হোম গদ্য ওয়াজের একাল : অল্প কথায়

ওয়াজের একাল : অল্প কথায়

ওয়াজের একাল : অল্প কথায়
833
0

ওয়াজ নসিহতের রমরমা ও নানা রকম কৌতুককর কথাকলি চালাচালির মাঝে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াজের ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন বলে শুনলাম। গত কয়েক বছর ধরে ওয়াজ নিয়ে নানা মহলে হাসি-তামাশা-বিক্ষোভ ও মস্করা যাপনের পর (টিকটক অ্যাপলিকেশানের বিবিধ প্রয়োগে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ। কিন্তু সব কিছুই তো আর সরকারি পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রিত হয় না, হতে পারে না, এমনকি হওয়ার আশা করাও ঠিক নয়। শ্রোতার ধরন ও চাহিদা, রাজনৈতিক চাহিদা-উদ্দেশ্য, বক্তা (ওয়ায়েজিন) এর রুচি-শিক্ষা-অন্তর্দৃষ্টি ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে ওয়াজের ধরন। কিন্তু ওয়াজ বা বক্তৃতা কী কারণে গুরুত্ব রাখে এই সময়ে; সময়ের কথা ঠিক কেন এল এখানে—সেসবও ভাবা প্রয়োজন। প্রথমে সেই দিকেই চোখ দিতে চাই।

ওয়াজ বা সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতা শত শত বছর ধরে বহু দেশেই বহু বক্তা দিয়েছেন। আমাদের উপমহাদেশে যারা আউলিয়া বলে খ্যাত ও অনুসারী রয়েছে যাদের লক্ষ লক্ষ, তাদেরও ওয়াজ করবার ইতিহাস রয়েছে। আউলিয়া বলে প্রসিদ্ধজনদের মাঝে শায়খ আবদুল কাদের জিলানীর কথা সকলেই জানেন। তাঁর করা ওয়াজ এবং সেই ওয়াজের প্রভাব মানুষের ধর্ম চিন্তায় কেমন করে পড়ত তা উল্লেখযোগ্য। আমাদের গ্রামে-গঞ্জেও ওয়াজ বেশ জনপ্রিয়। বহু বছর ধরে গ্রামের মানুষের কাছে এসব ওয়াজ ধর্মকে জানার এক উল্লেখযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গণ্য হয়েছে এতদিন। শহরেও ওয়াজ হয়েছে বহু বছর ধরেই। তবে তার প্রভাব শহরের মানুষের মনে কতখানি ছিল তা গবেষণার বিষয়। কিন্তু মাঠে বসে শোনা লাউডস্পিকার দিয়ে ছড়ানো ওয়াজ একুশ শতকে এসে যখন ওয়েব মাধ্যমে শহরের ও গ্রামের, দেশের ও বিদেশের মানুষের আঞ্চলিক ও ভৌগোলিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও সবার কাছেই পৌঁছতে শুরু করল সমান হারে, তখন কিছু নতুন লক্ষণ দেখা দিল প্রভাবের ও প্রতিক্রিয়ার। কিছু ওয়াজ গরম করে তুলল রাজনীতির উঠান এবং সংবাদ-মাধ্যমের পাতা। সকলেই আলাদা করে গুরুত্ব দিতে শুরু করল ওয়াজগুলোকে। চট্টগ্রামের কোন এক দূর গ্রামের রাতের বেলায় করা এক ওয়াজে বলা ফলের উপমা নিয়ে হাসি-ধিক্কার ইত্যাদি আমাদের বুঝিয়ে দিল যে নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছি আমরা। এখন গ্রামে বসে মৌলভি সাহেবের রাতের ওয়াজ আর কেবলই সেই গ্রামে থাকছে না। বরং আমেরিকায় বসেও সেই ওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন, যিনি চাইছেন তিনিই। যোগাযোগ-মাধ্যম এমনতর সক্ষম হয়ে উঠেছে।


ইসলামের আদি বইগুলোর ধারে কাছে যাবার বদলে বক্তার কথা শোনা মাত্রই গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। কেননা আজকের শ্রোতা বই পড়তে চাইছে না, পারছেও না।


আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতি নানা জ্ঞানের উপকরণ আমাদের সামনে সহজে ও সস্তায় হাজির করে দিলেও কেবলই যা চোখে দেখার ও কানে শুনবার তার দিকেই মানুষের ঝোঁক তৈরি হয়েছে। গত অন্তত এক দশকে বই-নির্ভর জ্ঞান আহরণের চেষ্টা হ্রাস পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ওয়েব ভিত্তিক পত্রিকাগুলোর থ্রি-মিনিট রিড ইত্যাদির দিকে চোখ দিলেই বুঝতে পারবেন যে এখন বই পড়া তো দূরের কথা, সংবাদপত্রের আর্টিকেলও কয়েকশো শব্দের হলেই পাঠক আর নিতে চাইছে না। বরং দৃশ্যগত ও শ্রুতির আঙ্গিক দ্রুতই বেশি পছন্দের হচ্ছে মানুষের কাছে। পাঠকের বিবর্তন আমাদের পাঠকের বিলুপ্তির দিকে নিয়ে এল কিনা তা একটা ভাবনার বিষয়। তবে বিবর্তন একটি বাস্তবতা। সেহেতু এর চরিত্র বুঝতে পারা জরুরি।

আজকের এই ছবি ও ধ্বনির প্রাবল্যের জগতে নীরব চিহ্ন সমন্বয় ও ততোধিক মৌন অক্ষরনিচয় যে মনোযোগ ও ধ্যান দাবি করে তা এখন দুর্লভ হয়ে উঠবে এমন সম্ভাবনাকে মাথায় নিয়ে, ধ্বনি ও চিত্রকে বরং নিজের অনুকূলে কতখানি আনা যায় সেই প্রয়াস নেয়া বেশি জরুরি। যারা লেখা পড়তে অধৈর্য হন, তারা অন্তত কার বক্তব্য শুনবেন তা নির্ধারন করতে পারেন। ওয়েব মাধ্যমের প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তথা দিশা না হারিয়ে নিজের মোকাম ঠিক করতে পারবে শ্রোতা ও দর্শক এবং সেখানেই এই প্রবল মাধ্যমের ওপর তার বিজয় ঘটবে এমন আশা রাখতে হবে।

ওয়ায়েজিনের বক্তব্যে কী ধরনের প্রভাব পড়বে পাঠ-বিমুখ শ্রোতার ওপর সেই ভবিষ্যতের আভাস পাই পরিপার্শ্বে চোখ রেখে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত একটি বড় অধ্যয়নকারীর দল ভালো করে না বুঝেশুনেই উইকিপিডিয়াকেই তাদের মূল সূত্র বলে উল্লেখ করতে শুরু করেছিলেন। ওয়েব তথা ইন্টারনেট-মাধ্যম সুলভ ও সস্তা হয়ে উঠে তা পাঠকদের হাত থেকে নেমে গেছে ব্যবহারকারী তথা কনজিউমারের হাতে। এসেছে ফেইসবুক ও ইউটিউব প্রকারের সামাজিক যোগাযোগ ও প্রচার-মাধ্যম। বাজারের লাউডস্পিকারের প্রচারের মতোই এদের চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যবহারকারীর চরিত্র অনুসারে। বস্তুত বাজার-অর্থনীতির কিছু উদ্ভট প্রকাশ এসব। কাদা মাখানো কাঁচা বাজারের পাশে ঔষধ বিক্রেতার চিৎকারের মতো অনেক আওয়াজ চলছে এই দুই মাধ্যমে। যথারীতি আওয়াজে কথা বিক্রিও হচ্ছে। ধর্ম-অনুসারীদের অনেকেই জাদুই হাতসাফাইয়ের ফাঁদে পড়ার মতোই এসব মাধ্যমে প্রচারিত জাদুর ফাঁদে পড়ছেন—এক ক্লিকেই বেহেস্ত-দোজখ-হারাম-হালাল-জায়েজ-নাজায়েজ-সহিহ-জয়িফ-বেদাত সব সূত্র ধরা দিচ্ছে। ফেইসবুকে যখন বছরখানেক পূর্বে ভিডিও প্রচারের হার বাড়তে থাকল তখন এই জাদু হয়ে উঠল নিত্য ঘটা বিস্ফোরণের মতো। বিস্ফোরণের অভিঘাতে প্রথমে ধাক্কা খেল উপমহাদেশের সেইসব মানুষ যারা শত শত বছর ধরে চলে আসা ধর্মীয় রীতি পালন করে আসছিলেন—যখন তারা দেখল মিডিয়াগুলো দখল করেছে এমন একটি গোষ্ঠী যারা কয়েক শতকের ধর্মীয় রীতিকে নস্যাৎ করতে চাইছে। নামাজে যেয়ে এদের অনুসারীদের কাছে নিত্যই আক্রমণের শিকার হলেন অনেকেই। কোনটা সহিহ আর কোনটা বেদাত এই ফাঁদে গোলক ধাঁধাঁয় পড়ে গেলেন তারা—কেননা তাদের নিজেদের পড়ালেখাও বিশেষ জোরালো নয় যতটা জোরাল তাদের চর্চা। প্রতিক্রিয়াস্বরূপ আক্রমণকারীকে তারা নাম দিলেন ‘ইউটিউব মাওলানা’। মনে পড়তে পারে শায়খ হামজা ইউসুফ কথিত ‘শায়খ গুগল’ অভিধাটি। অর্থাৎ কেউ ধর্ম বিষয়ে কিছু জানতে চাইলেই শায়খ তথা শিক্ষকের কাছে ধর্না দেয়ার মতো করে সার্চ এঞ্জিন গুগল-এর শরণাপন্ন হচ্ছেন বলে শায়খ হামজা ইউসুফ এই তকমা দিলেন গুগলকে। তেমনি উপমহাদেশে আরও নিচে নেমে ফেইসবুক ও ইউটিউব তথা যেখানে তথ্য সূত্র দেবার কোনো ন্যূনতম দরকারও পড়ে না সেসব মাধ্যমে লোকে ধর্ম শিখতে চাইল। তার ওপর হাজির হলো দেশি ওয়াজের পুরনো ধারায় শ্রোতাকে বিনোদন দেয়ার নতুন প্রচেষ্টা। ওয়ায়েজিনকে দেখা গেল চেয়ারে লাফিয়ে উঠে কৌতুক অভিনেতার মতো লোক হাসাচ্ছেন, জনপ্রিয় গায়ককে নকল করছেন অঙ্গভঙ্গি সমেত; স্বদেশি উৎসব পার্বণের আগমনীকে ব্যঙ্গ করা এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা করা তো নতুন কিছু নয়। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে বক্তাদের কেউ কেউ ইউটিউবে তাদের অনুসারী কেন গায়কদের মতো বাড়ছে না এই নিয়ে আক্ষেপ করছেন। অর্থাৎ এই প্রচার-মাধ্যমটিকে তারা বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইউটিউবে ও ফেইসবুকে ওয়াজের চ্যানেল, পেইজ ও গ্রুপের সংখ্যা নিরুপণ করা হয়তো এখন আর কারও সাধ্যেই কুলাবে না। ওয়ায়েজিন যা কিছু বলছেন তা এখন শুনছে কেবল মাঠের কয়েক শত বা হাজারখানেক শ্রোতা নন, বরং ভিডিও প্রকাশিত হওয়া মাত্রই কয়েক লক্ষ দর্শক। লাফালাফি, ব্যঙ্গ, বিদ্বেষপ্রসূত বিরোধিতার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে সূত্রের উল্লেখবিহীন সব ধর্মকথা। ইসলামের আদি বইগুলোর ধারে কাছে যাবার বদলে বক্তার কথা শোনা মাত্রই গ্রহণ করার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে। কেননা আজকের শ্রোতা বই পড়তে চাইছে না, পারছেও না।


