হোম গদ্য গল্প বকুল ফুলের ঘ্রাণ

বকুল ফুলের ঘ্রাণ

বকুল ফুলের ঘ্রাণ
659
0

লেকের ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে দেওয়া সুদর্শন মসজিদ-সংলগ্ন ঘাটটা থেকে যখন উঠে এলাম তখন ঢাকা শহরকে জন্ডিস রোগীর মতো সন্ধ্যা পেয়ে বসেছে। আগের মতো এখন আর সোডিয়াম আলো জ্বলে না, ল্যাম্পপোস্টের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এখন আর কাপড়ের রং বদলে যায় না, গায়ের চামড়াও আর মরা মানুষের মতো ফ্যাঁকাসে হয় না, তবু সাদা স্ট্রিট লাইট আর গাড়িদের গতিশীল বা থেমে থাকা আলোতে সন্ধ্যা নামতে দেখে আমার আজ জন্ডিস রোগীর মতো সন্ধ্যার কথাই মনে হলো।

বড় রাস্তায় উঠে এসে তুলনামূলক নির্জন রাস্তাটার দিকে হাঁটতে শুরু করলাম, ওদিকে একটা কানা গলি আছে, পুরাপুরি কানা নয়, হাঁটা পথ আছে, গাড়ি বা রিকশা চলে না। হাঁটা পথ ফুরালে, ওদিকে আবার বড় রাস্তায় ওঠা যায়। খুঁজে দেখেছি এরকম এক চোখ কানা গলি ঢাকায় আর নাই তেমন।


আমাকে অবাক করে দিয়ে সাদা শার্ট দুইটার একটা বলল, ‘ম্যাডাম, আপনাকে একটু আমাদের সঙ্গে যেতে হবে!’


বড় রাস্তা ছেড়ে কানাগলিতে ঢোকার আগে, গলির মাথার বকুল গাছটার নিচে থামলাম, ওড়না দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে দেখতে পেলাম পায়ের কাছে কয়েকটা ফুল পড়ে আছে, ফুল দেখার পরে গন্ধের কথা মনে পড়ল, আকাশের দিকে নাক উঁচিয়ে লম্বা দম নিলাম। হ্যাঁ, বকুলের গন্ধই। আমার অদ্ভুত লাগল, এখনও বকুলের গন্ধ আলাদা করে চেনা যায়! মাথা নামিয়ে পায়ের কাছে পড়ে থাকা বকুলগুলি আবার দেখলাম। প্রায় অন্ধকারেও তাদের দেখা যাচ্ছে, তাদের রং প্রায় সাদা বলে। নিচু হয়ে ওদের কুড়িয়ে হাতে নিয়ে নাকের কাছে ধরার কথা মনে পড়ল না। মনে পড়ল ঘণ্টাখানের পরে জিজ্ঞাসাবাদের টেবিলে।

বকুলদের না ছুঁয়েই আধা কানাগলিটায় ঢুকে পড়ার জন্য যেই পা বাড়িয়েছি, ওমনি ঘ্যাঁচ করে একটা সাদা মাইক্রোবাস আমার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে গেল। আজকাল প্রায়ই শোনা যাচ্ছে সাদা মাইক্রোবাস একে ওকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। মেরে টেরে ফেলছে না অবশ্য, গল্পগুজব করে ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু মাইক্রোবাস গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরেও, আমার একবারও মনে হলো না আমাকেও তুলে নিতে পারে। ঢাকা শহরের রাস্তায় রাস্তায় হাঁটা ছাড়া আর কোনো বদ-অভ্যাস নাই আমার। এর জন্যও ট্যাক্স দেওয়া লাগে নাকি, তা অবশ্য জানি না। মাইক্রোবাস থেকে দুইটা ছেলে নামল, কম বয়সীই মনে হলো, ত্রিশ-ট্রিশ হবে। আমাকে অবাক করে দিয়ে সাদা শার্ট দুইটার একটা বলল, ‘ম্যাডাম, আপনাকে একটু আমাদের সঙ্গে যেতে হবে!’

