পা

পা
449
0

আমার বয়স যখন বালক-কোঠায় ঘুরপাক খায় তখন থেকে মেয়েদের পায়ের পাতা মনের ভেতর একটা গোপন প্রেম নিয়ে হাজির হয়। এটা কেমন করে আমার ভেতর জন্ম নিলো তা বুঝতে পারি নি। অপার আনন্দ আর অজানা একটা ঘোরের মধ্যে আটকা পড়ে প্যাঁচার চোখ নিয়ে বিচরণ করতে থাকি অন্দর-বাহির। হাই স্কুল ছুটি হলে দোস্তরা বলত, চল, গার্লস স্কুলের দিকে যাই। সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে দেখে আসি। সুন্দরী মেয়ে দেখার আশায় আমার যে-দোস্তরা সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত তাদের সঙ্গে আমিও গেছি। আমার ইচ্ছা সুন্দরী মেয়ে দেখা ছিল না। ইচ্ছা ছিল মেয়েদের পায়ের পাতা দেখা। আমি কতদিন সেন্ডেলের দোকানে, জুতার দোকানে ঘুরঘুর করেছি মেয়েদের পায়ের পাতা দেখার আশায় কিন্তু খায়েশ মেটে নি। আর তখন নিজেই নিজেকে সংগোপনে বলি, বড় হলে আমি মেয়েদের সেন্ডেলের দোকান দিব।

কোনো একদিন স্কুল ছুটির পর দোস্তদের সঙ্গে আমিও গণেশতলা মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকি গার্লস স্কুলের মেয়ে দেখার জন্য। গার্লস স্কুল ছুটি হলে দোস্তরা সব হুই হুই করে ওঠে আর বলে, দ্যাখ, দ্যাখ, ওই মেয়েটা কত্তো সুন্দর। এমন করে একেকজন একেকজনারে দেখালে আমার চাহনি নিমীলিত হয়ে আসে আর আমি হতাশ হই। তখন মেয়েদের মুখের দিকে না চেয়ে পায়ের পাতায় দৃষ্টি দেই। আর তখন দেখি গার্লস স্কুলের মেয়েদের পায়ের পাতা জুড়ে থাকে সাদা কেড্‌স। ভেতরে ভেতরে এক শীতল অস্থিরতা নিয়ে আমি অাঁকুপাঁকু করতে থাকি কিন্তু ওইদিন কোনো মেয়ের পায়ের পাতা দেখা হয় নি। ওইদিনের পর আর কোনোদিন গার্লস স্কুলের সামনে মেয়ে দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা আমার হয় নি।


আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি যে, একদিন সত্যি সত্যি আমার সঙ্গে স্বপ্নের দুই পায়ের দেখা হবে।


তখন আমি যেতাম শহর থেকে একটু আড়ালে কিছুটা গরিব ঘরের মেয়েরা যে-স্কুলে পড়ে ওইসব স্কুলের দিকে। কারণ আমি দেখেছিলাম ওই মেয়েরা সাদা কেড্‌স না-পরে সেন্ডেল পরে স্কুলে যেত। এভাবে দিন গড়াতে থাকলে এই ঝোঁক আমার অন্যসব বিমল আনন্দ উপকরণ হটিয়ে পুরো আমি-কে দখল করে। তখন আমি মেয়েদের পা দেখার জন্য স্কুলে স্কুলে ঘোরা ছাড়াও রিকশার পাশে পাশে সাইকেল চালাতে শুরু করি। কিন্তু কখনোই কোনো মেয়ের মুখের দিকে তাকাতে পারি নি। আমার সমস্ত আগ্রহ থাকত পায়ের পাতা ঘিরে। এভাবে চুপি চুপি পায়ের পাতা দেখতে দেখতে একসময় আমার মনে হয়, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হলো মেয়েদের পায়ের পাতা। তখন মেয়েদের পায়ের পাতা দেখার আগ্রহ আরো বাড়তে থাকে। এমন দিনে আমি নিজের ভেতর একটা অদ্ভুত ক্ষমতা উপলব্ধি করতে শুরু করি আর সেটা হলো : মেয়েদের পায়ের পাতা দেখে তাদের সম্পর্কে বলার ক্ষমতা। এটা আমি প্রথম টের পাই, আমার ছোট মামার বিয়ের পর। মানে বিয়ের রাতে রেওয়াজ অনুযায়ী যখন ঘরে বউ বরণ করা হয় তখন সে খালি পায়ে ঢোকে আর তখনই আমি মামির পায়ের পাতা দেখি এবং আপন মনে মন্তব্য করি, মামার সংসার হবে না। এই বিয়ে টিকবে না। ওইসব মন্তব্য এমন করে ফলে যাবে তা কে জানত! মামা আর মামির সংসারটা সুখের হয় নাই। বিয়ের আগে মামির একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের সময় মামির সেই প্রেমিক ছিল দেশের বাইরে। সেই প্রেমিককে মামি ভুলতে পারে নাই। বিয়ের মাস তিনেকের মাথায় মামা যখন এটা জানতে পারে তখন থেকে অশান্তির শুরু।

