হোম কবিতা প্রিয় ১৫ : অনিকেত শামীমের কবিতা

প্রিয় ১৫ : অনিকেত শামীমের কবিতা

প্রিয় ১৫ : অনিকেত শামীমের কবিতা
338
0

দূরাগত পাহাড়ের সুর

আজও পাহাড় দেখার তীব্র বাসনার কথা মনে হলে
চুপিচুপি তোমাদের গ্রামে যাই। আজ হাটবার…
প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি
বড় রাস্তা থেকে আলপথ
আলপথ থেকে খেতের কোনাকুনি…

শস্য কাটা হয়ে গেলে পড়ে থাকে হাহাকার

বিরান মাঠে আমাদের প্রেমপর্ব
গোল্লাছুট                   দাড়িয়াবান্ধা
দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে পড়ে থাকে শূন্যমাঠ…

সেই তালগাছ বরাবর হাঁটতে থাকি
যতই নিকটে যাই পাহাড় ততটা সরে সরে যায়
এভাবে কতটা সময় জমা হয় জীবনের খাতায়?
বরং হাটের ভিড়ে মিশে যাওয়া ভালো
হাট মানেই অনন্ত শৈশব, জাগ দেয়া পাটের গন্ধ…

উজান বাতাসে ধূসর নস্টালজিয়া
দূরে কোথাও বাঁশি থেমে গেছে
নিরন্তর প্রবহমান তার রেশ হঠাৎ হঠাৎ
থমকে দাঁড়ায় রাখালিয়া বোহেমিয়ান…

শৈশবের আরেক নাম হাহাকার, হারিয়ে যাওয়া প্রবেশপথ


নিরুদ্দেশ যাত্রীর খোঁজে

একটি ট্রেন প্রতিদিন হুইসেল বাজিয়ে
                 প্রতিদিন হুইসেল বাজিয়ে চলে যায়
হুইসেলের শব্দ শোনে প্রতিদিন অনড় দাঁড়িয়ে থাকি
                              প্রতিদিন অনড় দাঁড়িয়ে থাকি শস্যখেতে

সবকিছু খানখান ভেঙেচুরে লোপাট
এক খুঁটি থেকে আরেক খুঁটি—তারগুলো উথাল-পাথাল
জমির আইলগুলো দিকচক্রবাল
আর ভাবনার বিন্যাস মাকড়শা জাল বুনে বুনে
                           দিগ্বিদিক ছুটে চলে
একটি ট্রেন প্রতিদিন হুইসেল বাজিয়ে
প্রতিদিন হুইসেল বাজিয়ে চলে যায় নিরুদ্দেশ ঠিকানায়
যাত্রী নেই কোনো তুমি ছাড়া
                         তুমি ছাড়া কোনো যাত্রী নেই নিরুদ্দেশ ট্রেনে

দিগন্ত বিস্তৃত শস্যখেতে দাঁড়িয়ে
প্রতিদিন একটি ট্রেনের চলে যাওয়া দেখি

ট্রেনের একমাত্র যাত্রীর ভাবনা-বিন্যাস অনুবাদ করি নিজস্ব ভাষায়


বিন্দুবৃত্ত

অসংখ্য পরমাণু বৃত্তের ভেতর ঘুরছে প্রতিনিয়ত
রঞ্জনরশ্মি আলো ছড়িয়ে পড়ে বিন্দু বিন্দু টসটসে ঘামে
হাতের তালুতে আটকানো যায় উত্তপ্ত সূর্য অবিরত

নিটোল পানিতে সূক্ষ্ম আঘাত পড়লে ছড়ায় আভা ঘূর্ণনে
ক্রমশ বিন্দু থেকেই বৃত্ত হতে হতে সেই বৃত্তাকার ঢেউ
গড়িয়ে গড়িয়ে একসময় হাওয়া হয়ে উড়ে যায় শূন্যে

মগজের কোষে মিলিয়ে যায় জটিল জিনিস বৃত্তের ছন্দে
বৃত্ত হয়ে যায় আবারও বিন্দু তুমি আমি পড়ে রই দ্বন্দ্বে


দাবানল হৃদয়

তামস রাত্রির বুক চিরে চিরায়ত ক্ষুধার আহাজারি, এখানে এক টুকরো রুটি এবং ভালোবাসার দীর্ঘ তপস্যা কদাকার লুসিফার গ্রাস করে, বারবার ঘূর্ণাবর্তে পথ ভুল হয়, অলিগলি ভুলপথ হেঁটে হেঁটে শ্মশানের কাছে যাই, শ্মশানের কাছে বাড়ি নেব—প্রতিদিন আগুনে পোড়া মানুষ দেখে চোখের জল নিঃশেষ হলে পর নিজেকে গড়ে নেব খাঁটি সোনা, শ্মশানের কাছে বাড়ি নেব আমি শ্মশানের কাছে…

