হোম গদ্য গল্প ডায়েরির ভেতর জীবন

ডায়েরির ভেতর জীবন

ডায়েরির ভেতর জীবন
371
0

পুরাতন কাগজ-ক্রেতা পেয়ে আমার প্রথম উপন্যাসের প্রায় এক শ কপি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেই। বইগুলো বুক সেলফে থেকে থেকে তেলাপোকার খাদ্য হচ্ছে ইদানীং। অথচ আমার বিবেচনায়, মানুষের অখাদ্যের জন্য কী লাভ মায়া বাড়িয়ে। ক্রেতা টুকরি নামালে একটা নীল ডায়েরি চোখে পড়ে। বেদনার বার্তা নিয়ে যেন আমার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ‘সমাধি চৌধুরী’ নামটা উপরে জ্বল জ্বল করছে। বুঝতে পারছি সমাধির ডায়েরি। এটাও বুঝতে পারলাম, এ ডায়েরি আর ব্যক্তিগত নেই। ব্যক্তিগত হলে অস্থানে এর অস্তিত্ব মিলত না। দু’পৃষ্ঠা উল্টোতেই ঠিকানা চলে এল। কক্সবাজার বাড়ি! অথচ আমি নারায়ণগঞ্জ বসে আছি। কক্সবাজার, সেই কক্সবাজার! বিদ্রূপ করে বলতে পারব না, কক্সবাজারে পানি ছাড়া আর কিচ্ছু নাই। বঙ্গোপসাগর! শীতল প্রেমের নাম। সাগরই যেন নারী হয়ে ওঠে। কী গভীর! কী ঢেউ! কক্সবাজার নামটা চোখে পড়াতে ডায়েরির প্রতি আকর্ষণ তীব্র থেকে তীব্রতর অনুভব করি। ডায়েরির পাতা উল্টে যাচ্ছি। খণ্ড খণ্ড নোটে শরীর ঢেকে আছে। প্রায় তিন শ পৃষ্ঠার মতো প্রশস্ত আর সমৃদ্ধ ডায়েরি। গল্পকার ছিল কি? কবি? প্রথম নোট খুবই অনুভূতিপ্রবণ, অন্যরকম… তারপর আরো…


ঘুমন্ত অবস্থাতেই আমরা প্রকৃত মানুষ। জেগে উঠলে কখনো মানুষ, কখনো অমানুষ।


১.
মা-বাবা, তোমাদের জন্যই পৃথিবী, অথচ সেই তোমরাই কেড়ে নিয়েছ পৃথিবী।

২.
মানুষ সিগারেট শেষ করে নাকি জীবন শেষ করে? মদে আকণ্ঠ ডুবে থাকে নাকি ডুবে যায় অনন্ত মদে?

৩.
বৃদ্ধ নূরুল হুদার এক অদ্ভুত শখ। কিছু মানুষ হাসে। কিছু মানুষ শ্রদ্ধায় নত হয়। প্রায় পাঁচ বছর যাবৎ একটা কাজ তিনি মনোযোগ দিয়ে করছেন—প্রতিদিন দেহে আর প্রতিনিয়ত ভাবনায়। কাছে থেকে দূরে, যত দূর পর্যন্ত উনার পক্ষে যাওয়া সম্ভব। গাছ থেকে পেরেক তুলেন তিনি। বৃদ্ধ বয়সের অবসরে এ কাজটুকু উনাকে প্রশান্তি দেয়। গাছের জীবন আছে, তবে কেন ওদের শরীর রক্তাক্ত হবে।

গাছ কি শুধু বিজ্ঞাপনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকে? গাছ দাঁড়িয়ে থাকে আমাদের উপকারের জন্য। গাছ পরম বন্ধু। এ বন্ধুতা স্বীকার করে নূরুল হুদা। গাছকে ভালোবাসে মনে-প্রাণে। গাছকে দেওয়া আঘাত সহ্য করতে পারে না। কান্না পায় ওর।

নূরুল হুদা নরম প্রকৃতির মানুষ। বাড়িতে ছেলে, ছেলের বউ আর এক নাতনিকে নিয়ে সংসার। সারাদিন গাছের যত্ন করে বাড়িতে যেয়ে ঘুমের আগ পর্যন্ত দুষ্টুমির খেলায় মেতে থাকে নাতনির সাথে। নানা অন্তঃপ্রাণ নাতনিরও যেন খেলার সময় শুরু হয় অন্ধকার নেমে এলে।

এই ঝলমলে হুদা পরিবারে বর্তমান সময়ে সারাদিনই অন্ধকার বিরাজ করছে। স্থানীয় মেম্বারের দাবি হুদার ভিটা মেম্বারের বাবার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। অবৈধভাবে দখল নিয়ে আছে এতদিন ব্যাটা নূরুল হুদা। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভিটা ছাড়তে হবে। নূরুল হুদা যেমন নরম, তেমন ভীত। মেম্বারের আস্ফালনে বাড়ি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। অথচ ছেলে প্রতিবাদ করল। থানা পুলিশ করল।

