হোম চলচ্চিত্র নুর ইমরান মিঠুর ‘কমলা রকেট’ : অস্বস্তিদায়ক জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র

নুর ইমরান মিঠুর ‘কমলা রকেট’ : অস্বস্তিদায়ক জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র

নুর ইমরান মিঠুর ‘কমলা রকেট’ : অস্বস্তিদায়ক জীবনঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র
817
0

আলাদা করে বলার মতো কোনো ‘অবাক করা’ গল্প এই চলচ্চিত্রে নেই, অলৌকিক কোনো ঘটনার চমকও নেই। এ নিতান্তই সাধারণ একটি গল্প। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পুরো বাংলাদেশের বাস্তবতায় মোড়া একটি চিত্রকল্প, এটি যেন আমাদের সকলের গল্প। তবুও এই ‘সাধারণ’ গল্পটাই আমাদেরকে চমকে দেয়, ক্ষণে ক্ষণে অস্বস্তিতে ভোগায়।

নুর ইমরান মিঠুর প্রথম চলচ্চিত্র ‘কমলা রকেট’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১৮ সালের ১৬ জুন। কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের ‘মৌলিক’ ও ‘সাইপ্রাস’ নামের দুটি গল্প অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য লিখেছেন শাহাদুজ্জামান ও মিঠু দু’জনে মিলে।


‘কমলা রকেট’ কোনো ধরনের বাহুল্য এবং মেলোড্রামাবিহীন নির্মেদ একটি চলচ্চিত্র।


কমলা রকেট, একটি স্টিমার। এই স্টিমারে অনেক যাত্রী এবং প্রত্যেকে নানা পেশার মানুষ। এই স্টিমারের একজন যাত্রী আতিক। ভাষ্য অনুযায়ী তার ‘মাল্টিপল বিজনেস’ আছে। ইনস্যুরেন্স থেকে টাকা পাওয়ার আশায় ঠান্ডা মাথায় তিনি নিজের কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ১৭ জন কর্মী সাথে সাথে মারা গেছে, আবার অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে তিনি পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষায় ঢাকা থেকে স্টিমারে করে মোংলায় এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছেন। আবার এই স্টিমারেই কাঠের কফিনে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আতিকের কারখানার অগ্নিকাণ্ডে নিহত একজন নারী পোশাক-কর্মীর মরদেহ। মরদেহটি নিয়ে যাচ্ছে তার স্বামী। আতিক অথবা নিহত পোশাককর্মীর স্বামী—কেউ অবশ্য কাউকে চেনে না।

90433681_498244657535454_1588260940212600832_n
আতিক চরিত্রে তৌকীর আহমেদ

সেই স্টিমারটিতে চরিত্ররূপে আরও হাজির আছে মফিজুর নামে এক ক্যানভাসার যিনি একই সাথে লেখক এবং কবিরাজ, এক উচ্চ মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সাথে শ্যালিকা, চাকরির জন্য হাহাকার করতে থাকা কিছু বেকার যুবক, সার্কাস পার্টি, এক পাগলিনী এবং কিছু দেহ পসারিণী।

‘কমলা রকেট’ কোনো ধরনের বাহুল্য এবং মেলোড্রামাবিহীন নির্মেদ একটি চলচ্চিত্র। সময়ের সাথে মানুষের আচরণে, ভাবনায় এবং বন্ধনে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, সেই পরিবর্তনেরই প্রতিনিধিত্ব করে এর প্রতিটি চরিত্র। কাজেই এই চলচ্চিত্রের পরতে পরতে এবং প্রতিটি সংলাপে আমরা আমাদের চতুষ্পার্শ্ব খুঁজে পাই। ক্যানভাসার মফিজুরকে ব্যবসায়ী আতিক তার পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে উত্তর দেয়, ‘এই যে স্যার, আমার লেখা একটা বই আপনাকে দেখাই। “দরকারি ফ্যামিলি টিপস” গৃহিণীদের জীবনে নানা ধরনের নানা সমস্যা হয়, সেগুলো নিয়েই এটা লেখা। লেখিকা হলো দিলরুবা খানম। হে হে, এটা স্যার আমিই। নানান নামে লিখি।’ লোকজন না কি এখন আর জ্ঞানের কদর করে না, কাজেই বই লেখার পাশাপাশি সে ওই স্টিমারেই অবস্থানরত দেহ পসারিণীদের দালাল হিসেবে কাজ করে।

