হোম গদ্য জসীমউদ্‌দীনের চোখে রবীন্দ্রনাথ

জসীমউদ্‌দীনের চোখে রবীন্দ্রনাথ

জসীমউদ্‌দীনের চোখে রবীন্দ্রনাথ
518
0

কাব্য-কবিতা লিখে খ্যাতি অর্জন করেছেন; বাংলা সাহিত্যে উচ্চ, মাঝারি বা তৃতীয় শ্রেণির অবস্থান পেয়েছেন; অথচ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে [১৮৬১-১৯৪১] নিয়ে ভাবেন নি বা লেখেন নি—এমন কবি খুঁজে পাওয়া বোধ হয় মুশকিল হবে। রবীন্দ্রনাথের সমকালের এবং উত্তরকালের প্রায় সব কবিই কম বেশি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাদের ভাবনাকে প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থও রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে। এমনকি ত্রিশের দশকের আধুনিকতাবাদী কবিগোষ্ঠী—বাংলা কবিতায় যাদের আবির্ভাবই ঘটেছিল রবীন্দ্র-বিরোধিতার মধ্য দিয়ে—তারাও প্রায় সবাই রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাদের ভাবনা-চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এই রবীন্দ্রনাথ-বিষয়ক চিন্তার মধ্যে তারা যে কেবল রবীন্দ্রনাথকে মূল্যায়ন করেছেন, তা নয়; রবীন্দ্র-প্রতিভার গতি-প্রকৃতি ব্যাখ্যা করে নিজেদের করণীয় এবং স্বাতন্ত্র্য নির্ধারণ করেছিলেন। কারণ, রবীন্দ্র-প্রভাব-বলয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠা বাংলা কবিতাকে পাশ কাটিয়ে—শুধু আধুনিকতাবাদী নয় যেকোনো কবির—নিজেদের কবিতাকে গ্রহণযোগ্য করানোটা ছিল প্রায় অসম্ভব। ফলে, তাদের নিজেদের কবিতার গতি-প্রকৃতি ও স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরার জন্যে হলেও ত্রিশের কবিসহ প্রায় প্রত্যেককেই রবীন্দ্র-কবিতার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে। এ-এক কাব্যরাজনীতি। রবীন্দ্রনাথকে তার ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে তাদের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা সম্ভব ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, বাংলা কবিতায় যারা নিজস্ব সুর ও স্বরের অধিকারী, তারাই নিজের কবিতার ভিন্নস্বর-সাধনাকে সুপরিস্ফুট করার জন্যে হলেও রবীন্দ্র-মূল্যায়নে ব্রতী হয়েছেন। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, বড় কবিদের রবীন্দ্র-মূল্যায়ন কোনো নিরীহ বিষয় নয়, বরং নিজের নিজের কাব্যতত্ত্বকে স্পষ্ট করার এক গোপন-প্রকাশ্য রাজনীতি। এ-কারণে বুদ্ধদেব বসু [১৯০৮-৭৪] বা জীবনানন্দ দাশ [১৮৯৯-১৯৫৪] বা অমিয় চক্রবর্তী [১৯০১-৮৬] যখন রবীন্দ্রনাথকে দেখেন তখন তাদের দেখায় ধরা পড়ে এক রবীন্দ্রনাথ; কাজী নজরুল ইসলাম [১৮৯৯-১৯৭৬] যখন দেখেন তখন ধরা পড়ে আর এক রবীন্দ্রনাথ। আবার গোলাম মোস্তফা [১৮৯৭-১৯৬৪] বা ফররুখ আহমদ [১৯১৮-৭৪] বা শামসুর রাহমান [১৯২৯-২০০৬] অথবা আল মাহমুদ [জ. ১৯৩৬] যখন রবীন্দ্রনাথকে দেখেন তখন রবীন্দ্রনাথ দেখা দেয় ভিন্ন ভিন্ন এক এক রবীন্দ্রনাথ হয়ে। ফলে, এক রবীন্দ্রনাথ বলে কিছু নেই। এই লেখায় আমরা দেখার চেষ্টা করব জসীমউদ্‌দীনের [১৯০৩-৭৬] রবীন্দ্রনাথকে।


জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্র-মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সেই বিরল ব্যক্তিদের একজন যিনি মুগ্ধতার আবিলতাকে অতিক্রম করে রবীন্দ্রনাথকে দেখতে ও দেখাতে পেরেছেন।


