ধানশি : ৫

ধানশি : ৫
269
0
৪ পর্বের লিংক

পর্ব- ৫

১২.
যেখানে সে মাটি খুঁড়েছে, মাটিতে তার রক্ত ঝরেছে, সেই জায়গাটা খুঁজে পেতে প্রায় দুদিন লাগে। সে চক্রাকারে ঘুরেছিল। কিছুটা পেছনের দিকে হেঁটে আগে-পিছে গিয়ে অনেক কষ্টে গর্তটা খুঁজে পেয়েছে।

কতবার ছাইয়ের ঢিবিতে হোঁচট খেয়েছে, কতবার মাথা ঘুরে পড়েছে তার কোনো হিসাব নেই। ক্ষতবিক্ষত সারা গা, ছাইয়ে মাখামাখি। কিছু কিছু জায়গায় ছাই ভিজে গিয়ে রস বেরিয়েছে। ফোঁটা ফোঁটা পড়ছে। তাকে দেখতে লাগছে ভুতের মতো।

অনেকবার হাউমাউ করে কেঁদেছে। তার মনে হয়েছে সময় চলে যাচ্ছে। ধান যদি মরে যায়! এই চিন্তায় খুব অস্থির হয়ে গিয়েছিল।

এত বিপর্যয়ের মধ্যেও মনোবল হারায় নি। ধানটা পাওয়ার পর তার কী যে হয়েছিল, বলতে পারবে না। মনটা বড় দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোনো কিছু পেলে হারানোর ভয় চলে আসে। সেও ভীত হয়ে পড়েছিল। ভয় থেকে শঙ্কা। সে বরফের মতো গলে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল ছাইয়ে মিশে যাবে।

একটা চড় খেলেই মরিয়ম যেভাবে কেঁদে দুই চোখ ভাসায়, ওর অবস্থাও হয়েছে অনেকটা তেমন। তবে চোখে পানি আসছিল না। পানির ধারা প্রায় শুকিয়ে গেছে।

মাটির কাছে আসতে আসতে উপুড় হয়ে পড়ে যায়। এরকম ছিল প্রায় কয়েক ঘণ্টা। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। বুকের মধ্যে কে যেন বাঁধ দিয়ে রেখেছে। গভীর ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠেছে—এমনভাবে উঠে বসল। তারপর কী করতে হবে ভুলে যায়। অনেকক্ষণ পর মনে পড়ে, তার হাতে একটা ধান। ধানটা রোপণ করতে হবে।


মাটিতে সে হাত বুলায়। বলে, তুই আমার রক্তে, ঘামে মাখা। আমাকে বাঁচাবি, আমার মান রাখবি।


বুড়ির মনে পড়ে গত রাতের স্বপ্নের কথা। খুব সুন্দর একটা রেলগাড়ি। চড়েছে রেলের ছাদে। এই গাড়িতে সে একমাত্র যাত্রী। হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে আছে। একসময় দেখে, গা থেকে কাপড়-চোপড় উড়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টিতে ভিজে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম থেকে উঠে দেখে, দুই পায়ের ফাঁকে গজিয়েছে একটি লতা। লতার আগা মুখ নাড়ছে। মানে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। মুখ বাড়িয়ে তার দিকেও তাকাল।

স্বপ্নের কথা মনে পড়ায় লজ্জা পায়। মাটি মুচড়ে চালের গুঁড়ির মতো করে। শাড়ির ছেঁড়া অংশটা কুড়িয়ে পেয়েছিল চেতনা আসার বেশ কয়েকদিন পর। রাতে এতে শিশির জমা করে। সেটা এখনো ভেজা। চেপে একটুখানি পানি বের করতে পারে। মাটি তা গাপুস করে গিলে ফেলে।

মাটিতে সে হাত বুলায়। বলে, তুই আমার রক্তে, ঘামে মাখা। আমাকে বাঁচাবি, আমার মান রাখবি।

আদিম দুনিয়ায় মানুষ যেভাবে বসত, বুড়ির বসা অনেকটা সেরকম। পরনে কিছু নেই। সারা গায়ে ঘা। ঘা বাঁচিয়ে, হাতের যে অংশটা পরিষ্কার, সেই অংশ দিয়ে ধানটা রোপণ করে। মাটি, আশপাশ আর আকাশে চোখ বুলায়। আশায় চকচক করে চোখ দুটি।

১৩.
ধানটা রোপণ করার পর বুড়ির মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসে। অপেক্ষা কঠিন। অপেক্ষার সময় অস্থিরতা থাকে। তার মধ্যে শান্তি শান্তি ভাব, পাশাপাশি উৎকণ্ঠাও তৈরি হয়। ধানটা কি বাঁচবে!

