈক স্তন্যপায়ী প্রাণী, যিনি গল্প লেখেন, ২. মৃত্যু সম্পর্কে আমার অবস্থান খুব পরিষ্কার, ৩. টুকরো রোদের মতো খাম, ৪. চিন্তাশীল প্রবীণ বানর, ৫. পৃথিবীতে হয়তো বৃহস্পতিবার, ৬. উবার, ৭. অপস্রিয়মাণ তির, ৮. ওয়ানওয়ে টিকেট, ৯. লবঙ্গের বঙ্গ ফেলে, ১০. মামলার সাক্ষী ময়না পাখি এবং ১১. নাজুক মানুষের সংলাপ। প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা। যত্নে করা এই গল্পগ্রন্থটির পেইজ, গেটআপ, বাইন্ডিং নিয়ে বলার কিছু নেই। গ্রন্থ শিরোনাম আবদুল করিম খানের একটি পুঁথি থেকে নেয়া। নাম, প্রচ্ছদ আর ভেতরকার গল্পগুলোর সাদৃশ্য পুরো বইটিকে নান্দনিক রূপ দিয়েছে। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ২৪০ টাকা।

উত্তর আধুনিক গল্পের নিরীক্ষা ও লোকগল্পের ফিউশন তৈরি করে নিজের মতো একটা বয়ানভঙ্গি সৃষ্টি করার চেষ্টা খুব স্পষ্ট শাহাদুজ্জামানের মামলার সাক্ষী ময়না পাখিতে। এই চেষ্টা বর্ণনার ঘনঘটায় নয়, বরং রহস্যাবৃত কোনো চিহ্ন রেখে যাবার মতো যে চিহ্ন নির্ধারণ করবে সময়ের ফ্রেমে আটকে পরা চরিত্র বিনির্মাণে গল্পকার কতটা মুনশিয়ানা দেখাতে পারছেন। এই ব্যপারটি লক্ষ করা যায় ফরাসি সাহিত্যের মার্সেল প্রুস্ত, স্পেনীয় সাহিত্যে কোর্তাজার, চেক সাহিত্যে কুন্দেরার মধ্যে। বিখ্যাত তাত্ত্বিক গিলে দেলেউজ-এর কিছু কথা এক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য :

what forces us to think is the sign. … … … The act of thinking does not proceed from a simple natural possibility, on the contrary it is the only true creation. [Proust and Signs]

একজন কমলালেবুতে জীবনানন্দের বয়ানে যে নৈরাশ্যবাদী দর্শন গল্পকার ফুটিয়ে তুলেছিলেন মামলার সাক্ষী ময়না পাখি-তে এসে তার উল্টো কোনো স্রোতের সুর কি পাচ্ছি আমরা? আবার দেখুন ক্রাচের কর্নেল পড়তে গিয়ে এক রাজনৈতিক চরিত্রকে তিনি যে সাহসিকতার সাথে ফুটিয়েছেন তার সাথে নৈরাশ্যবাদিতার কোনো সমন্বয় আপনাদের মগজে হানা দিয়েছে কি? তাহলে শাহাদুজ্জামান কোন পথের পথিক? কোন সত্যের ধারক? কোন দর্শনের বাহক? না চাইলেও প্রশ্ন হানা দেয় মনে। মনস্তত্ত্বের নানাবিধ দিক উন্মোচন করতে তিনি যে হেমলকে ডোবানো তির পাঠকের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন তা থেকে আমাদের নিস্তার কই? যতগুলো তির আমায় বিদ্ধ করেছে তার কিছু আমি আপনাদের দিকেও ছুড়ে দেই না কেন?


চেতন, সচেতন আর অবচেতনের রসায়ন অচ্ছেদ্য না হলে যাপিত সময়ের তৃষ্ণা, তীক্ষ্ণতা, ও সমকালীন জটিলতাকে মুখোমুখি দাঁড় করানো যায় না।


তির নং ১ : ‘রফিকুল আলম অনুভব করেন, এই ঘটনার পর গভীর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছেন তিনি। তিনি সেই নির্ঘুম রাতে গভীরভাবে টের পান যে জগৎ-সংসারে এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ল অব থার্মোডিনামিক্স, ম্যাজিক এই সবের জ্ঞানে চলে না। চলে অন্য জ্ঞানে। যেই জ্ঞান রফিকুল আলমের কানাকড়িও নাই।’ [ওয়ানওয়ে টিকেট। পৃ. নং- ৮৩]

তির নং ২- ‘মাসুদ অপেক্ষা করবে। কোন ডিম ফেটে কে কোথায় তাকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করে, সেটা দেখার জন্য সে অপেক্ষা করতে প্রস্তুত।’