তাদের বিনয়ী কণ্ঠ শুনে বিভ্রান্ত হলাম খানিক, একবার মনে হলো হয়তো আমাকে অন্য কেউ ভেবে ভুল করেছে। বললাম, ‘আমাকে বলছেন?’ ছেলে দুইটাকে তেমন টান টান দেখাল না, নিরাপত্তাবাহিনীর কেউ হলে টান টান একটা ব্যাপার তাদের আচরণে থাকার কথা। সাদা শার্ট দুইটার অন্যটা বলল, ‘জি আপনাকেই।’

আমি খুব স্পষ্ট গলায় বললাম, ‘এই জায়গাটা অন্ধকার, আমি কি একটু আলোর নিচে দাঁড়াব?’

অন্য সাদা শার্ট একটু অবাক হয়েই বলল, ‘কী বলছেন?’

আমি তাদের বুঝিয়ে বললাম যে, হয়তো তারা আমাকে ধরতে আসে নাই, অন্ধকার বলে হয়তো ভুল হচ্ছে।

মাথা নেড়ে একটা ছেলে বলল যে, তাদের ভুল হয় নাই, আর এটা তুলে নেওয়া না, জাস্ট একটু কথা বলবে তারা।

আমি আর কথা বাড়ালাম না, চুপচাপ গাড়িতে উঠে গেলাম। গাড়ির গায়ে লেগে থাকা জানালা ঘ্যাঁচ করে বন্ধ হলো।

বললাম, ‘কতক্ষণ লাগতে পারে? দেরি হলে আমি কি একটু বাসায় জানাতে পারব?’

গাড়ির ভেতরে অন্ধকার, দুই সারি সিটের সামনেরটায় বসেছি আমি, পেছনে ওরা দুইজন, সবার সামনে ড্রাইভার। কোন জন যে কথা বলল, বুঝলাম না, বলল, ‘নো ম্যাডাম, নো ফোন প্লিজ, বেশিক্ষণ লাগবে না।’

মনে হয় ত্রিশ সেকেন্ডের একটা বিরতি নিল, তারপর একজন বলল, ‘ফোনটা আমাদের দিয়ে দিন প্লিজ, আর কিছু মনে করবেন না, আপনার চোখটা বেঁধে দিতে হচ্ছে!’ আমি কাঁধের উপর দিয়ে ফোনটা পেছনে দিয়ে দিলাম, আর ওদের একজন আমার চোখ বেঁধে দিল, কাপড়টা কী রঙের দেখতেও পেলাম না।

চোখ বেঁধে ফেলার পর অদ্ভুত একটা জেদ চেপে বসল আমার মাথায়, হেঁটে হেঁটে ঢাকা শহর দেখার একটা পরীক্ষা হয়ে যাক আজ। চোখ ছাড়া প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সজাগ করে ফেললাম। এরকম অভিজ্ঞতা আছে আমার। অনেকদিন আগে ফুল এনেসথেশিয়া দিয়ে সার্জারির পর যখন অনুভূতি ফিরে আসতে শুরু করল, তখন আমি এভাবে প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জাগিয়ে তুলেছিলাম।

