হোম অনুষ্ঠান বিএলআরসি : টরন্টোতে সাহিত্য স্পিরিট ও সম্ভাবনা

বিএলআরসি : টরন্টোতে সাহিত্য স্পিরিট ও সম্ভাবনা

বিএলআরসি : টরন্টোতে সাহিত্য স্পিরিট ও সম্ভাবনা
799
0

থাকি প্রবাসে আর করি দেশ দেশ। দেয়ালে বাংলার ছবি, বাংলার ম্যাপ। সেলফ ভর্তি বাংলা বই, টেলিভিশনে বাংলা গান, হাতে বাংলা পত্রিকা। চরিত্রে রাবীন্দ্রিক উপমা ‘মিলাবে আর মিলিবে, দেবে আর নেবে’, স্বপনে স্বপ্নাতুর চিরবিরহী অতৃপ্ত নজরুল “যদি আর বাঁশি না বাজে”। দেশে গেলে এনআরবি আর প্রবাসে ইমিগ্রেন্ট। এদেরই নাম প্রবাসী। আমরা প্রবাসী। এই আমাদের জীবন, এই আমাদের সাহিত্য। ফিকসন, নন-ফিকসন, বাস্তব আর কল্পনার সমন্বয়ে যদি রূপায়িত হয় সাহিত্য তাহলে তার প্রথম উপকরণ আর উদাহরণ হচ্ছি আমরা। আমাদের পুরো জীবনটাই একটা উপন্যাস, একটা গ্রন্থ, একটা ইতিহাস—আর তার নায়ক-নায়িকা, পার্শ্বচরিত্রে আনমনে অভিনয় করে চলেছি। মাঝে মাঝে যখন নাড়ী ধরে টান দেয় আজন্ম লালিত সংস্কার-সংস্কৃতি, অন্তরে গুঞ্জিত কাব্যিক ছন্দ, তখন মনে হয় কোথাও যেন গিয়ে একটু ভাগাভাগি করি পুঞ্জিত ব্যথা। একটু আস্বাদন করি বাংলা সাহিত্য রস, প্রাণ শীতল করি বাংলার কবি-সাহিত্যিক আর গুণিজনদের কণ্ঠে আবৃত্তি, আলোচনা আর হাস্যরসে ভরপুর কত শত প্রাণখোলা কথামালায়। এখন আর আগেকার মতো নাই নাই ভাব যেন নাই। এখন চারিদিকে তাকালে মনে হয় যেন আছে আছে। সভা-সমিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, পথমেলা, বাংলা মেলা, নাটক, গান-বাজনা, সাহিত্যলোচনা সব মিলিয়ে চারিদিকে বাঙালিপনার অভাববোধ হয় না।


কানাডাতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসী লেখক এবং সাহিত্যিকদের নিয়ে বিএলআরসি যে যাত্রা শুরু করল তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্যতে অনেক ভিন্নতা রয়েছে। ভিন্নতা বলছি এ জন্য যে সংগঠনের ২টি সম্মেলন থেকে এটা সহজেই অনুমেয় Objective and Goal, Subject Matters Expertise and Professionalism এই তিনের সমন্বয় ঘটেছে সার্থকভাবে।


গত ১৪ অক্টোবর টরন্টোর ৯ ডজ রোডের লিজিয়ন হলে তেমনি এক বাঙালিপনার আড্ডায় জড়ো হয়েছিলেন কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত এবং মূল ধারা থেকে লেখক, কবি, ঔপন্যাসিক ও সাহিত্যানুরাগী কয়েকশত জন। বেঙলি লিটারেরি রিসোর্স সেন্টার (বিএলআরসি) বাঙালি লেখক সম্মেলন ২০১৭-এর আয়োজক ছিল। এটা ছিল ২য় সম্মেলন। ১ম সম্মেলনেও আমার যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। কেন যাই? নিজে যা করতে পারি না, নিজে যা বলতে বা লিখতে পারি না তা যখন খুব সুন্দর পরিপাটি করে সৃজনশীল কবি সাহিত্যিক বা লেখকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কোনো প্লাটফরমে উপস্থাপন হয় তখন কার না দেখতে শুনতে মন চায়। যাই হোক, দীর্ঘদিন যাবৎ লেখালিখি করি না। তাই না-লিখাটাও যেন একটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিএলআরসি’র অনুষ্ঠানের পর থেকেই কিছু বলার যেন এক তাগাদা অনুভব করছিলাম। এই অনুভবের পেছনেও যেন একটি সুপ্ত কারণ রয়েছে। এই কারণটা হয়তো-বা অনেকেই অনুধাবন করেছেন কিন্তু আমার অনুধাবনের মূলে আরেকটি সংগঠন এবং তার লক্ষ্য এবং পরবর্তীতে সফল কাজ হওয়ার একটি মিল যেন দেখতে পাচ্ছি বিএলআরসি-তে।