নূরুল হুদা ভাবে মানুষ কেন গাছের মতো হয় না? গাছের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করলে মানুষ অন্য মানুষের ক্ষতি নয়, বরং উপকারের জন্য সবসময় নিজেকে বিলিয়ে দিত।

এক রাতে নূরুল হুদা গাছের বুক থেকে পেরেক তুলে বাড়িতে এসে দেখে নাতনির বুকে অগুনতি পেরেক ঢুকে আছে। শরীর রক্তাক্ত। নৈঃশব্দ্যের গাঢ় রূপ নিয়ে মাটিতে শুয়ে আছে চাঁদ মুখ।

৪.
পুরুষের মুখ একটা অথচ মুখোশ অনেক। কন্যার সামনে পিতা, স্ত্রীর সামনে পুরুষ আর ধর্ষিতার সামনে হয় কাপুরুষ। নারীও মুখে মুখোশ ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত। আত্মজার সামনে থাকে মুখ আর পুত্রবধূর সামনে মুখোশ।

৫.
এক শিক্ষক অনৈতিকভাবে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে ছাত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে। এখন প্রতিনিয়ত সম্পর্ক চালিয়ে যেতে হচ্ছে সেই ছাত্রীকে। নির্জন কোচিং-এ জমা হয় তার অনিচ্ছার, কান্নার আর পরাজয়ের গল্প। শিক্ষকের অন্যায় দাবি দিনে দিনে বেড়েই চলছে। নতুন এক ছাত্রীকে নিয়ে আসতে হবে, নয়তো পাশের বাড়ির কোনো বান্ধবীকে। কথা না শুনলে অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যাবে বিছানার খবর।

উনি শিক্ষক? সমাজের দর্পণ?

কাকে আনবে অর্পিতা? কোন মেয়ের সর্বনাশ করবে? সেই মেয়ে কি কখনো ক্ষমা করবে অর্পিতাকে?

কান্না পায়। মানুষ এত কুৎসিত হয়? এরকম অসুন্দর হতে পারে বাবার মতো শিক্ষক? বাবাও তো পুরুষ, তবে এত অমিল কেন ওদের কর্মে, ভাবনায়, বিশ্বস্ততায়? নাকি বাবাও অন্য কোনো অর্পিতার কাছে শুধুমাত্র পুরুষ? কাঁদতে কাঁদতে আর অজানা আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে যায় অর্পিতা।

অবশেষে অর্পিতা এক মেয়েকে নিয়ে এল। বোরখা পরিহিতা। চোখও ঢাকা চশমার উজ্জ্বল কাচে। নতুন মেয়ে দেখে শিক্ষকের মুখে খেলা করে নরকের হাসি।

‘অর্পিতা, তুমি তো ধর্মের দোকান নিয়ে এলে। এ মেয়ে তো ছোট। তবে বুক বড় হচ্ছে। আরো বড় হয়ে যাবে আমার প্রেমময় শিক্ষায়।’ স্ফূর্তির জোয়ারে ভেসে আরেকবার ক্রূর হাসি হেসে নেয় শিক্ষক।

অর্পিতা বিদায় নেয় ধীর পায়ে। ওর জুতার শব্দ বাহিরের পথে মিলিয়ে যায়।

উদ্দাম প্রস্তুতিতে মাতে শিক্ষক। কী কচি আর রহস্যময় শরীর হবে ভেবে নিষিদ্ধ পুলক বোধ করে। স্বর্গের ফুল নরকের বাগানে। ডুবে যাবে শিক্ষক, আহা!

মুখ দেখে আঁতকে ওঠে শিক্ষক। নিদারুণ লজ্জায় ঢেকে ফেলে চোখ।

৬.
ঘুমন্ত অবস্থাতেই আমরা প্রকৃত মানুষ। জেগে উঠলে কখনো মানুষ, কখনো অমানুষ।

৭.
ফাঁড়া আক্কাস তার শক্তিকে ব্যবহার নয়, অপব্যবহার করত প্রতিনিয়ত। ভদ্রতা জ্ঞান ছিল না। গুরুজনদের সম্মান দেওয়ার মানসিকতা ছিল কম। ছোটদের আদর, স্নেহ করার ন্যূনতম ইচ্ছেও মনে জাগত না। ছোট বড় সবার গায়ে হাত তুলত অবলীলায়। অসম্ভব শক্তি ছিল শরীরে। সাথে অপকর্মের জোর। তিন-চারজন বলিষ্ঠ যুবকও এক আক্কাসের সাথে পেরে উঠত না। দাম্ভিক আক্কাস শুধু পেশীশক্তির জোরেই স্থানীয় চেয়ারম্যানের আনুকূল্য লাভ করেছিল।

