হোম কবিতা হাসান মসফিকের কবিতা

হাসান মসফিকের কবিতা

হাসান মসফিকের কবিতা
1.42K
0

মূঢ় দর্শন


গোলাপের ফুটে ওঠা যতটা গম্ভীর উত্তর, ততটা দর্শনে নয়।

দৃশ্যের ভেতরে কতটা হেলে পড়েছি, এ প্রশ্নও আজ অবান্তর। একটা ক্রিমসন আলো দেখে এগোতে এগোতে, সমন্বিত বহুতল ঋজুতম লক্ষ্যই ভুলে যেতে বসেছি।

কাল যতটা রোদ, আজ সমূহ হাহাকার; পাঁচিলঘেরা অনুন্নত অথচ অন্ধকার!

গ্রীবা থেকে খুলে নিয়ে গেছে কারা দগদগে সন্ধ্যা, ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে ফুটে ওঠার মুহূর্তটুকু…

 


নাকফুল হারানোর বেদনা


কেউ কেউ চলে যাওয়ার পর যতটুকু পথ পড়ে থাকে, তার পুরোটাই জুড়ে থাকে শিশুগাছের ছায়া। ডালিম ফুলের যতটা ঘনত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে লাল, আমের বনের কাছে ঠিক ততটাই ঘনায়মান নিদ্রামেদুরতা।

বৈশাখেই সংবেদনশীল সব রোদে পাক ধরতে শুরু করে। আদতে গাছেদের গুনাহ মুছতে গিয়ে পাতারা হলুদ হয়। পাতাদের কি আর আলাদা বয়স হয়! ঋতুদের গ্রামে যাদের জন্ম।

মোরগের ঝুঁটির কাছে জমে আছে সমস্ত ঋণ, ঘুমের কৌশল দূরতম খোয়াবের মখমল, আমাদের মায়েদের নাকফুল হারানোর সমস্ত বেদনা

 


মিনার


কাকে রেখেছ মনে? আর, কাকে গিয়েছ ভুলে! টলটলে, ঘনায়মান এই কালোর দিকে চেয়ে থেকে আবারো আজ, একবার কাকেইবা স্মরণ করলে!

তাদের;
শুধু দৈর্ঘ্য আর প্রস্থে যারা মাপতে চেয়েছে মিনারের তরজমা

 


পদ্মরা


অনেক জ্বরের ভেতর, কারা সেঁটে দিয়েছে উষ্ণতর বেদনা। খুলে পড়ে যেতে বসেছে অন্ধকার, গহ্বরের ফিতে আরক্তিম শিশির কিছুটা উন্মূল বাসনা।

বাতাসের বনে আমিই কি কেবল শূন্যহাতে এসেছি! এত প্রেম নিয়ে চাঁদের মতো নিঃসঙ্গ আর কাউকে তো দেখি নি

এমন দগ্ধভাগ্য, উপযুক্ত আঁধারেও জ্বলে জ্বলে উঠছে ফুলেল রেণু! সুললিত মুখোশ চাপিয়ে আমরাও প্রতিদিন ফেরি করে চলেছি বন্ধুত্বের কফিন

 


অনেকদিন দেখা হবে না


অনেকদিন দেখা হবে না ভেবে গুছিয়ে নিচ্ছি জলপাই রঙের ছাতা আতাফলের বীজ মসৃণ জবার মতো তপ্ত অভিমান।

তুমিও ফুরিয়ে ফ্যালো জমিয়ে থাকা ভ্রমণ। ঢেকে দাও ক্লান্তিগান। বাগানে লাগাও কিছু সুনিপুণ স্তব্ধতা। জাগিয়ে তোলো লাল মোরগের ঝুঁটি। কার্নিশে লেগে থাক বর্ষার বাড়াবাড়ি কিছু নমুনা।

আমরা বরং আলাদা-আলাদাভাবে চাষ করি অনেকদিন দেখা না হওয়ার সুসংহত কিছু ডানা, জলফুলের মৃদু ঘ্রাণ মৌসুমিচূর্ণ

(1419)

Latest posts by হাসান মসফিক (see all)