গাড়ির জানালা বন্ধ, এসি চলছে, বড় ও নতুন মাইক্রোবাস বলে ঝাঁকিও কম। তবু আমি গাড়ির গতি এবং বাঁক বদল অনুসরণ করে করে বুঝতে পারছি, গাড়িটা কোন দিকে যাচ্ছে। শহরের সবচেয়ে বড় শপিং মলটার সামনে গিয়ে জ্যামে দাঁড়িয়ে গেল গাড়ি। মনে হয় আটটা বেজে গেছে, মল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সুখী লোকেরা দুই হাত ভরে নতুন কেনা জিনিসপাতির বাহারি ব্যাগ নিয়ে মল থেকে বেরিয়ে রাস্তা পেরোচ্ছে। মনে হয় পনেরো মিনিট এখানে দাঁড়াল গাড়িটা। তারপর একটানে পাঁচতারা হোটেলের সামনে দিয়ে ছুটে চলল। ফ্লাইওভারে উঠে গেলে অন্ধদের উচ্চতাজ্ঞান কিভাবে এত শার্প, বুঝতে পারলাম। ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় নাভীর নিচের চাপটা পর্যন্ত অনুভব করলাম। আর সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ল অনেকক্ষণ হয়ে গেছে হিসু করি নাই। হিসু পাওয়ার অনুভূতিটা এত মস্তিষ্ক দখল করে, আগেও দেখেছি আমি। ফলে একটা বাঁক মিস করলাম। মনে হলো, আচ্ছা এরা চোখ বাঁধল, অথচ আমার হাত তো খোলা। এরা এত নিশ্চিত যে আমি চোখে হাত দিয়ে পটিটার বাঁধন একটু আলগা করার চেষ্টাও করব না? রাস্তা চেনার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি বলে বুঝতে পারি নি, মাথার পেছনে রিভলভার তাক করা?

ঘ্যাঁচ!


কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখে অন্ধকার দেখলাম, দম বন্ধ হয়ে এল, মনে হলো মরে যাচ্ছি।


থেমে গেল গাড়ি। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেল বলে বুঝতে পারলাম, জ্যাম নয়, এবার নামতে হবে। ওরা আমার চোখ খুলল না, একজন আমার হাত ধরে নামাল। আজ সারাদিন ঢাকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, সকালে নাস্তার পরে চার পাঁচ কাপ দোকানের চা আর বাদাম ছাড়া কিছু খাওয়া হয় নাই। ক্লাস সেভেনে পড়া আমার একমাত্র ছেলে তপু বেড়াতে গেছে মামার বাসায়, তাই আজ হাতে অনেক সময় ছিল। ও কি এর মধ্যে ফোন করেছিল আমাকে? না পেয়ে বাবাকে বলেছে, মাকে পাচ্ছি না? অফিস থেকে ফিরে আমাকে না পেয়ে আমার পঁয়তাল্লিশ বছুরে হাজবেন্ড কি খুব চিন্তা করছে? নাকি ওরা কেউ আমাকে খোঁজেই নাই?

আমার বাঁ হাতের কব্জিতে মোটা বেল্টের ঘড়ি। এখনও ঘড়ি পরি আমি। সেই ঘড়ির উপর দিয়ে আলগোছে কব্জিটা ধরেছে একজন। আমি অন্ধ মানুষের মতো হাঁটছি না, চোখের পটিটা অল্প একটু নড়ে গেছে এক ফাঁকে, অল্প দেখতে পাচ্ছি। যে ঘরটাতে নিয়ে গিয়ে চোখ খুলে দিল, সে ঘরটা আমি যেমন ভেবেছিলাম, ঠিক তেমন। ইন্টারোগেশন সেল! ছাদ থেকে নেমে আসা লম্বা তারের মাথায় বড় একটা বাল্ব ঘরটার একমাত্র আলোর উৎস। আলোর নিচে একটা কাঠের টেবিল, ওইটার দুই দিকে দুইটা কাঠের সোজা চেয়ার। কয়েক সেকেন্ড চোখ পিটপিট করলাম। আমার চোখ ভালো, চল্লিশ পেরিয়েও চশমা পরি না।

একজন ডান হাত দিয়ে চেয়ার দেখিয়ে ইশারায় বসতে বললেন। চেয়ারে সোজা হয়ে বসে তিনদিকে মাথা ঘুরিয়ে বাথরুম খুঁজলাম, নাই।

