হোম গদ্য গল্প হুইল চেয়ারে ফ্রেমবন্দি

হুইল চেয়ারে ফ্রেমবন্দি

হুইল চেয়ারে ফ্রেমবন্দি
4
0

সুকান্তের কোলবালিশের কভারে আঠাল তরলের উপস্থিতি। রাত শেষে সকালে এমনটাই চোখে পড়ে মমতার। এটা কি নবীন কিশোরের পুরুষত্ব প্রকাশের প্রথম নিদর্শন? প্রশ্ন জাগলেও এই তরল নিয়ে মমতার মনে তেমন কোনো ভাবনার উদ্রেক ঘটে নি, কেবল ওর চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টগুলোর স্মৃতি কপালের উপর ভাঁজ টেনে চারপাশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়। কী দুর্বোধ্য, ভংয়কর শব্দ! একিউট লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া ব্লাড ক্যান্সার! শারীরিক অবসাদে ভেঙে পড়া সুকান্তের ভেতর বেড়ে চলছে মরণব্যাধি, তা কেউ জানতো না। প্রায়ই সারা শরীরে ছোপ ছোপ লাল দাগ দেখা যেত ও দাঁতের গোড়া, মাড়ি ফুলে উঠত। এসব স্বাভাবিক হিশেবেই চালিয়ে দিয়েছিল সুকান্তের বাবা সুজয়। সুকান্তের মা ডাক্তার দেখানোর চেষ্টা করলেও তেমন পাত্তা দেয় নি। কেবল কিছুদিন ফার্মেসির চিকিৎসা ও দুয়েকবার হোমিওপ্যাথির ডোজ চলেছে।

যেদিন সুকান্তের নাক দিয়ে রক্ত ঝরল, সেদিন কারোর অপেক্ষা না করে মমতা নিজেই ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে, রোগীকে হেমাটোলজি বিভাগে রেফার করে দেন। এভাবে রেফার করে দেয়াটার পেছনে একটা সন্দেহ কাজ করেছিল। কে জানত সে-সন্দেহটাই সত্য হয়ে গড়াবে।


শ্বাসকষ্টের তীব্র যন্ত্রণার ওঠা-নামা আগ্রহ নিয়ে দেখার মতো শক্ত মন পৃথিবীতে বিরল।


হেমাটোলজিস্ট ডাক্তার সুকান্তের জন্য অনেকগুলো টেস্ট লিখে দেন। সে-টেস্টগুলো নিয়ে অনেক দৌড়-ঝাঁপ পোহাতে হলো। শত ব্যস্ততার মাঝেও মমতা ছেলের জন্য মন্দিরে গিয়ে দেবতার পদতলে প্রার্থনা করল। কিন্তু দেবতার সামান্যতম করুণাও তাতে মিলল না। সাইটোজেনেটিকস, স্নাইনাল ট্যাপ ও বায়োপসি টেস্ট করার পর জানা গেল সুকান্তের শরীরে ব্লাড ক্যান্সার। রক্তের শ্বেতকণিকা বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে, কমে গেছে হিমোগ্লোবিন। আসলে, এই রোগে রক্তের লোহিত কণার শত্রু শ্বেতকণা। ডাক্তার জানাল ভয়ানক স্টেজে আছে সুকান্ত। এ অবস্থা থেকে বাঁচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবুও শুরু হয়েছে চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে পর্যায়ক্রমে চলছে থেরাপি। অবস্থা কখনো কিছুটা ভালো, আবার যাচ্ছে অবনতির দিকে। শরীরের ভেতর বাসা বেঁধে থাকা শ্বেতকণিকাগুলো কমতে চায় না, মৃত কণিকাগুলোও হিমোগ্লোবিনের পথের কাঁটা হয়ে অনায়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিরার আনাচে-কানাচে। আর এ কারণেই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোতে শুরু হয়েছে মহাসমস্যা, কার্যক্রমে পড়ছে বাধা। ডাক্তারদের অপরিসীম চেষ্টা সে-শ্বেতকণিকাগুলোকে ধ্বংস করে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির বাধা দূর করা।

এভাবেই সবকিছু চলছে।

সুকান্তের জীবন ঘড়ি যেমন এগিয়ে চলেছে মৃত্যুও ঘনিয়ে আসছে। সময় সীমিত! প্রতিটি নিশ্বাসের সাথে ক্ষয়ে যাচ্ছে আয়ুষ্কালের পরিসংখ্যান। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ যতবার নড়ে ওঠে, ততবারই যেন ভেসে আসে অনাকাঙ্ক্ষিত  দুঃসংবাদ। কান পেতে শুনলে মনে হয়, টিক টিক নয় শব্দটা বলছে মৃত্যু মৃত্যু… কিংবা বিদায়… বিদায়।

