হোম পুনর্মুদ্রণ গদ্য একমাত্র মৃত্যুই অবধারিত যখন

একমাত্র মৃত্যুই অবধারিত যখন

একমাত্র মৃত্যুই অবধারিত যখন
173
0

অস্তিত্বের সংকটে ভোগা মানুষরা ভিড় করে শহীদুল জহিরের উপন্যাসে। মানব জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট জীবনের অনিশ্চয়তা, কেননা মানব জীবনের একমাত্র অবধারিত সত্য হলো মৃত্যু। এই অবধারিত সত্যটি জীবনকে ক্রমশ অনিশ্চিত করে তোলে। নিশ্চিত মৃত্যু আর অনিশ্চিত জীবনের টানাপড়েনেই গড়ে ওঠে আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু উপন্যাস।

বলা দরকার, এটি শহীদুল জহিরের শেষ উপন্যাস। উপন্যাসের পূর্বকথাতে লেখক বয়ান করেন, ‘প্রাচীন চীনে সিমা ছিয়েন নামক একজন সাহিত্যিক বলেছিলেন, ‘মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কিন্তু তার তাৎপর্য হবে থাই পাহাড়ের চেয়েও ভারী বা বেলে হাঁসের পালকের চেয়েও হাল্কা।’ এবং উপন্যাসে আমরা ‘হাঁসের পালকের চাইতেও হালকা এবং তুচ্ছ এক মৃত্যুর ভেতর তাকে আমরা পতিত হতে দেখব।’ আবু ইব্রাহীমের তুচ্ছ ও হালকা মৃত্যুই এ উপন্যাসের বিষয়। কৌতূহলের বিষয় হলো, পুরো উপন্যাসটি শহীদুল জহির বর্ণনা করেছে ‘আমরা’ সর্বনামের মাধ্যমে। উপন্যাসের এই বর্ণনাকারী ‘আমরা’ আসলে কারা তা উপন্যাসের কোথাও স্পষ্ট করে নেই। ধারণা করি, এই আমরা আসলে লেখক এবং পাঠক। এক সম্মিলিত বয়ানে উন্মোচিত হয় গল্প। গল্পের চেয়েও অবশ্য এখানে বয়ান ভঙ্গি এবং স্বয়ং আবু ইব্রাহীম চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ। এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই একেকজন আবু ইব্রাহীম। আবু ইব্রাহীমের মতোই তুচ্ছ আর হালকা মৃত্যু আমাদের গ্রাস করে।


জন্ম-মৃত্যুর মধ্যবর্তী এই যে হাইফেনের মতো একটা জীবন আমরা পেয়েছি, তা অধিকাংশই হ্যামলেটের মতো ‘টু বি আর ইঁ টু বি’তে কেটে যায়।


মৃত্যু তখনই তো অর্থহীন হয়ে ওঠে যখন পুরো জীবনটাই অর্থময় হয় না। জন্ম-মৃত্যুর মধ্যবর্তী এই যে হাইফেনের মতো একটা জীবন আমরা পেয়েছি, তা অধিকাংশই হ্যামলেটের মতো ‘টু বি আর ইঁ টু বি’তে কেটে যায়। দ্বিধা, দ্বন্দ্ব আমাদের জীবনকে ক্রমশ এক ট্র্যাজিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। জগতে দুয়েকজন মানুষ তার কর্ম আর ক্ষমতা মৃত্যুঞ্জয়ী হয় তা সত্য, কিন্তু সামষ্টিকভাবে আমরা আবু ইব্রাহীমের মতো সাধারণ মানুষরা নেহাতই মরে যাই। আমাদের পদোন্নতি, ব্যাংক একাউন্ট, জমি কেনার চেষ্টা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ—সব কিছু তুচ্ছ করে দিয়ে আমরা একদিন মরে যাই। আর এই মরে যাওয়াটা যদি নেহাতই আকস্মিক হয়, মৃত্যু যদি অপঘাত হয়, তখনই তা ‘হাঁসের পালকের চাইতেও হালকা এবং তুচ্ছ’ হয়ে ওঠে।

আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু পাঠ করতে গিয়ে আমাদের বারবার মনে পড়ে যায়, হায়, আমাদের বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা নেই এবং এমনকি স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তাও নেই। তাই লেখক শহীদুল জহির উপন্যাস শুরু করেন আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু দিয়ে। তারপর আবু ইব্রাহীমের শব সামনে রেখে তার পুরো জীবনটা দেখতে থাকি। আর আবু ইব্রাহীমের জীবনটা ঘাটতে ঘাটতে ঘুরেফিরে আমাদের মনে পড়ে, আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু হবে। আর উপন্যাসের শেষে তার কবরের পাশে আমরা দাঁড়াই পেঁচা আর ছুঁচোর সঙ্গে। সাধারণ মানুষের মৃত্যু এতই অকিঞ্চিৎকর, সাধারণ মানুষের জীবন এত অস্তিত্বহীন যে শেষ পর্যন্ত আমরা সব ভুলে যাই। উপন্যাসের শেষ বাক্যটি অমোঘ সত্যের মতো গুঞ্জরিত হতে থাকে—‘কবরস্থানের কবরের কথা আমরা এভাবে ভুলে যাই; সেখানে নির্মেঘ আকাশে চাঁদ হেসে উঠে, ছুঁচার চিৎকারে বাতাস মুখরিত হয়, সারা রাত ধরে পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে পেঁচা উড়ে।’

উপন্যাসের শেষে এসে আমাদের মনে পড়ে যেতে পারে জীবনানন্দ দাশের কথা—

থুরথুরে অন্ধ প্যাঁচা অশ্বত্থের ডালে বসে এসে
চোখ পালটায়ে কয়: বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনোজলে ভেসে?
চমৎকার!
ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার—
[আট বছর আগের একদিন]

শেষ পর্যন্ত তো পূর্ণিমার চাঁদে ‘জ্যোৎস্নার ফ্যাকাশে আলোয়’ একটা পেঁচার ছুঁচো শিকার দিয়ে শেষ হয় শহীদুল জহিরের উপন্যাস আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু


আমরা ধারণা করি যে, একদা আবু ইব্রাহীম ‘একা, বিষণ্ন এবং আনত হয়ে’ ফিরে গিয়েছিল, আজ তার শোধ নিতে চায় সে।


কিন্তু এই অবধারিত এবং অনির্ধারিত মৃত্যু কি ছুঁচোর মতো মরে যাওয়াতেই শেষ হয়? সম্ভবত হয় না। ‘এভাবে হাঁসের পালক খসে পড়ার চাইতেও হাল্কা এবং তুচ্ছ এক মৃত্যু আবু ইব্রাহীমকে গ্রাস করে এবং তাকে নিয়ে সংগত কারণেই আমাদের আর কোনো আগ্রহ থাকে না; তাতে আমরা বিস্মিত হই না।’ —লেখকের এই কথার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আমরা একমত হই না। এমনকি লেখক শহীদুল জহিরও একমত হন না। নইলে বারবার গ্রিক ট্র্যাজেডির প্রসঙ্গ আসে না। আপাত ‘হালকা এবং তুচ্ছ’ মৃত্যুটি শেষ পর্যন্ত গ্রিক ট্র্যাজেডির মহিমা পায়। ‘আবু ইব্রাহীম ক্ষয় হয়ে আসা দিনের আলোর দিকে চোখ রেখে স্ত্রীর কণ্ঠ শোনে এবং তার চেহারার দিকে দৃকপাত করলে আমাদের পুনরায় গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়কদের কথা মনে পড়বে, যারা নিয়তিকে বহন করে যায়।’ শহীদুল জহির একাধিকবার আমাদেরকে মনে করিয়ে দেন যে আবু ইব্রাহীম গ্রিক ট্র্যাজেডির নিয়তি-তাড়িত নায়কদের একজন। ‘আবু ইব্রাহীম বুঝতে পারে যে, তার কিছু করার নেই এবং এরপর কিছুদিন তাকে পুনরায় সেইসব গ্রিক চরিত্রদের মতো মনে হয়, যারা নিয়তির দ্বারা পীড়িত হয় এবং সেই নিয়তিকেই বহন করে চলে।’ উল্লেখ করা দরকার আবু ইব্রাহীমের প্রেমিকার নাম ‘হেলেন’। যৌবনে হেলেনের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে আবু ইব্রাহীম, আবার দেখা হয় তাদের, সখ্যও গড়ে ওঠে, কিন্তু দ্বিতীয়বারের মতো আবু ইব্রাহীমকে প্রত্যাখ্যান করে হেলেন। আবু ইব্রাহীমের জীবন প্রেমহীন রয়ে যায় অমোঘ নিয়তির ইশারাতেই। ‘এই প্রসঙ্গে আমাদের মনে হবে যে, অন্য এক নিয়তির মতো খালেদ জামিল আবু ইব্রাহীমের জীবনে প্রকাশিত হয় এবং বস্তুত তার মৃত্যুর দিনটি পর্যন্ত ক্রিয়াশীল থাকে।’

