ধানশি : ১৩

ধানশি : ১৩
189
0
১২ পর্বের লিংক

৩৭.
শরীরে পিড়পিড়ানি। বুড়ি টের পাচ্ছে, সেই যন্ত্রণা আবার আসছে। একটু পর সারা শরীরে তীব্র চুলকানি শুরু হবে। এই চুলকানিকে তার বড় ভয়। আর সওয়া যাচ্ছে না। হাত নিশপিশ করছে। এখনই চুলকাতে হবে।

তার কান্না আসে, তীব্র বেগের কান্না। এই কান্নায় যদি সব ঘা মুছে যেত! সে চুলকায় আর ছাইয়ের স্তূপে গড়াগড়ি খায়। হাউমাউ করে কাঁদে। নিজের শরীর ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলতে চায়। অনেকক্ষণ পর চুলকানির তেজ কমে আসে। হাতের শক্তিও ফুরায়।

তখন মনে পড়ে, এ বছর আশ্বিন মাসে কচুপাতায় পানি জমে থাকার মতো বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকদিন লাগাতার বৃষ্টি। শেষের দিন অঝোর ধারায় ঢেলেছে। সন্ধ্যায় একটু থামল। শত শত ব্যাঙ একসঙ্গে ডাকছে। জোনাকিরা এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এখানে তো ছাইয়ের জোনাকি। সে কী করবে? বেঁচে থাকা—সেটা তো একটা আশা। ভাবতে ভাবতে ঝিমিয়ে পড়ে যায়। আঙুলে ব্যথা, ঘা থেকে রস গড়িয়ে পড়ছে। তবে আগের মতো পড়ছে না। শরীরের রস শেষ হয়ে যাচ্ছে মনে হয়। অবসাদ ঘিরে ধরে।


একজনের কাছেই শুধু কিছু চাওয়ার আছে। সে হলো ধান। ধানের কথা মনে পড়ায় আক্রোশ কমে। মনটা একটু শান্ত হয়।


অবসাদের মধ্যেই স্বপ্নটা আবার দেখে। ধানগাছে পাতা ফুটেছে, কিন্তু পাতায় ছাই রং। এখন সে কী করবে? কোনো উপায় ভেবে পায় না। সারা দিন খুব মন খারাপ। পরদিন ভোরে ঘুম ভাঙে। ঘুম থেকে উঠে শুরু করে ঘষাঘষি। ঘষতেই থাকে।

যতক্ষণ কুয়াশা থাকে, কিছু শিশির হাতের তালুয়, ছেঁড়া শাড়িতে জমা হয়। শাড়ি দিয়ে পাতার ছাই মোছে। বেশি বেশি শিশিরের জন্য আল্লাহকে ডাকে।

ছাইপাতা তো দেখেনি, তা চায়ও না। সে চায় উজ্জ্বল সবুজ পাতা। মনের কোনায় তা চিকচিক করে। ওখান থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। সবুজ তো আসলে একটা ওষুধ। শান্তির কাজ করে। শান্তি থেকেই তো আরাম আসে।

সে শুনেছে, গাছের শোক-দুঃখ, আনন্দ, ভালোবাসা আছে। শত্রু নিয়ে টেনশনও আছে। একা সে থাকে না। গাছেদের সমাজ-সংসারও আছে। সন্তানের প্রতি আছে টান।

ধানের পাতা একশ বার নাকি এক হাজার বার ঘষেছে সে জানে না। এক বিকেলে আদর করে ঘষা দিতেই দেখা গেল সবুজ রং। প্রথমে বুঝে উঠতে পারে না কী করবে। তারপর খুশিতে জড়িয়ে ধরল। চুমুও খেল। মরিয়মকে যেভাবে কোলে নিত, অনেকটা সেভাবে কোলে নেওয়ার ভঙ্গিতে আদর করল পাতাকে।