এলাকার সভ্য মানুষগুলো আক্কাসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ, ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত।

এক সকালে সেই ক্ষমতাধর আক্কাসকে দেখি মরে পড়ে আছে বটতলায়। কে বা কারা এসে মেরে ফেলে গেছে। শুধুমাত্র দুটো বুলেট খরচ করেছে। একটি মাথায় অন্যটি বুকে। অথচ ওর মাথা অকার্যকরই ছিল এবং হৃদয় বলে কিছু ছিল না। এলাকার মানুষ মহাখুশি। থুতু দিচ্ছে ফাঁড়া আক্কাসের মুখে, শরীরে।

আমার বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল, মৃত ফাঁড়া আক্কাস নাকি এলাকার সভ্য মানুষগুলো কে/কারা অসভ্য?

৮.
মানুষ যখন রঙ্গমঞ্চে অভিনয় করে তখন অভিনয়কে বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারে না। অথচ বাস্তব জীবনে মানুষ শুধু অভিনয়ই করে যায়।

৯.
প্রিন্স মোশারফ নবীন মডেল ও অভিনেতা। চেহারায় উত্তাল তারুণ্য। অথচ বিয়ে করে এক কন্যা সন্তানের জনক। এই পেশায় থেকে এত তাড়াতাড়ি বিয়ে করা কি মানানসই? কত উজ্জ্বল হতে পারত ওর ক্যারিয়ার। অগণিত তরুণীর হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারত অগুনতি দিন। কী আর করা যাবে। সুযোগ আসে—শুধু ব্যবহার করা জানতে হয়।

সুপরিচিত বড় ভাই গোলাম সারওয়ার নাটক নির্মাণ করে বর্তমান সময়ে তরুণদের আইডলে পরিণত হয়েছে। কী ব্যতিক্রমী চিন্তা। কী মুনশিয়ানা কাজ। গোলাম সারওয়ার মোশারফকে এক সকালে ঢেকে পাঠাল।

‘মোশারফ, তুমি এলাকার ছোট ভাই, তাই তোমার প্রতি আমার একটা দায়িত্ব আছে। তোমার কথা চিন্তা কইরা একটা নাটকের ভাবনা শেষ করলাম। আমি নিশ্চিত এই নাটক দিয়াই তুমি ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করবা।’

‘গোলাম ভাই, নাটকের নাম কী?’

‘চরিত্র ৪২০।’

‘স্ক্রিপ্ট দেখা যাবে?’

গোলামের হাসির শব্দে মোশারফ চমকে ওঠে।

‘বর্তমানে স্ক্রিপ্ট লাগে নারে ভাই। মুখে মুখে বলব কাজ হয়ে যাবে।’

‘কিরকম গল্প?’

‘প্রথমে প্রণয়, তারপর সাময়িক বিচ্ছেদ, শেষে মিলন।’

‘গোলাম ভাই, একটু যদি বুঝিয়ে বলতেন?’

‘নায়িকা ডিভোর্সি। অথচ খুব খুব সুন্দরী। ওর পা থেইকা মাথা পর্যন্ত সব তোমার ভালা লাগব। এমন ভালা লাগব যে, এই মেয়েকে তোমার চাই-ই চাই। মেয়ের লাত্থি খেলেও তোমার ভালা লাগব। মনে এরকম আত্মবিশ্বাসী ভাব নিয়া থাকবা পুরা নাটকে।’

‘এরকম উদ্ভট চরিত্র?’ মোশারফ অনেকটাই আশাহত।

‘আরে মিয়া শোনো। তোমার অঢেল টাকা। অথচ নিকটতম কোনো আত্মীয় নাই। কিন্তু ওই মেয়ে তো পরিবার ছাড়া বিয়া করব না। এক বাউণ্ডুলেরে বিয়া কইরা তো ফল পাইছে। তাই তো ওই জামাইরে লাত্থি মাইরা চইলা আইছে।’

‘ওই মেয়ের জন্য আমাকে পাগল হতে হবে?’

‘অবশ্যই। নকল বাবা-মা, ভাই-বোন বানাইয়া ওরে বিয়া করবা। কী প্রেম, আহা!’

‘প্রেম তো গেল। সাময়িক বিচ্ছেদ কিভাবে হবে?’

