হোম চলচ্চিত্র ‘সেকশন ৩৭৫’ : পুরুষের ‘Right to Justice’ এবং নারীর প্রতিদিনের ধর্ষিত হবার গল্প

‘সেকশন ৩৭৫’ : পুরুষের ‘Right to Justice’ এবং নারীর প্রতিদিনের ধর্ষিত হবার গল্প

‘সেকশন ৩৭৫’ : পুরুষের ‘Right to Justice’ এবং নারীর প্রতিদিনের ধর্ষিত হবার গল্প
447
0

“Justice is abstract, but laws are fact.”

‘সেকশন ৩৭৫’ সিনেমাটি শুরু হয়েছে উপরের গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এই তর্ক দিয়ে। আর পুরো সিনেমাতেই বোঝানো হয়েছে এর মানে আসলে কী! আইন ও বিচার আসলে কত কাছের হয়েও কত আলাদা!

আইন ও বিচার দুইটা যে এক জিনিস না এইটা একজন সাধারণ নাগরিক ততদিন পর্যন্ত বুঝতে পারে না যতদিন না তাকে আদালতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়াতে না হয়।

আচ্ছা কোনো মানুষ কি আদালতে যেতে চায়? কিংবা পুলিশের কাছে? এর সহজ উত্তর সবার জানা। একদম ঠেকায় না পড়লে নয়। আরও সংকীর্ণ করে যদি বলা হয়, আচ্ছা কোনো নারী কি আদালতে যেতে চায় কিংবা পুলিশের কাছে? এর উত্তরে আপনি হয়তো বলবেন ১০০ জন ভিকটিমের মধ্যে হয়তো ২০ জন। ধরুন, প্রশ্নটা এবার আরও সংকীর্ণ করে যদি করা হয়, আচ্ছা কোনো ধর্ষিত নারী কি আদালতে যেতে চায়? এর উত্তরে আপনি হয়তো বলবেন ১০০ জনে ১০ জন।


ধর্ষিত নারী ২য় বার ধর্ষণের শিকার হয় বেঁচে বাড়িতে ফিরলে। 


কিন্তু কেন? আইন, বিচার এইগুলো তো মানুষের জন্যেই। ভিকটিমের জন্যেই! তাহলে কেন ২০১৯ সালে এসেও নারী আজও ধর্ষণের মতো অপরাধের ভিকটিম হয়েও আইনকে আশ্রয় ভাবতে পারে না? আইন তো নারীর সুরক্ষার জন্যে অনেক বানিয়েছে রাষ্ট্র, কিন্তু বিচার? আইন কি জাস্টিস দিতে পারে নারীকে? শুধু নারীকে কেন, নারীর সুরক্ষার জন্যে বানানো বিভিন্ন কঠিন আইন পুরুষের প্রতি কোনো অবিচার করে ফেলছে না তো? নাকি সেইসব আইনের জন্যে পুরুষও অবিচারের শিকার হতে পারে? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করা অনেক বেশি জরুরি। আধুনিক ক্রিমিনোলজি কিংবা ভিকটিমলজিতে এই আলোচনাগুলি খুব বেশি নাই। বাংলাদেশ, ভারতে তো আরো নাই। একাডেমিক ডিবেটে এই বিষয়গুলোকে অনেক বেশি মূল্যবোধে ভরা, সাবজেক্টিভ এবং সংবেদনশীল বিবেচনা করে এড়িয়ে যাওয়া হয়। আর পাবলিক ডমেনে এই আলাপচারিতা নারী-পুরুষ আবেগে আক্রান্ত হয়ে কোনো দিকে পৌঁছায় না শেষমেষ। তো যেই আলাপ এত বেশি জটিল সেই আলাপ বা ন্যারেটিভকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করা নিঃসন্দেহে খুবই কঠিন কাজ। ২ ঘণ্টার একটা সিনেমায় নারীর অধিকার নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে পুরুষের ‘Right to Justice’-এর দিকেও নজর দেওয়া তো সহজ না, তাই না? সেই কাজটিই এখানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করেছেন অজয় বেহল।

