হোম গদ্য উপন্যাস ও ইতিহাস : যতক্ষণ গল্প ততক্ষণই জীবন

উপন্যাস ও ইতিহাস : যতক্ষণ গল্প ততক্ষণই জীবন

উপন্যাস ও ইতিহাস : যতক্ষণ গল্প ততক্ষণই জীবন
511
0

উপন্যাস আর ইতিহাস যেন দুই যমজ। জড়াজড়ি করে তারা এসেছে এই কালে—এই একুশ শতকে। অরুন্ধতী রায়ের দ্য গড অব স্মল থিংস উপন্যাসের এসথা ও রাহেলও যমজ। উপন্যাসের সময়ের শেষে তারা জড়াজড়ি শুয়ে আছে দুঃখের বৃষ্টিভেজা বিছানায়। সময়ের বুকে মানুষের পায়ের ছাপ খোঁজে অন্য দুই যমজ—ইতিহাস ও উপন্যাস। আধুনিক ইতিহাসের শুরু যে ষোলো শতকে, উপন্যাসের দিশারি সার্ভেন্তেসের ডন কিহোতেও লেখা হয় সে সময়ে—স্পেনে। দুই-ই অমিত সম্ভাবনাময় হলেও বারেবারে তাদের যুগল মৃত্যুর ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন পণ্ডিতেরা। মৃত্যুর পরোয়ানা মুখে নিয়েই যেন জন্ম তাদের।

ইতিহাস ও উপন্যাসের সমস্যাও যা, সম্ভাবনাও তা। তাদের নতুন হতে হয়, তাদের ঘাতসহ নায়ক-নায়িকার দরকার হয়। অদম্য জেদে ঘটনার নদী সাঁতরে পার হবে, এমন চরিত্র ছাড়া ইতিহাসেরও গতি নেই, উপন্যাসেরও বাঁচন নেই। কিন্তু মরণশীল কোনো মানুষ যদি বড় কিছু না করে, তাহলে কী নিয়ে কাজ করবে ইতিহাস, উপন্যাসই-বা চরিত্র খুঁজে পাবে কোথায়?


বর্বরতার বিরুদ্ধে কবিতা লেখা হয়েছে, উপন্যাস বলেছে শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার কথা।


উপন্যাস ছাড়া আধুনিক সাহিত্য কল্পনাই করা যায় না। আধুনিক সময়ের প্রধান সাহিত্যরূপ হলো উপন্যাস। এরও নিয়তি কি জীবনেরই মতো, জন্মানো মাত্রই চালু যার মৃত্যুঘড়ি? উপন্যাস লেখা শুরুর কিছুকাল পর থেকে বারেবারে বলা হয়েছে, উপন্যাস টিকবে না। আধুনিক ব্যক্তি, যার নিজস্ব মন আর চাওয়া-পাওয়া আছে, যার জীবনে ঘটে চলে বিস্তর পরিবর্তন; উপন্যাসের চরিত্র সেই স্বাধীন মানুষ। কিন্তু সেই স্বাধীন ইচ্ছার মানুষ তো ধুঁকছে এই নতুন পৃথিবীতে। পৃথিবীতে যতবার ফ্যাসিবাদের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে, ততবার কোনো না কোনো পণ্ডিত বলেছেন, নতুন উপন্যাস আর লেখা হবে না। কারণ, স্বাধীন ব্যক্তিমানুষ তো আর টিকবে না। হলোকস্টের পর কবিতা লেখা বর্বরতা মনে হয়েছিল জার্মান তাত্ত্বিক থিওডর অ্যাডর্নোর। তবু বর্বরতার বিরুদ্ধে কবিতা লেখা হয়েছে, উপন্যাস বলেছে শতবর্ষের নিঃসঙ্গতার কথা।

