হোম গদ্য মুজিব মেহদীর ‘নারীমাছের বিবিধ কানকো অন্যান্য সব্জীআনাজ ও উচ্ছিষ্টভোগীরা’

মুজিব মেহদীর ‘নারীমাছের বিবিধ কানকো অন্যান্য সব্জীআনাজ ও উচ্ছিষ্টভোগীরা’

মুজিব মেহদীর ‘নারীমাছের বিবিধ কানকো অন্যান্য সব্জীআনাজ ও উচ্ছিষ্টভোগীরা’
186
0

১.
কার নেই কোন আজ, পুরোটা বেকার
কখনো কি ছিল? ছিলই তো
অন্তত একটা বসবার ঠাঁই ঘাসপাতা ঘেরা
ফুলদল প্রজাপতি নীল ফোয়ারা কাছেই ছিল
ছিল খিড়কিও। অদূরেই
অাফ্রোদিতি পুরুরবা এবং পার্বতী মিলে
জল কাড়াকাড়ি। স্নানদৃশ্য!
পড়শি পাখিরা ঠোঁটে যবধান নিয়ে
এসে বসত। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যেমন খুশি ভেগেবন্ডে খেয়ে
ডালে ডালে ছড়িয়ে রাখত মরাতুষ
রোদের ও কুয়াশার ঘ্রাণ মেখে ফেলে যেত অনন্ত পালক
বিবিধ বিষ্ঠা, রক্ত, থুথু, কফ। আমি
পালকের জামা পরে আবর্জনাগুলো নিজহাতে
যতনে খেতের আ’লে রেখে আসতাম।

পাহাড়ি শূকর নেমে দলে দলে কৃষকের ঘামের ফসল
যেভাবে গোপনে অন্ধকারে তছনছ করে যায়
কৃষকপাড়ার আকাশে মন্দ্রিত হয় দীর্ঘজীবী হাহাকার
যেভাবে মহাজনের ফেরারি দু’হাত
ঢুকে যায় কৃষকের পেটের ভেতর
নীলকর যেভাবে তীব্র শুষে নিত চাষির রক্তের কণা
আমি কি তেমন কোনো শূকর গো? মহাজন? ফিরিঙ্গি সাহেব?
আমার পিছনে কেন লেলিয়ে দিলেন তবে আপা
বিষাক্ত তেল্লার সারি, সাপখোপ? প্রাণের পিদিম
বুঝি নিভে যায়—হাতে পায়ে মরচে, পেটে শ্যাওলা
মগজের কোষে কোষে মাকড়শা-জাল।

কার নেই উচ্ছিষ্টভোগীর
পুরোটা বেকার,
অমূল্য উচ্ছিষ্টে আজ নিপতিত শৃগাল কুকুল
শকুন গৃধিনী কাক গোঁৎ গোঁৎ উড়িতেছে আকাশ সীমায়।

২.
স্বদেশে যে পরবাসী কে কখন কবে কোনদিন
তারে ছায়া দিয়েছিলে রোদে
মনে থাকবে গো।
খাঁ-খাঁ অন্ধকার সৌরদিন খোলা উন্মাদ বাতাসের কাছে
আলোক বন্ধকী রেখে কবে সৌরভ দক্ষিণা চেয়ে ফিরেছিল
কার না মনে রয় সেসব?
তুমি ভুলে গেছো ঝাউবন
খয়ের গাছের সারি, মিনজিরি ফুল?
এই পাথরের স্নানঘাট তুমি জানো, তুমি শুক্লারোদ জানো
কোনোদিন বলবে না বলে কিড়া ছিল
না বর্ষায় না চাঁদনী রাতে
পাকুড় বটের কিড়া, কিড়া নিশিন্দা দূর্বাঘাসের।

বাঁকা বলে কোনো পথ নেই নিরানন্দের। একটা
না একটা কোনো সুর থাকে
একটা না একটা কোনো নন্দনপোকা
মাথার ভেতরে ঢুকে কাটবেই সুতা
গান্ধীজি, চরকা, তাঁতিগণ, চাঁদের বুড়ি এবং
আমাদের তরুণ হোসিয়ারীবিদরা;
হাত কাটা যাদের নিয়তি ছিল সেইসব মসলিনের শ্রান্ত কারিগর
আহা মসলিন, আহা চন্দ্রতাঁত আহা!

সব দরোজায় তালা। আমার বাইরে না তাকিয়ে
আর কি বিকল্প বলো দুপুরের ভাত?
তোমার হৃদয় পেতে এ আমার
আরও যে কতদিন যাবে!

