হোম গদ্য গল্প আমাদের সংসার

আমাদের সংসার

আমাদের সংসার
387
0

আমরা এ বাসায় উঠেছি প্রায় বছরখানেক হলো। আগের বাসাটা বেশি পছন্দ ছিল আমার। অন্ধকার ছিল বেশ। চলতে ফিরতে সুবিধা হতো, নিরাপত্তাও ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। তবু টিকটিকটিকের জন্য এ বাসায় চলে আসতে হলো। আশলে তখন তো আর বুঝি নি নতুন বাসাটা কেমন হতে যাচ্ছে, ভেবেছি মানুষগুলো যখন যাচ্ছে, তখন যাই আমরাও, আর টিকটিকটিকও এমন কান্নাকাটি শুরু করল যে তাকে আর কোনোভাবেই নিরস্ত করতে পারলাম না আমি আর তার বাপ টিকটিক। আমি তার দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে বললাম, ছেলে যখন এত করে চাইছে, তখন আর গোঁ ধরে কাজ নেই, চলো আমরাও যাই। সে-ও রাজি হয়ে গেল অগত্যা। আমাদের তিনজনের সংসারে আমার কথাই চূড়ান্ত বরাবর। অবশ্য টিকটিক না চাইলেও আমাদের অন্তত কিছুদিনের জন্য জায়গা পরিবর্তন করতেই হতো।

মানুষগুলো যখন বাসা পাল্টায় তখন ছেড়ে যাওয়া বাসাটায় ঝাড়পোঁছ চলে, নতুন করে চুনকাম করে, রংচং করে। সে-সময়টাতে ছানা-পোনা নিয়ে গা-ঢাকা দেওয়ার জন্য জায়গা খুঁজতে হয় আমাদের, সে-বড় ঝক্কির কাজ। টিকটিক তাই আর বেশি উচ্চবাচ্য করে নি এ ব্যাপারে তখন। বরং মানুষগুলো যখন তাদের জিনিসপত্তরগুলো বাঁধাছাদা করছিল বাসা পাল্টানোর উদ্দেশ্যে, সে-ও তখন আমার আর টিকটিকটিকের সাথে তাল মিলিয়ে লোকজনের চোখ বাঁচিয়ে জমিয়ে রাখা বই-খাতার সুবিধাজনক চিপায় ঢুকে অপেক্ষা করছিল গভীর উদ্বেগে। তারপর একসময় এ বাসায় চলে এল তারা, আমরাও এলাম। আসার পর থেকেই আমার ভারি মন খারাপ। টিকটিকেরও মেজাজ ভালো নেই।


হঠাৎ তার চোখ গেল আমাদের যুগলবন্দি শরীরে। আহা। তার আর দোষ কী! সে তো বোঝে না রোমান্সের মাথামুণ্ডু।


আজকাল প্রায়ই সে মুখ ভার করে। হঠাৎ হঠাৎই কিচকিচ করে ওঠে, মেজাজ দেখায়। আমারও তখন মাথা ঠান্ডা রাখা মুশকিল হয়ে ওঠে। টিকটিকটিকের বাপটা বরাবরই এমন। বেবুঝ টাইপ। কাণ্ডজ্ঞান কম। সেদিন যেমন ভরদুপুরে বিদ্যুৎ চলে গেল, অমনি তারও মনে রোমান্স চাগিয়ে উঠল। ড্রইংরুমটা বিদ্যুৎ না থাকায় বেশ অন্ধকার ছিল তখন। টিকটিকটিককেও সবে আমি ফ্রিজের পেছনের অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে জায়গাটাতে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি, বসবাসের জন্য এ বাসায় ওটাই উত্তম জায়গা আমাদের, এখন পর্যন্ত। ওখানে প্রচুর মশা আর ছোটছোট পোকা আছে, আমাদের খাবার-দাবারের তেমন ঘাটতি হয় না জায়গাটাতে। তো, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর জায়গাটার অন্ধকার যখন আরো খানিকটা মনোরম হয়ে উঠেছে, যখন টিকটিকটিককে ছেড়ে সবে দুটো মশা মুখে পুরে পুরোনো বাসাটার সেই অন্ধকার পরিবেশটা কল্পনা করে নস্টালজিক হওয়ার চেষ্টা করছি, ঠিক তখন টিকটিকের ডাক কানে এল। টিক! টিক! টিক!