‘মেয়ে তোমার আসল পরিচয় একদিন জাইনা যাইব। তারপর ওর পায়ের স্যান্ডেল দিয়া তোমার গালে ঠাস ঠাস কইরা মারব। তোমার গোলাপি গালে রক্তিম আভা ফুইটা উঠব। বউ যখন একের পর এক স্যান্ডেল দিয়া মারতে থাকব তখন তোমার শাশুড়ি তোমারে বাঁচাইব।’

‘কী কন ভাই, বউ জামাইরে মারব স্যান্ডেল দিয়া? তাও আবার শাশুড়ির সামনে? না না এ তো আমাদের সমাজ-সংসারের গল্প না। এমন কি কখনো হয়? ডিভোর্সি মেয়ে এরকম আচরণ কখনো কি করে?’

‘তুমি কী বললা মোশারফ, এরকম হয় না? তুমি জানো, কত স্বামী বউয়ের মাইর না খাইয়া রাতে ঘুমাইতেই পারে না। ডিভোর্সি হইছে তাতে কী? মাইয়া তো সুন্দরী। সাক্ষাৎ জান্নাতের হুর।’

‘আমি পারব না, গোলাম ভাই। কিছুদিন পর আমার মেয়ে বড় হবে। বাবার এরকম চরিত্র মেয়েকে আমি উপহার দিতে পারব না।’

‘মোশারফ, এ তো অভিনয়। তুমি বাস্তবের সাথে অভিনয়রে মেলাচ্ছ কেন? তুমি বোঝ, এইটাই সময়ের দাবি। মাইয়াগো লাত্থি মারো নাটক ফ্লপ, কথায় কথায় মাইয়াগো পা ধরো নাটক হিট।’

মোশারফ স্যান্ডেলের তলে গাল দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চলে গেল।

… কয়েক বছর পর আবার দু’জনের দেখা।

‘আরে মোশারফ নাকি? জুতার দোকান তোমার? মিয়া, অভিনয় বাদ দিয়া এখন জুতার দোকান দিয়া বসছ। জীবনে কী করলা মিয়া। সব মাটি হইয়া গেল তোমার।’

‘ভাই, ওই জগৎটা আমার জন্য না।’

‘অবুঝের মতো কাজ কইরা নিজের কী ক্ষতি করছ তা তো এখন বুঝতাছোই। সেদিন যদি স্যান্ডেলের বাড়ি খাইতা তবে আজকে তুমিই হইতা এক নাম্বার নায়ক। শাকিফ খান স্যান্ডেলের বাড়ি খাইয়া এখন এক নাম্বার নায়ক কিনা কও?’

‘থাক ভাই, এসব নিয়া আর ভাবছি না। আমিও বেশ সুখে আছি। অন্তত স্বস্তিতে আছি।’

‘জুতার তলে গাল দিতে চাও নাই। আজ জুতা মাথায় তুইলা লইছো মিয়া। হাহা হা হাহা হা।’

‘চলে যাচ্ছেন ভাই? আপনার লাগব না জুতা? দেই আপনাকে জুতা? একদম ফ্রি।’

১০.
আমরা যখন খুব বড় ধরনের পাপে লিপ্ত হই তখন আমাদের ছায়া কখনো কখনো মানুষ হয়ে ওঠে।

১১.
আমাদের মনে যে নারীর বসবাস তাকে আমরা নিজের মতো করে ভাবি। অথচ সে স্বতন্ত্র, চিন্তায় চেতনায় নিজের মতো। নারীর ক্ষেত্রেও এ ভাবনা ভিন্ন নয়। ফলাফলও হয়তো এক। সে ক্ষেত্রে চাওয়ার সাথে পাওয়ার অমিল হয় খুব বেশি। তখন দু’পক্ষ থেকে সমান ছাড় না দিলে দু’জনের পৃথিবী দুটোই থেকে যায়।

১২.
আমাদের দেশের নারীবাদীদের মুরগিরা অবশ্যই অপছন্দ করে। কারণ নারীবাদীরা একান্তভাবে একটা পুরুষের সান্নিধ্য চায়, অন্য নারীদের ক্ষেত্রেও এই আন্দোলনে লিপ্ত হয়। অথচ সেই তারাই পুরো বাড়ির মুরগির চাহিদা আর স্বপ্ন চালিয়ে দেয় একটা মোরগ দ্বারা। আমরা পশু-পাখির সাথে অমানবিক আচরণ করে কিভাবে মানুষ হয়ে উঠি?

১৩.
একদিন এক লোক জ্ঞানের পিতা সক্রেটিসের নিকট এসে সক্রেটিসের বন্ধু সম্পর্কে কিছু কথা বলতে চাইল।

সক্রেটিস বললেন, ‘আমি আপনার সব কথা শুনব আমার বন্ধু সম্পর্কে, যদি কথোপকথনের তিনটি পরীক্ষার কোনো একটিতে আপনি পাস করেন।’

১ম পরীক্ষা : ‘আপনি যে কথাগুলো আমার বন্ধু সম্পর্কে বলবেন তা সত্যি কিনা?’

