হোম কবিতা বাসনার তলে মসৃণ মেঘের মতো

বাসনার তলে মসৃণ মেঘের মতো

বাসনার তলে মসৃণ মেঘের মতো
304
0

নীলাভ নদী

চিন্তায় যুক্ত করে নিয়েছি সমগ্র তোমাকে
এখন আর দূরের দৃশ্য নও
তোমার সমস্ত রূপান্তর আমি টের পাই
ঘুমের ভেতর ছায়া কেটে কেটে দেখি
সেখানেও তুমি
ভাবনার সমস্ত স্তরে তোমার উপস্থিতি
যেন মোমালোয় বয়ে যাওয়া নীলাভ কোনো নদী


ভোরের সলকে

ভোরের সলক যখন ছলকে ওঠে
ফর্সা আকাশের দিকে তাকিয়ে
তোমাকে দেখতে পাই।
শয়নের অভ্যন্তরে কিভাবে তলিয়ে আছে
তোমার শরীর
মেঘে মেঘে কিভাবে ছড়িয়ে গেছে
তোমার দেহের সমস্ত উত্তাপ
কিভাবে রোদের কণায় কণায় তুমি
আমাকে বার্তা পাঠাও
কেমনে কেমনে যেন টের পেয়ে যাই।
জানি মাটির ঘ্রাণেই মিশে আছ
তোমার জৈবরসে বেড়ে উঠছে
আমাদের মনে অজস্র লতাগুল্মের চারা


বাসনার তলে মসৃণ

বাসনার তলে মসৃণ মেঘের মতো
উড়ে উড়ে ছুঁয়ে দেখি সাদা অনুরাগ
প্রশস্ত নীল ধারা কোথাও কোথাও
সূর্যরং অঙ্গে মেখে দিচ্ছে সাঁতার।


নতুন করে উঠে দাঁড়াবে মানুষ

নতুন করে উঠে দাঁড়াবে মানুষ
প্রকৃতির গর্ভে বিলীন হয়ে লতাগুল্মের রূপকে
জেগে উঠবে আবারও
বৃক্ষের ছালচামড়ায় রোদ পড়লে
হেসে উঠতে চাইবে নানারঙের পাতাদের সম্ভার
তখন মনে হবে ঠিকই
মানুষেরই উপমা এসব
সবুজ ভুবনের সমস্ত চরাচর জুড়ে
বয়ে যাবে হাওয়া
শীতঘুম থেকে ফিরে আসবে
মাটির অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা সজল মায়া
সৃষ্টির কণায় কণায় নেচে উঠবে
মানুষের দেহচূর্ণের সমস্ত বিলাপ


সীমান্তের ওপারে

সীমান্তের ওপারে রেখে আসা পিতৃভূমির রস, গন্ধ
এপারে নাই
নদীর হাওয়ায় বিলীন হয়ে গেছে পিতৃপরিচয়
এখন তোমরা বুদ্ধি বিক্রি করো
সাধারণ মানুষের ঘাড়ের উপর বসে
জ্ঞান বিলাও
অকাতরে কর্পোরেট মহলে
ঘুমের ভিতর কাঁটাতার, কাঁটাতার বলে আঁতকে ওঠো
মুখের ভূগোল বদলে ফ্যালো কিছুক্ষণ পরেই
কালোবাজারির চ্যানেলে
তোমাদের মুখে লেগে থাকা পাউডারের স্পট দেখি
ধূসর ফোঁড়ার মতো ফুলে ওঠা কথার তুবড়ি ফোটা
হা-করা মুখের ভিতর
ভনভন করে তাগড়া তাগড়া সব মাছি
চা-দোকানেও লোকজন বসে বসে এইসব দেখে


দূরত্ব কমে যাওয়ার কারণ জানা নেই

শুধু প্রতীক্ষার প্রান্তরেখায় জমিয়ে রাখি মেঘ
ধ্যানস্থ পাখিদের দিকে
বাড়িয়ে দেয়া হাতে
তোমার ফেরার বার্তা ওড়ে
নীরবে উচ্চারিত ভোরের সমস্ত কৌমধ্বনি
যেন তোমাকে জাগিয়ে তোলে
এ সঙ্কেত প্রত্যহ পাঠাই ভাবনা দৃশ্যের অন্তরালে
তুমি টের পাও
অনুচ্চারিত ইশারা রেহেলে মূর্ত হয়ে ওঠে
শরীর জুড়ে ঘুমিয়ে থাকা স্মৃতির আপেল


ভৈরবী

টলমলে জলে
ভেসে থাকা পাতার ওপর
বসে আছে
তারা ভরা রাতের শেষ মোহিনী।
তাকে আজ পাঠাব
ফুলের গন্ধ বোঝাই নৌকার সারি।
সঙ্গ দিবে
জলতরঙ্গের সমস্ত ভৈরবী।


পতঙ্গ-সাঙ্গাত

জীবনের কোনো কিছুই ফেলনা নয়
যেকোনো মুহূর্তেই
জড়িয়ে ধরতে পারে
পালতোলা হাওয়ায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে
যে কাউকেই আচমকা
যেখানে রোদের ভিতর স্মৃতির স্তম্ভ
গুঁড়িয়ে গেছে বহুকাল আগেই
সেখানে দূরের হাওয়া এসে বুক পেতেও দিতে পারে
দেখা হয়ে যেতে পারে
রূপবান শিকারির মায়ার তল্লাট।
নিচু স্বরে কাছে নিতে পারে
যে তোমার সঙ্গ ছেড়ে গেছে সেও
বাঁধনের তারে জ্বলে উঠতে পারে
গুটিয়ে যাওয়া তোমাদের সমস্ত দৃশ্যের আড়াল।
সত্য লুকানো
তোমাদের অন্তরে ভেসে উঠতে পারে
ঠুনকো পালকের অনুরাগ ভরা
সৃজন বিহার
অসংখ্য মানুষের খুলি উপড়ানো দৃশ্যের ভিতর
হেসে উঠতে পারে
সহস্র মনুষ্যবাহার।
সেই মনুষ্যবাহারে তুমি অনুরক্তের আভায়
নিজেকে গুছিয়ে নিতে নিতে
ছুড়ে দিতে পারবে আনুগত্যের সকল বিস্ময়
নিজেকে ভালোবাসতে বাসতে
পাশ কাটিয়ে যাবে
ধূর্ত সামাজিক সব অনুকম্পা।
তখন দেখা যাবে
দেহজলের বাইরে সত্যশিকারি
তোমার কাছে এসে
ধরা দিতে চাইবে
চারিদিকে ফুটে উঠবে রূপের নেহার।
ঘুমের ভিতর
ভেসে উঠবে সে-সময়ই প্রকৃত জঙ্গল
তোমাকে পথ দেখাবে
স্মৃতি মুছে যাওয়া মানুষের হাসির মতো
একাকিত্ব
তোমাকে কাছে টেনে নিবে নির্জন জঙ্গল
সমস্ত পাতার নকশা
তাদের অগুনতি গুপ্ত প্রণালি
মনে করবে তুমিই
তাদেরও পতঙ্গ-সাঙ্গাত।

(304)

মুক্তি মণ্ডল