শ্বাসকষ্টের তীব্র যন্ত্রণার ওঠা-নামা আগ্রহ নিয়ে দেখার মতো শক্ত মন পৃথিবীতে বিরল। তবু দেখা হয়, দেখতে হয় মমতার। নাড়ি ছেঁড়া ধনের জন্য মমতা ঈশ্বরের দুয়ারে বার বার দু’হাত জোড় করে ভিক্ষে চেয়েছে, নির্বাক দেবতারা তাকিয়ে থাকা ব্যতীত তেমন কোনো সাড়া দেয় নি।

সুকান্ত কখনো মাকে ছাড়া ঘুমাতে পারে না। কোনোদিন ঘুমায়ও নি। মাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানো সুকান্তের ছোটবেলার অভ্যাস। এতটা বড় হলেও সে-অভ্যাসে আজও কোনো ছেদ পড়ে নি। ছেদ পড়েছে সংসারের স্বাভাবিক ছন্দে। ছেদ পড়েছে আনন্দে, ছেদ পড়েছে জীবন ও বাস্তবতায়। সুকান্তের বাবা সুজয়ের চোখে পরিবারের বড় ছেলেটা দেবতার অভিশাপ বা গতজন্মের পাপ। এই রূঢ় আচরণ হঠাৎ করে জন্মায় নি, বছরের পর বছর একটু একটু করে মনের ভেতরটা পাহাড় সমান রোষানলে পরিণত হয়েছে।

সুকান্তের চার-পাঁচ বছর বয়স হবার পরপরই মমতা চেষ্টা করেছে সুকান্তকে একটু দূরে সরিয়ে রাখতে। কখনো ঘুমন্ত সুকান্তকে টেনে বিছানার অন্যপাশে শোয়ানো হলেও, টের পাওয়া মাত্র অস্পষ্ট বাকজড়তা মাখা চিৎকার, গোঙানির ভয়ংকর শব্দে চারপাশ কাঁপিয়ে তুলেছে। বহু চেষ্টা করেও সুজয় ছেলেকে মায়ের শরীর জড়িয়ে ঘুমানোর আহ্লাদ থেকে আলাদা করতে পারে নি। সুকান্ত কিছুটা বড় হবার পর বিপত্তি আরো বেড়ে গেল। সুজয় অনেক চেষ্টা করেও রাতে স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্কে যেতে পারছে না। এখানে মমতার প্রতি সুজয়ের রাগটা সবচেয়ে বেশি। সুজয়ের ভাষায়, সকল দোষ মমতার। বেশি লাই দিয়ে ছেলেটাকে এমন করে তুলেছে। একে তো ল্যাংড়া বদ্ধ পাগল, তার উপরে আরো পাগলামি।

সুকান্ত প্রতিবন্ধী! পা জোড়া খোঁড়া! স্পষ্ট করে কথা বলতে পারে না। মানসিক ভারসাম্য অনেকাংশে ক্ষীণ। তার উপরে আজ সবচেয়ে বড় নির্মমতা হলো ব্লাড ক্যান্সারের মতো ব্যাধি। ভাগ্যের পরিহাসকে বাধ্য হয়ে বরণ করা যায়। কিন্তু মন থেকে মেনে নেয়া যায় না। সুজয় দিনরাত সাংসারিক খাটুনি খেটে, রাতে যখন সামান্য তৃপ্তি প্রত্যাশা করে, তখন পথ আগলে দাঁড়াত সুকান্ত। প্রচণ্ড চিৎকার চেঁচামেচি আশপাশের প্রতিবেশীকেও জাগিয়ে তোলে। এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে সুজয় প্রায়ই রেগে গর্জাতে থাকে, তারপর মমতার সাথে কথা কাটাকাটি, এভাবেই অশান্তির জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছিল জীবন।

সুকান্তের ঘুমের সাথে যোগসূত্র মমতার স্তনবৃন্তে মুখ ও জিহ্বার সম্পর্ক। অভ্যাস ওকে তৈরি করেছে ব্যতিক্রমীরূপে। শিশুকালের মতো মায়ের স্তন না চুষলে ওর ঘুম আসে না। স্তনের বোঁটা সরিয়ে নিলে হাউমাউ চেঁচামেচি কান্নায় জেগে ওঠে। দিনের বেলা সে নিজের আঙুল চুষে ঘুমায়। শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অবশ্য বলেছিল, বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে। ডাক্তার সেদিন হয়তো জানত না, সুকান্ত হবে ক্ষণজন্মা এক অটিস্টিক শিশু।