লোকটি বলল, ‘না, মানে আমি শুনেছি, সত্যি হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে।’

সক্রেটিস বললেন, ‘আপনি প্রথম টেস্টে ফেল করেছেন। তবে এখনো দুটি টেস্ট বাকি আছে।’

২য় পরীক্ষা : ‘আচ্ছা, আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে ভালো কিছু বলবেন?’

লোকটি বলল, ‘না মানে ভালো কিছু নয়, বরং…’

সক্রেটিস বললেন, ‘আর বলতে হবে না। আমি বুঝলাম আমার বন্ধু সম্পর্কে আপনি যা বলবেন তা সত্যি নয়, আবার ভালো কিছুও নয়। তবে এখনো আরেকটি পরীক্ষা বাকি আছে। যদি এ পরীক্ষায় আপনি পাস করেন তবে আমি আপনার কথা শুনব।’

৩য় পরীক্ষা : ‘আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে যে কথাগুলো বলবেন তা আদৌ কারো কোনো উপকারে লাগবে কিনা?’

লোকটি বলল, ‘মনে হয় না।’

সক্রেটিস এবার বিনীত ভাবে বললেন, ‘আমি দুঃখিত, আপনার কোনো কথাই আমি আমার বন্ধু সম্পর্কে শুনতে পারব না। কারণ আপনি যে কোনো কথোপকথনের তিনটি পরীক্ষাতেই ফেল করেছেন।’

১৪.
যে স্বামী স্ত্রীকে সম্মান করতে জানে না এবং স্ত্রীর সম্মান পায় না তার চেয়ে অসুখী মানুষ পৃথিবীতে নেই।

১৫.
জনৈক ভদ্রলোক স্ত্রীর পাঁচটি শাড়ি বহন করে নিয়ে আসার সময় হঠাৎ দেখে এক হতদরিদ্র মহিলা অর্ধেক ভেজা শাড়ি শরীরে আর অর্ধেক ভেজা শাড়ি গাছে বেঁধে শুকাচ্ছে। জনৈক ব্যক্তি স্ত্রীর দিকে তাকাতেই স্ত্রী খুব তাড়া নিয়ে বাড়ির দিকে ছুটল।

১৬.
ছোটবেলার মধুর স্মৃতির অনেকটা অংশ জুড়ে সুন্দরী আপাও ছিল। সদ্য হাইস্কুলে উঠেছি তখন। সুন্দরী আপা নবম কি দমশ শ্রেণির ছাত্রী। তখনই বুঝতাম মেয়েরা দেখতে সহজাত সুন্দর। আর ছেলেদের সৌন্দর্য অন্য জায়গায়। হয়তো শরীরের শক্তিতে, সাহসে।

অথচ সুন্দরী আপার সামনে সেই সাহসী ছেলেগুলোও যেন ভয়ে থরথর করে কাঁপত। রূপের এত শক্তি হয় তখনই আমি বুঝতে শিখি।

সেই সুন্দরী আপা ছোটবেলা থেকেই এতটা সুন্দরী যে উনার নামই সুন্দরী হয়ে গেছে। উনাদের পরিবারের সাথে আমাদের পরিবারের আন্তরিক সম্পর্কের কারণে আমি যখন-তখন ছুটে যেতাম সুন্দরী আপাদের বাড়ি। আপা আমাকে খুব ভালোবাসত, আদর করত। আমি নাকি দেখতে খুব মিষ্টি। লক্ষ্মী একটা ছেলে। এসব প্রশংসা শুনে লজ্জায় আমি আড়ষ্ট হয়ে যেতাম।

আগেই বলেছি, আমার দেখা প্রায় সব মেয়েই ছিল সুন্দরী। সুন্দরী আপা তাদের চেয়েও বেশি—অপরূপ রূপবতী। আর সে কিনা বলে আমি দেখতে মিষ্টি।

সুন্দরী আপার বদৌলতে এলাকাতে আমারও কদর। আপার সম্পর্কে জানার জন্য, সেই জানাটা অন্তত একটা বিষয়ের হলেও আমাকে কত তোষামোদ করত যুবকেরা।

একদিন মনির ভাই তো রীতিমতো দই-মিষ্টি খাওয়ালো ভরপেট। যাওয়ার সময় হাতে ধরিয়ে দিল একটা চিঠি। আমি তো ভয়ে অস্থির, আপা যদি রাগ করে, খুব করে বকবে না তো?

আমার ভোতা মুখ দেখে আপা তো হেসে অস্থির। সব কথা শুনে হাসির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিল। তারপর আমাকে নিয়ে গেল উনার রুমে। ড্রয়ার থেকে বের করল চিঠির স্তূপ। ছেলেরা উনার কৃপা প্রার্থনা করে লিখছে এত এত চিঠি!