90916046_624722621714654_3505998717306011648_n
ক্যানভাসার মফিজুর চরিত্রে মোশাররফ করিম

নিজেকে প্রকাশের জন্য অতি আগ্রহী ব্যবসায়ী উচ্চবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেছে আরেক চরিত্র মতিন মাহমুদ। তার পাশের কেবিনে অবস্থানরত আরেক ব্যবসায়ী আতিকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তাকে একটানা বলতে দেখা যায়, ‘আমার গাড়ির বিজনেস। শোরুম গুলশানে। আজ পাঁচ বছর যাবৎ ঢাকা ক্লাবের মেম্বর। এ দেশে লাইফের সিকিউরিটি নাই। বউ ছেলেকে শীঘ্রই কানাডায় পাঠিয়ে দেবো, ইত্যাদি ইত্যাদি… আবার দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আতিকের কাছে যথেষ্ট মনোযোগ না পেয়ে সে আপন মনে বলে ওঠে, ‘কোন নবাবের বাচ্চা আইছে? তুমিও ফার্স্ট ক্লাসের প্যাসেঞ্জার, আমিও ফার্স্ট ক্লাসের প্যাসেঞ্জার। এত ফুটানি কিসের?’

আবার আছে হতাশ চাকরিপ্রার্থীর মোবাইল ফোনে চাকরির ব্যাপারে ঘুসের জন্য আলাপ।

‘আট লাখে হবে না, বস?’

‘আট লাখে কোন চাকরি হবে না। শুধু তোমার জন্য আমি একটা পোস্ট ধরে রাখছি।’

‘ঠিক আছে, বস। দশ লাখই দিব নে, কিন্তু চাকরি হবার পরে।’

‘ধুর মিয়া, তুমি তো কথাই বুঝলা না।’

অপর পাশ থেকে ফোন কেটে দেয়।

তাকে আবার অন্যজন সান্ত্বনা দেয়, ‘শোনেন, মালপানি ছাড়া আইজকাল আর কাজ হয় না। মালপানি ছাড়েন, দেখবেন ঠিকই কাম হইয়া যাইব গা। বুঝছেন না? আরে ভাই, আজকে দুই বিঘা বেচবেন, কালকে পাঁচ বিঘা আবার কিনবেন।’


ক্ষুধার্ত অবস্থায় সকলের আসল রূপ বেরিয়ে যায়।


চলচ্চিত্রটি জুড়ে পরিচালক আমাদেরকে এভাবেই সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিনিধির সাথে পরিচয় করে দিতে থাকেন। উচ্চাকাঙ্ক্ষী জীবন কিংবা সাফল্যের উজ্জ্বল আবরণের আড়ালে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক গঠন যে কতটা দুর্বল, ভঙ্গুর এবং করুণারযোগ্য হতে পারে তা দৃশ্যমান হয় গাড়ি ব্যবসায়ী মতিন মাহমুদের শ্যালিকা দিশি চরিত্রের মাধ্যমে। বর্তমান সমাজের ‘সেলফি’ এবং ‘কনফিউজড’ জেনারেশনের প্রতিনিধি সে। স্টিমারের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে সে সেলফি তোলে, সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে মগ্ন থেকে ফেসবুকে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে ‘বাবু’, ‘বেবি’ বলে মেসেজিং করে, আবার রাতে ওই স্টিমারে তার বয়ফ্রেন্ড এসে হাজির হলে লুকিয়ে তার সাথে শরীর-সর্বস্ব ভালোবাসায় মেতে ওঠে। শরীরের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া মাত্রই তার বয়ফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে চলে যায়।

