হোম গদ্য উপন্যাস অন্যজন : ১২

অন্যজন : ১২

অন্যজন : ১২
325
0

১১ পর্বের লিংক

পর্ব- ১২

২০.
মুন্না ভাই জাসদ করত। ছোটকালে ফটিকছড়িতে একবার মেজর জলিল এসেছিলেন। সে দেখেছে। তার চেহারা, চোখ এখন আর মনে পড়ে না। তবে মাঝেমধ্যে দাড়িভর্তি মুখটা ভেসে উঠতে চায়।

মুন্না বলত, যারা শোষণহীন সমাজের স্বপ্ন দেখে, তারা নিজেকে পাল্টানোর স্বপ্নটা দেখে না। তাই তাদের স্বপ্ন এখনো অস্পষ্ট। দলও ভারি নয়।

একটু থেমে বলে, সমস্যা হলো আমরা ইতিহাস মনে রাখি না, ইতিহাস থেকে শিক্ষাও নিই না। আমরা কী করি জানিস? লাক্স সাবান দিয়ে গোসল করে ইতিহাস ধুয়ে ফেলতে চেষ্টা করি।

বাবার চাচাত ভাইয়ের ছেলে মুন্না ভাই আমার চেয়ে দুই বছরের বড়। মাঝে মাঝে মনে হয় অনেক বছরের বড়। ভার্সিটিতে পড়ে। কত কিছু জানে আর কত ভাবে যে একেকটা বিষয়ের ব্যাখ্যা দেয়! তার কথা শুনে এ জীবন আর ভালো লাগে না। কেন কানা বকের ঠ্যাঙের মতো পড়ালেখা করলাম? বাবার ওপর রাগ হয়। দুর্ভাগ্য বলে মেনে নিতে মন চায় না। তবে আমি ঠিকই পাল্টাব। মাথা নিচু করে বেঁচে থাকা, আধপেটা খেয়ে বাঁচা আমার দ্বারা হবে না। ভাঙা ঘরে শুয়ে বর্ষার পানি খেতে পারব না।

মুন্না ভাই কত কত পথের কথা বলে! কিন্তু আমি জানি, পথ পাওয়া খুবই কঠিন। অনেক কষ্ট করতে হয়। গোঁয়ারের মতো মনোবল নিয়ে এগিয়ে না গেলে হয় না। তবে সে শুধু কথায় না, কাজেও আছে। বাড়ি এলেই চাষের কাজে নেমে পড়ে। তার এই জিনিসটা ভালো লাগে।


পৃথিবীর ভালো মানুষের গন্ধ যেন চাঁদের আলোয় মাখা আছে।


এক বিকালে মুন্না ভাই ‘বিপ্লবীর ডায়েরি’ নামে একটা লেখা পড়তে দেয়। রাস্তার পাশে ধানগাছের সামনে বসে পড়ি : ‘শোকের ভেতর আগুন জ্বলে। কাল বিপ্লবীর ফাঁসি হবে। খবর পেয়েছি, জেলখানার দেয়ালে হেলান দিয়ে আবছা অন্ধকারে সিগারেটের প্যাকেটে বিপ্লবী লিখেছেন : আমি এই বাংলার সন্তান। মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। যতদিন বেঁচেছিলাম মানুষের জন্য কিছু করতে চেষ্টা করেছি। অপরজন সুন্দরভাবে না বাঁচলে আমার বাঁচাটাও পূর্ণ হয় না। সামান্য একটা জীবন, অপূর্ণতায় বেঁচে থেকে লাভ কী? আমার বাবা-ই তা শিখিয়েছিল। মা সবকিছুতে নীরব সমর্থন দিত। মার চোখ দুটা কখনো ভুলব না। এখন এই একলা অন্ধকারে আমি আর কিছু দেখছি না। একটু বিষণ্ন আর ভালোবাসায় ভরা, জলভরা চোখ দুটার কথাই মনে পড়ছে। চোখগুলো যেন বলত, বাপ আমার, এই অভাগা দেশে তুই পাল্টে যা। মানুষ বড় কাঁদছে। মা, আমি তা-ই চেষ্টা করেছিলাম। মানুষের ভালো ছাড়া আমার আর কিছু চাওয়ার ছিল না। তোমাকে খুবই ভালোবাসি মা।

