হোম গদ্য জাক দেরিদার নজরে আস্তিক নাস্তিক পজিশন এবং সর্বশক্তিমানের নিরস্তিত্ব

জাক দেরিদার নজরে আস্তিক নাস্তিক পজিশন এবং সর্বশক্তিমানের নিরস্তিত্ব

জাক দেরিদার নজরে আস্তিক নাস্তিক পজিশন এবং সর্বশক্তিমানের নিরস্তিত্ব
1.64K
0

তিনি জাক দেরিদা, ফরাসি দার্শনিক, তার ‘সারকামফেশন’-এ সোজা বলে দিলেন ‘আমারে আপনারা নাস্তিক ধরতে পারেন’। কথাটা ঠিক সোজা না, আবার সোজা-ই। এ নিয়ে তাকে পরে প্রশ্ন করা হলো, ”আপনি ডাইরেক্ট ‘আমি একজন নাস্তিক’ না বলে কেন বললেন ‘আমারে আপনারা নাস্তিক ধরতে পারেন?” তার ফরাসি ভাষায় কথাটা : “je passé à just titre pour une athée।” জন কেপুটো-র প্রশ্নের জবাবে দেরিদা কথাটাকে ইংরেজিতে বলেন—“I rightly pass as an atheist.”

John D. Caputo হলেন আমেরিকান দার্শনিক। দেরিদার দর্শনের উপর লিখেছেন চার শতাধিক পৃষ্ঠার বই The Prayers and Tears of Jacques Derrida.

কেন দেরিদা এভাবে বললেন?

আমরা দেখব, তিনি আস্তিক না নাস্তিক, এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে যা যা বলেছেন, এর মাঝেই সর্বশক্তিমান খোদার অস্তিত্ব থাকা না থাকার চিন্তাটি বলে ফেলেছেন। এই চিন্তাটি একেশ্বরবাদী ধর্মবিশ্বাসীদের চিন্তার সাথে কেমনে-কেমনে মিলে সেটাও আমরা দেখে ফেলতে পারি।


আস্তিক লোকটি বিশ্বাস করেন আল্লাহ/গড/ খোদা কোনো existing Being না। 


তিনি জবাবটির ভিতর একটু ব্যাখ্যা করে বোঝালেন যেন, তিনি আস্তিক বলেই এভাবে বলা ছাড়া ‘সত্য’ কথাটি বলবার আর কোনো উপায় তার কাছে নাই। আবার জবাবের শেষ দিকে তিনি নিজেকে আস্তিক কেন বলতে পারছিলেন না সে-কথাও বলেন। তিনি দেখতে পান—(বিশেষত ইসলাম, খ্রিস্টান, ইয়াহুদ, এই তিন ধর্মের পার্সপেক্টিভ-এ) আস্তিক যিনি, তাকে কিছু অস্বীকারের/ প্রত্যাখ্যানের পদক্ষেপ নিতে হয়। তাকে সাকার উপাসনা ত প্রত্যাখ্যান করতেই হয়, তাছাড়া প্রার্থনা যার কাছে করেন লোকটি, সেই উপাস্যের কোনো ইমেজ তার চিন্তায় থাকাও প্রত্যাখ্যান করতে হয়, মানে অধিবিদ্যা (ontology) ধরতে পারে এমন কিছু প্রার্থনারত ব্যক্তিটির ধারণায় থাকবে না। মানে, যার কাছে প্রার্থনা করছেন, তিনি কোনো thing না, entity না, সত্তা না, অস্তিত্ব না, ম্যাটাফিজিক্যাল বিঙ না। অস্তিত্ব বললে কোনো কিছু কঠিন তরল ও বায়বীয় হয়ে থাকার ব্যাপারটা প্রাসঙ্গিক হয়।

দেরিদা বোঝালেন, খাঁটি ঈমানদার, তার ভাষায় ‘true believer’, মানে ট্রু বিলিভার মানুষটি এথিজমের পথ ধরে চলতে চলতে অতঃপর তাকে আস্তিক হতে হয়। আস্তিক হওয়ার পর, আস্তিক লোকটি বিশ্বাস করেন আল্লাহ/গড/ খোদা কোনো existing Being না।

জন কেপুটো এই প্রশ্নও রাখছিলেন যে, ‘আপনি নাস্তিক কিনা এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে বলেই ঐভাবে বললেন?’