৩.
মাত্র একটা পেট্রোল বোমা লাগে নেশাখোরদের
মারতে। মূর পোটার ওহে
মা জননী তোমার গূঢ় দাক্ষিণ্য চাই
ঘাড়ের উপর দিয়ে বাঁ’হাতটা এনে
প্রাপ্য স্তনের বদলে দাও যদি দেবে
চরম প্রাপ্তিটা আজ হাত পেতে নেই।
ঈশ্বরের ওইসব সন্তানেরা সূর্যজল, পাথর ও বৃক্ষে মাতোয়ারা
ভুলে আছে বর্তমান এবং গেলাসে গেলাসে গিলে
ঐশীঘুম, হেরার গুহায় আর বোধিবৃক্ষতলে, ঘনবৃন্দাবনে
বেড়িয়ে আসছে দলে দলে।

বিস্ফোরণ ঘটে গেলে দ্রুত
কেউ একজন আমাকে মনে করিয়ে যেন দেয়…
অন্তত একটা খিম্মা গড়ো, কাঠে, মূরের স্মরণে
আমি ঝাঁপিয়ে পড়ব শুভ সে আগুনে
মা জননী ঝাঁপিয়ে পড়ব।

৪.
পাহাড় জ্যোৎস্নার মতো জ্যোৎস্না পাহাড়ের
আমি কার কানে মন্ত্র ঢালি
কার সুখে তালি দেই, কার দুঃখে কাঁদি।
ছোঁ মারা চিলের মতো বৃষ্টি এসে নিয়ে গেল
উঠোনের ধানের উষ্ণতা
কিষানবধূর চোখের সামনে ধড়ফড় ক’রে
প্রিয় সন্তানের মতো মরে গেল রোদ।
তার চির জীবনের শুকনো ক্ষুধা। মেঘের শিমুল গাছের
ডালে বসে পিতলে বাঁধাই করা ঠোঁট দিয়ে ছিঁড়ে
আকাশকে দেখিয়ে করে শুষ্কতা পান,
আমি কার বিরুদ্ধে নালিশ তুলব গো?
বাদশা সোলেমানের বৃষ্টি
বৃষ্টির বাদশা সোলেমান,
চাষিরা তো চিরকাল তার উচ্ছিষ্ট খেয়েই বাঁচে।

আহা শ্যামাঙ্গিনী!
আহা পীতাঙ্গিনী! কী সুন্দর তোমরা একে অন্যের।

৫.
আপা আপনাদের বিরহ ঐ কাশবন, ধঞ্চেগড়
আপা আপনাদের প্রেম বুড়ো ঝাউগাছ
মাঝখানে নদী, যুবতী স্রোতের সারি
ঝিং চাক ঝিং ঝিং চাক

আপা আপনাদের স্থিরচিত্রগুলো সুখ
মিষ্টি মিষ্টি খেলা
আপা আপনাদের চলচ্চিত্রগুলো কষ্ট
মরুবিছা, সাপ
ঝিং চাক ঝিং ঝিং চাক

আমার ভালো লাগছে ভালো লাগছে আনন্দে অঢেল সুর উঠেছে ভেসে
ছি হুইপ…
নদী পার হলাম বালক মাঝি বিড়ি সম্বল কাজলী মাছ ঝুপাঝুপ
ছি হুইপ…

আপা কাজলী মাছের ঝোলটা বেজায় স্বাদের… আহাহা আহা
আপা তোমার সুরত সমান সমান চাঁদের… আহাহা আহা

আপা রোদে পুড়ে মরতে কেমন লাগে
আপা সঙ্গে যদি প্রাণের মানুষ থাকে
আপা স্বপন পারের ডাক শুনেছেন ঠিক… বাহা
ভালোই তো গান
আপা হারায়ে গেছে স্বপ্নলোকের চাবি… কী যে
মরণ তুফান

হা হা হা হা হা হি হি হি হি হি

৬.
ক্ষুধার্ত বর্ষার কাক। পাখে জলকণা। ঠোঁটে দ্রোহ!
উড়ছে উড়ছে… শ্যেন চোখ।
কালো পিঁপড়ের মনে রাশি রাশি দালালের হাট
আর এটা খাদ্য গুদাম তো?
খোঁজ নিয়ে দেখা যেতে পারে।

ঝাড়ু ও বালতি বল তো হে,
গুদামের ঘরে আজ ঝাঁটটাট হবে কি না আর
কাকের খুচরো খাদ্য কাকের মুখের থেকে কেড়ে নিয়ে কারা
তুলে দিচ্ছে চোরেদের হাতে
জানা থাকলে আমাকে কানে কানে বলো।
বিজাতীয় ‘তুততু তারা তুততু তারা’ই নইলে
গেয়ে যাও সুইপার ভাই
মুখ ভরা তোমার যে ভুরভুর করা বাংলা মদের ঘ্রাণ
আমার আপত্তি নেই যদি মালতীকে চেনোজানো
উড়তে উড়তে পাছে তোমার আস্তানা হয়ে এসে
সুইপার কলোনির মালতীর থেকে কাগজ টাগজ নিয়ে
কোর্টে কোর্টে ঠুকব নালিশ।

যতই নিচে থেকে ডাকুক কসাইয়ের দোকান, মিষ্টিঘর
গরম গরম কিমা পুরি
আমার তাতে বয়েই গেছে।
ছোঁ মারা শিখি নি কভু পরের জিনিসে,
আমাদের উচ্ছিষ্ট হলেই চলে, আতুড়ি ভুতুড়ি।

