K-16

K-16
772
0

ঈগলের মতো শাঁ করে একটা মাইক্রোবাস এসে হরিনাথ পোদ্দারকে তুলে নিয়ে চলে গেল।
হরিনাথ পোদ্দার দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়ির সামনে বসে থাকেন। রিকশা-গাড়ি আর মানুষ দেখেন। তাঁর বাড়িটা ঢাকা শহরের শেষপ্রান্তে, পূর্ব বাড্ডায়। বলা যেতে পারে—ডাউন টাউন। বাড়ির গেইটে একটি বয়েসি পেয়ারা গাছ। সবসময় ছায়া পড়ে। ঠান্ডা থাকে জায়গাটা।
মাইক্রোবাসের মধ্যে দুজন ষণ্ডামতন লোক ছিল। দুজনেরই ব্যাক ব্রাশ। চোখে কালো রঙের সানগ্লাস। ঝপাং করে মাইক্রোবাসের দরজা খুলতেই ষণ্ডাদ্বয় নেমে এল এবং শপাং করে ৪৩ কেজি ওজনের হরিনাথ বাবুকে পাঁজাকোলা করে মাইক্রোবাসে তুলে ফেলল। অতি অল্প সময়ের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল কালো রঙের মাইক্রোবাসটা।
ওরা হরিনাথ বাবুর নাকে রুমাল চেপে ধরেছিল। সঙ্গে সঙ্গে ক্লোরোফর্মের রিঅ্যাকশনে হরিনাথ বাবু মূর্ছা গিয়েছিলেন। আর মাইক্রোবাসের ভেতরটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল বিধায় কিডন্যাপারদের আস্তানায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত বুড়ো আর চেতন ফিরে পান নি। বলতে গেলে নাক ডেকে ঘুমিয়েছেন পুরোটা সময়।
কিন্তু ঘুম ভাঙার পর নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ এবং নতুন মানুষ দেখে চোখ দুটো কচলে নিলেন হরিনাথ বাবু। তারপর আঁতিপাঁতি করে চশমা খুঁজতে খুঁজতে বললেন, ‘আমার চশমাটা কোথায় গেল?’


আমারে কি আপনের চয়েস হইবার লাগতাছে না? আমি কিডন্যাপিং ডিফার্মেন্টের জুনিয়ার অফিসার।


