হোম গদ্য কানাডার কবিতা : বিবর্তনের রূপরেখা

কানাডার কবিতা : বিবর্তনের রূপরেখা

কানাডার কবিতা : বিবর্তনের রূপরেখা
463
0

১৬১৮ সালে কানাডার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ নিউফাউন্ডল্যান্ডে প্রথম গভর্নর হয়ে এলেন রবার্ট হেইম্যান [১৫৭৫-১৬২৯]। ১৬২৮ সাল পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন রবার্ট। প্রথমবার একনাগারে পনেরো মাস অবস্থান করেন ইংল্যান্ড থেকে আসা মেধাবী ও উদ্যমী ওই প্রতিনিধি। পরে শুধু গরমের সময়ে আসতেন। এভাবে দশটি সামারে তিনি নিউফাউন্ডল্যান্ডে অবস্থান করেন। রবার্ট প্রবাসে থেকেও কাজের ফাঁকে কবিতা-চর্চা করতেন বলে তার জীবনীকারেরা বলছেন। ১৬২৮ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল রবার্টের কবিতার বই ‘কুয়োডলিবেটস’। ঐতিহাসিকেরা ওই গ্রন্থটিকেই কানাডীয় সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ বলে বিবেচনা করে থাকেন। এবং সে-বিবেচনাতেই কানাডীয় কবিতার ইতিহাস মোটামুটি চারশ বছরের। ‘জর্জ উডকক’স ইন্ট্রোডাকশান টু কানাডিয়ান পোয়েট্রি’ [টরন্টো, ১৯৯৩] গ্রন্থে বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক জর্জ উডকক [১৯১২- ১৯৯৫] জানান : “‘কুয়োডলিবেটস হোয়াট ইউ উইল’ বইতে কবি আসলে নিউফাউন্ডল্যান্ডের জলবায়ু ও প্রকৃতির প্রশংসা করেছেন এবং এই ভূখণ্ডে অভিবাসী হওয়ার ব্যাপারে প্রথম চার্লসের উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন” [পৃ. ১০]। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা যেতে পারে যে, প্রথম চার্লস [১৬০০-১৬৪৯] ইংল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহণ করেন ১৬২৬ সালে।

‘কুয়োডলিবেটস’-এ মোট চারটি খণ্ড ছিল। সেগুলোতে মোট ৩৫১টি কবিতা ছিল। ছোট ছোট ওই কবিতাগুলোতে যেমন প্রকৃতির কথা ছিল, তেমনি ছিল মানুষের কথাও। নিউফাউন্ডল্যান্ড নিয়ে লেখা হেইম্যানের তেমন একটি কবিতা হলো :

The Aire, in Newfound-land is wholesome, good;
The Fire, as sweet as any made of wood;
The Waters, very rich, both salt and fresh;
The Earth more rich, you know it is no lesse.
Where all are good, Fire, Water, Earth, and Aire,
What man made of these foure would not live there? [Book II, no 79]

45344851_359953044579121_8320373687064723456_n
১৬২৮ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত কানাডীয় সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন রবার্ট হেইম্যান [১৫৭৫- ১৬২৯] রচিত কবিতার বই ‘কুয়োডলিবেটস’-এর প্রচ্ছদ

হেইম্যানের ওই কাব্যগ্রন্থে প্রাকৃতিক প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে। সেগুলোর ভেতর দিয়ে জনজীবনের চিত্র প্রমূর্ত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় খণ্ডের ৮৮ নম্বর কবিতার কথা যদি ধরা যায়। আমরা দেখেছি তিনি নতুন ভূখণ্ডের প্রশস্তি করছেন এই বলে যে, ওখানে কোনো রোগবালাই নেই। তেমন একটি উদাহরণ হলো : ‘Those that liue here, how young, or old soeuer,/ Were neuer vext with Cough, nor Anguish Feauer,/ Nor euer was the Plague, nor small Pox here;…’

বইয়ের কোনো কোনো কবিতার বিষয় ছিল ধর্ম। কোনো কোনোটিতে সামান্য ব্যঙ্গও লক্ষ করা যায়। এপিগ্রামের মতো করে রচিত ওই কবিতাগুলোতে কবির মানবিক উচ্চতা এবং বদান্যতার উপস্থিতি যথেষ্ট স্পষ্ট। তেমন দুটি পঙ্‌ক্তি হলো :

