হোম কবিতা রুবাইয়াৎ : শেষ পর্ব

রুবাইয়াৎ : শেষ পর্ব

রুবাইয়াৎ : শেষ পর্ব
410
0
রুবাইয়াৎ : পর্ব– ১

৩১.
বলো, কিসের ঘুম! যদি না আমাদের রাত্রি দীর্ঘ হয়—
তুমি মাটি। আল্লাহর কসম এই সেই অবর্ণনীয় পরিচয়,
এসো, বন্ধু বুকে মাখিয়ে দাও তোমার সোনার প্রলেপ—
কেউ নেই—এবার থামাবে দুটি ঠোঁটের বাক্য বিনিময়।

৩২.
আমার কিছুই সারে না, এই অসুখ এই আনন্দ—
অথচ কোথায় কাটাই রাত-দিন আর কোথায় মন্দ,
মৃত্যু নিয়ে তামাশা করার দিন যতই কাছে আমার—
ভাবি, শুধু তোমাকে দেখে দেখেই থেকে গেলাম অন্ধ।

৩৩.
ফুলকে চুমু খাও। সময় খুবই অল্প আমাদের—
কে নেবে বোঝা—কাঁটার সঙ্গে নাচে কাফের,
যে বসন্ত হারিয়ে খুঁজি তোমার মাঝে আজকে—
তুমি শান্তি দুনিয়ায়, আল্লাহ করে না হেরফের।

৩৪.
শুধু একবার দেখে তোমাকে আমি বহুবার লুকাই—
আড়াল খুঁজো না তাতে—দিচ্ছি প্রেমের দোহাই,
শোনো, ফজর থেকে এশার ওই ধ্বনির ফাঁকে—
আমি পাগল—শরীর দিয়ে শরীরে বাজনা বাজাই।

৩৫.
এসো, খুলে নাও বস্ত্র, অলংকার দেহের যত—
কী পেলে, ভাবতে ভাবতে আরও গভীর ক্ষত,
তবুও এখানেই জমা হয় ভ্রমরের শত গুঞ্জন—
দেখা পেলে বলো তাকে, আমিও কাঁদছি অবিরত।

৩৬.
কাউকে বলো না, কী চুরি করেছি তোমার—
শুধু দ্যাখো, আমি মাতাল খুলেছি খোঁপাটি মাথার!
কী দেখেছি ওখানে—আমি কি বলব, বলো?
মরেই যাব, তবু এই খোঁয়ারি কাটবে না আর।

৩৭.
আজকে আমাকে ডেকে নাও, খুলে দাও দরজা—
এসো সমুদ্র জাপটে ধরি। ঢেউগুলো করি কব্জা,
এখানে তারা রূপালি মাছ! আমরা তাদেরই মতো—
সাঁতরে চলি রাত-দিন, আমি আলিফ তুমি ইয়া।

৩৮.
আমি তো পাখি, তাই পাখার যন্ত্রণা আমার—
তাকে ধরো—রং মাখাও, দাও একটু আহার।
তারপর ছেড়ে দাও দূরদেশ! সে এক মেলা—
সেখানে তুমি ছাড়া ফুসরত নাই কোথাও যাবার!

৩৯.
যদি বাতাসকে থামাতে পারতাম, এই বলে যে—
আমি কেউ না! তুমি বলতে থাকো তুমি কে?
ভেব না। যদি চুমুর ছলে কাঁদতে থাকি আমি—
তবে আমাকেই পাবে সব সময় আর সবখানে।

৪০.
যখনই বিদায় চাইবে বন্ধু, যেন ফেরেস্তারা খুলবে খাতা—
সেখানে উজ্জ্বল দেখব তোমাকে সাথে আমার ভাগ্য রেখা!
ওই চোখ—চুল আর আমার বসন্তের ছোট্ট দিন—
লুকিয়ে রাখা প্রেমের ভেতর ঝিলিক দিচ্ছে পূর্ণিমার পাখা।

সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি।

প্রকাশিত বই :
একাই হাঁটছি পাগল [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮]

ই-মেইল : showmo.sarajat@gmail.com
সারাজাত সৌম