হোম গদ্য আসল রুমির সন্ধানে

আসল রুমির সন্ধানে

আসল রুমির সন্ধানে
1.74K
0

পাশ্চাত্য [ওয়েস্ট] ও প্রাচ্যে [ইস্ট] রুমি-পাঠ একটা হঠকারী গ্লাসের মাধ্যমে দেখা ওরিয়েন্টালিস্ট পাঠ। এতে কাজ করেছে পশ্চিম-নিয়ন্ত্রিত ভাষা-বুদ্ধিজীবীরা। জাক লাঁকা বলেছেন ভাষার বাইরে কিছুই নাই। শক্তির কেন্দ্রে থাকা মানুষ নিজের ভাষাকে অপরের ভাষা বানিয়ে ফেলে, নিজের চিন্তাকে অপরের চিন্তা বানিয়ে ফেলে। রুমির অনুবাদেও সেই রকমের ঘটনা ঘটেছে। এটি যারা করেছেন তারা নিজের ভাষাকে রুমির ভাষা বানিয়ে নিয়েছেন, অধিকন্তু নিজেদেরকেই রুমির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। রুমি যে কিনা প্রাচ্যের মাওলানা, তিনি ও তার পাঠকেরা আজ এই ভাষা ছিনতাইয়ের শিকার। এডওয়ার্ড সাঈদের ‘ওরিয়েন্টালিজম’ যারা পড়েছেন তারা লক্ষ করে থাকবেন, এই বইতে সাঈদ দেখিয়েছেন কিভাবে পশ্চিমারা নিজেদের ক্ষমতার সুবিধার্থে প্রাচ্যকে নতুনভাবে সৃষ্টি করেছে। সেটি এমনকি ইস্কাইলাস, দান্তে ও হাল আমলের কার্ল মার্ক্সের চিন্তাধারাতেই হাজির আছে। তাদের মতে প্রাচ্য যেন সেই পুরানকালের পৃথিবী যেখানে পাওয়া যায় ইরোটিক রোমান্স, চমকপ্রদ ভূপ্রকৃতি, জীবজন্তু ও মানুষজন। তিনি দেখিয়েছেন—প্রাচ্যে আসলে যা ঘটে নাই [বা কোনোকালে হয়তো বিন্দু পরিমাণ ছিল] তাকে কল্পনায় ঘটিয়ে এবং সেই কল্পনাকে ফোকাস করে কিভাবে তারা তাদের ভাগ্য ও ক্ষমতাকে দৃঢ়তর করতে পেরেছে। তিনি আরো দেখিয়েছেন—ওরিয়েন্টালিস্টরা ontological [সত্তাতত্ত্বীয়] এবং epistemological [জ্ঞানতত্ত্বীয়] রূপরেখার ওপর ভিত্তি করে কিভাবে ‘দ্য ওরিয়েন্ট’ এবং ‘দ্য ওক্সিডেন্ট’-এর মধ্যে সূক্ষ্ম বিভাজন রেখা তৈরি করতে পেরেছে। তারা এই জ্ঞানতত্ত্ব হাজির করতে পেরেছে যে—প্রাচ্য যতটা না বুদ্ধীদীপ্ত তার চেয়ে বেশি ইন্দ্রিয়পরায়ণ, লঘু চিত্তের ও তাদের পরিবার-সমাজ অন্যায়ভাবে পুরুষ শাসিত। এই অবস্থা থেকে তাদের মুক্তি দরকার, তাই ‘ওরিয়েন্টালিজম’ হয়ে যায় এক ধরনের হাতিয়ার যার মাধ্যমে তারা প্রাচ্যকে শাসন, সাথে সাথে তাদের জ্ঞান কাঠামোকে পুনর্নির্মাণ, ও ‘পুনর্বিন্যাস’ করতে পারে। সে মোতাবেক প্রাচ্য সম্পর্কিত তাদের ইতিহাস, সমাজ, রাষ্ট্র, শিল্প সাহিত্য বা দর্শন—এই বিভেদ রেখার মধ্য থেকেই উঠে এসেছে। প্রাচ্যকে বিচার করার আর একটি ক্যাটালিস্ট তাদের কাছে আছে, সেটি হলো আরবের ইসলাম। ইসলামকে তাদের করা জ্ঞানতত্ত্বের ন্যারেটিভিটিতে দেখার মধ্যে আর কিছুই নয়, পশ্চিমাদের উন্নত জীবনধরন—সেটি রাজনৈতিক, রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিক, শৈল্পিক বা সাহিত্যিক যাই হোক তাকে বড় করে হাজির করানো ছাড়া আর কিছু নয়। এর ফলে ওরিয়ান্টালিস্টদের প্রাচ্য সম্পর্কিত রচনায় যে মানুষের জীবন তা অনেকটাই এক মিথের জগৎ, এক কাল্পনিক জগৎ, এক প্রায় বানানো অবাস্তব জগৎ।


