অন্যজন : ৩

অন্যজন : ৩
212
0

২য় পর্বের লিংক

পর্ব- ৩

৪.
পরের দিনের কথা। অলস মনে একটা শয়তান আসে। শয়তান দেখে খালেদা ধানের কাজে মাকে সাহায্য করছে। দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় মারা গেছে। তার মা-বাবা গেছে শাহনগর মওতা বাড়িতে। ঘরে ছিল তারা দুই বোন। রাতে মা তাদের ঘরে থাকতে বলে।

সেই রাতে থাকতে হয়েছে। ভেবেছি, তার বুকে হাত রাখব। কিন্তু সাহসে কুলায় নি। ছেঁড়া কাঁথার তলে শুয়ে কেঁপেছি। পরে সহ্য করতে না পেরে লোটা নিয়ে উঠানে গন্ধরাজের পাশে বসি। সব উত্তেজনা মাটিতে ফেলে কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ি।


প্রেম রাখলে সব পাওয়া যায়। যার অন্তরে প্রেম, সে মানুষকে আঘাত করতে পারে না।


ঘুমিয়ে পড়তে পড়তে দেখি, ক্যালেন্ডারের লালবাগ কেল্লা থেকে শত শত সৈন্য বেরিয়ে এসেছে। তারা আমাকে লেবেনচুষের মতো চুষতে থাকে। ইতিহাসের পৃষ্ঠা নিয়ে ফ্যাকাসে ইটের ভেতর লেপ্টে দেয়। গন্ধরাজের সুগন্ধে আসা সাপটাও ইটের ফাঁকে ঢুকে যায়।

ফজা ও ফাতেমার আর্তচিৎকারে দৌড়ে গিয়ে দেখি বাবা-মার আঙুলগুলো কাটা। দিয়াশলাইয়ের বাক্সে মসলিন রাখা যেত, এখন রক্ত জমে। তাঁতের চারপাশে সৈন্যদল। মার শূন্য দৃষ্টি আকাশে। চোখের ইশারায় সেখানে মসলিন শাড়ি আঁকে। ইশারার মসলিন ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে। তা কেমন করে বুনে জানা হলো না। তাই আমার কারিগর হওয়াও হলো না।

আমি কাঁদি। লাল সৈন্যদের দখল থেকে বাবার তাঁত মুক্ত করতে পারি না। শতবর্ষী অশ্বত্থের নিচে তারা কামান বসায়। কামান দেখে তির খুঁজি। অনেক তির পেতে হবে। তিরের আগায় বাবাদের সৌভাগ্যের রস ও বিদ্রোহের কষ মাখিয়ে কবরস্থানের তেঁতুলগাছের নিচে দাঁড়াই। জিনের জন্য অপেক্ষা করছি। জিন আমাকে আগুন দেবে। কামানের গোলায় আগুন জ্বালাব। কিন্তু আগুন লেগে যায় আমার মনে। নেভাতে গিয়ে দেখি লাল সৈন্যরা মুখোশ পরে আবার ভিড় করেছে। দৌড়ে যাই। প্রাইমারি স্কুলের মনকাঁটাগাছটা কারা যেন কেটে নিয়ে গেছে। তাই কাঁটা পাই না। সৈন্যদের বেয়নেটের ইশারায় পোশাক খুলতে হয়। পরিচয় ভুলে যাই। সেই ভুলকে ফুটবল বানিয়ে তারা খেলে। সৈন্যদের পায়ে পায়ে ঘুরি। ঘুরতে ঘুরতে মনা ভাইয়ের গান শুনি। মনা ভাই একতারা বাজিয়ে গায় : জনম দুঃখী আমি একজনা…
সৈন্যরা বলে, তোর মস্তিষ্কের নাম দুঃখ।

সকালে ঘুম ভাঙার পর শুনি মনা ভাই গাইছে : স্কুল খুইলাছেরে মওলা স্কুল খুইলাছে/ গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুইলাছে…

আমি ঘরে আসার আগেই মনা ভাই মাইজভাণ্ডার চলে যায়। সে ভাণ্ডারী ভক্ত। ভক্ত মানে প্রেমিক। ভক্তরা বলে, তরুলতা, মানব, পশুপাখি—সবার সাথে প্রেম খেলতে হবে। প্রেম রাখলে সব পাওয়া যায়। যার অন্তরে প্রেম, সে মানুষকে আঘাত করতে পারে না।

গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী সৈয়দ আহমদ উল্লাহর (ক.) ওরশ আজ। বাসে, হেঁটে দলে দলে মানুষ মাইজভাণ্ডারের দিকে ছুটেছে। মেলা বসেছে, হরেক রকম মানুষের মেলা। ভাই কয়েকদিন সেখানে পড়ে থাকবে। ওয়াজ শুনবে, জিকির করবে, বাবার পরশ নেবে। নানা জায়গা থেকে আসা মানুষের সঙ্গে মিশবে।

মাজারের পাশে একটা পুকুর আছে। মাদারীপুর থেকে আসা সাহাবুদ্দিন শাহ বলেন, এই পুকুরের সাথে খাজা বাবার আয়না সাগরের জয়েন আছে। একটু পর বলেন, দিল শাদা রাখতে হবে, খাঁটি প্রেমিক হতে হবে। না হয় বাবাকে পাওয়া যাবে না, আল্লাহ-রাসুলকে পাওয়া যাবে না। মাইজভাণ্ডার বিয়াদবকা দরবার নেহি হে, আদবকা দরবার হে। তারপর গলা ফাটিয়ে গান ধরেন : প্রেম শেখাইছে হুজুর কেবলা…

তার হাতে বাঁধানো একটা ছবি। লোকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, এটা বাবা শেখ ফরিদের ছবি। ছবির লোকটা হাড্ডিসার। উপরে লেখা আছে : খাইও খাইও সকল শরীর খাইও, অল্প অল্প খাও মাংস, দুই নয়ন বাদ দিও।

অদূরে একটা দলের গান চলছে। একটা মেয়ে গায় : আমার মন পোরানো ব্যথা/ কার কাছে বোঝাব?…

আকাশের দিকে তাকিয়ে দরদ দিয়ে মেয়েটা গাইছে। গোলাকার দাঁড়ানো লোকজনের চোখ ছলছল। আর যিনি বাঁশি বাজাচ্ছেন, এক কথায় মন হারানো। করুণ এক সুর, শ্রোতাদের বিষণ্ন করে দিচ্ছে।

তার নাম কুতুব উদ্দিন শাহ। তারা মাদার বংশ। তাদের বংশে সবার জটাচুল। তার একশ পঁচিশ বছর বয়সী ফুপুর চুল পনের হাত লম্বা। মুখটা আল কোরান। এ কথা বলে বুকে হাত দেন। বলেন, এটা দেল কোরান।

ভাই জিজ্ঞেস করে, বাবাকে কিভাবে পাওয়া যায়?

মাথাভর্তি জটাচুল, দাড়িতেও জটা। চোখে কি আলো আছে? অনেক মানুষ ও আলোর ভেতর বোঝা যায় না। তিনি জানান, প্রথমে মা-বাবার সেবা করতে হবে; তারপর আল্লাহ-রাসুল আর পীর।

বাবা, কিছু মনে না নিলে একটা কথা বলতাম।

হেসে মাথা নেড়ে বললেন, বলেন, বলেন।

আপনি কি নামাজ পড়েন?

কুতুব উদ্দিন তৎক্ষণাৎ জবাব দেন, পাগলদের নামাজ নিশি রাতে। নামাজ ছাড়া হবে না। জিকির করতে করতে মাথা, কান আউলা হয়ে যায়।

এরপর বুড়া ধারাল কণ্ঠে গান ধরেন : বিশ্ববিদ্যালয় রে বাবা বিশ্ববিদ্যালয়/ আমার গাউসুল আজম বিশ্ববিদ্যালয়…

একটা মেয়ে তার পাশে বসে করতাল বাজাচ্ছে। মনা ভাই মনোযোগ দিয়ে শোনে।


অশ্বত্থের ডালপালার ফাঁক দিয়ে আকাশের দিকে তাকাই। লাঙল কাঁধে বাবা পুবের বিল থেকে আসছে। কাছে এসে বলে, দুনিয়াদারি কঠিন অই গেয়ি।


