হোম চলচ্চিত্র ভারতীয় সিনেমায় বাংলাদেশের টেররিস্ট রিপ্রেজেন্টেশন এবং আমাদের ‘সিনেমা সংস্কৃতি’র সংকট

ভারতীয় সিনেমায় বাংলাদেশের টেররিস্ট রিপ্রেজেন্টেশন এবং আমাদের ‘সিনেমা সংস্কৃতি’র সংকট

ভারতীয় সিনেমায় বাংলাদেশের টেররিস্ট রিপ্রেজেন্টেশন এবং আমাদের ‘সিনেমা সংস্কৃতি’র সংকট
9.26K
0

‘সিনেমা মূলত পারভার্ট আর্ট। ইহা আপনাকে আপনার বাসনা মোতাবেক কিছু দেয় না—ইহা আপনার “বাসনা”কে ঠিক করিয়া দেয়।’

—স্লাভো জিজেক [২০০৯]

‘যে ভাবধারায় আপনার স্বার্থ নাই—সেই ভাবধারার সম্মুখে আপনিও যখন নতি স্বীকার করেন তখন বলিতে হইবে সেই ভাবধারার আধিপত্য কায়েম হইয়াছে। সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশ এমনই।’

—একবাল আহমদ [২০০৬]


কোন দেশ রাজনৈতিকভাবে কতটা শক্তিশালী বা ভঙ্গুর তা বোঝার জন্য সিনেমা একটি ভালো মাধ্যম হতে পারে। প্রতিবেশী বড় রাষ্ট্র আপনার দেশকে তাদের সিনেমা-নাটক, আর্ট-কালচারে কিভাবে উপস্থাপন করে সেটা আমলে নেওয়া জরুরি। আপনার-আমার দেশকে যেভাবে খুশি সেভাবে তারা যদি তুলে ধরতে পারে এবং প্রত্যুত্তরে আমাদের দেশ তার কোনো সরাসরি প্রতিবাদ কিংবা পাল্টা আর্ট-কালচারাল জবাব দিতে পারছে কিনা সেটা নিয়ে ভাবারও সময় এসেছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় বিনির্মাণ এবং আমাদের নাগরিক সমাজের মনোজাগতিক গঠনে [psychic development] সমসাময়িক ভারতীয় সিনেমার ভূমিকা রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সিরিয়াসভাবে মূল্যায়িত কেন হওয়া দরকার তা নিয়ে কিছু যুক্তি তুলে ধরা এই লেখার উদ্দেশ্য। ভারতীয় সিনেমায় সাম্রাজ্যবাদের সাংস্কৃতিক প্রকাশ কিভাবে হচ্ছে এবং সিনেমার সীমাবদ্ধতা কোথায় তা নিয়ে আলোচনা করতে ‘কেস স্টাডি’ হিসেবে সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সুপারহিট তেলেগু সিনেমা ‘গুডাচারি’কে বেছে নেওয়া হয়েছে।


হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশকে টেররিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য গ্লোবাল প্রোপাগান্ডা মেশিনেরা নানানভাবে তৎপর।


সিনেমাকে নেহাত নিরীহ, বিনোদনমূলক মাধ্যম ভেবে বসে আছি আমরা। অথচ জনমত গঠন কিংবা সাধারণ জনগণের ‘চিন্তার অভ্যেস’গুলো সিনেমা কতখানি ঠিক করে দিতে পারে, তা নিয়ে ভাবছি না। কামান-বারুদ কিনে ‘হার্ড পাওয়া’র বাড়ানোর বাসনায় আমরা অনেক বিনিয়োগ করছি ঠিক আছে, সেটার দরকারও আছে অনেক। কিন্তু প্রায় ৫০ বছর বয়সী একটা মধ্যম আয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়া দেশ ২০১৮ সালের জিও-পলিটিক্সের মধ্যে বসে ‘সফট পাওয়ার’ প্র্যাক্টিস নিয়ে ভাববে না?

