হোম কবিতা ম্যাপল পাতার ঋণ

ম্যাপল পাতার ঋণ

ম্যাপল পাতার ঋণ
264
0

পসরা
❑❑

মুচকি হেসেই গড়িয়ে গেল বেলা
গুনতে পারি নি ভোরবেলাকার ঘাটে আটকে থাকা
উজানে নৌকার মিছিল, কাদা-খোঁচা পাখির দল
ধরতে পারি নি মহীরুহের ছদ্মবেশ কিংবা হাজার বছরের জমে থাকা
ঘর্মাক্ত ইতিহাস, থ্যাঁতলানো প্রাচীরের লুকোনো ভাষার অবয়ব,
বিফল মনোরথে ঘাঁটাঘাঁটি হয় কেবল পুরাতত্ত্বের ঝোপ
দুচাকার গাড়িতে ভর করে ভাদ্রের খরতাপ
হয়তো কেঁপে ওঠে কোথাও কোনো বাহিরঘর
দিনমান পসরা সাজানো দোকানির ঝাঁপ। 


ম্যাপল পাতার ঋণ 
❑❑                                 

জানালাটি খুলে দিও কোনো এক পৌষের কোলাহলে।
ইরেজারে মুছে দিও সবগুলো কাল্পনিক খসড়া চিত্র,
অযথা সব আঁকাআঁকি কাটাকুটি পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে
বিটোফেনের বিষাদময় করুণ আবাহনের সুরে।

নূতন কোনো পৃষ্ঠা বেছে নিও।
প্রয়োজনে ব্যবহার করো সব নূতন রঙপেন্সিল;
শিখে রাখা সব কলাকৌশল—
ভেব না, নূতন ছবি এসে যাবে অবলীলায়; তাই
পুরোনো খেরোখাতার অচল হিসাবের মিলনমেলায়
বলো কী আসে যায়?

বসন্তে খোলস বদলিয়ে নিও সিজনাল অজুহাতে।
চলে যেও ঘোরপথে নূতন অরণ্যের খোঁজে
অবসরে পূর্ণ করো শেষ বেলার প্রয়োজন
ব্যতিব্যস্ত হয়ো চাতকী প্রাণে
যে ভালোবাসা না বোঝে।

ম্যাপল রাঙানো ধূসর রাস্তার বুকে
চুপিচুপি এঁকে দিও শৈত্যিক পদচিহ্ন
ঝরাপাতার সাথে আবার কোনো এক দিন
প্যাপিরাসের ছলকানো বাকলে শুধো
অবহেলার ঋণ।


প্রতীক্ষিত চিত্ররেখা
❑❑

লাইফ ইজ বিউটিফুল! তাই তো অপক্ষোর পালাবদলে ধবলোৎপল হয়ে ভেসে আছি সিদ্ধেশ্বরীর খোঁজে। তার প্রত্যাশায় এখনো আমি পৌঁছে যাই সাত-সমুদ্র আর তেরো নদীর ঠিক ওপারে, মাউন্ট এটনার ঠিক কাছাকাছি। একদা আমার মনের ঘোড়া ওখানেই ছুটে বেড়াত সারাক্ষণ টগবগ-টগবগ করে, পেরুত ভিসুভিয়াসসহ আরো উঁচু-নিচু পাহাড়-উপত্যকা। সে প্রেরণায় এখনো দিগন্তসীমায় পৌঁছুতে পারি এক ঝটকায়! তবে চাইলেই পৌঁছুতে পারি না আরাধ্য তীর্থস্থানে! আহ কত ক্রোশ দূর! হিসাব কষতে গেলে তক্ষুনি মনে হয়—‘লাইফ ইজ নট বিউটিফুল। অতঃপর আমার সম্মুখে বিষণ্ন অবয়বে উপস্থিত হন কবি কালিদাস! তার র্বণনায় উত্থিত হয়—না পাওয়ার অর্পূণতা, লীলালাস্যের ম্রিয়মান ঝড়।

ফ্ল্যামেঙ্গোরা তাদের ডানা মেলে হেলেদুলে ওড়ে চলে। তাদের বাড়ানো চিবুকে খেলা করে যত্তসব অহংকার। উদ্ধত গ্রীবা বাঁকিয়ে ব্যঞ্জনায় বলে—আজ তুমি ক্লান্ত, খুবই ক্লান্ত! তোমার বিদগ্ধতার লাভা আজ শিখাহীন; তোমার ঠিক পেছনেই রয়ে যায় রোমাঞ্চিত অতীত হেলেদুলে। হয়তোবা তুমি পারতে চাঁদ-জোয়ারে সম্মুখে অগ্রসর হতে; হয়তোবা কালের গোলায় জমাটবদ্ধ হতে তবে অবগুণ্ঠন আর অতৃপ্ততা তোমাকে করেছে গ্রাস। আজ তোমার শৃঙ্গারহীন কোলবালিশে মাথা এলিয়ে সোহরাব-তেজ হয়েছে ফুটো-ফানুস, হয়েছে হাওয়ায় বিলীন। তবুও ভাটার টানে তোমার শিহরিত চাতক-প্রাণ হয়ে যায় ক্ষণিক-কালের তৃষ্ণার্ত বণিক, এখনো ঘন অমাবস্যায় ঝাপটাতে চায় কিউবিজমিক গহিন উপত্যকা।


বহুরূপী
❑❑

দিনগুলোকে স্থবির নির্জীব মনে হয়
অনর্থক মুখোমুখি বসে থাকার অপচেষ্টায়
থমকে দাঁড়ানো সময়ের প্রত্যাবর্তন,
হরণ করে টেনে নিয়ে যেতে চায়
শুধোয়: আয়না, চলে আয়
স্থানচ্যুত কালের সাথে আয়।

যুক্তিখণ্ডনের সময় নেই এখন
শুধু বুঝে নেবার পালা
জীর্ণ হতে হতে ভেঙে যাওয়ার বাসনায়
এড়িয়ে চলি চুপি চপি, ভাবি
বয়ে চলা সময় তুমি আমার নও
তুমি বহুরূপী।


বীণ
❑❑

মনঃসমীক্ষণ
বলো কত আর
ভাসাই ভেলা
আরো একবার
ফ্রয়েডীয় তথ্য
আর নয় আর;
দেব-আরাধনা
দিয়েছিলে সাঁঝে
শুভ্র-গ্লাডিওলাস
নয় আর মাঝে
সুরলহরীর বীণ
অন্য হিয়ায় বাজে।

আশরাফুল কবীর

জন্ম ২৫ ডিসেম্বর; ১৯৮১, মুন্সীগঞ্জ। ইংরেজি সাহিত্য ও ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা যথাক্রমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে; পরবর্তীতে লন্ডন ইনস্টিউট অব ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স [LIBF] থেকে পেশাগত ডিগ্রি [CDCS] অর্জন। পেশায় একজন ব্যাংকার।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ—

এক ঝাঁক জোনাক [এক রঙ্গা এক ঘুড়ি, ২০১৩]
ক্রৌঞ্চমিথুনের কথোপকথন [হিরণ্য, ২০১৭]

ই-মেইল : krounchamithun@gmail.com

Latest posts by আশরাফুল কবীর (see all)