হোম চলচ্চিত্র নিউটন : এই বিপন্ন সময়ে যাকে বড় প্রয়োজন

নিউটন : এই বিপন্ন সময়ে যাকে বড় প্রয়োজন

নিউটন : এই বিপন্ন সময়ে যাকে বড় প্রয়োজন
188
0

বাবা-মা নাম রেখেছিলেন নূতন কুমার। কিন্তু নাম নিয়ে অন্যরা হাসাহাসি করায় নিজের নাম বদলে সে নতুন নাম দিল : ‘নিউটন’ কুমার। বিজ্ঞানী নিউটন কিংবা চিত্তাকর্ষক কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের সাথে এই নিউটনের সম্পর্ক নেই, তবে পদার্থবিজ্ঞানে তার একটি মাস্টার্স ডিগ্রি আছে।

ধীরে ধীরে দেখা গেল নিউটন তার নামের মতোই সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বতন্ত্র একজন। তার মাঝে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার কোনো পরিচয় নেই, আলগা স্মার্টনেস নেই, তবে একনিষ্ঠতা এবং সততা প্রবল। আপন বিশ্বাসে সে অটুট এবং সরকারি অফিসের একজন কর্মচারী হিসেবে সে প্রচণ্ড রকমের দায়িত্ব-সচেতন।


ভারতের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ চলচ্চিত্রটি অতিমাত্রায় প্রাসঙ্গিক।


ঘুণেধরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং শত অনিয়মের মাঝে দাঁড়িয়েও নিউটন যেন এক টুকরো আলো, ঠিক যেমনটা হওয়া উচিত ছিল তেমন একজন মানুষ। কিন্তু দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে চাইলেই কি পারা যায়? নাকি মুহূর্তেই অনিয়মের বেড়াজাল এসে সঠিক মানুষটিকে ভূপাতিত করে? পদে পদে বাধাগ্রস্ত হয়ে সঠিক মানুষটি কি অনুভব করে হয়তো তারই ভুল হচ্ছে?

এই উল্টো দুনিয়ায় একজন সোজা মানুষের প্রতিকূল যাত্রা নিয়ে ভারতীয় পরিচালক অমিত মাসুরকার ২০১৭ সালে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘নিউটন’। রাষ্ট্রের ধসে পড়া আমলাতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, গণতন্ত্র ও নির্বাচনের নামে নির্মম প্রহসন এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবন বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়ে সভ্যতার সংস্পর্শে আনার নাটকের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে ‘ডার্ক কমেডি’ ঘরানার এই চলচ্চিত্রে। ভারতের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এ চলচ্চিত্রটি অতিমাত্রায় প্রাসঙ্গিক।

দায়িত্ব-সচেতন নিউটনের কাছে তার অফিসের পরিবেশ প্রচণ্ড অদ্ভুত লাগে। কারণ সেখানে কর্মকর্তারা সুযোগ পেলে তাস খেলে, নখ কাটে আর বসে বসে সময় কাটায়। ঘুশ ছাড়া একটা ফাইলও নড়তে চায় না। কিন্তু এই ভঙ্গুর ব্যবস্থার কাছে নীরবে আত্মসমর্পণ না করে নিউটন স্বপ্ন দেখে পরিবর্তনের। নিজের কাজের মাধ্যমে সে সব সময় একটা পার্থক্য সৃষ্টি করতে চায়। চাকরিজীবনের শুরুতেই এমন একটি সুযোগ আসে নিউটনের।

বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ছত্তিশগড়ের দুর্গম জঙ্গল দণ্ডকারণ্যের একটি নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পায় সে। নকশালপন্থি এবং মাওবাদী অধ্যুষিত এই এলাকায় অন্য কেউ যেখানে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে সাহস পাচ্ছিল না, নিউটন সেখানে সানন্দে রাজি হয়।

দণ্ডকারণ্যের সেই জঙ্গলে মাত্র ৭৬ জন আদিবাসী ভোটারের জন্য স্থাপিত বুথে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হয় নিউটন। কিন্তু সকল প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সে তার দায়িত্ব পালনে কিভাবে একনিষ্ঠতার পরিচয় দেয় তা নিয়েই নির্মিত হয়েছে ‘নিউটন’ চলচ্চিত্রটি।

