হোম বই নিয়ে একাই হাঁটছি পাগল : এক স্বয়ম্ভূর আত্মবিস্তারের পরিখা

একাই হাঁটছি পাগল : এক স্বয়ম্ভূর আত্মবিস্তারের পরিখা

একাই হাঁটছি পাগল : এক স্বয়ম্ভূর আত্মবিস্তারের পরিখা
501
0

মানুষ—একটি গাছের মেজাজের মতো সুন্দর। অথচ পাখিরা ফুরিয়ে যায় হেলায়—সাপের হিস হিস শব্দের নিচে—বৃষ্টির ভেতর, রঙিন পশমের জামায়।

যেন লিখে রাখা বকের স্মৃতি—ভালো-মন্দ হাওয়া। পড়ে আছে দুপুরের সমস্ত জ্বর—প্রেম ও পরিখার নিচে, এই ঋতু টঙ্কারের ভাষায়।

অথচ মৃত্যু নিরাপদ—শালুকের হাসির ভেতর, সে এক জাদুজীবন। আমার নিদ্রা গেঁথে আছে—না সময়ের নিচে—এক বৃদ্ধ আলো তার শুধু জামা পাল্টায়।

পড়ছিলাম ‘মানুষ’ কবিতা। একাই হাঁটছি পাগল বইয়ের প্রথম কবিতা এটি। কবিতাটি পড়ছিলাম আর পড়ার ভেতর থেকে কবিতাটি উধাও হয়ে যাচ্ছিল। কবিতার জায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ছিল গাছ। গাছকে মনে হচ্ছিল মানুষ। যেন আমি ঢুকে পড়ছি কোনো এক স্বপ্নবতী অরণ্যের ভেতর। যেন অদ্ভুত এক অনুভূতির ভেতর ঘোরপাক খাচ্ছি। সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে পাখি, বৃষ্টি, বৈষম্যের হাওয়া, শাপলা শালুকের বন আর রঙিন পশমের জামা। যেখানে জীবনকে অদ্ভুত রহস্যের বারান্দা বলে ভ্রম হতে থাকে। যেন জাদুময় মায়ায় বাঁধানো এক ধাঁধার জগৎ! যার কিনারা করা মুশকিল।


নিজের ভেতর দিয়েই কবি প্রবাহিত করতে চান তার কাব্যবীক্ষা। মূলত তারই নির্যাস প্রবাহিত হয়েছে সৌমের কবিতায়। 


এভাবেই একটা ঘোরের ভেতর কবিতাগুলো পড়ছিলাম আর পড়ার তৃষ্ণা বেড়েই চলছিল। কোনো ক্রমেই স্থির হতে পারছিলাম না। কী আছে পরের কবিতায়? এমনি এক জাগ্রত অনুভূতি পড়িয়ে নিচ্ছিল পরের কবিতাগুলো। কিছু মোহ কিংবা মদিরতায় ক্রমাগত কবিতা পড়ছিলাম আর মনে হচ্ছিল, এ যেন নিজের সাথে নিজের অমিয় বোঝাপড়া। যেখানে আবেগের চেয়ে সংবেদনশীলতার উপস্থিতি বেশি। যেন নিজের একাকিত্বের সাথে সকল একাকিত্বের অবিরাম কথোপকথনের খেলা খেলেছে সৌম। এই খেলাকে আমার কবিচিত্তের সংগ্রাম বলে মনে হয়। কারণ কবি মাত্রই কিসের যেন একটা দায়িত্ব নিয়ে বসেন। যার সাথে তার নিরন্তর ওঠা-বসা। খুব সম্ভব দুঃখ, হতাশা, শূন্যতা, দুর্যোগ কিংবা বিস্মৃতির মতো অর্ন্তহীন নিয়ামকগুলোই তার জন্য দায়ী। যার ছাঁচে কবি জারণ হতে থাকেন এবং পরিত্রাণের জন্য একধরনের নীরবতার ভেতর দিয়ে সংগ্রামে লিপ্ত হন। কবিতাব্রহ্মাণ্ডে এ সংগ্রামই সমগ্র মানবকল্যাণের সংগাম। যে পথ ধরেই হেঁটে চলেছে সারাজাত সৌম। অনাবরত চষে বেড়াচ্ছে কবিতার চৌখুপি।