সকালে সে তীব্র চোখে ধান রোপণ করা মাটির দিকে তাকায়। চোখে চোখে রাখে। বলে, মাটি পেয়ে তুই তো কলকলিয়ে হেসেছিস। আমি তোর হাসির শব্দ শুনেছি। বেশি দেরি করিস না। তাড়াতাড়ি জেগে উঠ। তোর সঙ্গে অনেক কথা আছে। আমাকে তোর বাঁচাতে হবে।

মাটিতে বাজে একটা গন্ধ। তাতে হয়তো ধানের মন খারাপ।

বুড়ি জিজ্ঞেস করে, তোর কি মনে আছে?

ধান বলল, কী?

ওমা! মনে নেই সেই কথা। ওই যে গাছেরা একে অন্যের সঙ্গে গল্প করে, সুখ-দুঃখের কথা বলে। একে অপরের কাছ থেকে খাবার-দাবার ধার নেয়, অসুখ হলে পরামর্শ নেয়।

ধান মুচকি হাসে।

বুড়ি মন খারাপ করে বলে, এখানে তো কোনো গাছ নেই। তোর দরকার হলে তুই আমাকে বলবি। যেভাবেই হোক তোকে ফুটে উঠতে হবে। তুই তো এখন লুকোচুরি খেলার খেলোয়াড়। ‘কুলুক’ বলে তোকে লুকিয়েছি। ‘ওয়া’ বলে তুই মাটির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসবি। আমরা জিতে যাব।

আচ্ছা, তোর মা-বাবার কথা, দাদা-দাদির কথা মনে আছে? তারা কী কথা বলত মনে আছে?

ধান হয়তো তখন মাটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানোর চেষ্টা করছে। তার কাছ থেকে প্রাণের একটি অংশ খুঁজে পেতে চাইছে। তাই সে বুড়ির কথা শুনতে পায় না।

সে কিছু মনে করে না। বলে, তুই হয়তো বলবি, মহিলাটা সারা দিন বকর বকর করে। ও খায় কী? শোন, বেঁচে থাকার জন্য মানুষ একটা উপায় বের করে নেয়। আমিও নিয়েছি।

ধান তার দিকে তাকিয়ে থাকে।

সে বলে, একটা পথ বের করেছি। শাড়ির একটা অংশ খুঁজে পেয়েছিলাম। ওটাতে ছাই লাগাই না। রাতে ঘুমানোর সময় দলা করে এক জায়গায় রেখে দিই। সকালে দেখি শিশিরে ভেজা। কী করি জানিস? উল্টে পাল্টে ভেতর থেকে ছাই নিই। দলা করে মুখে পুরি। ছাই গিলে ভেজা কাপড়টা চিবাই। একটুখানি পানি পাই। কোনো কোনো সময় মাত্র এক ফোঁটা, দুই ফোঁটা পেয়েছি।


‘মরার ছা মরা’ বলে দুনিয়াকে গালি দেয়; এই ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতাকে গালি দেয়।


গভীর রাতে থরথর করে কাঁপে। কাঁপতে কাঁপতে ঘুম ভেঙে গেল। এত ঠান্ডা কোত্থেকে আসছে? আকাশে এক ফোঁটা আলোও নেই। পূর্ণিমা-অমাবস্যা সব তো উলট-পালট হয়ে গেছে।

আস্তে আস্তে ছাইয়ে ঢুকে যেতে থাকে। ছাই দিয়ে পুরো শরীর ঢেকে ফেলে। মাথাটা শুধু খোলা। শাড়ির ছেঁড়া অংশটা দিয়ে মুখ ঢেকে নেয়।

ঘুম থেকে উঠে দেখে মুখটা ভেজা। শাড়িতে বরফ। জোনাকি পোকা জ্বললে যতটুকু আলো বের হয়, বরফের আকার ততটুকু। সে মরিয়মের বলা ছড়ার মতো বরফ নিয়ে গাপুস গুপুস খায়। মরিয়ম গায়, বৃষ্টি পড়েছে/ আকাশ খুলেছে। নেচে নেচে গাওয়া ওই দুটি লাইন শুনতে পায়।