2
ছত্তিশগড় জঙ্গলে নির্বাচনের দিন সকালে নিউটন ও তার সঙ্গীরা।

দেখা যায়, ভোর চারটায় উঠে আট কিলোমিটার জঙ্গল পেরিয়ে দূরের একটি স্কুলে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য তৈরি হয় নিউটন। কিন্তু সেখানকার পুলিশবাহিনীর প্রধান অ্যাসিস্টেন্ট কমান্ডার আতমা সিং শুরু থেকেই মাওবাদী আক্রমণের কথা বলে তাকে ভীত এবং আতঙ্কিত করার চেষ্টা করে। বলে, ‘এতদূর এসেছেন, সেটাই যথেষ্ট। ভোটগ্রহণের আর কোনো প্রয়োজন নেই।’ কিন্তু নিউটনের একনিষ্ঠতার কাছে পরাজিত হয়ে ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হয় সে। শুরু থেকেই ভীতি এবং আতঙ্কের শীতল পরিস্থিতিগুলোতে আপোস না করে নিউটন পদে পদে কিভাবে মোকাবেলা করে, তা দর্শকদের মুগ্ধ করতে থাকে।


আধুনিকতার আবরণে জড়াতে গিয়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবন কিভাবে বিপন্ন হয়, তা সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলাই এই ‘ডার্ক কমেডি’টির অন্যতম সাফল্য।


এরপরেই উপস্থাপিত হয় চলচ্চিত্রের মূল সঙ্কটটি। ছত্তিশগড়ের ওই জঙ্গলে মূলত আদিবাসী জনগোষ্ঠী বাস করে। মাওবাদী সন্ত্রাসী হামলা নিয়ন্ত্রণের নামে সেখানে কায়েম হয়েছে পুলিশি শাসনব্যবস্থা। খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য গ্রামের একাংশ জ্বালিয়ে দিয়ে আদিবাসীদেরকে সুকৌশলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আরেক পাশে। কাজেই যে জঙ্গল ছিল আদবাসীদের একান্ত নিজস্ব, সেখানেই তারা পরাধীন হয়ে পড়েছে। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, মতামত কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে সেখানে কায়েম করা হয়েছে ভীতি, আতঙ্ক এবং ত্রাসের রাজত্ব। তবে সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার এই যে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সব ধরনের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গণতন্ত্রের নামে তাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে নির্বাচন নামক প্রহসনের।

3
ছত্তিশগড় জঙ্গলের আদিবাসী জনগোষ্ঠী।

ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ভোটকেন্দ্র স্থাপন সত্ত্বেও নির্বাচন নিয়ে ধারণা না থাকায় কাউকে ভোট দিতে আগ্রহী হতে দেখা গেল না। অথচ ‘মাত্র ৭৬ জন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্যও গভীর জঙ্গলে স্থাপিত হয়েছে ভোটকেন্দ্র। ভারতীয় গণতন্ত্রের কী মাহাত্ম্য!’—এমন কাজের তো প্রচার অবশ্যই চাই। কাজেই দেশের এবং বিদেশের কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সেখানে আসতে চাইলেন পুলিশের ডিআইজি। সেই খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ছুটে গেল আদিবাসী পল্লিতে। জোরপূর্বক ধরে আনা হলো বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, নারী-পুরুষ সকলকে। অথচ নির্বাচনে কারা দাঁড়িয়েছে, বা ভোট কিভাবে দিতে হবে সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই। নিউটন তাদেরকে নির্বাচনের নিয়মকানুন বুঝিয়ে বলতে যথাসম্ভব চেষ্টা করে এবং মালকো নেতাম নামের একজন স্থানীয় স্কুলশিক্ষিকা তার কথা স্থানীয় ‘গণ্ডি’ ভাষায় রূপান্তর করে আদিবাসীদের বোঝাতে সাহায্য করতে চেষ্টা করে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে তার সে প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা না দিলে নিউটনকে জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে আতমা সিং বলে ওঠে, ‘ভোট দেওয়া খুবই সহজ কাজ। ভোটিং মেশিন হলো একটা খেলনার মতো এবং এটা দিয়ে খেলাও খুব মজা। গাজর আছে, মোটরসাইকেল আছে, জাহাজ আছে, পশুপাখি আছে, ফুল আছে, মগ আছে—যেটা আপনাদের পছন্দ হয়, সেটার পাশের বোতামে টিপ দিলেই হলো। কাজ শেষ।’