ঘরে কেউ নাই, ছেলে দুইটা কোথায় যে গেল! একটু পরে চা নিয়ে এল একজন, এজন অন্যজন। তাকেই বললাম, ‘চা খাব না, সারাদিন খেয়েছি অনেক, পানি খাব আর বাথরুমে যাব।’ ছেলেটা কিছুই বলল না, চলে গেল। অগত্যা কী আর করা, বসে বসে চা-ই খেতে লাগলাম। চা ফুরিয়ে এলে মাইক্রোবাস-সঙ্গীদের একজন এল, বসল আমার মুখোমুখি চেয়ারটায়, তাকেও বললাম, ‘একটু ওয়াশরুমে যেতে পারলে ভালো হতো।’ টেবিলের নিচে হাত দিল ছেলেটা, আমার ঊরুতে নয়, মনে হয় বেল বাজাল, টেবিলের নিচে সুইচ!এতক্ষণে খেয়াল করলাম, এ ঘরে কোনো সুইচবোর্ড নাই। ভাবলাম, বাল্বটার সুইচও কি টেবিলের নিচে? চায়ের ছেলেটা এল, আমাকে রুমের বাইরে নিয়ে বাথরুম দেখিয়ে দিল। বাথরুমে ঢুকে বুঝতে পারলাম, এটা একটা স্কুল, এবং মনে হলো বয়েজ স্কুল। কেন মনে হলো এটা ছেলেদের স্কুল? আবারও ভাবলাম, ছেলেদের হিসুর গন্ধ কি আলাদা? জল বিয়োগ করে ঘড়ি দেখলাম, নয়টা বাজে। এত যে ঢাকা শহরের রাস্তায় রাস্তায় হাঁটি, সেসব আসলে ভুয়াই, এটা কোন স্কুল চিনতে পারছি না কেন?

ফিরে এলাম টেবিলে। এবার তবে শুরু হবে জিজ্ঞাসাবাদ?

প্রশ্নকর্তা চায়ে চুমুক দিয়ে বললেন, ‘কী করেন আপনি?’

মনে মনে হাসলাম, যদি নাই জানো কী করি, তবে কেন ধরে এনেছ বাপু? শব্দে বললাম, ‘তেমন কিছুই করি না, সংসার করি, ছেলে মানুষ করি, আর বছরে একটা বই অনুবাদ করি, চব্বিশ হাজার টাকা পাই, মানে মাসে দুই হাজার টাকা ইনকাম আমার।’

প্রশ্ন : কাল রাতে আপনার হাজবেন্ড অন্য দিনের চেয়ে দেরি করে বাসায় ফিরেছেন?

আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি তো টেনশন করছিলাম, আটটার মধ্যে চলে আসে, দেরি হওয়ার কথা থাকলে ফোন করে জানায়। কাল কিছুই জানায় নাই, আমি ভাবলাম হয়তো কোনো বান্ধবীর সঙ্গে কফি খেতে গেছে। আপনারাই তবে ডেকে এনেছিলেন?’

প্রশ্ন : উনি ফিরে কী বলেছেন?

আমার হঠাৎ খুব হাসি পেয়ে গেল, হাসি গিললাম না, হাসতে হাসতেই বললাম, ‘বলেছে, শালারা ধরে নিয়া গেছিল।’

এবার প্রশ্ন : ‘আর কিছু বলেন নাই?’

আমি বললাম, ‘না আর কিছু তো বলে নাই, আমি ছেলের পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম, খাওয়া-দাওয়ার পরে লিখতে বসেছিলাম, যখন ঘুমাতে গেলাম অনেক রাতে, তখন ও ঘুমিয়ে পড়েছে।’ একটু থেমে পজ দিয়ে বললাম, ‘আপনি তাহলে আমাকে ম্যাডাম না ডেকে আপা ডাকতে পারেন।’

মুখোমুখি চেয়ারের ভাইয়ের মনে হয় বুঝতে একটু সময় লাগল যে, আমার হাজবেন্ড শালা ডাকলে উনি আমার ভাই হতে পারেন।