জবাবের শুরুতেই বললেন দেরিদা, ”আমি একমাত্র একজন না, যিনি কথা বলার সময় বলেন ‘আমি’। এই কথার এও এক মানে হয় যে, ‘আমি’ আস্তিকও বলে, ‘আমি’ নাস্তিকও বলে। আর বললেন, “কিছু ধর্ম, ধর্মগ্রন্থ, ধর্মীয় খোদার ব্যাপারে নাস্তিক পজিশন না নিলে আপনার ঈমান ত খাঁটি হয় না, হয় বাচ্চাদের মতো না বুঝে বিশ্বাস।”

আমরা দেখি, ইসলামে, আল্লাহকে ‘ইলাহ’ মানার আগে মনেপ্রাণে অন্য সব উপাস্য ধারণা অস্বীকার করে বলতে হয় ‘লা ইলাহা’। মানে, আগে বলতে হয়, ‘কোনো উপাস্য নাই’, তারপর বলতে হয় ‘আল্লাহ ছাড়া, মানে একমাত্র আল্লাহ’। খাঁটি ঈমানের পথে এভাবে যেতে হয়। কলেমা তাইয়্যেবার কথাটা এভাবে—’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। মানে, ‘কোনো উপাস্য নাই আল্লাহ ছাড়া আর মোহাম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসুল’। দেরিদা বলছিলেন ঐ জবাবে, তার ভাষায়

if we don’t go as far as possible in this direction of atheism, then this belief in God is naïve and totally inauthentic.

এই যে তার ‘ডাইরেকশন অব এথিজম’, এটা একত্ববাদের ধর্মাশ্রয়ী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এ পর্যায়ে তিনি ইসলামকে কী মনে করতেন সেটি আমরা পেতে পারি নিচের উদ্ধৃতাংশ থেকে।

Derrida, however, had a different vision of reason and secularization. “I think that we must,” Derrida said, “consider as our primary task to ally ourselves with those elements in the Muslim and Arab world that are working to further the secularization of politics,” to which he added, “and to do so through and out of respect not only for the political realm and democracy, but also through and out of respect for faith and religion.”

(Islam and the West : A Conversation with Jacques Derrida
By Mustapha Chérif)

এবার দেখা যাক, আল্লাহর অস্তিত্ব প্রসঙ্গে তর্ক করা প্রাসঙ্গিক কিনা। তর্কের মূলে রয়েছে—’গড আছেন’ একদিকে, অন্যদিকে ‘গড নাই’।

কী আছে আর কী নাই নিয়ে তারা তর্ক করেন?

যারা ‘আছেন’ বলেন, তারা কী আছে বলেন? গড কি কোনো বস্তু বা সাকার কোনো রুপের কিছু যা ‘আছেন’ হয়? গড কি কোনো জিনিস যা কোথাও এই মহাবিশ্বমণ্ডলের স্পেস-টাইমে স্থান জুড়ে থাকেন?

