হোম গদ্য বইমেলা ঘুরে ঘুরে

বইমেলা ঘুরে ঘুরে

বইমেলা ঘুরে ঘুরে
962
0

বইমেলায় আসাটা যেন রেওয়াজে পরিণত হইছে কুড়ি বছর ধরে। প্রথম দিকে কৌতূহল, তারপর লিটলম্যাগের লোক, তারপর বইমেলার লেখক পরিচয়ে বইমেলার সাথে সম্পর্ক দিনকে দিন গাঢ় হয়ে চলেছে। বাংলাদেশে নানারকম উহু-আহা সত্ত্বেও বই প্রকাশ ও বিপণনের সবচেয়ে বড় জায়গা হিশাবে বইমেলা এখন স্বীকৃত। ফলে মনে মনে অধিকাংশ প্রকাশক-লেখক-পাঠক সারাবছরের কর্মপরিকল্পনা সাজান বইমেলাকে কেন্দ্র করে। এইবার মুফতে সপ্তাহখানেক ছুটি জোটায় শুরুতেই আমি হাজির মেলার দরজায়। তাছাড়া নিজের বই আছে। ফলে আসার কার্যকারণটা একটু গভীরই। যদিও বই থাক বা না থাক মেলায় আসার ছেদ পড়ে নি কখনো। তার একটা কারণ থাকে পছন্দের বহু বই এক ঘোরাতেই কেনা যায়। আর লেখক বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার বাড়তি সুযোগ তো আছেই। কবিতা লিখি বলে প্রধানত কবিতার বইয়ের হাল হকিকত জানতে চাই আগে। ফেসবুক সংস্কৃতির যুগে আগে থেকে জানা হয়ে যায় কার কার বই আসছে, কোন প্রকাশনী থেকে আসছে। বাহারি প্রচ্ছদে ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকেই ছেয়ে যায় ফেসবুকের পাতা। কিন্তু সেসব নান্দনিক কাজকারবার হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখার জন্য মেলায় আসার বিকল্প কী! আর লেখক/কবিকে কাছ থেকে দেখা, আলাপ করা, অটোগ্রাফ নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়াই বা করতে চায় কে?

আমি প্রধানত আগে ঘুরে ঘুরে দেখি পছন্দের লেখকদের বই কোথায় কোথায় আছে৷ এইবার আইসাই চমকে গেছি মেলার পরিসর দেখে। বেশ আরাম করে বই দেখা গেল। গলিগুলা বেশ প্রশস্ত। আর বহু দূর অব্দি ছড়ানো। লেকের দুইপাশ খুলে দেওয়ায় নিরুপদ্রবে আড্ডা মারার সুযোগও বেশ দারুণ৷ আরেকটা খবর হইল লিটল ম্যাগাজিন প্রাঙ্গণ অবশেষে সময়ের চাহিদায় এই পাড়ে। মানে সোহরাওয়ার্দীতে। তরুণ লিটলম্যাগ কর্মীদের এই কারণেই বেশ চাঙ্গা মনে হইল। আমিও বেশ খুশি, সোহরাওয়ার্দী টু বাংলা একাডেমি পারাপারের ঝামেলা থেকে বাঁচা গেল।


এইবছর সম্ভবত কবিতার বই করার ব্যাপারে এগিয়ে আছে দীপঙ্কর দা তথা বাতিঘর ওরফে কবিতাভবন।


