যৌবন

যৌবন
194
0

মনোবীক্ষণ
❑❑

ওখানে প্রদর্শিত হচ্ছিল দৃশ্যরা। দৃশ্যের ভিতরে,
দৃশ্য হয়ে জমে জমে উঠছিল তোমার নিশ্বাস।
সরু ও দীর্ঘ দ্বৈত বাঁক চূর্ণ হচ্ছিল তোমার মুখে।
তোমার বুকে তখনও ক্ষীর সাগরের ঢেউ—আর
আমি তখন দাঁড়িয়ে আছি মৃত্যুকে বগলে চেপে।

তোমার হৃদয়ের অভ্যন্তরেই আমার সমাধিস্থল।
আমার শুভ্রকল্প মগজের উপর চাঁদর বিছিয়ে
আমিই পড়েছিলাম আমার মৃত মনের জানাজা।

এখন—

মৃত্যুকে আমি তর্জনী দেখাই আর জীবনকে
বলি তুমি জাগ্রত হও—জাগ্রত হও—জাগ্রত হও—


যৌবন
❑❑

এ যেন কোনো ঘুমন্ত বীজের ভিতর প্রাণসঞ্চার।
ফুলের বুকে জমে ওঠা বিন্দু বিন্দু শিশির এবং
মধুর সরোবর। ফুলপ্রহরী কাঁটার মতো মুকুট,
পড়ুয়া এক শিল্প-কারুকাজ। সমুদ্রঘূর্ণির মতো
উত্তাল। কালবৈশাখীর মতো সে দুনির্মিত্ত-চপল।

আকাশের মতো বিস্তৃত। মাটির মতো প্রাণাশ্রয়ী।
মায়ের মতো মমতাময়ী। পিতার মতো উদ্বেলিত।
বোনের আদরের মতো নিখাদ। আর ভাইয়ের
মতো বন্ধুপরায়ণ। এখানেই সুপ্ত আছে কালের
গুপ্তধন। এখানেই লুকিয়ে আছে স্বর ও সুরের
বিকার। দৃশ্যের এপিঠ-ওপিঠ, নির্বাণের স্বাদ…

যৌবন হচ্ছে সেই দিয়াশলাই—
গহিন আলোর জলে ভিজে গেলেও
অন্ধকারে যে জ্বলে উঠে বারবার।


ক্ষয় 
❑❑

হেঁটে যাচ্ছে পথ পায়ের গোড়ালিকে ছুঁয়ে
পৃথিবী পড়ে আছে পায়ের কাছে—কাতর
আমরা আমাদের আশ্রিত বেদনায় মর্মর।
নীল বিড়ালের চোখে আমরা সন্ত্রস্ত ময়ূর
অনিকেত বেদনারা অন্তরে বসায় বিস্তার।
এভাবেই ক্ষয় হতে থাকি আত্ম-অপূর্ণতায়
সময় ও আয়ুর মাঝে গড়িয়ে পড়ে জীবন…


দাদরা বিসর্গ 
❑❑

প্রশস্ত চিবুক, মহাশূন্যের হিমফুল ঘ্রাণ—শূন্যকুঞ্জ
শূন্য হতে হতে যখন কিছুই অবশিষ্ট থাকার নেই,
তখন তুমি খুঁজে পেলে হারানো দীপের দৃষ্টিমণি।
আহা কতকাল কেটে গেল অন্ধঘুমের সিথানে..

মুছে ফেল চোখ বেয়ে নেমে আসা মৃত্যুর স্মৃতি
বিসর্গের জলপদ্ম—‘দেখো আমি জন্মের সুরোস্বর’


সেলাই
❑❑

সেলাই মেশিনে সেলাই করি ছেঁড়া সুখের জীবন
আমিও পুড়িয়ে দিতে শিখি নিজস্ব গুঞ্জা দহন।

অথচ যে অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়েছ তুমি বুকের ভিতর
সেখানে আমাকে ভস্ম করেছ প্রেমের কথা বলে..

এবং জেনে নিও—
সেখানেই তোমার সমাপ্তি—আর আমার সূচনা!


হাসি
❑❑

ঠোঁট বিশেষে হাসি বিভিন্ন অর্থী শব্দখই ফোঁটায়।
হাসির রং কালো সাদা লাল নীল বাদামি সবুজ
হাসির দৃশ্য শক্ত মোলায়েম পৈচাশিক ও সুন্দর!

হাসিকে চিরস্থায়ীরূপে নির্মাণ করতে চায় মানুষ
অথচ কান্না ও হাসির কোনো অনুবাদ হয় না…


একক নির্জনে
❑❑

চোখের দ্রাঘিমায় নেমে এসেছে
তৃতীয় নিঃসঙ্গতা।পৃথিবীকে বুকে
নিয়ে আমি বসে আছি নিদ্রাহীন।
জীবনের বন্ধুর জমিতে চাষাবাদ
করার স্বপ্ন নিয়ে, যারা ঘরে ফিরে
বিজয়ীর বেশে-আমিও তাদের ন্যায়,
চাষ করে ফিরে পেয়েছি আমার
আদি একক সত্তা।

পরান জহির

জন্ম ১৭ নভেম্বর, ১৯৯৭; সোয়াইতপুর, ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

শিক্ষা : সরকারি সা'দত কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স।

প্রকাশিত কবিতাগ্রন্থ—
শুকতারা [খেলার সাথী, ২০১৭]

ই-মেইল : poranj97@gmail.com

Latest posts by পরান জহির (see all)