22883974_10155893154144581_648678512_o
টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বাঙালি লেখক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত (বাঁ থেকে) বিচেস-ইস্টইয়র্ক এলাকার এমপিপি আর্থার পটস, রাইটারস ট্রাস্ট অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক মেরি অসবর্ন, টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, রাইটার্স ইউনিয়ন অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক ঔপন্যাসিক, কবি ও কলামিস্ট জন ডেগেন, লেখক ড. দিলীপ চক্রবর্তী, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী, কবি ইকবাল হাসান এবং বিএলআরসি সভাপতি ড. রাখাল সরকারকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। ছবি: নাদিম ইকবাল

টরন্টোতে সময়ে সময়ে আরও অনেক সাহিত্য সংগঠন হয়েছে। মূলত সাহিত্য ক্ষুধা নিবারণের প্রেরণা নিয়ে সাহিত্যমোদী বাঙালিরা সময়ে সময়ে জড়ো হয়েছেন তারপর এক সময়ে তা ঝিমিয়ে পড়েছে। লক্ষ্যহীন যাত্রা যেমন পথ হারিয়ে ফেলে তেমনি ওই প্রচেষ্টাগুলোও এক সময়ে ইতিহাস হয়ে গেছে। তারপরও ওগুলোকে ছোট করে দেখার কোনো প্রয়াস নেই। সময়ের দাবি সময়েই মেটাতে হয়। এখন কানাডাতে আমাদের কমিউনিটি অনেক বড় হয়েছে, সাহিত্যচর্চার পরিসর বড় হয়েছে; এর সাথে আমাদের বাড়তি পাওনা হয়েছে দেশবরেণ্য অনেক কবি-সাহিত্যিক এখন কানাডাতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কানাডাতে স্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসী লেখক এবং সাহিত্যিকদের নিয়ে বিএলআরসি যে যাত্রা শুরু করল তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্যতে অনেক ভিন্নতা রয়েছে। ভিন্নতা বলছি এ জন্য যে সংগঠনের ২টি সম্মেলন থেকে এটা সহজেই অনুমেয় Objective and Goal, Subject Matters Expertise and Professionalism এই তিনের সমন্বয় ঘটেছে সার্থকভাবে। এই তিনের সমন্বয় আমরা দেখেছিলাম প্রায় ১৭ বছর আগে কমিউনিটির প্রথম সামাজিক একটি সংগঠন বিসিএস-এর মধ্যে। কমিউনিটির বেশ কিছু নিবেদিত সদস্যের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিসিএস তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়। বিসিএস এর মধ্য থেকেই গঠন করা হয় বিপেক (বাংলাদেশী কানাডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি)। বিপেক-এর হাত ধরেই আমাদের কমিউনিটি প্রথম মেইনস্ট্রিম পলিটিক্সের সান্নিধ্য লাভ করে। মেইন স্ট্রিম পলিটিশিয়ানরা একে একে আমাদের কমিউনিটিকে খাতির করতে শুরু করেন। এরপর থেকে আর পেছনে তাকানোর প্রয়োজন হয় নাই।