রুমি নৈতিক শিক্ষার ছলে কোরানের আখ্যান বার বার ব্যবহার করেছেন অসাধারণ দক্ষতা আর সিনসিয়ারিটির সাথে।


ঠিক একইভাবে পশ্চিমাদের রুমি-পাঠ এই ওরিয়েন্টালিস্ট দৃষ্টিকোণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর ক্ষমতায়নের যুগে ভাষা একটি বিরাট অস্ত্র। আপনি গায়ের জোরে কিছু পারছেন না, আসেন ভাষা নিয়ে, ভাষা পরিবর্তন করেন, তখন এমনিতেই কম-বেশি সবাই আপনার পক্ষে এসে যাবে। তাই রুমি-অনুবাদ পশ্চিমাদের জন্য খুব জরুরি। মনে রাখবেন, রুমির ‘ইমেজ’-নির্ভর পাগড়ি-মাথায় দাড়িওয়ালা সৌম্য চেহারার যে রুমি আমরা আজ দেখতে পাই, তা তাদের অন্তঃসারশূন্য গুরুবাদী ধ্যান-ধারণাকে ‘দরবেশ’ মোড়কে ঢেকে প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনার চেহারাও বিরাট শক্তি। রুমির ফেসভ্যালু ঠিক আছে, কিন্তু তাকে দিয়ে নিজেদের ক্ষয়ে যাওয়া, রগ্‌ণ আত্মাকে ঢাকার যে কৌশল তা সহজ মানুষ ধরতে পারেন না। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আসলে স্বাধীনতার পায়ে বেড়ি, আপনি দেখবেন এই পশ্চিমা সংস্কৃতির হেজেমনি তাদেরকে পায়ের মধ্যে না শুধু, মনেও বেড়ি পরিয়ে দিয়েছে। তারা মানসিকভাবে বাঁচার জন্য বা মুক্তির জন্য, যা পারে—ইয়োগা থেকে শুরু করে চাইনিজ হারবাল, যোগীর সাথে গুহায় রাত্রিযাপন সবই ট্রাই করে।  এই যে এই শূন্যতা, তার থেকে মুক্তিলাভের জন্য মাঝে মাঝে কবিতা মানে ভাষার কাছেও তাদেরকে যেতে হয়। রুমি-অনুবাদ বা রুমি-ডিসকোর্স এমন একটি প্রকল্প যেখানে আমরা দেখব জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমি থেকে ‘মুহাম্মদ’ নামটা বাদ দিয়ে ‘রুমি’ নামের সিগ্নিফাইয়ারে এমন একটা সিম্বলিক চেইনের সিগ্নিফাইড তৈরি করা হইছে যে এর কাছ থেকে ইসলামিক রেফারেন্সগুলো সুচতুরতার সাথে আস্তে আস্তে মুছে ফেলা হয়েছে।

রুমি-পাঠ আজ আর শুধু কবিতা পাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, কেউ কেউ বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষ যারা মুক্তমনা বা লিবারেল বলে নিজেদেরকে দাবি করেন, তারা এর মধ্যে এমন এক দাওয়াই পেয়ে গেছেন বলে মনে হয় যে, রুমির কবিতা আজ তাদেরকে এই বস্তুবাদী দুনিয়ার মধ্যে এক ঝলক প্রশান্তি এনে দিয়েছে! এক প্রকারের অর্থনৈতিক মুক্তি, দায়-দায়িত্বহীন যৌনতানির্ভর সোশ্যাল ইন্টার-অ্যাকশন, সম-সেক্সের মতো প্রকৃতি-বিরোধী কাজও যখন তাদেরকে শান্তি দিতে পারছে না, তারা রুমি-পাঠে এমন কী মধুর খোঁজ পেল যে তারা মনের দুঃখকষ্ট ভুলে গেল! এ জন্য আমাদেরকে রুমিপাঠের ব্যাকগ্রাউন্ডে লুকানো রুমি অনুবাদকারীদের মনোভূমি দেখতে হবে। দেখতে হবে রুমি কিভাবে মাওলানা জালালউদ্দিন মুহাম্মদ রুমি থেকে হয়ে গেছেন শুধুই ‘রুমি’।  জানা যায় যে আমেরিকান অভিনেত্রী গিনিথ পালট্রোর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর, বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড সংগীতশিল্পী ক্রিস মার্টিনকে তার বন্ধুরা একটি বই উপহার দিয়েছিলেন। কিসের বই এটি? বইটি ছিল তেরশ শতকের ইরানিয়ান কবি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ রুমির কবিতাসংগ্রহ। বইটি অনুবাদ করেছেন কোলমেন বার্কস। মার্টিন বলেছিলেন যে এটি তার জীবন এক রকম পাল্টে দেয়। কোল্ড প্লের সাম্প্রতিক অ্যালবামে একটি ট্র্যাক যোগ করা হয়েছে যেখানে বার্ক স্বয়ং রুমির কবিতা পড়ছেন :