বইটির নাম দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছি। নামে কোনো চমক নেই, অথচ ভাববার অনেক জানালা খোলা রাখা আছে। ফলে কিছুটা দম নিয়েই ভাবছিলাম। একবার ভেতর থেকে তো আরেকবার বাহির থেকে। ভাবতে ভাবতে আমার বর্হিদৃষ্টি একটা প্রশ্ন ছুড়ে বসল, একাই হাঁটছি পাগল কেন ‘একাই হাঁটছে পাগল’ হলো না? প্রশ্নটা অনেকের কাছে অহেতুক মনে হতে পারে। কার্যত এই অহেতুকেরও যথেষ্ট মূল্য রয়েছে। যার ভেতর দিয়েই সৌমের কবিতাকে চেনা যেতে পারে।

সাধারণত বস্তুর দুটো দিক থাকে—ভেতর ও বাহির। বাহিরের দিক দিয়ে তাকালে বস্তুর যে উপরি চরিত্র দেখা যায়, তা কিছুটা পোশাকি। শিল্পের ভাষায় এই চরিত্রটাকে অভ্যস্ততা বললেও ভুল হবে না। কারণ সব সৃজনই অভ্যস্ততার বাইরে গিয়ে শিল্পরূপ ধারণ করে। অর্থাৎ আমি বলতে চাইছি, আমরা যেভাবে পড়তে অভ্যস্ত, আমার চেতন হয়তো সেভাবেই পড়তে চাইছে। আবার যখন ভেতরের দিক দিয়ে তাকাচ্ছি, তখন মনে হয়েছে—এভাবে বলার মধ্যে একধরনের ‘দম্ভ’ আছে। দম্ভকে ‘শক্তি’ হিশাবেও চিহ্নিত করা যায়। যা একজন তরুণ কবির আত্মপ্রত্যয়। তার মানে নিজের ভেতর দিয়েই কবি প্রবাহিত করতে চান তার কাব্যবীক্ষা। মূলত তারই নির্যাস প্রবাহিত হয়েছে সৌমের কবিতায়। খুব সচেতনভাবে সমস্ত অভ্যস্ততার উল্টোপথে নিয়ে যেতে যান তার পাঠককে।

আবার এতটুকু বলেও শেষ করা যায় না। ফলে আরো একটু বিস্তৃত করে যদি বলি, তাহলে বলতে হয়—যিনি একা হাঁটেন, তিনি তো উম্মাদ। তাহলে কবি কি উম্মাদ? কবি কি উম্মাদ হতে পারে? কবি তো অন্বেষণ করে। অন্বেষণকে ক্রিয়ায় রূপান্তর করে। আবার নিজেই তার বিচক্ষণ। স্বয়ং ঈশ্বরও তাই। তবে কি ঈশ্বরের ভূমিকায় সৌম পরিভ্রমণ করে চলেছে তার কবিতাজগতে?

এরকম অজস্র ভাবনার কোরিওগ্রাফি লুকিয়ে আছে নামকরণের ভেতর। কবিতাতেও তার আঁচড় কম নয়। পাঠক যেন চটজলধি চটুল কোনো বাক্যালাপ জুড়ে বসতে না পারে তার জন্য প্রচণ্ড রহেস্যের ভেতর ভাসতে হয়। ফলে কবিতাতগুলো ভাবায় আর পাঠে নিবিড় মগ্নতা দাবি করে বসে। ফলে কিছুটা নিচু স্বরের মতো মৌন’র সাথে বিস্তর বোঝাপড়ার পৃষ্ঠা উল্টাতে হয়। সেভাবেই পড়ছিলাম ‘সুরভী’ নামের আরেকটি কবিতা।