একইভাবে উল্টাদিকে যারা ‘নাই’ বলেন, তারা কী নাই বলেন? উভয় পক্ষ কি একটা অধরা অচিন্তনীয় আনফেদমেবল বিষয়ে না-জানা অবস্থায় থেকে তর্ক করছেন না? ওসব কি অহেতুক অতিকথন নয়? ‘চল্লিশ জন বিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে আল্লাহর অস্তিত্ব’ বইটাতে কি আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ আছে? যার অস্তিত্বই নাই তার প্রমাণ কেমনে? যে-বিষয়টা ভাষা ও চিন্তা দ্বারা এক্সপ্লোরেশনের বাইরে, সে-বিষয়টারে ভাষা ও বিষয়ের চিন্তার ভেতরে আনা হয় কেন? খোদাকে ‘অস্তিত্ব’ আকারে ধরতে গেলেই তো বিজ্ঞান চিন্তা মার খায়। খায় না?  কারণ বিজ্ঞান যা কিছু প্রমাণ হাজির করবে তা মডিফাইয়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে। বাতিলও হতে পারে। বিজ্ঞান ত কন্সট্যান্টলি আন্ডারগো মডিফিকেশন।  মার্টিন হাইডেগার দেখালেন কি কারণে দর্শন চর্চা দিয়া ‘সত্য’ ধরা সম্ভব না। কারণ ‘সত্য’ দর্শনের যুক্তিবিদ্যার ভেতরের সাবজেক্ট না। খোদাকে হাইপোথিসিস ধরাও যৌক্তিক না। হাইপোথিসিস এই অর্থে যে, কোনো কিছু প্রমাণ করার জন্যে সত্য ধরে নিয়ে প্রমাণ করার প্রকল্প নেয়া।

আমাদের, মানে মানুষের, জীবন যাপন, চিন্তা-ভাষা, উদ্ভাবন আবিষ্কার; আমাদের অন্বেষা, যে-অন্বেষার মাধ্যমে আমরা কিছুর প্রমাণ করতে লেগে যাই, বস্তু বাস্তবতার কার্যকারণ তালাশ করি; এই সবই তো ধ্বংসশীল পরিবর্তনশীল সীমিত বস্তু বাস্তবতাকে ঘিরে। 


দার্শনিক হেগেল দরবেশ কবি জালালউদ্দিন রুমির তাওহিদের সারাৎসার সম্বলিত পঙ্‌ক্তিসমূহ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।


খোদা বিষয়ক অনটোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট করার মাধ্যমে মানুষ জানতে পারল খোদার পরিচয় একেবারে পরিষ্কার বোধগম্য (fathomable) না। চর্চাতে লাভ এতটুকু, যেমন : হেগেল দেখেছিলেন তার যৌক্তিক জ্ঞানে গড হলেন fullest self-determining real. এই ‘রিয়েল’ আসলে কী? উত্তর মিলে না। ব্যাপারটিকে থিংকিংয়ের ভেতরে আনা যায় না। ভাষা-চিন্তা যাকে ধরতে পারবার সাধ্যের মধ্যে নাই, সেই বিষয়টার উপর ডাউট বা সন্দেহ রাখাও যুক্তিসংগত হয় কিনা এ প্রশ্নও থাকছে। কারণ ব্যাপারটা যুক্তি চর্চার ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে ধরবার আওতায় নাই।

কোরআনের সুরা আল আনআম-এর ১০৩ আয়াতে বলা হয়েছে—’লা তুদরিকুহুল আবসার’, মানে, No vision can grasp him, মানে, ‘কোনো চোখের অন্বেষা তাকে ধরতে পারে না’। মানে, মানুষ অস্তিত্ব আকারে যা বোঝে, সে-রকম সাকার কিছু নন আল্লাহ। সুরা আশ শুরা-তে আছে ‘লাইসা কা মিছলিহি শাইউন’। (আয়াত ১১) মানে, তাঁর সমতুল কোনো কিছু নাই। তাঁর সমকক্ষ কেউ নাই (সুরা ইখলাস)। তিনি অদ্বিতীয়।

