হোম কবিতা বিশদ বায়ুর ঘোড়া

বিশদ বায়ুর ঘোড়া

বিশদ বায়ুর ঘোড়া
677
0

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
বনের গভীরে রেখে যাবে পায়ের ছাপ
—লুকানো চোখের ইশারা
—আর দীর্ঘ রোদের পর
যে কোনো সন্ধ্যায় তুমিও ফিরবে আকারে

একেকটি ফুলের ঘ্রাণ—
বিকিরণ হওয়া জামা থেকে ফুটবে চোখ
পাড়ার ক্লিনিক, ব্যাধির মতোই
অহরহ কান্না—নীরবতাও মানুষের সৌন্দর্য পাবে

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
কখন আমাকে নিয়ে উড়বে হাওয়ায়
—তারপর, বালির নিচে ডুবে যাবে
—তারপর, ধ্বনিরা ছড়াবে শোক
তোমার নাম বলে বলে সুন্দর হবে আরো সুদূর

যেন মানুষের মতো—
হলুদ পাতারা বাড়ি ফিরবে কথায় ভর করে
কোকিলের উৎসাহে, ছায়ার পাশেই
সে কী বসন্ত—শীত থেকে লাফিয়ে পড়া পরিবেশ

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
যেদিক দিয়ে চলে যায় তার প্রেম
—সেখানে একা থাকে মেয়েমানুষের হৃদয়
—আর দূরভিসন্ধি পাখিদের গান
যেন বেদনায় ফেটে পড়ে সকল পায়ের আওয়াজ

উড়ুক্কু সেই দিন—
ফিরব কি ফিরব না তা এমন নয়
দ্যাখো, গাছের গায়ে ছোট ছোট গাছ
জীবন যেখানে—দেখতে আরো সুন্দর হয়

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
শুধু বালিতেই মুক্তোর মতো জ্বলে
—তার চারপাশে এত এত মুখ
—ঋত ও বিব্রত করুণ আহা
দেখে আমিও ভাব ছেড়ে আসতাম দৌড়ে

জানি এখনই যাব—
দুজনের মিল-আমিলের রাঙা সংসার
প্রতিদিন যে মরেছে মাছের পাশে
সেখানেই মৃদু কান্তা—ঠিক আবারও হাসে

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
ছুটছে দূর নীল নভোতারকায়
—সে আমার চেয়ে দ্রুতগামী মন
—অজানা সংকেত পেরিয়ে আসে
রোজ রোজ যে কোনো দুপুরবেলায়

আমি দেখছি ঘোর—
কিভাবে ঘরানায় বাড়ছে মানুষের ঋণ
এ কি সংগীত, অহমিকা পরম্পরায়
যে শিশুটি ভাঙছে নিজের ছায়া

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
একদিন সরোবরে এসে ডুবে যাবে
—সন্ধ্যার চেয়ে গাঢ় তার রং
—মৃতুঞ্জয়ী তাকাবে বারবার
যে প্রশ্ন আমরা আগেও করেছি বহুবার

তবু তাকেই চাই—
আকাশ ঘিরে থাকা রোদ, বৃষ্টি
বাতাসের ভেতর কথামালা
যেন এইসব থেকেই যাবে পুনশ্চ বাকি

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
তার চিৎকারে ফুটে উঠে ফুল
—কানের কাছে যতো মহীরুহ সুর
—লুকানো পাখিটির সন্ধানে
আর কতকাল যেতে হবে পাথরের কাছে

কিছুই কি নাই—
তোমার ভাষার কাছে এসে ভাবি
আজ কে কতটা আমিতে লীন
ওই ক্ষুদ্র পাখিটির মতো চিরআলোয় উড্ডীন

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
ডেকে ডেকে বেঁকে যাচ্ছে কোথায়
—দৃশ্যত এই দেহ কি নদীর মতোই
—মা মা স্মৃতির ডাকে চিরদিন
একে একে শব্দ ঢেলে দিয়েছে শতরূপায়

যে জলের নিচে—
ডুবে যায় পানকৌড়ির আহত ডানার ভাঁজ
তাকে জলের সাপ দিয়েছে কামড়
শুভ্র সুন্দর—এই তো প্রাণের কারুকাজ

যদি জানতাম, এই বিশাদ বায়ুর ঘোড়া—
একদিন ফাঁকা রাস্তায় এসে দাঁড়াবে
—আমাদের চোখের ভেতর মদ
—কেন আর শান্তি নাই
ওই দিকে কারা গেছে আবারও যায়

বিপরীত কোন টানে—
বাগানের সরীসৃপ কথা বলে ফলের কানে
বেঁচে থাকার আনন্দভরা রাত্রি
মৃদু ভয়—উভয় তারা উভয়ের সঙ্গমে

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
একা হতে হতে আর কোথাও নাই
—এ কি তোমার ভীষণ রূপ
—অদেখা সব স্মৃতির মতোই
ফিরে আসে বারবার মৃত্যু তারানায়

আমিই সেইসব—
দরজার পাশে আরশোলায় গাঁথা চোখ
কি দেখি আর কি যে দেখি না
শুধু বলি—এখানে সকলেরই পুণ্যশ্লোক

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
আমাদের ভেতর চির স্মরণীয় গান
—যা কিছু হারায় প্রতিদিন
—এখানে ওখানে কার মুখের দিকে তাকিয়ে
ছুটছি দ্রুত আরো দ্রুত কাঁচের আরবান

সে শুধু ধূলি—
শরীরেই থেকে যায় পৃথিবীর সব গ্রাম
যেখানে কাঁঠালচাঁপা ছুয়ে নামে
মৃত্যু—আমাদের মৃত্যু অবিরাম

যদি জানতাম, এই বিশদ বায়ুর ঘোড়া—
তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা থেকেও আরো দূর
—উদয়-অস্তমান এক কালো পাথর
—সুগোল ভ্রমণের রীতি
তবে কে এমন ফেলে যায় পারবাস্তব গোধূলি

তার নিচে সন্ধ্যা—
আমাদের ফিরতি যে কোনো বনের শেষে
যদি তোমার পাখিটি সুরে করে ডেকে যায়
তখন যেন অন্য কেউ আমাকে ডাকে

সারাজাত সৌম

সারাজাত সৌম

জন্ম ২৫ এপ্রিল ১৯৮৪, ময়মনসিংহ। পেশা : চাকুরি।

প্রকাশিত বই :
একাই হাঁটছি পাগল [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮]

ই-মেইল : showmo.sarajat@gmail.com
সারাজাত সৌম