সামনের ছেলেটা আবারও টেবিলের নিচে হাত দিল, আমি পা জোড়া টেবিলের নিচ থেকে আমার চেয়ারের নিচের দিকে একটু সরিয়ে আনতে না আনতে টেবিলের উপরে রাখা বাম হাতের তর্জনীর নখে তীব্র একটা ব্যথা টের পেলাম! কয়েক সেকেন্ডের জন্য চোখে অন্ধকার দেখলাম, দম বন্ধ হয়ে এল, মনে হলো মরে যাচ্ছি। ঠিক তখনই বকুল ফুল কুড়িয়ে নাকের কাছে ধরে গন্ধ না নেওয়ার জন্য আফসোস হলো।

প্রশ্ন : নিউমার্কেটের কাঁচের বোতলের দোকানগুলি থেকে মাঝে মাঝে বোতল কেনেন আপনি, ওগুলি কী করেন?

এরা কি আমাকে কারেন্টের শক দিল? পুরা শরীরে কেমন একটা অবসাদ! মনে মনে বললাম, কাম সারছে! এরা আমার সব খবরই রাখে দেখি! কতদিন ধরে আমার পিছে ফেউ লাগায়ে রাখছে, কে জানে!


আপনি রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন আর বোতল কেনেন, তাহলে আপনাকে জঙ্গি ভাবা হবে না কেন?


বললাম, ‘বোতলে ছবি আঁকি, এটাকে আমার শখ বলতে পারেন। মাসে দুই হাজার টাকা ইনকাম আমার, কাউকে উপহার দিতে হলে মুশকিলে পড়ি। দুইশো টাকা দিয়ে একটা বোতল কিনে, একমাস ধরে আঁকি। তারপর আমার বন্ধুদের কারো জন্মদিন বা বিয়ে বার্ষিকীতে উপহার দেই।’

প্রশ্ন : রাস্তায় রাস্তায় হাঁটেন কেন?

বোঝো অবস্থা! মনে মনে একটু রাগ করি, আমার ডায়াবেটিস কি তুই কমায়া দিবি, শালা! মনে মনেই জিভ কাটলাম! এ আমার শালা নয়, আমার ভাই। বললাম, ‘কিছু করার না থাকলে হাঁটি, হাঁটতে হাঁটতে কত কিছু ভাবি!’

এবার লম্বা প্রশ্ন এবং আরো কিছু : ‘আপনি জানেন, ওই শক্ত মদের বোতলগুলি দিয়ে বোমা বানায়? আপনি রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন আর বোতল কেনেন, তাহলে আপনাকে জঙ্গি ভাবা হবে না কেন?’

ল্যাও ঠ্যালা, সিধা কারণ দর্শাও নোটিশ!

আমি এবার শক্ত হয়ে বসলাম। বললাম, ‘বোতলগুলি আমার বন্ধুদের বাসায় খুব যত্ন করে সাজিয়ে রাখা আছে, আপনি চাইলে ওদের বাসা ঘুরে ঘুরে সেগুলি দেখে আসতে পারেন।’

ছেলেটা এবার সত্যিই আপা ডাকল, বলল, ‘আপা, চলুন আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আসি।’

গাড়িতে এবার বাঁধা চোখে ঘুম জড়িয়ে আসছিল, জোর করে জেগে থাকলাম, যখন নামিয়ে দিল, দেখতে পেলাম কানাগলির মাথায়, বকুল গাছাটার নিচে দাঁড়িয়ে আছি। এবার আর দেরি করলাম না, ফুল কুড়িয়ে নাকে ধরলাম। লম্বা করে শ্বাস নিলাম। আমি কি মৃত্যুর ভয় পেয়েছিলাম? বকুল ফুলের ঘ্রাণ এত ভালো কখনও লাগে নাই।

অক্টোবর, ২০১৯

আনোয়ারা আল্পনা

জন্ম ৭ মার্চ ১৯৭৮; উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ। অর্থনীতিতে মাস্টার্স, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশায় সাংবাদিক।

ই-মেইল : alpana01552@yahoo.com