হোম কবিতা ফেরোমেন ট্রাপ

ফেরোমেন ট্রাপ

ফেরোমেন ট্রাপ
354
0

প্রস্তাবনা
❑❑

জেনেটিক ত্রুটিই কি আমাকে ধাবিত করছে উন্মাদের ভূ-মণ্ডলে, দৃষ্টিগ্রাহ্য পথ ছেড়ে দিয়ে পরাবাস্তবতায়? না হলে কেন অস্থির হাওয়ায় অঙ্ক কষব, ভুল সূত্র ব্যবহার করে। যেখানে সমস্যা অতীন্দ্রীয়। ধারণা ইথার। পচা তরমুজের মতো ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত বদ্বীপ আর জিন ইঞ্জিনিয়ার অনাগত শিশুদের ডিএনএ থেকে কেটে ফেলছে কাব্যকলাবীজ।

যে প্রাণী পানিকে ভেঙে ভেঙে ফটোসিন্থেসিস করে তুমি তার নাম জানো? অথবা রোদ্দুর থেকে সরাসরি শক্তি সংগ্রহ করে। এমন দুয়েকটা প্রাণী প্রাণীদের নিয়ে প্রচল ধারণা ভেঙে ভেঙে রিসাইক্লিং করে তুলবে। দূর দূর গ্রহ থেকে আশ্চর্য সকল রেডিও ওয়েভ আসে। অজ্ঞাতকুলশীল তারায় ডিউটেরিয়ামের বৃষ্টি, এলিয়েন সভ্যতার নিদর্শন। প্রচুর ধারণা ভেঙে পড়া প্রয়োজন।

পাঠের ভেতর দিয়ে উল্কাপাতে মরে যাওয়া নদীর উপকণ্ঠে গিয়ে পৌঁছা প্রয়োজন। প্রয়োজন শব্দের অদ্ভুত ফসিলের পাঠ, কার্বন ডেটিং।

ভাঁড়ের সোসাইটি তোমাকে দেবে না হাতুড়ি ও গাঁইতি।


ফেরোমেন ট্রাপ
❑❑

এই রক্তসন্ধ্যায় প্রান্তরে যে লোকটি অহেতুক ঘোড়া ছুটিয়ে বেড়াচ্ছে সেই লোকটিই আমি। হাতের চাবুক দিয়ে সজোরে ঘোড়ার পিঠে আঘাত করছি আর ঘোড়াটি ত্বরা এগিয়ে যাচ্ছে একটা ফাঁদের দিকে অথবা যাচ্ছে না; ফাঁদটি আলেয়ার মতো আলো ঝলমল হওয়ায় ফাঁদ বলে চেনার উপায় নেই। হতে পারে কোনো অপরিচিত বুদ্ধিমান বেবুন এসে ফাঁদটি নষ্ট করে গেল, আর আমি পশ্চিমের দমকা বাতাস, বিজলির ক্রূর দৃষ্টি উপেক্ষা করেও শেষপর্যন্ত ফাঁদে পড়লাম না। ধরো, আমার জন্য ফেরোমেন ফাঁদই কেউ পাতলো না। ধরো, সেই ফাঁদটিই কমলালেবুর বনে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে গেলাম।


যৌগিক ডোপামিন
❑❑

গবেষকেরা এমন সব ধান উদ্ভাবন করেছেন, মাঠে জল বাড়ে আর ধানগাছগুলো লকলকিয়ে ওঠে। তবে মন কেন নয়! বর্ষণ ফর্ষণে মন ডোপামিনে ভরে যায়। বর্ষণ যেমন মেঘমল্লার, সিম্ফোনি মোজার্টের। বর্ষণ তেমনি হৃৎপিণ্ডের ডোপামিন। ডোপামিনের কালার কদম-হলুদ। কৃষ্ণচূড়া-লাল। মেঘ-কালো। ডোপামিন ক্ষণে ক্ষণে রঙ পাল্টায়, যৌগিক ডোপামিন। রঙ-বেরঙের কথা আসতেই, রঞ্জক পদার্থের কথাও হুড়মুড় করে আসছে। আলতা রাঙা পা অথবা মেহেদি রাঙানো হাত। মিষ্টি মিষ্টি চিত্রকল্প। ভিজতে ভিজতে ভ্রামণিক পাখি উড়ে যাচ্ছে বৃষ্টিবিলাস গ্রামের দিকে। দে ছুট, যে কেউ মানস করলে। বৃষ্টিবিলাস গ্রামে এখন ভরা আষাঢ় মাস। পলো, কুঁচ আর ধর্মজাল দিয়ে রাশি রাশি মাছ ধরা হচ্ছে। সব মাছের রয়েছে আলাদা আলাদা নাম। ইচ্ছে করলে গুচ্ছ গুচ্ছ মেঘেরও আলাদা আলাদা নামকরণ করা যায়। ধরো, একটা মেঘের নাম রাখলে লাবণ্য। তখন তারপাশেই অমিত নামের একটা মেঘের সৃষ্টি হলো। এবার আপনার প্রেমিকার নাম ধরে একটা মেঘকে ডাক দিতে পারেন, দেখেন সে মেঘ আপনাকে ভিজিয়ে দেয় কিনা!