এক.
বাঙালি কবির রবীন্দ্র-মুগ্ধতা নতুনও নয়, অন্যায্যও নয়। শুধু বাঙালি কবি কেন, সমগ্র বাংলাভাষী মানুষই রবীন্দ্রমুগ্ধ। এই রবীন্দ্র-মুগ্ধতা তৈরি হয়েছে রবীন্দ্রনাথকে সম্যকভাবে গভীরভাবে পড়ে, বুঝে ও শুনে—একথা হলফ করে বলা যাবে না। বড় প্রতিভার এই এক ব্যাপার যে, তাদের নামই এক সময় কিংবদন্তিতে, মিথে পরিণত হয়ে যায়। প্রতিভার এমন উচ্চতা তারা প্রদর্শন করেন যে, তাদের সম্পর্কে না-জেনে, না-পড়ে, না-বুঝেই মানুষ তাদের বড়ত্ব নিয়ে সহজেই বাজি ধরতে পারে। ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব না নিয়েই তাদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নেয়, প্রশংসাকীর্তন করে, তাদের সম্পর্কে মুগ্ধতা প্রকাশ করে। রবীন্দ্রনাথও বাংলা সাহিত্যের ক্ষেত্রে তেমনি এক প্রতিভা, যাকে নিয়ে নিরাপদে মুগ্ধতা প্রকাশ করা যায়। নিজ ভাষার জনগোষ্ঠীর জন্য এই নিরাপদ-মুগ্ধতা তৈরি নিঃসন্দেহে রবীন্দ্রনাথের অনন্য সাধারণ অর্জন। কিন্তু এই মুগ্ধতা অনেক সময় রবীন্দ্রনাথকে বোঝার এবং তার মাহাত্ম্য আরো বেশি করে উপলব্ধি করার পথে আবিলতা তৈরি করে। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র-মূল্যায়ন এই মুগ্ধতার আবিলতায় অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে—একথা বোধ করি সর্বৈব মিথ্যা নয়। আবাল্য রবীন্দ্র-মুগ্ধতার মধ্যে বেড়ে উঠতে-উঠতে কেউ কেউ সেই ভাবালুতার আবিলতাকে অতিক্রম করে রবীন্দ্র-সাহিত্যের যেখানে মূল শ্বাস, প্রাণভোমরা—সেটি উন্মোচন করতে পেরেছেন। কেউ কেউ সেই ভাবালুতার চোরাবালিতে আটকে গিয়েছেন। জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্র-মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সেই বিরল ব্যক্তিদের একজন যিনি মুগ্ধতার আবিলতাকে অতিক্রম করে রবীন্দ্রনাথকে দেখতে ও দেখাতে পেরেছেন। জসীম উদ্‌দীনের রবীন্দ্র-মূল্যায়নের সঙ্গে তার নিজস্ব কাব্যতত্ত্ব ও নন্দতত্ত্বের আন্তঃরাজনীতি মাথায় রেখেই আমরা একথা বলছি।

দুই.
জসীমউদ্‌দীনের রবীন্দ্র-বিষয়ক প্রবন্ধ এবং স্মৃতিকথাগুলোর ওপর চোখ রাখলেই তার রবীন্দ্র-মুগ্ধতা সহজেই চোখে পড়ে। বাংলা কবিতায় একটা স্বতন্ত্র, সার্বভৌম, অনুকরণ-অসম্ভব কাব্যধারার প্রবর্তক এই জসীমউদ্‌দীন তার জীবন কথা [১৯৬৪]-য় অকপটে বলেছেন যে, তিনি এক সময় রবীন্দ্রনাথকে অনুকরণ করে কবিতা লিখতেন। ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় [১৯৬১] গ্রন্থে জসীমউদ্‌দীনের রবীন্দ্র-মুগ্ধতা বিস্ময়কর। বলা বাহুল্য, এই মুগ্ধতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তি-রবীন্দ্রনাথের প্রতি মুগ্ধতা, কিংবদন্তি-রবীন্দ্রনাথের প্রতি মুগ্ধতা, রবীন্দ্র-মিথের প্রতি মুগ্ধতা; এর সাথে ছিল রবীন্দ্র-সাহিত্যের প্রতি মুগ্ধতা। এই মুগ্ধতার একটি কারণ বোধ হয় এই যে, জসীমউদ্‌দীন ১৯৩০ সালে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ করেন। ১৯৩০ সালের রবীন্দ্রনাথ মানে তো নোবেল পুরস্কার-প্রাপ্ত বিশ্ব-সমাদৃত অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে জসীমউদ্‌দীনের প্রথম সাক্ষাতের বর্ণনাটি লক্ষ করা যাক। কারণ, এই বর্ণনার মধ্যে ব্যক্তি-রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে জসীমউদ্‌দীনের মুগ্ধতার মাত্রা ধরা পড়েছে। জসীমউদ্‌দীন তখন ভাড়া থাকেন অবনীন্দ্রাথের বাড়িতে। জসীমউদ্‌দীনের বর্ননাটি এরকম—

অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি হইতে রবীন্দ্রনাথের ঘর তিন মিনিটের পথও নয়। এই এতটুকু পথ অতিক্রম করিতে মনে হইল যেন কত দূরের পথ যাইতেছি। আমার বুক অতি আনন্দে দুরু দুরু করিতেছিল। ঘরের সামনে আসিয়া আমাকে অপেক্ষা করিতে বলিয়া মোহনলাল ভিতরে প্রবেশ করিল। আমি দরজার সামনে দাঁড়াইয়া কত কথা ভাবিতে লাগিলাম। আমি যেন কোন অতীত যুগের তীর্থযাত্রী। জীবনের কত বন্ধুর পথ অতিক্রম করিয়া আজ আমার চির-বাঞ্ছিত মহামানবের মন্দিরপ্রান্তে আগমন করিয়াছি। … স্বপ্নাবিষ্টের ন্যায় আমি যেন কোন কল্পনার জগতে প্রবেশ করিলাম। … এ যেন বৈদিক যুগের কোন ঋষির আশ্রমে আসিয়াছি [জসীম ১৯৯২: ১২]।

উদ্ধৃতাংশে ২৭ বছর বয়সী জসীমউদ্‌দীনের রবীন্দ্র-মুগ্ধতা, যখন ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে জসীমউদ্‌দীনের রাখালী [১৯২৭] এবং নক্‌সী কাঁথার মাঠ [১৯২৯]। আর কিশোর জসীমউদ্‌দীনের মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে নিম্নোক্ত স্মৃতিকথায়—

তারপর কবির সঙ্গে মনের পরিচয় হইল ‘প্রবাসী’তে তাঁহার জীবন-স্মৃতি পড়িয়া। অল্প বয়সের সেই কিশোর বেলায় আর একজন কিশোর কবির প্রথম জীবনের কাহিনীর ভিতর দিয়া সেদিন যে মিলন-লতাটি রচিত হইল, তাহাতে ফুল ফুটিয়া, গন্ধ ছড়াইয়া আমার সমস্ত জীবন আমোদিত করিয়াছে। কবি কোথায় রেলগাড়িতে বেড়াইতে গিয়াছিলেন, জানালার পথে দৃষ্টি মেলিয়া পথের পাশের প্রতিটি দৃশ্যকে কিভাবে তিনি অন্তর দিয়া অনুভব করিয়াছিলেন, … এই সব কত যে একনিষ্টভাবে অনুকরণ করিতাম সে কথা ভাবিলে আজ হাসি পায়।

তারপর বুঝিয়া না বুঝিয়া কবির বইগুলি যেখানে যেখানে পাইয়াছি পড়িয়া গিয়াছি। সব বুঝিতে পারি নাই, কিন্তু ভাল লাগিয়াছে। হয়ত কবির রচনায় যে অপর্ব সুরের মাদকতা আছে, তাহারই পরশ আমার অবচেতন মনে প্রভাব বিস্তার করিয়াছিল [জসীম ১৯৯২: ৯]।

এ-হচ্ছে জসীমউদ্‌দীনের রবীন্দ্র-মুগ্ধতা। কিন্তু পরিণত বয়সে—১৯৬১ সালে যখন ঠাকুরবাড়ির আঙিনায় গ্রন্থটি লিখছেন—রবীন্দ্র-কাব্যপাঠের প্রতিক্রিয়ায় জসীমউদ্‌দীন বলেছেন—

এখন রবীন্দ্রনাথের কবিতা পূর্বাপেক্ষা অধিক বুঝিতে পারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হইয়া কয়েক বৎসর কবিতা ছাত্রদের পড়াইলামও, কিন্তু আগের মত কবিতার মাদকতার স্বাদ এখন পাই না।

এখানেই শুরু জসীমউদ্‌দীনের রবীন্দ্র-মূল্যায়ন। এখান থেকেই জসীমউদ্‌দীনের প্রকৃত রবীন্দ্র-মূল্যায়নের; রবীন্দ্র-চিন্তার শুরু। কারণ ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে জসীমউদ্‌দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো—রাখালী [১৯২৭], নক্‌সী কাঁথার মাঠ [১৯২৯], বালুচর [১৯৩০], ধান খেত [১৯৩১], সোজন বাদিয়ার ঘাট [১৯৩৩]। ইতোমধ্যে বাংলা কাব্যে তার স্থান নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাংলা কাব্যের রাজনীতি এবং সেই রাজনীতির ইতিহাসে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ঘোষণার তাকৎ ও প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ফেলেছেন জসীমউদ্‌দীন।