টিকটিক যখন আমার নাম ধরে এমন সুরে ডাকে, তখন আর সাড়া না দিয়ে উপায় কী! সে-সবসময় নাম ধরে ডাকে, তিনবার। আর মনে রোমান্স জাগলে তার ডাকার সুর পাল্টে যায় আমূল। ভরদুপুরে তার ডাকে আড়চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে মশা দুটো পেটে চালান দিলাম চটজলদি। তারপর দেয়াল বেয়ে একছুটে টিকটিকের হাতের নাগালে। বিদ্যুৎ না থাকায় বড় এলসিডি টিভিটা তখন মুখ অন্ধকার করে লেপ্টে আছে দেয়ালে। টিকটিক টিভির আড়াল ছেড়ে বেরিয়ে আমাকে চোখ ইশারায় ডেকে নিল তার কাছে। আমারও মন ভারি উতলা তখন। রোমান্স সবে জমে উঠেছে, ঠিক তখন বেআক্কেলে বিদ্যুৎটা চলে এল হঠাৎ। টিভিতে আলো জ্বলে উঠল, সোফায় বসে এ বাসার একমাত্র ছেলে নোটন টিভি দেখছিল, বিদ্যুৎ না থাকায় সে সেখানে ঝিম ধরে বসে কী একটা করছিল এতক্ষণ, সে-ও বিদ্যুৎ আসায় নড়েচড়ে বসল, আর তারপরই হঠাৎ তার চোখ গেল আমাদের যুগলবন্দি শরীরে। আহা। তার আর দোষ কী! সে তো বোঝে না রোমান্সের মাথামুণ্ডু। আমাদের টিকটিকটিকের মতোই ছোট সে এখনও। সে বড় বড় চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল আমাদের দিকে, আর তারপরই হঠাৎ চিৎকার করে ডাকল মাকে। তার মা কাজ করছিল। ছেলের চিৎকারে দৌড়ে এল। নোটন অবাক, উত্তেজিত গলায় মাকে বলল, মা দেথো! দুইতা তিত্তিতি! ওলা এতসাতে লেদে আতে তেনো? ওলা তী তচ্চে মা?

নোটনের মা ততক্ষণে রান্নাঘর থেকে বড় একটা লাঠি এনে আমাকে আর টিকটিককে আলাদা করার চেষ্টায় ব্যস্ত। নোটনের কথায় তার মন দেওয়ার সময় নেই। কিন্তু আমাদের আলাদা হতে তখনো অনেকটা দেরি। টিকটিকের মেজাজ খারাপ হলো। সে রোমান্সরত অবস্থাতেই কিচকিচ করে আমার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করতে থাকল। কেন মরতে এ বাসায় এলাম, তার ঝাল ঝাড়তে লাগল ইচ্ছেমতো। মেজাজ খারাপ হয়ে গেল আমারও। আমিও মুখ চালালাম সমানতালে। নোটনের মার লাঠির খোঁচা থেকে বাঁচার চেষ্টায়, আত্মরক্ষার তাগিদে ততক্ষণে টিকটিক তার অত সাধের লম্বা আর জাঁকাল লেজটা খসিয়ে ফেলেছে উপায়ন্তর না পেয়ে। দুজনেই ছুটে পালালাম অগত্যা। টিকটিকের লেজটা বড় প্রিয় ছিল আমার। তার লেজের বাহারি সৌন্দর্যেই মূলত তার প্রেমে পড়েছিলাম আমি। তারও মনটা খারাপ হলো খুব। তারচেয়েও বড় কথা, লেজ খসে পড়লে আমাদের নতুন লেজ আবার গজায় বটে তবে প্রথমটার তুলনায় সেটা হয় ছোট আর দুর্বল। প্রতিকূল পরিবেশে তখন আত্মরক্ষাটা কঠিন হয়ে যায় আরো। তাছাড়া আমাদের বছর পাঁচেকের ছোট্ট জীবনে লেজও তিনবারের বেশি গজায় না। ফলে টিকটিক তার সব মন খারাপ নিয়ে গুম হয়ে থাকল কয়েকদিন, আমার সাথে একটা কথা পর্যন্ত বলল না আর, এমনকি টিকটিকটিককে পর্যন্ত সে ধারে কাছে ঘেঁষতে দিল না নিজের।