‘তুই জানোস কয় শ পুলা আমাকে চিঠি লেখছে? দূরের গ্রাম থেইকাও পুলারা আমার পিছু নেয়। এর লাইগা তো বাবা আমার স্কুলে যাওনই বন্দ কইরা দিছিল।’

আমি ভয়ে ভয়ে বলি, ‘কাকু এই কথাগুলান জাইনা গেছে?’

‘কিছু না কিছু তো হুনছেই। একটা পুলা তো আমার লাইগা আত্মহত্যাও করছে।’

‘শুইনা তোমার খারাপ লাগে নাই?’

‘পরথম কয়দিন লাগছিল। এহন হাসি পায়।’

তার কিছুদিন পর থেকে সুন্দরী আপার জন্য আমার খারাপ লাগতে শুরু করে। বসন্ত উনার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবে একদিন দুইদিন করে কয়েক মাস কেটে যায়। বসন্ত একদিন চলে যায় ঠিক, তবে উনার সেই রূপ সাথে নিয়ে যায়। থেকে যায় দুঃখ, থেকে যায় গর্ত গর্ত মুখভর্তি দুঃসহ স্মৃতি।

সুন্দরী আপা আমার সামনে আসতেও লজ্জা পেত। বসে থাকত বিষণ্ন মনে। কথা বলত খুব কম। তবে ঘুরে ফিরে একটা কথা বলত খুব, ‘আমারে আর কেহ ভালোবাসে নারে।’

আমার ভেতরটা নড়ে উঠত। বাহিরেও চলত কাঁপন। চোখে পানি টলোমলো করত।

একদিন সকালে শুনি আত্মহত্যা করেছে। দৌড়ে গেলাম সুন্দরী আপাদের বাড়ি। মৃত শরীর ঢাকা কাফনের কাপড়ে। কাপড়ের উপরের অংশ তুলে আপাকে দেখলাম। মুখ হাসি দিয়ে আছে, দাগও আছে—তবু রূপের ঔজ্জ্বল্য পুরো মুখ জুড়ে।


একটা পঙ্গু শিশুর স্বপ্ন শুধু পা-কে ঘিরেই থাকে।


১৭.
মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে পড়ে খুব কমই। তাই শুধুমাত্র অন্যের ভুলগুলো চোখের কোণে এসে কৌতূহল জাগায়।

১৮.
সারা এলাকায় হইচই পড়ে গেল। বন্ধু ইকবালের বড় নোমান ভাই আত্মহত্যা করেছে। যে মেয়েটাকে খুব করে ভালোবাসত সেই মেয়েটা ফিরিয়ে দিয়েছে। মেয়েটা বিয়ে করেছে ওর পছন্দের মানুষকে।

ভালোবাসার মানুষ ছাড়া নোমান ভাই বাঁচতে পারল না।

সুন্দরী আপার পর স্কুল জীবনে দেখা এই আত্মহত্যা আমাকে আরেকবার বেদনাহত করেছিল।

একটা সামান্য মেয়ে-মানুষের জন্য মানুষ নিজের অসামান্য জীবন দিয়ে দিতে পারে! গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে পড়েছিল। মৃত্যু এত সহজ!

নোমান ভাই যার জন্য আত্মহত্যা করল সেই আপুকে দেখতে মন চাইত সব সময়। একটা সময়ের পর সুদূর ঢাকাতে যেয়েও দেখা সম্ভব বলে স্পৃহাটা আরো বেড়ে গেল। কী রকম দেখতে সেই আপু? কতটা লম্বা? চুল কি দিঘল? গালে টোল পড়ে হাসির স্ফূর্তিতে? শরীরের গঠন কি খুব আকর্ষণীয়? সুন্দরী আপার চেয়েও সুন্দরী?

ঘটনার প্রায় দশবছর পর ইকবালকে আমার আগ্রহের কথা জানাই। ইকবাল নিরাসক্ত গলায় বলে, ‘ওই মাইয়ারে তো গত বছর ওর জামাই খুন করছে।’

১৯.
নিশ্চুপ থাকা ছেলেদের বোকা মনে হলেও নিশ্চুপ থাকা মেয়েদের সবসময়ই রহস্যময়ী মনে হয়।

২০.
একটা পঙ্গু শিশুর স্বপ্ন শুধু পা-কে ঘিরেই থাকে।

২১.
সুমন তার উকিল বন্ধু রুবেলের সাথে এক জরুরি প্রয়োজনে দেখা করতে গেল। অতঃপর…

রুবেল বলল, ‘আমি তোর বন্ধু ঠিক আছে। উকালতিও শুরু করেছি বেশ কিছুদিন। তোকে সাহায্য করাও আমার দায়িত্ব। কিন্তু যা বলছিস ভেবে বলছিস তো?’