বিএলআরসি-তে আমি যে জিনিস লক্ষ করেছি তা হচ্ছে ১) কানাডায় বসবাসরত সকল লেখকদেরকে একটি প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসা ২) বাংলা সাহিত্যকে কানাডার মূল ধারার সাহিত্য এবং সাহিত্যিকের মধ্যে একটি যোগসূত্র করানো ৩) এখানে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে উঠা প্রজন্মের হাতে ইংরেজিতে লেখা বাংলা সাহিত্য বা ইতিহাস গ্রন্থ তুলে দেয়া। বিএলআরসি-তে প্রথম থেকে যারা জড়িত তাদের চিন্তা চেতনা এবং দূরদর্শী পরিকল্পনা বা স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং মূলত কমিউনিটির জন্য একটি আগাম বার্তা নিয়ে এসেছে। আমরা একটি সঠিক সম্ভাবনার উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা লক্ষ করছি। বাংলা, বাঙালি ও বাংলা সাহিত্য চর্চা ও কর্মতৎপরতার সীমানা পেরিয়ে কানাডীয় মূল স্রোতের সাথে সেতুবন্ধন, সংযুক্তিকরণ, আমাদের সাহিত্য ও ইতিহাসকে কানাডীয় সাহিত্যিক এবং পাঠকদের কাছে পাঠ উপোযোগী করে উপস্থাপন এবং আমাদের লেখক ও কানাডীয় সাহিত্যিকদের মধ্যে যোগসূত্র ইত্যাদি পরিকল্পনার প্রাথমিক বাস্তবায়ন আমরা ইতোমধ্যেই দেখেছি।


কানাডীয় সাহিত্য বাজারে আমাদের বাংলা সাহিত্যকে উপস্থাপন-প্রদর্শন (Show Casing) করার মতো যে সুন্দর একটি পদক্ষেপ বিএলআরসি নিয়েছে তাকে শুধুই সাধুবাদ না জানিয়ে সঠিকভাবে সহযোগিতার দায়িত্ব রয়েছে পুরো কমিউনিটির উপর


১৪ অক্টোবরের সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন টরন্টো পয়েট লরিয়েট এন মাইকেলস, রাইটারস ইউনিয়ন অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক কবি, কলামিস্ট ডন ডেগেন, রাইটার্স ট্রাস্ট অব ক্যানাডার নির্বাহী পরিচালক মেরি অসবর্ন প্রমুখ। অন্যদিকে আমাদের কমিউনিটির বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী, লেখক ডক্টর দিলীপ চক্রবর্তী, কবি ইকবাল হাসান প্রমুখ। এই যে দুই ভিন্ন সংস্কৃতি ও সাহিত্যমোদীর এক প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে বাঙালি ও বাংলা সাহিত্যকে জানার প্রয়াস, এই প্রয়াসের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমাদের সাহিত্য, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের বীরত্ব-গাঁথাকে কানাডীয় কবি সাহিত্যিক এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে উপস্থাপন করে একটি জাতি হিশেবে যে আমাদের অনেক গর্ব করার আছে তা তুলে ধরা।

22906523_10155893155384581_753817900_o
সম্মেলনে উন্মোচিত বিএলআরসি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলী ও লেখকবৃন্দ। ছবি: নাদিম ইকবাল

একটি গূঢ় সত্য কথা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ যদি স্বচেষ্টায় গীতাঞ্জলিকে ইংরেজিতে অনুবাদ না করতেন তাহলে হয়তো বাঙালিদের কপালে নোবেল প্রাইজ জুটতো না। বাংলা ভাষায় আরো অনেক ক্ষণজন্মা কবি-সাহিত্যিক যেমন : নজরুল, শরৎচন্দ্র, জীবনানন্দ প্রমুখ আমাদের জন্য রেখে গেছেন অমর সৃষ্টি। কে জানে শুধু প্রচেষ্টার অভাবে বাংলা সাহিত্য হয়তো আরও নোবেল বিজয়ের সম্ভাবনা হারিয়েছে অজান্তে। সুতরাং বিশ্ব সাহিত্যবাজারে, কানাডীয় সাহিত্য বাজারে আমাদের বাংলা সাহিত্যকে উপস্থাপন-প্রদর্শন (Show Casing) করার মতো যে সুন্দর একটি পদক্ষেপ বিএলআরসি নিয়েছে তাকে শুধুই সাধুবাদ না জানিয়ে সঠিকভাবে সহযোগিতার দায়িত্ব রয়েছে পুরো কমিউনিটির উপর। এই দায়িত্ব যদি সঠিকভাবে পালন করা হয় এবং বিএলআরসি যদি তার কক্ষপথ থেকে ছিটকে না পড়ে তাহলে অবশ্যই এর সুফল ভোগ করবে কমিউনিটি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