এতদিন মানুষের দিকে পথ চলে একটা কথাই বুঝেছি, মানুষের মন থেকে উপনিবেশবাদীদের মুছে ফেলতে হবে। তার মনে মায়ের মতো মায়া-মমতা জাগাতে হবে, ভালোবাসা জাগাতে হবে। মানুষের ভালো না চাইলে, তার জন্য আপন না হলে কিছুই করা যাবে না। আর পথ বদলাতে হবে। আমার দেশের মাটির রঙের মতোই হবে সেই পথ, বিপ্লব আর ভালোবাসার পথ।’

লেখাটা পড়ে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি। কোথাও হুইসেল বাজে। বাবা পাঠশালায় কয়েক ক্লাস পড়েছে। শিমপাতার রস দিয়ে কলাপাতায় লিখত। বাবা নিজের কথা বলত আর তা মার নকশিকাঁথায় ফুল হয়ে যেত। হঠাৎ মন ভিজে যায়। মার চোখের কথা ভাবি। এখন ছায়া ছায়া দেখে। নকশিকাঁথা সেলাই করতে পারে না।

পৃথিবীর ভালো মানুষের গন্ধ যেন চাঁদের আলোয় মাখা আছে। ঘাটে গিয়ে নৌকায় চড়ি। আমরা বসে আছি, নৌকা বাতাসে দুলছে। এভাবে যেতে পারলে বেশ হতো। অনেক দূরে চলে যেতাম।

মুন্না ভাই বলে, দূরে না গেলে নিকটকে বোঝা যায় না।

এখন নিজের কাছে নিজেকে কিছুটা চেনা লাগছে! মনে হচ্ছে, যা চাই তা করার ক্ষমতা আমার আছে।

নদীর ওপারে কেউ বাঁশি বাজাচ্ছে। বাঁশির সুরে বলছে, একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।

সকালে রসে টুসটুস সিঁদুরে আম খেয়েছিলাম। বড় চাচি দিয়েছিল। মা বঁটি দিয়ে সুন্দর করে কেটেছে। আরেকটা নিয়ে ছিদ্র করে রস চুষেছি।

রসের সাথে বেরিয়ে এসেছিল ছোটবেলার একটি দিন। সেদিন সকালের ট্রেনে সবাই ছোট নানার মেজ ছেলে বাদশা মামার বিয়েতে গিয়েছিলাম। কত মজা করেছি!

রেলরাস্তা থেকে মাইল দুয়েক দূরে টিলার কাছে নানাবাড়ি। বিয়ের পরদিন সকালে ছোট নানা আমাদের নিয়ে রেলরাস্তায় যান। নানা আপন সুখে বিড়ি টানেন, আমরা লোহায় পাথর ঘষি। পাথরের চেয়ে প্রিয় বস্তু আর কিছু নেই। প্যান্টের পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াই, এদিক-ওদিক ছুড়ে মারি। আরেকটি খেলা ছিল, টেলিফোনের তারে পাথর লাগানো।

নানার একটা লাঠি আছে। ধরলেই গালি দেন। লাঠিটা নিয়ে দৌড় দেয় ফজা, জিব দেখিয়ে হাসে। নানা গালি দিয়ে হেসে দেন।

মিরাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘণ্টা বাজে। নানা বলেন, নাতি বেশি করে পড়। জজ ব্যারিস্টার হয়ে আমাদের মতো মানুষকে লাথি মারবি।

পরদিন সকালে মামাত ভাইয়ের সঙ্গে স্কুলে যাই। স্যার জিজ্ঞেস করেন, বড় হয়ে তুই কী হবি?

স্যার, চাকরি করব।

স্যার হেসে দেন। বলেন, কখনো ধ্রুবতারা দেখেছিস?

