হোম কবিতা বই থেকে : দশ মহাবিদ্যা

বই থেকে : দশ মহাবিদ্যা

বই থেকে : দশ মহাবিদ্যা
451
0

প্রবেশক

শীতল অনল, মা গো, সুরভি অনল
ঝ’রে গেলি অতীতের ঘাসের তলায়;
কনকলতার মতো, ফ্যালোপিয় নল
ঝুলে থাকল সিলিংফ্যানে, শোলার গলায়
কালো দাগ— আজরাইলের আংটি যেন, যাহে
স্বয়ংবরে নিলি তুই; ধনুঃ নহে, তুলি
ভেঙে, তোরে তুলি’ নিল, অসুর-বিবাহে:—
পিছনে নায়র তোর, সোনার পুত্তলি,
নিদুয়া সায়র হ’য়ে প’ড়ে রৈল পাড়ে!
কারে মারলি, কারে রাখলি— বিষুবীয় পাপ
গ’লে নামল ভিসুভিয় লাভা কার ঘাড়ে,
নিজেকে ছাড়া-তো কাউকে করলি না, মা, মাফ?
খুদগর্জি হ’ল না, বল্? যে-তোর মাথায়
কন্যা হ’য়ে ধন্যা ছিল মাতার মাতায়?

 

কালী : ৩

চোখ— আমরা বদল করেছি পরস্পর।
মুখোমুখি মুগ্ধ-আয়না আমরা পরস্পর।
আমাদের কলবে-আঁকা বাঁকা মরুচাদ,
শুদ্ধ আত্মহত্যা, নবজন্ম পরস্পর।
হটএয়ার বেলুন খালি আমাদের মাথা।
শান্তির চপেটাঘাতে শূলীভূত মাথা।
ভূতের নিশ্বাস বয় ওঁম্ শান্তিঃ ওঁম্—
ব্রহ্মতালু-উড়ে-যাওয়া আমাদের মাথা।
মৃত্যু-কারিগর আমরা, সমগ্র ঈশ্বর।
ত্রিশ পাখি, পরিশেষে জঙ্গম ঈশ্বর।
আমাদের মধ্যে হিরা-জমাট সময়,
আমরা ট্রিনিটির একটি-খসানো ঈশ্বর।
ডেমিয়ার্জ ও সোফিয়া, পুত্র আর মাতা
আরাফাতে জেনা করে পুত্র আর মাতা।

 

কালী : ৭

সাধে কি তোমাকে রেখে বেলা ব’য়ে যায়,
মায়া, আমি পয়লাবার জেনেই পুরা হা :
বীপ্সার ঈশ্বরকণা, বস্তুতঃ ত্রিদিব—
তুতানখামেন আর পাথরের যোনি।
বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, মিলিয়ে যায় জীব,
গজায় গজাল-দাঁত রুহুর গুহায়,
না-যদি ফ্যাসাদ, তবু হাজির সুরাহা—
রাত-জাগা চোখের ক্লান্তি, চিনি-কম চায়ে।
শব্দের গাবের থেকে নৈঃশব্দ্যের ধ্বনি
বাজে ন্যুব্জ হতাশায়; জুগুপ্সার ভার-
-কাঁধে হাঁটে সিন্দাবাদ কুব্জ-অবসাদে,
অনেক মনের নীচে মননের খনি
বাণীতে, আয়াতে উঠে, উধাও আবার।
আছো? কই? আলতামিরা? কিংবা আলহাম্ব্‌রায়?

 

কালী : ১২

কাহারে ফেলিয়া যাও, কোথায় ফেলিয়া?
ফেলিয়া কোথায় যাও, কেন যাও, ফ্যালো?
এ-মাথায় গূঢ় জল? ও-মাথায় শ্যালো?
একই-তো আঁধার, আঁখি মুদিয়া, মেলিয়া—
আমি-তো জরুরি নয়; কেননা জরুরই
গোলাম আজম— তাই না? টিপে গেছ ভাত,
জিবে যার জিবেগজা, বাকি-অঙ্গে বাত,
পরি-পূর্ণা ই-ধরণি, ধরি আর উড়ি
নেভারল্যান্ডাকাশে। কিন্তু সে-তো ছায়া, খোল—
খোলা। ঢাকা থেকে তুমি উবে কেন যাও?
আদাবরে ধাঁধা লাগে— গো-খোঁজা খোঁজাও
গোল্লায় গায়েব— কোনো খোলে না আগোল;
পিছে-পিছে শটাশট গিরিছে শাটার,
প্রতিধ্বনি— চ’লে-যাওয়া তোমার হাঁটার।

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

জন্ম ৭ জানুয়ারি, ১৯৬৫; ঢাকা। এমএ (ইংরেজি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া-নিবাসী। পেশা: আইটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে, সেলজ অ্যান্ড প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্ট।

প্রকাশিত বই:
কবিতা—
তনুমধ্যা [চেতনা ১৯৯০], পুলিপোলাও [একবিংশ ২০০৩], কবিতাসংগ্রহ [খান ব্রাদার্স ২০০৬], দিগম্বর চম্পূ [একুশে ২০০৬], গর্দিশে চশমে সিয়া [যেহেতু বর্ষা ২০০৮], ঝালিয়া [ভাষাচিত্র ২০০৯], মর্নিং গ্লোরি [ঐতিহ্য ২০১০], ভেরোনিকার রুমাল [অভিযান (কলকাতা) ২০১১], হাওয়া-হরিণের চাঁদমারি [ভাষাচিত্র ২০১১], আমাকে ধারণ করো অগ্নিপুচ্ছ মেঘ [আদর্শ ২০১২], Ragatime [ইংরেজি কবিতা, বইপত্র ২০১৬]

উপন্যাস—
কালকেতু ও ফুল্লরা [শ্রাবণ, ২০০২]

গল্প—
মাতৃমূর্তি ক্যাথিড্রাল [পেঁচা ও প্রতিরুদ্ধ, ২০০৪]

অনুবাদ—
অন্তউড়ি [পদ্য রূপান্তরে চর্যাপদ, চেতনা ১৯৮৯]
নির্বাচিত ইয়েটস [ডব্ল্যু বি ইয়েটস-এর নির্বাচিত কবিতার অনুবাদ, চৌধুরী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস বুক কর্নার ১৯৯৬]
এলিয়টের প’ড়ো জমি [টি এস এলিয়ট-এর দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড ও দ্য লাভ সং অব জে অ্যালফ্রেড প্রুফ্রক-এর অনুবাদ, চৌধুরী অ্যান্ড ফ্রেন্ডস বুক কর্নার ১৯৯৮]
কবিতা ডাউন আন্ডার [অস্ট্রেলিয় কবিতার অনুবাদ, অংকুর সাহা ও সৌম্য দাশগুপ্ত’র সাথে, ভাষাচিত্র ২০১০]
স্বর্ণদ্বীপিতা [বিশ্ব-কবিতার অনুবাদ, শুদ্ধস্বর ২০১১]

ই-মেইল : augustine.gomes@gmail.com
সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ

Latest posts by সুব্রত অগাস্টিন গোমেজ (see all)