নিগ্রোদের মতো মোটা-কালো ঠোঁট ও মোটা হাড্ডিসার একটা চ্যাঙড়া ছেলে হরিনাথ বাবুর দিকে তাঁর চশমা বাড়িয়ে ধরে বলল, ‘এই যে লন, আপনের চশমা!’
হরিনাথ বাবু চ্যাঙড়া ছেলেটার দিকে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিতে তাকালেন। তার হাত থেকে চশমা নিয়ে চোখে পরে বললেন, ‘হুয়াট ইজ ইউর নেইম? তোমার নাম কী?’
‘মাই নেম ইজ চেঙ্কু।’
‘তুমি এখানে কী করো?’
‘চাকরি করি।’
হা হয়ে চেঙ্কুর দিকে তাকিয়ে রইলেন হরিনাথ বাবু, ‘এইখানে আবার কী চাকরি করো?’
‘কেলায়? আমারে কি আপনের চয়েস হইবার লাগতাছে না? আমি কিডন্যাপিং ডিফার্মেন্টের জুনিয়ার অফিসার।’
‘কী ডিপার্টমেন্ট?’
‘কিডন্যাপিং ডিফার্মেন্ট।’
‘ও আচ্ছা। তোমরা তাহলে আমাকে কিডন্যাপ করেছ?’
‘আবার জিগায়!’
‘আর কী কী ডিপার্টমেন্ট আছে এখানে?’
‘আছে—ছিনতাই ডিফার্মেন্ট, গোলাগুলি ডিফার্মেন্ট, ডাকাতি ডিফার্মেন্ট, বিউটি কুইন ডিফার্মেন্ট।’
‘বিউটি কুইন ডিপার্টমেন্ট! এটা আবার কী?’
‘আপনি বয়স্ক মানুষ। এইগুলা জানার দরকার নাইকা। তাছাড়া বলাও নিষেদ আছে। মানে সিক্রেট।’
মুহুর্মুহু বিস্মিত হয়ে হরিনাথ বাবুর চক্ষু দুটো চড়কগাছ হয়ে পড়ল। বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে। বলতে হবে না। অন্তত এটা বলো, এখানে কয়টা ডিপার্টমেন্ট আছে?’
‘আছে পাঁচ/ছয়টা। এইসব প্যাঁচাল রাইখা আপনের কিছু লাগব কি-না হেইডা কন তো?’
‘আচ্ছা বলছি। তার আগে তুমি আমাকে শেষ প্রশ্নটার উত্তর দাও।’
‘কন, কী প্রশ্ন?’
‘মানে—এটা কি তোমাদের সাব অফিস নাকি হেড অফিস?’
‘হেড অফিস। যাউকগা। প্যানপ্যান রাইখা আপনের কী লাগব, জলদি কন? আমার আবার এট্টু বাইরে যাওন লাগব।’
হরিনাথ বাবু বললেন, ‘ছোলার ডাল দিয়ে পরোটা পাওয়া যাবে?’
‘না। বাইরে থিকা খাওন আনা নিষেদ। অফিসে যা আছে তাই খাওয়া লাগবে।’
‘তা কী আছে ঘরে?’
‘বিস্কিট, চানাচুর, চিড়াভাজা, মুড়ি—এইসব।’
‘চা-কফি কিছু হবে না সাথে?’
‘চা দিওন যাইব।’
‘আচ্ছা তাহলে মুড়ি চানাচুর দাও।’
‘অকে।’
‘সরিষার তেল দিয়ে একটু মাখিয়ে দিতে পারবে?’
‘পারব।’
চেঙ্কু চলে যাওয়ার পর হরিনাথ বাবু গভীরভাবে অনুধাবন করলেন, এই তবে প্রকৃত উন্নতি! কৃষিপ্রধান একটি দেশের সবকিছু কর্পোরেট অফিসের আন্ডারে চলে যাচ্ছে। এ যে রীতিমতো ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের চাইতে কম কিছু নয়!
হরিনাথ বাবু চারদিকে চোখ বোলালেন। যে ঘরটাতে তাকে রাখা হয়েছে সেটি ছিমছাম। একটি খাটিয়া আর প্লাস্টিকের টুল ছাড়া আর কিছু নেই ঘরে।
পুরনো ডিজাইনের বাড়ি, মনে হয় তিন তলা বা চার তলা।
হরিনাথ বাবু জানালার কাছে গেলেন। বাইরে সীমানা প্রাচীর বরাবর বড় বড় আম গাছ ঘেরা ছায়া-শান্ত পরিবেশ। আম গাছের ঘোরায় শুকনো পাতা ঘিরে একদল বুলবুলি এলোমেলো কিচিরমিচির করছে। মরা পাতার শব্দ আর পাখির শব্দ মিলে অদ্ভুত একটা শব্দ হয়ে চলেছে।
এ বাড়ির পাশের প্লটে ভাঙারির আড়ত। তারপরে সার বাধা উঁচু দালান।
হরিনাথ বাবু জানালার পর্দা নামিয়ে দিলেন।