৭.
এমনকি আমি দাঁড়িয়েও যেতে পারি সিট ছেড়ে।
বৈধতারহিত আমার ভার্সিটি বাসে;
রোদ ভালো না লাগলে আপা
চমৎকার লাগবে এদিকে ছায়ায়
দেখে যাও সিসুগাছগুলো তোমার সে বয়সের মতো আপা
নাচানাচি করছে। একে অন্যকে চুমে চুমে গাল মুখ লাল
করে দিচ্ছে সবুজানুকূল গাঢ় বালক বালিকা

আমি নামতাম
আমি নেমেই যেতাম তুমি নামবে আগে জানলে।
আজ সারা দুপুর ভরে কাঁদব আপা
বুকের কাছে ভাসাব মৃণাল পুকুর
তুমি বনভূমি আপা প্লিজ কাঁটার ভয় না করে
একটানে আমার কলজেসুদ্ধ ছিঁড়ে নিয়ো একটি মৃণাল;
তবু তো বুঝব তুমি একবার ফিরেছ আমার দিকে।

আমি সাঁতার দিতাম। কাঁটার কুশিতে
আপা আঁকতাম শরীরময় রক্তের থোকা থোকা আলপনা
নির্ঘাত, তুমি সাঁতার শিখেছ আগে জানলে।

৮.
শুধু কি আমিই চিনি না গাছ, গাছও
আমাকে চেনে না মাঝেসাঝে
অনাত্মীয়ের মতন মাথার উপরে ছুড়ে ফেলে ঝুপ ঝুনা নারকেল
শুকনো মরা পা হাত, পাঁজরের হাড়।
পাখিরা চেনে না
চুনের মতন বর্জ্য ঢেলে বয়সকে পাকিয়ে বানায় সাদা;
চেনে না মনসা দেবী, পথে পথে ফণার বিস্তার।

উদয়পদ্মের ঝোপে অস্ত গেল যে লাল ওড়নাখানি
আমি তার কতটুকু জানি?
জোড়াটুপির বিব্রতি তার
এখনো কেটেছে কি কাটে নি
কতটা লৌকিক সে কতটা
আধুনিকা কিছুই বুঝি না।

ব্রহ্মপুত্রের ওপারে কাশের বনের ধারে যার মেহেদী আঙুল নড়ে
আমি যার ভেতরেও নামি—লাল ওড়না তার ধুনটা জানে।

৯.
যে ভেজায় শুকায় সেই তো।
তবু কথার শেষ নেই। আপন আনন্দে সে আছে
কে জানে কোথায় বেতের ঝোপে। কাঁটায়
আটকে গেলে নইলে কে এভাবে ছাড়িয়ে আনত
মৃদু ধাক্কা দিয়ে?

পাখিই তো আমি এ ডাল সে ডাল করি
ইপিল ইপিল ছেড়ে আলবিদা গোড়ানিম—আমাকে লজ্জার কী গো!

ছাতিমতলার অন্ধকারে উবু হয়ে বসে আছি
শ্মশানের ঘাসে—মরাপোড়া গন্ধ এসে নাকে লাগে।
গরুর লাশের নৌকায় চড়ে ঠুকরে খেতে খেতে কাক যায়
ভিনদেশে পেটের বাণিজ্যে;
আমি তার কালো পালে চেয়ে থেকে ভাবি
যে ভাসায় ডোবায় সেই তো!

[প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫, একবিংশ ১৪]


আমি বরং এই প্রশ্নটি তুলতে আগ্রহী যে, নানা কারণে মৌলিকত্ব-ধারণকারী এ-কবিতাটি কোন দোষে এখনও পর্যন্ত অগ্রন্থিত।