বেচারা টিকটিকটিক শুকনো মুখে ঘুরল কদিন। এ বাসায় এসে অবধি তারও মন ভালো নেই আর। সে আশলে নোটনের জন্যই এ বাসায় আসার বায়না করেছিল। নোটনের সাথে তার ভারি ভাব। নোটনের খাওয়ায় অনীহা খুব। মুখে খাবার নিয়ে বসে থাকে তো থাকেই। তো, আগের বাসায় থাকতে নোটনের খাওয়ার সময় একদিন টিকটিকটিকের দিকে চোখ পড়ল তার। অমনি সে স্থির, নট নড়নচড়ন হয়ে টিকটিকটিকের নড়াচড়া দেখতে থাকল। টিকটিকটিক তখন আরো অনেক ছোট, সদ্য ডিম ফুটে বের হয়েছে, দেয়াল বা ছাদের সাথে হাত-পা ছড়িয়ে সে যখন হাঁটে, নিচ থেকে তখন তার পেটের নাড়ি-ভুঁড়ি স্পষ্ট দেখা যায়। নোটনের মা খেয়াল করল, আমার ছানার দিকে তাকিয়ে তার ছানাটা দিনদুনিয়া ভুলে গেছে। মুখে খাবার দেওয়ার সাথে সাথে কপাকপ গিলছে নোটন। হাতে যেন স্বর্গ পেল নোটনের মা। এরপর থেকে যখনই তার নোটনকে খাওয়ানোর সময় হয়, তখনই সে গলা তুলে বলে, ওই যে বাবা, ওই দেখ, টিকটিকির ছানা!


বর যখন অফিসে আর নোটন স্কুলে, তখন যে মুশকো লোকটা এসে হাজির হয় এ বাসায়, তার সাথে যে গলাগলি, ঢলাঢলি করতে দেখি, সেসব কী?


বলার সাথে সাথেই নোটন অধীর হয়ে আমার ছোট্ট ছানার জন্য এদিক-সেদিক চোখ ঘুরিয়ে খোঁজে, আর টিকটিকটিকও তখন ফ্রিজের পেছনের অন্ধকার জায়গাটা ছেড়ে আস্তে তার ছোট্ট মুখটা বের করে দেয় সানন্দে। তার ছোট্ট চোখ দুটো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সে নোটন আর তার মায়ের কাণ্ড দেখে, মাঝে মাঝে সে আমাকেও ডাকে তামাশা দেখতে। নোটনের সাথে টিকটিকটিকের ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া এই বন্ধুত্বের টানেই মূলত এ বাসায় আসা আমাদের। আগের বাসায় প্রথম দফায় যে ত্রিশটা ডিম দিয়েছিলাম আমি, সেগুলো থেকে আমি ফোটাতে পেরেছিলাম মোটে তিনটি। তার একটি খেয়ে নিয়েছিল বদমাশ পিঁপড়ের দল, আরেকটি মারা পড়েছিল হঠাৎ ছাদ থেকে পা ফসকে নিচে পড়ে। আমার সবেধন নীলমণি এই টিকটিকটিকের কান্না তাই আমাদের কারোই সহ্য হয় না। নইলে এ বাসায় আসার পর যে ত্রিশটি ডিম ফের দিলাম আমি, সেগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে, একটা ছানা পর্যন্ত ফোটাতে পারি নি উপযুক্ত পরিবেশ আর জায়গার অভাবে।