কিছুক্ষণ পর ভালো করে তাকিয়ে দেখে, সব তার মনের ভুল। ছাই রং যায় নি। সে কাঁদে। এত কান্নাও জমা ছিল! কাঁদতে কাঁদতে ঘুম ভাঙে। বুঝতে পারে এটা স্বপ্ন। কারণ, চোখে একটুও পানি নেই।

আপনমনে বলে, তোরা শয়তান, তোদের গা থেকে গ্যাস বের হবে।

এ কথা কাকে বলে নিজেও জানে না। করোনেশন হাই স্কুলের বটগাছটার কথা মনে পড়ছে। চারপাশে ডালপালা মেলে দেওয়া বিশাল এক বট। ঝুড়িও বেরিয়েছে। মকবুল ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় ওই গাছে ঝুলে ওকে নকল দিয়েছিল তার ভাইপো। পরীক্ষার প্রথম দিন সে গিয়েছিল। নিজের চোখে দেখেছে। নকল করে পরীক্ষা পাস করার ব্যাপারটি ভাবতেই এখন লজ্জা পায়।

দেখে, মরিয়ম আবার পায়ে পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তার পায়ের স্পর্শে ছাই সরে যায়। সবুজ ঘাসে ভরে ওঠে পথ। সবুজ দেখে সে চমকে যায়। চোখে সয়ে নিতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লাগে। সে গন্ধ শোঁকে। আশ্চর্য গন্ধ! অনেকদিন এ গন্ধ পায় নি।

একটু পর তার নাকে আসে বোটকা গন্ধ। এ গন্ধ ছাইয়ের। ভাবে, একটা ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এসে তাকে ভাসিয়ে নিলে বেশ হতো। সে ভেসে চলে যেত অন্য কোথাও।

জাহাজে খালাসির কাজ করত ওর মামা। একবার বলেছিল, জাহাজ যখন সাগরে ভাসে, আমরা মনটাকেও ভাসিয়ে দিই। তখন আর অন্য কোনো কিছু মনে থাকে না। তাই ভয়ডরও আসে না।

বুড়ি মৃত্যুর কথা ভাবা ছেড়ে দেয়। তার ভয়ও চলে যায়। মহাশূন্যযানে ভেসে থাকা মানুষ টিভিতে দেখেছে। সেও যেন ওই রকম ভাসছে। কিন্তু তার কোনো অনুভূতি নেই।

লম্বা চওড়া এক হিজড়া আসত মাঝেমধ্যে। ও এলে মরিয়মের মা বলত, মা, তোমার বান্ধবী এসেছে।

হিজড়া বলত, খালা কোথায়? চাল দাও।

কম হলে নেয় না। কমপক্ষে আধা কেজি দিতে হবে। যদি বলে বরকত হয়েছে, মানতে চায় না।

ও হাসলেও মনে মনে বিরক্ত হতো। কেননা, ওরা ওদের চাহিদা মতো জিনিস দিতে বাধ্য করে। হিজড়া তো, তাই তাল মিলিয়ে কথা বলে বিদায় করত।

প্রায় ছয় ফুট লম্বা। ঠোঁটে কড়া লাল লিপস্টিক। গালে দাড়ির আভাস। ভালো করে শেভ করা হয় নি। পঞ্চাশ টাকা নেয়। চালটাও নিয়ে যায়।

বুড়ির অনুভূতি ওই হিজড়ার মুখের ভঙ্গির মতো। সে দুই হাত আকাশের দিকে বাড়ায়। একটু পর তীব্র রাগে সরিয়ে নেয়। ইচ্ছে করে, ঘুষি মারবে। হয়তো নিজেকে মারবে। কিন্তু সারা দিন কিলালেও সে মরবে না। মনে মনে বলে, হ্যাঁ, একজনের কাছেই শুধু কিছু চাওয়ার আছে। সে হলো ধান। ধানের কথা মনে পড়ায় আক্রোশ কমে। মনটা একটু শান্ত হয়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করে।

৩৮.
বুড়িমা, কেমন আছ?