আমার নোখের নিচে যে রহস্যনদী—তার গভীর এক করুণ মাছ অট্ট হেসে বলে, মুত্যু বড় নীল। নীলাদের উঠোনে তখনো জলধি শরীর—পাতাবাহারের রং নিয়ে দ্যাখো পৃথিবী কেমন লাট্টুর মতো ঘোরে।

আর বেবিদের ইস্কুলে ঘণ্টা বাজলে এখনো টিপগুলো ট্রলার হয়ে যায়—সর্পিল গোধূলি! অথচ শাড়ি থেকে জল শুকায়নি এখনো ভোরের—যেন নারীরা এক এক একটি পারফিউম—দূরবর্তী জাহাজের।

নোঙরের পাশেই মক্তব—কিশোরের হাসি জানে, এই সব সুগন্ধি জামায় লেগে থাকে তার ভোর অব্দি।

এ কবিতটা পড়লেই বোঝা যায়, সৌমের রয়েছে অদ্ভুত চিন্তা কাঠামো। ব্যাপারটা এরকম যে, বহু কৌটা থেকে রং সংগ্রহ করে এক কৌটায় মিশিয়ে তারপর ছড়িয়ে দেওয়া। এটা এক ধরনের বিকিরণ। এর ভেতর দিয়ে মূল যে ঘটনা ঘটে তা হলো, চিন্তাকে নানা জায়গায় ছড়িয়ে দেয়ার তীব্র প্রবণতা। সুতরাং অধিবাস্তবতার হাত ধরে বিমূর্তয়ানের ভিতর দিয়েই এগুতে হয় সৌমের কবিতায়। তবে উত্তরাধুনিক চর্চার ভেতর বাংলা কবিতায় বিমূর্তয়ানের যে তীব্রতা ভর করেছিল, তার থেকে অনেকটাই সংবেদনশীল।


মনোবৃত্তান্তের এই মিউজিক কবি নানাভাবে বাজিয়েছে। যেখানে জীবনের উপস্থিতি আছে। জীব আত্মা এবং পরমের উপস্থিতিও লক্ষ করার মতো।


এসব কবিতা মরমের মতো ভাব ধরে থাকে। ফলে ধ্যানমগ্ন হয়ে বারবার পড়তে হয়। প্রথম পাঠে উপলব্ধির সারাৎসার লব্ধি করা কঠিনতর ব্যাপার। এরকম কিছু কবিতা লেখা হয়েছে নব্বইয়ে। এ নিয়ে বিস্তর কথাবার্তাও হয়েছে। তারা বলতে চেয়েছিল, কবিতা বোঝার বিষয় নয়, অনুভবেরও বিষয়। সুতরাং কবিতা পড়ে সরাসরি বুঝে ফেলার অর্থ হলো ঐ কবিতার মগজ দুর্বল। কবিতার এই চরিত্রটা একেবারে খারিজ করে দেওয়া যায় না। কবিতার নানাবিধ চরিত্র আছে বলেই কবিতা আজও কবিতা হয়ে আছে। সৌমের কবিতায় এরূপ অনুভবের বিস্তর অবকাশ দানা বেঁধে আছে—চিন্তা ও চিত্রকল্পের ভেতর। অনুভূতি যার উৎস ভূমি। অনুভূতিকেই চিন্তায় ডায়ভার্ট করতে চেয়েছে। এমন প্রেক্ষিতে হাঁটতে গেলে সুকুমার বৃত্তির মতো হাঁটা যায় না। এক কদম ফেলে দ্বিতীয় কদম ফেলার আগে পুনরায় ভাবতে হয়। ফলে গতিরোধকের মুখোমুখি ঢেউ খেলে এগুতে হয়। এমনিভাবে প্রচুর টঙ্কার বাজিয়েছে সৌম। টঙ্কারের ভাষায় ধরতে চেয়েছে কবিতার উজ্জ্বলতা। ফলে কবিতাগুলো প্রচলিত গদ্যকবিতার ভঙ্গি নিয়ে পড়া যায় না, থেমে থেমে পড়তে হয়। একটা বাক্য থেকে আরেকটা বাক্যে পৌঁছার আগে পাঠক কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করেন। এর ফলে পাঠক নিজের মতো করে ভাববার সুযোগ পেয়ে যান। সম্ভবত সৌম এ কাজটা খুব সচেতনভাবেই করেছে। হয়তো তিনি বলতে চেয়েছেন ‘এটাই আমার কবিতা।’ এখানেই সৌমকে আমরা আলাদা করে দেখার সুযোগ পাই।