যাই হোক, বইয়ের আলাপে আসি। বিশেষত কবিতার। নিজের একখান বই আছে জনান্তিক স্টলে—শেমিজের ফুলগুলি। বইটা করছে প্রিন্ট পোয়েট্রি। এইটা আমার চাইর নম্বর কবিতার বই। বরাবরের মতো গাঁও-গেরামের ছবিকল্পনা নিয়াই আসছি এইখানে। সুন্দর প্রচ্ছদ করছে দত্ত কুলোদ্ভব রাজীব দত্ত। তারে ভালোবাসা। বেশ ফুটে আছে ফুলগুলি, দেখবেন ও কিনবেন এই আশা ও আহ্বান। আমার সাথেই আছে তানভীর হোসেনের নিহিল পারকারসন। তার লগে আচমকা দেখা হইল, ছুটাছুটা কিছু আলাপও। সানোয়ার রাসেলের অন্ধ মুসাফিরও প্রিন্ট পোয়েট্রির বই। অমিত চক্রবর্তীর মকিং বার্ড শোভা পাইতেছে জনান্তিকের স্টলেই। জনান্তিকের পাশেই চন্দ্রবিন্দু। তরুণ কবি-লেখকদের বেশ একটা রমরমা অবস্থা এইখানে এইবার৷ কবিতার বইগুলা নেড়েচেড়ে দেখলাম। কিনব আস্তে-সুস্থে। মুজিব ইরমের কবিতার বই ইরম পদাবলি এই স্টলের আকর্ষণ। সাদী কাউকাবের পহেলা কবিতার বই রন্ধ্রে রন্ধ্রে করি সঞ্চালন এইখানেই পাওয়া যাইতেছে। পাশেই নৈরিৎ ইমুর দ্বিতীয় কবিতার বই না মর্মরে না মর্সিয়ায় শোভা পাইতেছে৷ নকিব মুকশির যাতনাময় অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুধের গাই-এজমালি বাগান অবশেষে প্রকাশিল নিজ মুখখানি৷ শঙ্খচূড় ইমামের নাইট ফলসও দেখলাম এইখানে। শুভ্র সরকারের পথ পৃথিবীর মুখে বসন্তের দাগ, সামতান রহমানের মানতলবাসীর নিছুঁই‘, সজীব মেহেদীর কিঞ্চিৎ দুঃখের ওম এখানে পাওয়া যাবে। হাসান মসফিকের আহত ফুলের চিকিৎসা এখানকার বই। নয়া প্রকাশনা বুকিশের বইগুলা এই স্টলেই পাওয়া যাইতেছে। ফলে সাজ্জাদ সাঈফের বহুদিন ব্যাকফুটে এসে কিনতে হলে চন্দ্রবিন্দু স্টলে আসতে হবে। অবশ্য তরুণদের ব্যাপারে যাদের আগ্রহ মেলার এই কোনায় না এসে উপায় নাই। কারণ পাশেই আছে অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি। আশিক সুমনের কবিতার বই ব্যাধির করাত এখানেই পাওয়া যাবে।

এইবছর সম্ভবত কবিতার বই করার ব্যাপারে এগিয়ে আছে দীপঙ্কর দা তথা বাতিঘর ওরফে কবিতাভবন। এখানে বেশ হৈরৈ ভাব। মেলার শুরুতেই দারুণ সব বই নিয়ে হাজির তিনি। মাসুদ খানের নতুন কবিতার বই উর্মিকুমার ঘাটে পাঠককে টানতেছে যেন নিজ বৈভবে। জুয়েল মাজহারের বই রাত্রি ও বাঘিনী তাকে শুয়ে আছে নম্র ভঙ্গিতে। বাঘিনীর গন্ধ নিতে কিনতে ভুলে যাবেন না এই বহিখানি। আলফ্রেড খোকনের নির্বাচিত কবিতা বাতিঘরেই পাওয়া যাইতেছে। পাশেই সাখাওয়াত টিপুর বই রাজার কঙ্কাল। দ্রোহী দ্রোহী ভাব আছে বইটাতে। টিপু ভাইরে বেশ কনফিডেন্ট দেখলাম বইয়ের ব্যাপারে। আর সহজাত ঠাট্টায় সোহেল হাসান গালিব ফুঁ নিয়া মেতে আছেন মেলার মাঠে, বাতিঘরের দরজায়। এইটা তার নয়া কবিতার বই৷ নতুন ডাইমেনশন নিয়া আসছেন নিজের লেখায়, এইভাবে ঘোষণা দিতে দেখা যাইতেছে তারে। বিজয় আহমেদের আমি ইয়াসিন আমি বোরো ধান এই স্টলেই পাইবেন পাঠকমণ্ডলী। কৃষি, কৃষক, নদীর আখ্যান নিয়া তার কাজকাম আগ্রহ জোগাইতে পারে আপনার। মিছিল খন্দকারের আকাশ চাপা পড়ে মরে যেতে পারি এই স্টলেই পাবেন। তার কবিতার ছন্দময়তা পাঠককে টানতে সক্ষম। অলকা নন্দিতার কবিতার বই দরজায় খিল নেই প্রকাশ করেছে কবিতাভবন। আসমা বীথির কবিতার বই এসো হে জন্মও কবিতাভবনের বই। যথারীতি পাওয়া যাচ্ছে বাতিঘর স্টলে।