খণ্ড খণ্ড দৃশ্য-চিত্র আর প্রতীক ও বাস্তব মিলে কবিতাটি যে-অনন্য রূপ পেয়েছে, তাতে এটি কোনও অখণ্ড শিল্পকৃতি হয়ে উঠল কি না সে-প্রশ্নটাই অবান্তর। একই শিরোনামে নয়টি পর্বে রচিত কবিতাটি যার তিনটি পর্বে রয়েছে একটি চাবিশব্দ : উচ্ছিষ্ট, আর, কবিতাটির শিরোনামও ‘নারীমাছের বিবিধ কানকো অন্যান্য সব্জীআনাজ ও উচ্ছিষ্টভোগীরা’। এর নয়টি পর্বের মধ্যে দৃশ্যগ্রাহ্য কোনও যোগসূত্র আছে কি না, সে-বিষয়ে আমার একটাই কথা : অঝোর বর্ষণে একই ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে সাত সুন্দরীকে ভিজতে দেখে, এইভাবে তাদের দাঁড়ানোটা ঠিক হলো কিনা সে-প্রশ্ন তুলবার মতো অরসিক আমি নই। আমি বরং এই প্রশ্নটি তুলতে আগ্রহী যে, নানা কারণে মৌলিকত্ব-ধারণকারী এ-কবিতাটি কোন দোষে এখনও পর্যন্ত অগ্রন্থিত। কবিতাটির প্রকাশকাল ১৯৯৫, আর মুজিবের প্রথম কবিতার বই বের হলো ২০০১ সালে, একজন তরুণ কবির পক্ষে অর্ধযুগ অনেক দীর্ঘ সময়। ইতোমধ্যে তার কাব্যচিন্তার পরিবর্তন ঘটাও অবাস্তব নয়, কিন্তু যে-কবিতাটিতে রয়েছে এমন কিছু অসাধারণ বাক্য, লোক-উৎসজাত কিছু চমৎকার উপমা, আনকোরা শব্দের যথার্থ তৎপরতা, আপাতহালকা কিছু অনুভবের উত্তরণোপযোগী সার্থক কল্পনা, পুরাণ-ব্যবহারে বাস্তবনির্ভর ব্যঞ্জনা, এবং এর সঙ্গে কোনও-কোনও পর্বে সমাজের কিছু অসংগতির প্রসঙ্গ—সেরকম একটি কবিতা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত না-হওয়া কবি ও পাঠক উভয়ের জন্যে দুর্ভাগ্যের ব্যাপার। কবিতাটি আমাকে সেই পঁচানব্বই সালে আকৃষ্ট করছিল বলে প্রথম বই মমি উপত্যকা হাতে নিয়ে এই কবিতাটি খুঁজেছি, কিন্তু তার বদলে বইটিতে পেয়েছি নিকট-সময়ে লিখিত এমন কিছু কবিতা যেখানে রয়েছে কবির সদ্যায়ত্ত কিছু বিশেষ মুদ্রা। স্বীকার করতে বাধ্য, সেই মুদ্রাচিহ্নিত কবিতাগুলোতে ছিল সময়ের নানা অনুষঙ্গ, তাই হয়তো প্রয়োজন ছিল তৎসম ও সমাস(-বদ্ধ) শব্দ ও শব্দবন্ধ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে ভর তৈরি-করা, কিন্তু আমার পক্ষে ভোলা কষ্টকর ছিল অতি আলগোছে-বাঁধা উক্ত কবিতা-পাঠের উজ্জ্বল স্মৃতি। এই লেখাটিকে সেই স্মৃতি-রোমন্থন বা স্বগত মন্থনের লিখিত রূপ হিসেবে ধরে নিলেও ক্ষতির কিছু নেই।

কবিতাটি শুরু হয়েছে এই তথ্য দিয়ে যে, আজ তার কোনও কার/ কাজ নেই, সম্পূর্ণ বেকার, কিন্তু একসময় তারও কাজ ছিল, ছিল ঘাসপাতা-ঘেরা বসবার ঠাঁই, ছিল ফুলদল প্রজাপতি, নীল ফোয়ারা, খিড়কি আর অদূরে আফ্রোদিতি-পুরুরবা-পার্বতীর জল কাড়াকাড়ির দৃশ্য। ফুল-পাতা-প্রজাপতিকে সৌন্দর্যের প্রতীকরূপে ভাবাটাই সঙ্গত, কিন্তু এর সঙ্গে ভিন্নরূপ পৌরাণিক চরিত্রের জল কাড়াকাড়ির বর্ণনা কেন?

আফ্রোদিতি গ্রিক পুরাণের প্রেমের দেবী, সমুদ্র-উদ্ভূতা ও আজন্মযৌবনা, রোমান-পুরাণে যার নাম ভেনাস; পুরুরবা(-উর্বশী)’র প্রণয়কাহিনি ভারতীয় পুরাণে বহুরূপে বর্ণিত : উর্বশীকে সশর্ত বিয়ে করার পর স্বর্গের গন্ধর্বদের যড়যন্ত্রে/ কৌশলে শর্তভঙ্গে বাধ্য হন এবং উর্বশীকে হারান পুরুরবা, এরপর তার খোঁজে দেশ-বিদেশ ঘুরতে-ঘুরতে কুরুক্ষেত্রে চার চার জন অপ্সরার সঙ্গে স্নানরত অবস্থায় উর্বশীকে দেখে তাকে প্রত্যাবর্তনের জন্য অনুরোধ করেন; পার্বতী হলেন মহাদেবের স্ত্রী, যজ্ঞসভায় পতিনিন্দা সহ্য করতে না পেরে মারা যান এবং পুনরায় পর্বতরাজ হিমালয়ের স্ত্রী মেনকার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন, তারপর তপস্যা দ্বারা মহাদেবের পতিত্ব লাভ করেন—এই তিনটি চরিত্রের জলক্রীড়াচিত্র উপস্থাপনের নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষত স্নানদৃশ্যে পর্বতকন্যা সতী পার্বতীর উপস্থিতিতে দৃশ্যের রসভঙ্গই হয় যেন, কিন্তু কবি/ দ্রষ্টা নিজেকে পুরুরবারূপে কল্পনা করলে আফ্রোদিতি-উর্বশীর জল কাড়াকাড়ি দৃশ্যে তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যায়। অথবা পুরাণ-কারণ ভুলে গিয়ে শুধু তিনটি চরিত্র হিসেবে দেখলেও উপস্থাপনা-গুণে বর্ণনাটি সুন্দর হয়ে ওঠে। কিন্তু, একই স্তবকে-উল্লিখিত এর পরের দৃশ্যগুলো আগের দৃশ্যের সঙ্গে পরম্পরা তৈরি করে না বোধ হয়, তবে দেখার সূত্রে দ্রষ্টার সঙ্গে এর যুক্ততা থাকতেই পারে :