অথবা

‘আজ বৃহস্পতিবার : পৃথিবীতে হয়তো বৃহস্পতিবার নয়৷
মাঠে মাঠে ছাগল ঘাস খাচ্ছে, তাদের পিঠে লাগছে
মহাজগতের রোদ। আমারও ঘুমানোর সময়
হয়ে এল। কিন্তু একদা ভুট্টা চন্দ্রসিক্ত হয়েছিল।
এই স্মৃতি মনে করে আমি ঘুমাতে পারি না।
বসে বসে ম্যাচ বাক্সের কাঠি গুনি।’
[পৃথিবীতে হয়তো বৃহস্পতিবার। পৃ. নং- ৪৯/ ৪৪]

তির নং ৩ : ‘হলুদ খামটা হাতে নিয়ে আন্দালীবের মনে হয় যেন ধরে আছে এক টুকরো চৌকো রোদ।’ [টুকরো রোদের মত খাম। পৃ. নং- ২৭]

তির নং ৪ : ‘এক নারীর রূপের বর্ণনা দিতে গিয়ে পুরান ঢাকার জমজমাট, কৌতূহলোদ্দীপক জনপদের জনৈক যুবক বলে,’ চান্দের আলো হালায় মাইয়ার শরীলে ঢুইকা আর বারাইবার পারতাছে না।’ পুরান ঢাকার জনতা ছাড়া জোছনা ও নারীর পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে এমন আশ্চর্য বাক্য জগৎ-সংসারে কেউ রচনা করতে পারে না। আবার এই জনপদেরই জনৈক ক্ষুব্ধ বাকরখানি বিক্রেতা চিৎকার করে বলতে পারে, ‘তোরে আমি টিকটিকি দিয়া চোদামু।’ টিকটিকির সঙ্গে মনুষ্য সঙ্গমের এই অভূতপূর্ব জাদুদৃশ্য রচনাতেও পারঙ্গম এই এলাকার মানুষ। এই এলাকাতেই যুগপৎ গুঁড়া মসলার গন্ধ ও ঘোড়ার খুরের শব্দ মিলেমিশে থাকে।’ [চিন্তাশীল প্রবীণ বানর। পৃ. নং- ৩৩]

তির নং ৫ : ‘ কিছু বলে না বজলু। তবে কি বজলু নিরীহ গাছি নয়? গাছের চূড়া থেকে পৃথিবীকে দেখতে দেখতে সে হয়ে উঠেছে গভীর চিন্তক? সে জেনে গেছে, মানুষ অবিরাম সুতার উপর দিয়ে হাঁটে—যার একদিকে থাকে সত্য, অন্যদিকে মিথ্যা। সে জেনে গেছে ,পরিস্থিতি মোতাবেক সত্য নির্মাণ করা প্রতিভাবানদেরই কাজ।’ [মামলার সাক্ষী ময়না পাখি। পৃ. নং- ১০৪]

তির নং ৬ : ‘যে ব্যাপারগুলোকে আমরা সবার শেষে আবিষ্কার করি তারই নাম দেই সত্য। সত্যকে একটা নদী ভাবতে পারো,যা ভাগ হয়ে যায় শাখা-প্রশাখায় তারপর আবার একত্র হয়। মাঝখানে তৈরি হয় চর। সেই চরের অধিবাসীরা চিরকাল তর্ক করে কোনটা আসল নদী তা নিয়ে। আর চরে দাঁড়িয়ে সারস দম্পতি সেই তর্ক শোনে।’

অথবা

‘বিলের তলদেশে চুপচাপ অদৃশ্য থাকা কলসিকে হঠাৎ ভেসে উঠতে দেখে মানুষ। তুমিও হয়তো দেখতে পাবে তোমার ভেতর থেকে হঠাৎ ভেসে উঠছে নৈতিকতা, যৌনতা বা সৃজনশীলতার কলসি।’ [নাজুক মানুষের সংলাপ, পৃ.- ১০৯/ ১১০]

উপরের যে তিরগুলোয় আপনাদের বেঁধাতে চাইলাম তা কি তির হয়ে বিঁধল নাকি কবিতা হয়ে? যারা গদ্যের ছান্দসিক চলনে আস্থা বা বিশ্বাস কোনোটাই রাখেন না তারা একটিবার ভাবতে বসতে পারেন। মেদহীন মাধুর্য আর মাত্রার পরিমিতি গদ্য ও পদ্য উভয়ের জন্যে কতটা জরুরি সে আলোচনায় গেলে প্রসঙ্গান্তর ঘটতে পারে তাই আর ওদিকটায় গেলাম না। শুধু এটুকু নির্দ্বিধায় বলা যায় চিত্রকল্প ধারণে যে ভাষা ভঙ্গিমা রপ্ত করেছেন কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান, মননের গভীরে সে এক রাগভৈরবী সুর তোলে।