চেঙ্কু ছেলেটা বেশ করিতকর্মা। অল্প সময়ের মধ্যে মুড়ি মাখিয়ে নিয়ে এল।
মুড়ি মুখে দিতেই হরিনাথ বাবুর মনটা ভরে গেল, তৃপ্তিতে। নাকে কড়া ঝাঁঝটা পেতেই বুঝতে পারলেন এটা দেশি সরিষার তেল।
হরিনাথ বাবু বললেন, ‘এত ভালো সরিষার তেল কোথায় পেলে তোমরা?’
‘গিফ্টো পাইছি। কোম্পানিরা ভালো ভালো জিনিস আমগো গিফোট দিয়া যায়।’
‘কেন দেয়?’
‘দিস ইজ বিজনেস। দেওয়া-নেওয়া। আপনি এইগুলা বুঝবেন না!’
‘ও আচ্ছা, না বুঝলাম। কিন্তু ড্রিঙ্ক—আই মিন পানীয়-টানীয়র ব্যবস্থা আছে নাকি?’
চেঙ্কু অবাক হয়ে হরিনাথ বাবুর দিকে তাকিয়ে রইল।
হরিনাথ বাবু হে হে করে হেসে বললেন, ‘মাঝে-মধ্যে খেয়ে থাকি, বুঝলে? আর তোমাদের অফিসের যে স্ট্যাটাস বুঝতে পারছি, তাতে তো এ জিনিস আছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে জিনিসটা তোমরা আমাকে দেবে কি-না সেটাই প্রশ্ন।’
চেঙ্কু বলল, ‘কথা দিবার পারতাছি না মাগার চেষ্টা করব।’
‘গুড। ইউ আর এ গুড বয়।’
একজন অফিসার এল হন্তদন্ত হয়ে। এসেই হরিনাথ বাবুর ফতুয়ার ঝুলে একটা ট্যাগ লাগিয়ে দিল। হরিনাথ বাবু বেশ আগ্রহী হয়ে ট্যাগটার দিকে তাকালেন। দেখলেন, তাতে লেখা—‘K- 16.’
‘এরমানে কী বাপু?’—জানতে চাইলেন হরিনাথ বাবু।
অফিসার বিরক্ত হয়ে বলল, ‘মানে জানার দরকার নাই। আপনি দয়া কইরা এইডা খুলবেন না।’
রসকসহীনভাবে কথাটি বলে অফিসার চলে গেল।
হরিনাথবাবু অবাক হয়ে চেঙ্কুর দিকে তাকালেন।
‘K মানে কিডন্যাপ। আর 16 হইল ছিরিয়াল লম্বর।’—চেঙ্কু বলল।
‘ও আচ্ছা। এইবার বুঝতে পেরেছি। তোমাকে আর একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’
‘এটাই কিন্তু শেষ।’
‘ওকে। বলো তো—এখন আমার কী হবে?’
‘আপনের কিচ্ছু হইব না। আপনে মাসাল্লা এইহানে সহি-সালামতেই থাকবেন। খাইবেন, গুমাইবেন চাইলে টিভি ভি দেখবার পারবেন।’
‘বলো কী! এত সুযোগ সুবিধা? তাহলে তো আমি এখানেই থেকে যাব।’
‘আরে ধুর!’—হা হা হা করে হেসে উঠল চেঙ্কু, ‘এইখানে থাকবেন কেলায়? এইডা তো এমন কোনো ভালো জায়গা না যে, আপনে থাইকা যাইবেন গা।’
‘জগতে কোনটা ভালো জায়গা সেটা বলা মুশকিল, বুঝলে? তবে, ভালো-মন্দ যাই হোক, এটা যে আমার বাড়ির চেয়ে ভালো জায়গা তা হলফ করে বলা যায়।’
চেঙ্কু হরিবাবুর কথা খুব একটা বুঝতে পারল না। তবে এ টুকু বুঝল, লোকটা হয়তো নিজের বাড়িতে সুখী নন।
মনে আছে, চেঙ্কু তখন ছোট, নয় কি দশ বছর বয়স, বাপে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল বলে চেঙ্কুর পঙ্গু দাদা খবিরুল্লাহ তরফদার ফোঁত ফোঁত কাঁদত আর বলত, হালারপো বাড়িটারে এক্কেরে হাবিয়া দোজখ বানায়া দিল!
খুব সম্ভবত এই বুড়ো লোকটারও এ-রকমই কেস হবে, ভাবল চেঙ্কু।


চোখের জল দেখতে চাস? গঙ্গায় যা হারামজাদী। চাইলে ডুবেও মরতে পারিস।


২.
বাসুদেব পোদ্দার উৎফুল্ল। বাপ হারিয়ে যাওয়ার পর ছেলে ভীষণ উৎফুল্ল। মাথা থেকে জগদ্দল পাথরটা নেমে গেছে। বুড়ো বাপের ঘ্যানঘ্যান প্যানপ্যান আর শুনতে হবে না। বিষয় সম্পত্তি যা আছে পুরোটাই তার হয়ে যাবে। এর চাইতে সুখের আর কী হতে পারে!
এক ভাই আছে পশ্চিমবঙ্গের দিনাজপুরে। আরেক বোন বাংলাদেশের বরিশালে। যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত তারা। কেউ কিচ্ছুটি পাবে না। বিষয়-সম্পত্তির পুরোটা ভোগ-দখল করবে বাসুদেব পোদ্দার একা। প্রয়োজন মতো রঘুনাথ কাকুকে ধরে একখানা সাব-কাবলা দলিল করিয়ে নেবে, —যেখানে স্পষ্ট করে লেখা থাকবে—শ্রী হরিনাথ পোদ্দার তাঁহার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বড় পুত্র বাসুদেব পোদ্দারকে উইল করে দিয়াছেন। মামলা ডিসমিস। হরিনাথ পোদ্দার বছর দুয়েক আগে উইল পত্রে স্বাক্ষর করেছেন, সুতরাং ক্যালেন্ডার দেখে-শুনে সেই মোতাবেক একটা তারিখ বসিয়ে দেবে ভেন্ডার রঘুনাথ বসাক। এ ক্ষেত্রে বাপের স্বাক্ষর নকল করতে হবে। এটা পানির মতো সহজ। জীবনে বহুবার হরিনাথ পোদ্দারের চেক বইয়ে নকল স্বাক্ষর করে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলেছে বাসুদেব।
সে যাই হোক।
বাসুদেব একটু পরেই গোসল করবে, বাতাবিনেবু গাছতলা বসে শরীরে তেল মাখছিল, এমন সময় রিং-বাজন্ত মোবাইল নিয়ে ভুঁই কাঁপিয়ে হেঁটে এল গজগামিনী স্ত্রী সুলতা। বাসুদেব একবার বউয়ের পায়ের দিকে আরেকবার তার শরীরের দিকে আড়চোখে তাকাল। হস্তিনীটাকে দেখলেই বাসুদেবের দাঁত কিড়িমিড়ি করে ওঠে। মাগিটার বাপের বাড়িতে অঢেল টাকা-পয়সা। গাজিপুরে বিঘার পর বিঘা জমি। কোটি টাকা বিঘা। কিন্তু যতই হোক, বাপের বাড়ির জমির প্রতি তার কোনো লোভ-লালসা নেই। অথচ দ্যাখো, কিছু টাকা হলে বাসুদেব তার সিলিন্ডার গ্যাস ডিলারশিপ ব্যবসাটাকে দাঁড় করাতে পারে। মেঘনা গ্যাসে পুরোপুরি মার খেল। এখন বসুন্ধরা গ্যাসে ঢুকতে চাইছে। কিন্তু টাকার অভাবে পারছে না।

