হোম কবিতা বন্ধুর হাত ও অন্যান্য কবিতা

বন্ধুর হাত ও অন্যান্য কবিতা

বন্ধুর হাত ও অন্যান্য কবিতা
365
0

ঝুঁকে আছ

দেখছ
সমগ্র তারাদল খসে পড়ছে সমান্তরালে
ভাবলে ভ্রম।
পায়ের ছাপের দিকে অগণিত তক্ষকের
ছুটে আসা।
গাছেরা কাঁদছে যুদ্ধোত্তর ধ্বংসের ভারে।
মনে হলো সবই ব্ল্যাক আর্ট
ব্ল্যাক আউট।

প্রয়োজনগুলো চাহিদাকে ছুঁতে না পেরে
গুপ্তচর।

তারাখসা নদীপথে তুমি, হে দণ্ডিত,
নগ্নতা পুঁজি করে
জলের গন্ধে গন্ধে গন্ধে ঝুঁকে আছ।


বন্ধুর হাত

স্বেচ্ছানির্বাসন থেকে ফিরুক
বুকে হেঁটে চলা কথার দল।
বেহালাবাদকের মতো সাবলীল
অভিঘাত ক্ষমতা নিয়ে যারা আছে অন্তরালে।
মুখ পড়তে পারা তলোয়ার
ক্ষয়ে যায় নিজের ধারে।

তবে কি বিচ্ছিন্নতা উৎসাহব্যঞ্জক!
দু’পারের মতো দূরত্ব মেলে ধরে বন্ধুর হাত।

মধ্যবর্তী চেনা-জানা, তারও আছে অন্ধত্ব
আওয়াজের অতলে পড়ে থাকে কুশল বিনিময়।


স্মৃতিভ্রষ্ট

সে এক সদস্য পরিবারহীন পথে।
দুটি শব্দের মধ্যকার পরিচ্ছন্ন গ্যাপে
তলিয়ে গেছে অপরিকল্পিত।

তার মস্তিষ্ক মার্কারের গন্ধ মুছে যাওয়া হোয়াইট বোর্ড।
শিশুতোষ হাসি আর না চেনার তীব্র তালিকা।

বিস্ময়ে আহত দৃষ্টি ঝুঁকে ঝুঁকে দেখে
মুদ্রার দু’পিঠ,
রোদে ছড়ানো সন্তানের রঙিন জামা।

এই হাসি, এলিয়েন ভাব জেনেছে কি
তার স্মৃতিবাক্সটি
তার ভাস্কর
রাগবশত মুছে দিয়েছেন!


তারাগ্রস্ত

জিতে যাওয়ার অহংবোধ
আর বিজিতের তেতো হাসি
পৃথিবীর এক দুরারোগ্য ব্যাধি
যা প্রতিশ্রুত কেবল নিজের কাছে।

আপাতকোমল শব্দে ভর করে
আমাদের চলার কৌশল
কোন প্ল্যানচ্যাট রাতের দিকে ধাবমান
যেখানে আপোস বলে কেউ থাকে না।

উৎপন্ন শব্দেরা পারে না, অথবা পারে
এড়িয়ে যেতে ভঙ্গুরতা।

তারাগ্রস্ত রাতে
মানুষ গাঢ়জলে নিমজ্জিত নাবিক
যাদের জন্য হারানো বিজ্ঞপ্তি
বেজে বেজে থেমে গেছে বহুবার।


সূর্যমুখী

যা কিছু বলি নি
সেসব আমিও মনে রাখি না।
বিস্মরণের কাছে এই দায়
রোদের ঘুমের মতো প্রতিশ্রুতিহীন।
মিথ্যার মধ্যকার সুগন্ধির মতো দুর্লভ।

নিশ্চিতি থেকে দূরে
কোথাও না থেকে ফের থাকা
খুব কম পথ মেলে ধরে সেরকম সাঁতার।

দৃশ্যের অধিক কিছু সূর্যমুখীর মতো
চেয়ে আছি
সমস্ত আলোর দিকে
সমস্ত শক্তির দিকে।


নিজেকে বলি

নিজেকে বলি—
পরিশ্রমী দিনের আঁচে
চিন্তাপ্রহৃত হও ভেতরে।

এবং চুপচাপ
ক্ষয়ে গিয়ে পরখ করো ধার।

মানুষের মুখ
শব্দের মধ্যে খেলে গেলে
আপোসভঙ্গিতে এঁকো না প্রতিকৃতি।

এবং পাথরের ফিসফিসানি ক্ষুধা
উড়াও আগন্তুক ফুঁয়ে।

নিজেকে বলি—
কান্নাস্থিত নুন ঊর্ধ্বগামী।
লিখে রাখো।


পুনরাবৃত্তি

মাথাব্যথা ঘুমিয়ে আছে
পুরোরাত তোমার সঙ্গে।
জানলা ধরে বজ্রদেবতা
কেবল আলো এঁকে
শব্দকে পাঠিয়ে দিচ্ছে ওকগাছে।

বিকট হুঙ্কারে চমকাও বলে
তুমি।

হিমসন্ধ্যে অপেক্ষা
আজ ডুবে গেলে কাল উঠে আসে
অখিলের অপরপৃষ্ঠ থেকে।

স্যাঁতস্যাঁতে মাথাব্যথা
রোদে মেলে রাখো
এইবেলা—

গাছের বিরহ খেয়ে
ফুটে উঠে সফেদ সুবাস।


 

অভিপ্রায়

উচ্চারিত শব্দের বাইরে গিয়ে ডুবতে ইচ্ছে করে।
মুদ্রাদোষে কথার মাঝে অসংখ্যবার ‘মানে’ শব্দটি ব্যবহার করত
এমন একজনের চিন্তা এড়াতে আমি উড়ালসেতু ব্যবহার করি।

সবুজ ক্ষুধা চেপে রাখলে শ্বাস ছোট হয়ে আসে। অগত্যা
রাক্ষসী ধারের বাইরে যেতে পাল উড়িয়ে দেই।

গ্রীষ্মের দুপুরে বাসের সিট নিয়ে স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে
আমাকে নস্টালজিক করে বরফকুচি মাখানো নামসমূহ।

জলভাগ ডুবে যেতে থাকে ব্যক্তিগত জাহাজে।
অতঃপর তৃষ্ণার্তরা হাসলে দিগন্ত হাততালি দেয়।

তাহিতি ফারজানা

জন্ম ১৬ আগস্ট, ১৯৯৩; মৌলভীবাজার। এমবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (অধ্যয়নরত)।

প্রকাশিত বই :
আদ্যোপান্ত হৃদয় যাপন

ই-মেইল : tahiti.farjana@gmail.com

Latest posts by তাহিতি ফারজানা (see all)