বড় প্রকাশনা ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাশাপাশি তরুণদের বইও করে থাকে। সেই কারণে মেলার শুরুতেই ঢুঁ মেরে এলাম সেখানে। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে হাসান রোবায়েতের পাঁচ নম্বর কবিতার বই মাধুডাঙাতীরে। আট-দশবার পাণ্ডুলিপি পড়ার সুবাদে এই বইটার নাড়িনক্ষত্র আমার চেনা। দশমাত্রার এই কাজ অভিনব—বিশেষত মধ্যযুগীয় বাংলা কবিতারীতির সাথে এই কালের সাঁকো তৈয়ারে তার পারঙ্গমতা দেখতে চাইলে পড়তে হবে বইটা। পাঠককে নাড়ির খোঁজখবর দিতে দিতে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম এই বই। প্রথম বই করার ঐতিহ্যিক রেওয়াজ অনুযায়ী শিমন রায়হানের প্রথম কবিতার বই কহে কৈফা আসছে মেলার শুরুতেই। প্রথম বই আসছে। বেশ রোমাঞ্চিত দেখলাম শিমনরে। তানিম ইয়ামীনের পহেলা কবিতার বই প্রায় প্রেম এইখানে মিলবে। পূর্বাপর খোঁজখবরে জানা যায় ছন্দে ছন্দে প্রেমের গীত গাইতে আসছেন তিনি।

85110828_553000085314540_3753255354561986560_n

বেহুলা বাংলা বরাবরই তরুণ কবিদের প্রকাশক। এবার সেখানে শামিল হইছেন জাকির জাফরান। তার নতুন বই অন্ধের জানালা এখান থেকে প্রকাশ হইতেছে। পাঠককে কিন্তু চোখ মেলে তাকাতেই হবে এই বইয়ের দিকে। মাজুল হাসানের নতুন কবিতার বই লালপীড়িতও এই প্রকাশনার আকর্ষণ। মাজুল হাসান নাগরিক কোলাহল ও ছিন্ন নিসর্গকে ধরতে ওস্তাদ লোক। তার ওস্তাদি বুঝতে চাইলে এই বই কিনতেই হবে। সারাজাত সৌমের কবিতার বই নুর নুর বলে চমকায় পাখি এই স্টলের বই। প্রচ্ছদটা বেশ মাখোমাখো। আর বিষয়ের দিক থেকে সৌমের অভিনিবেশকে ধারণ করে আছে বইটা। মীর রবির ক্রস মার্কার, অরবিন্দ চক্রবর্তীর অতিচল্লিইন্দ্রিয়দোষ এই স্টলেই পাওয়া যাবে। জফির সেতুর নির্বাচিত কবিতা এখানে পাওয়া যাবে।

বৈভব এইবার ভালো বইয়ের পসার জমিয়েছে মেলায়। এখানে পাওয়া যাইতেছে সুব্রত অগাস্টিন গোমেজের দশ মহাবিদ্যা। সনেটে নতুন কী রত্নসম্ভার যোগ করে হাজির হইছেন গোমেজ সেটা জানতে চাইলে আসতে হবে এখানে। শামসেত তাবরেজীর বসা ভাতের ভৈঁরো এই স্টলেই পাওয়া যাচ্ছে। ভাবের নানামাত্রিক ব্যঞ্জনা উপভোগ করতে এই বই পড়ে দেখতে হবে। মুম রহমানের চুরি করা কবিতা বৈভবের চমক। সেখানে এসেছে আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর নতুন কবিতার বই নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে। সাঈদ ভাইয়ের কবিতার স্নিগ্ধতা থেকে বঞ্চিত হতে যাওয়ার সুযোগ কই? আল ইমরান সিদ্দিকীর গোধূলির প্যানোরামা এইখানকার বই। কবি সুদূর আমেরিকা পাড়ি দিলেও কবিতা সাতসমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিয়ে ঠিকই মেলার মাঠে হাজির। সাদী শাশ্বতের রক্তাক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে এখানে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিরোধের নতুন বহরে সাদী শামিল করবেন বলেই মনে হইল। মাহবুব মোর্শেদের কবিসত্তার রূপ কীরূপে ফুটে উঠল, দেখতে চাইলে কিনতে হবে অরব বসন্ত কাব্যখানি। রিফাত হাসানের জল্লাদখানায় বইসা কবিতাপাঠ, পাপিয়া জেরীনের দ্বৈপ, নিষুপ্ত সাগরের জন্মান্ধ প্যাঁচা, মিছিল খন্দকারের পুষ্প আপনার জন্য ফোটে, নীহার লিখনের পিনাকী ধনুক এই প্রকাশনীর বই।

আল মাহমুদ তার কবিতার নানা পাঠের মতো জোরালো হয়ে ফিরে এসেছেন এই বইমেলায়। তার মহাকাব্য ‘যে গল্পের শেষ নেই, শুরুও নেই’ প্রকাশ করেছে সরলরেখা প্রকাশনী। বাংলা কবিতায় মহাকাব্য ফিরে আসার সাক্ষী হতে বইটা কিনতে পারেন পাঠক।