এ বাসায় আলো হাওয়া বেশি, অন্ধকার কম। আমাদের জন্য বাসাটা যুৎসই নয় একদম। ডিমগুলো নষ্ট হওয়ায় টিকটিকেরও মন-মেজাজ ভালো নেই। একে তো তার বাহারি লেজটার শোক, তার সাথে যোগ হয়েছে অতগুলো ডিম নষ্ট হওয়ার কষ্ট। বেচারা মুষড়ে পড়েছে খুব। তার খুব ছানাপোনার শখ। তা আমারই বা দোষ কী! কত কষ্ট করে ডিম দিলাম আমি, সে-ডিম নষ্ট হলে তার চেয়ে কষ্ট তো আমারই হাজারগুণ বেশি! কিন্তু টিকটিক বরাবরই অমন বেবুঝ। নিজেরটা বোঝে সবসময়। স্বার্থপর একটা। আর নোটনের মারই বা কেমন আক্কেল! তার ছানাটার টানে আমরা পুরো পরিবার সব সুখ-সাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ বাসায় চলে এলাম—আর সে কিনা আমাদের অমন একটা চরম রোমান্সের সময়ে লাঠিসোটা নিয়ে তাড়া করে আমার বরের অমন সাধের লেজটা খসিয়ে দিল! মানুষ এত স্বার্থপর! ছি!

অথচ নোটনের মার কাহিনি তো অজানা নেই কিছু আমাদের! নোটন ছোট, সে না হয় রোমান্স বোঝে না বুঝলাম, কিন্তু তার মা, সে-ও কি বোঝে না? তাহলে প্রায়দিনই তার বর যখন অফিসে আর নোটন স্কুলে, তখন যে মুশকো লোকটা এসে হাজির হয় এ বাসায়, তার সাথে যে গলাগলি, ঢলাঢলি করতে দেখি, সেসব কী? আগের বাসায় থাকতে ভরদুপুরে একদিন ঘুমাচ্ছি আমি আর টিকটিক, ও বাসার রান্নাঘরের উঁচু ঘুলঘুলিতে তখন খুব আরামে ঘুমানোর জায়গা ছিল আমাদের, হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল টুংটাং। টিকটিক মাথা বের করে দেখল খানিক। তারপর আমার দিকে কেমন চোখ রেখে গলায় রহস্য ঢেলে কিচকিচিয়ে বলল, দেখ কাণ্ড! তুমিও কি এমন করো, আমি কোথাও হঠাৎ বেড়াতে টেড়াতে গেলে!

কাঁচা ঘুম ভেঙে টিকটিকের এমন কথার মাথামুণ্ডু না বুঝে আমিও সামান্য মাথাটা বের করতেই লজ্জায় মরে যাই আর কী! নোটনের বাপ নেই বাসায়, নোটনও ঘুমে কাদা, আর এই ফাঁকে কে একটা লোক এসেছে বাসায়। নোটনের মা আর তার সে কী জড়াজড়ি প্রেম! ঘেন্না! ঘেন্না! অথচ আমি! নিজের বরের সাথে একটু প্রেম করছিলাম খানিক অবসরে, তাও কিনা সহ্য হলো না নোটনের মার! কী অমানবিক বিচার-বুদ্ধি গো এই মানুষগুলোর! ছ্যা!

এ বাসায় এসে নোটনের মার রোমান্স আরো বেড়েছে। আগের সেই লোকটা আসে না এখন আর, মুশকো একটা নতুন লোক জুটেছে। তার সাথে তুমুল রোমান্স এখন। আর রাতদুপুরে বরের সাথে আহ্লাদ তো আছেই! টিকটিকটা পাজি আছে। রাতদুপুরে মাঝে মাঝে আমাকে টেনে ঘুম থেকে তোলে সে, বলে, সার্কাস দেখি চলো!