মুভি জনরাঁ হিসেবে ‘সেকশন ৩৭৫’ কে হয়তো বলা হবে কোর্ট রুম ড্রামা। কিন্তু অজয় বেহলের মুনশিয়ানায় ‘সেকশন ৩৭৫’ একাধারে হয়ে উঠেছে নারীর অসহায়ত্বের গল্প, নারীর প্রতিদিনের ধর্ষিত হবার গল্প, পুরুষতন্ত্রের গল্প, আইন ও বিচারের নিদারুণ সূক্ষ্ম পার্থক্য বয়ানের আখ্যান। এবং সেই সাথে একজন পুরুষের রাইট টু জাস্টিসের গল্প।

চলুন, এইবার সিনেমাতে ঢুকি। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের প্রথম দুইটা ধাপ হলো পুলিশ এবং প্রসিকিউশন। একজন গরিব নারীকে যদি তার পাওয়ারফুল এবং সাকসেসফুল সেলেব্রিটি বসের উপর রেইপ চার্জ আনতে হয় তাহলে তাকে প্রথমে পুলিশের কাছে অর্থাৎ থানায় যেতে হবে। এই থানাতে যেতে হবে তাকে তার বাসার সামনে দিয়ে পাড়া প্রতিবেশী ডিঙিয়ে। অর্থাৎ সবার চোখে পুনরায় ধর্ষিত হতে হতে তাকে থানায় যেতে হবে বিচারের আশায়। কেমন না!

ভাগ্যিস, তখন, সেই ধর্ষিত মেয়ে তার দিকে তাকানো চোখগুলোর দিকে তাকায় না। তাহলে দেখত কত ঘৃণা, কত করুণা, কত অভিযোগ, কত ফ্যান্টাসি মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে চোখগুলোতে!

Section-375-Review-1

উঁহুঁ। একটু মিস করেছি। ধর্ষিত নারী ২য় বার ধর্ষণের শিকার হয় বেঁচে বাড়িতে ফিরলে। বাপ, ভাই, মা সবাই মিলে তাকেই আরেকবার রেইপ করে নানান প্রশ্ন তুলে। এমনকি গায়ে হাত উঠিয়ে, পিটিয়ে শরীরে থাকা এভিডেন্সের বারোটা বাজায় না বুঝেই!

হয়তো পরিবার সেটা অনেক হতাশা-ক্ষোভ তাৎক্ষণিক সামলাতে না পেরে তা করে ফেলে। কিন্তু এইসব আবেগের কোনো স্থান নাই আইনের কাছে। আইন শুধু এভিডেন্স এবং ফ্যাক্ট হাংরি। তাই ভিকটিম এবং তার পরিবার ধর্ষণকে যত বেশি আবেগ দিয়ে ডিল করে জাস্টিস ঠিক তত বেশি দূরে চলে যায়।

পুরো প্রক্রিয়াটা একটু ব্যক্তিগতভাবে বোঝার চেষ্টা করি, চলুন। ধরে নিন আপনিই সেই মেয়ে! ধরতে কষ্ট হলেও ধরেন না একটু! নিজের সাথে এবং পরিবার, প্রতিবেশীদের সাথে যুদ্ধ করে যদি আপনি সাহস নিয়ে থানায় যেতেও পারেন তাহলে কী হয়? কি হয় জানেন? আবার ধর্ষণ। এবারের ধর্ষণের নাম এফআইআর। কিন্তু আইন এইটাই। আপনাকে বলতে হবে কী হয়েছে আপনার সাথে। সেই ভয়ানক স্মৃতি রোমন্থনে কোনো ভুল হলেই শেষ আপনার জাস্টিস।


পুলিশ এবং ফরেন্সিক দরকারি এভিডেন্স কিভাবে সংগ্রহ এবং হ্যান্ডলিং করল তার উপর নির্ভর করছে আপনার জাস্টিস। 