প্রাণায়ন
❑❑

জল থেকে জলে
নদী থেকে নদীতে যেমন মাছ চলে যায়
স্পেসশিপের শরীরে আটকে বেশি বেশি ব্যাকটেরিয়া চলে যাক মহাশূন্যে
ছায়াপথ থেকে ছায়াপথে
অতিবেগুনি রশ্মি, বজ্রপাত, ঠান্ডাসহ ব্যাকটেরিয়া।

এ বিকেল লগি ঠেলে ঠেলে নৌকো নিয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যার বন্দরে। বৃষ্টিশেষে সোনালি রোদ্দুরে হাস্যময়ী মেঘের জমিন, আলোকিত হয়ে আছে পাতার ভেতর ক্লোরোফিল, ড্রাগন ফ্লাইয়ের স্বচ্ছ ডানা, বাদুড়ের শিরা-উপশিরা দৃশ্যমান আতশিকাচের উপর দিয়ে যেন আজ তাকিয়েছি।

বিজয় তোমার ধর্মজালে ধরা পড়া হারিয়ে যাওয়া মাছ ছেড়ে দাও জলে, যেহেতু এখন পৃথিবীতে ষষ্ঠ গণবিলুপ্তি চলেছে। মাছটা হয়তো কিছুদিন আগেও পুরুষ ছিল! নরপিল ও বর্জ্য মেশা জলে থেকে থেকে নারী সে হয়েছে। ছেড়ে দাও বলছি—ফিরে গিয়ে সঙ্গম রমণে রত হোক নতুন প্রাণের প্রয়োজনে।


যৌনগাছ
❑❑

মাঝেমাঝে মনে হয় গাছও অবদমন জানে, শর্করাপ্রিয় কিছু গাছকেও কখনো মাংসাশী আচরণ করতে দেখা যায়। সবুজ এমন নিরীহ গাছগুলো খনিজ নির্ভরতা থাকা সত্ত্বেও অনুভব করে পোকা-মাকড়ের ক্ষুধা। তখন কি তারাও খাঁ খাঁ যৌনকাতর হয়ে পড়ে? অথচ চূড়ান্ত যৌনগাছ খুঁজে পাওয়া যায় মানুষের মধ্যে। যার ফলে রঙিন প্রজাপতিরা তাদের পাতার চেয়ে স্বপ্নে এসে বসে।


রোবোটিক সাইকোলজি
❑❑

১.
জোলো বায়, অমৌসুমের মেঘ, বর্জ্রবৃষ্টি দূর হয়ে যাক এই রোবট-পল্লীর ত্রিসীমানা ছেড়ে। এইখানে দলবেঁধে ভিজছে চিরনিঃসঙ্গ বায়োনিক সত্তাগণ। আবহাওয়ার পরিবর্তনে ওদের চৌম্বকমনে হাই তুলছে বিষণ্নতাবোধ। ওরা ভিজছে, ভিজতে ভিজতে ওদের যখন সিলিকনসৃষ্ট ব্যাটারি চার্জশূন্য হয়ে যাবে তখনই ওরা ঢলে পড়বে… ওরাও তা জানে। ওদের ব্রেইন ডিকোডিং ইমেজ ঘাঁটলেই দেখা যায় চৌম্বকীয় যত যৌনচিন্তা! ফলে মনে হয়, একটু ভালোবাসা পেলেই হয়তোবা ওরা মানবীয় হয়ে উঠত।