আবার যতবার পৃথিবীতে স্বপ্নরাজ্য কায়েমের আশা জেগেছে, ততবারই বলা হয়েছে ঘটনাহীন সেই শান্তির সমাজে উপন্যাস জন্মাবে না। সেখানে তো জীবনের নাটকীয়তা নেই! এরই মধ্যে মার্কিন রাজনৈতিক দার্শনিক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা ১৯৯২ সালে বই লিখে জানালেন, ইতিহাসেরও মৃত্যু ঘটতে চলেছে। সমাজতন্ত্রের বিদায়ের পর, তার মতে, লিবারাল পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের বাইরে আর কোনো সমাজের দরকার নেই মানুষের। তার কথা মানলে, যেহেতু রদবদল আর হচ্ছে না সেহেতু পরিবর্তনের গল্প বলার ইতিহাসও এখন থেকে বেকার।

সম্প্রতি ফুকুয়ামা ব্রিটেনের দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, না, ইতিহাসের মৃত্যু হয় নি। মানুষ আবার ভবিষ্যৎ নির্মাণের সংগ্রামে নেমেছে দেশে দেশে। আবার ফ্যাসিবাদের ছায়া ঘনিয়ে এসেছে বিশ্বজুড়ে। নতুন ধরনের সমাজতন্ত্র ও ইতিহাস ছাড়া মানুষ আর এগোতে পারছে না। আমরাও দেখতে পাই যুদ্ধ, দারিদ্র্য, পৃথিবী ধ্বংসকারী জলবায়ু পরিবর্তন তথা বিপর্যয়ের মহাবয়ানের মধ্যে অসংখ্য নরনারীর ভয়, আশা, কল্পনা আর ভালোবাসার কাহিনি জন্মাচ্ছে। সেসব কাহিনির পরতে পরতে তবু এক সমাপ্তির ভয়।

খুব কম উপন্যাসই আনন্দে শেষ হয়। আধুনিক উপন্যাসের বসতি যেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র কাঁদো নদী কাঁদোর ছোট্ট শহরে; সারাক্ষণ যেখানে শোনা যায় শোকের বিলাপ। অথবা তা যেন সৈয়দ শামসুল হকের দ্বিতীয় অস্তিত্বের ছোট্ট গ্রাম, যাকে মুড়ে ফেলেছে ভয়ের লোমশ থাবা। পতনের ভয়, মৃত্যুর পরিণতির দিকেই যেন যায় অধিকাংশ কাহিনি।

লিও টলস্টয়ের আনা কারেনিনা আর কিভাবে শেষ হতে পারত নায়িকার করুণ মৃত্যু ছাড়া? উপন্যাসটির শুরুতেই বলা আছে, সব সুখী পরিবার একই রকমভাবে সুখী আর অসুখীরা যার যার মতো করে অসুখী। লেভিনের সুখী পরিবারের গল্প কেউ পড়ত না, যদি না তার স্ত্রী আনা কারেনিনা ধ্বংসাত্মক প্রেমে পড়ে আত্মহত্যার দিকে যেত। পতন, মৃত্যু ও বিস্মৃতি যেন মানবজাতির সমস্ত কাহিনির মূল রস, মূল সুর। মানবজাতির আদি মহাকাব্য ইরাকি গিলগামেশ থেকে এই বিষাদ ছড়িয়ে যায় ভারতীয় মহাকাব্যে আর গ্রিক ট্র্যাজেডিতে এবং ইরানি মর্সিয়ায়। অন্তিমের এই ভয় সংক্রমিত আধুনিক উপন্যাসেও।

মহাবৃক্ষের পতন, মহানায়কের বিদায়, নিষ্পাপের মৃত্যুতাড়িত উপন্যাসগুলো কী বলতে চায় আসলে? উদয় ও বিলয়ের লীলার মধ্যে জীবনের গতিসূত্র চেনায়? আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামায় জিনের বসতি পাকুড়গাছ আর তমিজের বাপের মৃত্যু কিংবা চিলেকোঠার সেপাইয়ে হাড্ডি খিজিরের মৃত্যুর বিষাদ ছাড়া উপন্যাস দুটি এত অবিস্মরণীয় হতো কি? তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাঁসুলীবাঁকের উপকথার গোত্রপতি বনওয়ারি কিংবা কবি উপন্যাসের নিতাইয়ের মৃত্যু ট্র্যাজিক আবেশে বাঁধে পাঠককে। যেমন হৃদয়বিদারী বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালীর দুর্গার অকালমৃত্যু। অমিয়ভূষণ মজুমদারের গড় শ্রীখণ্ডতে সব শেষ হয়ে গেল, সব ভেসে গেল। বানের তোড়ের মধ্যে শুধু দুই শান্দার, ইয়াজ আর সুরতুন গিয়ে আশ্রয় নেয় নতুন জাগা ভূখণ্ডে। তারা যেন নতুন জেনেসিসের আদম ও হাওয়া।