ধান কোনো জবাব পায় না।

সে আবার জিজ্ঞেস করে। কোনো আওয়াজ নেই। তার ভয় হয়। মরিয়মের দাদু মরে গেল না তো! বুকটা হু হু করে। ভেতর থেকে ঠেলে আসে কান্না। গা মুচড়ে মাটির উপর উঠে যেতে চায়। কিন্তু চাইলেই তো পারা যায় না। উত্তেজিত হওয়ায় ক্লান্ত বোধ করে। এখন উত্তেজিত হওয়ার সময় নয়। এখন স্বপ্ন দেখা আর অপেক্ষার পালা।

বুড়িমা… সে ফিসফিসিয়ে ডাকে।

তারপরও কোনো সাড়া নেই। তখন ধান একটু কাশে। গলা পরিষ্কার করে বলে, শোন, অনেকদিন আগে আমার মা আমাকে একটা গল্প বলেছিল। গল্পটা শুনবে?

কোনো উত্তর নেই।


ধানটি অপরূপ এক নারীর মতো। তার পাতায় পাতায় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আর নারীর রূপ দেখে মানুষ-ধানটি ঘুমিয়ে পড়ে।


ধান বলে, শোন, বিশাল পাহাড়। পাহাড় জুড়ে গাছ আর গাছ। এত বড় বন পৃথিবীতে আর নেই। তখন ভর দুপুরবেলা। সেই বনে কাঠ কাটছিল এক কাঠুরে। যেমন সুন্দর, তেমন শক্তিশালী। তার মনটাও খুব ভালো।

কাঠ কাটার মাঝখানে ঘাসের উপর বসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিল। হঠাৎ শোনে, দূর থেকে সুরেলা কণ্ঠে একটা মেয়ে তাকে ডাকছে। ডাক শুনে সে লাফিয়ে ওঠে। এদিকে-ওদিক তাকায়। কোনো শব্দ নেই। সে বসে পড়ে। তখন আবার কণ্ঠটা শোনে।

এবার কুঠার ফেলে খুঁজতে থাকে। খুঁজতে খুঁজতে বনের আরো গভীরে ঢোকে। কিন্তু কারো দেখা পায় না। পাহাড় থেকে পাহাড়ে ঘোরে। ঘুরতে ঘুরতে সে পাগল হয়ে যায়। একসময় উঁচু পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে। গড়াতে গড়াতে ছোট হয়ে যায়। তার শরীর যখন মাটি স্পর্শ করে, তখন সে একেবারে ধানের মতো, মানে আমার মতো।

মাটিতে পড়ার পর সে ঘুমিয়ে পড়ে। কয়েকদিন পর ঘুম থেকে জাগে। জেগে আশপাশে তাকায়। দেখে, চারপাশে বিশাল বিশাল সব পাহাড়, গাছপালা। আর সে অতি ক্ষুদ্র। সে ধান হয়ে গেছে। তার পেট ফুঁড়ে ছোট্ট পাতা বেরিয়েছে। সেই পাতা চোখ মেলে গায়ে মাখছে আলো। তখন অদেখা মেয়েটির সুরেলা কণ্ঠের কথা মনে পড়ে। বুঝতে পারে, ওই সুর তার পাতায় ফুটে উঠেছে। সে কী করবে বুঝতে পারে না।

চোখ বন্ধ করে ভাবছিল। পাহাড়ের ফিসফিস আওয়াজ শোনে। পাহাড়গুলো একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে! গাছপালা আরো বেশি কথা বলছে। তাদের কথা পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

চোখ মেলে দেখে, তার অদূরে আরেকটি ধান। ধানটি জিজ্ঞেস করে, কেমন আছ?

