হোম গদ্য প্রবন্ধ এডওয়ার্ড ডব্লিউ সায়িদের প্রাচ্যতত্ত্বে ভারতবর্ষ

এডওয়ার্ড ডব্লিউ সায়িদের প্রাচ্যতত্ত্বে ভারতবর্ষ

এডওয়ার্ড ডব্লিউ সায়িদের প্রাচ্যতত্ত্বে ভারতবর্ষ
0

উপনিবেশপূর্ব সময়ে ঔপনিবেশিক ও উপনিবেশিত উভয়ের সমাজে স্বকীয় চিন্তাভাবনা, দর্শন, সংস্কৃতি ছিল। কিন্তু আধিপত্যবাদ উপনিবেশ স্থাপনের মূল ভিত্তি হওয়ার ফলে বিজিত জনগোষ্ঠী তার অধীন জনগোষ্ঠীর চিন্তাভাবনা, দর্শন, সংস্কৃতি রহিত করে। বিজিত জনগোষ্ঠী তাদের সবকিছুকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে তা অধীন জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দেয়। তাই রাজনৈতিক স্বাধীনতা হারানোর পাশাপাশি উপনিবেশিত জনগোষ্ঠী তাদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাও হারিয়ে ফেলে।

ঔপনিবেশিক শক্তির তার অধস্তন অঞ্চলে আধিপত্য টিকিয়ে রাখার অন্যতম কৌশল ছিল সাংস্কৃতিক তৎপরতা। এ তৎপরতার অন্যতম মাধ্যমগুলো ছিল ধর্ম, ভাষা, শিক্ষা ও সাহিত্য। এ সাংস্কৃতিক তৎপরতার সাথে সম্মতি উৎপাদনের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। সম্মতি উৎপাদনের মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে অথবা একটি রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে পরাজিত গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র সহজেই তাদের পরাজয় স্বীকার করে নেয়। পরাজিত গোষ্ঠীর সম্মতি আদায়ের মাধ্যমে বিজয়ী গোষ্ঠী তার আধিপত্য বিস্তারের একধরনের বৈধতা পেয়ে যায়। সাংস্কৃতিক তৎপরতা পরোক্ষ আধিপত্য বিস্তারের একটি কৌশল। কিন্তু এটি উপনিবেশবাদ ও নব্য-উপনিবেশবাদ তৈরিতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। ইতালিয়ান দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামসির মতে সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের কাজটি করে থাকে সিভিল সোসাইটি। সিভিল সোসাইটি বিভিন্ন জ্ঞানকাণ্ড নির্মাণের মাধ্যমে এ কাজটি করে থাকে। সিভিল সোসাইটি তাঁদের জ্ঞানকাণ্ডের আওতায় নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বা অধিবাসীর জনগণকে নিয়ে আসে।


ইংরেজ শাসকরা কৌশলী এবং সুবিধাবাদী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন করে যার উদ্দেশ্য ছিল তাদের সেবাদাস তৈরি করা। 