বাংলা উপন্যাসে একদিকে দেখি পতনশীল নায়কদের : তিতাস একটি নদীর নাম-এ মালোপাড়ার মাঝি সম্প্রদায় ও তিতাস নদী, সতীনাথ ভাদুরীর ঢোঁড়াই চরিতমানস-এর ঢোঁড়াই, গড় শ্রীখণ্ড-তে চিকনডিহির জগৎ, রমেশচন্দ্র সেনের কুরপালা-র গান্ধিপুরুষ ইত্যাদি। অন্যদিকে উঠে দাঁড়ায় রাইজিংফিগার : হাঁসুলীর করালি, দেবেশ রায়ের তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত-র বাঘারু এবং ইলিয়াসের তমিজ ও হাড্ডি খিজিরেরা।


ইতিহাস ও উপন্যাসও বোধ হয় সে রকম : জানালা খোলা, দরজা বন্ধ।


ভুলে যাওয়ার ভয়ও কাঁপায় কাহিনিকারকে। ইতিহাস যা ভুলে যায়, উপন্যাস তা ভোলে না বলেই মিলান কুন্ডেরা লিখে যান বিস্মৃতির বিরুদ্ধে। শহীদুল জহির তুলে আনেন পুরান ঢাকার হারানো জীবন (জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা) আর পুনঃপুন নিয়তির ফাঁদে পড়া নরনারীদের অতিমানবিক ভালোবাসার গল্প (মুখের দিকে দেখি)। তার মুখের দিকে দেখি যেন আমাদের নিজস্ব শতবর্ষের নিঃসঙ্গতারই গল্প।

উপন্যাস পড়তে গিয়ে ভয় হয় না? যে শেষ হয়ে আসবে গল্পটা আর আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে কোনো এক বিপন্ন বিস্ময় অথবা বেদনার্ত প্রস্থানের ধাক্কা! যেমনটা করেন হুমায়ূন আহমেদ? যে পরিণতির কথা বলা হয়েছে সেমেটিক ধর্মবিশ্বাসে, যে আমরা স্বর্গ থেকে পতিত হয়ে ভুলের শাস্তি ভোগ করে চলেছি, উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা যেন তারই মহড়া। যেন প্রলয়, কেয়ামত, অ্যাপোক্যালিপস আসন্ন। ইতিহাসের মৃত্যু ঘোষণার মতো মানবজাতির বিলয়ের সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয় জাপানি কাহিনিকার হারুকি মোরাকামির হার্ড বয়েলড ওয়ান্ডারল্যান্ড অ্যান্ড অ্যাট দ্য এন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এ। স্বপ্ন আর বাস্তবে চলা দুটি জীবন এর নায়কের। বাস্তবে খুনিরা তাকে পেয়ে যাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই, এদিকে তার পূর্বনির্ধারিত জীবনও ফুরিয়ে আসছে। বাস্তবে পালাতে থাকা লোকটা স্বপ্নের জগতে এক বিরান শহরে কয়েদি। ছায়া জমা দিয়ে ঢুকতে হয় সেখানে। শরীর হারিয়ে ছায়াটা মারা যাচ্ছে, শীতও আসছে। বন আর হৃদের কুহকের মধ্যে আটকে মারা যাচ্ছে ছায়াহীন মানুষটিও। ত্রিভুজের দুটি বাহুর মতো দুটি গল্পের রেখা যে বিন্দুতে মিলছে, সেখানে চরিত্রটি সমুদ্রের পার একা, খুব ঘুম পাচ্ছে তার। একটা বিষণ্ন সুর যেন ক্রমশ জোরালো হতে থাকে, যেন দুনিয়ার শেষ সময়ে চলে এসেছি আমরা। যে সমাপ্তির কথা বারবার বলে গেছে ইতিহাস, মিথ ও পুরাণ।