সাগ্নিক দেবতা পড়ে জপমন্ত্র মাতাল সন্ধ্যায়, চিতার আগুনে দেখো জলন্ত মানুষ বৃশ্চিক দংশন, টেরাকোটা চোখ ভেদ করে ভয়ার্ত সময়, হৃদয় সত্তায় নেচে ওঠে প্রমিথিউস আগুন… সূর্যের মুখোমুখি দাঁড়াব, আগামীকাল সূর্যের মুখোমুখি দাঁড়াব আমরা—ভয় ভেঙে বিরুদ্ধ স্রোতে বেয়ে যাব সময়ের নৌকো, পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইল তপোবনজুড়ে গর্জে ওঠে আনন্দ ও ভালোবাসার তোপধ্বনি… স্বেদে রক্তে উদ্ধত মুঠিতে অ্যানিমিক মানুষ ঊর্ধ্বাকাশে ছুড়ে দেয় সুন্দর আগামী…

আর তখনই একজন গর্বিত শিল্পী আঁকে তার শ্রেষ্ঠতম শিল্প।


দূরাগত শব্দের ধ্বনি

সবকিছুই প্রকাশ্য হোক, কেননা আড়াল আমাদের বঞ্চিত করে। প্রথাগত সামন্তচিন্তা আমাদের প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মাঝে মাঝে ভেংচি কাটে দুষ্টু ইঁদুর। কুটকুট করে সর্বনাশের দিকে এগিয়ে যায় সমূহঅর্জন। দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলে পিছুটান থাকে না তখন। তখন শুধু ইচ্ছেপূরণ, গা ভাসিয়ে দোদুল দোল।

লাটিমের মতো ঘুরতে থাকো। যতক্ষণ ঘুরতে থাকা ততক্ষণই আনন্দের। আনন্দে গা ভাসিয়ে দাও। সুখটান মেরে কুপোকাত হয়ে যাও। নেতিয়ে থাকো নিজের মধ্যে। স্মৃতি-কাতরতা চাগিয়ে ওঠে আর স্বপ্নের ধারাপাত ক্রমশ আমাদের শৈশবে নিয়ে যায়। শৈশব বড়ো মধুর আর ততোধিক নিষ্পাপ। কৈশোরিক ভালোবাসায় থাকে না হিসেব-নিকেশ।

একদিন এইভাবে জীবনের বিশাল ক্যানভাসে জড়িয়ে পড়া। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচলে জটিল ঘূর্ণাবর্তে ঘুরপাক খায় নিষ্পাপ ভালোবাসা। ঘূর্ণাবর্তে পথ ভুল হয়। অলিগলি ভুলপথ মাড়িয়ে অপার রহস্যের দিকে আমাদের যাত্রা।

কোথায় কতদূর যেতে পারে পথ ও পথিক। তারা একে অপরের ভাই ও বোন। ক্রমশ হাত ধরে হাঁটছে।

দূরাগত শব্দের ধ্বনি ডাকছে তোমাকে আমাকে


লক্ষ্মণরেখা

সবকিছু থমকে আছে বৃত্তাবদ্ধ জীবন

উজান টানে সময়ের নৌকো
টালমাটাল
কিছুতেই অতিক্রম করতে পারি না পরস্পরকে…
অতিক্রম জরুরি
ভয়ের ট্যাবু আমাদের পায়ে শিকল পরায়
আর আমরা অতিনিয়ন্ত্রণবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠি

পুঁজির প্রবল স্রোতে ভেসে যায় স্বকীয়তা
ঘামের সোঁদাগন্ধ, ভাটিয়ালি সুর
রাঙা বউয়ের বিনম্র চাহনি কি অনুবাদযোগ্য?
এইখানে এসে থমকে দাঁড়ায় তৃতীয় বিশ্ব
পাশ্চাত্য-তাত্ত্বিকদের ফুটনোট লেখা ছাড়া
কোনো কাজ নেই আমাদের!