ঔপনিবেশ শক্তি বা পাশ্চাত্য কর্তৃক প্রাচ্যকে নিয়ন্ত্রণ ও অবদমন করার সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়াকে এডওয়ার্ড ডব্লিউ সায়িদ নাম দিয়েছিলেন ওরিয়েন্টালিজম। এডওয়ার্ড সায়িদ ওরিয়েন্টালিজম লেখার পিছনে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন ফরাসি দার্শনিক মিসেল ফুকো দ্বারা। ফুকোর জ্ঞান-ক্ষমতাসম্পর্কিত তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রাচ্যতত্ত্ব সম্পর্কে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটান। এডওয়ার্ড সায়িদের মতে ওরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যতত্ত্বের বিকাশ ঘটে ‘নিজে’ এবং ‘অপরের’ ধারণা থেকে। এটি প্রাচ্যকে পাশ্চাত্যের নিকট ‘অপর’ বা ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে উপস্থাপন করে, একই সাথে প্রাচ্যকে শাসন করার বৈধতা দেয়। প্রাচ্য সম্পর্কে পাশ্চাত্যের ধারণা হচ্ছে প্রাচ্য নিজেকে শাসন করতে পারে না। প্রাচ্যের উন্নয়নের জন্য পাশ্চাত্যের মতো যুক্তিবাদী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন। এ ধারণাটিই পাশ্চাত্যের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়, যার ফলে পাশ্চাত্য প্রাচ্যকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং উপনিবেশ স্থাপন করে। পাশ্চাত্য তখন তার রীতিনীতি প্রাচ্যের উপর প্রয়োগ করে, যেহেতু তাদের সবকিছুই শ্রেষ্ঠ। এডওয়ার্ড সায়িদের ওরিয়েন্টালিজম কাজ করে সাংস্কৃতিক আধিপত্যের মধ্য দিয়ে। অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান ওরিয়েন্টালিজম বাংলা অনুবাদ করেছিলেন ‘প্রাচ্যব্যবসা’। এ প্রাচ্যব্যবসার অংশ হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন বঙ্গপ্রদেশে শাসন শুরু করল তখন তাদের সহযোগিতায় খ্রিস্টান মিশনারিরা বাংলা ভাষায় বিভিন্ন পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। ‘সমাচার দর্পণ’, ‘দিগদর্শন’ এগুলো ছিল অন্যতম। এসব পত্রিকায় সাধারণত দুই ধরনের চিত্র উপস্থাপন করা হতো। একটি হচ্ছে ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি, যাদের সার্বক্ষণিক সেবায় নিয়োজিত রয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। অন্যদিকে ভারতবর্ষের যে সামাজিক অবস্থান উপস্থাপন করা হতো সেটি ছিল বর্বর এবং পিছিয়ে থাকা একটি সমাজ, যেখানে আছে সতীদাহ বা সহমরণ প্রথা, বলি প্রথা, পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কুসংস্কার প্রথা ইত্যাদি।২  এসব বিষয় উপস্থাপনার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তাদের শাসন ও শোষণকে যৌক্তিক ও বৈধ করে তোলা। যেন তারা উপনিবেশ স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছে বর্বর ভারতবর্ষের সমাজের লোকদের সভ্য করার জন্য।

বাংলায় কোম্পানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ওয়ারেন হেস্টিংয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনেক প্রাচ্যতাত্ত্বিক প্রাচ্যবিদ্যা চর্চা শুরু করেন। তাদের এ প্রাচ্যবিদ্যা-চর্চা শুরু হয় দেশীয় ভাষা ও সংস্কৃতির মমত্ববোধের কারণে নয়, বরং নিজেদের স্বার্থেই।

এর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রাচ্যের ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জানা। সেই জানার মধ্যে দিয়ে প্রাচ্যকে নিজের অধীনে নিয়ে আসা।

এসময় উইলিয়াম জোন্স, হ্যালহেড, জনাথন ডানকান বাংলা ভাষায় আইনের বই অনুবাদ কাজে জড়িয়ে পড়েন। তাদের কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কোম্পানির কাছ থেকে লোভনীয় সম্মানি আদায় করে নিতেন। ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ বাংলা গদ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রিটিশদের এ ভূমিকার পেছনে মূল কারণ ঔপনিবেশিক শাসনকে পাকাপোক্ত করা। কোম্পানি শাসনের প্রয়োজনেই বাংলায় ছাপাখানা, অনুবাদকার্য এবং স্কুল-কলেজ স্থাপন করা হয়।

ঔপনিবেশিক শাসনামলে সজ্ঞানে এবং সচেতনভাবে বাংলা গদ্যের সংস্কৃতায়ন করা হয়। এর পিছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে একটি মত প্রচলিত ছিল যে গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষার সাথে সংস্কৃতির সাদৃশ্য রয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম জোন্স, ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড প্রমুখ ছিলেন এ মতের পক্ষে। অন্যদিকে যারা ব্রিটিশদের গদ্য লেখার কাজে সহযোগিতা করত তাদের অধিকাংশ ছিলেন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত। তাদের প্রভাব ছিল ব্রিটিশ পণ্ডিতদের উপর। এজন্য হেনরি পিটস ফরস্টার কর্তৃক অনূদিত আইনের বইগুলোতে হিন্দু দেবদেবীর নামোল্লেখ পাওয়া যায়।