সে আশ্চর্য হয়। আরে! এই কণ্ঠ তো সে আগে শুনেছে। কোথায় শুনেছে ভাবতে থাকে। মনে পড়ে। লাফিয়ে উঠতে চায়। পারে না। এখন তো তার শিকড় মাটিতে।

ধানটি অপরূপ এক নারীর মতো। তার পাতায় পাতায় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আর নারীর রূপ দেখে মানুষ-ধানটি ঘুমিয়ে পড়ে। সে দারুণ এক স্বপ্ন দেখে। সেই স্বপ্ন থেকেই তো আমার মায়ের জন্ম।

বুড়ি আধো ঘুম, আধো জাগরণে ছিল। তাই ধান ডাকলেও সাড়া দিতে পারে নি। গল্পটা শুনতে শুনতে পুরোপুরি জেগে যায়। ঠোঁটটা নাড়ায়। দুই চোখে পানি। সে আস্তে করে মাটিতে হাত বুলায়। কান্নার জন্য কথা বলতে পারে না।

বেশ কিছুক্ষণ পর মুখ খোলে। বলে, মারে…

ধান অবাক হয়।

বুড়ি বলে, তুই আমার মা।

ধান বলে, আমি তোমার বন্ধু।

সে কী বলবে ভেবে পায় না।

ধান মৃদু হাসে। বলে, দাদু।

‘দাদু’ ডাক শুনে ‘ও মরিয়মরে’ বলে সে কেঁদে দেয়।

গা একটু নাড়িয়ে ধান বলে, কেঁদো না। তোমাকে একটা কথা বলি।

কী?

মানুষ কি ধান হতে পারে?

মানে! সে অবাক হয়ে জানতে চাইল।

ধান জবাব দেয় না।

বুড়ির কেন যেন খুব রাগ হচ্ছে। রাগটা কার ওপর বুঝতে পারে না।

৩৯.
হে ধান, তুই আমার লক্ষ্মী। তুই দুঃখ পাবি না। তোর তো বড় আশা। নিশ্বাস নিতে থাক; তুই বেঁচে উঠবি। আমি জানি।

বুড়ি একসময় সারা দিন এরকম জপত। নিজেকেও বলত এ কথা। কিন্তু আজ? আজ সে মরতে চায়। তবে মরতে চাইলেও মরার উপায় নেই। কোনো অস্ত্র তার হাতে নেই। নিজেকে কিভাবে মারা যায় ভাবে।

অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখে। ছাইয়ের মধ্যে হাঁটে। মনে হয় অনেক বছর ধরে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে আশ্চর্য এক ঘটনা ঘটে। যারা এখানে ধ্বংস ডেকে এনেছে তাদেরকে খুঁজে পায়। কেউ ছাইয়ের মধ্যে কড়ি হয়ে, কেউ গাছের পোড়া ডাল হয়ে, কেউ মার্বেল হয়ে, কেউ শুধু ছাই হয়ে পড়ে আছে। সে তাদের একেকজনকে তুলে নেয়। রেগে গিয়ে যত পারে গালাগালি করে। এত গালি যে তার মুখ দিয়ে বেরুবে নিজেও জানত না। গালি শুনে ওরা পালাতে চায়।

তার হাতে একটা বেত আর সামনে অদ্ভুত প্রাণীগুলো। গলায় রশি বাঁধা। বেত দিয়ে পিটিয়ে নিয়ে যায়। তাদের কোথায় ফেলে দেবে বুঝতে পারে না। জিজ্ঞেস করে, খিদে পেয়েছে?

ওরা কিছু বলে না।

ও আচ্ছা, ভদ্রবেশি তো, তাই মুখে রা নেই। ঠিক আছে, বলতে হবে না। চল, তোদের আজ ছাই খাওয়াব। ছাই খেতে খুব মজা। তোদের ভেতরে যদি আরো শয়তানি থাকে, বের করে আনব। তোরা আজ কাঁদবি। কেন কাঁদবি জানিস? কাঁদবি নিজের জন্য, সন্তান আর বউয়ের জন্য। কাঁদবি একটুখানি সবুজের জন্য। কিন্তু কিছুই পাবি না। বলে সে গলা ফাটিয়ে হাসে। হাসতে হাসতে ক্লান্ত হয়।