বাপ তাঁর পেনশনের টাকা তিন ভাইবোনকে সমান ভাগ করে দিয়েছিলেন। বাসুদেব সে-টাকা খুইয়েছে। দেড়তলা এই বাড়িটা এখন টার্গেট। বিক্রি করার ইচ্ছা। কিন্তু হরিনাথ পোদ্দার কোনোভাবেই রাজি হচ্ছেন না। এই নিয়ে বাপের সাথে গত পাঁচ বছর ধরে ক্যাচাল। বাসুদেব একবার ভেবেছিল, বুড়োটাকে কিভাবে ওপারে পাঠানো যায়! কিন্তু সাহসে কুলোয় নি। ফলে দৈবক্রমে এবার যেটা হয়েছে, তার জন্যে তা শাপেবর।
সুলতা বলল, ‘তোমার ফোন।’
বাসুদেব বলল, ‘কে?’
সুলতা বলল, ‘আননোন নাম্বার!’
স্ত্রীর হাত থেকে মোবাইল নিয়ে তৎক্ষণাৎ রিসিভ করল বাসুদেব, ‘হ্যালো!’ —বাম হাত দিয়ে কানে মোবাইল চেপে ধরে ডান হাতে শরীরে তেল মাখতে লাগল।
‘কেমন আছেন?’ —ওপাশ থেকে অপরিচিত একটা বাজখাই কণ্ঠ কথা বলে উঠল।
বাসুদেব আমতা আমতা করে বলল, ‘এই তো! ভগবানের কৃপায় আছি এক প্রকার। তা আপনি কে বলছেন? কোত্থেকে বলছেন?’
‘আমাকে চিনবেন না।’
‘নাম-পরিচয় দেন, দেখি চিনি কি-না।’
‘আমার নাম জয়দার। জয়দার আলী।’
‘কিন্তু এই নামে তো আমার পরিচিত কেউ নেই। আপনি বোধহয় ভুল নাম্বারে ফোন দিয়েছেন।’
‘না। আমি সঠিক নাম্বারেই ফোন দিয়েছি। আপনি হরিনাথ পোদ্দারের বড় ছেলে বাসুদেব পোদ্দার।’
‘আচ্ছা। তারমানে তো ঠিকই। তা বলেন, কী কারণে ফোন দিয়েছেন।’
‘সুখবর দিতে।’
‘কী সুখবর?’
‘আপনি সেইসব সৌভাগ্যবানদের একজন যারা ৫০% ডিসকাউন্ট পায়।’
‘ডিসকাউন্ট! কিসের ডিসকাউন্ট?’
‘মানে যেখানে পাঁচ লাখ টাকা লাগত সেখানে আড়াই লাখ টাকাতেই আপনি আপনার বাবাকে ফিরে পাবেন। সে আমাদের কাছে বন্দি আছে। কোনোরকম হাঙ্কিপাঙ্কি চলবে না। খবর খারাপ হইয়া যাবে।’
এতক্ষণে বাসুদেবের কানে পানি ঢুকল। তার মানে, তার বাবাকে কেউ কিডন্যাপ করেছে? কিন্তু হরিনাথ পোদ্দার হারিয়ে গেছেন—এলাকায় চাউর হওয়া এই খবরটাই তো ভালো ছিল। এখন আবার কী-সব শুনছে?
বাসুদেব আমতা আমতা করে বলল, ‘হাতে টাকা-পয়সা নেই দাদা। কেমনে দিবো!’
‘ধানাপানাই রাখেন মিঞা। সময় কম। ডিসকাউন্ট কাজে লাগান।’
‘সে তো বুঝলাম। কিন্তু টাকা না-থাকলে কেমনে কাজে লাগাব।’
‘এসব ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা ভূতে জোগাড় করে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা রেডি করেন। পরেরবার ফোন করে জানাব, টাকা নিয়ে কোথায় আসতে হবে।’
‘আচ্ছা। ঠিক আছে।’
বাসুদেব ফোন কেটে দিল।
ফোনালাপের শেষের দিকে একটা বুদ্ধি মাথায় এসেছে তার। তাই চটজলদি লাইন কেটে দিয়েছে।
তার ভাইবোনকে জানাতে হবে পাঁচ লাখ টাকা। হ্যাঁ, ওদেরকে পাঁচ লাখেরই কথাই বলবে, ডিসকাউন্টের ব্যাপারটা চেপে যেতে হবে। বড় ভাইয়ের হাতে টাকা নেই, ওরা জানে। ফলে ওদের থেকে যদি পুরোটা নেওয়া যায় তো কেল্লাফতে।
মনটা আনন্দে নেচে উঠল। গজগামিনীকে উদ্দেশ্য করে বলল, ‘শুনলে! এক কাপ চা মারো তো!’
গজগামিনী গলা বাড়িয়ে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলল, ‘তুমি না গোসলে যাচ্ছ? গোসলের আগে চা কেন?’
ছোট বোন মিনতির নাম্বারে ডায়াল করতে করতে বউকে আচ্ছামতো ঠাঠানি দিল, ‘আমি গোসলে যাই আর শ্মশানে যাই তাতে তর কী? চা দিতে বলেছি, দে। কথা কম।’
সুলতা গলা বাড়িয়ে হঠাৎ তেতে ওঠা বাসুদেবের মেজাজ পরিমাপ করার চেষ্টা করল। পারল না।
ততক্ষণে বরিশাল থেকে ছোটবোন মিনতি ফোন রিসিভ করে কথা বলতে শুরু করেছে, ‘হ্যালো বড়দা!’
বাসুদেব কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে বলল, ‘মিনতি রে!’
ভাইয়ের কান্না জড়ানো কম্পমান কণ্ঠ শুনে কেঁপে উঠল মিনতির কণ্ঠ, ‘কী হয়েছে বড়দা?’
‘বাবু তো নেই!’
‘নেই মানে?’
‘নাই মানে কিডন্যাপ হয়ে গেছে।’
‘ও তাই বলো! আমি তো মনে করেছিলাম বাবু বেঁচে নেই।’
‘বদমাশগুলা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে না-পারলে বাবুকে ওরা মেরে ফেলবে!’
ছোটবোনকে টাটকা মিথ্যা বলল বাসুদেব। মুক্তিপণ না-দিলে কী হবে, এ ব্যাপারে কিডন্যাপারদের সাথে কোনো কথা হয় নি। হয়তো কথা হতো, কিন্তু তার আগেই বাসুদেব লাইন কেটে দিয়েছিল। এখন তার মাথায় আরেকটা নতুন বুদ্ধি এল, নাটক সিনেমায় যেমনটা দেখানো হয়, এসব ক্ষেত্রে পুলিশে জানালে খতম করে দেওয়ার হুমকি থাকে। বাসুদেব ভাবল, এই ব্যাপারটা জানতে হবে। পুলিশে জানালে এরাও যদি হরিনাথ পোদ্দারকে সটকে ফেলে তো বাসুদেব জাস্ট গঙ্গা থেকে ডুব দিয়ে উঠবে। তার সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবনে না।
সুলতা বলল, ‘দাদা, টাকা ম্যানেজ হবে। তুমি শান্ত হও। আমি এখনি ছোড়দাকে ফোন দিচ্ছি। আমরা কিছু কিছু দিলেই পাঁচ লাখ হয়ে যাবে।’
‘আমার হাতে তো কানা কড়িও নেই রে মিনতি।’
‘সে দেখা যাবে বড়দা। তুমি শুধু বাবুকে বাড়িতে আনার ব্যবস্থা করো। ওদের সাথে কন্টাক্ট রাখো।’
বাসুদেব কৃত্রিম কান্না আনল কণ্ঠে। এমন একটা ভাব করল যেন কান্নার চোটে সে কথা বলতেই পারছে না। বলল, ‘বাবুর জন্য বুকের ভিতরটা খাঁ খাঁ করছে রে মিনতি। আমি দাঁড়াতে পারছি না। শুইতে পারছি না। কথা বলতে পারছি না। যাই হোক। বাবুকে যদি জীবিত দেখতে চাস তাহলে শিগগির তোরা টাকা পাঠা। এখন রাখি।’
ফোন রাখতেই বাসুদেব দেখল, ঘাড়ের উপর দাঁড়িয়ে চায়ের কাপ হাতে করে তার চোখের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে সুলতা।
চোখে চোখ পড়তেই সুলতা বলল, ‘সেকি! তুমি কাঁদছ? কিন্তু তোমার চোখে তো জল নেই?’
রাগে আগুন হয়ে বউয়ের হাত থেকে চায়ের কাপ নিয়ে বাসুদেব বলল, ‘চোখের জল দেখতে চাস? গঙ্গায় যা হারামজাদী। চাইলে ডুবেও মরতে পারিস।’