Though my best lines no dainty thing affords,
My worst have in them some thing else then words. [Book I, i]


অনেক গবেষক উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে প্রথম কোনো সৃজনশীল রচনার কৃতিত্ব উইলিয়ামকেই দিতে চান।


আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ১৭৪৯ সালে হ্যালিফ্যাক্স প্রতিষ্ঠার পূর্বে এবং ১৭৬০ সালে কুইবেকে ব্রিটিশ সৈন্যদের গ্যারিসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে পুরো কানাডা অঞ্চলে ইংরেজি-ভাষী অভিবাসীর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। নতুন দেশে বসতি স্থাপনকারী ওই মানুষদের রচিত কাব্যসাহিত্য ছিল কানাডার প্রকৃতি বর্ণনা আর বসতি নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা। উইলিয়াম ভনের [১৫৭৭- ১৬৪১] দ্য গোল্ডেন ফ্লিচ [১৬২৬], বি লেসির মিসসেলেনাস পোয়েমস, কম্পোজড অ্যাট নিউফাউন্ডল্যান্ড [১৭২৯], নামহীন এক কবির নোভা স্কোশিয়া : অ্যা নিউ ব্যালাড [১৭৫০], জে প্যাট্রিকের কুইবেক : অ্যা প্যাস্টোরাল অ্যাসে [১৭৬০], জর্জ কার্টরাইটের ল্যাবরাডর : অ্যা পোয়েটিক্যাল এপিসল [১৭৯২] কর্নওয়াল বেলের কানাডা : অ্যা ডেসক্রিপটিভ পোয়েম [১৮০৬], টমাস ডি কডওয়েলের দ্য নোভা স্কোশিয়া মিনস্ট্রেল [১৮০৯] প্রভৃতি প্রথম দুইশতকে ইংরেজি ভাষায় রচিত কানাডা ভূখণ্ডের কয়েকটি কাব্যপ্রয়াসের নমুনার শিরোনাম। যদিও মনোযোগী পাঠকের চোখে পড়বে যে রবার্ট হেইম্যান এবং উইলিয়াম ভনের প্রচেষ্টার পর এক শতাব্দীকাল পুরোই ফাঁকা।

আগ্রহী পাঠকেরা আরও খেয়াল করে থাকবেন, উইলিয়াম ভনের দ্য গোল্ডেন ফ্লিচ-এর প্রকাশ সাল কুয়োডলিবেটস-এর দুইবছর আগে। আর সে-কারণেই অনেক গবেষক উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে প্রথম কোনো সৃজনশীল রচনার কৃতিত্ব উইলিয়ামকেই দিতে চান। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে এটি প্রমাণিত যে উইলিয়াম কখনও সশরীরে নিউফাউন্ডল্যান্ডে অবস্থান করেন নাই। অন্যের রচনা পাঠ করে বা কথা শুনেই ছিল তার ওই কাব্যপ্রয়াস। ১৬৩০ সালে তিনি নিউল্যান্ডার’স কিওর নামে আরও একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। ‘অরফিউস জুনিয়র’ ছদ্মনামে প্রকাশিত দ্য গোল্ডেন ফ্লিচ-এর কবিতাগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা ছিল। নিউল্যান্ডার’স কিওর গ্রন্থটি যদিও কবির স্বনামেই প্রকাশিত হয়।

এন ব্রায়ান ডেভিস সম্পাদিত দ্য পোয়েট্রি অব দ্য কানাডিয়ান পিপল : ১৭২০-১৯২০ : টু হান্ড্রেড ইয়ারস অব হার্ড ওয়ার্ক [নিউ কানাডা পাবলিকেশন্স, টরন্টো, ১৯৭৬] বইতে এই সময়কালে রচিত কবিতাগুলোকে সংগ্রহ করা হয়েছে। ব্রায়ানের বইটির সুবিধা হলো তিনি বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের রচনাকে আলাদা আলাদা অধ্যায়ে সংকলন করেছেন। ‘সেটলার্স’, ‘লামবারমেন’, ‘ফারমার্স’, ‘ফিসারমেন/সেইলর্স’, ‘মাইনার্স’ ‘আদার ভয়েজেস’ ইত্যাদি শিরোনামে কবিতাগুলোতে উপস্থাপন করায় পাঠকের ধারণা পেতে সুবিধে হয়।