সুমন বলল, ‘অনেকবার ভেবেছি।’

‘আমি কিছু প্রশ্ন করব তোকে। যদি কিছু মনে না করিস।’

‘মনে করার কিছু নাই। প্রয়োজনে অবশ্যই প্রশ্ন করবি।’

‘তোদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা কেমন?’

‘মন্দ না। শহরে আমাদের দুটো বাড়ি আছে।’

‘তোর বাবা এখন কোথায় থাকে?’

‘দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে গেছে আমাদের ছেড়ে।’

‘তোর বড় ভাই?’

‘আলাদা সংসার।’

‘বড় বোন?’

‘স্বামী-সন্তান নিয়ে আমাদের সাথে থাকে।’

‘তোর তো আরো তিনচার বোন আছে। বাকিরা কোথায় থাকে?’

‘বাকি বোনেরা স্বামীর সাথে দেশের বাইরে থাকে।’

‘তোর খোঁজ-খবর নেয় না?’

‘ঈদ এলে সবার সাথে আমার জন্যও পাঞ্জাবি কেনার টাকা পাঠায়। এছাড়া মাঝে মাঝে এটা-ওটা পাঠায়।’

‘তোর পঁয়ত্রিশ বছর হয়ে গেল। অথচ ওরা বিয়ের কথা বলে না?’

‘বলে একাধিক মেয়ে হাতে আছে। চাকরি পেলে নাকি বিয়ের কথা চিন্তা করা যায়।’

‘চাকরি পেলে মেয়ে দেখবে? বিয়ের সাথে চাকরির সম্পর্ক কী? তোরা কি না খেয়ে থাকিস? তোদের আর্থিক অবস্থাও মন্দ না। সমাজে তোর সুনামও আছে। আর চাকরি পেলে ওদের দেখতে হবে কেন?’

‘আমি ওদের বিষয় আমলে নেই না। আমি জানি একটা সময়ের পর যে যার সংসার আর স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যায়।’

‘তুই চাকরি করছিস না কেন?’

‘ভালো পাচ্ছি না।’

‘তোর বাবা মুক্তিযুদ্ধ করে নি?’

‘না।’

‘রাজাকার ছিল কি?’

‘অসম্ভব নয়। তবে আমি জানি না।’

‘পরিবার থেকে ব্যবসা করার টাকা দিয়েছিল তোকে?’

‘না দেয় নি।’

‘তোর বড় ভাইকে দিয়েছিল?’

‘একাধিক বার।’

‘পরিবার থেকে বিয়ের কথা একেবারেই বলে না?’

‘পঁয়ত্রিশ বছর চলছে এখন পর্যন্ত একটা মেয়ের ছবিও দেখাতে পারে নি। ’

‘এটা অন্যায়। অথচ আমার মেয়ে এ বছর জেএসসি পরীক্ষা দিবে। আচ্ছা বন্ধু, তোদের বংশে কি বিয়ে একটু বেশি বয়সে করে?’

‘আত্মীয়দের মধ্যে আমার অনেক ছোট ভাইও বিয়ে করে ফেলছে বেশ কয়েক বছর আগেই। এলাকার অনেক ছোট ভাইদের সন্তানও স্কুলে পড়ে।’

‘তোর মায়ের বক্তব্য কী?’

‘উনি মেয়েদের জীবন ও সমস্যা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন সচরাচর। বাবার সাথে দ্বন্দ্ব তো আছেই। আত্মীয়দের সাথেও নিয়মিত ঝগড়া করতে হয় উনাকে। আত্মীয়দের সমস্যা বেশি হলেও আমার মা সমস্যামুক্ত নয়।’

‘তোর বড় ভাই কত বছর বয়সে বিয়ে করেছিল?’

‘২৮- ২৯ বছরের মধ্যে।’

‘বিয়ের সময় তোর বাবা-মায়ের বয়স কত ছিল জানিস?’

‘বাবার ১৮ আর মায়ের ১৫।’

‘তুই বেশ্যা পাড়ায় যাস?’

‘এখনও যাই নি।’

‘পাশের বাড়ির ভাবির সাথে পরকীয়া করিস?’

‘অনেকবার মনে হয়েছিল হয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত হয় নি।’

‘হওয়াই তো উচিত ছিল।’

‘হওয়া উচিত ছিল কেন?’

‘তবে তোর জন্য মেয়ে জোর দিয়ে দেখত। অনেক ক্ষেত্রে ছেলে নষ্ট না হলে বাবা-মায়ের হুঁশ হয় না। বন্ধু, তুই থ্রি এক্স দেখিস?’

‘হু দেখি।’

‘দেখাটাই স্বাভাবিক। আচ্ছা তোর তো প্রেম ছিল, সেই প্রেমের কী হলো?’