আমি হলাম একটি অতিথিবাড়ি
প্রতি সকালে ঘটে নতুন আগমন
হাসিখুশি, দুঃখ অথবা হীনম্মন্য মন
কিছু ক্ষণস্থায়ী বোধ আসে—
অনাকাঙ্ক্ষিত দর্শনপ্রার্থীর মতো।

ধারণা করা হয় এমনভাবে রুমির কবিতা অন্যান্য অস্থির, প্রায় উন্মাদ সেলিব্রিটি—যেমন ম্যাডোনা, টিডা সুইন্টন ইত্যাদিকে আধ্যাত্মিক লাইন পাওয়ার জন্য মেলা সাহায্য করেছে। আপনারা হয়তো দেখে থাকবেন মহান ব্যক্তিদের মতো ‘রুমি-বাণী’ এই নামে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিদিন ছোট ছোট রুমি-কবিতা প্রকাশ পায়। যেমন ‘তুমি যদি প্রতি ঘর্ষণে বিরক্ত হয়ে যাও—তাহলে কিভাবে তুমি মসৃণ হবে?’ এরকম অনেক রুমি-বাণী যা কিনা অধিকাংশই বার্ক-এর অনুবাদ, যাতে আজকে অনেকেই তাদের জীবনের অর্থ খুঁজে পান।আমেরিকাতে রুমিকে কখনো বলা হয় সবচেয়ে বিক্রি হওয়া কবি। তাকে বলা হয় মিস্টিক দরবেশ, সুফি বা আলোকিত মানুষ হিসাবে। পশ্চিমাদের মারটা এখানেই। রুমি সারা জীবন ধরে কোরান এবং ইসলাম ধর্মের একজন বিখ্যাত শিক্ষক ও পণ্ডিত ছিলেন। তার ইসলাম কোরান হাদিস মোতাবেক গড়ে ওঠা শরিয়া নির্ভর ইসলাম। তা সত্ত্বেও বিরাট পাঠকের কাছে তিনি একজন মুসলমান হিসাবে প্রায় অপরিচিত। অনুবাদকেরা খুব চতুরতার সাথে মুহাম্মদ রুমির আসল পরিচয়কে আড়াল করতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে মিস্টিক, সাধু, গুরু ইত্যাদি নন-ইসলামিক টার্মে পরিচয় করে দেয়া হয়েছে। পাঠক লক্ষ করে থাকবেন—যে কথাগুলো মার্টিন তার অ্যালবামে এস্তেমাল করেছেন সেই কথাগুলো নেয়া হয়েছে রুমির বিখ্যাত কিতাব মাসনভি থেকে। মাসনভি হচ্ছে ফারসি ভাষায় লিখিত রুমির একটি মহাকাব্য যার রয়েছে ছয়টি খণ্ড। এর পঞ্চাশ হাজার লাইনের মধ্যে প্রায় সবগুলোই ফারসিতে লেখা। কিন্তু সেগুলো কোরানের রেফারেন্স, উদ্ধৃতি দিয়ে ভরপুর। এই বইতে রুমি নৈতিক শিক্ষার ছলে কোরানের আখ্যান বার বার ব্যবহার করেছেন অসাধারণ দক্ষতা আর সিনসিয়ারিটির সাথে। পণ্ডিতগণ তাই এটিকে পারসিয়ান কোরান বলে থাকেন। এই  বিষয়ে ম্যারিল্যান্ড ইউনিভারসিটির অধ্যাপক ফাতেমা কেশাভারজ বলেন যে—সম্ভবত রুমি আল কোরান মুখস্ত করেছিলেন। তা না হলে এত সুন্দরভাবে তিনি মাসনভি লিখতে পারতেন না।  রুমি নিজেই মাসনভিকে ‘রুটস অব দ্য রুটস অব দ্য রুটস অব রেলিজিয়ন’ অর্থাৎ ইসলাম এবং কোরানের ব্যাখ্যাকারী হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তা সত্ত্বেও বার্ক ও অন্যান্য পশ্চিমা অনুবাদকদের রুমি-অনুবাদে ইসলাম ধর্মের বিন্দু পরিমাণ ছাপ দেখতে পাওয়া যায় না। অতীতের একজন বিখ্যাত সুফি স্কলার জাওয়াদ মোজাদ্দেদি বলেছেন—রুমির কবিতার অনুবাদ হয়েছে পশ্চিমাদের রুচি, ইরোটিক সংস্কৃতি এবং চটকদার বইয়ের পাঠ মানসিকতা অনুযায়ী। রুমির কবিতার যে রকম ইংরেজি অনুবাদ করা হয়েছে তা আসলে ভোগবাদী মানুষের শূন্যতা সাময়িকভাবে পূরণের মধুর ভাষা—খেলা। কিন্তু তার ফলে যে দাম বিশ্বের পাঠক তথা মুসলিমদেরকে চুকাতে হয়েছে সেটি হলো সেখান থেকে ইসলাম ও ইসলামিক অনুষঙ্গ ছেঁটে ফেলা হয়েছে।