তারা মনে করতেন বাংলা ভাষার মধ্যে আরবি-ফারসি শব্দ ব্যবহৃত হয়ে আসার ফলে বাংলা ভাষার বিশুদ্ধ রূপ বিনষ্ট হচ্ছে। হ্যালহেড ১৭৭৮ সালে প্রথম এ কথা তার রচিত ব্যাকরণগ্রন্থে উল্লেখ করেন। হ্যালহেডের এ নীতিকে ফরস্টার অনুসরণ করেন এবং বাংলা ভাষায় সংস্কৃতায়নের ভিত স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতরাও এই নীতি অনুসরণ করেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রধান উইলিয়াম কেরি এক্ষেত্রে হ্যালহেড এবং ফরস্টার দ্বারা প্রভাবিত হন। বাংলা ভাষায় লেখার জন্য কেরি মনে করতেন সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে জ্ঞানও আবশ্যক। কারণ সংস্কৃতই হচ্ছে বাংলা ভাষার মূল। এভাবেই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের নেতৃত্বে কৃত্রিমভাবে বাংলা ভাষার সংস্কৃতায়ন করা হয়। এ নিয়ে অনেক বাঙালি উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করে। সজনীকান্ত দাস মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন যে এর ফলে ‘বাংলা ভাষা সংস্কৃত হইয়া উঠিয়াছে’। এক্ষেত্রে একটি সাম্প্রদায়িক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা মনে করেন আরবি-ফারসি শব্দ হ্রাস করার ফলে বাংলা ভাষার লাভ হয়েছে। মুসলিম জাতীয়তাবাদীরা এ ঘটনাকে মনে করেন তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কিন্তু এর ফলে মূলত বাংলা গদ্য তার খাঁটি শব্দভাণ্ডার এবং বাক্যের সরলতা হারিয়েছিল। বাংলা গদ্যকে সংস্কৃতায়নের প্রভাবে তদ্ভব, দেশি এবং আরবি-ফারসির পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিমভাবে সংস্কৃত শব্দ জায়গা দখল করে।

ব্রিটিশদের আগমনের পূর্বে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ছিল টোল এবং মক্তব-ভিত্তিক। ব্রিটিশদের আগমনের কারণে এ শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাকেন্দ্র ভেঙে পড়ে। এর ফলে পাড়াগাঁয়ের গরিব ও মৌলবি শিক্ষকরা চরম দুর্দশার শিকার হন। অন্যদিকে ব্রিটিশরা এদেশে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে, হতদরিদ্র জনগণের পক্ষে তার ব্যয়ভার বহন করা ছিল দুঃসাধ্য।

এ সময় ইংরেজ শাসকরা কৌশলী এবং সুবিধাবাদী শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন করে। উদ্দেশ্য ছিল তাদের সেবাদাস তৈরি করা। ব্রিটিশ শাসনামলে মেকলে প্রস্তাবিত শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের ঔপনিবেশিক স্বার্থ আদায় করা। তিনি মনে করতেন এ শিক্ষানীতির মাধ্যমে তাঁদের সমর্থক শ্রেণি তৈরি হবে, যার মাধ্যমে ব্রিটিশদের স্বার্থ রক্ষা করা যাবে। এর ফলে বাঙালিদের মধ্যে শ্রেণিবিভাজন দৃঢ় এবং গভীর হয়েছে। ইংরেজ শাসনামলে হিন্দু কলেজে হেনরি লুই ডিরোজিও নামে এক তরুণ শিক্ষকের আগমন ঘটে। অনেক তরুণ ছাত্র তার প্রতি আকৃষ্ট হন। একাডেমিক পড়াশোনার বাইরে তিনি ছাত্রদের জন্য পাঠচক্রের ব্যবস্থা করেন। যার আসর বসত ধনাঢ্য এক ব্যক্তির বাড়িতে। সেখানে শিক্ষার জন্য নিম্ন শ্রেণির লোকের সন্তানরা আসত না, আসত ধনাঢ্য ও অভিজাত ঘরের সন্তানরা। সেখানে উপস্থিত হতেন অনেক ইংরেজ রাজপুরুষসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এর ফলে তখন একটি এলিট গোষ্ঠীর সৃষ্টি হলো। এই গোষ্ঠীর লোকেরা নিজেদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের থেকে দূরে রাখেন এবং নিজেদের ভিন্ন জাতের মানুষ বলে ভাবতে শুরু করেন। অনেকটা মেকলের এলিট শ্রেণি তৈরির কৌশলের মতো। যে শ্রেণি ছিল সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। যদিবা তারা কখনো সাধারণ জনগণের সামনে কিছু বলার চেষ্টা করতেন, তখন তারা বক্তৃতা দিতেন ইংরেজি ভাষায়। আর তাদের কথা জনগণের কানে পৌঁছলেও বোঝার সুযোগ ছিল না। তারা যে আধুনিকতার প্রতিনিধিত্ব করতেন, সেটি ছিল জনবচ্ছিন্ন উপনিবেশায়িত আধুনিকতা।