2
১৬২৬ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম ভনের [১৫৭৭- ১৬৪১] দ্য গোল্ডেন ফ্লিচ-এর ভেতরের পৃষ্ঠা। নিউফাউন্ডল্যান্ডে ব্রিটিশ উপনিবেশ প্রতিষ্ঠায় উইলিয়াম ছিলেন অগ্রগণ্য এক ব্যক্তি

কানাডীয় ইংরেজি কবিতার সেই যে শুরু হলো সেটির প্রথম যুগ চিহ্নিত করা হয় ১৮২৫ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় দুইশ বছর। নিউক্লাসিকাল কবিতার প্রভাবে রচিত সে-সময়কার সাহিত্যকর্ম নতুন যুগে পড়ল রোমান্টিক কাব্যধারার প্রভাবে কবিতার রচনা দিয়ে। ১৮২৫ সালে অলিভার গোল্ডস্মিথের [১৭৯৪- ১৮৬১] দ্য রাইজিং ভিলেজ প্রকাশ দিয়ে নতুন সে-যুগের শুরু। গবেষকেরা বলছেন সেটিই ছিল কানাডায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম কোনো ইংরেজিভাষীর পূর্ণদৈর্ঘ্য গ্রন্থ। এই বইটি ইংল্যান্ড ও কানাডা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল—কানাডা সংস্করণটি ইংল্যান্ড সংস্করণের দশ বছর পর। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা যেতে পারে যে, অলিভার স্মিথের রচিত একটি আত্মজীবনীর সন্ধান পাওয়া গেছে মাত্র সেদিন—১৯৪৩ সালে। ‘অটোবায়োগ্রাফি অব অলিভার গোল্ডস্মিথ : অ্যা চ্যাপটার ইন কানাডা’জ লিটারারি হিস্ট্রি’ নামের সেই গ্রন্থটিকেই ঐতিহাসিকেরা প্রথম কানাডীয় আত্মজীবনী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ প্রসঙ্গে আরও জানিয়ে রাখা প্রয়োজন এই অলিভার কিন্তু বিখ্যাত ইংরেজ কবি অলিভার গোল্ডস্মিথ [১৭২৮-১৭৭৪] নন। তবে ইংরেজ অলিভার কানাডীয় অলিভারের দূরসম্পর্কের আত্মীয় বটে। ব্রিটিশ-আইরিশ সেই অলিভারের লেখা দ্য ডেজার্টেড ভিলেজ [১৭৭০] গ্রন্থই কানাডীয় কবিকে দ্য রাইজিং ভিলেজ লিখতে প্রাণিত করেছিল।

দ্য রাইজিং ভিলেজ গ্রন্থের উৎসর্গপত্রে কবি লিখেছেন :

In the RISING VILLAGE I have endeavoured to describe the sufferings which the early settlers experienced, the difficulties which they surmounted, the rise and progress of a young country, and the prospects which promise happiness to its future possessors. [p. x]

৫৮২ লাইনের দীর্ঘ এই কবিতাটি প্রকৃতপক্ষে ইংরেজ কবি অলিভারের দ্য ডেজার্টেড ভিলেজ গ্রন্থের প্রতি-উত্তরের মতো। এই কবিতায় ওই অঞ্চলের ইতিহাস আছে, আছে ইতিহাসের পুনর্নির্মাণ। কবি সেটিকে করেছেন কাল্পনিক কাহিনি-বুননের মধ্য দিয়ে।