রুমির কবিতা থেকে ইসলামকে মুছে দেয়ার যে প্রজেক্ট তা কিন্তু কোল্ড প্লের অনেক আগেই শুরু হয়েছে।


জালালউদ্দিন মুহাম্মদ রুমি তের শত শতাব্দীতে আফগানিস্তানে জন্ম গ্রহণ করেন। পরে তিনি পরিবারসহ কনিয়াতে [বর্তমান তুর্কির একটি ঐতিহাসিক শহর] হিজরত করেন। তার বাবা ছিলেন একজন সুন্নি ইসলাম ধর্ম প্রচারক ও ইসলামিক স্কলার। কথিত আছে তিনি এক সময় রুমিকে সুফিইজমের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সুফিইজম তখনও অক্ষত ছিল, মানে তখনও কোরান আর সুন্নাহ নির্ভর ছিল। তখনও তা স্থানীয় ও অস্থানীয় সর্বপ্রাণবাদী ধর্ম ও লোকাচারের সংস্পর্শে না এসে, কোরান ও নবি মুহাম্মদ সা.-এর ইসলামের ওপর নির্ভর ছিল। তাই রুমিও সুফিইজমকে কোরান আর সুন্নাহর বাইরে কিছু মনে করেন নি। কারণ কোরান সুন্নাহ তথা ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত না থাকলে সেটি সুফিইজম নয়, সেটি হয়ে যায় ভণ্ডামি। রুমি কিভাবে মুল ধারার ইসলামের কাছে নিজকে সঁপে দিয়েছেলেন নিচের কবিতার লাইন দুটি পড়লেই টের পাওয়া যায়—

Muhammad broke many idols in the world, so that (religious)
communities were saying, “O (our Sustaining) Lord!”

If it had not been for Muhammad’s efforts, you also would have
worshiped idols like your ancestors.

[from Mawlânâ’s Masnavî, Book 2]