একদিন এই সংসারে মহানন্দের বার্তা নিয়ে এসেছিল সুকান্ত। মিষ্টি হাসি মুখ, ছোট ছোট চোখ, ননীর মতো হাত-পা! সুজয়-মমতা খুশিতে আত্মহারা হয়েছিল। ঝলমলে আনন্দ চারদিক আলোকিত করে তুলেছিল। সুজয় ঘটা করে পালন করেছিল পুত্রের অন্নোৎসব। সে-দৃশ্যগুলো আজ কেবল স্মৃতি। স্মৃতি দংশন নামের অসুখটা মমতাকে বার বার আঘাত করে। মস্তিষ্কের এইসব যন্ত্রণার কণাগুলোকে যদি ছুটি দেয়া যেত, কী যে ভালো হতো।

হাসপাতালে এখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। মমতা হাতঘড়ি থেকে চোখ সরিয়ে সুকান্তের দিকে তাকায়। ভাবলেশহীন ফর্সা মুখমণ্ডল ঘুমে বিভোর হয়ে আছে। ছুঁয়ে দিলেই প্রজাপতির মতো নড়ে ওঠবে, চোখ তুলে তাকাবে। ঠোঁট জোড়া বাঁকিয়ে অস্পষ্ট কিছু একটা বলবে। কী বলবে সুকান্ত?

মমতা ভাবনার ভেতর থেকে শুনতে পায়, মা, একটু ছাদে নিয়ে চলো না। ঘরের ভেতর ভারি বোরিং লাগছে।

কিংবা সুকান্ত বলবে, ইশ, আমিও যদি সবার মতো হাঁটতে পারতাম। স্কুলের বন্ধুদের মতো যদি ফুটবল খেলতে পারতাম।

মমতা নিশ্বাস ফেলে সুকান্তের হুইল চেয়ার টেনে লিফটের দিকে নিয়ে যাবে। ছাদে পৌঁছার পর সুকান্তকে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।

অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে, গল্প ও জিজ্ঞাসার ঝুলি খানিকটা ক্ষান্ত করে শেষ বিকেলে সে ফিরবে। মমতার পুরো সময়টা তখন কেবলি সুকান্তময়। অথচ, আরো একটি সন্তান ওর আছে, কিন্তু মায়ার লম্ব রেখা সবটুকু ঘিরে আছে অসহায় ছবির ফ্রেমে বাঁধা সুকান্ত।

হাসপাতালের ছোট কেবিনটা এখন একেবারে শান্ত। ঘণ্টাখানেক আগেও ভিড় ছিল ভীষণ। বাসার সবাই এসেছিল সুকান্তকে দেখতে। রোগী দেখা শেষে কেউ এখানে থাকতে চায় নি, এমনকি সুকান্তের বাবাও না। যাবার সময় সুকান্তের ছোট ভাই সুকমলকে কোলে নিয়ে বলল, ইমার্জেন্সি কারণ ছাড়া ডাকার প্রয়োজন নেই। কোনো সমস্যা হলে ডক্টর, সিস্টারদের সাথে যোগাযোগ করো। এ হাসপাতালের পরিবেশ ও সার্ভিস দুটোই ভালো।

হ্যাঁ, এখানে সুকান্তের মৃত্যু শয্যায় কেউ ইমার্জেন্সি কারণ ছাড়া আসতে চাচ্ছে না। ইমার্জেন্সি কারণটা কী হতে পারে? মমতা ভেবে আবিষ্কার করে, ওটা কেবলই শেষ সংবাদ বা চূড়ান্ত মুমূর্ষু কাল! ভালোবাসা বা সহানুভূতিও একদিন কাঁটায় পরিণত হয়। তা সুজয়ের মতো বাবাকে না দেখলে বোঝা যেত না।


পিতা-পুত্রের শত্রুতা কত তীব্র হতে পারে তা উপলব্ধির বাটখারায় না মাপলে বোঝা যাবে না।