এইরকম একটা ভয়ানক নেশা মাথায় নিয়ে আমি বড় হতে থাকি। আর ততদিনে আত্মীয়-অনাত্মীয় ও বন্ধুমহলে আমার এই নেশা নিয়ে একটা জল্পনা চলতে থাকে। এভাবে বেশ কয়েকটা বিয়েতে নতুন বউয়ের পা দেখে সশব্দে মন্তব্য করার পর বাড়ির লোকেরা আমার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে এবং আমি যেন বিয়ে বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে না পারি সেজন্য আমার বয়সী ছেলেদের পাহারা বসায়। তারপরেও আমি যেতাম এবং কখনো কখনো তাদের ফাঁকি দিয়ে ঢুকে পড়তাম। ধরা পড়ে নির্লজ্জ, বেহায়া এসব অপবাদ মাথায় নিয়ে ধাক্কা খাওয়ার ব্যাপারটাও একসময় আমার গা সওয়া হয়ে যায়। অপমান বোধ তখনও আমার ভেতর প্রখর হয় নি। কিংবা পায়ের পাতা দেখার ওই ঝোঁকটা জগতের প্রচলিত সংস্কার, রীতিকে অস্বীকার করে আমার ভেতরে নিজস্ব আরেকটা জগৎ নির্মাণ করতে থাকে। ওইসব দিনে আত্মীয় কিংবা পাড়া-পড়শিরা বিয়ের দাওয়াত দিতে আমাদের বাড়ি এলে আব্বা-আম্মাকে বলে, আমি যেন দাওয়াতে না যাই। আর তখন অনেকে আড়ালে-আবডালে আমার নামের সঙ্গে পাগলা যোগ করে। এমন একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার পর আমার আব্বা-আম্মা ব্যাপারটা নিয়ে ঘাবড়ে যায়। আর একদিন কোনো কারণ ছাড়াই আব্বার হাতে আমি মার খাই। এমনিভাবে যখন দিন পার হচ্ছিল তখন এক রাতে আমি স্বপ্ন দেখি সুন্দর দু’টা পা। তারপরের রাতে আবার স্বপ্ন দেখি, ওই পা দু’টা হেঁটে হেঁটে আমার কাছে আসছে। এভাবে বেশ কয়েক রাত পার হয়ে যায় কিন্তু স্বপ্নটা পুরো হয় না। ওই পা দু’টা আমার কাছে আসার ঠিক আগ মুহূর্তে স্বপ্নটা ভেঙে যায়। তখন আমার কেবলই মনে হয়, এই পা দু’টা আমি কোথাও দেখেছি। স্বপ্নের দু’টা পায়ের ঘোরে যখন আমি আটকা, ওইরকম এক সময় ইন্টারমিডিয়েট পাশ করি। আর তখন আমার বাড়ি থেকে চাপ দেওয়া শুরু করে ভালো একটা ভার্সিটিতে ভর্তির জন্য প্রিপারেশন নেওয়ার। কিন্তু সেদিকে আমার কোনো আগ্রহ থাকে না। আর তখন আমার আব্বা-আম্মা হয়তোবা সত্যি সত্যি আমার মাথা খারাপ হওয়ার ব্যাপারটা বিশ্বাস করতে শুরু করে।