আমরা এও দেখি, দর্শন চর্চাতে উপস্থিত আর অনুপস্থিত হওয়ার জন্যে ‘কিছু’ হওয়া লাগে। যে-‘কিছু’ বস্তু বা ব্যক্তি একটা কিছু আকারে আবির্ভূত হতেই হয়। যদি ‘কিছু’ হওয়ার বাইরের হয়, তাইলে কেমনে উপস্থিত অথবা অনুপস্থিত? শরীরের চোখে দেখা যায় না এমন কিছু যেমন বাতাস, কিঞ্চিত কাব্যিক ব্যঞ্জনাতে কোনো স্থানে নির্দিষ্ট পরিমান বাতাস উপস্থিত বা অনুপস্থিত অথবা নিদেনপক্ষে বিরাজমান আছে বা নাই বলা যায়। বাতাসের জন্যেও নির্দিষ্ট দেশ/ স্পেস নির্ধারিত, মানে সীমিত। বাতাসের জন্যে রয়েছে অদৃশ্য দেয়াল। এই সীমা বাতাসও মানতে বাধ্য। ইচ্ছে করলেই বাতাস ছড়িয়ে পড়তে পারে না আউটার স্পেসে।

25359821_1985145024835316_337806141_n
Jacques Derrida

‘কিছু’ মানেই সীমা চিহ্নিত হয়ে আসা কিছু। ইংরেজি জবানে thing, আরবিতে শাই (شيء) আর বাংলায় ‘কিছু’ এর উপস্থিত বা অনুপস্থিত হওয়ার প্রসঙ্গ আসা মানেই সসীম কিছু। গড বা আল্লাহকে ‘সত্তা’ ধরলে,  সর্বশক্তিমান সত্তা বিবেচনা করলেও, ‘সত্তা’ বিবেচনা করার কারণে সীমিত করা হয়। এই তর্ক তুলেছিলেন গেয়র্গ ভিলহেল্ম ফ্রিদ্রিখ হেগেল, জার্মান দার্শনিক পণ্ডিত লেখক। হেগেলের ‘ফিলোসফি অব রিয়েলিটি’ এর তলানিতে, তার গড যদিও ‘অমনিপ্রেজেন্ট’ কিন্তু ‘কিছু’ আকারে সর্বত্র বিরাজমান না। তার মানে কি এই যে, মুসলমানদের বিশ্বাস মোতাবেক আসমান জমিন তথা মহাবিশ্বমণ্ডলের সবকিছু আল্লাহর জ্ঞানের আওতাধীন অর্থ মোতাবেক ‘অমনিপ্রেজেন্ট’? তা-ই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা দেখি, দার্শনিক হেগেল দরবেশ কবি জালালউদ্দিন রুমির তাওহিদের সারাৎসার সম্বলিত পঙ্‌ক্তিসমূহ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আরও একটি কারণ ফিলোসফিক্যাল থিওলজির খোঁজ নেয়ার প্রথম দিকেই গড কোনো কিছু আকারে থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন হেগেল। (এ বিষয়ে ‘হেগেল ও রুমির খোদা’ শীর্ষক আমার প্রবন্ধে বিস্তারিত আছে।)

জন কেপুটো-র প্রশ্নের তিন অনুচ্ছেদ জবাবের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে জাক দেরিদা জানালেন, তিনি জানেন, মিস্টিকেরা তাদের অভিজ্ঞতায় পেয়ে আসছেন disappearance of God বা non-existence of God. মানে আল্লাহ কোনো substance না। এ প্রসঙ্গে দেরিদা বললেন, মার্টিন হাইদেগারের  being beyond Being এর কথা। মানে যেন-বা কোনো কিছু নাই হয়ে আছে হওয়া। ব্যাপারটা beyond cognizance, মানে বুঝের বাইরে, মানে ম্যাটাফিজিক্যাল স্টাডির বাইরে। তিনি বললেন, বিঙ বেয়ন্ড বিঙ, এটা প্লেটোও ভাবতেন। এইভাবে বিশ্বাস করা, তিনি বললেন, এক ধরনের believe as an atheist, মানে ম্যাটাফিজিক্যালি না-থাকা কিছুতে বিশ্বাস করা। এটা প্যারাডক্সিক্যাল, তবুও ব্যাপারটা এমনই। তাই তিনি বললেন, তিনি জানেন, খাঁটি ঈমানদার  অনুভবে পান —অভিজ্ঞতায় পান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কোনো কিছু আকারে না-থাকা অবস্থা। এই অবস্থাকে তিনি এথিজম বা নিরীশ্বরবাদ শব্দের মাধ্যমে বলেছেন। আর এ পর্যায়ে এসে দেরিদা গ্রিক শব্দ epoche (গ্রিক উচ্চারণ—এপখে) ব্যবহার করেছেন। বলেছেন এপখে অবস্থাতে বিশ্বাস করবার জায়গায় পৌঁছানো। এপখে অবস্থা মানে যেখানে সব ধরনের জাজমেন্ট থেমে যায়, একটা নিরুদ্বিগ্ন অবস্থার (state of ataraxia) মাঝে পৌঁছবার প্রণোদনা দিবার জন্যে। স্টেট অব অ্যাটারেক্সিয়া-তে মানুষ পায় freedom from worry and anxiety. এই অবস্থাতে মানুষটির মন সুখে দুখে অবিচলিত হয়, পিস অব মাইন্ড থাকে।