আমি মাথা নাড়ি।

স্যার বলেন, একাত্তর সালের কথা। তোর মতো একটা ছেলে নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছে। এ সময় শুরু হয় যুদ্ধ। মানুষ গাছ ও বাঁশ কেটে লাঠি বানায়, দা-ছুরি শান দেয়, মনও শান দেয়।

একদিন সকালে দক্ষিণ দিক থেকে ট্রেনে করে একদল পাকিস্তানি সৈন্য আসে। তারা ওই ছেলের মামাকে ধরে নিয়ে যায়। কারণ মামা তাদের স্যালুট দেয় নি। তার নানা সৈন্যদের পা ধরে। কিন্তু তারা নানাকে লাথি মারে। তারপর মামাকে ব্রাশফায়ার করে ব্রিজের তলে ফেলে দেয়। রক্তে ভেসে যায় খাল। একসময় দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনের পর কী হলো জানিস?

সবাই স্যারের দিকে তাকিয়ে থাকি।

প্রতিদিন কোত্থেকে একটা মাছরাঙা এসে খালের পাড়ে আমের ডালে বসে থাকে। নানা বলে, আমার ছেলে মাছরাঙা হয়ে গেছে। রেলরাস্তায় বসে মাছরাঙার সাথে কথা বলে।

স্যার বলেন, কাল থেকে তোদেরকে গল্প বলতে হবে।

কিসের গল্প স্যার?

তোরা কী স্বপ্ন দেখিস তা বলবি আর কী।

বিকালে স্কুল থেকে আসার সময় দেখি, রেলরাস্তার পাশে ওঁয়া ওঁয়া চিৎকার। সবাই দাঁড়িয়ে দেখছে, পলিথিনে মোড়ানো নবজাতক। আমাদের বয়সী একটা ছেলে বলে, কাক ঠোকরাতে চেয়েছিল, আমার জন্য পারে নি।

একজন বলে, একেবারে তরতাজা।

বড়রা আমাদের তাড়িয়ে দেয়। পরে শুনেছি, হিন্দু পাড়ার এক মহিলা বাচ্চাটাকে নিয়ে গেছে।

রাতে পড়ি : রানার ছুটেছে তাই ঝুম ঝুম ঘণ্টা বাজছে রাতে…। ছোট মামা ইঁদুর ও টিকটিকির গল্প বলে। ইঁদুরের খুব খিদে পেয়েছিল। সে করেছে কী, টিকটিকির ডিম খেয়ে ফেলেছে। কয়েকদিন পর তার পেট থেকে টিকটিকির বাচ্চা বের হয়।

ঘুমিয়ে পড়ার পর দেখি রানার ছুটে এসে কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চাটাকে তার গাঁটরিতে নিয়েছে। এ সময় যাযাবর মহিলাটা বলে, এঙখাই ব্যাঙখাই, তোর কল্লা চাবাই খাই। বুরমিঞ, বুরমিঞ, নাম ধুতরা নাম, সোহাগ ছাড়ি নাম। হাতে একটা হাড্ডি নিয়ে নাচায়। বলে, সুপারি খেলা/ বেল ফোটা/ একাশি/ হট্টিটি/ চাঁদ সদাগর বাড়িত আনি। হাসতে হাসতে বলে, যা যা, ছেলেটারে মানুষের ঘরে দিয়ে আয়।

দেখি, জঙ্গল থেকে একটা বাঘ বেরিয়ে আমার মনে ঢুকে গেছে। কতগুলো ছেলে ‘ও জেডা ফকিরের বাপ’ বলে মাছরাঙা হয়ে যাওয়া ছেলেটার বাপকে ঢিল মারে। বুড়া হাসে। বলে, দুটা ভাত দাও, আমার ছেলেটারে খাওয়াব।

মা তাকে ডেকে উঠানে আমগাছের তলে বসায়। তার মুখে চাঁদের আলো পড়েছে। কয়েক জায়গায় দাগ পড়া এলুমিনিয়ামের বাসনে ভাত দেয়। ভিক্ষুকের জন্য রাখা আলাদা গ্লাসে পানি দেওয়া হয়। বুড়া খায়। কপালে রক্তের দাগ এখনো শুকায় নি। জিজ্ঞেস করে, ড্রাইভার কোথায়?

