হোম বই নিয়ে বাংলা সাহিত্য ও ক্যানলিটের প্রথম সেতু

বাংলা সাহিত্য ও ক্যানলিটের প্রথম সেতু

বাংলা সাহিত্য ও ক্যানলিটের প্রথম সেতু
376
0

সম্প্রতি পড়লাম কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি লেখক, গবেষক ও সংগঠক সুব্রত কুমার দাস রচিত কানাডীয় সাহিত্য: বিচ্ছিন্ন ভাবনা গ্রন্থটি। বইটির পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখার ভূমিকা হিসেবে সুব্রত কুমার দাস সম্পর্কে কিছু কথা না বললেই না। সুব্রত বাংলাদেশের স্বনামধন্য বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ রাইফেলস পাবলিক কলেজ [সেকালে বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজ]-এর ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন দীর্ঘদিন। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় তিনি বাংলাদেশে সাহিত্য সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩তে তিনি সপরিবার কানাডায় পাড়ি জমান। কানাডাতেও তিনি বাংলাদেশি ও কানাডিয়ান লেখকদের সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে, একই সঙ্গে চেষ্টা করছেন কানাডীয় সাহিত্যের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের একটা সেতুবন্ধন তৈরি করতে।

এই ভূমিকাটুকু এই জন্যে পাঠকের জানা প্রয়োজন কারণ এই অংশটুকু না জানা থাকলে লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস রচিত কানাডীয় সাহিত্য: বিচ্ছিন্ন ভাবনা গ্রন্থটি পাঠ করতে গেলে পাঠক নিজেকেই বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারেন। বইটির নাম যথার্থ,  ‘বিচ্ছিন্ন ভাবনা’, কারণ কানাডীয় সাহিত্যের বেশ কয়েকজন শক্তিমান লেখক-কবির সাহিত্যকর্মের ওপর গত বছর পাঁচেক ধরে করা গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপরই বিচ্ছিন্নভাবে আলোকপাত করেছেন লেখক।


কানাডীয় গণিত বলে কিছু নেই বা কানাডীয় প্রকৌশলবিদ্যা বলে কিছু নেই। তবে ক্যানলিট বা কানাডীয় সাহিত্য বলে আছে। 


তবে কোনো ঘটনার অনুসন্ধানে নামলে যেমন বিচ্ছিন্ন ও টুকরো টুকরো সূত্র আমাদের এগিয়ে নিয়ে যায় ঘটনার মূল রহস্যের সমাধানে, এবং অনুসন্ধানের জন্য যেমন বিস্তারিত বর্ণনা সম্বলিত কোনো রিপোর্ট থাকে না, বরং সেই টুকরো টুকরো বিচ্ছিন্ন সূত্রগুলোকে ভাবনার সুতোয় যুক্তির উপর ভিত্তি করে গাঁথলে পুরো রহস্য চোখের সামনে পানির মতো পরিষ্কার হয়ে আসে, তেমনি এই গ্রন্থটির বিচ্ছিন্ন প্রবন্ধগুলোও একসঙ্গে গাঁথলে পুরো কানাডীয় সাহিত্যের একটা ধারা চোখের সামনে পরিষ্কার হয়ে আসে—এই গ্রন্থের মূল সার্থকতা এখানেই। পাঠক, লক্ষ করতে হবে যে, আমি বলছি ‘অনুসন্ধানে নামলে’, অর্থাৎ এই গ্রন্থটিতে সন্নিবেশিত মোট ৩১টি ভিন্ন ভিন্ন বিচ্ছিন্ন প্রবন্ধ পাঠ করে এখান থেকে কিছু লাভ করতে হলে আপনার একটা অনুসন্ধিৎসু মন থাকতে হবে। এবং অনুসন্ধিৎসু মন কখনও উদ্দেশ্যহীন হয় না, আপনার উদ্দেশ্য থাকতে হবে কানাডার সাহিত্যের ধারা ও এই ধারাকে যারা ধারণ করেছিলেন সেই লেখক-কবিদের সম্পর্কে কিছু জানার।

বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা/কানাডা/অস্ট্রেলিয়া/যুক্তরাজ্য এইসব দেশে কম মানুষ তো পাড়ি জমান না, নানা কারণে পাড়ি জমান তারা। যিনি গণিতশাস্ত্রের মানুষ, বা যিনি চিকিৎসাশাস্ত্রের মানুষ—তার জন্যে পরবাস এই বিবেচনায় কঠিন না যে কানাডীয় গণিত বা চিকিৎসাবিজ্ঞান বাংলাদেশের গণিত বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেয়ে আলাদা। কানাডীয় প্রকৌশল বিদ্যা আর বাংলাদেশি প্রকৌশল বিদ্যা বলে কিছু নেই—এই বিষয়গুলো সর্বজনীন। তবে যখন সাহিত্যের কথা আসে, তখন কিন্তু বিষয়টা আর সর্বজনীন থাকে না, কানাডীয় সাহিত্য এবং বাংলা সাহিত্য দু’টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ঠিক যেমনভাবে উর্দু সাহিত্য ও রাশিয়ান সাহিত্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এবং যিনি সাহিত্যের মানুষ, তার পক্ষে একটা ভিন্ন দেশে গিয়ে সেই ভিন্ন দেশের সাহিত্যের মূলধারায় প্রবেশ করার কাজটি যথেষ্ট জটিল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আমাদের দেশে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র-ছাত্রীরাও দেশ-ভিত্তিক সাহিত্য নিয়ে পড়ে আসেন না, তারা একাডেমিক সিলেবাস হিসেবে বড়জোর পড়েন ইংরেজি ক্লাসিক সাহিত্য। সেটা কানাডিয়ান লিটারেচার বা ‘ক্যান-লিট’ নয়। হয়তো স্নাতকোত্তর পর্যায়ে থিসিস হিসেবে কিছু লাইব্রেরি ওয়ার্ক কেউ কেউ করে থাকতে পারেন, সেটা ধরছি না। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, একজন সাহিত্য অনুরাগীর জন্যে একটি ভিন্ন দেশের সাহিত্যে প্রবেশ করাটা বেশ কঠিন পরিশ্রমের একটি কাজ। সুব্রত কুমার দাস তার গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন; সংসার, অর্থনৈতিক চাহিদা ইত্যাদি থাকা সত্ত্বেও কিভাবে তিনি মাসের পর মাস চেষ্টা করে গেছেন ক্যানলিটের মূল ধারা সম্পর্কে জানতে। লাইব্রেরি, পুরনো বইয়ের দোকান, উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বই, ইন্টারনেট—খোঁজাখুঁজি বা রিসার্চ করার যতগুলো উপায় আছে, তিনি চেষ্টা করে গেছেন সাধ্যমতো। এবং তার সেই চেষ্টার সুফল আমরা পাঠক হিসেবে ভোগ করব এখন।

সুব্রতর এই গ্রন্থটি মূলত তার গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের একটি সংকলন। ২৮জন কানাডীয় কবি-সাহিত্যিক ও তাদের কর্মের উপর সুব্রত আলোকপাত করেছেন ২৮টি ভিন্ন ভিন্ন প্রবন্ধে। এখানে যে অল্পকয়েকজন কানাডীয় সাহিত্যিক জগদ্বিখ্যাত, তাদেরকে আনা হয় নি আলোচনায়, বরং যারা এতটা বিখ্যাত নন, কিন্তু গত এক-দেড় শতাব্দী ধরে কানাডীয় সাহিত্যের মূল ধারাটাকে ধরে রেখেছেন—মূলত এমন লেখক-কবিরাই স্থান পেয়েছেন সুব্রতর এই গ্রন্থে। গ্রন্থটি প্রথম পাঠে পাঠকের মনে হতে পারে যে, এটি কেবলই এই ২৮ জন কানাডীয় সাহিত্যিকের কিছু প্রধান সাহিত্যকর্ম, জন্ম-মৃত্যু, বেড়ে ওঠা ইত্যাদি সাধারণ তথ্যাবলি, এবং তখন পাঠকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে—তবে বইটির নাম ‘বিচ্ছিন্ন ভাবনা’ না হয়ে ‘বিচ্ছিন্ন তথ্যাবলি’ হলেই তো ভালো হতো। আমারও প্রথম পাঠেই তেমনটি মনে হয়েছিল। তবে অবচেতন মনের একটি সন্দেহ খতিয়ে দেখতে গিয়ে বইটি আমি দ্বিতীয়বার পাঠ করি, এবং দ্বিতীয় পাঠে আমার দু’টা খুব স্পষ্ট উপলব্ধি হয় যেগুলো আমি পাঠকের সঙ্গে ভাগ করে নেয়ার লোভ সামলাতে পারছি না।