তিন.
জসীমউদ্‌দীন বোধ করি বাংলা সাহিত্যের সেই বিরল কবি-সমালোচক যিনি বাংলা সাহিত্যে ঔপনিবেশিক প্রভাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তিনি ইংরেজ শাসন শুরুর ক্ষণকে চিহ্নিত করেছেন বাংলা সাহিত্যের দ্বিভাজন রেখা হিশেবে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস পরম্পরা, গতি-প্রকৃতি ও অন্তর্লক্ষণ বিবেচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, বাংলা সাহিত্য তার পুরনো নিজস্ব চেতনা ও গতিপথ পরিত্যাগ করে এক ভিন্নতর ইউরোপীয় চেতনা ও কক্ষপথে পরিক্রমণ করা শুরু করেছে ইংরেজ উপনিবেশ শুরুর পর থেকে। ঔপনিবেশিকতার কারণেই বাংলা কাব্য শুধু নয়, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের নিজস্ব ধারাবাহিক গতিধারা রুদ্ধ হয়েছে এবং সেই রুদ্ধবিন্দু থেকে শুরু হয়েছে ইউরোপীয় ধারার সাহিত্যচর্চা। মাইকেল মধুসূদন দত্ত [১৮২৪-৭৩] এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় [১৮৩৮-৯৪] যে ‘আধুনিক’, তা ইউরোপীয় চেতনার ধারক-বাহক হিশেবেই তো ‘আধুনিক’। এই ‘আধুনিকতা’র যারা ধারক বাহক, তারা কলকাতাকেন্দ্রিক হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণিটির গড়পরতা চরিত্রই ছিল এমন যে, যা-কিছু ইউরোপীয় তা-ই মহৎ এবং উৎকৃষ্ট। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এরা চেতনায় ইংরেজ হয়ে উঠেছিল। এই শ্রেণিটির গঠন এবং চারিত্র্য সম্পর্কে জসীমউদ্‌দীন বলেছেন—

ইংরেজ এদেশে এসে আমাদের মধ্যে হিন্দু মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের সৃষ্টি করলেন। কারণ তাঁদের মধ্যেই তাঁরা নিজেদের সমর্থন খুঁজে পেলেন। … যে দলটি নগরে এসে বাসা বাঁধল, নগরের জৌলুস তাদের চোখ ঝলসে দিল। ইংরেজের নতুন সভ্যতা এঁরা চোখ বুজে গ্রহণ করলেন। … নতুন যে মধ্যবিত্ত-হিন্দু-দলটি শহরে এসে আস্তানা তুলল, তাতে শহরে তাদের নিজস্ব কোনো Tradition-এর বনিয়াদ ছিল না। সেইজন্য ইংরাজের নগরে এসে তারা ইউরোপীয় ভাবধারার পানপাত্রটি পরিপূর্ণ মনে গ্রহণই করল না, নিজের দেশের গ্রাম্য-জীবনের সেই প্রাচীন ভাবধারার বনিয়াদকে লাথি মেরে দূরে ছুড়ে ফেলে দিল [জসীম ২০০১ : ৩৩-৩৪]।