যা হোক, রুমি সেই সময় সিরিয়াতে সুন্নি ইসলামের ফিকহ-এর ওপর অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন এবং পরে কনিয়াতে ফিরে এসে শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত হোন। ঠিক এই সময় তার সাথে শামস তাবরিজি নামের একজন বয়সী মিস্টিক ভ্রামণিকের সাথে পরিচয় ঘটে। যিনি অচিরেই রুমির মেন্টর হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন। এই সাক্ষাৎ তার জীবন অনেকটা পাল্টে দেয়। তাদের দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর সম্পর্ক বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মাঝে বিতর্ক আছে , কিন্তু এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে রুমির ধর্মীয় চিন্তাধারা ও ইসলামিক জীবনাচরণে শামস তাবরিজির প্রভাব গভীর। জনাব ব্রড গুচের করা রুমির নতুন জীবনীতে দেখা যায় যে শামস তাবরিজি কিভাবে রুমির ফিকহ শিক্ষাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করে, কোরানিক ব্যাখ্যা নিয়ে তর্ক হাজির করে, শুধু কিভাবে আল্লাহর সাথে একাত্ম হওয়া যায় সেই ধারণার ওপর জোর দেয়ার জন্য প্রভাব বিস্তার করেন। আমাদের দেশেও দেখবেন এই ধারাটি বেশ সচল। বিভিন্ন সুফি তরিকার লোকজনের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় যারা একজন গুরু বা বাবার সাহচর্যে আসেন, বায়াত গ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে গাফলতি দেখা যায়, দেখা যায় ইসলামে যা নাই তাই তারা বেশি করে করেন। শামস তাবরিজির সঙ্গ লাভের পর রুমি তার কবিতায় কোরানের বিধি বিধানের সাথে, আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি প্রেম ও ভালোবাসা ও মিস্টিক্যাল চিন্তার মিস্রণ ঘটান। কেশাভারেজের মতে এই অদ্ভুত বুনন রুমিকে সমকালীন অন্যান্য অনেকের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলে। কস্মোপলিটান কনিয়া, সুফি, মুসলমান সাহিত্যিকগোষ্ঠী, থিওলোজিয়ান, খ্রিষ্টান, ইহুদি এবং স্থানীয় সেলজুক সুন্নি শাসকগোষ্ঠীর ভেতর রুমির বিরাট অনুসারী গড়ে ওঠে। রুমিস সেক্রেট বইতে গুচ সেই সময়ের রাজনৈতিক, ধর্মীয় শিক্ষা কিভাবে রুমিকে আন্দোলিত করেছিল তা তুলে ধরেন। গুচ বলেন, রুমি একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং আজীবন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং অন্যান্য ইসলামিক বিধান যেমন : সিয়াম, হজ, জাকাত, কোরানপাঠ ও কোরান অন্তস্থকরণ সবই কঠোরভাবে পালন করেন। যদিও গুচের বইয়ে রুমির জীবনের এই সত্যতাকে এড়িয়ে রুমিকে প্রেম-ধর্মের গুরু বা  ইরোটিক-প্রেমের কবি রুমি বানানোর এক ধরনের চাপা উত্তেজনা দেখা যায়। যার ফলে এই সব পাঠে যা হয় তা হলো—রুমির ইসলামিক ব্যাকগ্রাউন্ড চাপা পড়ে গেল, তার কবিতায় কোরান ও সুন্নার প্রভাব আড়ালে চলে গেল। মোজাজেদ্দি দেখান যে কোরান মুসলমান ও খ্রিষ্টানদেরকে আহলে কিতাব—পিপল অব দ্য বুক বলে যে কথা বলে, তা আসলে সর্বজনীনতায় নিয়ে যায়। এই যে বিশ্বজনীন তত্ত্ব আমরা রুমির কবিতায় পাই এবং তাকে মান্য করি তার কবিতার মূলধন হিসাবে এটি আসলে এসেছে রুমির কোরান পাঠ থেকেই।

মনে রাখতে হবে রুমির কবিতা থেকে ইসলামকে মুছে দেয়ার যে প্রজেক্ট তা কিন্তু কোল্ড প্লের অনেক আগেই শুরু হয়েছে। ওমিদ সাফি, অধ্যাপক মিডল ইস্টার্ন এবং ইসলামিক স্ট্যাডিজ, ডিউক ইউনিভারসিটি, বলেন—এটি আসলে পরিকল্পিতভাবে শুরু হয়েছে ভিক্টোরিয়ান যুগেই, যেখানে রুমির মিস্টিক্যাল কবিতাগুলো তার ইসলামিক শেকড় থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে। সে সময়ের অনুবাদক এবং ধর্মতাত্ত্বিকগণ ‘মরুভূমি’র ধর্ম বলে খ্যাত ইসলামিক বিধিবিধান তথা তার অসাধারণ নৈতিক ও আইনি অনুশাসনের সাথে রুমি ও হাফিজের মরমি কবিতাগুলোকে মেলাতে পারেন নি। বলা যায় মেনে নিতে পারেন নি। অধ্যাপক সাফির মতে—তারা এই ন্যারেটিভিটি পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি করতে সম্ভব হোন যে—রুমি মিস্টিক্যাল কবি ইসলামের জন্য হয় নি, বরং ইসলামকে বাদ দিয়ে। এতে তারা প্রবলভাবে সফল হয়েছে বলে মনে করি। কারণ পশ্চিমা বিশ্ব, এমনকি প্রাচ্য বলে আমরা যে দেশগুলো জানি তারা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও  বাংলাদেশের পাঠক ও লেখকগণ রুমির ইসলামিক ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা আমলেই নেন না। ওরিয়ন্টালিস্টরা যে পর্দা ফেলতে সক্ষম হয়েছে তার ফলাফল আমরা রুমি পাঠেই দেখতে পাই। রুমিকে সুফিকবি, গুরুকবি, মিস্টিক ইত্যাদি অভিধায় মূল্যায়ন করে তার খাঁটি মুসলমান পরিচয়কে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর সাথে কিছু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণও জড়িত। আমেরিকায় এক সময় মুসলমানদেরকে লিগ্যাল ডিস্ক্রিমিনেশনের জন্য টার্গেট করা হয়। ১৭৯০ সালে আইন করে মুসলমানদের আমেরিকা আসা ব্যাপক হারে কর্তন করা হয়। ঠিক এর এক শতাব্দী পরে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট এই বলে মত দেন যে মুসলমানরা অন্যান্য ফেইথের বা সেক্টরের লোকদের প্রতি শক্ত শত্রুতা পোষণ করে। এর হাত ধরে ১৮৯৮ সালে মাসনভি অনুবাদের ভূমিকায়, স্যার জ্যাম্বস রেডহাউস বলেন যে—মাসনভি সেই সকল মানুষদের উদ্দেশে লেখা যারা পৃথিবীর মোহ ত্যাগ করে সৃষ্টিকর্তাকে জানতে চায় ও তার সাথে থাকতে চায়। তাদের আমিত্বকে ধ্বংস করে দেয়, নিজেদেরকে আধ্যাত্মিক ধ্যানে সঁপে দেয়। এখানে চতুরতার সাথে  রুমির কোরান ও নবিজির সাথে নিবিড় যোগাযোগের কথা বেমালুম নাই করে দেয়া হয়। এভাবে ইসলাম ও রুমি আলাদা হয়ে যায়, বলা যায়—রুমি থেকে ইসলামের বিচ্ছেদ ঘটানো হয়।


