হোম কবিতা শান্তিপ্রিয় ভীরুতাঁরা

শান্তিপ্রিয় ভীরুতাঁরা

শান্তিপ্রিয় ভীরুতাঁরা
476
0

১.
ভয় জরুরি; কাচের আত্মা বাজে ঝনঝন…

২.
একটা কমলারঙা বাড়ি তৈরি করছি অদ্যাবধি

জড়ো করছি টেপা পাখি, আদিপাকুড়ের পাতা
সমুদ্র নেই তবু খোলা অভীপ্সা ও সমূহদক্ষিণ
কেউ আসবেন, ফুঁ দেবেন, মুক্ত হবে যন্ত্রডানা

আমি কি ফারাক করতে পারব—৩ রঙের চুমু?

৩.
ছবিতেই বড় হচ্ছে মেয়েটা, যেন লেবুফুল
হাসছে, ভাঙছে টকটক বোয়াম আচার
সূর্যাস্ত প্লাজার সাথে জুড়ে যাচ্ছে পূর্বাহ্ণ
ক্যানভাস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে হামাগুড়ি

আমার ভেতরে বাড়ছে লেবুপাতার ছায়া

৪.
আমি এখন নিধির মাকে ভালোবাসি
নিধির একটু জ্বর এলেই গালমন্দ করি
কুতর্কে পোড়াগাছের মতো ময়দানে গিয়ে দাঁড়াই
পাশেই পান্থশালায় গিজগিজ
মদ কিংবা জলপিপেতেও আমি দেখতে পাই তৃষা
দুই হাজার কাক ঠোঁটে তুলে নেয় নুড়ি
রাত্তিরেও ঘুড়ি ওড়ায় যে কিশোর
তার বড়োবেলাটা উড়ালবর্জিত
সবই জানে সাকি
আমি মদ ছেড়েছি, কিন্তু আজও ঘোর কাটে নি…

৫.
বাতাস কায়মনোপ্রাণে পাথর হতে চায়
তাই ওরা ঘোরে মানুষেরই চারিপাশ
এই দেহ পাথরের কাছে ঋণী, মন রণবিভ্রান্ত
          কে তুমি অশ্ববায়ু?
          রুদ্ধশ্বাস, আমাকে বাজাও
পরিত্যক্ত গন্ধক খনিতে দেখাও টলটলে হাসি

৬.
লোহার ঝিনুকের ভেতর সিরামিকের মুক্তো
এমন ১টা ভাস্কর্যর সামন্ দিয়ে রোজ রোজ
সমুদ্রে যাচ্ছি। সমুদ্র চোখের জাতিস্মর…
হাড়ের নাকাড়া বাজে। পড়ে থাকে ডুবুরি-পোশাক

শঙ্খ গুম হয়েছে মি. মিত্তির। বিকল সার্চলাইট…

৭.
পুরনো রেডিওর পাশে বসি- উচ্চবাচ্যহীন
বিপুল জলরাশির ওপারের নগরী
ওড়ো হে আরাত্রিলম্বিত। জাল। স্বপ্ন।

পিতামহের বিমর্ষ অবয়ব… পেঁচা

স্বর্ণকূট, জেগে থেকেই বাঁচাতে হবে স্বপ্ন তমা’

ব্লাইন্ডম্যান, আলোতে হারাও, ফালাফালা হও

৮.
একটা শুকনো পাতার শব্দে
আতঙ্কিত হয়ে পড়ছি চরাচর সমেত
অথচ তার নিচ দিয়ে
নিজের ওজনের চেয়েও
৮ গুণ ভারি
শস্যদানা
কাঁধে বয়ে নিচ্ছে ১টা লালপিপড়া

৯.
সাইকেল ঠেলে ১দিন আগুন দেখতে গেছিলাম

পা ধরাবেন না। পা ধুতির নিকটবর্তী

টুকরো ভাবনাগুলোও আয়না হতে চায়

হরফ বড় হলেই দৃষ্টিগোচর—জরুরি নয়

রাখাল ও মিথ্যা বাঘের গল্প যুগে যুগে সত্য
তবুও বাজে ট্রানজিস্টার…

১০.
অহম—উহা রৌদ্রাকর্ষক। হিমার্দ্র বেহালা এক
সেই বীর—যার আছে গহিন দ্বীপান্তর অথবা
একাকিত্বের কৈলাস
যুদ্ধজয়ের ঢাককাঠির অপেক্ষায় থাকে বসন্ততোরণ

হে কৈলাসেশ্বর, ত্রিশূল ভালোবাসি আমি,
ভালোবাসি শৈত্যস্মারক। জীর্ণ পত্রচির। শূন্যমুহূর্ত
আপত্তি শুধু পুজোয়।

একদিন নির্লিপ্ত বরফসিংহাসনে আগুন জ্বালাব
লহরি শুনে ঢুকে পড়া নারীর সাথে
খুব লীলা হবে রক্তজবায়
শুধু গুহা; ছায়াডুব। প্রিয় রাধিকা অঙ্গার—
তোমার মুখ সেদিন টলটলে সবুজ!
হরিৎ মীন আর ব্রহ্মাণ্ডের বিজলি সাঁতার…


ঈদসংখ্যা ২০১৯
মাজুল হাসান
মাজুল হাসান

মাজুল হাসান

কবি ও গল্পকার
জন্ম : ২৯ জুলাই ১৯৮০, দিনাজপুর।
পড়াশুনা করেছেন দিনাজপুর জিলা স্কুল, নটরডেম কলেজ
ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
বাতাসের বাইনোকুলার ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১০।
মালিনী মধুমক্ষিকাগণ ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১৪।
ইরাশা ভাষার জলমুক ● চৈতন্য, ২০১৬।

প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
টিয়ামন্ত্র ● ভাষাচিত্র প্রকাশনী, ২০০৯।
নাগর ও নাগলিঙ্গম ● বাঙলায়ন প্রকাশনী, ২০১২।

অনুবাদগ্রন্থ:
টানাগদ্যের গডফাদার, রাসেল এডসনের কবিতা ● চৈতন্য, ২০১৬।

মাজুল হাসান পেশায় সাংবাদিক। বর্তমানে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বার্তা বিভাগে কর্মরত।
মাজুল হাসান
মাজুল হাসান