৩.
বাসুদেব আর সব মানুষের মতো অতি আনন্দ এবং অতি বেদনা লাঘবের জন্য সবসময় দুই/চার পেগ গিলে থাকে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। আজকের দিনটা বরং বিশেষ দিন। একদিকে বাপ নামের জঞ্জালটা বিদায় হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই চিরতরে বিদায় হবে। দ্বিতীয়ত ছোটবোন মিনতি পোদ্দার এবং ভাই অরুন দেব পোদ্দার দুজনে মিলে পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে। বাপের শেষকৃত্যটা হবে কিডন্যাপারের ফোনটা এলেই। অর্থাৎ কিডন্যাপার যখন বলবে, টাকা না-দিলে তার বাপকে মেরে ফেলা হবে, সে মেনে নেবে। পুলিশকে জানানোর প্রসঙ্গ এলেও সে একই চাল মারবে বলে মনস্থির করল।
এই পরিকল্পনাই ফাইনাল।
অন্ধকার রাতে, টালমাটাল অবস্থায় বাড়ি ফিরছিল বাসুদেব পোদ্দার, পায়ে হেঁটে। কোত্থেকে যেন মহুয়া ফুলের সুবাস ভেসে আসছিল। যেন সে বাড়ির ছাদের তারে ঝুলানো জামার মতো দুলছিল, পরমানন্দে।
ঠিক এমন সময় উরুদেশ কেঁপে উঠল। কী হচ্ছে? না, মোবাইল ভাইব্রেশন।
বাসুদেব পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকাল। আননোন নাম্বার।
‘হ্যালো!’
‘টাকা কি রেডি হইছে?’
‘ও আপনি? শোনেন দাদা। একটা টাকাও ম্যানেজ করতে পারি নি। টাকা ম্যানেজ করা কি চাট্টিখানি কথা দাদা। আপনারা তো জানেন, তাই না?’
‘মানে কী?’
‘কোনো মানে নেই দাদা।’
‘তারমানে কি আপনি আপনার বাবাকে মুক্ত করতে চান না?’
‘পণ যেহেতু নেই কেমনে করি মুক্তি? এক কাজ করুন দাদা, আমার বাপকে আপনারা রেখে দিন। শিক্ষিত লোক। তার অনেক পড়াশোনা। অনেক জানাশোনা। আপনাদের উপকারে আসবে। রেখে দিন। ফুটফরমাশ করতে পারবে। মারবেন না।’
জয়দার আলী বাসুদেবের কথা শুনে ভীষণ অবাক হলো। বলল, ‘আপনি বোধহয় খেয়েছেন?’
হো হো করে হেসে বাসুদেব বলল, ‘আমি খাই নি। ভগবান খাইয়েছেন।’