সকালে ধানের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। ধানকে জিজ্ঞেস করে, মরিয়মের কথা তোকে বলেছিলাম? আমার নাতনি। ওর উপরের পাটির সব দাঁত পোকায় খাওয়া। নিচের কয়েকটা পড়েছে। দাঁত ফেলতে খবর হয়ে গিয়েছিল। সে কী কান্নাকাটি! কয়েকটি বড় দাঁত উঠেছে। ওগুলোও খাওয়া শুরু করেছে। এগুলো পড়বে দশ-বারো বছরের দিকে। তাই ফিলিং করতে হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা।

এখন কি হয়েছে জানিস? দাঁত নিয়ে কোনো কথা বলা যায় না। বললেই সে রেগে যায়। সারা দিন পড়ে থাকে টিভি নিয়ে। কার্টুন দেখে, সিরিয়াল দেখে, প্রাণীরাজ্য দেখে। বাঘ, সিংহ, কুমির বা সাপ দেখালে আমাকে টেনে নিয়ে যায়। তুইও কি মরিয়মের মতো শুরু করেছিস? তোকে কি কেউ খেয়ে ফেলবে? কেন তুই আসতে চাচ্ছিস না?

শোন, পরশু স্বপ্ন দেখলাম।

তার মনে হলো গাছ সাড়া দিচ্ছে না।

তোর জানতে ইচ্ছে করছে না কি রকম স্বপ্ন! স্বপ্নে দেখলাম, তুই কান্নাকাটি করছিস। বলছিস, দুনিয়ায় আমি যাব না।

আমি জানতে চাইলাম, কেন?

তুই বললি, খারাপ জায়গায় যেতে ইচ্ছে করছে না।

১৪.
প্রায় চার-পাঁচ দিন হয়ে গেল। এখনো কোনো খবর নেই। তিন-চার দিনেই তো ধানে গেঁজ আসে। ছাই আর দুর্গন্ধযুক্ত বাতাসের কারণে ধানটা মাটিতে না রেখে রোপণ করেছে। উপরে রাখলে ছাইয়ের সঙ্গে মিশে হারিয়ে যেত। বুড়ি চিন্তায় পড়ে। ধান কি মরেই গেল!

সে অনেকক্ষণ চেয়ে থাকে মাটির দিকে। অঙ্কুরোদগমের কোনো লক্ষণ নেই। তার খুব মন খারাপ হয়। একটু পর তা রাগে পরিণত হয়। ‘মরার ছা মরা’ বলে দুনিয়াকে গালি দেয়; এই ধ্বংসস্তূপ আর শূন্যতাকে গালি দেয়। বেঁচে কেন আছে, নিজেকেও গালি দিতে ছাড়ে না। নিজেকে বলে, মরে গেলে এতদিন তোর হাড্ডি-মাংস পচে যেত। কোনো খবরই থাকত না।

আকাশের দিকে তাকায়। আকাশের আড়ালে যেন কেউ লুকিয়ে আছে। তার কাছে কৈফিয়ত চাইবে। নিজের হাতের দিকে চোখ যায়। হাতের চামড়া কুৎসিত। কেউ ঘা আর কালি একসঙ্গে মেখে দিয়েছে।

বাতাসে কিছু ছাই ওড়ে। তার রাগও আস্তে আস্তে পড়ে আসে। ধান যেখানে রোপণ করেছে তার পাশে হাত বুলায়। বলে, আজ তোকে একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে।

তার মনে হলো, ধান কৌতূহল ভরে জিজ্ঞেস করছে, কী?

সে বলল, মানুষের সঙ্গে মানুষ, পরস্পরের যে আনন্দ, সেখান থেকে আসে নতুন মানুষ। আমার পেটে যখন মকবুল আসে, আমার চাচি শাশুড়ি বলেছিল, গাছ ফাটছে। ওখান থেকে গাছ বেরুবে।

আনার ফেটে গেলে কেমন হয়? আর কাঁঠাল বিচি? তুই ওভাবে বেরিয়ে আয়। এসে আমাকে একটা গল্প শোনা। তোকেও আমি বলব, আকাশে একটা পাখি থাকে, পাখিটার গল্প বলব।

বুড়ি কবিরাজের কথা ভাবে। লোকটা সব সময় আমুদে থাকতে পারত। বলত, বুঝলে বউ, মানুষ হলো বিদ্যুৎ। কেউ না কেউ তাকে ঠিকই জ্বালিয়ে দেয়।