এরপর ১৮৪১ সালে প্রকাশিত হয় দীর্ঘ কবিতা ‘দ্য এমিগ্রান্ট’। স্ট্যান্ডিস ও’গ্রেডি [১৭৯৩-১৮৪১] নামে এক আইরিশ বংশোদ্ভূত কবির রচনা সেটি। দারিদ্র্য-পীড়িত সে-কবি ১৮৩৬ সালে কানাডায় অভিবাসন নেন। মন্ট্রিয়লের বাসিন্দা স্ট্যান্ডিসের কবিতায় ফুটে উঠেছে নতুন জীবনের কষ্টের কথা, পুরনো জীবনের প্রতি আকাঙ্ক্ষার কথা। ১৮৬১ সালে একই শিরোনামে আরও একটি দীর্ঘকবিতা প্রকাশিত হয়। সেটির লেখক ছিলেন আলেক্সান্ডার ম্যাকলাচলান [১৮১৮-১৮৯৬]। স্কটিশ বংশোদ্ভূত সে-কবি ১৮৪০ সালে কানাডায় আসেন। ‘এমিগ্রান্ট’ ছাড়াও তিনি ১৮৪৬ সালে ‘দ্য স্পিরিট অব লাভ’ এবং ১৮৭১ সালে ‘পোয়েমস অ্যান্ড সঙস’ প্রকাশ করেন। অভিবাসীর দেশ কানাডাতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নবাগতদের অভিজ্ঞতা নিয়ে এভাবে সাহিত্যেও অন্যান্য শাখার মতো কাব্যধারাটিও পুষ্ট হয়েছে। তবে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই নবাগতের নতুন চ্যালেঞ্জের কথা যেমন ছিল, তেমনি ছিল ফেলে আসা দেশের কথাও। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে সেখানে যুক্ত হয়েছে কানাডীয় ঐক্যের প্রসঙ্গও। সাথে ছিল কানাডীয় জাতীয়তাবোধের আবশ্যিকতা।

3
১৯৪৩ সালে আবিষ্কৃত অলিভার গোল্ডস্মিথের [১৭৯৪- ১৮৬১] আত্মজীবনীর প্রচ্ছদ

১৮২৫ সাল থেকে ১৮৬৭ সালে কানাডা কনফেডারেশন গঠন পর্যন্ত কালে যে-কবিরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে জন হাওয়ার্ড উইলস [১৮০৩- ১৮৪৭], উইলিয়াম এফ হাউলে [১৮০৬- ১৮৫৫] এবং জন হকিনস হ্যাগারতি [১৮১৬- ১৯০০] অন্যতম। সেকালের আপার কানাডা এবং লোয়ার কানাডার সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে তাদের কবিতা হরহামেশাই প্রকাশিত হতে দেখা যায়। মন্ট্রিয়ল গেজেট, মন্ট্রিয়ল হেরাল্ড এবং কোবোর্গ ও টরন্টো থেকে প্রকাশিত ‘দ্য চার্চ’ পত্রিকা ছিল তাদের কবিতা প্রকাশের প্রধান আশ্রয়।

জনের কবিতার বইয়ের নাম ছিল স্ক্রাপস অ্যান্ড স্কেসেস অর দ্য অ্যালবাম অব অ্যা লিটারারি লাউঞ্জার [১৮৩১]।


পাঠকের সুবিধার জন্যে বলে রাখতে চাই, সে-সময়ে রচিত কানাডার কবিতার বিবর্তন বুঝতে মার্গারেট অ্যাটউডের নির্বাচনে দ্য নিউ অক্সফোর্ড বুক অব কানাডিয়ান ভার্স ইন ইংলিশ  একটি ভালো সহায়ক গ্রন্থ।


উইলিয়ামের কাব্যগ্রন্থ হলো কুইবেক, দ্য হার্প, অ্যান্ড আদার পোয়েমস [১৮২৯] এবং দ্য আননোন, অর লেইজ অব দ্য ফরেস্ট [১৮৩১] এবং জন হকিনস হ্যাগারতি [১৮১৬- ১৯০০] রচিত কোনো কাব্যগ্রন্থ না পাওয়া গেলেও পাওয়া যায় তার রচিত অন্য গ্রন্থ। উল্লেখ করে রাখা যেতে পারে যে, ওই সকল বইগুলোর সবকটিই প্রকাশিত হয়েছিল কুইবেকের মন্ট্রিয়ল শহর থেকে। স্ক্রাপস অ্যান্ড স্কেসেস অর দ্য অ্যালবাম অব অ্যা লিটারারি লাউঞ্জার গ্রন্থে ছোটবড় মিলিয়ে মোট চুয়াল্লিশটি কবিতা বা গদ্য ছিল। প্রকাশভঙ্গিতে বইটিকে অনেকটা স্মৃতিকথাও মনে হয়। খুব বেশি ব্যক্তিগত জীবনের কথাতে ভরপুর। কুইবেক, দ্য হার্প, অ্যান্ড আদার পোয়েমস গ্রন্থের ভূমিকায় উইলিয়াম জানিয়েছেন গ্রন্থভুক্ত ‘দ্য হার্প’ কবিতার জন্যে কুইবেকের সোসাইটি ফর দ্য এনকারেজমেন্ট অব আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস কবিকে সম্মানসূচক মেডেল প্রদান করে।