ঝামেলা ওই একটাই—বয়স। এক্সপায়ার্ড। মেয়াদোত্তীর্ণ। মানে বাতিল। মরা পাতার কি মূল্য আছে বসন্তের নতুন পাতার কাছে? 


৪.
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে হরিনাথ পোদ্দার। সে গুনগুন করে রবীন্দ্র সংগীত গাইছে: মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে তাতা থৈথৈ তাতা থৈথৈ তাতা থৈথৈ …
ঘটনার অভিনবত্বে আশকার আলী কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন বেচারাকে।
এখানে যাদেরকে তুলে আনা হয়, সাধারণত তারা থাকে ভীতসন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত, ক্লান্ত। কিন্তু এই লোকটাকে আনন্দিত দেখাচ্ছে কেন?
জয়দার আলী প্রবেশ করেই সালাম প্রদর্শন করল আশকার আলীকে, ‘স্যার সালামালাইকুম!’
‘অলাইকুমস্লাম।’ —আশকার আলী বললেন, ‘k- 16’র আপডেট কী? এইটার টাকা আসছে না কেন?’
‘সমস্যা স্যার।’
‘কিসের সমস্যা?’
‘উনার ছেলে উনাকে মুক্ত করে নিবে না। আমাদেরকে রেখে দিতে বলতেছে।’
‘মানে? আমরা মানুষ দিয়ে কী করব? আমাদের দরকার টাকা।’
‘সেটাই তো স্যার। কিন্তু উনার ছেলে তো রীতিমতো ফোন কেটে দিতেছে।’
আশকার আলী চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বললেন, ‘লোকটা কি মানসিকভাবে অসুস্থ?’
‘কিছুটা বোধহয় অসুস্থ আছে। কিন্তু সেটা বোঝা যায় না।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি যান, আমি দেখতেছি।’