প্রথম উপলব্ধি এই যে, বইটি কেবলই কিছু বিচ্ছিন্ন লেখক-কবির জীবন থেকে নেয়া বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্যের সন্নিবেশ নয়। বইটিকে এই ২৮ জন লেখকের সংক্ষিপ্ত বায়োগ্রাফি ভাবলে ভুল হবে। সুব্রত এই তথ্যগুলো রেখেছেন একদম প্রাথমিক কিছু ধারণা লেখক সম্পর্কে যেন পাঠক পান সেজন্যে, কারণ একজন লেখক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে কোন সময়ে লিখেছেন সেটা জানা কিন্তু খুব জরুরি। আপনি যদি না জানেন যে হুমায়ূন আহমেদ আশির দশকের গোড়ার দিক থেকে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকের মাঝেই তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনাগুলো লিখেছেন, তাহলে আপনি হুমায়ূন পড়তে গেলে উপন্যাসের চরিত্র চিত্রায়ণ, দৃশ্যপট বর্ণনা, সামাজিক ক্লাইমেক্স—ইত্যাদি দেখে হোঁচট খেতে পারেন, কেননা আপনার কোনো ধারণা নেই কোন সময়ের প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত হয়েছিল। কাজেই এটি খুবই প্রাথমিক একটি ধারণা। তবে এটিই শেষ নয়। হয়তো শুধুমাত্র একজন লেখকের সম্পর্কে দু’পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত বায়োগ্রাফি লিখতে গেলে এতটা গবেষণারও প্রয়োজন নেই। সুব্রত এখানে থামেন নি। প্রাথমিক ধারণা লেখক সম্পর্কে পাওয়ার পর তিনি খুব অল্প কথায় লেখকের প্রধান সাহিত্যকর্মগুলো সম্পর্কে বলেছেন, সেগুলো রচনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলেছেন এবং সেই লেখকের লেখার মূল ধারাটা সম্পর্কে বলেছেন। এই শেষ কথাটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন লেখকের লেখালেখির মূল ধারাটা জানতে হলে কিন্তু তার সম্পর্কে সামান্য পড়াশোনা করলেই হয় না, বরং সেই লেখকের প্রধান রচনাগুলো পাঠ করতে হয়, সেগুলো বুঝতে হয় এবং গভীরভাবে সেই লেখকের চিন্তাধারাটাকে ধরার চেষ্টা করতে হয়। পাঠক, বুঝতে পারছেন গবেষণার কত গভীরে গিয়েই না সুব্রত এই বিষয়গুলো তুলে এনেছেন অল্প কথায়?

আমরা জানি, কথায় আছে যে, একটি লাইন রচনা করতে হলে অন্তত একশটি লাইন পাঠ করতে হয়। তবে এই কথাটি সর্বদা সত্য নয়। ফিকশন রচনা করতে হলে তেমন কোনো কিছু না পড়েও কেবলমাত্র লেখকের ব্যক্তিগত কল্পনা ও অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধ থেকে লিখে ফেলা সম্ভব, তবে নন-ফিকশন রচনা করতে হলে লেখককে পড়াশোনা করতেই হবে। এবং লেখার গভীরতা যত বেশি, লেখকের পড়াশোনার পরিমাণও তত বেশি। সুব্রত কুমার দাসের এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

দ্বিতীয় উপলব্ধিটি এই যে, যেটা বলছিলাম, কানাডীয় গণিত বলে কিছু নেই বা কানাডীয় প্রকৌশলবিদ্যা বলে কিছু নেই। তবে ক্যানলিট বা কানাডীয় সাহিত্য বলে আছে। সেটাতে যদি প্রবেশ করতে চান, আপনার যেই দরজাটি প্রয়োজন, সেই দরজাটি এতদিন ছিল না বাংলা ভাষায়। সুব্রত তার দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণা ও পরিশ্রমকে ২২০ পৃষ্ঠায় লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে সেই দরজাটি নির্মাণ করেছেন। এখন ভবিষ্যতে কেউ যদি বাংলা সাহিত্য থেকে কানাডীয় সাহিত্যে প্রবেশ করতে চায়, সুব্রতর এই দরজা দিয়ে সহজেই প্রবেশ করে কানাডীয় সাহিত্য সম্পর্কে একটি মোটামুটি ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। সেই হিসেবে ভিন্ন ভাষার সাহিত্য চর্চায় এই গ্রন্থটি অতি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বাংলা ভাষায়।


আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতের লেখকরা এই ২৮ জনের পর ভবিষ্যতের কানাডীয় সাহিত্য সংক্রান্ত গ্রন্থে সুব্রত কুমার দাসকেও স্থান দিবেন।