আমরা যে মোজাইক সোসাইটিতে বসবাস করছি সেখানে পৃথিবীর সকল দেশের মানুষ বাস করছে। এখানে অপরচুনিটি যেমন প্রচুর তেমনি কমপিটিশনও রয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে আমি পাঞ্জাবিদের কথাই বলি। ওরা ওদের জাতীয় (ভারতীয়) পরিচয়ের পাশাপাশি একটি গোষ্ঠী (পাঞ্জাবি) হিশেবে কানাডীয় সমাজে নিজেদের স্থান পোক্ত করে নিয়েছে। ফেডারেল মিনিস্টার, বিরোধী দলের নেতা হওয়া থেকে শুরু করে ওদের দাপট এখন সর্বত্র। বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে ওদের পাঞ্জাবি ভাষার ব্যবহারও লক্ষণীয়। আমি মানছি যে আমাদের কমিউনিটি এখানে নতুন। নতুন বলে তো বসে থাকার ফুরসৎ নাই। রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাহিত্য প্রতিটি ক্ষেত্রে যার যার অবস্থান থেকে সঠিক সাংগঠনিক তৎপরতার বিকল্প আছে কি? দুই যুগ ধরে তো শত শত সংগঠনের জন্ম দিয়েছি এবং বিভাজন অব্যাহত রেখেছি কিন্তু অদ্যাবধি কমিউনিটি থেকে প্রতিনিধিত্বশীল একজন কাউন্সিল জন্ম দিতে পারি নাই।

22908593_10155893156364581_1219692682_o
উপস্থিত লেখক ও দর্শকদের একাংশ। ছবি: নাদিম ইকবাল

আজ আমার মনে পড়ছে বিপেক-এর সম্মেলনে প্রথমবারে মতো টরন্টোর একজন মেয়র ডেভিড মিলার উপস্থিত হয়ে “Action is louder than Word” স্লোগানটি দেখে কমিউনিটির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এইজন্য যে, বিপেকের জন্মলগ্ন থেকে আমি জড়িত ছিলাম। কিন্তু এরপর অনেকবারই আমরা মেয়র, এমপিদেরকে উপস্থিত হতে দেখেছি কিন্তু সেগুলো শুধুই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে। বিএলআরসি’র দুটো সম্মেলনেই একজন দর্শক-শ্রোতা এবং লেখক হিশেবে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। ধন্য মনে করছি এই জন্য যে, কানাডীয় সাহিত্যিকরা এই প্রথম আমাদের সাহিত্য আসরে এসে বাঙালি এবং বাংলার সাহিত্যরস আস্বাদন করলেন এবং সাহিত্য নিয়ে আমাদের কবি-সাহিত্যিক আর কমিউনিটির স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন দেখে কিছুটা বিস্মিত হলেন। এই যে কানাডীয় সাহিত্যিকদের বিস্মিত হওয়া বা আসা এর মধ্য দিয়েই আমাদের সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন সুদৃঢ় হবে। আর এই বন্ধন যখন পোক্ত হবে তখনই আসবে সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক আর অর্থনৈতিক সুফল।


বিএলআরসি দুটি সম্মেলনেই দুটি সাহিত্য পত্রিকা উপহার দিয়েছে। ইংরেজি ও বাংলায় রচিত গল্প-প্রবন্ধগুলো দুইভাষিক পাঠকদের জন্য একটি চমৎকার সংযোজন।