কবিরাজ আমার মধ্যে একটা পাখি ছেড়ে দিয়েছিল। ও ভাবে। আর দিয়েছিল কিছু গাছ, গাছের গন্ধ। বুঝলি ধান, তোর মনেও কিছু গন্ধ ছড়িয়ে দিতে চাই। তুই একটু স্বপ্ন দেখ। তোর জন্য কোনো সঙ্গী খুঁজে নে। এরপর স্বপ্ন ফুটবে। বেরিয়ে আসবে পাতা। আমি নতুন পাতার গন্ধ শুঁকব। তুই মরিয়মের মতো দাদু, দাদু বলে দুনিয়ার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়বি।


শরীরটা বাতাসের মতো নরম। মনে হচ্ছে ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে। হাত নেই, পা নেই; মাথা, পেট কিছুই নেই।


গাছ আজ তার কথা শুনছে কিনা বুঝতে পারে না। তার মনও খুব অস্থির। সে বলে, বিয়ের পরপর; একদিন ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগ মুহূর্তে কবিরাজ আমাকে চুমু খেতে চায়। তার গোঁফ লাগে আমার নাকের ছিদ্রে। হ্যাঁচ্চো—এমন আমার হাঁচি, দুজনেই চমকে উঠি। তারপর হাসতে হাসতে আমাদের চোখে পানি চলে আসে।

আমি জিজ্ঞেস করি, তুমি আমায় কেমন ভালোবাস?

কবিরাজ এক মুহূর্ত চুপ থাকল। মিষ্টি হেসে বলল, কচুপাতার পানির মতো।

মানে!

তুমি জানো না, ভালোবাসা বাড়ে-কমে! কখনো খুব গাঢ় হয়, কখনো পাতলা।

আমি বলি, তোমার কথা ঠিক হচ্ছে না। মানুষ অন্যরকম। মানুষ যদি ভালোবাসে, কম হোক, বেশি হোক ভালোবাসাটা তার মনে লেগে থাকে। কিন্তু কচুপাতায় লাগে না।

তখন কবিরাজ কী করেছে জানিস? থাক, বলতে লজ্জা লাগছে।

ধানকে সে বলে, আমার কবিরাজ ধানচাষ করত। ধানের সাথে কত মাখামাখি! কই, কখনো এমন অনুভব করি নি।

ধান হয়তো কিছু বলে না।

সে মাটিতে হাত বুলায়। বলে, মাটি তুই কেমন করে এমন দূষিত হলি? মাটি তার ছোঁয়ায় পুলকিত হয়। সে বুঝতে পারে।

বলে, সময়টা এখন বিষ। সে চোখ বন্ধ করে। তার সামনে এক খণ্ড জমাট অন্ধকার। সেখানে ডুবে যাচ্ছে। ডুবে যেতে যেতে উঠে দাঁড়ায়। শরীরটা বাতাসের মতো নরম। মনে হচ্ছে ক্ষুদ্র হয়ে যাচ্ছে। হাত নেই, পা নেই; মাথা, পেট কিছুই নেই।

‘নেই’টা বাতাসে মৃদু দুলছে। নাগরদোলায় দোল খেয়ে উপরে ওঠা নয়, মহাকাশে বিজ্ঞানীরা যেভাবে ভাসে, অনেকটা সেরকম। সে টিভিতে দেখেছিল।

তবে নিজেকে সে দেখে না। ‘না দেখা’ সে আস্তে আস্তে ছাইয়ের কণার মতো হয়ে ছাইয়ের সঙ্গে মিশে যায়। ছাইয়ের টিকে থাকা, ছড়িয়ে থাকা বোঝে। ছাইকে চিনতে পারে। বুঝতে পারে এ ছাই ছাই নয়, এখানে আছে জীবনের শুকিয়ে যাওয়া রস।

বুড়ি ঘুমিয়ে পড়ে। ছাইয়ের কণার মতো ক্ষুদ্র হয়ে ঘুমায়। আখের রস থেকে যেমন গুড় বা চিনি হয়, তার মনে, শরীরে তেমন কিছু একটা তৈরি হতে থাকে। সে নিজেকে চিনতে পারে। তার খুব আনন্দ হয়। ঘুমের মধ্যে ফেরেশতারা শিশুদের খাবার দেয়। খাবার পেয়ে তারা হাসে। সেও তেমন হাসে; সন্তুষ্টির হাসি।


৬ পর্বের লিংক
জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি, ১৯৭৪; হাটহাজারীর ধলই গ্রামে। নিজ গ্রাম ফটিকছড়ির পূর্ব ফরহাদাবাদ, চট্টগ্রাম।

পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই—

খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]
অন্যজন [উপন্যাস, বাতিঘর, ২০১৮]

শিশুদের বই :
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)