কোরান ছাড়া রুমিপাঠ হলো বাইবেল ছাড়া মিল্টন পড়ার মতো।


বিংশ শতাব্দীতে এক ঝাঁক রুমি অনুবাদক যেমন : আর এ নিকোলসন, এ জে আরবেরি এবং এনমেরি শিম্মেল ইংরেজি ভাষায় রুমিকে ব্যাপকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু বার্ক হলো সেই রুমি অনুবাদক যে কিনা রুমি-পঠনের বিস্তৃতি ঘটান ব্যাপকভাবে। তিনি আসলে একজন অনুবাদক, রুমির কবিতার ব্যাখ্যাকারী নন। তিনি ফারসি লিখতে পারেন না পড়তেও পারেন না। রুমির কবিতার ব্যাকগ্রাউন্ড না জেনে বা এড়িয়ে গিয়ে তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর অনুবাদগুলোকে আমেরিকান হালকা, সেক্সি পদ্যে পরিণত করে। বার্ক সাহেবের জন্ম ১৯৩৭ সালে, বড় হয়েছেন ছাত্তানুগা, টেনেসিতে। তিনি পিএইচডি করেন ইংলিশ লিটেরেচারে এবং তার প্রথম বই, কবিতার বই রস বের হয় ১৯৭১ সালে। পরের দশকে তিনি প্রথম রুমির কথা জানতে পারেন যখন কবি রবার্ট ব্লাই তাকে আরবেরির করা রুমির অনুবাদ উপহার দেন। রবার্ট ব্লাই তাকে বলেন যে, এইগুলো তাদের খাঁচা থেকে বের করে আনতে হবে। মানে এইগুলোকে আমেরিকান স্বাদে ও স্ট্যাইলে অনুবাদ ও প্রকাশ করতে হবে।