সুকান্তের বাবা সুজয় তার অফিসের কাজে বিজি, তার সময়ের মূল্য ভীষণ কড়া। তাছাড়া মমতা গত পনেরোটি বছর কেবল সুকান্তের পেছনেই কাটিয়ে দিয়েছে। সংসার হাল-হকিকত নিয়ে তো সুজয়কেই ভাবতে হয়। আর সুকান্তকে নিয়ে মমতার একঘেয়ে পাগলামি, সুজয়ের জন্য দিন থেকে দিন বিরক্তি ও চরম বিরক্তি বয়ে এনেছে। যে বিরক্তি দিন শেষে রাতের বিছানার সুখটুকুকেও বাধায় ফেলে। সঙ্গম শব্দটি শোকেজে তোলা প্রদর্শনীর বস্তুতে পরিণত করে। আর এই শূন্যতাটুকুর কারণেই পিতার চোখে সন্তানও বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এমনই শত্রুতা মৃত্যু প্রত্যাশাকেও আহ্বান করে। হ্যাঁ, সুজয় চায় সুকান্তের মতো আপদটা এই সংসার থেকে বিদায় হয়ে যাক। বর্তমান ভবিষ্যৎ সবসময়ই সে-যন্ত্রণা দিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে যে আয় করে বাবা-মাকে দেখভাল করবে সে-কপালটাও নেই। এই সংসারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, ছোট ছেলে সুকমলের উপর। ছোট ছেলেটাকে গড়ে তুলতে পারলে শেষ কালটা সুখে কাটবে। সুজয় আরো চায়, মমতা স্বাভাবিক হয়ে উঠুক, অন্তত সুকমলকে নিয়ে একটা স্থিতিশীল জীবন যাপন আরম্ভ হোক, যেভাবে জীবন চলে, সেভাবেই চলুক সুজয়ের ঘর-সংসার। সুকান্তের কারণে সুকমল যে অনেকাংশে মাতৃস্নেহ বঞ্চিত তা সবার কাছেই স্পষ্ট। এ ক্ষেত্রে মমতার ব্যাখ্যা স্বাভাবিক ও ভিন্নরকম। সুকান্ত পিতৃস্নেহ বঞ্চিত, সেটা কেউ কি বিবেচনায় নিয়েছে?

সুজয়েরও রয়েছে আলাদা ব্যাখ্যা, তাকে বাড়ির কাজকর্ম সামাল দিতে হয়, সবকিছুর জন্য কেবল চাকরদের উপর নির্ভরশীল হওয়া যায় না। আর সুজয় সময়টা দিবেই কেমন করে, ছোট ছেলেরও তো একটা ভবিষ্যৎ আছে। স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট, সাপ্তাহিক গানের ক্লাস, সাঁতার কিংবা ক্যারাটেও তো আছে। এত সবকিছু ফেলে এই প্রতিবন্ধী সুকান্তের জন্য কার মন কাঁদবে?

হ্যাঁ, শুধু মমতার মতো মায়ের মনটাই কাঁদতে জানে। আর সুজয়ের মতো বাবা নির্দ্বিধায় বলতে পারে, এমন আপদ যে কেন আমার কপালে!

পিতা-পুত্রের শত্রুতা কত তীব্র হতে পারে তা উপলব্ধির বাটখারায় না মাপলে বোঝা যাবে না। অথচ সবখানে ভুল ও সীমাবদ্ধতার রাজত্ব! একরাতের দুঃসহ স্মৃতি মনে পড়ে মমতার। সুকান্ত ঘুমানোর পর অতিসাবধানে ওকে সোফায় রেখে, সুজয়কে কাছে টেনেছিল। খাটটা তেমন মজবুত ছিল না। ঝক্কিঝাঁকির খটর-মটরে সুকান্তের ঘুম ভেঙে যায়। ডিমলাইটের আলোয় সুকান্ত যা দেখেছে, তা ওর সাতবছরের কচি চোখ সহ্য করতে পারে নি। ওর ভাবনায় মাকে মনে হয়েছে বিপদগ্রস্ত, পিতাকে মনে হয়েছে শত্রু। আর এমন বিদ্‌ঘুটে হিংস্র দৃশ্য সুকান্ত টিভির পর্দাতেও দেখেছিল। তাছাড়া পিতা নামক যে মানুষটার কাছ থেকে  স্নেহ-ভালোবাসা পাওয়া দুষ্কর শিশুমনে তাকে তো চিরশত্রুই মনে হবে। আর টিভিতে দেখা সেই শত্রুর মতো প্রতিহত করার ভাবনা অবুঝ সুকান্তকে করেছে মারমুখী। শোকেজের উপর থেকে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে সে-সজোরে সুজয়ের পিঠে ও মাথায় আঘাত করে। তৎক্ষণাৎ, সুজয় নিজের জামা সামলে নিয়ে প্রচণ্ডরকম রেগে সুকান্তের গায়ে হাত তোলে। চড়-থাপ্পড় ছাড়াও সুকান্তকে ধাক্কা দিয়ে খাট থেকে ফেলে দেয়। দেয়ালে লেগে মাথা কেটে রক্ত বেরোয়। আর সেদিন মমতা ক্রোধাচ্ছান্ন হয়ে সুজয়ের গায়ে হাত তোলে। মুষড়ে পড়ে সুজয়। চারপাশের সবকিছু অচেনা হয়ে আসে। তারপর থেকে সুজয় কখনো মমতার কাছে যায় নি। নিজের জন্য বিকল্প পথকে বেছে নিয়েছে। আর মমতাও কখনো সুজয়কে কাছে টানে নি। সাত বছর ধরে দু’জনের ঘুমানোর কক্ষ হয়ে গেছে আলাদা।