যৌনতার ভেতর-বাহির নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন মাহফিলে তোলা হয় তা থেকে আপনি শ্রোতার ধরন এবং বক্তার ধরনও বুঝতে পারবেন।


কিছু ওয়াজ-মাহফিলে শ্রোতাদের প্রশ্ন শুনে আপনি ধারণা করতে পারবেন তাদের শিক্ষার মান ও রুচির ধরন। তাদের মুখ্য ‘শিক্ষণীয়’ বিষয় যৌনতা, নারীদের নিয়ন্ত্রণ, বেহেশতের আরাম-আয়েশ-ইন্দ্রিয়সুখ ও দোজখের শাস্তির ভয়। যৌনতার ভেতর-বাহির নিয়ে যে ধরনের প্রশ্ন মাহফিলে তোলা হয় তা থেকে আপনি শ্রোতার ধরন এবং বক্তার ধরনও বুঝতে পারবেন। কেননা হারাম-হালাল-রাজনীতি ইত্যাদি কথায় শ্রোতাকে উত্তেজিত করা ছাড়া বক্তা তেমন কিছু দিতে সক্ষম হন না বলেই শ্রোতার তরফে এমন প্রশ্ন উঠবার অবকাশ ঘটে। কাজেই এই শ্রোতাদের একটি বড় ও উল্লেখযোগ্য অংশ এই বিনোদন কিংবা কুরুচিকর প্রশ্ন শুনতে, করতে ও দেখতে মাঠে যাবার দরকারও পড়ছে না, কেননা ফেইসবুক এবং ইউটিউব তাকে ঘরে বসেই সেবা দিয়ে ফেলছে। কেনই-বা দেবে না, যত বেশি দেখবেন ভোক্তা ততই ইউটিউব ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন পাবার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। বাড়ছে যে তা ইউটিউব ফেইসবুকে চোখ রাখলেই দেখতে পাই।

