হোম গদ্য গল্প ফ্ল্যাট

ফ্ল্যাট

ফ্ল্যাট
0
Latest posts by কায়সার আহমদ (see all)

১.
গরমকাল। বাতাস নেই। বহু ঘটনা, অভিজ্ঞতা ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে পূর্ণিমার চাঁদ জ্বলে আছে পুবের আকাশে। মিটিমিটি করে আলো দেয়া নক্ষত্রদের কেউ হয়তো পৌঁছে গেছে জীবনের শেষ প্রান্তে। মরে গিয়ে পরিণত হয়ে যাবে সর্বগ্রাসী ব্ল্যাকহোলে। শহরে রাতের গভীরেও চলে টুংটাং কিছু রিকশা, হেডলাইট অন করে ছোট বড় গাড়ি। মেইন রোডের দু’পাশের বাতিগুলো এত আলো দিয়েও দূর করতে পারে না রাতের অন্ধকার। মেইন রোড থেকে যে গলিটা ভেতরের দিকে গেছে সেখানে কয়েকটি কুকুর হল্লা করে ফিরছিল। গলির দুদিকে আছে নতুন পুরাতন অনেক বিল্ডিং। এরকম একটি পুরাতন বিল্ডিংয়ের তিনতলায় কামাল সাহেব ঘুমাচ্ছেন। নতুন বিল্ডিংগুলোকে বলা হয় অ্যাপার্টমেন্ট। ওখানে ভাড়া বেশি। তাই পুরাতন বিল্ডিংয়েই কামাল সাহেব তার পরিবার নিয়ে থাকেন।

হঠাৎ তার ঘুম ভেঙে গেল। তিনি অনুসন্ধান করতে লাগলেন কেন তার ঘুম ভাঙল। পরে দেখলেন যে তল পেটের ডান দিক থেকে শুরু করে পিছনে মেরুদণ্ডের পাশে যেখানে কিডনি থাকে সেখান পর্যন্ত চিনচিন করে প্রচণ্ড ব্যথা করছে। ব্যথাটা আগেও করেছে। কিন্তু কখনো এত তীব্র হয় নি। তাই তিনি আমল দেন নি। ফ্যান ঘুরছে। অনেকদিন হয় পরিষ্কার করা হয় নি। ডিম লাইটের হালকা আলোয় ঘরটা মায়াবী হয়ে আছে। তিনি মশারিটা আস্তে করে উঠিয়ে বিছানা থেকে বের হলেন। এক গ্লাস পানি খেলেন। পাশে শুয়ে ঘুমাচ্ছে তার স্ত্রী নাসিমা। তিনি বাথরুমের বাতি জ্বাললেন।

ঘরের এক কোনায় একটি বক্সখাটের উপর ঘুমান তারা দু’জনে। খাটের উল্টা দিকে আছে একটি ওয়ার্ডরোব। তার উপর আছে তাদের ওষুধপত্রের বাক্স। একটা তরজমাসহ কোরান শরিফ ও বুখারি শরিফ। নাসিমা মাঝে মাঝে কোরান পড়ে। আর আছে সম্প্রতি কেনা কিছু বই। কামাল সাহেব সময় পেলেই বই পড়েন। ঘরে জায়গা নেই। তাই তার বইগুলো তিনি রেখেছেন কয়েকটি ট্রাংকে। ঠিক উপরে দেয়ালে লাগানো আছে একটি ডিজিটাল দেয়ালঘড়ি। খাটের ডান দিকে আছে একটি স্টিলের পুরাতন আলমারি। তার পাশে আছে একটি ড্রেসিং টেবিল। নাসিমা ও তাদের মেয়ে মিলি, যে কিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করছে, এটাতে চুল আঁচড়ায়।