১৮৬৪ সালে অ্যাডওয়ার্ড হার্টলে ডিওয়ার্টের [১৮২৮- ১৯০৩] উদ্যোগে কানাডার কবিতার প্রথম একটি সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে-উদ্যোগের পেছনে প্রধান যে-কারণটি কাজ করেছিল সেটি হলো—পাছে কবিতা হারিয়ে যায়। ‘সিলেকশানস ফ্রম কানাডিয়ান পোয়েটস’ শিরোনামের সে-সংকলনের প্রধান ত্রুটি ছিল অ্যাডওয়ার্ড ১৮২৫ সালের পূর্বে রচিত কোনো কবিতাকে সেখানে স্থান দেন নি। পাঠকের সুবিধার জন্যে বলে রাখতে চাই, সে-সময়ে রচিত কানাডার কবিতার বিবর্তন বুঝতে মার্গারেট অ্যাটউডের [জন্ম ১৯৩৯] নির্বাচনে দ্য নিউ অক্সফোর্ড বুক অব কানাডিয়ান ভার্স ইন ইংলিশ [অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, টরন্টো, ১৯৮২] একটি ভালো সহায়ক গ্রন্থ।

4
১৮৬৪ সালে প্রকাশিত কানাডীয় কবিতার প্রথম সংকলনের সম্পাদক অ্যাডওয়ার্ড হার্টলে ডিওয়ার্ট [১৮২৮- ১৯০৩]

ইতোমধ্যে ১৮৩৭ সালে আপার কানাডা এবং লোয়ার কানাডাতে ইতিহাসের প্রথম যুগান্তকারী বিপ্লব সংঘটিত হয়ে গেছে। কবিতাতেও বিপ্লবের ছাপ পড়তে শুরু করেছে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত সে-আন্দোলনের আগে-পরে বেশ কিছু কবিতা রচিত হয়েছিল যেগুলোতে কানাডীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। সেগুলোর কোনো কোনোটিতে সরাসরি রাজনৈতিক আহ্বান করা হয়। ব্রায়ানের সংকলিত গ্রন্থে ‘টু দ্য ইলেকটরস অব আপার কানাডা’ শিরোনামের একটি কবিতা রয়েছে যেটি আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে আগে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৮৩৬ সালে অন্টারিও-র সেন্ট টমাস শহরের নাম-না-জানা এক কবির কবিতাও রয়েছে যেটির শিরোনাম ছিল ‘লেট’স অল ইউনাইট’। আট লাইনের সেই কবিতাটি এমন—

Up then! For Liberty—for Rights,
Strike home! the tyrants fatter;
Be firm—be brave, let all unite,
And despot’s schemes must alter…

মন্ট্রিয়লের ‘দ্য ভিন্ডিকেটর’ পত্রিকায় ১৮৩৭ সালের এপ্রিলে একটি কবিতা প্রকাশিত হয়। লেখক ছিলেন ভাসা। সেই কবিতার নাম ছিল ‘সঙ অব দ্য প্যাট্রিয়ট’। ১৮৩৮ সালের ‘মেকেঞ্জি’স গেজেট’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘এরাইজ—কানাডিয়ানস’ যেটিতে কানাডার মানুষদের জেগে ওঠার আহ্বান জানানো হয়। যেটিতে অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হবারও তীব্র ব্যাকুলতা প্রকাশ করা হয়। সেই ব্যাকুলতার চূড়ান্ত রূপ মূর্ত হয়ে ওঠে ১৮৬৭ সালে—গঠিত হয় কানাডা নামের একটি দেশ। ক্রমে ক্রমে সে-দেশটির মানচিত্রের পরিসর বাড়তে থাকতে। সে-বছরের ১ জুলাই চারটি প্রদেশকে নিয়ে গঠিত নতুন এই দেশ নতুন প্রত্যয়ে পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে শুরু করে। সে-অস্তিত্বের একটি বড় প্রমাণ বিশাল এই দেশটির সাহিত্য—বিশেষ করে দেশটির বিপুল কাব্যভাণ্ডার। [চলবে]