১৮৯৮ সালে ঢাকায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৩ দিন ব্যাপী বঙ্গীয় প্রাদেশিক সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন কালীচরণ বন্দোপধ্যায়। সম্মেলনে অধিকাংশ বক্তাই সাধারণ জনগণের সামনে ইংরেজিতে বক্তৃতা পেশ করেন। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইংরেজি ভাষায় বক্তৃতা প্রদানের পরিবর্তে বাংলায় বক্তৃতা প্রদান করেন। যার ফলে সাধারণ জনগণ তার উপর অধিক মাত্রায় সন্তুষ্ট হয়। সে সময় রাষ্ট্রীয় সম্মেলনে ইংরেজি ভাষায় বক্তৃতা দেয়ার চল ছিল। শুরু থেকেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষা ব্যবহারের জন্য কংগ্রেসের উপর চাপ দিতে থাকেন, কিন্তু গণবিরোধী নেতারা তার বিরোধিতা করেন।


প্রাচ্য হচ্ছে বর্বর, তাদেরকে সভ্য করার বোঝা চেপেছে পাশ্চাত্যের ঘাড়ে। 


ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় ভূখণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তিরাও মুখ্য ছিল। ভূখণ্ড দখল এবং সেখানকার সম্পদের ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন ছিল উপনিবেশিতদের সাহায্য-সহযোগিতা। এর জন্য ঔপনিবেশিক শাসকরা স্থানীয়দের মধ্য থেকে এমন এক শ্রেণি তৈরি করে যারা তাদের সমসত্ত নয়, বরং আনুগত্যশীল। এ আনুগত্যশীল শ্রেণি ঔপনিবেশিক শাসকদের নিকট থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা পায়, যার ফলে তারা ঔপনিবেশিক শাসনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে।

ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্ষমতা দখলের পর উইলিয়াম কেরি এবং টমাস নামে দুজন ব্যক্তি ধর্মপ্রচারের জন্য কলকাতায় আসেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে বিরোধের ফলে তারা ১৮০০ সালে কলকাতা থেকে অদূরে শ্রীরামপুর মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ জনগণকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করা। ঔপনিবেশিক শক্তি একদিকে তার নিজস্ব ভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চাপিয়ে দিয়েছে স্থানীয় জনগণের উপর, অন্যদিকে ধর্মপ্রচারের ক্ষেত্রে তারা ব্যবহার করেছে স্থানীয় জনগণের ভাষা। ভারতবর্ষে বা আফ্রিকার উপনিবেশিত দেশগুলোর প্রতিটি অঞ্চলের ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ করা হয়। ভারতবর্ষে শ্রীরামপুর মিশন থেকে উইলিয়াম কেরি, জন মার্শম্যান এদের নেতৃত্বে বাইবেল বাংলাসহ বিভিন্ন প্রাদেশিক ভাষায় অনুবাদ করা হয়। ১৮০৯ সালে শ্রীরামপুর মিশনের নেতৃত্বে সমগ্র বাইবেল ‘ধর্মপুস্তক’ নামে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। পর্তুগিজ মিশনারি মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ রচিত গ্রন্থ কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ ১৭৪৩ সালে লিসবন থেকে প্রকাশিত হয়। বইটি লেখা হয়েছিল ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্ম নিয়ে। উক্ত বইয়ে খ্রিস্টান ধর্মকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং কৃপা হিসেবে উল্লেখ করে অন্যান্য ধর্মকে বিশেষ করে হিন্দুধর্মকে ভ্রান্ত হিসেবে প্রতিপন্ন করা হয়। এতে খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্বের আচার-আচরণ নিয়েও আলোচনা করা হয়। ভারতবর্ষ সম্পর্কে ঔপনিবেশিক শক্তির ধারণা ছিল যে এরা হচ্ছে পৌত্তলিক। ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল প্রভু ও ভৃত্যের দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে। এখানে প্রভু ও ভৃত্যের মধ্যে কোনো রকমের মানবিক সম্পর্কের অবস্থান ছিল অনুপস্থিত।

২.
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনামলে বা তার পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা সাহিত্যিকরা যে ভারতবর্ষকে উপস্থাপন করেছেন সে-উপস্থাপন ছিল ক্ষমতাসম্পর্কিত উপস্থাপন। এ প্রসঙ্গে ই এম ফস্টার এবং রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ভূমিকা সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক। ফস্টার ঔপনিবেশিক ভারতকে নিয়ে রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত সাহিত্য কর্ম A passage To India.

ফস্টারের A passage To India উপন্যাসের মূল উদ্বেগ হচ্ছে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশরাজ এবং স্থানীয় ভারতীয়দের সম্পর্ক নিয়ে। উপন্যাসের শুরুতে হামিদুল্লাহ ও মুহাম্মদ আলী ব্রিটিশদের সাথে ভারতীয়দের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টির সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করেন। এবং ফস্টার তার উপন্যাসের শেষের দিকে উত্তর দেন যে, ‘না, এখনও না’। [A passage To India, p: 322] উপন্যাসে ফস্টার স্পষ্টভাবে ঔপনিবেশিক ও উপনিবেশায়িত লোকদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দূরত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন ।

উপন্যাসটির অন্যতম চরিত্র ড. আজিজ। আজিজ একজন সিভিল সার্জন মেজর ক্যালেন্ডারের অধীনস্থ কর্মচারী। রাতের বেলায় মেজর ক্যালেন্ডার কর্তৃক তার বাংলোতে আজিজকে ডেকে পাঠানো, আজিজ পৌঁছানোর আগেই ক্যালেন্ডারের অন্য কোথাও চলে যাওয়া, তাকে কোনো মেসেজ না দেওয়া, আবার সকালে এসে আজিজকে মিথ্যুক বলে গালি দেওয়া এসব বিষয় আজিজকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। কিন্তু আজিজ কোনো ধরনের প্রতিবাদ করতে পারে না। কারণ, সে কর্মচারী মাত্র। আজিজ একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ। ফস্টারের উপস্থাপনায় ভারতবর্ষের অন্যান্য ধর্মপ্রাণ মানুষের মতো আজিজের পরধর্মের প্রতি রয়েছে অসহিষ্ণু মনোভাব। তাই সে পরধর্মের নিন্দা ও নিজের ধর্মের প্রশংসা শুনলে খুশি হয়।