তারপর আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে মেডিকেল এক্সামিনেশনে। গিয়ে দেখবেন কোনো লেডি ডাক্তার বা নার্স হয়তো নাই। আর তার জন্যে অপেক্ষা করলে সময় এগুবে। আপনার ছোটখাটো ঘা শুকিয়ে যেতে পারে ততক্ষণে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ এভিডেন্স মুছে যেতে পারে। তাই আইনের চাহিদার দিকে তাকিয়ে আপনি সম্মতি দিবেন যে পুরুষ ডাক্তারই আপনার সব প্রাইভেট পার্ট পরীক্ষা করবে। জিজ্ঞেস করবে নানান বিব্রতকর প্রশ্ন। অর্থাৎ আবার ধর্ষণ। কোথায় আপনি এই সময় ইমোশনে জর্জরিত হয়ে থাকবেন। ভয়ে, ঘৃণায়, বেদনায় কাতর হয়ে থাকবেন, তা হবে না। আইন চায় আপনি এই সময় থাকবেন একজন সুপার হিউম্যান বিয়িং। মোর দ্যান নরমাল। যা ঘটেছে সে সম্পর্কে যদি ভুল কিছু বলেছেন বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভুলে গেছেন তাহলেই শেষ! ডিফেন্স সেইটার সুযোগ নিয়ে আপনার জাস্টিসকে আল্লাহর হাতে পৌঁছে দিবে।

যাই হোক, এবার কাজ পুলিশের এবং ফরেন্সিকের। পুলিশ এবং ফরেন্সিক দরকারি এভিডেন্স কিভাবে সংগ্রহ এবং হ্যান্ডলিং করল তার উপর নির্ভর করছে আপনার জাস্টিস। যেহেতু আপনি গরিব এবং যার উপরে অভিযোগ এনেছেন সে গণ্যমান্য টাকাওয়ালা মানুষ সুতরাং এইখানে সমূহ সম্ভাবনা আছে যে ইনভেস্টিগেটিং অফিসার তার সাথে যোগাযোগ করবে। সেটেল করার চেষ্টা করবে। অথবা উল্টো দিক থেকে প্রেসার আসবে পুলিশের কাছে। আর যদি সেটেলমেন্ট নাও হয়, সেক্ষেত্রে ইনভেস্টিগেটিং অফিসার যদি অভিযুক্তের কাছে তদন্ত শুরুর আগে টাকা পয়সা চেয়ে থাকে এবং সেটা যদি ডিফেন্স উকিল কোর্টে প্রমাণ করতে পারে তাহলেও আপনার কেইস দুর্বল হয়ে যাবে। আপনার ধর্ষিত হওয়াটা কোর্টে তখন বায়াসড এবং করাপ্ট ইনভেস্টিগেশন, কম্পোমাইজড চেইন অব (এভিডেন্স) কাস্টোডি, টেম্পার্ড এভিডেন্স ইত্যাদি নানান টেকনিক্যাল আইনি দিকে প্রবাহিত হবে।

এই রকম একটা অবস্থায় আপনাকে যে জাস্টিসের স্বপ্ন দেখাতে পারে সে হলো একজন দক্ষ প্রসিকিউটর। অর্থাৎ আপনার উকিল। আপনার কেসের মেরিট অনেক খানি নির্ভর করে আপনার প্রসিকিউটর কতখানি দায়িত্বের সাথে আপনার কেসটিকে গ্রহণ করছে। কতখানি প্যাশনেট সে আপনাকে জাস্টিস দিতে। কতখানি অনুভব করছে সে আপনার ক্ষতিটাকে, ভিকটিম হুডকে। আপনার প্রতিপক্ষ যেহেতু সমাজের উঁচু পাড়ায় থাকে, স্বাভাবিকভাবেই তার ডিফেন্স উকিলও হবে উঁচুমানের অর্থাৎ হাই-প্রোফাইল। ডিফেন্স উকিলের সাথে আপনার উকিল আইনি খেলায় কতখানি পেশাদারিত্ব দেখাবে তার উপর নির্ভর করে আপনার জাস্টিস।