কামাল সাহেব বাথরুম থেকে বের হয়ে রুমের বাতি জ্বাললেন। ঘড়ি দেখলেন। চারটা বাজে। ভাবছেন নাসিমাকে ঘুম থেকে তুলবেন কিনা। আবার ভাবলেন যে, একটু পরে আজান দিলে এমনিতেই উঠে যাবে। ও আজান দিলে উঠে নামাজ পড়ে আবার ঘুমায়। ব্যথাটা অসহ্য লাগছে। নাসিমা হলে এতক্ষণে সবাইকে অস্থির করে ফেলত। সে একটুতেই বেশি কাতর হয়ে যায়। কিন্তু কামাল সাহেব শক্ত ধাঁচের মানুষ। সহজে কাতর হন না। তাই ব্যথা বেশি হলেও উহ্ আহ্ কোনো শব্দ করছেন না। তিনি ড্রইং রুমে গিয়ে বসলেন। ওখানে আছে এক সেট সোফা। তার উল্টা দিকে দেয়ালে ঝুলছে একটি স্মার্ট টিভি। কোনায় আছে একটি কর্নার যার উপর আছে ক্রিস্টাল ও কাঁচের শোপিস। সোফার পাশে আছে সাইড টেবিল। তিনি ছাইদানিটা সোফার সামনে রাখা টেবিলে রেখে একটা সিগারেট ধরালেন। তার প্রেশার ও ডায়াবেটিস ছাড়া অন্য কোনো বিশেষ রোগ নেই। কিন্তু এবার ডাক্তারের কাছে না গেলেই নয়। ঠিক করলেন আজই অ্যাপয়েনমেন্ট করবেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে পড়েন তখন হুট করে তার বাবা মরে গেলেন। তার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ল। 


২.
কামাল সাহেব পেনশনে গেছেন সম্প্রতি। এখনো পেনশনের টাকা হাতে পান নাই। টাকা হাতে এলে কী কী করবেন তা অনেক আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন। মিলি বড় হচ্ছে। বিয়ের সময় ওকে এক সেট গয়না দিতে হবে। তাদের ছেলে রাতুল, যে কিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে থার্ড ইয়ারে পড়ে, তার বউকে নাসিমার গয়নাগুলো দিয়ে দিবে নাসিমা। তাই শুধু মিলির জন্য এক সেট গয়না কিনলেই হবে। আর ঘরের জন্য কিছু ফার্নিচার কিনতে হবে। এগুলো করতে পাঁচ লাখ টাকার বেশি লাগবে না। মিলি যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে না টিকে তবে ওকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য পনেরো লাখ টাকা তিনি আলাদা করে রেখেছেন। কিন্তু এই কথা মিলিকে কখনো জানতে দেন নাই। পাছে যদি সে হাল ছেড়ে দিয়ে বসে থাকে। বাকি সত্তর লাখ টাকা দিয়ে কিনবেন একটি ফ্ল্যাট।

একটি ফ্ল্যাট তার সারা জীবনের স্বপ্ন। তিনি চান না তার বাবা তাদেরকে যে অবস্থায় রেখে মারা গেছেন, তার ছেলে মেয়েদেরকেও একই অবস্থায় রেখে তিনি মারা যান। তিনি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে পড়েন তখন হুট করে তার বাবা মরে গেলেন। তার মাথার উপর আকাশ ভেঙে পড়ল। তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে তার বাবা মারা গেছেন। কিন্তু বিশ্বাস করতে না পারলেও সেটাই ঘটেছিল। তাদের জন্য রেখে গেলেন শুধু পেনশনের টাকাটা। তাদের মা মাসিক যে টাকাটা পেতেন তা দিয়ে ঘর ভাড়া দিতে পারতেন। কিন্তু অন্যান্য খরচ? এসব কথা চিন্তা করেই তার বড় ভাই বিদেশে চলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ না করেই। তার বড় ভাই সংসার চালিয়েছেন পাঁচ বছর। এর মধ্যে তিনি লেখাপড়া শেষ করে চাকরিতে ঢুকে গেছেন। এরপর তার বড় ভাই বিদেশি এক মেয়েকে বিয়ে করে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তখন থেকে তিনিই সংসারের ভার বয়ে চলেছেন। ছোট বোনকে বিয়ে দেয়া, বড় বোনের ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো, ছোট ভাইয়ের অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের খরচ ইত্যাদি তাকেই বহন করতে হয়েছে।