ভাইয়ের মুখে সবসময় মৃদু হাসি, যেন মানুষকে প্রশ্রয় দিচ্ছে, কাছে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। বলতে চায়, প্রেম দিয়ে তোমার দুঃখ ভোলাব। মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক থাকে। মনে হয় ডাকে। তার চেহারার দিকে তাকিয়ে সেই ডাক শুনতে পাই। এতে ধানের শিকড়, ফুল কিংবা পাকা ধানের মতো গন্ধ আসে। কতবার স্বপ্ন দেখেছি, ভাই ধানগাছ হয়ে জমিতে দাঁড়িয়ে আছে আর তার হাতগুলো ধানের ছড়া হয়ে জ্বলজ্বল করছে। এ রকম স্বপ্ন দেখলে পরদিন সকালে মোটকা ফোটানোর নাম করে তার আঙুল ছুঁই। আঙুল থেকে পাকা ধানের গন্ধ পাই। তখন আমি জমিতে যাই। সেদিন আমার পরিশ্রম দেখে সবাই হতবাক হয়ে যায়।

৫.
বড় বুবুকে ডাকি বব্বু। সে আমার অর্ধেক মা। মার চেয়ে তাকে বেশি পেয়েছি। বুবু ছিল স্বস্তি। আমাদের সব জ্বালাতন তার ওপর দিয়ে যেত। কিন্তু কখনো এতটুকু বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখি নি। মার চেয়েও বেশি ধৈর্য নিয়ে আগলে রাখত। বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা যোগাত, চাষার শক্তি দেখিয়ে দিত। ফজা তার ওই গুণ পেয়েছে। সে বাবার চেয়েও ভালো চাষা। অল্প বয়সে সবকিছু ভালো বোঝে। চাষের যেকোনো ব্যাপারে বাবা তার সঙ্গে পরামর্শ করে।

ভাই-বোন বেশি বলে মা অনেকটা ত্যক্তবিরক্ত হয়ে গেছে। আমরা মানুষ হয়েছি বুবুর কাছে। কৃষিবিজ্ঞানে পড়া নারীদের কথা মাঝে মাঝে মনে পড়ত। মনে হত বুবু আদিম নারী, পৃথিবীতে যারা ধান আবিষ্কার করেছে তাদের একজন।

ছোটকালে তার কাছেই ওই ঘটনা শোনা। এক চাঁদনি রাতে ধানের পাড়ায় বসে মঈন ভাইয়ের কথা বলেছিল।

বুবু তখন ছোট। একদিন মঈনকে কোলে নিয়ে তেঁতুল কুড়াতে গেছে ঘাটাপুকুরের পুবপাড়ে। গাছটা পাড়ের মাঝখানে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। ঘরে ফিরতে শুরু করেছে পাখিরা। সেদিন বুবু আকাশের অনেক উপরে কয়েকটা টিয়ার ডাক শুনেছিল। চলে আসবে এ সময় মনে হলো কে যেন মঈনকে চড় মেরেছে। চড়ের গতি ছিল। গতির চোটে বুবুও পড়ে যায়। আরেকটু হলে পুকুরে পড়ে যেত। কয়েক মুহূর্ত অচেতন ছিল। তাকে নিয়ে দৌড়ে ঘরে চলে আসে। মাকে সব বলে।

ততক্ষণে মঈনের নাকে-মুখে ফেনা আসতে শুরু করেছে। সবার কান্নাকাটি পড়ে যায়। মনা ভাই দোয়াদরুদ পড়ে। মেজ ভাই তোফেল গোপাল ডাক্তারকে ডাকতে যায়। তখন তার বয়স সম্ভবত দেড় বছর। ঘণ্টাখানেক পর মারা যায় সে। সবাই চিৎকার করে কাঁদে। বয়স কম বলে রাতেই কবর খোঁড়া হয়।

বাবা তার সন্তানদের ফসলের মতোই দেখে। নির্বাক হয়ে দাওয়ায় বসেছিল। কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে সবকিছু করেছে ভাই ও প্রতিবেশীরা। হারিকেনের আলো বাড়িয়ে কবরে শোয়ানো হলো। সবাই শেষবার শাদা পোটলাটা দেখে নেয়। মাটি ফেলবে—এ সময় নড়ে ওঠে মঈন। শফি ভাই তা প্রথম দেখে। বিশ্বাস হয় না। সবাইকে থামতে বলে হারিকেন কাছে নিয়ে ভালো করে দেখে। হ্যাঁ, একটু যেন নড়ছে। তাড়াতাড়ি তোলা হয় কবর থেকে। নতুন করে কান্নাকাটি শুরু হয়।

এরপর সে আর কথা বলে নি। মুখ থেকে সবসময় লালা পড়ত, ডান হাতটা লোলা হয়ে গিয়েছিল।

দাদি বলত, যে মায়ের সন্তান বেশি, তার একটা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, আল্লাহ তাকে নিয়ে নেয়।