Section-375-Review-3

এরপর আসুন ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের ৩য় ধাপ ‘কোর্ট’ প্রসঙ্গে। কোর্টে যখন ট্রায়াল শুরু হবে তখন চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হবার আগ পর্যন্ত আপনি এবং আপনার অভিযুক্ত ধর্ষক দুইজনই সমান। কোর্টে তাই আবারো আপনাকে ধর্ষিত হতে হবে; এবং বার বার। একজন ধর্ষিতার এইভাবে ডাবল-ট্রিপল-মাল্টিপল ভিকটিমাইজেশন নিয়ে কোর্ট আসলে নির্বিকার। আইন আর ভিকটিমোলজির এক না।  ডিফেন্সের ক্রস এক্সামিনেশন এমন অমানবিক দিকে পৌঁছাতে পারে, আপনাকে এমন এমন ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে পারে যাতে আপনার হয়তো ইচ্ছে হবে বমি করি। আপনার সামনে আপনার পরিবারকেও এমন প্রশ্ন করা হবে যেগুলো শুনে রাগে, হতাশায় আপনার চিৎকার করতে ইচ্ছে করবে। কিন্তু সাবধান! ডিফেন্স এইটাই চায়। আপনি আবেগে নিয়ন্ত্রণ হারান। এমন কিছু বলেন যা আপনি আপনার এফআইআর কিংবা মেডিকেল এক্সামিনেশনের সময় বলেন নাই। কোর্টে বিচারকের সামনে আপনি এবং আপনার পরিবারের সদস্যরা ডিফেন্সের ক্রস-এক্সামিনেশনের সময় চূড়ান্ত হিউমিলিয়েট হতে হতে কতখানি মাথা ঠান্ডা রাখতে পারলেন তার উপর নির্ভর করে আপনার জাস্টিস।

এইবার ভারডিক্ট অর্থাৎ রায়ে আসা যাক। ‘সেকশন ৩৭৫’ সিনেমার ভারডিক্টে নিয়ে আলোচনার আগে চলুন একটু চোখ বুলিয়ে আসি ধর্ষণের বিচার নিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান কী বলে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের হিসেবে এদেশে প্রতিদিন গড়ে ধর্ষণ মামলা হয় ১১টি। কিন্তু প্রশ্ন হলো এগুলোর মধ্যে বিচার হয় কয়টির? সাজা হয় কত জনের? ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সারাদেশে ৮টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং, পুলিশি ও আইনি সহায়তা দেয়া হয়।


শতকরা ২৫ শতাংশ পুরুষ যারা আসলে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, তাদের মধ্যে কি কেউ নেই যারা ‘জাস্টিস’ বা ‘ইনসাফ’ আসলে পায় নি?