আমরা ভাবতে পারি, এই মনটাই কি কোরআনে বর্ণিত প্রশান্ত মন বা নাফসুল মোতমাইন্না? আল্লাহর প্রিয় বান্দা এইরকম প্রশান্ত মনের অধিকারী হওয়ার কথা রয়েছে।

মিস্টিক মানে আমরা সহজ বাংলায় ইসলামী পরিভাষার অলি-দরবেশ বা কামেল সুফি বা পাক্কা ঈমানদার বুঝে নিতে পারি। তিনি তা বুঝিয়েছেন-যে, এর কারণও পরিষ্কার। তিনি আব্রাহামীয় একেশ্বরবাদী তিন ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে কথা বলছিলেন।

জবাবটির তৃতীয় অনুচ্ছেদ বা শেষ অনুচ্ছেদে জাক দেরিদা বলেছেন তিনি কোনো ধরনের নন্-বিলিভার। এবং কি-কারণে নিজেকে সাফ সাফ নন্-বিলিভার বলতে পারছেন না ম্যাটাফিজিক্যাল স্ট্যান্ডপয়েন্ট/ দৃষ্টিকোণ থেকে। তিনি বলেছেন, ডিকনস্ট্রাকশন-সহ তার সব কাজের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন ইন অ্যা সারটেইন ওয়ে’ তিনি নন-বিলিভার। তিনি বললেন :

I’ve given a number of signs of my being a non-believer in God in a certain way. 

মানে, খেয়াল করার ব্যাপার হলো, বলেছেন ‘ইন অ্যা সারটেইন ওয়ে’, মানে, ঢালাওভাবে সেকুলার নন-বিলিভার-দের মতো বলছেন না। তাদের মতো তিনি ধর্মবিরোধী নাস্তিক দাবি করছেন না, বিশেষ অর্থে তিনি নন-বিলিভারের মতো জীবনের পথ অতিক্রম করছেন। কিন্তু নাস্তিক আস্তিক পজিশন নির্ণয় করার উত্তরে আস্তিক বা নাস্তিক কোনো পজিশন নিতে পারছেন না। কারণ বিশ্বাসের পজিশন ম্যাটাফিজিক্যালি অ্যাফার্ম ও কনফার্ম করার কোনো উপায় তার কাছে নাই। তিনি বললেন :

I wouldn’t say “I am an atheist” or I wouldn’t say “I am a believer” either. These statements, I find them absolutely ridiculous: “I am a believer, I know that I am a believer.” Who knows that? Who can affirm and confirm, “I am a believer.” And who can say “I am an atheist?” I just write such sentences, that is the only thing I can say…


জাক দেরিদা শিখবার আগ্রহ নিয়ে, বিনয়ের সাথে মিস্টিকের কাছে গিয়েছেন, আসমানী কিতাবের পাঠ নিয়েছেন। আর তথাকথিত আস্তিক নাস্তিক লড়াইয়ে অংশ নেন নি।