ইতিহাস আর ন্যারেটিভের চলন তাই রেললাইনের মতো। সুদানের উপন্যাস সিজন অব মাইগ্রেশন টু দ্য নর্থ উপন্যাসে গ্রামের ভেতর গোলাঘরের মতো এক সভ্যতাঘর আছে প্রধান চরিত্রের। সভ্যতার পাপে তাকে আত্মহত্যা করতে হয়, আর গল্পটা যে বলে, সে নেমে পড়ে নদীতে। সভ্যতার বিষে আত্মা যার জর্জর, প্রকৃতি তাকে টানছে অতলে। শেষ মুহূর্তে সে ডুবে যেতে যেতে কেবল বলতে পারে, ‘বাঁচাও, বাঁচাও!’

আধুনিকতা ও ঐতিহ্যের টানাপড়েনে আত্মঘাতী হওয়ার এই গল্প যেন তাবৎ ঔপনিবেশিক সমাজের সংকট চেনায়। উপন্যাস যেন ডুবন্ত মানবতরির ‘এসওএস’ বার্তা।

সেই বার্তা আরেকভাবে শোনায় অরুন্ধতীর শেষ উপন্যাস দ্য মিনিস্ট্রি অব আটমোস্ট হ্যাপিনেস। জগতের সব লাঞ্ছিত ভাগ্যহতের উজ্জ্বল ছায়াপথ যেন অরূন্ধতীর জগৎ। দলিত, মাওবাদী, মুসলিম, কাশ্মীরি, পথশিশু, হিজড়া, খোঁড়া কুকুর, রুগ্‌ণ ঘোড়া, সাহসী গুবরে পোকা, মৃত নর্তকী—কে নেই সেখানে? অরুন্ধতীর এ কাহিনি আধিপত্যবাদী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক ভাববোমা। কিভাবে তিনি রুদ্ধশ্বাস গল্পগুলো বলেন? ধীরে ধীরে সবার মতো হয়ে গিয়ে? না, তেমনভাবে তিনি বলেন না। মানুষের কাছে মানুষ, পোকার কাছে পোকা, হৃদয়ের কাছে হৃদয়, জলের কাছে জল হয়ে না গেলে কেমন করে সবার গল্প বলা সম্ভব? ইতিহাস যা পারে নি অরুন্ধতী রায় তা পেরেছেন সময়ের আত্মার স্বর হয়ে ওঠে।

দ্য গড অব স্মল থিংস-এর যমজ ভাইবোন এসথা রাহেল বনের ভেতর এক পোড়োবাড়ির খোঁজ পায়। বাড়িটার দরজা বন্ধ, কিন্তু জানালা খোলা। এই বাড়ির নাম তারা দেয় ‘হিস্ট্রি হাউস’। জানালা দিয়ে এর ভেতরটা দেখা গেলেও অদলবদলের কোনো পথ নেই। কারণ, দরজার চাবি তো খোয়া গেছে।

ইতিহাস ও উপন্যাসও বোধ হয় সে রকম : জানালা খোলা, দরজা বন্ধ। পাঠক কেবল জানালা দিয়ে দেখতে পারে ভেতরের ঘটনা। দেখতে দেখতে যদি কাহিনির মধ্যে, ইতিহাসের ওলটপালটের মধ্যে ঢুকে পড়ার সাহস পাঠকের হয়, তবে তাকে নিয়ে লেখা যাবে ইতালো কালভিনোর ইফ অন আ উইন্টার্স নাইট আ ট্রাভেলার-এর মতো রোমাঞ্চকর উপন্যাস। পাঠক সেখানে কাহিনির শেষটা বদলে দিতে পারে।


শিশুরা দুনিয়াময় ছড়িয়ে গেল বলেই তো সকল ভাষায় এত এত গল্পের জন্ম হয়!