আজিজ তার অভিজ্ঞতা থেকে এ ধারণা পোষণ করে যে ব্রিটিশ শাসকরা স্থানীয়দের সাথে প্রায়ই উদ্ধত আচরণ করে থাকে। কিন্তু সে খুবই মুগ্ধ হয় যখন একজন ব্রিটিশ মহিলার সাথে তার পরিচয় হয়। উপন্যাসের এক পর্যায়ে আজিজকে অভিযুক্ত করা হয় তার অসদাচরণের জন্য, তখন ফিল্ডিং ছাড়া সবাই তা বিশ্বাস করে। ফিল্ডিং যখন আজিজকে নির্দোষ বলে তখন শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা সহজে মেনে নিতে পারে না। তারা বিশ্বাস করে যে ভারতীয়দের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা খুবই সহজাত। পাহাড়ের গুহায় মিস অ্যাডেলা আজিজের সাথে ভ্রমণ করতে গিয়ে একসময় নিজেকে অজ্ঞান অবস্থায় আবিষ্কার করেন। মিস অ্যাডেলার ভারতীয়দের সম্পর্কে ‘অপরাধপ্রবণতার’ গতানুগতিক বিশ্বাস থেকে ড. আজিজ সম্পর্কে কাল্পনিক ধারণা তৈরি করেন। অ্যাডেলার মনে হয় ড. আজিজ থাকে গুহার মধ্যে। আক্রমণ করার ফলেই হয়তো তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার ধারণার ফলশ্রুতিতে আজিজকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

আজিজকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে মিস অ্যাডেলার সাথে অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়। বিচার চলাকালীন মিস অ্যাডেলা মানসিক দ্বন্দ্বে পতিত হন। কারণ অ্যাডেলা তার তথাকথিত ভারতীয়দের অসভ্য আচরণের ধারণা থেকে আজিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। এক পর্যায়ে অ্যাডেলা তার ভুল বুঝতে সক্ষম হন। বিচার চলাকালে তিনি স্বীকার করেন আজিজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা ভুল। এর ফলে আজিজ মুক্তি লাভ করে।

উপন্যাসে ড. আজিজ সম্পর্কে মিস অ্যাডেলার যে মনোভাব এটি শুধু ব্যক্তি অ্যাডেলার মনোভাব নয়, এটি প্রাচ্য সম্পর্কে নির্মিত পাশ্চাত্যের মনোভাব। এই মনোভাব থেকে অপরকে হীন ভাবা কাজ করে। যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে সেই হীন বা অসভ্যকে নিয়ন্ত্রণ করার একপ্রকার তাড়না কাজ করে।

আজিজ মুক্তি লাভের পর তার শ্বেতাঙ্গ বন্ধু ফিল্ডিং ইংল্যান্ড চলে যায়। আজিজ তখন থেকে বিশ্বাস করতে শুরু করে শ্বেতাঙ্গদের সাথে আর সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব নয়। দুই বছর পর ফিল্ডিং ভারতবর্ষে ফিরে এলেও আজিজ তার বিশ্বাসের প্রতি অনড় থাকে। আজিজ বিশ্বাস করে ব্রিটিশরাজের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তিলাভের পূর্ব পর্যন্ত একজন ভারতীয় ও শ্বেতাঙ্গের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি সম্ভব নয়। এটি প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের আধিপত্য সম্পর্কিত দিকটি ইঙ্গিত করে। এখানে প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের সম্পর্ক ক্ষমতা এবং আধিপত্যের। এ আধিপত্যের সম্পর্ক ভেঙে প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য কখনো এক হতে পারবে না। প্রথম নোবেলজয়ী ব্রিটিশ সাহিত্যিক রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের ভাষায় : ‘0h, East is East, and West is West, and never the twain shall meet’।

কিপলিংয়ের প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে মানবিক সম্পর্ক তৈরির ব্যাপারে রয়েছে ব্যাপক অনীহা। তিনি প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের মধ্যে ক্ষমতার সম্পর্ক তৈরি করতে চান। কারণ প্রাচ্য হচ্ছে বর্বর, তাদেরকে সভ্য করার বোঝা চেপেছে পাশ্চাত্যের ঘাড়ে। এটিকে তিনি বলেন শ্বেতাঙ্গ লোকেদের বোঝা। শ্বেতাঙ্গদের বোঝা বহনের আহ্বান জানিয়ে তিনি তার ‘White man’s burden’ কবিতা লেখেন। কিপলিং তার এ কবিতায় শ্বেতাঙ্গদের শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এ জাতির তরুণদের আহ্বান জানান অশ্বেতাঙ্গ দেশগুলোতে গিয়ে তাদের শাসন করে সভ্য হিসেবে তৈরি করতে। কারণ তাদের জন্মই হয়েছে অশ্বেতাঙ্গদের সেবা করার জন্যে। কিপলিং এসব লোককে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গণ্য করতে নারাজ। কিপলিংয়ের ভাষায় এসব লোক ‘অর্ধেক শয়তান, অর্ধেক শিশু [অবোধ]’। তাঁর মতে অশ্বেতাঙ্গ অর্থাৎ প্রাচ্যকে সভ্যকরণে শ্বেতাঙ্গদের কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং এর ফলে অশ্বেতাঙ্গরাই লাভবান হচ্ছে। তরুণ শেতাঙ্গরা প্রাচ্যে গিয়ে শান্তির জন্য যুদ্ধ করবে, সেখানকার ক্ষুধার্ত লোকের মুখে খাদ্য তুলে দিবে।