কেউ জবাব দেয় না। বুড়া বলে, পাঞ্জাবি আসার খবরে ড্রাইভার গাড়ি রেখে পালিয়েছে। লোকে কী করবে? পাশে ছিল একটা বিল, আখের পর আখের খেত। সবাই আখ খেতে লুকায়।

অর্ধেক ভাত পলিথিনে ঢালে। তারপর বলে, আমরা কুমার জাত। অনেক বাঘ সিংহ হাতি ঘোড়া বানিয়েছিলাম। রাজাকারের বাচ্চারা সব ভেঙে ফেলেছে।

মা জিজ্ঞেস করে, এখন কী করেন?

এখন! এখন মাটির মানুষ বানাই। বলে হাসে। তার চোখ ওই চাঁদের দিকে।


জীবনের পথ কাঁটায় ভর্তি। সোনালি ধান সেই কাঁটা সরাতে পারে নি। এ জীবনে আশা পূর্ণ হবে? আশাকে ফুরাতে দিই না।


একবার কী হয়েছিল জানো? গাছে হেলান দিয়ে বুড়া জিজ্ঞেস করে। খালার বাড়ি যাচ্ছিলাম। মা খালার জন্য আম-কাঁঠাল দিয়েছে। খালা আমের রসের মতো আদরে জড়িয়ে ধরে। বাড়ির পাশে জলাশয় সেচে মাছ ধরা হয়েছে। রাতে টাকি মাছের ভর্তা করে। ভর্তায় শুকনা শিম বিচি পিষে দেয়। এত স্বাদের ভর্তা জীবনে খাই নি।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, পাঞ্জাবিরা আমার ছেলেরে মেরে ফেলল। তার চোখ পানিতে টলটল করে। তারপর হলো কী, শর্ষে ফুল ঝরে গেল, তাঁতির তাঁত বন্ধ হয়ে গেল, চাষি ফসল ফলানো ভুলে গেল।

আমি আরো স্বপ্ন দেখি। এক লোক আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে, কান্না করা ওই মহিলাকে চিনিস?

বলি, ও তো আমার মা।

মা হলো আমাদের বেঁচে থাকা। কিন্তু মাঝেমধ্যে তাকে একদম ভালো লাগে না। মনে হয়, আমাকে বুঝতে না পারার জন্যই এমন হচ্ছে। আমি দূরে যাই, মা তা চায় না। তার জীবনের পথ কাঁটায় ভর্তি। সোনালি ধান সেই কাঁটা সরাতে পারে নি। এ জীবনে আশা পূর্ণ হবে? আশাকে ফুরাতে দিই না।

ঝিনুক সংঘ ছোট নানার দেহের মতোই নড়বড়ে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় লবণের গন্ধ পাই। মাটি সরে গিয়ে সংঘ আলগা হয়ে আছে। পাশের জলাশয়ে কিছুদিনের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। ভেতরে ছাগলের লাদির পাশে কুকুর শুয়ে আছে। আরেক পাশে মাদকসেবীরা তাস খেলে।

ছোট নানা একসময় জাহাজে ছিলেন। তার কাছে সমুদ্রের গল্প শুনতে চাই। তিনি বলেন, তোর মার ঢাখত যা। হুঁকা টানতে টানতে নানা ‘হক মওলা’ বলেন।

মার কাছে না গিয়ে কুয়াশার ভেতর লুকিয়ে থাকি। অ ধন, অ বাছা আছু না। নানির কথায় কুয়াশা থেকে বের হই। তখন নানি অনেক বছর আগের এক গল্প বলে : নানির চাচা করেছে তুলার চাষ। তাদের ঘরে সুতার স্তূপ। নানির মা তাঁতে বসেছে। তার বাবা বড় নৌকা নিয়ে বাণিজ্যে গিয়েছিল। আরবান আলী সওদাগরের ঘাটে নাও ভিড়েছে।

ডাকাতেরা শেয়ালের মতো ধূর্ত, ঘ্রাণশক্তি কুকুরের চেয়েও তীব্র। সমৃদ্ধির ঘ্রাণে এসে যায়। নানির বাবাকে রশি দিয়ে বেঁধে নৌকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