এসব নিয়ে নাসিমার সাথে ঝগড়াঝাটিও হয়েছে অনেক। নাসিমার কথা হলো, তুমি সবার ভার বইতে যাবে কেন? তুমি তো আমাদের চাহিদাই পূরণ করতে পারো না। ওরা চলবে ওদের সামর্থ্য অনুযায়ী। ওরা যদি ওদের ছেলের হলে থাকার খরচ দিতে না পারে তাহলে বাড়ির কাছে কোনো কলেজে পড়াবেন। প্রথম প্রথম নাসিমাকে জানিয়েই সব কিছু করতেন। পরে দেখলেন যে বিপদ হয়। তাই তিনি এরপর থেকে কারো জন্য কিছু করতে হলে লুকিয়ে লুকিয়েই করতেন। এত সব করতে যেয়ে কখনোই তার সেভিংস থাকত না। যাই হোক তিনি তার ছেলেমেয়েকে পানিতে ভাসিয়ে যাবেন না। তিনি তাদের জন্য একটি সুন্দর ফ্ল্যাট রেখে যাবেন। ফ্ল্যাট কেনার বন্দোবস্ত পাকা করে ফেলেছেন। হাতে টাকা এলেই রেজিস্ট্রেশন হবে। ফ্ল্যাটটি খুব সুন্দর। তিন বেড, লিভিং, ড্রইং, ডাইনিং, তিন বাথ এবং দুটি ব্যালকনি রয়েছে তাতে। তাদের সবার ফ্ল্যাটটি পছন্দ হয়েছে। নাসিমা বলছে ওকে কিচেন ক্যাবিনেট আর দেয়াল-আলমারি তৈরি করে দিতে হবে। মিলি বলছে ড্রইংরুমে ডেকোরেশন করতে হবে। কামাল সাহেব ভাবছেন তিনি লিভিং রুমটাতে লাইব্রেরি বানাবেন। ওখানে কয়েকটি বইয়ের আলমারি রাখবেন। তখন আর বই রাখার জায়গার অভাব হবে না।

৩.
আজ ডাক্তার দেখাতে পারবেন না। অ্যাপয়েনমেন্ট পাওয়া যায় নি। কাল দেখাবেন। কামাল সাহেব ফোন করেছিলেন। এখন ব্যথা কিছুটা কম। কিন্তু মিলির রুম থেকে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তিনি নাসিমাকে বললেন—

—কে কাঁদছে?

—মিলি।

—কেন কাঁদছে?

—ও ভার্সিটিতে চান্স পায় নি, তাই।

—ওকে ডাকো।

চোখের জল মুছতে মুছতে মিলি এল। কামাল সাহেব মিলিকে বললেন, পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাও নি তাতে কী! তুমি প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়বে। টাকা যা লাগে আমি দেব। তুমি ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থা করো। এসব কথা প্রথমে মিলির বিশ্বাস হচ্ছিল না। কামাল সাহেবের গাম্ভীর্য দেখে পরে বিশ্বাস করল এবং কান্না থামিয়ে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে বলল, আব্বু তুমি সো নাইস, সো সুইট।