একদিন আব্বা আমাকে নিয়ে শহরের এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যায়। ডাক্তারের কাছে আমি বলতে থাকি স্বপ্নটার কথা। এই প্রথম আমার মনে হয়, পা নিয়ে বলা কথাগুলো কেউ মনোযোগ দিয়ে শুনছে। আর তখন কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি যে, একদিন সত্যি সত্যি আমার সঙ্গে স্বপ্নের দুই পায়ের দেখা হবে। কিন্তু আমি খটকায় পড়ি যখন ভাবি, আমি তাকে চিনব কেমন করে। স্বপ্নে আমি শুধু তার মোহনীয় দু’পা দেখি কিন্তু চেহারা কখনোই দেখি নি। আর এরকম একটা ভাবনায় আচ্ছন্ন হওয়ার পর আমার মনে একটা গোপন ইচ্ছা খেলা করে, যদি একবার স্বপ্নে তার চেহারাটাও দেখতে পেতাম! আর তখন আমার ১৮ বছরের জীবনে এই প্রথম কোনো নারীর চেহারা দেখার অদম্য ইচ্ছা জাগে। যখনই আমার এই ইচ্ছাটা প্রবল হয়ে ওঠে তখনই আমার স্বপ্নটা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে বেশ কয়েকদিন স্বপ্নছাড়া অবস্থায় আমি উদ্‌ভ্রান্ত হয়ে দিন কাটাতে থাকি আর রাতের অপেক্ষা করি। আর তখন আমার মনে নারীর চেহারা দেখার যে-খায়েশ জেগেছিল তা উবে যায়। এর ঠিক তিন দিন পরের রাতে আমি আবার স্বপ্নটা দেখি। তবে এইবার সুন্দর দুই পা আর নাই। একটি পা আমার দিকে আসতে থাকে। এই স্বপ্ন আমার ভেতর একটা আতঙ্ক তৈরি করে এবং আরেকটা পা কোথায় গেল এমন গোপন আহাজারিতে আমি চন্দ্র-সূর্য দেখতে দেখতে হা-হুতাশ করি। আর ওইসব দিনে আমার বন্ধুরা একে একে ভার্সিটিতে যাওয়া শুরু করে। আর আমি বাড়ির সকল চাপ অগ্রাহ্য করে শহর চষে বেড়াই। এমন দিনগুলিতে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, এই শহর ছেড়ে আমি কোত্থাও যাব না। আমার কেবলই মনে হতে থাকে, শহর ছেড়ে গেলে আমি আর কোনোদিন তার দেখা পাব না। তখন ওই জেলা শহরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রিপারেশন নিতে থাকি। এইরকম একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমি আবার পা দেখা শুরু করি। এবার আমি শুধু স্বপ্নের দুই পা খুঁজতে থাকি। কিন্তু আমার মনে কেবল এক পায়ের স্বপ্নটাই ঘুরপাক খায়। এভাবে কখনো এক পা কখনো দুই পা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আর আমি স্বপ্নে কিংবা জাগরণে কেবল পা খুঁজে বেড়াই।

এভাবে কয়েকবছর কেটে গেলে আমার ভার্সিটি লাইফ শেষ হয়ে যায়। ভার্সিটির ছয় বছরে আমি কেবল দু’টি পা খুঁজেছি। কিন্তু স্বপ্নের দু’পায়ের দেখা মেলে নি। মাঝে মাঝে খুব হতাশা ভর করত। তখন কে যেন বলেছিল, খোঁজ করলে খোদার নাগাল পাওয়া যায়। আর আমি তখন কেবল দু’টি পা খুঁজে বেড়াই।

আমার ভার্সিটি লাইফ শেষ হওয়ার খবরে আব্বা-আম্মা মনেপ্রাণে চায় আমি যেন একটা চাকরি শুরু করি। কারণ তাদের মনে একটা বিশ্বাস জেঁকে বসে যে, আমার বিয়ে দিলেই এই সমস্যা আর থাকবে না। তারা পড়াশোনা শেষ হওয়ার খবরটায় খুব উল্লসিত হয়ে ওঠে এবং একটা চাকরির জন্য আমাকে তাগাদা দিতে থাকে। কিন্তু চাকরির প্রতি আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। আর তখন আমার ভেতর ছোটবেলার ইচ্ছাটা আবার মাথাচাড়া দেয়। তখন আমি মেয়েদের জুতার দোকান দেওয়ার ইচ্ছাটার ভেতর বসত গড়ি। আমার এমন একটা সিদ্ধান্তে আব্বা-আম্মা নাখোশ হয় এবং এই প্রথম আম্মা হুহু করে কান্নাকাটি শুরু করে। কিন্তু তাতেও আমি মেয়েদের জুতার দোকানি হবার ইচ্ছা থেকে সরে আসি না।

আম্মা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে জুতার দোকান দিবি, মানুষ কী বলবে! মানুষের কাছে মুখ দেখাব কেমন করে, আর কে তোকে বিয়ের জন্য মেয়ে দিবে?


আমার ইচ্ছা ছিল খুব কাছ থেকে মেয়েদের পায়ের পাতা দেখা যাতে স্বপ্নের সেই পা খুঁজে পাই।


আব্বা এসব কান্নাকাটির মধ্যে যায় নি। সরাসরি বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়। আম্মার কান্নাকাটি কিংবা আব্বার হুমকি কোনোটাই আমাকে টলাতে পারে নি। আর তখন আমার কম্পিউটারটা বিক্রি করে কিছু টাকা যোগাড় করি। এইরকম সময়েও আমি স্বপ্নে পা দেখি। তখন জুতার দোকানের প্রতি ঝোঁকটা আরও গভীর হতে থাকে। আর তখন একদিন মেয়েদের কিছু সেন্ডেল নিয়ে আমি শহরের ফুটপাতে বসে পড়ি। অবস্থা যখন এমন হয় তখন আব্বা বলে যে, শহরে আর মুখ দেখানোর কোনো রাস্তা নাই। মান সম্মান বলতে আর কিছুই থাকল না। আর তখন আম্মা কান্নাকাটি করতে করতে আব্বার কাছে আর্জি পেশ করে, আমাকে যেন একটা জুতার দোকান করার জন্য টাকা দেওয়া হয়। আম্মার আর্জিতে কিংবা আব্বা তার মান-সম্মান রক্ষার্থে যাই হোক না কেন আমাকে একটা জুতার দোকান করার টাকা দেওয়া হয়।