বার্ক নিজে কখনো ইসলামিক লিটেরেচার পড়েন নাই। কিন্তু তিনি সাংবাদিক রুজিনা আলিকে বলেন, তিনি একদিন একটা স্বপ্ন দেখেন যে, একদিন তিনি একটা নদীর কিনারে বসে আছেন। এমন সময়ে উজ্জ্বল আলোর চক্রে একজন আগুন্তুকের আগমন ঘটল। কাছে এসে বললেন, ‘তোমাকে আমি ভালোবাসি’। বার্ক কখনো এই লোককে দেখেন নাই, কিন্তু পরের বছর ফিলাডেলফিয়ায় এক সুফি আস্তানায় তার সাথে দেখা হয়। সেই থেকে বার্ক জনাব ব্লাইয়ের মাধ্যমে পাওয়া ভিক্টোরিয়ান যুগের রুমি-অনুবাদ পড়তে শুরু করেন। তার এই পাঠ শুধু সাধারণ পাঠ ছিল না, তিনি এর ভাবানুবাদ, নিজের মতো করে শব্দ বাক্য সাজানো শুরু করেন। সেই থেকে তিনি রুমির ওপর প্রায় এক ডজন বই প্রকাশ করে ফেলেন। আলোচনার এক পর্যায় বার্ক রুমির কবিতাকে হৃদয় খোলার রহস্য [মিস্ট্রি] বলে মনে করেন। এই ‘মিস্ট্রি’কে ধরার জন্য রুমি অনুবাদে তিনি ব্যাপক স্বাধীনতা নেন। কিন্তু যে ভয়ানক বিষয়টি তিনি করলেন তা হলো রুমির কবিতা থেকে ইসলামকে তিনি প্রায় পুরাপুরি সরিয়ে দিলেন। তার ফলে যা হলো তা উল্টো কিছু। ধরেন ‘লাইক দিস’ [এরকম] কবিতাটির কথা। এই কবিতার একটি লাইন আরবেরি অনুবাদ করেছিলেন ইসলামিক তথা রুমির মূল ভাবধারায়, মানে কোরানের রেফারেন্সের সাথে মিল রেখে। আরবেরি এভাবে অনুবাদ করেন—‘কেউ যদি তোমাকে হুর সম্পর্কে জানতে চায় তাহলে তাকে তোমার মুখ দেখাও আর বলো ‘এরকম’। হুর সম্পর্কে কোরানে অনেক রেফারেন্স আছে। কেবল জান্নাতের জন্য রাখা তারা জান্নাতের বাসিন্দা, ভার্জিন, কেউ তাদেরকে স্পর্শ করেন নি, তারা আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ সৃষ্টি শ (সুরাহ ওয়াকিয়া)। কিন্তু আশ্চর্য বার্ক এই রেফারেন্স সম্পূর্ণ এড়িয়ে এভাবে অনুবাদ করলেন—‘কেউ যদি জিজ্ঞেস করে যে আমাদের সকল যৌন চাহিদা কিভাবে মিটবে, তাহলে তোমার মুখ তুলে দেখাও আর বলো ‘এভাবে’। এখানে খুব চতুরতার সাথে ইসলামিক অনুষঙ্গ বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু বার্ক এখানেও থেমে থাকেন নি। তিনি একই কবিতায় বিব্লিকাল জিসাস ও জোসেফকে বার বার টেনে আনেন। প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি খ্রিষ্টান হিসাবে বড় হয়েছি এবং আমি ছোটবেলা থেকেই বাইবেল মুখস্থ করেছি। তাই আমি কোরান সম্পর্কে কিছুই জানি না। কোরান পড়া খুব শক্ত কাজ।’

অবশ্য আরো অনেকের মতো ওমিদ সাফি কিন্তু বার্ককে ক্রেডিট দিতে ভুলে যান নি। কেননা বার্ক জীবনের অনেক সময় রুমি-অনুবাদে ব্যয় করেছেন, শত হলেও আমেরিকায় লক্ষ লক্ষ পাঠকের সাথে রুমিকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, তার কবিতাকে আমেরিকান কবিতা হিসাবে অন্তঃকরণ করিয়েছেন। এটিও বা কম কিসে? কিন্তু রুমির কবিতার আরো কয়েকটা সংস্করণ আছে, যেমন দীপক চোপরা এবং ড্যানিয়েল লাডিন্সকির নিউ এজ বুকস—যেগুলোর বাজারজাতকরণ ও বিক্রি বহুল। কিন্তু সেগুলো রুমির কবিতার সাথে কোনো মিল নাই। চোপরা যিনি আধ্যাত্মিক বইয়ের একজন লেখক, তিনি স্বীকার করেছেন যে এই অনুবাদগুলোতে অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলো আদৌ রুমির কবিতা নয়। যেমন তিনি ‘রুমির প্রেমের কবিতা’-এর ভূমিকাংশে বলেছেন সেগুলো বরং একধরনের রুমি-আবহ, রুমি-ভাব বা পরিবেশ। তাই ইসলাম এখানে অনুপস্থিত। সাফি আরো বলেন—এই অনুবাদগুলো পড়ে আমি যা দেখতে পাই তা হলো—এক ধরনের ‘স্প্রিচুয়াল কলোনিয়ালিজম’ আধ্যাত্মিক উপনিবেশবাদ, যা কিনা একটা বিরাট বিচ্যুতি, তারা সার্থকভাবে মুছে ফেলছে ইসলামের শেকড়। বানানো নতুন ইরোটিক ভাষা দিয়ে দখল করছে একটি ইসলামিক আধ্যাত্মিক ভূ-স্বর্গ যার মাধ্যমে বসনিয়া থেকে ইস্তাম্বুল, ইস্তাম্বুল থেকে কনিয়া, কনিয়া থেকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানেরা হাজার বছর ধরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়েছে, তাদেরকে নিজের করে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন—ইসলামিক রেফারেন্সকে রুমির কবিতা থেকে সরিয়ে নিলে সেই কবিতা আর রুমির কবিতা থাকে না, সেগুলো হয়ে যায় অনুবাদকারীর খেয়াল ও হেঁয়ালির ফসল।