পড়শি পাখিরা ঠোঁটে যবধান নিয়ে
এসে বসত। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে যেমন খুশি ভেগেবন্ডে খেয়ে
ডালে ডালে ছড়িয়ে রাখতে মরাতুষ
রোদের ও কুয়াশার ঘ্রাণ মেখে ফেলে যেত অনন্ত পালক
বিবিধ বিষ্ঠা, রক্ত, থুথু, কফ। আমি
পালকের জামা পরে আবর্জনাগুলোকে নিজহাতে
যতনে খেতের আ’লে রেখে আসতাম

জানি না কেন নিজ হাতে আবর্জনাগুলোকে খেতের আলে রেখে আসতে হয়, এর সঙ্গে ফসল-উৎপাদনের কোনও সম্পর্ক জড়িত কিনা তাও জানি না, এছাড়া এও জানি না যে, পালকের আগে ‘অনন্ত’ বিশেষণটাই বা কেন।

পরের স্তবকটি শুরু হয়েছে পর পর তিনটি উপমার বর্ণনার মধ্য দিয়ে। উপমা তিনটি শূকর, মহাজন এবং নীলকর/ফিরিঙ্গি সাহেব। সাধারণত উপমার ব্যবহার হয় পাঠকের কাছে পাঠ/ উপমিত বিষয়ে সম্যক/ স্বচ্ছ ধারণা পৌঁছে দেওয়ার জন্য, তাই উপমা স্বভাবতই পাঠ-সহযোগী, কিন্তু এখানে তিনটি উপমা আমাদের সমাজ-ব্যবস্থার নগ্ন রূপকে এমন সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে, উপলক্ষটি পাঠ/ লক্ষ্য অতিক্রম করে গেলেও কেউ একে দূষণীয় ভাববেন বলে মনে হয় না। কবি লিখেছেন, শূকর মহাজন নীলকর/ ফিরিঙ্গি সাহেব যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, শোষণ করে, তিনি তো সেরকম কেউ নন, তাহলে তার প্রতি (আপার) এমন অবহেলা কেন?

আমি কি তেমন কোনো শূকর গো? মহাজন? ফিরিঙ্গি সাহেব?
আমার পেছনে কেন লেলিয়ে দিলেন তবে আপা
বিষাক্ত তেল্লার সারি সাপখোপ? প্রাণের পিদিম
বুঝি নিভে যায়—হাতে পায়ে মরচে, পেটে শ্যাওলা
মগজের কোষে কোষে মাকড়সা-জাল

নয় পর্বের এই কবিতাটিতে একটি ব্যাপার সুলভ : আপার উপস্থিতি—বিশেষত তার অবহেলা—যাকে লক্ষ্য করে কিশোর/ যুবক/ প্রেমিক/ কবি/ দ্রষ্টা-র অন্তরঙ্গ বর্ণনা, এবং ‘উচ্ছিষ্ট’ শব্দের নানার্থ ব্যবহার। এই পর্বের শেষ চার পঙ্‌ক্তিতে উচ্ছিষ্ট শব্দটি দুইবার ব্যবহৃত : কার নেই উচ্ছিষ্টভোগীর/ পুরোটা বেকার,/ অমূল্য উচ্ছিষ্টে আজ নিপতিত শৃগাল কুকুর/ শকুন গৃধিনী কাক গোঁৎ গোঁৎ উড়িতেছে আকাশ সীমায়’। এখানে উচ্ছিষ্টভোগী কি কবি? মনে হয় না; অমূল্য উচ্ছিষ্টে নিপতিত যে শৃগাল ও কুকুর সেটি বাস্তব না প্রতীক, তাও বোঝা মুশকিল, তবে শকুন গৃধিনী কাক প্রভৃতির গোঁৎ গোঁৎ ওড়ার দৃশ্যে পূর্বপাঠ-অভিজ্ঞতার কারণে—খুব প্রাসঙ্গিক না-হলেও—দেশপরিস্থিতির কথাটাই মনে করিয়ে দেয়।

দ্বিতীয় পর্বের শুরু হয়েছে একজন ছায়াদাত্রীর উল্লেখ করে : ‘স্বদেশে যে পরবাসী কে কখন কবে কোনদিন/ তারে ছায়া দিয়েছিলে রোদে/ মনে থাকবে গো’, কিন্তু এই ‘কে’ সর্বনামটি কার/ কিসের সর্বনাম? যাদের/ যা-কিছুর মাধ্যমে প্রকৃতি রূপময় তাদের কারও? এরকম কোনও বাস্তব হলে কবিতাটির সেরকম কোনও তৎপরতা থাকে না আমাদের কাছে, তবে মনে হয়—অন্তত এরকমই কাঙ্ক্ষিত—এই ‘কে’ আসলে ‘তুমি’, ‘তুমি’ মানে আপা। তা হলে যে-প্রকৃতি পরবাসী কাউকে/ কবিকে শরণ ও শুশ্রূষা দিয়েছে, তার চেয়েও সত্য যে-প্রকৃতি, তা হলো ওই নারীপ্রকৃতি, যাকে লক্ষ্য করে বলা যায় :