বিএলআরসি ইতোমধ্যেই তাদের ওয়েবসাইটে প্রায় ১০০ জন কানাডায় বসবাসরত বাঙালি লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী দিয়েছে। ওই লেখকদের অনেকেই আবার ইংরেজিকে তাদের সাহিত্য মাধ্যম হিশেবে বেছে নিয়েছেন। আমার ধারণা ওই লেখকরাই মূলত হয়ে উঠতে পারেন আমাদের গেম চেঞ্জার বা বন্ধনের ‘সেতু’। সম্মেলনে তাদের উপস্থিতি আমাদেরকে আশান্বিত করেছে। তৃতীয় যে কাজটি বিএলআরসি হাতে নিয়েছে “আমাদের প্রজন্মকে ইংরেজিতে বাংলা সাহিত্য বা ইতিহাস শেখানো।” এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ তাতে কোনো সন্দেহ নাই এবং এর কোনো বিকল্প যে নাই তা ভেবেই হয়তো বিএলআরসি-কে এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রজেক্টটি হাতে নিতে হয়েছে।

ঝুঁকি বলছি এ জন্য যে, এ ধরনের পদক্ষেপের জন্য বিএলআরসি-কে হয়তো-বা অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। আজ থেকে একযুগ আগে এই ধারণাটি আমার একটি লেখায় উল্লেখ করেছিলাম তার জন্য আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। তবে সময় তো পাল্টেছে, আমাদের চিন্তা চেতনার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বিএলআরসি’র এই প্রজেক্ট সময়ের সঠিক পদক্ষেপ বলে সকলেই মনে করছেন। আমাদের এখানে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের হাতে ইংরেজিতে অনূদিত বাংলা সাহিত্য বা ইতিহাস গ্রন্থ তুলে দিতে পারলেই আপনা আপনি ওরা আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে বয়ে নিয়ে বেড়াবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আমাদের নতুন প্রজন্ম যে ভাষিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছে সেটাই তাদের দেশ, ভাষা এবং তাদের সংস্কৃতি। তাদেরকে কোনোভাবেই জোর করে বাংলায় বাংলা সাহিত্যে গলাধঃকরণ করানো সম্ভব নয়। সুতরাং পিতামাতার বা পূর্বপুরুষের সাহিত্য-সংস্কৃতি ইতিহাস জানানোর জন্যই তাদের হাতে ইংরেজিতে লিখা আমাদের সাহিত্য গ্রন্থ তুলে দিতে হবে। আগামী নভেম্বরের ১৮ তারিখ থেকে বিএলআরসি সেই দুরূহ কাজটির শুভ সূচনা করছে জেনে খুশি হলাম।

বিএলআরসি দুটি সম্মেলনেই দুটি সাহিত্য পত্রিকা উপহার দিয়েছে। ইংরেজি ও বাংলায় রচিত গল্প-প্রবন্ধগুলো দুইভাষিক পাঠকদের জন্য একটি চমৎকার সংযোজন। বাংলা, বাঙালি, বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিন্যাস তা ইংরেজি ও বাংলায় ভবিষ্যতে স্থান পেলে কানাডীয় এবং বাঙালি পাঠকরা উপকৃত হবেন বলে মনে করি।

পরিশেষে শুধুই বলব বিএলআরসি বাংলা সাহিত্য ও কানাডীয় সাহিত্যের মধ্যে সেতুবন্ধনের যে পাইওনিয়ারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে তা যেন শত বাধার সামনেও ব্যাহত না হয়।

ফয়েজুল হক

জন্ম জুলাই, ১৯৬৭; বালাগঞ্জ, সিলেট।

শিক্ষা : ব্যাচেলর অব সায়েন্স, সার্টিফাইড ক্রেডিট প্রফেশনাল (সিসিপি)।

পেশা : ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজার।

প্রকাশিত বই—
আমার শৈশব ও কৈশোরের বালাগঞ্জ [বার্তা সাহিত্য প্রকাশনী, ২০১৫]

ই-মেইল : fayzul.ccp@gmail.com