সৌমের ভাবনাগুলোই বিচিত্র রকমের। কখনো কখনো চারপাশের সমস্তকিছুকে এড়িয়ে যেতে চায়। আবার কোনো কিছুকেই ফেলে দিতে চায় না। এই দ্যোতনার ভিতর থেকেই তৈরি করে নিতে চায় অন্য একটি জগৎ। যার ভেতর লুকিয়ে আছে তার কাব্যবীক্ষা। যাকে আক্ষরিক অর্থে বুঝে ওঠা মুসকিল। কিছুটা পাঠ নেওয়া যাক।

১.
আমি একদল মানুষের কথা বলছি। যারা মানুষের চেয়েও অধিক মানুষ এবং শয়তান। যখন—তখন আমি কবিতার কথা বলছি। অথচ সে তো একটি ন্যাংটা মেয়ে—ছেলেদের পাশে ঘুরে ঘুরে ছেলে হয়ে যাচ্ছে। আবার মেয়ে—হয়ে যাচ্ছে একটি অপদার্থ ছেলে। (কবিতা- আপেক্ষিকত কবিতা)

২.
পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যে সকল মদের বোতল আমি দেখেছি—তারা সকলেই হাঁটতে জানে—গান গায়—রং বদলায় এমনকি তারা ঘর বাঁধতে পারে সৌখিন—কৌশলে!

তারা নিজেরাই নিজেদেরে নেশা—বন্ধু ও শক্র। …

ছিপি খুললেই শহর—সমুদ্র—পাখির উড়াল—মাছেদের সন্ধ্যা ভ্রমণ। অথচ একান্ত মানুষের কাছে গেলেই বুকের নিচে ভেঙে পড়ে টুকরো টুকরো কাচের মহিমা। (কবিতা- ‘মদ’)

৩.
কী গান—অন্দরমহল ঘিরে। পোশাকে পুষছে যে ইঁদুর-বেড়াল—তারা সকলই খেয়ে যায় সবজি ও সালুন। শয়তান শয়তান বলে ডাকো ওকে। এমনই প্রেম হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে ফেলবে ভাগাড়ে।

আহা! কী সুন্দর—তুমি। ক্লিপ দিয়ে আটকানো তোমার সমস্ত আভা। যেন লাফিয়ে উঠছে লাল বেড়াল—মানুষের হাড়ের ভেতর থেকে। আর আমি তার লেজ ধরে পৃথিবী দৌড়ে বেড়াচ্ছি। (কবিতা- স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ)

এভাবেই কবিতাগুলো একে একে পড়ে ফেলছিলাম, আর মনে হচ্ছিল সৌমের কাব্যভাষায় মাদকতা নেই, ব্যঞ্জনা আছে। উৎফল্ল হওয়ার মতো আনন্দ-বিহার নেই, আছে গুচ্ছ গুচ্ছ নীরবতা, বিস্ময়, ভাবনার অঙ্কুর আর অন্তর্নিহিত সংবেদন। যা ভাবনাকে চিন্তার কেন্দ্রে ঠেলে দেয়। যার ভেতরে এক ধরনের মিউজিক আছে। তবে বাহ্যিকতায় তার কোনো অস্তিত্ব নেই। তাহলে কোথায় সেই অনুরণন? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি ভাবতে গেলে, দৃশ্যত হয় শূন্যতা। যার অস্তিত্ব কেবল মিউজিক! অর্থাৎ গভীর এক পতিত শূন্যতার ভেতর বেজে চলেছে এমন এক বীণা, যা দৃশ্যমান নয়। কেবল সুরের ব্যঞ্জনায় অনুভব করতে হয়। ফলে পেয়ে যাই বিস্ময়কর এক ভাব জগতের কুহক। অথ্যাৎ আত্মবিস্তারের পরিখায় কবি সমস্ত অভিজ্ঞানকে বিস্ময়ের অবয়বে রূপান্তর করেছে। যার ভেতর ঘুরে ফিরে এসেছে মানুষ।