তার কথায় সবাই চুপ থাকত। নীরবতা ভেঙে বুবু বলত, মঈনকে জিনে ধরেছে। তবে আসল কারণ কেউ বের করতে পারে নি। এখনো তা রহস্য।

মাঝেমধ্যে মঈনের হাত বা মুখের দিকে তাকাই। তার লালার সাথে গড়িয়ে পড়ে যাই। চলে যাই কোনো জিনের দেশে। সেখানে জিনেরা পালকিতে চড়ে ঘুরে বেড়ায়।

সেই জগতের সব আগুনের। আগুন সইতে পারি না, তাই পালাতে হয়। পালিয়ে আমাদের জমি বা বাম্বুর বর্গা জমিতে দাঁড়াই। দেখি, বাবা একমনে ধান রোপণ করছে। ধানের সাথে হয়তো আমাকেও রোপণ করে দেয়। ধানগাছ হয়ে বেড়ে উঠি। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন মন থেকে যায় না।

তেঁতুলতলে মঈন ভাই বোবা হয়েছিল। তেঁতুল কুড়াতাম আমি ও খেলার সাথীরা। সেই গাছটা মরে গেছে। স্কুলের জাম্বুরাগাছে উঠে নাচতাম, জাম্বুরা দিয়ে বল খেলতাম। জাম্বুরার একটা ডালও নেই। আকাশকুসুম ফুলও তাই ফুটে না। কোঁচায় বেতগুলা পড়ে থাকে। বেতকাঁটার খোঁচা খাওয়ার মতো কয়েকজন চাষা বলাবলি করে, তারা জমি ধরে রাখতে পারছে না।

অশ্বত্থের ডালপালার ফাঁক দিয়ে আকাশের দিকে তাকাই। লাঙল কাঁধে বাবা পুবের বিল থেকে আসছে। কাছে এসে বলে, দুনিয়াদারি কঠিন অই গেয়ি।

লাঙল রেখে অশ্বত্থের শিকড়ে বসে বিড়ি ধরায়। লাঙলের ফলায় কাদাপানি জমে আছে। বাবা সেদিকে তাকিয়ে থাকে। হয়তো গল্পদাদার গল্প মনে পড়েছে। বুড়া গতকাল গল্পটা বলেছিল।

অনেক বছর আগের কথা। একদিন একদল ঘোড়সওয়ার আসে পূর্বফরহাদাবাদ গ্রামে। তারা লোকজনকে চাবুক মারে, তাদের সম্মান জানাতে বলে।


মার মুখে চিন্তার রেখা। একটু পর দেখি তার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। চোখ দেখে কেঁপে উঠি। বলে, আমিন, লাঙলের ফলার মতো থাকবি।


পাগলা হাবু কোত্থেকে এসে খ্যাঁকখ্যাঁক হাসে। সবাই অবাক, এমনকি ঘোড়াগুলো পর্যন্ত চমকে ওঠে। সে ঘোড়ার মুখে হাত বুলিয়ে ঠাস করে চড় মেরে দেয়। ঘোড়া নাক ঝাড়ে।

হাবু বলে, ঘোড়ার পেশাব ধরেছে।

ভয়ে সবার প্রাণ যাওয়ার অবস্থা। এর মধ্যেও হাসি পায়।

ঘোড়সওয়াররা কাঠঠোকরা হয়ে হাবুর বুকে ঠোকর মারতে চায়। সে দৌড়ে পুকুরে নেমে যায়। তর্জনী নাচিয়ে বলে, লাঙল কোথায় হারালি?

এক-আধটু বাংলা বলতে পারা বুড়া ঘোড়সওয়ার গোঁফে হাত বুলিয়ে হাসে। বলে, লাঙুল পলায় গেসে।

এরপর বুড়া ক্রোধে নীল হয়ে সবাইকে চাবুক মারার হুকুম দেয়। বলে, নীল চাই, নীল।

ঘরে এসে মাথা নিচু করে বসে থাকি। মা জিজ্ঞেস করে, কী অয়ি?

আমি কিছু বলি না। মার মুখে চিন্তার রেখা। একটু পর দেখি তার চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। চোখ দেখে কেঁপে উঠি। বলে, আমিন, লাঙলের ফলার মতো থাকবি। দোয়া পড়ে বুকে ফু দেয়। মাথায়, মুখে হাত বুলিয়ে বলে, সবসময় বুক ফুলিয়ে চলবি।

৪র্থ পর্বের লিংক

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)