এরই মাঝে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশিওলজি থেকে অনার্স শেষের পর সে কী করবে, আতিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সে উত্তর দেয়, ‘আমি কনফিউজড। I don’t want to do a typical job, I want to do something for the people. আমরা ফ্রেন্ডরা মিলে হোপ নামে অর্গানাইজেশন খুলেছি। মানে নিডি পিপলদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।’

90394221_510255546302700_8457621518787018752_n
‘সেলফি’ এবং ‘কনফিউজড’ জেনারেশনের প্রতিনিধি দিশি

দিশির মুখে এই সংলাপ শুনে দর্শকদের অবশ্য দীর্ঘশ্বাস এবং এই জেনারেশনের জন্য করুণা ছাড়া আর কিছু জাগে না। এই চলচ্চিত্রের শেষের অংশটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। সেখানে পরিচালক স্টিমারের সকল যাত্রীকে এক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করান। স্টিমার ‘রকেট’ চরে আটকে যায়, স্টিমারে এক দিনের বাজার থাকায় খাবারের টানাটানি পড়ে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় সকলের আসল রূপ বেরিয়ে যায়। ফার্স্ট ক্লাসের যাত্রীরা যারা জাহাজের অন্যান্য সাধারণ যাত্রীদের দিকে প্রচণ্ড অবজ্ঞার চোখে তাকান, অনেকক্ষেত্রে তাদেরকে মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করেন না, তারাও ডেকে এসে ডাল ভাতের জন্য হাজির হন, সাধারণ মানুষদের সাথে একই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। এদিকে কাঠের কফিনের মরা লাশটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া শুরু হয়। ক্ষুধার্ত আতিকও তার কেবিন থেকে বের হয়ে ডেকে এসে হাজির হয়। ক্যানভাসার মফিজুর তাকে মৃত স্ত্রীর লাশ বহনকারী শোকগ্রস্ত স্বামীটির পাশে বসিয়ে ডালভাত খেতে দেয়। কথায় কথায় আতিক একটু পরেই বুঝতে পারে, মৃত লাশটি তার কারখানায় পুড়ে যাওয়া একজন নারী কর্মীর। নিজের প্রচণ্ড রকমের স্বার্থান্ধতার সাক্ষাৎ ফলাফল দেখে হয়তো তার অনুশোচনা হয়, আবার হয় তো হয় না। কিন্তু তার গলা দিয়ে আর খাবার নামে না। তার পাশে বসে শোকগ্রস্ত স্বামীটি আতিকের প্লেটের দিকে দু’টো কাঁচামরিচ ধরে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে, ‘লন, স্যার। কাচা মরিচটা ডইলা খান, স্যার। জিহ্বায় স্বাদ আসবে।’

90435052_232088217983684_7206689736658780160_n
‘কমলা রকেট’ সিনেমার একটি দৃশ্যে মোশাররফ করিম আর জয় রাজ

এমন একটি নিষ্ঠুর করুণ মুহূর্তেই ‘কমলা রকেটে’র সমাপ্তি। চলচ্চিত্রটিতে আতিক চরিত্রে তৌকীর আহমেদ, মফিজুর চরিত্রে মোশাররফ করিম, শোকগ্রস্ত স্বামীর চরিত্রে জয় রাজ, দিশি চরিত্রে সামিয়া সাঈদ, মতিন মাহমুদ চরিত্রে ডমিনিক গোমেজ প্রমুখ অভিনয় করেছেন। প্রত্যেকেই তাদের নিজ চরিত্রটিকে পরিস্ফুটিত করতে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এই চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা করেছে। পাশাপাশি এর চিত্রগ্রহণ এবং আবহ সংগীতের প্রশংসা অবশ্যই করতে হয়। গোলাম মাওলা নাবীরের সিনেমাটোগ্রাফি এবং পাভেল আরীনের সংগীত পরিচালনায় যথেষ্ট যত্নের ছাপ পাওয়া যায়। তবে নির্বাচিত সংগীতগুলো চলচ্চিত্রের প্রবাহের সাথে আরেকটু সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত ছিল।