বছরের পর বছর মমতা দেখে আসছে সুজয় তার সুখ অন্বেষণের উদ্দেশ্যে বাইরের মেয়েকে ঘরে এনে রাত কাটাচ্ছে। শুধু কি সাধ মেটানোর জন্য সুজয় এমনটা করেছে? এখানে চোখে আঙুল দিয়ে মমতাকে দেখানো হয়েছে তার অপ্রয়োজনীয়তা। এমনকি কাজের মেয়েকেও সুজয় ভোগের সামগ্রী হিশেবে নিয়েছে। এভাবে একটু একটু করে ঘৃণার ঘুণ অনেক বড় ছিদ্র তৈরি করে, যা শত চেষ্টা করেও মমতা ডিঙিয়ে সুজয়ের কাছে যেতে পারে না। এখানে অনেকাংশে স্পষ্ট দাম্পত্য কলহের পেছনে সুকান্ত ছাড়াও তাদের নিজস্ব ইমেজ কতটা দায়ী।

সুকান্তের প্রতি মমতার ভালোবাসা সীমাহীন। মমতা বার বার নিজেকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। এটা শুধু কি মাতৃত্বের ভালোবাসা? এখানে জড়িয়ে আছে মানবিক প্রেম, করুণার আধার, সহনশীলতার ছোঁয়া, সবশেষে এক সুদীর্ঘ অভ্যাস। মমতার বার বার মনে হয় সুকান্তকে ছাড়া পৃথিবীতে বাঁচা অসম্ভব! মমতার একেবারেই বিশ্বাস হয় না, সুকান্ত কোনোদিন মাকে ছেড়ে মারা যেতে পারে। যে সুকান্ত মাকে জড়িয়ে না ধরলে ঘুমাতে পারে না, কান্না করে, ও কী করে পারবে মরে যেতে?

মৃত্যুর মতো নিয়তি দরজায় কড়া নাড়লেও, নিয়মিত সুকান্তের কেমোথেরাপি চলছে। মুখে খাওয়ার ওষুধগুলো সিস্টার এসে রোজ সময় মতো খাইয়ে দিয়ে যায়। কেবিনে শুয়ে টিভি দেখে হিন্দি কিংবা ইংলিশ মুভির অ্যাকশনগুলো মুখস্থ করা, কার্টুন দেখা ছাড়াও মায়ের মুঠোফোনে ইউটিউবে বিচরণ করা, এভাবেই সময় কাটে সুকান্তের। আর সুকান্তের সাথে মুগ্ধতা-বিস্ময়, স্মৃতিকাতরতার বিষাদকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে মমতা দিন পার করছে।

শ্বাস-কষ্ট কমে এসেছে তাই সুকান্ত ফুরফুরে আমেজে হাসি-খুশি। দুপুর থেকে পুরো বিকেল কাটিয়েছে জানালার পাশে বসে থেকে। রাতে সুকান্ত অভ্যাস মতো মমতাকে জড়িয়ে ধরে শুয়েছিল। সাধারণত সে মায়ের স্তন চুষতে চুষতে অতল ঘুমে ডুবে যায়। কিন্তু আজ ঘুমানোর সময় মমতা টের পেয়েছে সুকান্ত স্তন চোষার সময় ধীরলয়ে স্বমেহন করতে থাকে। প্রথমে সে মাকে জড়িয়ে ধরেছিল, তারপর কী ভেবে কোলবালিশটা আঁকড়ে ধরে। আর শরীরটা একটু একটু দুলতে থাকে। তখন ঐদিনের তরলের কথা ভেবে মমতার মনে কিশোর সন্তানের ইচ্ছা-কামনার কথা ঘুরপাক খেতে থাকে। আবার, মনে পড়ে সময় তো ফুরিয়ে আসছে।