এই যে পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের নাম শুনলে আমাদের মনোজগতে সবার আগে একটা টেররিস্ট রাষ্ট্রের ছবি ভেসে আসে—এই সাইকিক ডেভেলপমেন্টে হলিউড-বলিউড সিনেমার [অজ্ঞান] ভূমিকা নেই ভাবছেন? মুসলমান হয়েও দাড়ি-টুপিওয়ালা দেখলেই টেররিস্ট কিংবা র‍্যাডিকাল আইডেন্টিটি নিয়ে আপনি যে দ্বিধা বা সন্দেহে পড়েন তাতে কি গ্লোবাল ‘ওয়ার অন টেরর’-এর যেসব সফট অ্যাপ্রোচ সেগুলোর ভূমিকা নেই ভাবছেন? নাইন-ইলেভেন পরবর্তী দুনিয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের হাতে নেওয়া ‘ওয়ার অন টেরর’ প্রজেক্ট সম্পর্কে আমরা শিক্ষিত মহল মাত্রই ওয়াকিবহাল। এই প্রজেক্টের আসল রাজনৈতিক-অর্থনীতি বোঝার জন্যও খুব বেশি ক্রিটিকাল জ্ঞান থাকার প্রয়োজন পড়ে না বোধ করি। কিন্তু যেসব প্যাসিভ প্যারালাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে গ্লোবাল ‘ওয়ার অন টেরর’ প্রজেক্টকে লেজিটিমেট বানানো হয় সেগুলো সাদা চোখে আমরা বুঝি কতজন? পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের মুসলিমের ইমেজ অন্য জাতিদের কাছে কেমন হবে তা গ্লোবাল মিডিয়া এবং আর্ট-কালচারের মাধ্যমগুলো ঠিক করে দিচ্ছে, তা সম্পর্কে আমরা কতখানি সতর্ক? হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশকে টেররিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য গ্লোবাল প্রোপাগান্ডা মেশিনেরা নানানভাবে তৎপর। সেই তৎপরতা সফল করার সবচে পাওয়ারফুল, পারভার্ট উইপন সম্ভবত সিনেমা।

42790049_249909689053254_2760152748430196736_n
তেলেগু ‘গুডাচারি’ সিনেমার পোস্টার

সমসাময়িক ইন্ডিয়ান সিনেমাতে বাংলাদেশকে যে প্রায়ই নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় সেটা সিনেমাপ্রেমী সব মানুষের জানা আছে। এই লেখাতে প্রতিটি সিনেমা ধরে ধরে আলাপের সুযোগ নেই। চলতি বছরের আগস্ট মাসের ৮ তারিখে মুক্তি পাওয়া হিট তেলেগু সিনেমা ‘গুডাচারি’ সম্পর্কে আলোকপাত করতে চাই। বাংলাদেশ এবং এই দেশের মানুষকে ছোট করে দেখানো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে পিছিয়ে থাকা জাতি হিসেবে উপস্থাপন করা, এমনকি টেররিস্ট রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তোলার যে সাম্প্রতিক ‘প্রজেক্ট’ ইন্ডিয়ান কালচারাল ইন্ডাস্ট্রি হাতে নিয়েছে তার একটা ‘Text Book Example’ এই সিনেমা।

যেকোনো অবাংলাদেশির কাছে এই সিনেমা দেখে ধারণা হবে আমাদের চট্টগ্রাম শহর টেররিস্টদের এক নিরাপদ অভয়াশ্রম। আর এদেশের সাম্প্রদায়িক লোকেরা শিশুদের প্রায় জন্মের পর থেকেই টেররিস্ট হবার প্রশিক্ষণ দেয় ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে ৪৭-এর দেশভাগের প্রতিশোধ নেবার জন্য। আমরা কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছি ভারত একটা কাফিরদের দেশ। তাই এদেশের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের হাতে বন্দুক তুলে দিচ্ছে টেররিস্ট অর্গানাইজেশন আল-মুজাহিদীন। উদ্দেশ্য একটাই, ইন্ডিয়াকে শেষ করে পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ মিলে এক সুবিশাল মুসলিম খিলাফত কায়েম করা!

এখানেই নেতিবাচক চিত্রের প্রদর্শনী শেষ না! চট্টগ্রামের পুরানো বাড়ির নিচে লুকানো আছে হাজার হাজার জিহাদি অস্ত্র এবং অন্যান্য জিহাদি সামগ্রী। রাস্তার ধারের সিডির দোকানগুলোতে গেলেই পর্ন মুভি কেনার অফার করে। সিডির দোকানের পিছনে সেসব নীল ছবি দেখার সুব্যবস্থা করা থাকে। সিপোর্ট অ্যারাইভাল অফিসে মহিলা অফিসাররা পুরো দস্তুর বোরকা পরে বসে থাকে। অফিসে, শহরে, রাস্তায়, এমনকি সমুদ্র মাঝেও মাথায় টুপি আর দাড়ি ছাড়া পুরুষ মানুষ নাই বললেই চলে। এই হচ্ছে আমাদের জাতিগত পরিচয় বিনির্মাণের নমুনা!