২০০১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত এসব কেন্দ্র থেকে ৪হাজার ৩শ ৪১টি যৌন নির্যাতনের মামলা হয়েছে যার মধ্যে ৫শ ৭৮টি বিচার হয়েছে এবং সাজা হয়েছে ৬৪টি ঘটনার। সে হিসেবে অভিযুক্ত ধর্ষকের সাজার হার বা কনভিকশন রেট শতকরা ৯ শতাংশ। এই যে এতক্ষণ আপনাদের সিনেমার গল্প শোনালাম এটা আসলে নিছক সিনেমার গল্প নয়। উপরিল্লিখিত কোনো না কোনো কারণে হাজার হাজার নারী ধর্ষিত হয়েও জাস্টিস পায় নাই। নারী অধিকার কর্মীরা খুব সাদামাটাভাবে হয়তো এর নাম দিবেন “বিচারহীনতা”। কিন্তু জাস্টিস বা ইনসাফ তাই শুনতে যতটা ভালোলাগে এইটা চাক্ষুষ অনুভব করতে যাওয়া আসলে ঠিক ততটাই কঠিন। জাস্টিস আসলে একটা আইডিয়াল জায়গা, যেখানে পৌঁছানোর জন্য অনেকগুলো টুল বা উপলক্ষ লাগে। এর মধ্যে একটা হলো আইন। এই আইনের প্রয়োগও করতে হয় নানান অন্যান্য আইনকে অনুসরণ করে। জাস্টিস পাবার জন্য যে উপলক্ষগুলো প্রয়োজন হয় সেগুলো আসলে বেশিরভাগ সময়ই একজন ধর্ষিতার পক্ষে থাকে না। তাই ধর্ষকের সাজার হার এত কম। পুরো সিনেমা জুড়ে এই তিক্ত সত্যটি তুলে ধরা হয়েছে অনেক যত্নের সাথে। শুধুমাত্র বাংলাদেশেই যে এই হার এতটা নিচের দিকে তা নয়। যে দেশে এত এত মানুষ ওকালতি শিখতে যান সেই দেশে অর্থাৎ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ২০১৭-১৮তে রিপোর্টেড ধর্ষণের মধ্যে সাজা প্রাপ্ত হয়েছে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। ‘সেকশন ৩৭৫’ সিনেমা অনুযায়ী ভারতে এই হার ২৫ শতাংশ। যে ৭৫ শতাংশ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আজ মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের মধ্যে না জানি কত মানুষ ধর্ষণটা আসলে করেছে। হয়তো আইন-বিচারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হাসছে এরা। হয়তো আবার খুঁজছে একজন অসহায় নারী যাকে তারা তাদের লোলুপ শিশ্নের নিচে নিয়ে গিয়ে ইজ্জত-সম্মান লুট করবে আর পুরো পুরুষজাতিকে করবে প্রশ্নবিদ্ধ। আবার এদের মধ্যে কিছু পুরুষ ছিল যারা ধর্ষণ করে নি, তাই বিচারও হয় নি। কিন্তু সমাজ আদালতে আমৃত্যু তাদেরকে ধর্ষক পরিচয় নিয়ে বাঁচতে হবে।  ‘সেকশন ৩৭৫’-এর ভারডিক্টে এই দুটোর কোনোটাই হয় নি। মেয়েটি আইনি লড়াইয়ে শেষমেশ জিতে যায়। তার সেই সেলেব্রিটি বসের দশ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হয়। তাহলে কি তার প্রসিকিউটর পরিষ্কার করে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিল যে ধর্ষণ আসলেই হয়েছিল? না। পারে নি। অনেক প্রশ্ন ছিল যেগুলো আসামির পক্ষে যায়। বিচারক রায়ে বলেন দুইজনই দুইজনের জায়গায় ঠিক আছেন। এরকম কনফিউজড কেসের ক্ষেত্রে একটাই সমাধান আইনকে শক্তভাবে অনুসরণ করা। হাঁ আইন। মেয়েটির জন্য ত্রাতা হয়ে আসে আইন।

Section-375-poster

এখন এই সিনেমাকে রেফারেন্স ধরে একটা কঠিন প্রশ্ন সামনে রাখব। এই যে শতকরা ২৫ শতাংশ পুরুষ যারা আসলে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, তাদের মধ্যে কি কেউ নেই যারা ‘জাস্টিস’ বা ‘ইনসাফ’ আসলে পায় নি? পুরো সিনেমার টুইস্ট এই প্রশ্নের মধ্যে লুকিয়ে আছে। মহাভারতের একটা লাইন দিয়ে শেষ করবো  : “vengeance is the purest emotion”। কেন তা জানতে সিনেমাটি দেখে ফেলুন।

নাজমুল আরেফিন

জন্ম ১২ মার্চ, মেহেরপুর।

সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষক ও গবেষক।

ই-মেইল : nazmularefin.du@gmail.com