দাঁত কেলিয়ে হাসে প্রথম বিশ্ব
দেখো, দেখো—একেকটা তত্ত্ববোমায়
কেমন হুড়মুড়িয়ে আছড়ে পরে ক্রমশ
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পঙ্গপাল
হাঃ হাঃ তালিয়া বাজাও
লাগ ভেলকি লাগ…

ওরা আমাদের চারপাশে আঁকে লক্ষ্মণরেখা
আর ভয়ের ট্যাবু আমাদের অতিনিয়ন্ত্রণবাদ শেখায়

হেই তৃতীয়—পাঠ করো প্রাকৃত পাঠশালা


ভুলশুদ্ধ কিংবা পাপপুণ্য বিষয়ক জটিলতা

ভুল?
জন্ম মৃত্যু
এবং এই যে
অগণিত গনগনে মানুষ
সবই যদি ভুল হবে তবে
ভুল করে আদম কেন স্বর্গচ্যুত হলো
কিংবা ইভের প্ররোচনায় ভুল করল আদম।
কার পাপে কে দোষী? কে নেবে দায়ভার? কেউ না।
কোনটা পাপ কোনটা পুণ্য, তার মাপকাঠি তো জানা নেই
এভাবে কতদূর যাবে, কোনদিকে যাবে নেই কোনো পদচ্ছাপ
পাখিদের তবু থাকে খড়কুটো নিবাস মাকড়সা বোনে জাল সুনিপুণ

অনিকেত মানুষ খোঁজে না পূর্ব পুরুষের জন্ম-ইতিহাসের ইতিবৃত্ত
তবু বরাভয় পুষে হেঁটে যায় কন্টকাকীর্ণ সর্পিল পথ।
বলতে পারো, প্রথম কবে সঙ্গমে লিপ্ত হয় মানুষ?
প্রশ্ন শুধুই প্রশ্ন হয়ে ফিরে আসে বারবার।
যাও, শুধু যাও। পাপপুণ্য কিছু নয়
শুধু বিবেকের কষ্টিপাথর দিয়ে
সব কিছু যাচাই করে নাও
মানবতাই বলে দেবে
এই জীবনযাপন
ভুল নয়
শুদ্ধ।


ছায়াসঙ্গম

অন্ধকারে সমর্পিত অনঙ্গ আলোঢেউ
অদৃশ্য দৃশ্যাবলির লিবিডো সময়
এখানে ঘরময় ছায়াদের অবিরাম উৎসব।
অন্ধকার ছায়া
আলো ছায়া
অণুবীক্ষণ-দৃষ্টিতে বিস্তৃত মহাশূন্যতায়—
অণু, পরমাণু, যাবতীয় পরাজাগতিক-ছায়া মত্ত মৈথুনে।

স্বপ্নিল প্রচ্ছায়া শোষে সমস্ত আঁধার

অতঃপর ঝলমলে রোদ
নৃত্যঢেউয়ের মুদ্রায় তা-ধিন তা-ধিন

অনঙ্গ আলোঢেউ সমর্পিত অন্ধকারে


প্রচ্ছায়া

অন্ধকারে শুয়ে আছে নিদ্রাহীন মাকড়সা

পলাতক খেলা খেলে কতদূর যাওয়া যায়
জানে না বোবা মাছ, মাছি ও মাকড়সা
ডাইনিং টেবিল
মৃত মাছের তাকিয়ে থাকা অপলক চোখ
হান্ড্রেড পাওয়ারের বেলকো বাল্ব
স্ফটিক জলে পুচ্ছ নাড়ে নাইলোটিকা

আনচান মন খুঁজে ফেরে প্রচ্ছায়া লোনা স্বাদ
কোথায় হারাল তাকে গরলে চুমুক দিয়ে


প্রতিবেদনের ভাষ্য


আজ দেখো চারদিকের বিহ্বলতা। জন্মান্তরবাদ বিবর্তনবাদ পেরিয়ে সেই কবে গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ সমূহ-বিরুদ্ধ প্রতিবেশে জায়মান। হিংস্র রোষানলে টিকে থাকার সংগ্রাম। ক্রমশ ব্যক্তিক পারক্যবোধে আকীর্ণ গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ। গোষ্ঠী-গোত্র ভেঙে খান খান। যাযাবর সময়ের কাছে নতজানু আমরা। বিচ্ছেদ বিচ্ছেদ খেলায় দাঁড়িয়ে আছি প্রান্তরেখায়। মানুষ মূলত একা এবং বহুবর্ণিল। যে যার মতো ঘূর্ণায়মান নিজের কেন্দ্রে। কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয় বৃত্ত। কেন্দ্রটি হচ্ছে সর্বজনীন আমি। আর আমি মানেই ভূগোল, বিশ্বময় পরিভ্রমণ…