মনোবৃত্তান্তের এই মিউজিক কবি নানাভাবে বাজিয়েছে। যেখানে জীবনের উপস্থিতি আছে। জীব আত্মা এবং পরমের উপস্থিতিও লক্ষ করার মতো। আবার মৃত্যুকেও জীবনের অধিক ঋষি ভেবে দূর কোনো চিন্তার সাথে একাত্মতা করতে চাইছে। ফলে কবিতার শিরোনাম হয়ে উঠেছে মানুষ, ষাঁড়, পরম কথা, শাপ, এই হেম, সুরভি এবং রুবির মতো সহজ শব্দাবলি।


সৌমের কবিতায় কোনো ভাঙচুরের খেলা নেই, আছে কথা বলার বিপুল স্পর্ধা।


সম্ভবতই সৌমের কবিতায় কোনো ভাঙচুরের খেলা নেই, আছে কথা বলার বিপুল স্পর্ধা। কল্পনা ও চিত্তযোগে তৈরি করা রূপকল্প। চিত্রকল্পের সাথে ভাবের অতটা সম্মিলন না থাকলেও আছে আত্মার অনুষঙ্গ। মূলত চিত্রকল্পকে আশ্রয় করেই গড়ে উঠেছে কবিতার এক একটি কুহকী মিনার। কবিতায় আধুনিকায়নের মূল শক্তি হিশাবে এই চিত্রকল্প ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় সাহিত্যে বিংশ শতকের গোড়ার দিকে এজরা পাউন্ড ও এফ এস ফ্লিন্ট এর উদ্ভাবক। কবিতাকে চিত্রকল্পবাদী চরিত্র দানের দায় থেকেই এর উৎপত্তি। মূলত বস্তু ও ভাবকে বোধের রঙিন সুতায় মালা গাঁথাই ছিল এর প্রধান কাজ। এবং ক্ষুদ্রের মধ্যে জীবনের বিবিধ অর্থ খোঁজাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। সৌমের তৈরি চিত্রকল্পেও তার যথার্থতা রয়েছে। অতি ক্ষুদ্র বিষয়কে বৃহৎ অর্থ দানের ভেতর যার আত্মবিস্তার।

প্রিয় পাঠক, নিচের কবিতাটি পড়ুন আর আপনিও যাচাই করুন সৌমের কবিতার ম-ফলা য-ফলাসমূহ।

জগৎ যতবার দেখি—ফুরিয়ে যায় প্রেম, এই হেম। বিস্ময়ে জ্বলে ওঠে আমারই চোখ। আমি অন্ধ হই—তুমি উজ্জ্বল—সি মোরগের খসে যাওয়া একটি পালকের মতো পৃথিবীময়।

অথচ আমার হৃদয়—বাজনা তোলে তোমারই কানে। যেন একই গান ত্রিশটি পাখি তার ঠোঁটে নিয়ে কুহেকাফে এসে মিলে। তারা একই দেহ। হে আলো—আমার নষ্ট চোখ, ফুরিয়ে যায় প্রেম। এই হেমসমূহ!

কী আছে আর—হ্রদে—পাহাড়ে—গাছের কিনারে? এই যাতনা তো ভয়াবহ। আলো—ফিরে এসো। আমি ফিরে যাই—তুমি আমি একই তো, প্রেমের সন্ধানে নেচে বেড়াই। (কবিতা- এই হেম)

হাসনাইন হিরা

জন্ম ১১ নভেম্বর, ১৯৮৩; উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ। বর্তমানে বসবাস করছেন : পলাশ, নরসিংদী।

শিক্ষা : সমাজ বিজ্ঞানে মাস্টার্স।

পেশা : চাকরি।

ই-মেইল : hasnain.hira87@gmail.com