কেন এসেছ? এখন চলে যাও। বলেই লোকটার দিকে তাকিয়ে সে হতভম্ভ হয়ে যায়। তোতলাতে তোতলাতে বলে, আগে ধানগাছটা উঠুক।


একটু পর নিশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে এলে অনুভব করে, তার কোনো ভয়ডর, অস্থিরতা নেই। ওদের কুস্তি ধরার জন্য বলে। বলে, আমি হলাম বলীর মেয়ে। আয় দেখি, একবার লড়ি।

কিন্তু তার চোখের দিকে তাকিয়ে ওরা সাহস পায় না।

ও, আমার চোখকে ভয়! ঠিক আছে, চোখ বন্ধ করে লড়ব। আয়।

এবার মার্বেলের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক শয়তান আসে। বুড়ি বন্ধ চোখেই দেখতে পায় তাকে। কোমর ধরে এমন এক আছাড় মারে, ‘ওহ্ গড’ বলে মার্বেল লোকটা পড়ে যায়।

বুড়ি বুঝতে পারে, শয়তানটার কোমর ভাঙল। ও আর উঠতে পারবে না।

কিছুক্ষণের মধ্যে মট মট করে সবার কোমর ভেঙে যায়। কুস্তিতে একজনও তার সঙ্গে পারে না। হাসি ছড়িয়ে সে চোখ খোলে। দেখে, আশেপাশে কেউ নেই। ওই দূরের ঝাপসা আকাশ ছাপিয়ে কি বৃষ্টি আসছে! ভালো করে দেখতে চেষ্টা করে। আল্লাহ কি তার কথা শুনেছে!

মনে হয়, সামনে দাঁড়িয়ে জোবায়ের মিটিমিটি হাসছে। সে বলে, তোর তো অনেক বুদ্ধি। আমাকে একটা পথ দেখা।

জোবায়ের বলে, আপনি তো ছাই হয়ে গেছেন।

বিয়ের কয়েকদিন পরের কথা মনে পড়ে। কবিরাজ আদর-সোহাগে তাকে ভরিয়ে দিয়েছে। তৃপ্তি নিয়ে সে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু ভালো করে ঘুম হয় না। ঘুম-জাগরণের মধ্যে দেখে, রেলগাড়িতে চড়ে স্কুলে যাচ্ছে। সে আর কবিরাজ দাঁড়িয়ে আছে ইঞ্জিনের বগিতে। রেল দ্রুত গতিতে চলছে। পেছন থেকে একটা হলুদ কার এসে রেলগাড়ি ছাড়িয়ে এগিয়ে যায়। আরেকটু হলেই কারটা রেলের নিচে চাপা পড়ত। সবাই বলল, ভাগ্য খুব ভালো।

রেলটা গেছে উল্টো পথে। আসার সময় দেখে কোনো বগি নেই, ইঞ্জিনটা একলা চলছে। রেলরাস্তার স্লিপার ধরে সে হাঁটে। ইঞ্জিনটা ওকে চাপা দিয়ে চলে যায়।

এসময় একটা লোক আসে। তার পা জমিনে আর মাথা আসমানে।

তুঁই কন? সে জিজ্ঞেস করল।

লোকটা বলল, আমি আজরাইল।

কেন এসেছ? এখন চলে যাও। বলেই লোকটার দিকে তাকিয়ে সে হতভম্ভ হয়ে যায়। তোতলাতে তোতলাতে বলে, আগে ধানগাছটা উঠুক।


শেষ পর্বের লিংক
জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি, ১৯৭৪; হাটহাজারীর ধলই গ্রামে। নিজ গ্রাম ফটিকছড়ির পূর্ব ফরহাদাবাদ, চট্টগ্রাম।

পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই—

খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]
অন্যজন [উপন্যাস, বাতিঘর, ২০১৮]

শিশুদের বই :
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)