নানির ভাই কোনোরকমে পালিয়ে ঘরে আসে। খবর পেয়ে লণ্ঠন হাতে গ্রামের মানুষ ছুটে যায়। ততক্ষণে ডাকাতেরা চলে গেছে।

নানি বলে, রাতে স্বপ্ন দেখি, আকাশে একটা তারাও নেই। সমুদ্রের পাখি এসে বাবার নৌকায় বসেছে। বাবা আমাদের খবর জেনে যায়। তার গোলা গোয়াল পুকুর জমি ফসল বহাল তবিয়তে আছে। পাখিটিকে বিন্নি চালের ভাত দেয়। একটু আগে মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে তারা ইলিশ মাছের ঝোল দিয়ে বিন্নি ভাত খেয়েছে। পাখি উড়ে যায়, তার মনটা খালি খালি লাগে। সেবার তারা লঙ্কায় গিয়েছিল। এনেছিল লবঙ্গ, এলাচি ও অনেক রকম মসলা।

নানির গল্প মুন্না ভাইকে বললাম। ইতিহাস যেন বাপ-দাদাদের বাড়ি। সেই বাড়িতে বসে মুন্না বলে, হালদার পানিতে শান্ত গ্রাম-বাংলার গাছপালার ছায়া। অথচ দেখ, এই বাংলাকে বারবার অশান্ত করা হয়েছে, হরণ করা হয়েছে তার স্বাধীনতা।
মুন্না ভাই বলে, এক রাতে স্বপ্ন দেখলাম, সবাই জড়ো হয়েছি প্রাইমারি স্কুলের মাঠে। আমাদের হাতে তলোয়ার। একজন বলে, নোয়া রাস্তা পেরিয়ে, বিলের শস্য মাড়িয়ে শত্রুরা আসছে। তাদের হাতে লম্বা অস্ত্র। আমাদের মনে হলো, চিকন তক্তা। রাস্তার মাথায় কাঠচেরাইয়ের কলে চিরানো হয়েছে। পুকুরপাড়ে তাদের মুখোমুখি হই। তলোয়ার দিয়ে তক্তা কেটে তাড়িয়ে দিই। তারপর আমাদের মধ্যে শুরু হয় দৌড় প্রতিযোগিতা। সবাই দ্রুত গতিতে দৌড়াই। সবার আগে আমিই দেয়াল ছুঁয়েছি। কিন্তু গতির কারণে নিজেকে সামলাতে পারি নি। দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে উপরের পাটির একটা দাঁত পড়ে যায়। রক্তে মুখ ভরে গেছে। মুখে হাত দিয়ে দৌড়ে মার কাছে যাই। মা জাদু দিয়ে আমার কষ্ট মুছে দেয়।

তার মুখে কথার স্রোত, নদীতে সাঁতরে বড় হয়েছি। অনেক কিছু বুঝি। প্রশ্ন হলো, দস্যুরা কেন বারবার হানা দেয়?

জানি, একটু পর ও নিজেই জবাবটা দেবে। তাই আমি তারার দিকে চেয়ে সোনার ধানে ভরপুর এক দেশের কথা ভাবি।


১৩ পর্বের লিংক

জাহেদ মোতালেব

জাহেদ মোতালেব

জন্ম ৪ জানুয়ারি ১৯৭৪; হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। পেশা : সাংবাদিকতা।

প্রকাশিত বই :
খেলাবুড়া [গল্প, ২০১১]
লাল পা [গল্প, ২০১৩]
বিকেল অথবা বাঘের গল্প [অনুগল্প, ২০১৫]
রক্তরেখা [উপন্যাস; বেহুলা বাংলা, ২০১৭]

শিশুদের বই—
লা লা পা পা [গল্প, ২০০৯]
মুড়ি বুড়ি [গল্প, ২০১৪]
বক মানুষের দেশে [গল্প, ২০১৭]

ই-মেইল : jahedmotaleb@yahoo.co.uk
জাহেদ মোতালেব

Latest posts by জাহেদ মোতালেব (see all)