পরের দিন রাতে ডাক্তার দেখালেন। ডাক্তার পেইন কিলার, ঘুমের ওষুধ দিল। আর কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিল। রিপোর্ট দেখানোর পর ডাক্তার আরো কিছু পরীক্ষা দিলেন এবং বললেন, এই পরীক্ষাগুলো করালে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরীক্ষাগুলো করাতে বললেন ক্যান্সার হাসপাতালে। কামাল সাহেবের মনে একটু সন্দেহ, শঙ্কা উঁকি দিল। তিনি সেই বিশেষ হাসপাতালে পরীক্ষাগুলো করালেন। রাতুল রিপোর্ট এনে আর বাবাকে দেখাচ্ছে না। কামাল সাহেব নাসিমাকে বললেন, আমার কী হয়েছে সেটা আমি জানতে চাই। অত ভয় পাওয়ার কী আছে। ক্যান্সার হলে হবে। মরে যাব। আমাকে রিপোর্ট দেখাও। নাসিমা কাঁদতে কাঁদতে রিপোর্ট নিয়ে এল। রিপোর্টে লেখা আছে, কার্সিনোমা। এর মানে কী তা কামাল সাহেব ভালো করেই জানেন। তার ক্যান্সার হয়েছে। ঢাকা শহরের নামী-দামি আরে দু’তিনটা হাসপাতালেও পরীক্ষা করালেন। কিন্তু সব রিপোর্ট একই কথা বলে।

নাসিমা আর রাতুল বলছে, তোমাকে এভাবে মরতে দিব না। সব চিকিৎসা করাব। প্রয়োজন হলে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাব। কামাল সাহেব বললেন, পয়সা অপচয় করার দরকার নেই। এখন টাকা খরচ করে ফেললে মিলির প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়া হবে না। ফ্ল্যাটও হবে না। কিন্তু তারা গোঁ ধরে বসে আছে তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাবে। ফ্ল্যাটের দরকার নেই। রাতুল বেঁচে থাকলে ফ্ল্যাট হবে। তাছাড়া নাসিমার এক বান্ধবীর স্বামী নাকি সিঙ্গাপুর থেকে কেমো দিয়ে এসেছে। এখন নাকি অনেকটা ভালো আছে।

মিলিও বলল, তার প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ার দরকার নেই। আগে তোমার চিকিৎসা। পরে আমার পড়ালেখা। আমি একটা কলেজে অনার্সে ভর্তি হয়ে যাব।

৪.
ভ্যাপসা গরম। আকাশে মৃত্যুর মতো শীতল চাঁদ ঝুলে আছে সুউচ্চ ইমারতের উপর। মানুষ মরে গেলে কোথায় যায়? নীল নক্ষত্র হয়ে নীলাকাশে জ্বলতে থাকে? বাতাসে অদ্ভুত নীরবতা। কামাল সাহেবের অবস্থা মাসখানেকের মধ্যে আরো খারাপ হয়ে গেল। চোখ গেল কোটরে। গাল ভেঙে গেল। ওজন কমে গেল। ব্যথা বাড়তে থাকল। ব্যথা আরো বিস্তৃত হচ্ছে। মাঝে মাঝে এরকম মনে হয় যেন ব্যথায় তিনি অজ্ঞান হয়ে যাবেন। তাকে একদিন হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। ওদিকে সিঙ্গাপুর নেয়ার ব্যবস্থাও চলতে থাকল। তার ও রাতুলের পাসপোর্ট আগেরই করা ছিল। ভিসা লাগানোর জন্য অ্যাম্বেসিতে জমা দেয় হলো। ভিসা লাগলেই টিকিট কেটে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে। রাতুল সাথে যাবে। নাসিমাও যেতে চেয়েছে। কিন্তু সেও যদি যায় তাহলে মিলিকে বাসায় একা থাকতে হবে। তাছাড়া আরেকজন মানুষের খরচের কথাও ভাবতে হবে। তাই নাসিমা যাবে না। পেনশনের টাকাও হাতে চলে এসেছে।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন কামাল সাহেব রোগীর পোশাক পরে। হাতে ক্যানোলা লাগানো। স্যালাইন চলছে। কিছুক্ষণ আগে বেদনানাশক ওষুধ দেয়া হয়েছে স্যালাইনের সাথে। তাই ব্যথা এখন অনেকটা কম। তবে তন্দ্রা ভাবটা আছে। বেদনানাশক ওষুধ নিলে ঘুম চলে আসে, তন্দ্রার ভাব থাকে। রুমের ভিতর দু’টো বেড বিছানো আছে। মাঝখানে একটা পর্দা। বিছানার পাশে দুজন বসতে পারে এমন একটি সোফা আছে। বাতি জ্বলছে। এসি চলছে। নাসিমা বলল, সকাল থেকে এক কাপ চা-ও খাই নি। আমি চা কফি কিছু একটা খেয়ে আসি নিচ থেকে। তোমার জন্য রং চা আনব?