তবে চিত্রটা কি সর্বত্রই এমন হতাশাজনক? আসলে তা নয়। সীমিত পরিসরে হলেও কিছু বক্তা উপমহাদেশে এবং এর বাইরের দেশগুলোতেও আছেন যারা উপরে উল্লিখিত ওয়াজের চরিত্রের বাইরে অবস্থান নিয়েছেন। তারা ধর্মের মূল বিষয়গুলো, আধ্যাত্মিকতা, শরিয়তের মূল ব্যখ্যা, কেন শরিয়ত ও আধ্যাত্মিকতা একই পথে চলবে সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। আরও যা ভালো তা হচ্ছে তাঁরা বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করছেন। মুসলমানদের সংকটকে ও দিশেহারা অবস্থাকে একেকজন বক্তা একটি মাত্র বাক্যে ধরতে পারছেন। উদাহরণ দিতে পারি তারিক জামিল, তারিক রামাদান, হামজা ইউসুফ, আবদুল হাকিম মুরাদ, উমর ফারুক আবদুল্লাহ, ওমিদ সাফি, ডক্টর তাহিরুল কাদরী, শায়খ হাশিম কাব্বানি, হাবীব আলি জিফরি-র মতো শিক্ষিত বক্তাদের কথা। এদের বড় অংশটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। ওনাদের ওয়াজ কিংবা বক্তৃতা শুনলে বোঝা যায় কতটা জ্ঞান রাখেন তাঁরা বিবিধ বিষয়ে। ধর্ম, সাহিত্য, আধুনিকতা ও এর সংকট, অর্থনীতির সংকট, পাশ্চাত্য এবং ভারতীয় দর্শন ও ধর্ম বিষয়ে তাদের জ্ঞান গভীর। জাতীয়তার ধারণাকে তাঁরা শ্রদ্ধা করেন, সহনশীলতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন, কুরআনের সাহিত্যিক ও শাব্দিক সংগঠনকে শ্রোতার চোখের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যে শ্রোতা অধিকতর পাঠে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। গত প্রায় এক দশক ধরে সিরিয়া ও ইরাকে উগ্রপন্থি হন্তারকদের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য এত দৃঢ় ও ধর্মভিত্তিক ছিল যা মুসলমানদের বিষয়ে বিশ্ববাসীকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। মনে করে দেখুন হামজা ইউসুফের ‘আইসিস ক্রাইসিস’ শিরোনামের সেই খুৎবা, অথবা বিবিসি টেলিভিশনের হার্ড টক শিরোনামের অনুষ্ঠানে তিনি কেমন করে মুসলমানদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। কিংবা প্রেসিডেন্ট বুশ ৯/১১ হামলার পর যখন তার কাছে বুঝতে চেয়েছেন মুসলমানদের মনোভাব—সেসব কথা ভাবুন। আবদুল হাকিম মুরাদ তো কেইম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, যিনি যিশু খ্রিস্ট ও ঈসা আলাইহিস সালাম বিষয়ে রেডিওতে প্রগাঢ় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তারিক জামিল সম্প্রদায়গত ভেদ দূরে রেখে ওয়াজ করেন। যেমন করেন তাহিরুল কাদরিও। আশা জাগানিয়া কথা হচ্ছে এদের শ্রোতার সংখ্যা ধীরে হলেও বাড়ছে। যেহেতু এই বক্তাগণ বারবার করে বই পড়বার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠানসমূহে বই পড়াচ্ছেন, ক্লাসরুম বক্তৃতাগুলোও দিচ্ছেন ইউটিউবে। আমরা কি এমন আশা রাখতে পারি যে, ওয়াজ থেকে, ভাষণ থেকে সুপথ পেতে আবার শুরু করবে শ্রোতারা? আমি আশা রাখি। আরও বেশি করে আশা রাখি, কারণ আমার নিজ দেশের ওয়ায়েজিনদের মাঝেও অল্প হলেও এমন বক্তা তৈরি হচ্ছেন। তারা জোর কণ্ঠে ইসলামের মূলধারার কথা বলছেন। অনেক অন্ধকারে পিলসুজের বাতি জ্বলছে বলেই আশা রাখি একদিন এই আলো বাড়বে। শ্রোতা হিশেবে আমার ও আপনার দায়িত্বের কথাও মনে রাখি চলুন। সুবক্তার সাথে থাকি।

তানভীর মাহমুদ

তানভীর মাহমুদ

জন্ম ৯ অক্টোবর, ১৯৮০, ঢাকা। ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অপরাধতত্ত্ব ও বিচার-এ এমএসএস।
পেশা : চাকরি।

প্রকাশিত বই : প্রতিবিহার (কবিতা)

ই-মেইল : editor.hansadhani@gmail.com
তানভীর মাহমুদ