জুতার দোকান চালু করার পর তারা খুব অবাক হয় যখন দেখে যে, দোকানে সব লেডিস সেন্ডেল আর জুতা। আর দোকানে আমি ছাড়া কোনো কর্মচারী নাই। ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাশ করা ছেলেটা মেয়েদের পায়ে হাত দিয়ে জুতা পরিয়ে দেয় এমন দৃশ্য আম্মা সহ্য করতে পারে নি। আর তখন সে একটা কর্মচারী রাখার কথা বলে। কিন্তু আমি তাতে রাজি হই নি। কারণ আমার ইচ্ছা ছিল খুব কাছ থেকে মেয়েদের পায়ের পাতা দেখা যাতে স্বপ্নের সেই পা খুঁজে পাই। দোকানের নাম ‘পা’ রাখা নিয়েও আপত্তি আসে আর দোকানের সাইনবোর্ড জুড়ে থাকে একটা পায়ের পাতার ছবি। আমার এইসব আপত্তি কিংবা ভাবনার ভেতর যেতে ইচ্ছে করে না। এমন বিষয়-আশয় অগ্রাহ্য করে যখন জুতার দোকান শুরু করি তখনও আমি কোনো রাতে এক পা আবার কোনো রাতে দুই পা স্বপ্নে দেখতে থাকি। আর তখন নিজের ভেতর একটা প্রশ্ন দানা বাঁধতে থাকে, এক পা নাকি দুই পা। এই প্রশ্নটা যখন ডালপালা মেলে আমাকে জর্জরিত করে তখন দোকানে ক্রেতা বাড়তে থাকে। হুট করে এভাবে যখন মেয়েদের আগমন বেড়ে যায় তখন আমার একার পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আর তখন তারা বলে যে, আমি কেন কর্মচারী রাখি না। তাদের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না পেয়ে তারা আরও কৌতূহলী হয়ে ওঠে। আর তখন তারা অপেক্ষা করতে থাকে। এভাবে যখন চলছিল তখন একরাতে আমি সিদ্ধান্তটা নিই, এক পা। আর তখন আমার চোখে ভাসে স্বপ্নের দৃশ্যটা। যে-দৃশ্যে একটা পা আমার দিকে আসতে থাকে। সিদ্ধান্তটা নেওয়ার কয়েকরাত পরেই আমি স্বপ্নে একটা নারীর চেহারা দেখি। স্বপ্নে নারীমুখ দেখার পর এই প্রথম আমার মনে হয়, এবার আমি তার খোঁজ পাব। তারপর থেকে ওই চেহারাটা আমি প্রতিরাতে স্বপ্নে দেখতে থাকি। আর তখন দোকানে আসা মেয়েদের চেহারার দিকে তাকিয়ে আমি স্বপ্নের মুখটা মেলাতে থাকি। এভাবে মুখের দিকে দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিংবা আমার ভেতরে বিবমিষা জন্মায়। কিন্তু স্বপ্নের সেই মুখের দেখা পাই না। তখন আমার মধ্যে স্বপ্নের সেই পা দেখার একটা হাহাকার বলকাতে থাকে। এই হাহাকারের ভেতর আমার ঘুম-স্বপন বিলীন হয়ে গেলে আমি আধেক লীন মানুষ হয়ে যাই। আর এমন একটা হাহাকার বুকের ভেতর সযতনে রেখে রাতের পর রাত অসীম অন্ধকারে নিদ্রাহীন দুটি চোখ নিয়ে প্রার্থনা করতে থাকি স্বপ্নে একটি পা দেখার আশায়।

Masud Parvaj

মাসুদ পারভেজ

জন্ম ২১ জানুয়ারি, ১৯৮৫; দিনাজপুর।

শিক্ষা : স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, বাংলা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, শাবিপ্রবি, সিলেট।

প্রকাশিত বই—

জীবনানন্দের ট্রাঙ্ক [কবিতা, চৈতন্য, ২০১৬]
বিচ্ছেদের মৌসুম [গল্প, দেশ পাবলিকেশন্স, ২০১৫]
ঘটন অঘটনের গল্প [গল্প, বটতলা, ২০১১]

ই-মেইল : parvajm@gmail.com
Masud Parvaj