হোম কবিতা বিরান বাতাসে নিজেরে লুকাই

বিরান বাতাসে নিজেরে লুকাই

বিরান বাতাসে নিজেরে লুকাই
436
0

ছায়াদের গল্প ১

[উৎসর্গ : জুবায়ের টিপু]

❑❑

শহরে আকাশ কই? বৃষ্টি ছোঁয়া বড় দায়
চিত হয়ে পড়ে থাকে রোদ্দুর লম্বা রাস্তায়
চিলেকোঠার মনেতে ষড়ঋতু খেলা করে
প্রতীক্ষায় কারো মন ঝিম ধরে বসে রয়
                                                       কেউ জানি না।

                                                       কলাবতি
আশ্বিনের বিকেলের মতো ভালো আছি
অভিমানে কেটেছে ওই কার্তিকের সকালগুলো
একঝাঁক অভিযোগ, উষ্ণ বাতাসের স্বর
হিম কুয়াশার মতো একফালি অনুভব
                                                       বিঁধে আছে ফাঁকা মনে।

তুলো মেঘ ওড়ে তবু শিশিরের মিষ্টি রোদে সতেজ লাজুকতায়।


ছায়াদের গল্প ২

[উৎসর্গ : সুদীপ্ত শাহাদাত]

❑❑

আমরা যখন হাঁটি আমাদের ছায়াগুলো ছোটে পিছন পিছন
অবিরাম ছায়াগুলো ক্লান্ত হলে থেমে যায় দীর্ঘ পথ—আমরা দাঁড়িয়ে পড়ি।
অতঃপর ছায়াগুলো রাস্তার বুক চিরে ওই
                                                                        শূন্যে মিলায়।
তারপর ইতিহাস—
যে যার মতো কাঁদুক আমরা ফিরব বাড়ি
ছায়াদের সাথে নেই আমাদের কোনো গল্প।


মহাকালের জিকির ১
❑❑

অদ্ভুত জীবন গুরু কাটছে ধ্রুব সময়
অর্থহীন কুহকের কথা ভাবছি না
খালি পায়ে খালি গায়ে হাঁটছি আশ্বিনী চর, দাঁড়কাক অভিমুখ।
কা কা ডাক শুনতেই খবরের কথা মনে হলো
ভাঙে পাড় দীর্ঘ স্রোত, শামুকের শিং শ্রমিকের শ্রম
কারো হৃৎ ভাঙে আর আমি ভাবি পর
জেগে ওঠে জলবন পদ্মার ঢেউ।

ভাবনায় আসে কেন ছাইপাশ?
ভ্রম সব স্মৃতি ভ্রম!

পাড় কথা ভাবো মন যেখানে জেগেছে লালন
নদীয়ার নদ ভাবো সহজিয়া পদ
লালনের বাণী জপো প্রেমের গজল।


বিচ্ছেদের পোস্টার
❑❑

প্রচণ্ড দুপুর বেগে চলে যায় নাগরিক পরিবহন
কারো হৃদয় ছিঁড়ে ডাস্টবিনে গড়িয়ে পড়ে
ব্যস্ত ফুটপাথে সাজায় কারো সংসার
ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে পেয়ে হৃদয় সস্তায় বিকিয়ে দেয় ভাঙারির মালিক।
চুপচাপ চলে গাড়ি চুপচাপ পথচারী, দুপুরের শূন্য রোদ
আইল্যান্ডে দাঁড়ানো গাছে শূল হয়ে বিঁধে প্রতিটি হর্ন
ধুলোবালিগুলো লুটোপুটি খায় গাড়ির পিছন পিছন
রাস্তার পাশে দাঁড়ানো তারের মতো কারো কথা জড়িয়ে ফ্লাইওভারে নামে ট্রাফিকজ্যাম
মানুষগুলো ফড়িংয়ের মতো ওড়ে চলে চোখের কোণে।
চাকা যায়, চাকা আসে
রাস্তার পাশে ছড়িয়ে থাকে মরা গাছের ঝরা পাতা
আর বিকেলের পিলারগুলো সেঁটে যায় বিচ্ছেদের পোস্টারে।


ধর্মনিরপেক্ষতা
❑❑

আমাদের শহরে চাঁদ উঠলে তোমার ঘুম পায়
নীল ঘুম, ঘুমের ভেতর
আড়ালে তোমার হাত খোঁজে অন্য কোনো জোছনা
কালীর কাছে দুর্গার কাছে ফেরে হতাশার সুর
সোনার জমিন জুড়ে নামে নিতান্ত অমাবস্যা।

কেলোদের কোলাহলে আমার শুধু হাসি পায়।


সাম্প্রদায়িকতা
❑❑

পিঁপড়াগুলো খেয়ে নিক চোখের মণি,
সঁপে দিলাম অবশিষ্ট ঘুম
তারচে’ বরং কেউ হৃদয় ছিঁড়ে ফেলুক
পাঁজর খুলে নিয়ে যাক কারো ধারালো ঠোঁট
সঁপে দিলাম দশমীর চাঁদ
যাও নিয়ে যাও প্রাণের অতিরিক্ত নীলস্পন্দন
তাও যদি মিটে আজন্ম ক্ষুধা।

ধিক্কার তোমার মিনারের, ধিক্কার
বেহেশতের পাঁজরে বসে খাও পাঞ্চালীর শরীর!

 

মাসুম মুনাওয়ার

জন্ম : ১ মার্চ ১৯৮৮, ১৭ ফাল্গুন ১৩৯৪। রাম জীবন পুর, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর।

জাহাঙ্গীরনগরের একমাত্র সাহিত্য সংগঠন ও ছোটকাগজ ‘চিরকুট’-এর প্রতিষ্ঠাতা।

‘ষোলপৃষ্ঠা’ প্রকাশনী থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০১৬ তে প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ সূর্যকুসুম। ‘জলবন’ তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।

ই-মেইল : mihir1856@gmail.com

Latest posts by মাসুম মুনাওয়ার (see all)