তিনি ভারতকে দেখেছেন, বাংলাকে দেখেছেন, কিন্তু ইউরোপীয় চোখ দিয়ে দেখেছেন। 


এই ইংরেজ-চেতনায় ঋদ্ধ, ‘ইউরোপীয় ভাবধারার পানপাত্র’ গ্রহণকারী শ্রেণির হাতে রচিত সাহিত্যকে জসীম বলতেন ‘বিজাতীয়’ সাহিত্য বা দেশি ভাষায় অনুদিত বিদেশি সাহিত্য। এই শ্রেণির সাহিত্যিককে জসীমউদ্‌দীন বলছেন ‘মুষ্টিমেয়’ লোকের সাহিত্যিক। কারণ তারা ইউরোপীয় শিক্ষায় শিক্ষিত মুষ্টিমেয় লোকের ভাবের রূপায়ণ করেন তাদের সাহিত্যে। ঔপনিবেশিক যুগ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের এই নব ঔপনিবেশিক চিন্তাধারার মধ্যে প্রবেশ এবং তার স্বরূপ ও প্রভাব সম্পর্কিত আলোচনা আর দীর্ঘায়িত না-করে সহজ করে বলা যায়, জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্রনাথকে মোটা দাগে পূর্বোক্ত ‘ইউরোপীয় ভাবধারার পানপাত্র’ পান করা সাহিত্যিক মনে করতেন; ‘মুষ্টিমেয়’ লোকের সাহিত্যিক মনে করতেন। অন্যকথায়, রবীন্দ্রনাথকে তিনি ভদ্রলোকের কবি মনে করতেন। ‘আমাদের বাঙলা-সাহিত্য ত সেদিনও জমিদার ও ডেপুটিদের হাতে ছিল’ [জসীম ২০০১ : ৩১]—জসীমউদ্‌দীনের এই মন্তব্যের মধ্যে যে ব্যক্ত এবং অব্যক্তভাবে রবীন্দ্রনাথও আছেন, যে বিষয়ে সন্দেহ নেই। জসীমউদ্‌দীন সাহিত্য বলতে জনসাধারণের জন্যে রচিত সাহিত্যকেই বুঝতেন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য যে জসীমউদ্‌দীন কথিত ‘গণ-সাহিত্য’ নয়; একথা তিনি বারবার বলেছেন। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি নির্ণয় করতে গিয়ে এজন্য জসীমউদ্‌দীন বলেছেন—

গীতাঞ্জলিতে এসে রবীন্দ্রনাথের মন বোধ হয় কতকটা জনসাধারণের দিকে ফিরেছিল। তিনি দেশের গ্রাম্য গানের Technique অবলম্বন করে সাহিত্য রচনা করতে আরম্ভ করেছিলেন। আমার মনে হয়, কবি যদি নোবেল প্রাইজ না পেতেন, তবে বোধ হয় এদিক দিয়ে তিনি আরো এগিয়ে যেতেন। কিন্তু নোবেল প্রাইজ পাওয়ার পরে বাঙলার কবি বিশ্বের কবি হয়ে গেলেন। পদ্মাচরের চখাচখীর সরু পালকের বন্ধন ছিঁড়ে কবি ইউরোপের হাটের বেসাতিতে মেতে রইলেন [জসীম ২০০১ : ৩২]।

রবীন্দ্রনাথের এই ইউরোপীয় ভাবধারার অনুবর্তী হওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন জসীমউদ্‌দীন এভাবে—

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর পণ্যসম্ভার যখন জব চার্ণকের কলিকাতায় গড়াগড়ি যাইতেছিল, সেই সময় ইউরোপীয় কাব্য, সাহিত্য ও শিল্পকলার রসধারা ঠাকুর পরিবারে আসিয়া বাংলার বিদগ্ধ সমাজে যোগ সংযোগ করিতেছিল। ইউরোপীয় ভাবধারা আকণ্ঠ পান করিয়া যে সব বাঙালী লেখক-শিল্পী নূতন নূতন সৃষ্টিকার্যে উন্মত্ত ছিলেন তাঁহাদের ঘন ঘন আনাগোনা হইত ঠাকুর পরিবারে। ইহাদের প্রভাব বালক রবীন্দ্রনাথের মনে অনেকখানি দাগ কাটিয়াছিল [জসীম ১৯৯০ : ৭৩]।

জসীমউদ্‌দীনের এই রবীন্দ্র-মূল্যায়ন রবীন্দ্র-কবিস্বভাবের একটি দিককে উন্মোচন করে সন্দেহ নেই। তবে তার এই রবীন্দ্র-মূল্যায়ন কেবল রবীন্দ্র-মূল্যায়নই নয়। এ-এক কাব্যতাত্ত্বিক রাজনীতিও বটে। এর মধ্য দিয়ে আমরা বাংলা কবিতার ইতিহাসে জসীমউদ্‌দীনের অবস্থানটিকেও বুঝতে পারি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি এই মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজের কাব্য-কবিতার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কারণ, মানুষ যখন অন্যকে মূল্যায়ন করে, তখন সে মূলত তার নিজেকেই ব্যাখ্যা করে। জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্র-মূল্যায়ন শুধু নয়, সমগ্র বাংলা সাহিত্য যখন মূল্যায়ন করেন, তখন সেই মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে তার নিজের যে-অবস্থান সেই অবস্থানটিকে স্পষ্ট করতে চান। তার এই অবস্থানটিকে এভাবে বলা যায়—