কাজেই আদিবাসীরা গাজর, মোটরসাইকেল, জাহাজ, পশুপাখি, ফুল, মগ যার যেটা ভালো লাগে সেটায় টিপ দিতে থাকে। অন্যদিকে দেশের এবং বিদেশের সাংবাদিকরা তাদের টিভি রিপোর্টে বলতে থাকে, ‘গণতন্ত্রের প্রতি কী দারুণ নিষ্ঠা! মাত্র ৭৬ জন ভোটারের জন্যও আছে নির্বাচনী কেন্দ্র। ভারতীয় গণতন্ত্রের নেই কোনো তুলনা… ইত্যাদি ইত্যাদি!’ ভোট দেওয়া শেষে আঙুলের নখের কালি দেখিয়ে তাদের ছবিও তোলা হয়।

4
ভোটকেন্দ্রে আগত আদিবাসীদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনের নিয়ম জানাচ্ছে নিউটন ও তার সঙ্গীরা।

কালিমাখা নখ উঁচু করে দেখানো আদিবাসীদের সকরুণ মুখ আমাদেরকে লজ্জিত করে। আদিবাসীদের মোরগ-মুরগি রান্না করে খাওয়া, কিংবা মতামতের তোয়াক্কা না করে ভোট দিতে ধরে আনার এসব দৃশ্য থেকে আদিবাসীরা তাদের আপন ভূমিতে কিভাবে পীড়িত হয় এবং কোন ক্ষোভ থেকে তারা তথাকথিত সভ্যতা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে, তা আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আধুনিকতার আবরণে জড়াতে গিয়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবন কিভাবে বিপন্ন হয়, তা সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলাই এই ‘ডার্ক কমেডি’টির অন্যতম সাফল্য।

খনিজ পদার্থ আহরণের উদ্দেশ্যে অথবা পর্যটনকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে আদিবাসীদের জীবন বিপন্ন করার এই হীন পন্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। ভারত বা বাংলাদেশ ছাড়াও একই ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে পুরো বিশ্বজুড়ে। আদিবাসীরা তাদের আপন ভূমিতে ঠিক কী চায়, তা না জানতে চেয়ে এসব ‘গণতন্ত্রের আয়োজন’ কিংবা ‘জাতীয় নির্বাচনে আদিবাসীদের ভোট গ্রহণ’—নির্মম রসিকতার বাইরে আর কিছু নয়।

5
আঙুলের এই কালি কি নির্বাচনের, নাকি নির্মম প্রহসনের?

তবে ‘নিউটন’ চলচ্চিত্রে ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনে সভ্য মানুষের উৎপাত’ কিংবা ‘নির্মম নির্বাচনী প্রহসনে’র ঊর্ধ্বে মুখ্য হয়ে উঠেছে নিউটনের সৎসাহস এবং দায়িত্ব, নিষ্ঠা। সমাজে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনিয়ম চলতে থাকলে একসময় অনিয়মই যেন ‘নিয়ম’ হয়ে দাঁড়ায়। কাজেই আমাদের আমলাতান্ত্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থায়ও ফাঁকিবাজি কিংবা দায়িত্বহীনতাই যখন নিয়মে পরিণত হচ্ছে—তখন নিউটনের এই ‘কর্মনিষ্ঠা’ এবং ‘দায়িত্বশীল আচরণ’ আমাদেরকে যেন ভিন্ন কিছু দেখায়। ঠিক যেমনটা হওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকে দূরে সরে আমরা কোথায় অতলে ডুবে যাচ্ছি—সেই পতনের দিকে আঙুল তুলে নির্দেশ করে।


নিজের কাজটা সঠিকভাবে পালন করলেই বদলে যাবে সমাজ-রাষ্ট্র-পৃথিবী।


বেলা তিনটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের নিয়ম থাকায় নিউটন ঠিক ওই সময় পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে বসে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের যেহেতু ভোটগ্রহণ দেখানো শেষ—আতমা সিং ও তার দল দুপুরের পরেই বিদায় নিয়ে ক্যাম্পে ফিরে যেতে চাইল। মাওবাদীদের মিথ্যা অ্যামবুশের ভয় দেখিয়ে নিউটনকে ও তার দলকে ভোটকেন্দ্র থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো। তাদের এই শঠতা বোঝা মাত্রই অস্ত্র এবং পোশাকধারী এতগুলো মানুষের মাঝে সচেতনভাবে প্রতিবাদ করে নিউটন। পথিমধ্যে তিনজন ভোটার পেলে তাদের ভোট নেওয়ার জন্য পুলিশ-সদস্যদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় সে। আপন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে গিয়ে সে পুলিশ-সদস্যদের দ্বারা শারীরিকভাবে নিগৃহীত হয়। কোনো ধরনের অতিনাটকীয়তা কিংবা শারীরিক বলবীর্যের পরিচয় না দিয়েও এখানে তাই অবশেষে জয় ঘটে নিউটনের, জয় ঘটে তার দায়িত্বনিষ্ঠার এবং কাজের প্রতি সততার।