ও মন তুই কদ্দুর যাবি? কতদূর যেতে পারেন আপনি? ঘুড়ির মতো এদিক-ওদিক বাউলি মারো। লাটাইয়ের কাছে সেই তো আবার ফিরে আসো…

অনুসন্ধিৎসু মন সেই আদিযুগ থেকে দ্বন্দ্বমুখর। দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসরমান। শাশ্বত নয় সত্য-মিথ্যা; মন্দ-ভালো, পাপ-পুণ্য বলে স্বতঃসিদ্ধ কিছু নেই। বিবেকের কষ্টিপাথরে যাচাই করে নাও। মার্গপ্রাপ্তির সন্ধানে বিশ্বময় পরিভ্রমণ শেষে নিজের কাছেই ফিরে আসা…


এভাবেই শুরু হয়েছিল ঘটনা-কাহিনি
আচমকা কোনো কিছু না ভেবেই
আমরা হাঁটছিলাম অনন্তের পথে
আমাদের সাথে ছিল আলোকবর্তিকা
দীর্ঘ সময় যাত্রায় এদিক-সেদিক থেকে
জড়ো হলো অনেকে
কোরাস যাত্রায় আমরা হাঁটছি
উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু একাকার
আর কতদূর যাব আমরা
আর কতদূর যাব আমরা
গন্তব্য কোথায়?
হাঁটতে হাঁটতে আমরা পিছন ফিরে তাকাই
যাযাবর সময় তাড়িত করে
কতদূর যেতে হবে মার্গপ্রাপ্তির সন্ধানে?
কতদূর মার্গপ্রাপ্তি?
অযুত-নিযুত বছর হাঁটার পর
তাকিয়ে দেখি একি!
যেখান থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা
সেখানেই পড়ে আছি…

বিশ্বময় পরিভ্রমণ শেষে নিজের কাছেই ফিরে আসা


সান্ধ্যভাষ্য

সুদূর অতীত থেকে সান্ধ্যপ্রার্থনায় নিজেকে উন্মোচন
মৌনব্রত, চারদিকে সুনসান, কর্পূরের গন্ধময় আবেশ
কতটা প্রণত হলে খুলে যাবে প্রাপ্তির দরোজা, নিরুত্তর অন্ধকার
ফ্যালফ্যাল, উদাস দৃষ্টি অসীম শূন্যতায়…

যতই নিকটে আসি ততই বাড়ে দূরত্ব
কিরূপে রচিব বলো সান্ধ্যকালে এমন ঘটনা
যদি দূর পরবাসে যাত্রা করি, তবেই মঙ্গল
উচাটন মন উড়ু উড়ু, দূর গাঁয়ে ভাসে
দুঃখের ফেরিওয়ালা

দুঃখদিনে তোমাদের ভালোবাসাবাসি
আগুনে হাত পাতার সাহস ডেকে আনে


দূরত্ব

ওড়ে ধূলিকণা। অপার রহস্য আজ আমাদের মাঝে
দূরে আরও দূরে গ্রামের পিছনে যেখানে আকাশ নামে
সেখানে তোমার নিবাস। আমার নামধাম না-জানাই ভালো
এইতো আছি কাছাকাছি অথবা আলোকবর্ষ দূরে
এতে কোনো অসুবিধা নাই। তোমাকে পাঠ করা মানেই
অপার রহস্যের ঘূর্ণাবর্তে দোলাচল।

আমি সহজপাঠ্য। কোনো ঝুট-ঝামেলা নাই,
এসো—আমরা সরল অঙ্ক কষি। পাঠ নিই সরলতার।
জীবন এতটা জটিল কে বলল তোমায়?
পাইপ বেয়ে বানরের ওঠানামা দেখো এবং শেখো
তখন আর কোনো দূরত্বকে দূরত্বই মনে হবে না


সিসিফাস

প্রতিদিন নিজের কাছেই ফিরে আসি বারবার…
আমাকেই আমি পাঠ করে কাটিয়ে দিই সারাবেলা
জীবনের নিরর্থকতায় মোহগ্রস্ততার অবসাদ
প্রতিনিয়ত ঘূর্ণায়মান
তবুও মেনে নিই
নিরর্থকতার মাঝেই ফিরে আসি বারবার…

ছাইভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির পুনর্জাগরণ
জীবনের গতিময়তা
কতদূর যেতে হবে আমাদের?
নির্বিকার মাটি ও জলের কাছেই তো আমাদের সমর্পণ!