বার্ক মনে করেন রুমির অনুবাদে, রুমির ‘স্প্রিট’ ইসলামের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বর্তমান দুনিয়ায় ইসলাম এখন বিতর্কের বিষয়, ঝামেলার বিষয়! রুমির কবিতার মাধ্যমে তিনি কেবল তার হৃদয় খুলতে চেয়েছে। কেউ কেউ এটিতে রুমির টেকনিক ফলো করতে দেখেছেন। কেননা রুমি অনেক সময় ফার্সি কবিতার ফর্ম ও টেকনিক ঠিক রাখার জন্য কোরানের টেক্সটকে আত্মস্থ করে তার কবিতায় ব্যবহার করেছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে যে ফার্সি পাঠকেরা যেভাবে রুমির এই কৌশল সম্পর্কে অবগত আছেন, সেভাবে কিন্তু আমেরিকান পাঠকেরা ইসলামিক ব্লু-প্রিন্টের [কোরান ও ইসলামিক ব্যাকগ্রাউন্ড] সাথে পরিচিত নন। সাফি একটি তুলনা দাঁড় করেন—কোরান ছাড়া রুমিপাঠ হলো বাইবেল ছাড়া মিল্টন পড়ার মতো। যদিও রুমি কখনো কখনো মূল ধর্মের ই-সেন্সস থেকে সরে এসেছেন কিন্তু তা তিনি করেছেন ইসলামিক কনটেক্সটই। শত শত বছর আগে হয়তো এরকম ব্যত্যয় সমাজে গ্রহণযোগ্য ছিল। রুমির কবিতা শুধুমাত্র ইসলামের রূপ, রসে পূর্ণ নয়, সেগুলো ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে ইসলামিক পাণ্ডিত্যের সীমারেখায়।


পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভালোবাসার কবিতাগুলো লিখে গিয়েছেন ।


রুমি তার কবিতায় কোরান হাদিস ও ইসলামিক অনুষঙ্গ ব্যবহার করেছেন একটি অনুসন্ধানী মন নিয়ে। সত্য যে তিনি অনেক কিছুকেই প্রশ্ন করেছেন কিন্তু মূল ধর্ম থেকে বিচ্যুত হন নি। কিন্তু বার্কের অনুবাদে ইসলাম বার বার হারিয়ে গেছে। যেমন বার্কের  জনপ্রিয় অনুবাদে রুমি অনুবাদ এরকম : ‘মন্দকাজ আর ভালো কাজের বাইরে আছে একটি মাঠ। আমাদের দেখা হবে সেখানে।’ কিন্তু মূল ফারসি কবিতায় মন্দ কাজ বা ভালো কাজের কোনো উল্লেখ নাই।  রুমি লিখেছেন ‘ইমান’ ও ‘কুফর’। চিন্তা করে দেখলে অবাক হতে হয় এই ভেবে যে, একজন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ রুমিকে অনুবাদকেরা কিভাবে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গেছে। সাফি মনে করেন এ কারণেই ঐতিহাসিকভাবে কোরানের পাশাপাশি মুসলমানদের চিন্তাধারাকে রুমি, হাফিজ এভাবেই গড়ে দিয়েছেন। লেখক এবং অনুবাদক সিনান আন্তুন বলেন, ভাষা শুধুমাত্র যোগাযগের মাধ্যম নয়। ভাষা হলো ইতিহাস ঐতিহ্য ও  স্মৃতির ধারক। দুই সংস্কৃতির মধ্যে মিলনক্ষেত্র হিসাবে একজন অনুবাদক আসলে যেন একটি রাজনৈতিক প্রজেক্ট হাতে নেন। তাদেরকে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য মেথোডোলজি বের করতে হবে—যার মাধ্যমে তের শ শতাব্দীর একজন ফার্সি ভাষার কবিকে এই সময়ের আমেরিকান ও পৃথিবীর অন্যান্য ভাষার পাঠকদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু তাদেরকে অবশ্যই মূল কবিতার কাছে সত্য থাকতে হবে, তাদেরকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। যার ফলে এখনকার পাঠকেরা এই ভেবে পুলকবোধ করবেন যে, একজন ইসলামিক শরিয়ার শিক্ষকও কেমন করে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ভালোবাসার কবিতাগুলো লিখে গিয়েছেন ।


সহায়ক পাঠ :

১. রোজিনা আলিদ্য ইরেজার অব ইসলাম ফ্রম দ্য পোয়েট্রি অব রুমি  www.newyorker.com জানুয়ারি ২০১৭
২. ওরিয়েন্টালিজম, এডওয়ার্ড সাঈদ, ভিনটেজ বুকস, নিউ ইয়র্ক, ১৯৭৯

(1735)

Latest posts by আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ (see all)