6
সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের দ্বারা নিগৃহীত নিউটন।

সব অন্যায় মেনে নেওয়ার এই আত্মকেন্দ্রিক সময়ে সাহসের কোনো উজ্জ্বল নিদর্শন সহজে চোখে পড়ে না বলেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে নিউটনের এই একনিষ্ঠতা অনেকক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। তবে সকল বাধা পেরিয়েও আপন কর্তব্য কিভাবে সঠিকভাবে পালন করা যায় তার একটি উজ্জ্বল নিদর্শন দৃশ্যমান হয় আমাদের কাছে। আমরা বিশেষভাবে অনুভব করি যে, আমাদের আলাদা কোনো কিছু করার দরকার নেই। শুধু নিজের কাজটা সঠিকভাবে পালন করলেই বদলে যাবে সমাজ-রাষ্ট্র-পৃথিবী।

7
নিউটন চরিত্রে রাজকুমার রাও।

এই চলচ্চিত্রে নিউটনের চরিত্রে রাজকুমার রাও, আতমা সিংয়ের চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী এবং মালকো নেতামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অঞ্জলি পাতিল। চিত্রনাট্যের আকর্ষণীয় গাঁথুনি চলচ্চিত্রটি দেখার সময় দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধের মতো ধরে রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। রসপূর্ণ কিছু সংলাপ আলাদাভাবে ছাপ রেখে যায় দর্শকের মনে। একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। নিউটনের প্রথাবিরোধী আচরণ এবং হার না মানা মানসিকতা দেখে আতমা সিং তাকে জিজ্ঞেস করে বসে, ‘ক্রিকেট খেলতেন ছোটবেলায়? কী ছিলেন ব্যাটসম্যান, নাকি বোলার?’ নিউটন উত্তর দেয়, ‘আম্পায়ার।’ আতমা সিং তখন বলে, ‘হুম। এমনই মনে হয়েছিল।’ নিউটনের স্বাতন্ত্র্য এভাবেই ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চলচ্চিত্রে। এছাড়া জঙ্গলের প্রাকৃতিক পরিবেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে অসাধারণ সিনেমাটোগ্রাফি এবং যথোপযুক্ত আবহসংগীতের সুনিপুণ সমাবেশ চলচ্চিত্রটিকে বিশেষত্ব প্রদান করেছে।

8
‘নিউটন’ চলচ্চিত্রের একটি পোস্টার।

৬৭তম বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হয় ‘নিউটন’। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ এটি ভারতে মুক্তি পায়। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আসরে ওই বছরে ‘হিন্দি ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ হওয়ার পাশাপাশি অজস্র পুরস্কার এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায় অমিত মাসুরকার নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি। এছাড়া অস্কারের ৯০তম আসরে ‘বিদেশি ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ভারত থেকে নির্বাচিত হয় ‘নিউটন’।

এই বিপন্ন সময়ে সততা এবং দায়িত্বনিষ্ঠার একটি অন্য রকম গল্প বলার পাশাপাশি সমাজের অলিখিত কিছু দুরূহ সমস্যায় আলো ফেলেছে ‘নিউটন’। তাই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন করে সভ্য সংস্কৃতির নির্বাচনসহ অন্যান্য উৎপাত নিয়ে চিন্তা উৎপাদন ছাড়াও দর্শকের মনে চলচ্চিত্রটি বিশেষ ছাপ রেখে যায়।


মূল পাতার লিংক : পরস্পর ঈদ আয়োজন ২০২০

নাফিস সাদিক

জন্ম ২ এপ্রিল, ১৯৯৯; কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা। নিজ এলাকাতেই শিক্ষাজীবনের সূচনা। কৈশোর কেটেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত।

ই-মেইল : nafissadik72@gmail.com