২য় কিস্তির লিংক

সুব্রত কুমার দাস

উদ্যোক্তা at bangladeshinovels
জন্ম ৪ মার্চ ১৯৬৪; ফরিদপুর। ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর। পেশায় লেখক।

প্রকাশিত বই—

১. কানাডীয় সাহিত্য: বিচ্ছিন্ন ভাবনা [মূর্ধন্য, ২০১৯]
২. শ্রীচৈতন্যদেব [ঐতিহ্য ২০১৮, ২০১৬ (টরন্টো)]
৩. আমার মহাভারত (নতুন সংস্করণ) [মূর্ধন্য, ২০১৪]
৪. নজরুল-বীক্ষা [গদ্যপদ্য, ঢাকা, ২০১৩]
৫. অন্তর্বাহ [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১৩]
৬. রবীন্দ্রনাথ: ইংরেজি শেখানো [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১২]
৭. রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১২]
৮. আলোচনা-সমালোচনা [মূর্ধন্য, ঢাকা, ২০১২]
৯. রবীন্দ্রনাথ: কম-জানা, অজানা [গদ্যপদ্য, ঢাকা, ২০১১]
১০. প্রসঙ্গ শিক্ষা এবং সাহিত্য [সূচীপত্র, ঢাকা, ২০০৫]
১১. বাংলাদেশের কয়েকজন ঔপন্যাসিক [সূচীপত্র, ঢাকা, ২০০৫]
১২. নজরুল বিষয়ক দশটি প্রবন্ধ [সূচীপত্র, ঢাকা, ২০০৪]
১৩. বাংলা কথাসাহিত্য: যাদুবাস্তবতা এবং অন্যান্য [ঐতিহ্য, ঢাকা, ২০০২]
১৪. নজরুলের ‘বাঁধনহারা’ [নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০০]


সম্পাদনা—

১. সেকালের বাংলা সাময়িকপত্রে জাপান (সম্পাদনা) [নবযুগ, ঢাকা, ২০১২]
২. জাপান প্রবাস (সম্পাদনা) [দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, ২০১২]
৩. অগ্রন্থিত মোজাফফর হোসেন (সম্পাদনা) [গদ্যপদ্য, ঢাকা, ২০১১]
৪. কোড়কদী একটি গ্রাম (সম্পাদনা) [কলি প্রকাশনী, ঢাকা, ২০১১]


অনুবাদ—

১. Rabindranath Tagore: India-Japan Cooperation Perspectives [ইন্ডিয়া সেন্টার ফাউন্ডেশন, জাপান, ২০১১]
২. Parobaas (ইমদাদুল হক মিলনের উপন্যাস। অধ্যাপক মোজাফফর হোসেনের সাথে) [অনন্যা, ঢাকা, ২০০৯]
৩. Christian Religious Studies - Class V (এ এস এম এনায়েত করিমের সাথে) [এনসিটিবি, ঢাকা, ২০০৭]
৪. In the Eyes of Kazi Nazrul Islam: Kemal Pasha (অনুবাদ প্যানেলের সদস্য) [সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ২০০৬]
৫. Kazi Nazrul Islam: Speeches (অধ্যাপক মোজাফফর হোসেনের সাথে) [নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০৫]
৬. Kazi Nazrul Islam: Selected Prose [নজরুল ইন্সটিটিউট, ঢাকা, ২০০৪]

এমাজন কিন্ডল এডিশনে বই :

১. Kazi Nazrul Islam: Selected Prose www.amazon.com/Kazi-Nazrul-Islam-Selected-Prose-ebook/dp/B00864ZCLY/
২. Rabindranath Tagore: less-known Facts http://www.amazon.com/Rabindrath-Tagore-Less-Known-Facts-ebook/dp/B008CC3YLA/
৩. Rabindranath Tagore: India-Japan Cooperation Perspective http://www.amazon.com/Rabindrath-Tagore-Less-Known-Facts-ebook/dp/B008CC3YLA/
৪. Worthy Reads from Bangladesh http://www.amazon.com/Rabindrath-Tagore-Less-Known-Facts-ebook/dp/B008CC3YLA/
৫. (Not) My Stories http://www.amazon.com/Not-Stories-Subrata-Kumar-Das-ebook/dp/B00880XDP8

ওয়েবসাইট : www.bdnovels.org
ই-মেইল : subratakdas@yahoo.com