বইটিতে কোন কোন লেখকের কথা আছে, কী নিয়ে কথা আছে, আমি সেই বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না, সেই আলোচনা সহসা শেষ হবে না। আমি শুধু পাঠ-প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার বিবেচনাটুকু বলছি। পাঠক, বইটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হলে পাঠ-প্রতিক্রিয়া নয়, আপনার উচিত বইটিই পাঠ করা। যা হোক, আমি আমার পাঠ-প্রতিক্রিয়া আর কয়েকটি কথা বলেই শেষ করছি।

বইটি যেহেতু লেখকের ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক একটি গবেষণাধর্মী বই হিসেবেই শেষ পর্যন্ত বিবেচিত ও সমাদৃত হচ্ছে, এবং বইটিতে সন্নিবেশিত লেখকদের উপর রচিত প্রবন্ধগুলো সাজানো হয়েছে মোটামুটি লেখকদের জন্ম সালের উপর ভিত্তি করেই যেন পাঠক সেই আঠার শ শতাব্দীর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ক্যানলিটের মূল ধারাটা ধরতে পারেন; লেখক সুব্রত একটি অতিরিক্ত ছোট অধ্যায় যুক্ত করতে পারতেন, নিদেনপক্ষে ভূমিকা বা প্রাক-কথনে কয়েকটি কথা যুক্ত করতে পারতেন এই বলে যে, (১) বইটির মূল পাঠক [টার্গেট অডিয়েন্স] আসলে কারা? সন্দেহ নেই যে বাংলাভাষাভাষী আপামর পাঠক সমাজের জন্যে বইটি উপযুক্ত নয়, খুব গভীর সাহিত্য অনুরাগীও বইটি পাঠ করতে গেলে নিজেকে প্রশ্ন করতে পারেন যে এখানে আমার জন্যে কী আছে? এবং (২) সুব্রত আরও যুক্ত করতে পারতেন যে, বইটি কিভাবে পাঠ করতে হবে? অর্থাৎ প্রবন্ধগুলো সাজানোর ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এটি পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে এই জন্যে যে, (১) নং প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমার এই বিশ্বাস জোরাল হয়েছে যে, এই গ্রন্থটির মূল পাঠক আসলে তারাই যারা কানাডীয় সাহিত্যে প্রবেশ করতে চান—হয় নিজের আনন্দের জন্য অথবা গবেষণার জন্যে। তো প্রবেশ করে আনন্দ পাঠক পাবেন এতে সন্দেহ নেই, তবে যেই পাঠকরা গবেষণার দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করবেন, তাদের জন্যে আসলে সহায়িকা হিসেবে তেমন প্রাক-আলোচনা নেই। বইটির শেষে বইটিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন পরিভাষা সম্বলিত একটি নির্ঘণ্টের প্রয়োজনীয়তাও খুব বোধ করেছি পাঠের সময়। আমি জানি না অন্য পাঠকেরা জানেন কি না, তবে এই দেশে ব্যবহৃত বিভিন্ন পদবী, যেমন পোয়েট লরিয়েট, এর সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব একটা পরিচিত ছিলাম না। কাজেই বিষয়টি কী সেটা সহজে বুঝার জন্যে একটা নির্ঘণ্ট হলে মন্দ হতো না। ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য বইটিতে সন্নিবেশিত কানাডীয় লেখক-কবিদের একটি করে ছবি সংযুক্ত করলেও হয়তো বইটির মান আরেকটু বেড়ে যেত বলে বোধ করি।

বইটিতে মুদ্রণ প্রমাদ তেমন নেই। ঝকঝকে ছাপা ও নান্দনিক প্রচ্ছদ বইটির সৌন্দর্য বর্ধনে সাহায্য করেছে। বইটি রচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা বলে শেষ করি। যেই ২৮ জন লেখক-কবিকে সুব্রত তার গ্রন্থে স্থান দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন, আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতের লেখকরা এই ২৮ জনের পর ভবিষ্যতের কানাডীয় সাহিত্য সংক্রান্ত গ্রন্থে সুব্রত কুমার দাসকেও স্থান দিবেন। বইটির আধেয় এতই গুরুত্বপূর্ণ যে এটিকে শুধু ঐতিহাসিক বলে শেষ করলে ভুল হবে, এটি রচয়িতাকে অমরত্বও এনে দিতে পারে বাংলা সাহিত্য ও ক্যানলিটের মাঝের সেতু তৈরির প্রথম ইটটি গাঁথার কারণে—এটি বললে অত্যুক্তি হবে না।

মাহমুদ হাসান

জন্ম ১৯৮৯, ঢাকা।

শিক্ষা : কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর।

প্রকাশিত বই—
নিঃশব্দ নিনাদ [গল্প, অনুস্বার, ২০১৬]

ই-মেইল : hasanpoet@gmail.com