‘প্রেমিকা এখন প্রাক্তন। আমার চাকরি না হওয়ায় অন্যের স্ত্রী।’

‘আমাদের সমাজে মেয়েদের মানসিকতার খুব বেশি পরিবর্তন হয় নি।’

‘আমারও তাই মনে হয়।’

‘তোর ভাবি বিয়ের কথা বলে না?’

‘না বলে না। ভাবি ঘুরতে পছন্দ করে দেশে-বিদেশে। আমার ছোট মনোজগতে ঘুরে আসার সময় তার নাই। ’

‘তুই একা বিয়ে করছিস না কেন?

‘পরিবারের অংশগ্রহণ ছাড়া বিয়ে কি একা করা যায়? কোন বাবা তার মেয়েকে একজন আমার কাছে তুলে দিবে? তারওপর আমার হাতে পর্যাপ্ত টাকাও নেই। কাবিনের টাকা নেই। স্বর্ণ নেই।’

‘স্বর্ণ নেই কেন? তোর মায়ের স্বর্ণ? খালাম্মা তোর বউয়ের জন্য স্বর্ণ রাখে নি?’

‘বাবা চলে যাবার সময় কিছু স্বর্ণ জোর করে নিয়ে গেছে। বাকি স্বর্ণ আমার বোন ও ভাবির দখলে। আমার বউয়ের জন্য নাকি কোনো স্বর্ণ অবশিষ্ট নেই।’

‘এ তো দেখছি আজব ব্যাপার। সবটাকেই মগের মুলুক মনে হচ্ছে। এবার মূল অভিযোগটা তোর মুখেই বল, বন্ধু?’

‘তাদের অসহযোগিতা আমাকে যৌন প্রতিবন্ধী করে রেখেছে।’

‘কিরকম?’

‘আমি কথা বলতে পারি অথচ বলতে না দিলে যা হয়। চোখে দেখতে পারি অথচ চোখ বন্ধ করে রাখতে বলা হলে যা হয়। জীবন তো প্রবাহমান। শরীরও যৌবনের শুরু থেকে বর্তমান। কামনা-বাসনা, সঙ্গীর চাহিদা থাকাটাই স্বাভাবিক। অথচ তাদের অবহেলায় আমি যৌনপ্রতিবন্ধী হয়ে আছি।’

‘বিয়ে নিয়ে আত্মীয়-স্বজন, এলাকার মানুষ কিছু বলে না?’

‘অনেকে আমার যৌবন আর শরীর নিয়ে আপত্তিজনক কথা বলে। অনেকে উপহাস করে। আর আত্মীয়? আত্মার আত্মীয় ছাড়া অন্য সব আত্মীয়কে আমি অস্বীকার করি।

‘উপহাস করে কেন?’

‘বেকার বিয়ে করতে পারে না। মানে অক্ষমতা। উপহাস তো করবেই।’

‘তোর পকেট খরচ কে দেয়?’

‘আট-দশ বছর হলো আমার ব্যয় আমিই বহন করি। চাকরি না করলেও কিছু না কিছু কাজ তো করছিই প্রতিনিয়ত।’

‘মামলা করার পর তোকে তো বাড়ি থেকে বের করে দিবে।’

‘আমি নিজেই বেরিয়ে যাব। আমি মানসিকভাবে এখন খুব ক্লান্ত।’

‘প্রধান আসামি কারা হবে?’

‘মা-বাবা।’

‘তবে বল তো কী লিখব।’

‘স্বাভাবিক যৌন অধিকার হরণের অভিযোগে মা-বাবাকে আসামি করে মামলা।’

২২.
কিছুদিন আগে শ্রদ্ধেয় রবিন ভাই মারা গেলেন। অকাল প্রয়াত। মর্মাহত হয়েছি। সেই থেকে মনে হচ্ছে মৃত্যুর ভেতরেই প্রতিনিয়ত বসবাস করছি।

২৩.
আমার মৃত্যুর সাথে সাথেই ডায়েরি উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আমি আবার বেঁচে উঠব।

শেষ নোটটা ডায়েরির একেবারে শেষে ছিল। আমি ২৩ নম্বরে তুলে এনেছি। সমাধি চৌধুরী কি বেঁচে আছে? ও কি নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুতে মিশে গেছে? আমি কি একবার যাব ওর ঠিকানায়?

মহ্‌সীন চৌধুরী জয়

জন্ম ২ এপ্রিল, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। কবি ও কথাসাহিত্যিক। ঢাকা সিটি কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পেশায় সাংবাদিক।

প্রকাশিত বই —
অদৃশ্য আলোর চোখ [গল্পগ্রন্থ, অগ্রদূত অ্যান্ড কোম্পানি, ২০১৮]

সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যের ছোট কাগজ ‘শীতলক্ষ্যা’।

ই-মেইল : joychironton@gmail.com

Latest posts by মহ্‌সীন চৌধুরী জয় (see all)