কিপলিং যখন তার কবিতায় এসব কথা লিখছেন তার অনেক পূর্বেই কিন্তু পাশ্চাত্যের চিন্তা-চেতনায় ‘মানুষ’ এবং ‘মানবিকতা’ ছিল কেন্দ্রে। কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার স্বার্থে প্রাচ্যতাত্ত্বিকরা যখন প্রাচ্যকে নির্মাণ করেন, তখন তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতাবোধ বা মানুষকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা কাজ করে না। অর্থাৎ পাশ্চাত্যের মানবতাবাদ, উদারতাবাদ বা নব্য-উদারতাবাদ এটি শুধু পাশ্চাত্যের ক্ষেত্রে কাজ করে। এটি সর্বত্র কাজ করে না। প্রাচ্যের ক্ষেত্রে এটি অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

ব্রিটিশভারতে জন্ম নেওয়া এ সাহিত্যিক তার উপন্যাস এবং গল্পগুলোতে প্রাচ্যতত্ত্বের অংশ হিসেবে ব্রিটিশশাসিত ভারতবর্ষকে নির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করেছে। কিপলিং শৈশব এবং যুবক বয়সের প্রায় তিরিশ বছর ব্রিটিশ ভারতে অবস্থান করেছেন। কিন্তু তার ভারতকে দেখার এবং উপস্থাপনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ‘অপর’ এবং ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে।


সিপাহি বিপ্লবের সময় যারা ব্রিটিশদের তৈরি নিয়ম-নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করেছেন তারাই হচ্ছে পাগল। 


জঙ্গল বুক [১৮৯৪] তার আলোচিত কাজের মধ্যে একটি। বইটি মূলত গল্প-সংকলন। জঙ্গল বুকের কাহিনি মোগলি নামক এক বালককে নিয়ে। তার বেড়ে ওঠা জঙ্গলের মধ্যে। কাহিনির শেষ হয় শেরখান নামক এক বাঘকে হত্যা করার পর মোগলির স্থায়ীভাবে গ্রামে বসবাস শুরু করার মধ্য দিয়ে। গল্পে দেখা যায় বানরের রাজার মধ্যে মোগলির মতো মানুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সে তার ‘বানরত্ব’ থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষের মতো বাঁচতে চায়। বানরদের কোনো ভাষা নেই, কোনো আইন, সম্পদ বা আত্মমর্যাদা নেই। এ বানরের উপস্থাপনায় আছে উপনিবেশিত ভারতবর্ষের মানুষদের উপস্থাপনের প্রচেষ্টা। এসব বানরের মধ্যে লেশমাত্রও সভ্যতার বৈশিষ্ট্য নেই। এজন্য ভালুক বানরদের সম্পর্কে মোগলিকে সতর্ক করে। বানররা মোগলিকে অপহরণ করে, যেভাবে ১৮৫৭ সালের প্রথম ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে সিপাহিরা ব্রিটিশ অফিসার ও তাদের অস্ত্র অপহরণ করে।