ঘরের এক কোণে পাতা চৌকিতে বসে দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে হরিনাথ পোদ্দার আনমনে নজরুল সংগীত গুনগুন করছিলেন: খেলিছ এ বিশ্ব লয়ে বিরাট শিশু আনমনে….
এমন সময় তার কাছে গেলেন আশকার আলী।
সুদর্শন ভদ্রলোককে দেখে হরিনাথ পোদ্দার হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেয়ে দুহাত উঁচিয়ে নমস্কার প্রদর্শন করলেন।
আশকার আলী বললেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’
প্রণামভঙ্গিতে দুহাত উঁচিয়ে হরিনাথ বাবু বললেন, ‘ভালো আছি। আপনাদের কৃপায় ভালো আছি।’
‘আমাদের কৃপায় ভালো আছেন মানে?’  —আশকার আলী প্লাস্টিকের টুল টেনে নড়বড়ে চৌকির কাছে বসলেন।
‘হুম, ভগবান তো মানুষের মাঝেই বাস করেন, তাই না? সেই অর্থে বললাম আর কী!’
আশকার আলী খেয়াল করে দেখলেন, লোকটার সাথে তার মৃত বাবা আজমত আলীর চেহারার কোথায় যেন মিল রয়েছে।
আজমত আলীর মুখে পাতলা দাড়ি ছিল। চশমা পরতেন না। ছিলেন পাটের ব্যাপারি। সারাদিন প্রচুর পরিশ্রম করতেন বলে শরীরে কখনো মেদ জমতে পারে নি। একহারা লম্বা ছিলেন। একটার পর একটা পান খেতেন জর্দা দিয়ে।
বহুদিন পর বাবার জর্দা মেশানো পানের সুগন্ধ মনে পড়ল।
আশকার আলী বললেন, ‘তা আপনি কী করেন?’
হরিনাথ বাবু বললেন, ‘এখন কিছু করি না। বেকার। আগে কলেজে মাস্টারি করতাম। বয়স হয়ে গেছে, সরকার আর রাখল না। মানে দিন শেষ।’
লোকটা কলেজের মাস্টার ছিলেন! আশকার আলী অবাক হয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন। বললেন, ‘তো ছেলের সাথে আপনার ঝামেলাটা কী?’
ঝামেলা ওই একটাই—বয়স। এক্সপায়ার্ড। মেয়াদোত্তীর্ণ। মানে বাতিল। মরা পাতার কি মূল্য আছে বসন্তের নতুন পাতার কাছে? ব্যাপারটা হলো এই। বুঝতে পেরেছেন?’
আশকার আলী বিস্মিত হয়ে হরিনাথ বাবুর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
হরিনাথ বাবু বললেন, ‘স্যরি! আমি বোধহয় বেশি কথা বলছি, তাই না?’
‘না না ঠিক আছে। কিন্তু কথা হলো, আপনার ছেলে তো আপনাকে নিতে আসবে না বলে দিয়েছে। এখন কী করবেন?’
‘বলেছে? বাসুদেব বলেছে এ কথা?’
‘হুম।’
‘দ্যাটস গুড। আমিও ফিরে যেতে চাই না। জানেন, আমার ছেলেটা খুবই স্বার্থপর। যে বাপ ওর জন্মদাতা তাকে সে পর মনে করে। বিশ্বাস করে না। বেইমান। আমিও ওর কাছে আর ফিরতে চাই না। আই অ্যাম নট সেফ উইথ মাই সান।’
‘সে তো বুঝলাম। কিন্তু আপনি তাহলে যাবেন কোথায়?’
‘মাঠ আছে। জঙ্গল আছে। কোথাও না কোথাও অনায়াসে জায়গা হয়ে যাবে।’ —এ পর্যন্ত বলে হরিনাথ পোদ্দার আশকার আলীর দিকে তাকিয়ে শিশুর মতো হেসে বললেন, ‘আর যদি আপনি দয়া করেন তো, আমার জায়গা এখানেই হয়ে যেতে পারে, পারে কি?’
আশকার আলী চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন।
‘আপনি বোধহয় এই অফিসের প্রধান ব্যক্তি? অ্যাম আই রাইট?’
‘হ্যাঁ। আপনি ঠিকই ধরছেন।’
হরিনাথ পোদ্দার কেমন যেন একটা হাসি হাসলেন।
আশকার আলীর মনে হলো অবজ্ঞার হাসি। তাচ্ছিল্যের হাসি। লোকটা তার কাছে হয়তো থাকতে চাইছে কিন্তু ভেতরে ভেতরে অবজ্ঞা করছে। আশকার আলীর নিকৃষ্টতম পেশার জন্য তাকে করুণাও করছে হয়তো। ফলে তার হাসিটা আশকার আলীকে বিদীর্ণ করে ফেলল।
হরিনাথ বাবু বললেন, ‘আপনার অফিসে আমার একটা চাকরি দিয়ে দেন না!’
আশকার আলী কী বলবেন, বুঝে উঠতে পারলেন না। হরিনাথ বাবুর দিকে একইভাবে তাকিয়ে রইলেন।
‘সম্ভব? ইজ ইট পসিবল গিভ মি আ জব? আমার হাতের লেখা ভালো। বাংলা ইংরেজি দুটোই। আমার ইংলিশ হস্তাক্ষর ব্রিটিশ স্টাইল।’
আশকার আলী বললেন, ‘আচ্ছা দেখি। এখন কি কিছু লাগবে আপনার? এই যেমন কোনো খাবার বা অন্যকিছু?’
‘কিছু দিতে চান? একটা সিগারেট দিলে খুশি হব।’
আশকার আলী পকেট থেকে বের করে সিগারেটের প্যাকেট বাড়িয়ে ধরলেন।
হরিনাথ বাবু একটা সিগারেট রেখে প্যাকেটটা ফেরত দিতে গেলে আশকার আলী বললেন, ‘রেখে দেন।’
হরিনাথ বাবু খুশি হয়ে বললেন, ‘পুরো প্যাকেট দিয়ে দিচ্ছেন? আচ্ছা থ্যাঙ্কস।’
আশকার আলী তার দামি লাইটারটাও দিলেন হরিনাথ বাবুকে।
চমৎকার লাইটারটা দেখে হরিনাথ বাবু বললেন, ‘বাহ! লাইটারটা তো দারুণ। জানেন, এ-রকম একটা লাইটার সারাজীবন কিনতে চেয়েছি। কিন্তু পারি নি। সংসার আর ছেলেপেলেদের প্রয়োজন মিটিয়ে নিজের শখ-আহ্লাদ মেটাতে পারি নি কোনোদিন।’
‘আপনি ওটা নিতে পারেন।’
‘তাই? ঠিক আছে, নিচ্ছি।’
হরিনাথ পোদ্দার সুদৃশ্য লাইটার দিয়ে সিগারেটে আগুন সংযোগ করতে লাগলেন। আগুন জ্বালিয়ে মুখের সামনে এমনভাবে দুহাত রাখলেন, খুবই স্মার্ট লাগল দেখতে। আগুন সংযোগ করে খুব সুন্দর করে ধোঁয়া ছাড়লেন। তারপর লাইটারটা দেখতে লাগলেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। এতটাই নিমগ্ন হয়ে দেখতে লাগলেন যে, একেবারেই ভুলে গেলেন আশকার আলীর কথা।
এই ফাঁকে আশকার আলী চলে গেলেন।