উপন্যাসে বিদায়ের সুরে রোমাঞ্চ আছে বলেই তো তার নেশা ফুরায় না। তার মোহে, তার মায়াবী ফাঁদে আমরা ধরা দিই আরব্য রজনীর বাদশাহের মতো। সে জানে শেহেরজাদের নতুন নতুন গল্প বানিয়ে বলার তলায় রয়েছে বাঁচার প্রাণপণ জিদ। বাদশাহের অন্য সব শিকারের মতো ভোগের বলি হবে না সে। শেহেরজাদ জানে, গল্প ফুরালেই মৃত্যু।

যতক্ষণ তোমার গল্প আছে, ততক্ষণই তোমার জীবন।

হে পাঠক, উপন্যাস যতই আদিম ট্র্যাজিক চেতনা বহন করুক, ইতিহাসের মতোই তা মৃত্যুর বিরুদ্ধে, বিস্মৃতির বিরুদ্ধে, বিলয়ের বিরুদ্ধে মানুষের শেষ অস্ত্র। সালমান রুশদির হারুন অ্যান্ড দ্য সি অব স্টোরিজ-এর গল্প বলিয়ে লোকটার বউ তার প্রেমিকের প্ররোচনায় স্বামীকে বলে বসে, ‘তোমার গল্প তো সত্যি না!’ ছেলেও বলে, ‘তোমার গল্প তো বানোয়াট।’ সেদিন থেকে গল্প বলা ভুলে যায় হারুন আর বউ ভুলে যায় গান গাইতে। আর বিষণ্নতম শহরটা তো দুঃখের চোটে আপন নামটাই ভুলে গেছে। গল্প হারিয়ে, গান হারিয়ে, নাম হারানো সেই শহর বরফের ভাস্কর্যের মতো নাজুক আর বোবা হয়ে গেল।

জীবন যতই বিষাদময় হোক, গল্প তার আত্মার সুবাস। একে বিশ্বাস করুন। বাঁচবেন, যেমন করে বেঁচে গিয়েছিল শেহেরজাদ। বহুগামী বাদশাহও গল্পের নেশায় প্রেম শিখেছিল। আর তাদের ঘরের শিশুরা দুনিয়াময় ছড়িয়ে গেল বলেই তো সকল ভাষায় এত এত গল্পের জন্ম হয়!

গল্পকে বিশ্বাস করুন। যেমন বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করে, দ্য মিনিস্ট্রির শেষ দৃশ্যটা : গোরস্থানে একটা শিশু জন্মেছে। তাই গুবরে পোকাটা রাতে ঘুমায় না। চিতশোয়া হয়ে সব কটি পা সে ওপরে তুলে রেখেছে, যাতে আকাশটা ভেঙে না পড়ে; কারণ, মিস উদয়া জেবিন নামের শিশুটাকে বাঁচাতে হবে।

ফারুক ওয়াসিফ

ফারুক ওয়াসিফ

জন্ম ২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫, বগুড়া। পেশায় সাংবাদিক।
বুদ্ধিবৃত্তিক নানা তৎপরতার সাথে যুক্ত।

প্রকাশিত বই :

কবিতা—
জল জবা জয়তুন [আগামী, ২০১৫]
বিস্মরণের চাবুক [আগামী, ২০১৮]

প্রবন্ধ—
জরুরি অবস্থার আমলনামা [শুদ্ধস্বর, ২০০৯]
ইতিহাসের করুণ কঠিন ছায়াপাতের দিনে [শুদ্ধস্বর, ২০১০]
বাসনার রাজনীতি, কল্পনার সীমা [আগামী, ২০১৬]
জীবনানন্দের মায়াবাস্তব [আগামী, ২০১৮]

অনুবাদ—
সাদ্দামের জবানবন্দি [প্রথমা, ২০১৩]

ই-মেইল : rotnopahar@gmail.com
ফারুক ওয়াসিফ