একটা নিদারুণ বাস্তবতা হলো দেশের সবচেয়ে ভালো ডিরেক্টররা রুটি-রুজির দায়ে এখন ফুলটাইম অ্যাড নির্মাতা।


অন্যদিকে ইন্ডিয়া এবং RAW-কে প্রজেক্ট করা হয়েছে দেশপ্রেমী, হাইটেকি এবং বিশ্ব শান্তির প্রভাবক হিসেবে। এমনকি RAW বাংলাদেশকে কতখানি সন্দেহের চোখে দেখে সেটাও রাখঢাক না রেখেই উপস্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ দুটো দেশ যে ওদের স্পাই এজেন্সির কাছে একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিবেশী রাষ্ট্র তা নিয়েও কোনো রাখঢাক নাই।

42851973_250765915635731_8909639789871890432_n
‘গুডাচারি’ সিনেমাতে চট্টগ্রাম সিপোর্ট অ্যারাইভালসের উপস্থাপন। ব্যাগ কাঁধে নিয়ে নায়ক, বাংলা ভাঙা ফন্ট, বাংলাদেশি অফিসিয়ালস এবং নাগরিকদের পোশাক।

রাষ্ট্রীয়ভাবে এই মুভিটাকে আপত্তি জানিয়ে আমাদের পররাষ্ট্র কিংবা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিনা কিংবা নেবে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে আমি দর্শক আর পরিচালকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, সিনেমাটাকে সাউথ ইন্ডিয়ান বলে উপেক্ষা করবেন না। এখন সিনেমায় সাউথ ইন্ডিয়া মেইনস্ট্রিম। ওপার বাংলা, এপার বাংলার শাকিব খান, জাজের প্রায় প্রতিটি বড় সিনেমা, এমনকি বলিউডের হিট সিনেমাগুলোর কাহিনি-উৎস এখন সাউথ ইন্ডিয়া। হিন্দি ডাবিংয়ের কল্যাণে এখন দেশের আনাচে-কানাচে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য ‘বিনোদন মাধ্যম’ সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা।  তাই বলছি, মাত্র ৬ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এ পর্যন্ত ৩৫ কোটি রুপির বেশি আয় করা এই সিনেমাকে ইগনোর করবেন না। সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা থেকে জিও-পলিটিক্সের আগাম ইশারাগুলা বুঝে নেবার চেষ্টা করেন। ওপার বাংলাসহ সকল ভারতীয় সিনেমায় বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের মানুষের যে উপস্থাপন সেটার ‘রাজনৈতিক মতলব’টা বোঝার চেষ্টা করুন। যত আগে আমরা বুঝব তত তাড়াতাড়ি এগুলো কালচারালি প্রতিবাদ করতে পারব। অবশ্য আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ‘নির্মাণ, নবনির্মাণ, বিনির্মাণ এবং প্রচারণা’ নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্র এবং দেশের ফিল্ম ডিরেক্টররা কতটুকু সচেতন তার উপর সবকিছু নির্ভর করে।

হয়তো পরিচালকরা বলবেন এই দেশে পলিটিক্যাল মুভি কিভাবে বানাব? ইন্ড্রাস্ট্রির বেসিকই তো দাঁড়ায় নি। প্রোডিউসার কে হবে? ঠিক। আমাদের জাতিগত দুর্ভাগ্য! যে জহির রায়হান, খান আতা, আলমগীর কবীরদের দেশে খাল-লেক নির্মাণেও হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ হয়ে যায় চুটকিতে। সেই দেশে সিনেমা হলগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন আর চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য একটা হাজার কোটি টাকার ‘ইনকিউবেশন’ টাইপ প্রকল্প হাতে নেওয়া কি খুব কঠিন?

তবে এটাও সত্য যে এখনকার বাংলাদেশে ‘পলিটিক্যালি ম্যাচিওরড’ কোনো ডিরেক্টর নেই। আর একটা নিদারুণ বাস্তবতা হলো দেশের সবচেয়ে ভালো ডিরেক্টররা রুটি-রুজির দায়ে এখন ফুলটাইম অ্যাড নির্মাতা।মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেটদের অ্যাড বানাতে বানাতে কখন এদের ‘ক্রিটিকাল সোল’টাকে ইজারা দেওয়া হয়ে গেছে তা উনারা নিজেরাও টের পান না। তাই উনাদের কাছ থেকেও রাজনৈতিক সচেতন কোনো সিনেমা পাব না এটা আমার ব্যক্তিগত থিসিস।