অন্ধকারে ভালো দেখতে পাই আমরা। টিকটিক আমাকে টেনে নিয়ে দেখাতে চায়। আমি সরে আসি। ছি। ওসব কী দেখতে আছে! টিকটিকটিকটা বড় হচ্ছে। না জানি কবে ওর চোখে পড়ে এসব অনাসৃষ্টি কারবার! চিন্তায় আছি খুব।

আমার আবার ডিম দেবার সময় চলে আসছে। পেট ভারী। এসময় সাবধানে থাকতে হয় খুব। চলাচলে কষ্ট হয়। সেদিন রাতে ডাইনিং টেবিলে তুমুল ঝগড়ার শব্দে কান পাততেই শুনলাম, নোটন আর তার বাপের তুমুল বচসা চলছে। কী ব্যাপার, বুঝতে চেষ্টা করছি, টিকটিকটিক ঘুমিয়ে গেছে বেশ অনেকক্ষণ আগে আর তার বাপ টিকিটিক তখন টিভির পেছনের অন্ধকারে তেলাপোকা আর মাকড়সার ছানাপোনা খোঁজায় ব্যস্ত। আমি ঘুমিয়ে গেছি ভেবে সে তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে তিনবার টিক! টিক! টিক! বলে ডাকতেই, আমিও যাব বলে চার হাত-পা বাড়িয়েছি সবে, অমনি নোটনের বাপ বলে উঠল দুম করে, ওই যে! টিকটিকিটাও টিকটিক করে উঠেছে, তার মানে সত্যিই তুই ওই হারামজাদাটার সাথে শুয়েছিস! দারোয়ান তাহলে ঠিক বলেছে! হারামজাদাটা এই বাসায় নিয়মিত আসে!


আস্তে আস্তে সেও মানুষের মতো হয়ে যাবে। মানুষগুলো খারাপ। বড় অকৃতজ্ঞ।


মাগো মা! মানুষগুলো পারেও! টিকটিক কোথায় আমাকে ডাকল তাদের ঝগড়ায় আমোদ পাব বলে, আর লোকটা কিনা তাকে সাক্ষী ঠাউরে নিল! তাদের কাণ্ডকারখানা সত্যিই আজব। আমি আর টিকটিক হেসে গড়ালাম। নোটনের মা আরো আজব। সে এমন ভাব করল তার বরের কথায়, যেন সে হারামজাদা সেই শুতে আসা লোকটার নামমাত্র কোনোদিন শোনে নি! ঠুস করে যেন আকাশ থেকে পড়ল একদম। আর সে কী হাপুস কান্না! মাগো মা! নোটনের বাপই শেষে উল্টে তার হাতে-পায়ে ধরে মাপ চায় পারলে! আমরা হেসে মরি আর কী!

টিকটিকটিকও বড় হচ্ছে এখন। সঙ্গী খুঁজছে সে-ও। এখন আর নোটনের সাথে তেমন ভাব নেই তার। নোটনও এখন পড়াশোনা আর কার্টুনে ব্যস্ত। খাওয়ার সময় আজকাল আর টিকটিকটিকের খোঁজ পড়ে না তেমন। টিকটিকের নতুন গজানো লেজটা আরেকটু বড় হলে, টিকটিকটিকের খাবার জোগাড়ের দক্ষতা আরেকটু বাড়লে এ বাসাটা ছেড়ে দেবো আমরা। ততদিনে আমারও ডিম দেওয়া শেষ হয়ে নতুন ছানাপোনা উঠবে গোটাকয়। এ বাসায় উঠার পর থেকেই অশান্তি। বাসাটা কুফা। লোকগুলো আরো। কী মিথ্যে কথা বলে, ছি! নোটনটা ভালো আছে এখনো। কিন্তু সে-আর কদ্দিন! আস্তে আস্তে সেও মানুষের মতো হয়ে যাবে। মানুষগুলো খারাপ। বড় অকৃতজ্ঞ। মশা খেয়ে, মাছি খেয়ে, তেলাপোকা, মাকড়সা সাবাড় করে এত যে উপকার করি, তবু সুযোগ পেলেই আমাদের পেছনে লাগে। আমার বরের অত সাধের লেজখানা! আহা! না বাপু! আর নয়। আর কটা দিন গেলেই এ বাসার পাট গুটোব। টিকটিকটিকের খিদে পেয়েছে। যাই, কটা মশা-মাছি জোগাড় করি গিয়ে।

(387)

শিল্পী নাজনীন