আমরা গল্পের মধ্যে দেখি, আমাদের আবু ইব্রাহীম একজন সৎ সরকারি কর্মচারী, বিন্দু ও শুভ’র পিতা, মমতার স্বামী। কিন্তু স্ত্রী-সন্তান নয়, তাকে নিয়তির মতো তাড়িত করে হেলেন আর খালেদ জামিল। আবু ইব্রাহীমকে যৌবনে হেলেন ফিরিয়ে দিয়েছিল। এখনও সেই বেদনা তাকে তাড়িত করে। পরে হেলেন তার জীবনে আবার কিছু দিনের জন্য ফিরে আসে। ‘তখন তার মনে হয় যে, সে আসলে তার পরিকল্পনার কথা জানে; ধোঁয়াটে অন্ধকারের ভেতর দাঁড়িয়ে থেকে কোনো ধ্বনি উচ্চারণ না করে সে বলে, আমি তোমাকে নগ্ন করব। আবু ইব্রাহীমের মনে হয় যে, হেলেনকে কামালের বাসায় আসতে বলার সময় থেকেই সে এ কথাটি জানত।’ কিন্তু আবু ইব্রাহীম হেলেনকে ‘নগ্ন’ করতে বন্ধু কামালের খালি বাড়িতে যায় না। বরং সে হেলেনকে অপমান করতে চায়, কিংবা প্রত্যাখ্যানের বেদনা ফেরত দিতে চায়। সে নির্ধারিত সময়ে যায় না। ঘরে বসে টিভি দেখে আর মনে মনে বলে, ‘আজকে তুমি ফিরে যাও হেলেন, মানুষকে এভাবে কখনো ফিরে যেতে হয়, একা বিষণ্ন এবং আনত হয়ে, আজকে তুমি ফিরে যাও।’ আমরা ধারণা করি যে, একদা আবু ইব্রাহীম ‘একা, বিষণ্ন এবং আনত হয়ে’ ফিরে গিয়েছিল, আজ তার শোধ নিতে চায় সে। কিন্তু নিয়তি বরাবরই তার সাথে কালো-কৌতুক করে যায়। কেননা, আমরা ‘হেলেনও কামালের বাসায় যায়, নাই, তখন প্রথমে তার হাসি পায়, তারপর সে বিষণ্ন হয়ে ওঠে। আবু ইব্রাহীমের জীবন এভাবে উন্মোচিত হয়, তা আমরা অবলোকন করি এবং আমাদের সামনে ক্রমাগতভাবে এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠে যে, তার পতনের কোনো শেষ নেই। আবু ইব্রাহীম টেলিভিশনের সামনে বসে প্রত্যাখ্যান করার মতো করে হেলেনকে বলেছিল ফিরে যাওয়ার জন্য; কিন্তু হেলেন আসেই নি।’ শুধু তাই নয়, আমরা আবু ইব্রাহীমের সাথে এটাও আবিষ্কার করি যেদিন কামালের বাসায় একান্তে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা তার দুদিন আগেই হেলেন বিদেশ চলে যায় এবং সে চলে যাবে জেনেও আবু ইব্রাহীমকে দেখা করার কথা বলেছিল। হেলেনের এই চলে যাওয়া, আবু ইব্রাহীমকে প্রত্যাখ্যান করা প্রেম ও প্রহসনের এক দ্বিচারিতা হয়তোবা। হয়তোবা মৃত্যুর আগেই আবু ইব্রাহীমের জীবন থেকে প্রেমের মৃত্যুও হয়।