তুমি ভুলে গেছো ঝাউবন
খয়ের গাছের সারি, মিনজিরি ফুল?
এই পাথরের স্নানঘাট তুমি জানো, তুমি শুক্লারোদ জানো
কোনোদিন বলবে না বলে কিড়া ছিল
না বর্ষায় না চাঁদনী রাতে
পাকুড় বটের কিড়া, কিড়া নিশিন্দা দূর্বাঘাসের।

এমনও ভাবা যায় যে কবি ঝাউবন, খয়ের গাছ, মিনজিরি, স্নানঘাট শুক্লারোদকে সম্বোধন করে কথা বলছেন; তারপরও প্রশ্ন জাগে, তা হলে আশ্রয়দানের ব্যাপারটিকে লুকোনোর জন্য কিড়া কাটা কেন? বরং এই গোপনতার কারণটি পূর্বের কোনও অভিসারপর্বেরই ইঙ্গিত দেয়। এরপরও, শেষ পর্যন্ত তার কোনও যোগসূত্র থাকে না, থাকে না বলে পুরো পর্বটি জুড়ে হাহাকারের আবহাওয়া; থাকে না বলেই পরের স্তবকে থাকার-যুক্তি উপস্থাপন করে চলে গেছেন অন্য বিষয়ে, সমাজ-বাস্তবতায়—হাত-কাটা যাদের নিয়তি, মসলিনের সেই সব কারিগরের প্রসঙ্গে। শেষ স্তবকে গিয়ে ফের সমে ফেরা : ‘তোমার হৃদয় পেতে এ আমার/ আরও যে কতদিন যাবে!’ এই ‘তুমি’ আপা না হয়ে আর কে হবে?

নয় পর্বের এই কবিতাটির প্রবণতা বিচার করলে তৃতীয় ও ষষ্ঠ পর্বকে প্রক্ষিপ্ত বলে ভ্রম হয়, বা একই শিরোনামক নয়টি পৃথক কবিতাকে একটি কবিতা হিসেবে ধরে-নেওয়ার কারণেই হয়ত এমনটি—প্রক্ষিপ্ত/পারম্পর্যহীন—মনে হচ্ছে। পর্ব দুটিতে রয়েছে অন্যান্য পর্বের তুলনায় অধিকতর গতি ও দ্রোহ-প্রতিবাদের নানা অনুষঙ্গ; ষষ্ঠ পর্বের শেষ পঙ্‌ক্তিতে অবশ্য ‘উচ্ছিষ্ট’ শব্দটিও রয়েছে, কিন্তু এতে যা নেই—বিরহ আফসোস হাহাকার, আপার সুদূরতাবিধূরতা-বিষয়ক প্রসঙ্গ আর কবিতাটির রূপময় প্রাকৃতিক বর্ণনা। যোগসূত্রের কথা বাদ দিলে, আলাদাভাবে, সময়-পরিপ্রেক্ষিতে পর্ব দুটি তাৎপর্যময়।


ছোট তিনটি স্তবকে ফুটে উঠেছে জগতের সুখ-দুঃখের প্রতি উদাসীন এক দার্শনিকের অনুভব : ‘যে ভেজায় শুকায় সেই তো।/ তবু কথার শেষ নেই’


চতুর্থ পর্বের শুরু একটি উপমার মধ্য দিয়ে : ‘পাহাড় জ্যোৎস্নার মতো জ্যোৎস্না পাহাড়ের’—কবির চোখে দু-রকমেরই মনে হতে পারে, কিন্তু স্তবকের শেষ পঙ্‌ক্তিগুলোর সূত্র খুঁজে পেতে গেলে প্রথমটিকেই প্রাসঙ্গিক মনে হয়, বৃষ্টির জন্মটা তা হলে পাহাড় বা পাহাড়ের উপরকার মেঘের থেকে হয়েছে বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারে। এই সেই বৃষ্টি, যে ছোঁ-মারা চিলের মতো কিষানবধূর ‘উঠোনের ধানের উষ্ণতা’ কেড়ে নিয়ে যায়। উপমা বা প্রতীক হিসেবে বৃষ্টির সদর্থ উপস্থিতি দেখেই আমরা অভ্যস্ত—ফল আকাঙ্ক্ষা স্নিগ্ধতা এই সব অর্থে; এখানে ভেজা-কাঁচা ধানের জন্যই তার নঞর্থ আগ্রাসী রূপ, তাই, ‘কিষান বধূর চোখের সামনে ধড়ফড় ক’রে/ প্রিয় সন্তানের মতো মরে গেল রোদ’/ তার চির জীবনের শুকনো ক্ষুধা’, নিঃসন্দেহে যথার্থ ও অভিনব বর্ণনা। আরও অভিনবত্ব রয়েছে চিলরূপী বৃষ্টির বর্ণনায় :