জসীমউদ্‌দীন মূলত মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগের মধ্যেকার বিচ্ছিন্নতার সেতু। যে-সুতা ছিঁড়ে গিয়েছে [ঔপনিবেশিকতার ফলে] সেই সুতা তিনি জোড়া লাগাতে চেয়েছেন। বাংলা কাব্যকে তিনি বাংলা কাব্যের গণমুখী নিজস্ব ধারায় রাখতে চেয়েছেন। এজন্য তার সাহিত্যে তিনি তাদের কথাই বলেছেন যাদের কথা ‘আধুনিক’ ভদ্র সাহিত্য বলে না। … ‘আধুনিক’ সাহিত্য যে নিচ থেকে উপরের সাধনা করে নি, এই সাহিত্য যে উপর থেকে নিচের সাধনা করেছে—অধিকাংশ সময় শুধু উপরের সাধনাই করেছে—সে বিষয়ে জসীমউদ্‌দীন সচেতন থেকেই নিজের সাহিত্য চর্চা এবং সাহিত্য চিন্তার অভিমুখ ঠিক রেখেছেন। এ-ব্যাপারে তিনি, রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করতেও পিছপা হন নি [কুদরত-ই-হুদা ২০১৩ : ৫৮১-৫৮]।

এভাবে জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্রনাথের কবিসত্তার অন্তর্প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে নিজের কবিসত্তা, কাব্যচিন্তা এবং কাব্যতাত্ত্বিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলেন।

এ-পর্যন্ত আমরা জসীমউদ্‌দীনের মনোলোকে এবং সাহিত্য-দৃষ্টিতে যে রবীন্দ্রনাথকে দেখলাম সেটাই যদি রবীন্দ্র-বিচারের শেষ কথা হয়, তবে কিছু প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যায়। অনেক প্রশ্নের মধ্যে প্রধান প্রশ্নটি হচ্ছে—রবীন্দ্রনাথ যদি ইউরোপীয় ভাবধারায় ভরা ‘মুষ্টিমেয়’ মানুষের কবি হয়ে থাকেন, তবে বাংলাভাষী মানুষের মধ্যে তার এত গ্রহণযোগ্যতার উৎস কী? একথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষার সবচেয়ে প্রতিভাবান কবি; যিনি মহাকাব্য না লিখলেও, এমনকি জসীমউদ্‌দীনও যাকে বলেছেন ‘মহাকবি’। রবীন্দ্রনাথকে ‘মুষ্টিমেয়’ মানুষের কবি বললে সমগ্র বাঙালি জনগোষ্ঠীর চিন্তায়, কর্মে, আচরণে, সংস্কৃতিতে, ভাবে, ভাষায়, আবেগে, নান্দনিকতায়, উদ্‌যাপনে, ভালোবাসায়, সংগ্রামে এই কবির সর্বব্যাপী প্রভাবকে বোঝা ও ব্যাখ্যা করা নিঃসন্দেহে দুরূহ হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে জসীমউদ্‌দীনের পূর্বোক্ত রবীন্দ্র-মূল্যায়নে সত্য থাকলেও তা আংশিক সত্য বলে প্রতিভাত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, জসীমউদ্‌দীনের রবীন্দ্র-মূল্যায়নে এ-বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হয়েছে। তিনি রবীন্দ্রনাথের এই সর্বব্যাপী প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতার কারণও অনুসন্ধান করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, রবীন্দ্রনাথ এককভাবে পাশ্চাত্য ভাবধারায় মগ্ন সাহিত্যিক-পুরুষ নন। তার মধ্যে এসে কোলাকুলি করেছে প্রাচ্য, পাশ্চাত্য, এমনকি তাবৎ পৃথিবী। জসীমউদ্‌দীনের ভাষায়—

পুরাকালে দেবাসুর সংগ্রামের প্রাক্কালে দেবতারা যেমন তাঁহাদের এক একটি শক্তি দিয়া মহাদেবীকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, তেমনি এই কবির নিরাভরণ্য কাব্য-ভারতীকে সংস্কৃত সাহিত্য উপমা, অলঙ্কার ও শব্দদ্যোতনার সঙ্গে আনিয়া দিল শান্ত-সমাহিত হিমালয়ের ধ্যান-গম্ভীরতা আর সীমাহীন মহাসমুদ্রের অতলান্ত ভাব-গম্ভীরতা, বাঙলার মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব সাহিত্য দিল কানুপদাবলীর সুরলহরী আর শ্রবণ-সুখকর শব্দাবলীর ললিত-ধ্বনি, পারস্য সাহিত্য আনিয়া দিল তাহার একেশ্বরবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত সংস্কার-বর্জিত মরমিয়া-বোধ। গ্রাম্য বাউল আনিয়া দিল তার একতারার ঝঙ্কারে-রণিত সহজ মানবীয়তা-জ্ঞান আর যুগ-সঞ্চিত মরমিয়া-বোধ। ইংরেজী সাহিত্য দিল তাঁহাকে সংস্কার-বর্জিত যুক্তিবাদের পরিমাপ ও মাত্রাজ্ঞান। শেলী, কিট্‌স, ওয়ার্ডসত্তয়ার্থ, ব্রাউন প্রভৃতি পাশ্চাত্য কবিরা অন্তরিক্ষ হইতে প্রকাশভঙ্গীমা আজ দিব্য-দৃষ্টিশক্তি দিয়া আশীর্বাদ উচ্চারণ করিলেন [জসীম ১৯৯০ : ৭৩-৭৪]।