মৃত্যু পথযাত্রী সুকান্ত, যার কাছে পৃথিবী এক পলক মরীচিকা ব্যতীত ভিন্ন কিছু নয়। এখানে এসে সে দুঃখই পেয়েছে সবচেয়ে বেশি। তার কাছে স্বাদ আহ্লাদের স্থান এটা নয়। পিতা হয়ে ওঠেছে আজন্ম শত্রু! এমনটাও যে কোনো হতভাগ্য সন্তানের ললাট লিখন হতে পারে, তা ভেবে মমতার ভেতরটা হু হু করে কেঁদে ওঠে। সুকান্তের কি একটু সুখের পরশ পাবার অধিকার নেই। বিধির কি খামখেয়ালিতে এমনটা হচ্ছে! মা হয়ে কেমন করে সহ্য করবে এই হাহাকার! এসব অসংজ্ঞায়িত অনুভূতি মমতার মধ্যে কখনো কখনো বিধির সত্যিকার অস্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।


চিকিৎসাটা আজ পুঁজিপতির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মমতার মনের গহিনে ইচ্ছে জাগে, মৃত্যুর আগে অন্তত একবার যদি সুকান্ত এই সুখের ছোঁয়া পেতে পারত। যদি আজকেই ওকে বিয়ে দেয়া যেত, যদি আজকেই ওর বাসর হতো, এই এখানে হাসপাতালের কেবিনে। মমতা একাই সবকিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে দিত নিজ হাতে, ফুলের পাপড়ি দিয়ে সাজাত ছোট্ট বিছানা। সুজয় এসব শুনলে হয় বিচ্ছিরিভাবে হাসবে, নয় তো বলবে মমতা পাগল হয়ে গেছে। সুজয়ের কথা ভেবে মমতার ভ্রু কুঁচকে আসে।

থেমে থেমে আবার ভাবে, কোনো নারী কি নিশ্চিত বিধবা হবার বাসনা নিয়ে অসহায় সুকান্তকে বরণ করবে? কেউ কি আছে এমন দয়ালু? তাছাড়া সুকান্ত কি বিয়ে করার মতো বড় হয়েছে? অথচ, ওর সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, টিক টিক দুঃসহ ঘড়ির কাঁটায়।

এমনটা কি হতে পারে না, লিউকেমিয়াকে জয় করে সুকান্ত পৃথিবীর বুকে বড় হয়ে উঠবে। একদিন ধুমধাম করে মমতা ছেলের বিয়ের আয়োজন করবে। হিন্দি সিনেমার নায়িকার মতো একটা চটপটে সুন্দরী মেয়েকে ছেলের বউ করে আনবে। তারপর, বাসররাতে ছেলেকে পুত্রবধূর হাতে তুলে বলবে, নাও গো, এবার তুমি ওকে সামলাও, সারাটা জীবন জ্বালিয়ে মেরেছে। তখন কি সুকান্ত মাকে ছেড়ে বউকে নিয়ে ঘুমুতে যাবে? নাকি আবদার ধরবে মাকে ছাড়া থাকতে পারবে না। ইশ, তখন ছেলেকে নিয়ে কী যে লজ্জা পেতে হবে। মমতার হাসি পায়। আবার মনে হয়, এমনও তো হতে পারে সুকান্ত আট-দশটা পুরুষের মতো বউকে সুখের সঙ্গী হিশেবে বরণ করে নেবে। ভাবতে গিয়ে ধাক্কা খায় মমতা। ভেতর থেকে কেমন কান্নার স্রোত নামতে শুরু করে, আবার নামেও না। সেদিন থেকে মমতা একা হয়ে যাবে, রাতভর কেউ গোঙানি ও যন্ত্রণা হয়ে জড়িয়ে থাকবে না। শূন্য বিছানায় হাতড়াবে, কাতরাবে মমতা। চোখের জল ফেলবে, তবুও একাকিত্বই টিকে থাকবে। যে কষ্ট ও ঘৃণা সুজয়কে মমতার কাছ থেকে দূরে ঠেলে রেখেছে, তা সেদিনও টিকে থাকবে। এ জনমে আর কখনো সুজয়কে মমতা গ্রহণ করতে পারবে না।

মনোকল্পনার প্রবাহে মমতার মনে এক ভিন্ন ভয়ও জাগে, যে মেয়ে সুকান্তের বউ হবে সে ওকে মানিয়ে নিতে পারবে তো? ওকে কোনো কষ্ট দিবে না তো! কষ্ট দিলে মমতা একদম সহ্য করতে পারবে না।

শেষ বিকেলে হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল মমতা, সাথে হুইল চেয়ারে বসা সুকান্ত। আকাশে ধরা দিয়েছে গোধূলি রং। এক ঝাঁক কাক দূরের কৃষ্ণচূড়াটা দখল করে রেখেছে।

মা আমি একদিন পাখি হবো, পশ্চিমের আকাশে উড়বো। সুকান্ত বলে ওঠে।

আচমকা ভয় খেলে যায় মমতার মনে। সুকান্তের কপালে চুমু খেয়ে বলে, বাবা, আমাকেও কি তোর সাথে নিবি?