সীমাহীন ধু ধু প্রান্তরে একাকী হেঁটে বেড়াই…
অনঙ্গ শূন্যতা লুটোপুটি, ধোঁয়াশা
হা-হা শূন্যতায় ছুড়ে ফেলি পোশাক-আশাক…

ভালো থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়ায়
ভালো থাকার প্রাণান্ত চেষ্টা
চোরাবালি চোরাবালি
তবুও অলিগলি ভুলপথ হেঁটে হেঁটে চোরাবালিতে রাখি পা


আমাকে জাগালো না কেউ

শক্তি দা, কেউ কি কাউকে জাগাতে পারে?

সুদূর অতীত থেকে কে হঠাৎ কড়া নাড়ে শৈল্পিক
আমি তো বুঝি না শিল্পের ভাষা ও ছন্দ
আমার এখন ঘুমপর্ব
আমি আছি ঘুম মজ্জায়
কার এমন স্পর্ধিত অহংকার আমাকে জাগায়
কার এমন ভালোবাসার মোহন মুদ্রা
ঘুমের গভীর তলদেশে থেকে তুলে এনে
ছিঁড়েখুঁড়ে দেয় অভিমানী ঘুম?

কে আমাকে জাগাবে, এসো

আমি তো অপেক্ষা করে করে এখনও আছি প্রতীক্ষায়
কেউ এসে বলল না—ভালোবাসি
সেগুনমঞ্জরি হাতে কেউ এসে জাগাল না

আমাকে তো কেউ বলে দেয় নি জীবনচলার পথ
কেউ সন্ধান দেয় নি এতটুকু বিশুদ্ধ বাতাসের ঠিকানা
তবু জুতো ক্ষয় করে অনেক তো হেঁটেছি পথ
হাঁটতে                   হাঁটতে
                                      হাঁটতে               হাঁটতে
অনাগত ভবিষ্যতের দিকে গন্তব্যহীন ছুটে চলি অবিরাম

শাদা শাদা উড়ন্ত তুলো
সুতোকাট ঘুড়ি
ধাবিত অশ্বের ব্যস্ততা ক্রমশ ধাওয়া করে
আর আমি ব্যস্ততার পিছু ছুটতে ছুটতে হাঁপিয়ে উঠি

বোধের গহিন গহ্বরে শায়িত
বিষঘুমে
আমকে জাগাল না কেউ

ভালোবাসার জীয়নকাঠি ছোঁয়ায় কেবল জাগাতে পারো আমাকে


অন্ধ বালকের প্রতি ঈর্ষা ১

অন্ধ বালকটি আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফেরে, আর আমি দিগ্বিদিক হারিয়ে রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ুতে থাকি; কিংবা মনের আবেগে দৌড়ুতে থাকলেও আদতে ঠায় দাঁড়িয়ে হিসেব-নিকেশ কষি যে, আসলে দৌড়ানো ঠিক হবে কিনা, ফলে বিমবিষায় তড়পাতে তড়পাতে মনের ভেতর ক্রোধ জন্মালে উল্টো অন্ধ বালকটিকে তাড়া করে ফিরি… আর এভাবে পাল্টাপাল্টি দৌড় খেলায় প্রতিযোগ তৈরি হলে, আমাদের খেলায় ইতি টানে অন্ধ বালক…

ক্রমশ নিভে আসছে আলো, আর দপ্ করে নিভে যাবার আগে আমাদের করণীয় বিষয় সজাগ করে যায় অন্ধ বালক

অনিকেত শামীম

জন্ম ১২ ফেব্রুয়ারি, দেওয়ানপাড়া, জামালপুর।

শিক্ষা : স্নাতকোত্তর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

পেশা : চাকরি, ডিপিডিসি, উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ)

প্রকাশিত বই—

তপোবনে তোপধ্বনি [উত্তরণ, ১৯৯১]
দূরাগত পাহাড়ের গান [লোক, ২০০৮]
অনিকেত শামীমের কবিতা [বাংলালিপি, ২০১৭]

সম্পাদনা গ্রন্থ—

আবার একটা ঝড় উঠুক [বিপ্লবের কবিতা সংকলন, ১৯৮৮] মায়াবী টানে ডাকে মতিহার [১৯৯২]

সম্পাদিত সাহিত্যপত্র—

উত্তরণ, খৈ, লোক

ই-মেইল : loke_shamim@yahoo.com

Latest posts by অনিকেত শামীম (see all)