রবীন্দ্রনাথের মধ্যে এই বহুমাত্রার সমাহার এবং তার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিকে জসীমউদ্‌দীন আরো স্পষ্ট করেছে বলেছেন এভাবে—

মাইকেলের কাব্যধারাটি যে বাঙলাদেশে টিকল না, তার কারণ, বাঙলার মাটির সঙ্গে তাঁর কাব্যের ধারা শিকড় গাড়তে পারেনি। কিন্তু বিহারীলালের লিরিকের ধারাটি রবীন্দ্রনাথে এসে টিকে রইল। এর কারণ, রবীন্দ্রনাথের কাব্যে রয়েছে চারিশক্তির সমাহার, সংস্কৃত, বৈষ্ণব, বাঙলার লোকসঙ্গীত ও ইউরোপীয় ভাবধারার একত্র সমাবেশ। এইজন্য বাঙালি রবীন্দ্রনাথকে কতকটা গ্রহণ করেছে [জসীম ২০০১ : ৩৩]।


জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্রনাথকে অসাম্প্রদায়িক সাহিত্য রচনার পথিকৃৎ মনে করতেন। 


রবীন্দ্রনাথ পাশ্চাত্যের জীবন এবং সংস্কৃতি নিয়ে কাব্যচর্চা করেন নি। তার কাব্য-কবিতার বহিঃকাঠামো এবং বিষয় ছিল প্রাচ্যদেশীয়। প্রাচ্যকেই তিনি মূর্ত করে তুলেছেন। প্রাচ্যকে মহিমান্বিত করতে চেয়েছেন। প্রাচ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। কিন্তু এই তুলে ধরতে গিয়ে যে-দৃষ্টি নিয়ে তিনি প্রাচ্যের দিকে তাকিয়েছেন সেই দৃষ্টিটা কেমন সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিশ্চয় জসীমউদ্‌দীনের দেখা এবং রবীন্দ্রনাথের দেখা এক নয়। অথবা একই প্রকৃতি যখন জীবনানন্দ দাশ দেখেন এবং তার যে রূপায়ণ ও সম্ভোগ করেন, তা রাবীন্দ্রিক দৃষ্টি এবং ভোগ-উপভোগ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানেই চেতনার বিষয় ক্রিয়াশীল। কে, কিভাবে বেড়ে উঠেছে; কে, কার জন্যে সাহিত্য সৃষ্টি করছে এসব প্রশ্ন যেকোনো সাহিত্যিকের সাহিত্যের কেন্দ্রীয় প্রবণতাকে বোঝার জন্য খুবই জরুরি। জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্রনাথকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে এই বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থেকেই মূল্যায়ন করেছেন। জসীমউদ্‌দীন মনে করেন, দেখা দুই ধরনের। এমনকি নিজেকে দেখাও দুই ধরনের। নিজেকে নিজের দৃষ্টি এবং দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা এবং নিজেকে অন্যের দৃষ্টি এবং দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে ঘটেছে দ্বিতীয়টি। তিনি ভারতকে দেখেছেন, বাংলাকে দেখেছেন, কিন্তু ইউরোপীয় চোখ দিয়ে দেখেছেন। ইউরোপ ভারতকে যে মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছে, রবীন্দ্রনাথ সেই মুগ্ধতা নিয়ে দেখেছেন। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ যে চশমা দিয়ে ভারতকে দেখেছেন সেই চশমাটা রাবীন্দ্রিক কিন্তু এই চশমার পেছনের চোখ এবং চেতনাটা ইউরোপীয় বলে জসীমউদ্‌দীন মনে করেন। রবীন্দ্রনাথ তার কাব্যে প্রাচ্যের বিরাট পট নির্মাণ করেছেন বটে, কিন্তু ‘তাহা সম্যক উপলব্ধি করার হৃদয়ের প্রসারতা তখন তাহার দেশবাসীর ছিল না। কারণ এই সর্ব প্রাচ্যের বিরাট পটক্ষেপ কবি রচনা করিলেন ইউরোপীয় দৃষ্টি লইয়া’ [জসীম ১৯৯০ : ৭৪]। জসীমউদ্‌দীন আরো স্পষ্ট করে এবং একটু যেন আক্ষেপের খাদ মিশিয়ে বললেন—