মোগলির মধ্যে সেই গুণাবলি রয়েছে যেসবের কথা বলে ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে তাদের উপনিবেশ স্থাপন করে। সে জঙ্গলের অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় বুদ্ধিমান, চালাক এবং শ্রেষ্ঠ। ঔপনিবেশিক শাসকদের সাফল্যের মতো এক সময় বনের প্রাণীরা মোগলির প্রতি তাদের আনুগত্য প্রকাশ করে। শেরখানকে হত্যার মধ্য দিয়েই মোগলি ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের মতো সাম্রাজ্যের অধিকারী হয়। মোগলি হচ্ছে কিপলিংয়ের কল্পনায় তৈরি একজন ঔপনিবেশিক প্রভু।

সায়িদ তার কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম বইতে কিপলিংয়ের কিম উপন্যাসের প্রাচ্যতত্ত্ব নিয়ে বিশ্লেষণ করেন। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবকে রুডইয়ার্ড কিপলিং ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেন।১০ কারণ ভারতীয়রা নিজেদের মুক্তির জন্য বর্বরতা ও উগ্রতার পথ বেছে নেয়। কিপলিং কর্তৃক চিহ্নিত এ পাগলামি হচ্ছে পাশ্চাত্য রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কর্তৃক নির্মিত পাগলামি। মিশেল ফুকোর মতে পাগলামি হচ্ছে সেটাই যেটি তথাকথিত রাজনৈতিক ও সমাজিক দৃষ্টিতে স্বাভাবিক নয়। অর্থাৎ যারা সমাজের নিয়মের বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে তারাই হচ্ছে পাগল। সিপাহি বিপ্লবের সময় যারা ব্রিটিশদের তৈরি নিয়ম-নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করেছেন তারাই হচ্ছে পাগল। এদের সাথে ব্রিটিশ শাসকদের নিয়মকানুন এবং মতাদর্শের অবস্থান মিলছে না বলে তারা পরিণত হয়েছে পাগলে। অন্যদিকে যারা ব্রিটিশ শাসকদের নিয়ম-নীতির প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করেছেন তারা হচ্ছেন সুস্থ, সভ্য ও মার্জিত মানুষ।

এডওয়ার্ড সায়িদ ওরিয়েন্টালিজম  গ্রন্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছিলেন যে, প্রাচ্যতত্ত্ব বোঝার অর্থ এই নয় যে আমাদের এর বিরুদ্ধে একটি পাশ্চাত্যতত্ত্ব তৈরি করতে হবে। বরং প্রাচ্যতত্ত্ব বুঝতে হবে আমাদের নিজের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানের মুক্তির স্বার্থে। প্রাচ্যতত্ত্ব বুঝতে পারলে ব্যক্তি তার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে হীনম্মন্যতা থেকে মুক্তি পাবে। এ জায়গা থেকেই আমাদের এডওয়ার্ড সায়িদের প্রাচ্যতত্ত্ব পাঠ করা এবং অনুধাবন করা উচিত।


তথ্যসূত্র :

১) Selection fom the Prison Notebooks of Antonio Gramsci, Edited and translated by Quentin Hoare and Geoffrey Nowell Smith, page 446
২) মোহাম্মদ আজম, বাংলা ভাষার প্রমিতকরণ ও উপনিবেশায়ন, youtube. com
৩) গোলাম মুরশিদ, ঔপনিবেশিক আমলের বাংলা গদ্য উন্মেষ ও বিকাশের ইতিহাস, পৃ. ১১৫
৪) সজনীকান্ত, বাংলা গদ্যের ইতিহাস, পৃ. ২৭
৫) তথ্যটি কাজী আবদুল ওদুদের বাংলা জাগরণ বইয়ে আবুল কাসেম ফজলুল হকের লেখা ভূমিকা থেকে নেওয়া।
৬) সৈয়দ আবুল মকসুদ, পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ।
৭) অসিতকুমার বন্দোপাধ্যায়, বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, ১ম খণ্ড।
৮) Rudyard Kipling, The Ballad of East and West.
৯) Rudyard Kipling, The White Man’s Burden
১০) এডওয়ার্ড ডব্লিউ সায়িদ, কালচার অ্যান্ড ইম্পেরিয়ালিজম, অনুবাদক, সামিউল হক পৃ. ২২৮