আমি তো অনেক দূরে উড়ে যাব। অতদূর তুমি যেতে পারবে না।

না, বাবা, আমিও তোর সাথে যাব।

সুকান্ত হেসে বলে, ওখানে মানুষের যাওয়া বারণ।

গাল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। মমতা কাঁদতে কাঁদতে সুকান্তের হুইল চেয়ারটাকে বারান্দার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরিয়ে কেবিনে ফিরে আসে। হঠাৎ একজন সিস্টার এসে হাঁক দেয়, কেবিন নম্বর দশ, পেশেন্ট সুকান্ত মিত্র।

মমতা সাড়া দেয়। জি বলুন।

ফাইল নিয়ে এক হাজার পাঁচ নম্বর রুমে যান। লিফটের দশ। ইনফরমেশনটা দিয়েই সিস্টার পাশের কেবিনে চলে যায়।

মমতা সুকান্তের হাতে মুঠোফোনটা গুঁজে দিয়ে বলে, বাবা, তুই চুপচাপ বস, ফোনে গেম খেলিস। আমি চট করে ডাক্তার সাহেবের সাথে দেখা করে আসি। একদম দুষ্টুমি করবি না, বাইরে বের হবি না।

মমতাকে ডাক্তার আব্দুলা হামীম জানায়, রিপোর্ট বলছে আপাতত সুকান্ত ভালো অবস্থানে আছে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রাটা খানিকটা স্বাভাবিক রয়েছে। শ্বেতকণা কমানোর জন্য আরো থেরাপি চলবে। তবে সবই সাময়িক ব্যবস্থা। মনটাকে শক্ত করুন, জীবন মৃত্যু সবই খোদার হাতে। ব্যয়বহুল এই চিকিৎসা এভাবে চালিয়ে যাওয়াও আপনাদের জন্য কষ্টকর হবে। আসলে আমি, জানি আপনার মনের অবস্থা। তবুও কথাগুলো বলতে হচ্ছে। দুপুরে আপনার স্বামী এসেছিলেন, খরচের বিষয়টাতে তার অপারগতা জানিয়ে গেছেন। বিগত দিনে যা বিল হয়েছে, তাতেই তিনি হিমশিম খাচ্ছেন। ব্যাংক লোনের জন্য চেষ্টা করছেন। সবই দুর্ভাগ্য!

কথাগুলো শুনে মুষড়ে পড়ে মমতা। আঁচল দিয়ে মুখ চেপে ধরে। মনের ভেতর নিয়তি, বিধাতা, ভাগ্য, দুর্ভাগ্য প্রভৃতি শব্দকে কেটে টুকরো টুকরো করতে থাকে।

ডক্টর, আমার ছেলে বাঁচবে না, এটাই কি বুঝাতে চাইছেন?

দেখুন, মৃত্যু আমাদের জন্য চিরন্তন সত্য। কিন্তু, সুকান্তের জার্নিটা ফুরিয়ে এসেছে, বিদেশে চিকিৎসা করালে হয়তো কিছুদিন ধরে রাখতে পারতেন। কিন্তু সেটা কয়েকমাসের বেশি নয়, কারণ ও ডেঞ্জারাস স্টেজে এসে দাঁড়িয়েছে।

মমতা আর কথা বাড়ায় না। পেশেন্ট-ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে আসে।