এমনকি এদেশের শীত, শরৎ প্রভৃতি ঋতুকে তিনি বর্ননা করিলেন ইউরোপবাসীর মত করিয়া। বাঙলার শীত, এ দেশের বসন্ত, ইউরোপের মত শীত-বুড়ী নয়। শরতে বঙ্গও পরিপূর্ণতার রূপ লইয়া এদেশে দেখা দেয় না। এদেশের লোক যা ভালবাসে বা পছন্দ করে, তাহা পাশ্চাত্যে পড়িয়া রহিল। এদেশে যা কিছু ইউরোপের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারে, তাই লইয়া তিনি পসরা সাজাইলেন। এ দেশের সব ভাল লইয়া কবি পাশ্চাত্যের রুচি বদলাইতে চেষ্টা করিলেন না [জসীম ১৯৯০ : ৭৪]।

জসীমউদ্‌দীন রবীন্দ্রনাথকে অসাম্প্রদায়িক সাহিত্য রচনার পথিকৃৎ মনে করতেন। রবীন্দ্রনাথের কাব্যবৈচিত্র্য এবং রূপান্তরের তিনি মুগ্ধ দ্রষ্টা। এসব মোটামুটিভাবে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু জসীমউদ্‌দীনের প্রকৃত রবীন্দ্র-মূল্যায়ন বোধ করি ঔপনিবেশিক পাঠ-বিবেচনার মধ্যেই নিহিত। বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ কালপ্রবাহের মধ্যে রবীন্দ্রনাথকে যেভাবে তিনি আবিষ্কার এবং উন্মোচন করেছেন, তা অবশ্যই প্রথাগত রবীন্দ্র-মূল্যায়নের মতো অকারণ মুগ্ধতা এবং ভাবালুতায় আচ্ছন্ন নয়; বরং তা ঋজু ব্যক্তিত্বে সমুন্নত। শুধু তাই নয়, তাঁর রবীন্দ্র-মূল্যায়ন প্রকৃতপক্ষে বাংলা সাহিত্যের দুই ভিন্ন কাব্যতত্ত্ব ও নন্দনতত্ত্বের বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তোলে; যার এক দিকে আছেন রবীন্দ্রনাথ এবং অন্যদিকে জসীমউদ্‌দীন।


দোহাই :

জসীমউদ্‌দীন [১৯৯০]। জসীমউদ্‌দীনের প্রবন্ধসমূহ, প্রথম খণ্ড, পলাশ প্রকাশনী, ঢাকা।
জসীমউদ্‌দীন [২০০১]। জসীমউদ্‌দীনের প্রবন্ধসমূহ, দ্বিতীয় খণ্ড, পলাশ প্রকাশনী, ঢাকা।
জসীমউদ্‌দীন [২০০৩]। জীবনকথা, ষষ্ঠ মুদ্রণ, পলাশ প্রকাশনী, ঢাকা।
কুদরত-ই-হুদা [২০১৩]। ‘জসীমউদ্‌দীনের বাংলা সাহিত্যচিন্তা : যমুনার উজান স্রোত’, মাটি ও মানুষের কবি জসীমউদ্‌দীন [সম্পা. নাসির আলী মামুন], আদর্শ, ঢাকা।
কুদরত-ই-হুদা [২০১৮], জসীমউদ্‌দীন, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা
জসীমউদ্‌দীন [১৯৯২]। ঠাকুরবাড়ির আঙ্গিনায়, ষষ্ঠ সংস্করণ, পলাশ প্রকাশনী, ঢাকা।

Kudrat E-Hud

কুদরত-ই-হুদা

জন্ম ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৮, ফরিদপুৱ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন 'ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী চিন্তার বিকাশ ও বাংলাদেশের কবিতা' বিষয়ে। পেশা : অধ্যাপনা।

প্রকাশিত বই :
প্রবন্ধ—
শওকত ওসমান ও সত্যেন সেনের উপন্যাস : আঙ্গিক বিচাৱ [আদর্শ, ২০১৩]
জসীমউদ্‌দীন [প্রথমা প্রকাশন, ২০১৮]

ই-মেইল : kudratehuda@gmail.com
Kudrat E-Hud