প্রথমা প্রকাশন থেকে আসতেছে সৈয়দ শামসুল হকের আমার শহর। মোহাম্মদ রফিকের পিরীতে বসাবো বসত। দেশকাললগ্ন এই কবির কাব্যভাবে মজে যেতে বইটি পড়ার জরুরত আছে বৈকি। হাবীবুল্লাহ সিরাজীর জমিনে ফারাক নেই এখানেই পাওয়া যাচ্ছে। ওমর কায়সারের আমিহীন আমার ছায়াগুলো প্রথমার বই। সময়কে চাবকে চাবকে লেখা কামরুজ্জামান কামুর আমাকে এবার পিছমোড়া করো কিনতে হলে পাঠককে প্রথমায় আসতেই হবে। টোকন ঠাকুরের বুদ্‌বুদ পর্যায়ের কবিতা’ কবির নতুন কাব্য অভিনিবেশের ফসল। প্রথমার বই এটি। এখানেই পাওয়া যাচ্ছে আলতাফ শাহনেওয়াজের কবিতার বই সামান্য দেখার অন্ধকারে। সমকালীন সমাজের নানা ক্ষয় দেখাতে চেয়েছেন তিনি এই দীর্ঘ কবিতার বইয়ে। পিয়াস মজিদের বসন্ত, কোকিলের কর্তব্য, তাসনুভা অরিনের ত্রিকালদর্শী বেলপাতা কিনতে হইলে আসতে হবে প্রথমার স্টলে।

87053607_240509423614000_8262431472980328448_n

পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স বের করছে ফরিদ কবিরের প্রেমমন্ত্র। বেশ বিরতি দিয়ে ফরিদ কবির প্রেমমন্ত্র জপতে আসছেন পাঠকের কানে। পাঠক কি সাড়া না দিয়ে পারে? সুমন সাজ্জাদের কবিতার বই ক্রুশকাঠে জেগে থাকা যিশু পাওয়া যাবে অক্ষর প্রকাশনীর স্টলে। যিশু তথা কবির মর্মবেদনার সহযাত্রী হতে পাঠ করতেই হবে বইটা।

বায়ান্ন স্টলে পাঠকের বেশ ভিড় দেখতেছি এইবার। মূলত মারজুক রাসেলের কবিতার বই দেহ বণ্টন বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর-কে কেন্দ্র করে। ভিড় বাড়াতে আপনিও আসুন। সাইয়েদ জামিলের ভজহরি সাহা স্ট্রিট এইখানকার বই। উড়কিতে পাওয়া যাইতেছে সুহৃদ শহীদুল্লাহর দূর, সম্পর্কের কাছে, আহমেদ নকীবের যে ব্রিজ দৃশ্যত নাই আর সুমন রহমানের নির্বাচিত কবিতা। চৈতন্য থেকে বের হইছে মোস্তাক আহমাদ দীনের কবিতা সংগ্রহ। দীন এবং সুমন দুজনেই বাংলা কবিতার বিশিষ্ট স্বর হয়ে উঠেছেন। তাদের কাজ বিস্তারিত বুঝতে চাইলে গ্রন্থদ্বয় সংগ্রহ করতেই হয়। ত্রিশাখ জলদাসের কবিতা সংকলন ত্রিশাখ জলদাসের কবিতা প্রকাশ করেছে জিনিয়াস পাবলিকেশন্স। নিজেকে নতুনে নবায়ন করে চলা এই কবির কবিতা পাঠকের রুচিকে নতুন ব্যঞ্জনা দিতে পারে। বাঙ্গালা গবেষণার স্টলে পাওয়া যাবে জহির হাসানের কবিতার বই আম্মার আরও হাঁস। জহিরের কবিতার বিশিষ্টতা পাঠককে এ স্টলের দিকে টেনে নিয়ে যাবে। নওশাদ জামিলের কবিতার বই প্রার্থনার মতো একা বেরুচ্ছে অন্যপ্রকাশ থেকে। পলিয়ার ওয়াহিদের কবিতার বই দোআঁশ মাটির কোকিল অনুপ্রাণন স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। গ্যাব্রিয়েল সুমনের কবিতার বই লাস্ট নাইট এট প্যাগোডা পাবেন চৈতন্যের স্টলে। অয়ন্ত ইমরুলের কবিতার বই স্বৈর হাওয়ার হরিণী পাওয়া যাচ্ছে পরিবার পাবলিকেশন্সে।