…মেঘের শিমুল গাছের
ডালে বসে পিতলে বাঁধাই করা ঠোঁট দিয়ে ছিঁড়ে
আকাশকে দেখিয়ে করে শুষ্কতা পান,
আমি কার বিরুদ্ধে নালিশ তুলব গো?
বাদশা সোলেমানের বৃষ্টি
বৃষ্টির বাদশা সোলেমান,
চাষিরা তো চিরকাল তার উচ্ছিষ্ট খেয়েই বাঁচে।

এত কিছুর পরও বৃষ্টির বিরুদ্ধের নালিশ তোলা মুশকিল, তাহলে নাখোশ হয়ে যেতে পারেন বৃষ্টির বাদশা সোলেমান, আর কে না জানে শুধু বৃষ্টি কেন, হাওয়াও তো তার তাঁবেদার, এবং ‘চাষিরা তো চিরকাল তার উচ্ছিষ্ট খেয়েই বাঁচে’।

এ-ছাড়াও এর আরও একটি ব্যাখ্যা রয়েছে অন্যত্র, নবম পর্বে। এই পর্বের ছোট তিনটি স্তবকে ফুটে উঠেছে জগতের সুখ-দুঃখের প্রতি উদাসীন এক দার্শনিকের অনুভব : ‘যে ভেজায় শুকায় সেই তো।/ তবু কথার শেষ নেই’—এমনতর অনুভবে ‘কথা’ মূল্যহীন, আর সব ঘটনারও থাকে পক্ষ-বিপক্ষ ব্যাখ্যা। ছাতিমতলার অন্ধকারে শ্মশানের ঘাসে উবু-হয়ে-বসা তার নাকে মরা-পোড়া গন্ধ এসে লাগে, এদিকে গরুর লাশের নৌকায় ঠুকরে-ঠুকরে কাক যাচ্ছে ভিনদেশে পেটের বাণিজ্যে, আর কবি লিখছেন, ‘আমি তার কালো পালে চেয়ে থেকে ভাবি, ‘যে ভাসায় ডোবায় সেই তো!’

এরপরও কথা শেষপর্যন্ত মূল্যহীন নয়, এমনকি ‘কথা ইশারামাত্র’ হলেও তার ব্যঞ্জনা হতে পারে গভীর ও আনন্দদায়ক, ‘পাঁচ’সংখ্যক পর্বটিতে—কিছু পুনরুক্তি আর তামাশাময় হওয়া সত্ত্বেও—রয়েছে তার চমৎকার নজির :

আপা আপনাদের বিরহ ঐ কাশবন, ধঞ্চেগড়
আপা আপনাদের প্রেম বুড়ো ঝাউগাছ

আপা আপনাদের স্থিরচিত্রগুলো সুখ

আপা আপনাদের চলচ্চিত্রগুলো কষ্ট

আপা কাজলী মাছের ঝোলটা বেজায় স্বাদের… আহাহা আহা
আপা তোমার সুরত সমান সমান চাঁদের… আহাহা আহা

আপা রোদে পুড়ে মরতে কেমন লাগে
আপা সঙ্গে যদি প্রাণের মানুষ থাকে
আপা স্বপন পারের ডাক শুনেছেন ঠিক… বাহা
আপা হারায়ে গেছে স্বপ্নলোকের চাবি… কী যে

পঙ্‌ক্তিগুলোর ফাঁকে-ফোকরে পূর্ণাঙ্গতাদানকারী আরও কথা বাক্য থাকা সত্ত্বেও পুনরুক্তি যাতে নঞর্থকতাকে বড় করে তুলে সেই রূপে সাজিয়ে-দেওয়ার কারণ এতে ‘কথা’ কতটা নিরর্থকতায় পৌঁছোয় তার বিচার করা। কিন্তু এমন প্রত্যক্ষ বর্ণনায়ও এর তাৎপর্য এতটুকু ম্লান হয়েছে বলে মনে হয় না, বরং পুরো কবিতাটির আবহ এ-পর্বের খানিকটা মশকরার ভঙ্গি সত্ত্বেও এর অন্তরালের বিরহ-ভাবটাকে বড় করে তোলে। সপ্তম পর্বের শুরুটাও হয়েছিল এরকম আকাঙ্ক্ষিত বর্ণনার মধ্য দিয়ে যেখানে ভার্সিটি-বাসের রৌদ্রময় জানালার সিটে বসে-যাওয়ার পর রোদের অজুহাত তুলে আপাকে ছায়াময় জানালার সিটে বসার আহ্বান করা হচ্ছে, যেখানে বসলে আপার ‘সে বয়সের মতো’ সিসুগাছগুলোর নাচানাচি দেখা যাবে, যারা একে অন্যকে চুমে চুমে গাল-মুখ লাল করে দিচ্ছে, কিন্তু আপা নেমে গেলেন—হয়তো সবকিছু অগ্রাহ্য করে রৌদ্র-জানালার সিট ছেড়ে ছায়াময় জানালার দিকে না এসেই নেমে গেলেন—কারও (মনের) কথা শুনলেন না, তাই লেখা হলো : ‘আজ সারা দুপুর ভরে কাঁদব আপা/ বুকের কাছে ভাসাব মৃণাল পুকুর/ তুমি বনভূমি আপা প্লিজ কাঁটার ভয় না করে/একটানে আমার কলজেসুদ্ধ ছিঁড়ে নিয়ো একটি মৃণাল;/ তবু তো বুঝব তুমি একবার ফিরেছ আমার দিকে।’