বারো তলায় পৌঁছে সুকান্তের কেবিনের আশপাশে বারান্দায় নির্বিকার পায়চারি করতে থাকে মমতা। দু’চোখে নামে অঝোর ধারায় জল। মাথার আঁচলটুকু খসে পড়ে, এক অসহায় ঘর্মাক্ত উন্মাদিনী রূপে দেখা যায় মমতাকে। মানব জনমকে এক অসহায় তুচ্ছ খর-কুটো ব্যতীত ভিন্ন কিছু মনে হয় না। মায়ার খেলায় হেরে যাওয়াই কি জগতের রীতি? তীব্র কাঠিন্য এসে ভর করে মমতার চোয়ালে। মা হয়ে সন্তানকে রক্ষা করতে না পারার যন্ত্রণা কী হতে পারে তা কেবল সেই মা বলতে পারবে। চিকিৎসাটা আজ পুঁজিপতির সবচেয়ে বড় বাণিজ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে সুজয় মোটেও স্বচ্ছল নয়, এই ধ্রুব সত্যটা মমতা জানে। আর খরচ বহনের অপারগতা কৌশলে ডাক্তারকে অবগত করেছে। সুজয় নিশ্চয়ই মমতার সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলতে ভীষণ লজ্জা পেত। বারান্দায় পায়চারি করতে করতে হঠাৎ মমতার কানে সুকান্তের কণ্ঠস্বর এসে পৌঁছে। সুকান্ত হু হু করে কাঁদছে! গুমড়ে গুমড়ে ভয়ার্ত গলায় কিছু একটা বলছে।

কেবিনের দরজাটা ভেজানো ছিল। মমতা ঝড়ের বেগে প্রবেশ করে। …বাবা সুকান্ত তোকে আমি মরতে দেবো না। হুইল চেয়ারে সন্তানকে জড়িয়ে ধরে মমতা।

মাকে দেখে আচমকা থমকে যায় সুকান্ত, হাত সরিয়ে আনে ঊরুর কাছ থেকে। সাইলেন্ট মুডে থাকা মোবাইলটা গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে, টেবিলের পাশে। ট্রাউজার জড়িয়ে সুকান্ত উলঙ্গ শরীরটা ঢাকার চেষ্টা করে। মমতা সোজা হয়ে দাঁড়াতেই বুঝতে পারে সে কোন মুহূর্তে এসে হাজির হয়েছে। মেঝে থেকে মোবাইলটা তোলে একটিবার ডিসপ্লের দিকে তাকিয়ে দেখে, দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে সুকান্তের ফ্যাকাশে মুখের দিকে তাকায়। আবার সন্তানকে জড়িয়ে ধরে, চুমু খেয়ে অঝোর ধারায় কাঁদতে থাকে। শুধু বলে, তোর কোনো ভয় নেই বাবা, ভগবানেরও সাধ্য নেই তোকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়। কোনো দেবতাকেও সে-সাহসটুকু দেবো না।


মমতা সুকান্তের সামনে নিজের পরিচ্ছদ উন্মুক্ত করে দেয়।


কেবিনের দরজা আটকে, ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়ায় মমতা। ফ্রেশ হয়ে এগিয়ে আসে হুইল চেয়ারের দিকে। সুকান্তকে দু’হাতে জড়িয়ে কোলে তোলে বিছানায় নিয়ে আসে। সুকান্তের ট্রাউজারটা খুলতে খুলতে বলে, দেবতাদের কাছ থেকে আমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি। দয়াহীন দুনিয়া তোর কপালে সামান্যতম সুখ রাখে নি বাপ…। বাবা, তোর কোনো ইচ্ছেকে আমি অপূর্ণ থাকতে দেবো না, তুই-ই আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। সে-অবলম্বন যারা কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিগ্রহে আমি থুতু ছিটিয়ে দিয়েছি, মরার আগ পর্যন্ত শুধু থুতু দেবো। আজ দেবতারা দেখুক, সন্তানের জন্য আমি কতটা নিরুপায় হতে পারি।

মমতা সুকান্তের সামনে নিজের পরিচ্ছদ উন্মুক্ত করে দেয়। রণ-রঙ্গিনী উন্মাদিনী হয়ে, দু’চোখে বিদ্যুতের বিস্ফোরণ তোলে কামিনী রূপে জড়িয়ে ধরে সন্তানকে! আজ, সব সত্য মিলে-মিশে পিষে যাচ্ছে সংকট!

মা, সেই মহারূপী, মহাদেবী! যার কাছে দয়া-মায়া-প্রেমই তাঁর আরাধনা! সন্তানই তাঁর কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।

হাসপাতাল থেকে সুকান্তকে বাড়ি নিয়ে আসা হলো। তার সপ্তাহ দুয়েক পর সুকান্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। শশ্মান থেকে ফিরে মমতা ঘরের দেওয়াল থেকে এক এক করে দেবতার ছবি খুলে ফেলে। প্রচণ্ড ঘৃণায় সবকিছু তছনছ করে দেয়। অনেক আগে সুজয়ের ছবিও মমতা এভাবে ফেলে দিয়েছিল।

মমতার দেওয়ালে কেবল ঠাঁই পেল হুইল চেয়ারে ফ্রেমবন্দি একটি ফটোগ্রাফ!

(4)