উল্লেখ্য, রিচার্ড ডওকিন্স আর ক্রিস্টোফার হিচেন্স ইত্যাদি সেকুলারিস্টদের মতো ধর্মকে আক্রমণ করেন নি জাক দেরিদা। তিনি শিখবার আগ্রহ নিয়ে, বিনয়ের সাথে মিস্টিকের কাছে গিয়েছেন, আসমানী কিতাবের পাঠ নিয়েছেন। আর তথাকথিত আস্তিক নাস্তিক লড়াইয়ে অংশ নেন নি।—এই তথ্য জানালেন জন কেপুটো। (‘দ্য স্টৌন’ এর জন্যে নেয়া জন কেপুটো-র সাক্ষাৎকার, যেটি ৯ মার্চ ২০১৪ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত)। কেন লড়াইয়ে অংশ নেন নি? সহজ উত্তর পজিশন নেয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না পারা। এই না-পারা মানে কী? এমন একটা মানে ত হতে পারে যে, মানুষের প্রজ্ঞার দৌড়ের সীমা দেখে থেমে যেতে বাধ্য হওয়া।

এই সাক্ষাৎকারেই জন কেপুটো এটাও জানালেন, দেরিদার বিনির্মাণ কেমনে-কেমনে কাজ করে। বললেন :

Deconstruction is a way to read something meticulously, feeling about for its tensions, releasing what it itself may not want to disclose, remembering something it may not want to recall — it is not a drive-by shooting.

মেটিকুলাসলি পড়া মানে, গভীরভাবে, খুব খেয়াল করে পড়া, শব্দার্থের দিকে বাক্যার্থের দিকে মনোযোগ দেয়া, একই শব্দের, বাক্যের নানা অর্থের দিকে খেয়াল করা।

যা হোক, বিনির্মাণ নিয়ে আলাপ এখানে করছি না। এবং বিনির্মাণ নিয়ে তার চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে ডুয়েলিজমের হায়ারার্কির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে, লড়াই করতে করতে কেন টের পাচ্ছিলেন—মিস্টিসিজমের দিকে চলে যাচ্ছেন কিনা। সেটা অন্য ডিসকোর্সে হবে। সেখানে দেখা যাবে আমাদের বাস্তব অবস্থাতে (predicament) দ্বৈত ও অদ্বৈত দুইই আছে।

সারওয়ার চৌধুরী

জন্ম ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৬৬; চট্টগ্রাম। নানাবাড়িতে। কবি, গল্পকার, প্রবন্ধিক ও অনুবাদক। প্রাক্তন সদস্য, সিলেট প্রেসক্লাব। পড়াশোনা করেছেন ‘ফেঞ্চুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ’-এ (বিকম পরীক্ষা দেন নি)। সহকারী সম্পাদক হিশেবে কাজ করেছেন ‘দৈনিক জালালাবাদ’-এ (১৯৯৩- ১৯৯৭)। বিশ বছর ধরে প্রবাসে। একটি পারফিউম কোম্পানিতে সেলস এগজিকিউটিভ হিশেবে কর্মরত আছেন।

প্রকাশিত বই—

একমুঠো ল্যাবিরিন্থমাখা মায়াবী জীবন তৃষ্ণা [উপন্যাস; শুদ্ধস্বর, ২০০৬]
অচিন মানুষটির নানা রঙের গল্প [উপন্যাস; শুদ্ধস্বর, ২০০৭]
বচনে বন্ধনে ঘ্রাণে প্রশ্নোত্তর ফোটে [প্রবন্ধ; আদর্শ, ২০১২]
শিশির ও ধূলিকণা মায়া [গল্প; শুদ্ধস্বর, ২০১৪]
হারুকি মুরাকামির গল্প ও বচনামৃত [অনুবাদ গল্প; চৈতন্য, ২০১৫]
ভালবাসার চল্লিশ নিয়ম [অনুবাদ উপন্যাস; চৈতন্য, ২০১৬]

ই-মেইল : sarwarch@gmail.com