কিন্তু এরপরও আপা ফিরেছেন বলে তো মনে হয় না, এর পরের অর্থাৎ অষ্টম পর্বে নানা প্রতীকে দেখি আরও চূড়ান্ত অবহেলা : গাছ ‘অনাত্মীয়ের মতন মাথার উপরে ছুঁড়ে ফেলে ঝুপ ঝুনা নারকেল’/ শুকনো মরা পা হাত, পাঁজরের হাড়’, ‘পাখিরা চেনে না/ চুনের মতন বর্জ্য ঢেলে বয়সকে পাকিয়ে বানায় সাদা;/ চেনে না মনসা দেবী, পথে পথে ফণার বিস্তার।’

এই সব অবহেলা দেখে পূর্বোল্লিখিত নবম পর্বের দার্শনিক উদাসীনতাকেই বরং একটু-আধটু আশাবাদ বলে মনে হয় : ‘যে ভেজায় শুকায় সেই তো—যে ভাসায় ডোবায় সেই তো!’

মোস্তাক আহমাদ দীন

জন্ম: ১৯৭৪
জন্মস্থান : সুনামগঞ্জ
শিক্ষা : বাংলা সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও পি-এইচ.ডি
পেশা : শিক্ষকতা
কর্মস্থান : লিডিং ইউনিভার্সিটি, সিলেট

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ—

কথা ও হাড়ের বেদনা, প্রকাশক, পাঠকৃতি, সিলেট, ২০০১।
জল ও ত্রিকালদর্শী, প্রকাশক অর্কিড, সিলেট, ২০০৪।
জল ও শ্রীমতী, প্রকাশক পাঠসূত্র, ঢাকা, ২০০৪।
ভিখিরিও রাজস্থানে যায়, প্রকাশক, বইপত্র, সিলেট, ২০১২।
বানপ্রস্থের আগে, প্রকাশক, চৈতন্য, সিলেট, ২০১৪।

প্রকাশিত প্রবন্ধগ্রন্থ—

কবিতাযাপন প্রকাশক, শুদ্ধস্বর, ঢাকা, (২০১১)।
আটকুঠুরি, প্রকাশক, শস্যপর্ব, সিলেট, ২০১২; চৈতন্য সংস্করণ, সিলেট ২০১৫।
মাটির রসে ভেজা গান, চৈতন্য, সিলেট, ২০১৭;
কাজী আবদুল ওদুদের মননবিশ^, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০১৭।
মননচিন্তা বিবেচনা, কথাপ্রকাশ, ঢাকা, ২০১৮।

অনুবাদ—

তারিখে জালালি [{সিলেটের ইতিহাসের প্রাচীনতম গ্রন্থ, মূলমবশ্বির আলি চৌধুরী (প্রকাশকাল ১৮৬০ খ্রি.)}২০০৩], প্রকাশক, উৎস, ঢাকা, ২০০৩।

সম্পাদিত গ্রন্থ—
পরার জমিন, মকদ্দস আলম উদাসী, প্রকাশক, লোকচিহ্ন, সিলেট, ১৯৯৯।
আবদুল গফ্ফার দত্তচৌধুরী : তাঁর স্মৃতি, তাঁর গান, প্রকাশক, লোকচিহ্ন, সিলেট, ১৯৯৯।
অকূল নদীর ঢেউ, শাহ সুন্দর আলী, প্রকাশক, শঙ্খ, সিলেট, ২০০৪।
মাসিং নদীর তীরে, ফকির সমছুল, প্রকাশক, বিকাশ, সিলেট, ২০০৫।
নূরে মারিফত, শাহ ছাবাল আলী, প্রকাশক শাহ তেরাব আলী কামারগাঁও, সুনামগঞ্জ, ২০০৫।
ছহি ফকির বিলাশ অর্থাৎ মারফতি ভেদ, মুন্সী মোহাম্মদ আশ্রফউদ্দিন, প্রকাশক শুদ্ধস্বর, ঢাকা, ২০১০।
কামালগীতি,কামাল উদ্দিন, শুদ্ধস্বও, ঢাকা, ২০১০।
আশিকের রত্ন সমগ্র, ফকির সমছুল, প্রকাশক শঙ্খ, সিলেট, ২০১২।
এ, জেড, আব্দুল্লাহ রচনাসমগ, কেমুসাস, সিলেট, ২০১৭।
নির্বাচিত গান, মকদ্দস আলম উদাসী, জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ, সুনামগঞ্জ, ২০১৭।

সম্পাদিত সাহিত্যপত্রিকা—

বিকাশ [১৯৯১-১৯৯৭]
মুনাজেরা [২০০৮ থেকে চলমান]

ই-মেইল : Mosnobi@gmail.com