সংখ্যায় ও বৈচিত্রে কবিতার এই বিপুল সৃষ্টিসম্ভার আশা জাগানিয়া। পাঠকের মনের পরশ সে আশার পালে হাওয়া লাগাক।


ইলিয়াস কমলের নয়া কবিতার বই প্রিয়, মেঘমঞ্জরী পাওয়া যাচ্ছে গ্রন্থিক প্রকাশনে। নানা ভাব ব্যঞ্জনায় পরিপুষ্ট বইটা। স্বপন নাথের কবিতার বই প্রেমের অন্তর্জালে পাওয়া যাবে জিনিয়াস পাবলিকেশন্স স্টলে। গিরিশ গৈরিকের কবিতার বই মেডিটেশনগুচ্ছ প্রকাশ করেছে কথা প্রকাশ। রথো রাফির কবিতার বই অক্ষর ও বালির পৃথিবী পাওয়া যাচ্ছে আনন্দম প্রকাশনীতে। এখানেই পাওয়া যাবে রিগ্যান এসকান্দারের দ্রোহশাস্ত্রবুলি। রফিকুজ্জামান রণির প্রথম কবিতার বই ধোঁয়াশার তামাটে রঙ বের করেছে কাগজ প্রকাশন। নিশাত হোসেনের প্রথম কবিতার বই ছাতিমগাছের শীত বের করেছে বুকিশ। শাহের হাসানের কবিতার বই হাহারু ও অন্যান্য দিনগুলি পাওয়া যাচ্ছে লোক প্রকাশনীতে। সাম্মি ইসলাম নীলার প্রথম কবিতার বই ধীরে এসো বসন্ত পাওয়া যাচ্ছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে। নতুন কবিদের কবিতার স্বাদ পেতে  বইগুলো কেনাই যায়।

পেন্ডুলাম এবার বেশ নতুনত্ব নিয়ে হাজির আছে মেলায়। জুয়েল মোস্তাফিজের কবিতার বই হোয়াট আ বিউটিফুল ডেড বডি, নোমান নজরবীর শরমবাহার এই প্রকাশনার কবিতার বই। সৌম্য সালেকের পাতাঝরার অর্কেস্ট্রা করেছে সময় প্রকাশন। সাম্য রাইয়ানের চোখের ভেতর হার্মিংবার্ড প্রকাশ করেছে ঘাসফুল প্রকাশনী। সাঈদ উজ্জ্বলের কবিতার বই দ্বিতীয় প্রজাপতি পাওয়া যাচ্ছে লিটলম্যাগ চত্বরের ‘কালিদহ’ প্রকাশনীতে। লিটল ম্যাগ চত্বরের ‘ফেস্টুন’ স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ওমর ফারুক জীবনের কবিতার বই ধুলার সুড়ঙ্গ। বাংলা জার্নাল প্রকাশনীতে পাওয়া যাবে শফিক সেলিমের ন্যাশনাল কারিকুলাম অ্যান্ড টেক্সটবুক অব বোর্ড বাজার আইল্যান্ড। পরম্পরা প্রকাশনীতে পাওয়া যাচ্ছে শুভ্র সরকারের বিষণ্নস্নায়ুবন

এইবার বেশিরভাগ তরুণ কবিদের বই মেলার শুরুতেই আনতে পারছেন প্রকাশকরা। অমর একুশে গ্রন্থমেলার এইটা একটা অগ্রগতিও বটে। প্রকাশকরা পেশাদার হয়ে উঠতেছেন তার চিহ্নও। যাই হোক, মূলত কবিতার খোঁজ নিতে গিয়া পুরা মেলা চষা হয়ে গেল। বাংলা কবিতার শরীরে এখনও যে উদ্দাম ঢেউ তার প্রমাণও হাতেনাতে পাইলাম। সংখ্যায় ও বৈচিত্রে কবিতার এই বিপুল সৃষ্টিসম্ভার আশা জাগানিয়া। পাঠকের মনের পরশ সে আশার পালে হাওয়া লাগাক।

মোস্তফা হামেদী

২৭ আগস্ট, ১৯৮৫; ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, বাংলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, সরকারি মুজিব কলেজ, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী।

প্রকাশিত বই :
মেঘ ও ভবঘুরে খরগোশ [কবিতা; কা বুকস, ২০১৫]
তামার তোরঙ্গ [কবিতা; জেব্রাক্রসিং. ২০১৮]

ই-মেইল : mostafahamedchd@gmail.com

Latest posts by মোস্তফা হামেদী (see all)