নিবিড় ধ্যানমগ্নতা না থাকলে, সৃজনের আনন্দকে অপার করে না দেখলে, চেতন, সচেতন আর অবচেতনের রসায়ন অচ্ছেদ্য না হলে যাপিত সময়ের তৃষ্ণা, তীক্ষ্ণতা, ও সমকালীন জটিলতাকে মুখোমুখি দাঁড় করানো যায় না। চরিত্র ও তার ভেতরকার সংঘাত, সময়ের চৌহদ্দি ভাঙার প্রবণতা, উত্থান-পতন বৃত্তান্ত, অন্তর্বেদনার অনুষঙ্গ সব কিছুই এক নিবিড় পরিচর্যা আর নিরবিচ্ছিন্ন সেবা পেয়েছে গল্পকারের কলমে। প্রতিটি চরিত্রের প্রতিমা গড়তে যে আকুলতা আর নিষ্ঠা তা যেন স্বতঃস্ফূর্ততায় পরিপূর্ণ। ব্যাপারটা এমন যে এটাই যেন বলার ছিল, এটাই যেন শোনার ছিল। আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে যতগুলো রফিকুল ইসলাম, বজলু, কায়সার বাস করে ঠিক ততগুলো রফিকুল আলম, মাসুদ বা আবদুল করিম বাস করে—এই সত্যবান মনস্তত্ত্ব আমরা কত সহজেই না পেয়ে গেলাম।


পতনোন্মুখ সময়কে চেতনার প্রবাহে উজ্জীবিত রাখতে পারেন যিনি তিনিই তো জিন্দা গল্পকার।


এবার আসি একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে। গল্পের নির্মাণ কৌশল লেখক মাত্রই ভিন্ন হবে এটা লেখক যেমন জানেন পাঠকও তেমনি বোঝেন। তবু কিছু অবুঝ পাঠকের পাঠ-অভিজ্ঞতার বয়ানও সোনার সাথে খাদের সম্পর্কের মতো গল্পের গয়না তৈরিতে ভূমিকা রাখলেও রাখতে পারে। একজন সাধারণমানের পাঠক হিসেবে আমি মনে করি, সংলাপ আইডেন্টিফাই করতে বারবার আমি-ডাক্তার-আমি-ডাক্তার/ রুহুল-নার্গিস-রুহুল-নার্গিস/ বাটিছাঁট-মাঝবয়সী লোক-বাটিছাঁট-মাঝবয়সী লোক অথবা আলম-ইসলাম-আলম-ইসলাম খুব কি প্রয়োজন ছিল? কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই সংলাপের পুনরাবৃত্তিও ছন্দপতন ঘটিয়েছে বলে মনে হলো। ছাইয়ের গাঁদায় পড়ে থাকা বাক্য হিসেবে এ কথাগুলো লেখক ভেবে দেখতে পারেন।

পতনোন্মুখ সময়কে চেতনার প্রবাহে উজ্জীবিত রাখতে পারেন যিনি তিনিই তো জিন্দা গল্পকার। খুব করে চাইব আমাদের নিত্য সংকট, সংক্রমণ, হাহাকার আর বিবর্ণ বেদনারা অন্ধকারের আলো আর গান হয়ে ফুটে উঠুক আপনার গল্পে। কালের গর্ভ মনে রাখুক আপনার কলমের ছাপ। আর এ তো সেই অনন্ত যাত্রা যে যাত্রাচিহ্ন প্রভাব ফেলবে ভবিষ্যৎ অভিযাত্রীর দিশা নির্ণয়ে। শাহাদুজ্জামান, আপনি সেই স্বতন্ত্র চিহ্ন ইতোমধ্যে তৈরি করেছেন বলেই আস্থা রাখি। বহুমাত্রিক সময়ের গল্প এবার নিরুদ্বিগ্ন কলমের নির্যাস হয়ে ভরে তুলুক প্রকৃতি ও মানুষের পিপাসিত পেয়ালা। সেই পেয়ালা পাঠকের হাতে পৌঁছে দিতে শাহাদুজ্জামান প্রস্তুত। প্রশ্ন হলো, পাঠক, আপনি প্রস্তুত তো?

নাহিদা আশরাফী

জন্ম ০১ মার্চ। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। পেশায় সম্পাদক।

প্রকাশিত বই :

গল্প—
মায়াবৃক্ষ [একাত্তর, ২০১৬]
জাদুর ট্রাঙ্ক ও বিবর্ণ বিষাদেরা [পরিবার, ২০১৮]

কবিতা—
শুক্লা দ্বাদশী [বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, ২০১৪]
দীপাঞ্জলি [জাগৃতি, ২০১৫]
এপিটাফ [কুঁড়েঘর, ২০১৫]
প্রেম নিয়ে পাখিরা যা ভাবে [পরিবার, ২০১৮]

সম্পাদনা গ্রন্থ —
মুক্তির গল্পে ওরা এগারোজন [মুক্তিযুদ্ধের গল্প সংকলন, পরিবার, ২০১৭]

সম্পাদিত পত্রিকা—
জলধি [সাহিত্যের কাগজ]

ই-মেইল : nahidaashrafi.na@gmail.com