হরিনাথ বাবুকে দিয়ে আসবেন আর উনার শয়তান ছেলেটাকে নিয়ে আসবেন।


৫.
নিজেকে নিঃস্ব মনে হলো আশকার আলীর। জীবনে দুনাম্বারি করে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন বটে কিন্তু আজকে সবকিছু অর্থহীন মনে হলো। তিনি যে রাস্তা থেকে শাঁই শাঁই করে উপরে উঠেছেন হরিনাথ পোদ্দার যেন একটু হাসি দিয়ে সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন।
আশকার আলী চেয়ারে মাথা এলিয়ে দিয়ে পড়ে রইলেন অনেকক্ষণ। স্বস্তি পেলেন না। তারপর পায়চারি করতে লাগলেন। তাতেও স্বস্তি মিলল না।
যেভাবে সিগারেটের প্যাকেট এবং লাইটারটা দিয়ে দিলেন হরিনাথ বাবুকে ঠিক সেভাবে সবকিছু কাউকে দিয়ে দিতে পারলে বুঝি ভালোলাগত।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আশকার আলী। আড়মোড়া ভাঙলেন। তারপর অলস হাতে চাপ দিলেন কলিংবেলে।
পিয়ন দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই জয়দার আলীকে ডেকে পাঠালেন।
জয়দার আলী এল। বলল, ‘স্যার আমাকে ডেকেছেন?’
আশকার আলী বললেন, ‘হরিনাথ বাবুকে তাঁর বাড়ি দিয়ে আসেন।’
‘ওকে স্যার।’
‘হরিনাথ বাবুকে দিয়ে আসবেন আর উনার শয়তান ছেলেটাকে নিয়ে আসবেন।’
জয়দার আলী অবাক হয়ে গোল গোল চোখে আশকার আলীর দিকে তাকিয়ে রইল।
‘আমার কথা বুঝতে পেরেছেন?’
‘জি স্যার।’
‘তাহলে এক্ষুনি বেরিয়ে পড়েন।’


মূল পাতার লিংক : পরস্পর ঈদ আয়োজন ২০২০

(772)

Latest posts by মহিউদ্দীন আহ্‌মেদ (see all)