তবে আমাদের এখানে অনেক তরুণ নির্মাতা আছেন। যারা আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কে ভীষণ সচেতন; নতুন দিনের সিনেমাতে দেশের সম্মান সমুন্নত রাখা নিয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।  তরুণ প্রজন্মের যেসব নির্মাতারা সাহস করে এসব নিয়ে মুভি বানাতে চান তাদের একটা ইনকিউবেশন দরকার। ভীষণভাবে দরকার।  ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে, ৬ কোটি মধ্যবিত্তের দেশে সিনেমাকে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি রপকল্প দরকার। অন্তত ১০০০ কোটি টাকার। দেশের ‘জাতীয় পরিচয় উপস্থাপন’ [Representation of National Identity] এবং দেশের সাধারণ মানুষের সাংস্কৃতিক অভিরুচি নির্মাণের মোড়লিপনা [Hegemony] অন্য দেশের হাতে ছেড়ে দিয়ে শুধু হাজারটা সেতু, ব্রিজ, ফ্লাইওভার, পার্ক নির্মাণে ব্যস্ত থাকাটা বোধহয় দেশকে রাজনৈতিকভাবে এগিয়ে নেবার ভবিষ্যৎমুখীপন্থা নয়। দুটোই দরকার। আকাশে আমাদের স্যাটেলাইট পর্যন্ত পৌঁছেছে। এখন ‘আকাশ সংস্কৃতি’ নিয়েও জাতীয় ভাবনা ভাবার সময় এসেছে বৈকি। ৫০ বছরে যাবার আগেই আমাদের সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের দশদিক ঠিক করা প্রয়োজন। প্রয়োজন ‘রিজিওনাল পলিটিক্স’ এবং ‘কালচারাল ডিপ্লোমেসি’তে সিনেমাকে কিভাবে টুলস হিসেবে ব্যবহার করব সেটার একটা পলিসি দাঁড় করানো।


আমাদের সিনেমা আমাদের গল্প বলুক, অন্যদের [বাজে] গল্পের জবাবটা গল্প দিয়ে দিতে পারার হিম্মত অর্জন করুক।


গ্লোবাল সাউথে রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমসাময়িক বৈশ্বিক চলচ্চিত্রে ‘সিনেম্যাটিক পলিটিক্স অব রিপ্রেজেন্টেশনে’র যে দৌড় শুরু হয়েছে সেখানে আমাদের অবস্থান কী হবে তা পলিসিগতভাবে ঠিক করার সময় আমাদের বিগত হয়েছে একদশক আগেই। তাই বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী রাষ্ট্র বানাতে চাইলে আমাদের ‘পলিসি উদ্যোগ’ সমূহে শিক্ষা এবং প্রচারমূলক সংস্কৃতিতে [Diffusive Culture] সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।

আমাদের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস, আমাদের সেক্যুলারিজম, আমাদের সাংস্কৃতিক বিচিত্রতা [Cultural Plurality], আমাদের ক্রিকেট, আমাদের নারী সাফল্যগাথা, আমাদের উদ্যোক্তাদের গল্প, আমাদের পুলিশ, সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা-স্পাইদের বীরত্বের ও আত্মত্যাগের গল্প, আমাদের বর্ডারে বড় দেশের অত্যাচারের কত কত গল্প—এগুলো আর কবে বলা শুরু করব আমরা? আর কবে বিশ্বের কাছে পৌঁছাবে এসব আখ্যান?

আর কত সাউথ ইন্ডিয়ান সিনেমা থেকে নকল করা ছবিতে অভিনয় করে যাবে আমাদের শাকিব খানরা? আর কত দিন আমাদের সম্ভাবনাময় ডিরেক্টররা সিনেমাকে শুধু দেশের ‘গরিবি’ উপস্থাপন করে ‘আন্তর্জাতিক নামধাম ও পুরস্কার’ বাগানোর মাধ্যম হিসেবে সীমিত রাখার খেলা খেলে যাবে?  আর কতদিন গেলে আমাদের দেশ বুঝবে, এখন আর কোনো দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখতে হয় না, সেই দেশের সংস্কৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই চলে। টেকসইভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলে আগে নিজেদের সংস্কৃতির মেরুদণ্ডটা সাঁট করা প্রয়োজন। আমাদের সিনেমা আমাদের গল্প বলুক, অন্যদের [বাজে] গল্পের জবাবটা গল্প দিয়ে দিতে পারার হিম্মত অর্জন করুক।


দোহাই—

১। স্লাভো জিজেক, ২০০৯, পাবলিক লেকচার : দ্য পারভার্টস গাইড টু সিনেমা—লাকানিয়ান সাইকো অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ফিল্ম।

২। একবাল আহমদ, ২০০৬, দ্য সেলেক্টেড রাইটিংস অফ একবাল আহমদ [দেখুন : সলিমুল্লাহ খান, ২০০৯, আদমবোমা]

নাজমুল আরেফিন

জন্ম ১২ মার্চ, মেহেরপুর।

সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষক ও গবেষক।

ই-মেইল : nazmularefin.du@gmail.com