—আনো।


তার মাথা কি খারাপ হয়ে যাচ্ছে? তার কি হ্যালুসিনেশন হচ্ছে? নইলে এসব তিনি কী দেখছেন।


নাসিমা চা খেতে চলে গেলে কামাল সাহেব তন্দ্রার কারণে একটু চোখ বুজলেন। কিরে কামাল কেমন আছিস? এই কথা শুনে তিনি চোখ খুলে দেখেন মোশাররফ দাঁড়িয়ে আছে তার বেডের পাশে। পরনে টি-শার্ট। জিন্স প্যান্ট ও শু পরা। সে সোফায় বসে বলল, এই দিক দিয়ে যাচ্ছিলাম, তোকে দেখলাম। তাই ঢুকলাম তোর কেবিনে। চলে যাব এখনই। একটু তাড়া আছে। চলে যাবার আগে একটা জিনিস তোকে জিজ্ঞেস করতে চাই। বল তো বন্ধু, জীবনের মানে কী?

কামাল সাহেব কোনো উত্তর দিলেন না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকলেন। মোশাররফ আবার বলল, ঈশ্বর আছে কিনা? তোর কী মনে হয়?

কামাল সাহেব মোশাররফের দিকে তাকিয়ে রইলেন শুধু। তার চোখে অনেক ঘুম চলে এসেছিল। তাই তিনি একটু চোখ বুজলেন।

নাসিমার কন্ঠ শুনে চোখ খুললেন। নাসিমা বলল, ঘুমিয়ে গেছ?

—না ঘুমাই নি। কই চা এনেছ?

—হ্যাঁ এনেছি। এই নাও। বলে তিনি বেডের পাশের ছোট্ট টেবিলটায় প্লাস্টিকের কাপে করে আনা চা রাখলেন।

কামাল সাহেব বাঁ হাতে চা তুলে চুমুক দিলেন। আর বললেন, মোশাররফ এসেছিল?

—কোন মোশাররফ?

—কেন, আমার বন্ধু মোশাররফ।

উনাকে দেখলে কোথায়? উনি তো দশ-বারো বছর আগে রোড-এক্সিডেন্টে মারা গেছেন। তোমার মাথাটাথা ঠিক আছে তো?

কামাল সাহেব এবার একটা ধাক্কা খেলেন। তার মাথা কি খারাপ হয়ে যাচ্ছে? তার কি হ্যালুসিনেশন হচ্ছে? নইলে এসব তিনি কী দেখছেন। ব্যথা কমলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় নিয়ে আসা হলো। ভিসা হয়ে গেছে। টিকিট কাটা হলো, পরশুদিন ফ্লাইট।

সারাদিন নাসিমা একটুও শুতে পারে নি। তাই সে একটু সকাল সকাল শুয়ে পড়ল আর কামাল সাহেবকে বলল তিনি যেন ঠিক মতো ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়েন। কামাল সাহেবের ঘুম আসছে না। তিনি কিছু একটা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। পাশে নাসিমা শুয়ে ইতিমধ্যে ঘুমিয়ে গেছে। রাত বারোটা বেজে গেছে। মিলি আর রাতুলও শুয়ে পড়ল। কিন্তু কামাল সাহেবের চোখে ঘুম নেই। ব্যথা কিছুটা কম। তিনি জগ থেকে পানি ঢাললেন গ্লাসে। তারপর ওষুধের বাক্সটা আনেলেন। ঘুমের ওষুধের পাতাটায় নয়টা ট্যাবলেট আছে। তিনি এক একে সবগুলো ট্যাবলেট খুলে ফেললেন। তারপর একসাথে দু’টো ট্যাবলেট খেলেন। আরো দু’টো খেলেন। আরো দু’টো…।