১০০ বছরের পুরনো একটি লঞ্চের মধ্যে ‘কমলা রকেটে’র চিত্রায়ণ হয়েছে। সদরঘাটের তিনটি প্যাডেল চালিত ঐতিহ্যবাহী লঞ্চের মধ্যে একটিকে চলচ্চিত্রকার এই নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছেন। এ জন্য ঢাকা থেকে মোরেলগঞ্জে [বাগেরহাটের একটি থানায়] লঞ্চটি চারবার যাতায়াত করেছে।

চলচ্চিত্রের গল্প ছবির অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হতে পারে, তবে এর ভিতরে গভীরতর জীবনবোধ না থাকলে তা দর্শকদের অন্তরে পৌঁছায় না। একটি মূলবার্তাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়ে তা মস্তিষ্কে অনুরণন সৃষ্টি করতে পারাতেই চলচ্চিত্রের অন্যতম সার্থকতা। ‘কমলা রকেটে’র নির্মাতা নুর ইমরান মিঠু এই কাজটি করেছেন অত্যন্ত সচেতনভাবে। এই চলচ্চিত্রের মূলবিষয় সম্পর্কে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘জাহাজের নাম রকেট। এ যেন ছোট এক বাংলাদেশ। ক্লাসের রকমভেদে সবাই সবার থেকে আলাদা পোশাকের হলেও কাম, ক্ষুধা, শীত, গন্ধের মতো মৌলিক প্রশ্ন যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন এক এক করে শরীর থেকে খুলে পড়তে থাকে বানানো সব পোশাক।’


বাস্তবের এমন নিখাদ-নিখুঁত-নিষ্ঠুর রূপ আমাদেরকে প্রচণ্ড অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়।


একজন নবীন পরিচালক তার প্রথম চলচ্চিত্রেই যে চমক এবং মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সুদূর সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে। এমন জীবনঘনিষ্ঠ গল্প বলার জন্য যে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং অনুভব শক্তির প্রয়োজন হয়, তা নিঃসন্দেহে তার মাঝে আছে। ভবিষ্যতেও তার সৃষ্টি দ্বারা তিনি এমন চমক সৃষ্টি করবেন, তা আশা করা যেতে পারে।

চলচ্চিত্রটি জাফনা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘শ্রেষ্ঠ নবাগত পরিচালকে’র পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া চলচ্চিত্রটি ‘গোয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’, ১৬তম ‘চেন্নাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’ ও ১৭তম ‘তৃতীয় চোখ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে’ প্রদর্শিত হয়। ২০১৯ সালে চলচ্চিত্রটি প্যারিসে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে ‘জুরি পুরস্কার’ লাভ করে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পাশাপাশি দর্শক এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘কমলা রকেট।’ বক্স অফিসের বাণিজ্যিক বাজারে খুব বেশি সাফল্য লাভ না করতে পারলেও নেটফ্লিক্সে গোটা কয়েক বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের মধ্যে এটি স্থান করে নিয়েছে।

বাস্তবের মাঝেই আমরা বাস করি, তবুও সত্য এবং বাস্তবের এমন নিখাদ-নিখুঁত-নিষ্ঠুর রূপ আমাদেরকে প্রচণ্ড অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। দেখা শেষ হওয়ামাত্রই তাই এর আবেদন শেষ হয় না। এর টুকরো টুকরো দৃশ্যাবলিকে আমরা মনে মনে বিশ্লেষণ করতে থাকি। এখানেই ‘কমলা রকেটে’র সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

নাফিস সাদিক

জন্ম ২ এপ্রিল, ১৯৯৯; কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা। নিজ এলাকাতেই শিক্ষাজীবনের সূচনা। কৈশোর কেটেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত।

ই-মেইল : nafissadik72@gmail.com