অন্যত্র, খালেদ জামিলের প্ররোচনায় সৎ, মৃদুভাষী, সরল আবু ইব্রাহীমের চারিত্রিক পতনও হয়। সে খালেদ জামিলের কথা মতো দরপত্র বিজ্ঞপ্তি দেয়ার জন্যে অগ্রিম তিরিশ হাজার টাকা অনেকটা নিমরাজি হয়েই গ্রহণ করে। পরে এই নিয়ে তার মধ্যে হ্যামলেটীয় দ্বিধাও কাজ করে। ‘তবে সব অবস্থা বিবেচনায় আমাদের এ রকম বিশ্বাস না করে উপায় নেই যে, আবু ইব্রাহীম সজ্ঞানে তার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং নির্ধারিত ঘটনাটি ঘটার জন্য অপেক্ষা করেছিল; যদিও তার ভেতরে একই সঙ্গে ছিল অনভ্যস্ততার অস্বস্তি। তার শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে সেদিন খালেদ জামিল একটি সিগারেট ধরায় এবং সে প্রত্যাখ্যান করবে জেনেও তাকে সাধে…।’ হেলেনের মতো খালেদ জামিলও শেষ পর্যন্ত আবু ইব্রাহীমকে গ্রহণ ও প্রত্যাখ্যানের পেন্ডুলামে দোলায়। তবে পতন হতে হতেও শেষপর্যন্ত আবু ইব্রাহীম ঘুরে দাঁড়ায়। সে দরপত্রের ব্যাপারে ঘুসের টাকা নিয়েও খালেদ জামিলকে সুবিধা দেয় না। বরং তিরিশ হাজার টাকা ফেরত দিতেও রাজি হয় না। খালেদ জামিলকে যথেষ্ট ভোগানোর পর এক পর্যায়ে সে টাকাটি ফেরত দিতে চায়। কিন্তু, ‘আবু ইব্রাহীম এইসব বাড়াবাড়ি কেন করেছিল তা খালেদ জামিল বুঝতে পারে নাই এবং মনে হয় আমরাও হয়তো আবু ইব্রাহীমকে বুঝতে পারব না। বস্তুত, তাকে বুঝে ওঠার আগেই, আর চব্বিশ ঘণ্টারও কম সময়ে সে তার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে পড়ে।’


গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়কের মতো কোনো রকম পরিণতির আগেই আবু ইব্রাহীমকে অনন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়।


আদতে প্রেমের মতো নৈতিকতার প্রশ্নেও আবু ইব্রাহীম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় না। মানে, অনিবার্য মৃত্যু তাকে সময় দেয় না প্রেম কিংবা অর্থনীতির সোপান বাইতে। আমরা দেখতে পাই, মঙ্গলবার সকাল দশটায় জিপিওর সামনে তিরিশ হাজার টাকা নিয়ে খালেদের জন্য অপেক্ষা করার সময় দুই ছিনতাইকারী যুবক তার হৃদপিণ্ড বরাবর ছুরির ফলা বিদ্ধ করে পালায়। আর গ্রিক ট্র্যাজেডির নায়কের মতো কোনো রকম পরিণতির আগেই আবু ইব্রাহীমকে অনন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়।

আর আমরা যারা শহীদুল জহিরের পাঠক তখন শেষে এসে দুইটি বিদেশি অণুকবিতার কথা স্মরণ করি—

জীবন একটা সংশয়,
আর বিশ্বাস ছাড়া সংশয় মৃত্যু ছাড়া আর কিছু নয়।
[জীবন একটা সংশয়/ মিগ্যুয়েল ডি উনামুনো]

জীবন একটা গরু
তাকে তুমি নদীর ধারে রেখেছ
পিরানহাদের আকৃষ্ট করতে
যখন পশুপালক চলে যায়।
[জীবন/ পাওলো লেমিনস্কি]

মুম রহমান

জন্ম ২৭ মার্চ, ময়মনসিংহ। এমফিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা লেখালেখি।

প্রকাশিত বই :

উপন্যাস—
মায়াবি মুখোশ
কমৎকার

ছোটগল্প—
অন্ধকারের গল্পগুচ্ছ
ছোট ছোট ছোটগল্প
শতগল্প
হয়তো প্রেমের গল্প

কবিতা—
চার লাইন

চলচ্চিত্র বিষয়ক—
বিশ্বসেরা ৫০ চলচ্চিত্র
বিশ্বসেরা আরো ৫০ চলচ্চিত্র
১০ রকম ১০০ চলচ্চিত্র
বিচিত্র চলচ্চিত্র
বিশ্বসেরা চলচ্চিত্র সমগ্র
বিশ্বসেরা শত সিনেমা
অস্কার বিজয়ী চলচ্চিত্র

নাটক—
দুইটি ব্রিটিশ নাটক
তিনটি মঞ্চ নাটক

অনুবাদ—
সাদাকো ও সহস্র সারস
বব ডিলান গীতিকা
কাফকা : অণুগল্প
সাফোর কবিতা

শিশুতোষ—
মজার প্রাণীকূল

চিত্রকলা বিষয়ক—
বেদনার রং তুলিতে একটি জীবন

প্রবন্ধ—
বই কেনা, বই পড়া
বই বিশ্ব
কিতাবি কথা

অন্যান্য—
তিতা কথা

সম্পাদনা—
অনির্ণীত হুমায়ূন

ই-মেইল : moomrahaman@gmail.com

Latest posts by মুম রহমান (see all)