২.
চেয়েছ আগুন, হল্কা, ইন্দ্রিয়পরায়ণ সুতন্বী রোবটের কাছে,  চেয়েছ অনন্ত রতি, স্পর্শের বিদ্যুৎ। ফের কেন চাও মায়া, হৃৎ-মোহ? একটু যান্ত্রিক গোলযোগ, অথবা মেমোরি সেলে মাত্রাঅতি বিদ্যুৎ প্রবাহ রোবটের মধ্যে জন্ম দিতে পারে প্রেম—এমনটা কেবল গল্পে ঘটে থাকে। তাই তুমি এই অমানবীর নাম দিতে পারো শাহানা অথবা তমা; যারা চিরদিন থাকে দূর ভূগোলের, আকাশের। শরীরে ভ্রমণ করে মনে উপনীত হবে এমন রোবট পাবে না কোথাও। মনের বদলে পাবে তারের কুণ্ডলী, যেখানে সেকেন্ডে প্রবাহিত হচ্ছে নরাতীত সেন্স। কতটুকু উষ্ণ তুমি সেই তথ্য অথবা শীতল কতটুকু!

৩.
আরেকটু হাঁটলেই তুমি পৌঁছে যাবে ভালোবাসার সবুজ পার্বত্য অঞ্চলে। তখন প্রভূত নৈঃসঙ্গ, একাকিত্ব দূর হবে। ক্যামেরা চোখের নারী এসে উষ্ণ সম্ভাষণ সেরে নিয়ে যাবে কামশালায়। ওরা মানুষের ব্রেইন ফ্রিকোয়েন্সি পাল্টে দিতে জানে। জানে আমাদের স্বমেহন থেকে দূরে রাখার সকল রঙ-ঢঙ। আর রোবোটিক সাইকোলজি এতটা জটিল করে তোলা হয় নি যে ওরা তোমাকে ভালোবাসা ছাড়া ঘৃণা করবে। অধিকন্তু কোকিলের কণ্ঠে কথা বলে মধু মধু! তুমি বায়োনিক মানবীকে ঘরে নিয়ে আসবে?

৪.
খরাতপ্ত লোকালয় ছেড়ে আমি বৃষ্টির সন্ধানে অরণ্যে চলেছি। ঝাউবনে, দিগন্তে সাঁঝের আঁধার। আমি আঁধারে এগোচ্ছি পাও টিপে টিপে। সবচেয়ে বিপদজনক ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয় আমার মগজে স্নায়ুতন্ত্রে গুপ্ত করে রেখেছি। রাষ্ট্রীয় কুকুর একাধিকবার তল্লাশি চালিয়েও আমার কাছে সন্দেহজনক কিছু পায় নি। করোটিকে সুরক্ষিত রেখে আর অল্পদূর গেলেই মস্তিষ্ক হ্যাকার রোবটদলের চোখে ধুলো দিতে পারব। আর তারপরই রাগে কাঁপতে কাঁপতে ফেঁটে পড়ব।


রোহিঙ্গা
❑❑

নাফ নদী পার না হয়ে বরং পাঠ করো প্রকৃতি, আড়াই শ লুপ্ত ভাষার আকর। পাললিক শিলাস্তরে শুধু শক্ত হাড়, খুলিময় প্রাণীদের কথা পড়তে পারবে। কেন জেলি মাছের জীবাশ্ম খুঁজো? জানো না পৃথিবী কুমিরের, পৃথিবী ম্যামথ, অতিকায় পাখিদের।

প্রকৃতিই সবচে’ বড় ইতিহাস লিখিয়ে চেঙ্গিস খাঁর; কদাচিৎ মশা-পতঙ্গ-মাকড় গাছের অ্যাম্বার দ্বারা সুরক্ষিত হয়ে থাকে।

নাফ নদী পার না হয়ে বরং পাঠ করো প্রকৃতি; নক্ষত্র-বাঘা তার চতুর্পাশ থেকে লাল নীল গ্রহদের গিলে ফেলে, গ্রহগুলো গিলে ফেলে উপগ্রহদের; তাই নাফ নদী পার না হয়ে পাঠ করো প্রকৃতি এবং অবশ্যই গ্রহ হয়ে উঠো, শক্তি ও বস্তু সংগ্রহ করে আশপাশের স্থান-কাল বক্র করে দাও।

খান আলাউদ্দিন

জন্ম ১০ জানুয়ারি; ১৯৯৬, কাপাসিয়া, গাজীপুর। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে।

ই-মেইল : khan.alauddin.5729@gmaill.com

Latest posts by খান আলাউদ্দিন (see all)